আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন

পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন
পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন

পশুর জন্য ছোঁয়াচে প্রকৃতির ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে ক্ষুরা রোগ অন্যতম। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হরিণ ও হাতিসহ বিভক্ত ক্ষুরা বিশিষ্ট প্রাণির এ রোগ হতে পারে। ৬ মাস বয়সের নিচে রোগটি মড়ক আকারে দেখা যায়। বাংলাদেশের সব ঋতুতে ক্ষুরা রোগ দেখা গেলেও বর্ষার শেষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।

লক্ষণ: শরীরের তাপমত্রা বেড়ে যায়। জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, সম্পূর্ণ মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মাঝে ঘা বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে ফেনাযুক্ত লালা বের হয়। কখনো বা ওলানে ফোসকা পড়ে। পশু খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়। অল্প সময়ে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রোগে গর্ভবতী গাভির প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে। দুধালো গাভির দুধ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই কঠিন। অর্থাৎ ৬ মাস বয়সের নিচে আক্রান্ত বাছুরের ৯৫ শতাংশই মারা যায়।

বিস্তার: ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত পশুর লালা, ঘায়ের রস, মল-মূত্র, দুধ ইত্যাদির মাধ্যমে এই ভাইরাস বের হয়। এ ভাইরাস বাতাস ও খাদ্যের মাধ্যমে সংবেদনশীল পশুতে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত গরু ও মহিষের সংস্পর্শে এ ভাইরাস সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত পশুর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও পশুজাত দ্রব্যের (চামড়া, মাংস, দুধ ইত্যাদি) মাধ্যমে এ ভাইরাস এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এমনকি বাতাসের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন
পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন

চিকিৎসা: আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে। অসুস্থ পশুর ক্ষত পটাশ মেশানো পানি (০.০১ শতাংশ পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ফিটকিরির পানি ১০ গ্রাম (২ চা চামচ) ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সোহাগার খৈর গুড়া করে মধু মিশিয়ে মুখের ঘায়ে প্রলেপ দিতে হবে। নরম খাবার দিতে হবে। পশুকে শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে মেঝেতে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কাদা মাটি বা পানিতে রাখা যাবে না। খাওয়ার সোডা ৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পায়ের ঘা পরিষ্কার করে সালফানিলামাইড পাউডার লাগাতে হবে। মাছি থেকে সাবধান থাকতে হবে, যাতে পোকা না দিতে পারে। এক্ষেত্রে সালফানিলামাইড পাউডার ও নিগুভন পাউডার নারিকেল তেলের সঙ্গে বা ভ্যাসলিনের সঙ্গে মিশিয়ে ঘায়ে লাগানো সর্বোত্তম।

লক্ষণীয়: ওষুধ লাগানোর আগে পায়ের ঘা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দ্বারা পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আক্রান্ত গরু মহিষকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পেনিসিলিন বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশন দিতে হবে (চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে)। মুখে ঘায়ের কারণে অতিরিক্ত লালা নির্গত ও খাওয়া ছেড়ে দিলে অবশ্যই স্যালাইন (৫% গ্লুকোজ+০.৯% সেডিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত) শিরায় পুশ করতে হবে। এর সঙ্গে ভিটামিন বি-কম্প্লেক্স ইনজেকশন প্রয়োগে ঘা সেরে ওঠার পাশাপাশি খাওয়ার আগ্রহ বাড়বে। তবে সতর্ক থাকতে হবে- শুধু গ্লুকোজ ইনজেকশন প্রয়োগ করা যাবে না।

পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন
পশুর ক্ষুরা রোগ হলে যা করবেন

প্রতিরোধ: রোগ যাতে না ছড়ায় সে জন্য আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষুরা রোগসহ যে কোনো মৃত পশুকে ৪-৫ ফুট মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই খোলা স্থানে ফেলে রাখা যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সের বাচ্চাকে অসুস্থ গাভির দুধ খাওয়ানো যাবে না এবং আলাদা স্থানে রাখতে হবে।

টিকা: সুস্থ গবাদি পশুকে বছরে দু’বার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। ক্ষুরা রোগের টিকা স্থানীয় উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে পাওয়া যায়। যা সময়মতো দিলে ক্ষুরা রোগের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।

লাইভস্টক

সমন্বিত খামারে সফল দুই সহদর

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন পরামর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে এবং করোনাকালীন সময়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্ঠির লক্ষ্যে নিজেদের ১৩ একর জমির ওপর দুই ভাইয়ের উদ্যোগে একটি সমন্বিত খামার গড়ে তোলেন।

একই খামারে গবাদিপশু লালন-পালনের পাশাপাশি পুকুরে চলছে মাছ চাষ। খামারের আঙিনা ও পুকুরপাড়ে লাগানো পেঁপে, লেবু সহ নানা জাতের ফল উৎপাদন হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এ ধরনের সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলে সফল হয়েছেন মো: বাছির ভূঁইয়া ও বায়েজীদ ভূঁইয়া নামে দুই ভাই। উদ্যোক্তার ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি কর্মহীন বেকার যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখছে ‘ডাইনেস্কো এগ্রো ফার্ম’ নামের এ খামার। লাভজনক হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। দুই ভাইয়ের সফলতায় এমন খামার গড়ে তুলতে উদ্যেগী হচ্ছেন পাশ্ববর্তী যুবকরাও।

২০২০ সালে এ খামারে ২০টি গরু, ১৫টি ছাগল, ২ টি পুকুর এবং বাকী অংশে ফলজ, বনজ ও কৃষি পেঁপে, লেবু সহ শাকসবজি চাষাবাদ শুরু করলেও বতর্মানে এর দ্বিগুন রয়েছে। খামারের পুকুরে একুরিয়াম মাছ, রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউস সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি খামারের জমিতে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো হয়েছে। এ খামারে নিয়মিত ২০ জন শ্রমিক কাজ করে। জীবন সংগ্রামের সফল এই দুইভাই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেছেন। দুইভাইয়ের মধ্যে বায়েজীদ ভূঁইয়া জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং অন্যভাই বাছির ভূঁইয়া একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

খামারে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, করোনায় বেকার হয়ে না খাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জীবন কেটেছে দু:খ-দূর্দশায়, অভাব-অনটনে। এলাকায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে উঠায় সেই বেকারত্ব দূর করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছি।
খামারে উদ্ভুদ্ধ হওয়া আনোয়ার হোসেন বলেন, ডাইনেস্কো এগ্রো ফার্ম এর সফলতা দেখে আমি নিজেও ক্ষুদ্র পরিসরে খামার শুরু করি। এতে পাশ্ববর্তী এলাকার বেকার যুবকরাও সমন্বিত খামার গড়ে তুলছেন। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও সফলতা আসবেন বলে আমরা মনে করি।

উদ্যেক্তা মোঃ বাছির ভূঁইয়া ও মো: বায়েজীদ ভূঁইয়া বলেন, করোনাকালীন বেকারত্ব দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে নিজেরাই খামার গড়ে তুলেন। খামারে লাভ হওয়ায় এলাকার অন্য যুবকরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে নিজেরা ছোট-বড় খামার গড়ে তুলছেন। ৩০ লাখ টাকা পুঁজিতে শুরু হওয়া এ খামার থেকে দ্বিগুণ লাভ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই দুই ভাই। আমাদের দেখাদেখি আরো অনেকে এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, তাদের দুই ভাইয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞ সত্যিই অনুকরণীয়। নিশ্চয় তাদের দেখে এলাকার বেকার যুবকরা উদ্বুদ্ধ হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

লেখক

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

মুরগি খাবার কম খেলে যা করবেন

মুরগি খাবার কম খেলে খামারিদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকেনা। কারণ খাদ্য কম খাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ হতে পারে। মুরগি রোগক্রান্ত হওয়ার আগাম সংকেত খাবার কম খাওয়া। খামারিরা জানতে চান মুরগি খাবার কম খেলে করণীয় কি? মেইল করেছেন অনেকেই। তাই জেনে নিন আজ এ সম্পর্কে…

যেসব কারনে মুরগি কম খাবার খায়:

১. আবহাওয়া পরিবর্তন হলে মুরগি খাবার কম খায়। যেমন শীতকালের শেষে গরম পড়তে শরু করলে।

২. মুরগির ধকল হলে খাবার কম খায়। যেমন, মুরগির ঠোঁট কাটা হলে ব্যাথাজনিত কারণে এবং ভয় পাওয়ার কারণে খাবার কম গ্রহণ করে।

৩. হটাৎ খাদ্য পরিবর্তন করলে। হটাৎ প্রি স্টাটার খাদ্য থেকে স্টাটার কিংবা স্টাটার থেকে গ্রোয়ার খাদ্য দিলে খাবার কম খায়।

৪. মুরগি অসুস্থ হলে খাবার কম গ্রহণ করে। অসুস্থ মুরগি ঝিমায়, লালা-ঝরে, মাথা নিচের দিকে ঠোঁঠ মাটিতে লাগিয়ে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে খাবার কম খাওয়া স্বাভাবিক।

৫. খাদ্যের সাথে কোনকিছু মেশালে খাবার কম খায়। ঝিঁনুকের গুঁড়া মিশিয়ে দিলে মুরগি খাবার কম খেয়ে পারে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্য উপাদনের সংযুক্তিতে মুরগি খাবার কম খায়।

৬. খাদ্যের পাত্র উঁচুতে হলে খাবার খেতে পারে না।

৭. অপ্রচলিত পাত্রে খাবার দিলে মুরগি খাবার কম খায়।

৮. শরীরে ভিটামিন মিনারেলের অভাব দেখা দিলে মুরগি কম খাবার খায়।

আরোও পড়ুন: মুরগির পায়খানা দেখে রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

মুরগি কম খাবার খেলে যা যা পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. ঋতু পরিবর্তনের আগেই খামারের পরিচর্যা নিতে হবে। শীতকালে খামার ঘিরে দেওয়া থাকলে তা তাপমাত্রা বুঝে আস্তে আস্তে সরাতে হবে। যেন মুরগির উপর তাপমাত্রার প্রভাব না পড়ে।

২. ধকল জনিত কারনে খাবার কম খেয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারনে নেই। কয়েকদিন পর এমনিতেই খাবার খাবে।

৩. খাদ্য পরিবর্তনের জন্য স্বাভাবিক খাওয়া কমে যেতে পারে।

৪. মুরগির খাবার কমে যাওয়ার সাথে সাথে রেজিস্টার্ড ডাক্তার/ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

৫. সঠিক উচ্চতায় খাবার পাত্র দিতে হবে। যাতে মুরগি ভালোভাবে খাবার খেতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

চাষ করুন রঙিন শামুক, অল্প বিনিয়োগেই বিপুল আয়ের সম্ভাবনা

রঙিন মাছ চাষের পর এবার রঙিন অর্নামেন্টাল স্নেল অর্থাৎ অলংকারিক শামুক (Snails) চাষের বিষয়ে উৎসাহ দিতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। মূলত, সিডিসির উদ্যোগে বেকার কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দিতে অভিনব এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই শামুক যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটাবে তেমনই স্বল্প পরিমাণ আয়তনের অ্যাকোরিয়ামের জল বিশুদ্ধ রাখতে সহায়ক হবে। তাছাড়া আগামী দিনে মহিলাদের অলংকার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি।

অর্নামেন্টাল স্নেল খানিকটা সাধারণ পুকুরে গেরী গুগলির মতো দেখতে। তবে রঙিন, স্বচ্ছ এবং আকারে অনেকটাই ছোট। সাধারণত জলে এবং স্থলে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকাই এদের পছন্দ। যেগুলি রঙিন মাছের (Fish) সঙ্গে অ্যাকুরিয়ামের সৌন্দর্য এবং শ্রীবৃদ্ধি করে থাকে। গাঢ় ধূসর, হলুদ ও বাদামি রঙের।

তবে গিরগিটির মতো না হলেও স্বল্প এই জীবনচক্রে নিজেদের রংয়ের একাধিকবার পরিবর্তন ঘটে। যা অতি সহজেই মিষ্টি জলের ছোট ছোট চৌবাচ্চা কিংবা মাটির যে কোনো পাত্রে এই চাষ করা সম্ভব। এবং প্রাকৃতিক উপায়ে খুুুব সহজেই বংশবিস্তার করে থাকে। ফলে এর জন্য আলাদা কোনভাবে সর্তকতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয় না। কিংবা বড় কোন জলাশয়ের প্রয়োজন নেই। তাই যে কেউ উদ্যোগী ব্যক্তির পক্ষে এই চাষ সম্ভব। তাছাড়া কালচারের জন্য কোনও স্পেশ্যাল ফিড কিংবা বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় না।

ফলে আগামী দিনে রঙিন মাছ চাষের পাশাপাশি অর্নামেন্টাল এই শামুক চাষ অনেকটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে দাবি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। কারণ, অ্যাকোরিয়ামে স্বল্প পরিসরে রঙিন মাছ চাষের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শ্যাওলা। এক্ষেত্রে শ্যাওলা এবং নোংরা জল একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিষ্কার করতে হয়।

কিন্তু মাছের পাশাপাশি রঙিন এই শামুক রাখলে অ্যাকোরিয়ামের জল অনেকটাই পরিস্রুত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে খুব একটা সহজে শ্যাওলাও জমতে পারে না। ফলে অ্যাকোরিয়ামে মাছ চাষের ক্ষেত্রে রঙিন এই শামুক অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

অ্যাকুরিয়ামে যাঁরা রঙিন মাছ চাষ করেন কিংবা বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের মাছ রাখেন তাঁরাই এখন রঙিন শামুকের ক্রেতা। যা আবার রঙিন মাছ চাষের সঙ্গে মিশ্র ভাবে চাষ সম্ভব। ফলে খুব একটা মার্কেটিংয়ের প্রয়োজন নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে আগামী দিনে রঙিন এই শামুক মহিলাদের বিভিন্ন রকমের গহনা তৈরিতেও উপযোগী।

সেসব কথা মাথায় রেখেই ইতিমধ্যেই তমলুকের সিএডিসির সদর দপ্তর রণসিনহাতে সহকারি ফসল হিসেবে রঙিন মাছের সঙ্গে এই শামুক চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তমলুকের (Tamluk) নিমতৌড়িতে স্বনির্ভর দলের সহায়তায় অন্যান্য রঙিন মাছের সঙ্গে মাটির চৌবাচ্চাতে এই শামুকের চাষ শুরু হয়েছে।

সিএডিসির তমলুক প্রকল্প আধিকারিক উত্তম কুমার লাহা বলেন, “রঙিন মাছের পাশাপাশি অ্যাকোরিয়ামের শ্রীবৃদ্ধিতে রঙিন শামুকের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশই বাড়ছে। তাছাড়া বদ্ধ অ্যাকোরিয়ামের জল পরিষ্কার রাখতে রঙিন শামুক অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তাই রঙিন মাছের পাশাপাশি রঙিন শামুক চাষে কোনো ঝুঁকি না থাকায় আগামী দিনে জেলার অর্থনৈতিক বিকাশে অনেকটাই সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ব্রয়লার মুরগি পালনে বাচ্চা আনতে বিশেষ সতর্কতা

ব্রয়লার মুরগি পালনে বাচ্চা আনতে বিশেষ সতর্কতাসমূহ কি কি সেগুলো খামারিদের ভালোভাবে জানা জরুরী। লাভের আশায় বর্তমানে আমাদের দেশে অনেকেই ব্রয়লার মুরগি পালনে ঝুঁকছেন। ব্রয়লার মুরগি পালন করার সময় বাচ্চা পরিবহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। চলুন আজ জেনে নিব ব্রয়লার মুরগি পালনে বাচ্চা আনতে বিশেষ সতর্কতা সম্পর্কে-

ব্রয়লার মুরগি পালনে বাচ্চা আনতে বিশেষ সতর্কতাঃ
১। ব্রয়লার মুরগি পালনে খামারের জন্য বাচ্চা পরিবহণ করার সময় এমনভাবে বাচ্চাগুলো পরিবহণ করতে হবে যাতে করে বৃষ্টির পানি বা সূর্যের আলো বাচ্চার গায়ে এসে না পরে। এজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২। যেসব বাক্সে করে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা পরিবহণ করা হবে সেই বক্সগুলো আগে থেকেই ময়লা ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এতে বাচ্চাগুলো জীবাণুর মাধ্যমে রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

৩। যে গাড়ীতে করে ব্রয়লারের বাচ্চা খামারে নিয়ে আসা হবে সেই গাড়ীটি অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নিয়ে তারপর বাচ্চা পরিবহণ করতে হবে।

৪। গরমের দিনে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা পরিবহণ করার দরকার হলে সকালে বাচ্চা পরিবহণ করতে হবে। অতিরিক্ত গরমের সময় কোনভাবেই বাচ্চা নিয়ে আসা যাবে না।

৫। খামারের জন্য ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা আনতে বাচ্চার বক্সগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে করে বাচ্চাগুলো কোনভাবেই আঘাত না পায়। বাচ্চা পরিবহণের সময় আঘাত পেলে পরবর্তীতে নানা জটিল সমস্যায় পড়তে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com