আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

যেসব ভুলে পর্বত সমান নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে

মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টি জগতে মানুষই সেরা। এদের মধ্যে যারা আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করেন তারা দুনিয়া ও পরকালে সফল। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার পরও কিছু ভুল বা অন্যায়ের কারণে তাদের আমলনামায় থাকা পর্বত সমান নেকগুলো কোনো কাজে আসবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসব লোক কারা? কী তাদের অন্যায়?

প্রকাশ্যে ভালো কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অনেক নেক দান করবেন। বড় বড় পর্বত সমান নেকও সামান্য ভুল তথা অন্যায়ের কারণে কোনো কাজে আসবে না। হাদিসে বর্ণনায় তাদের সুস্পষ্ট বিবরণ ওঠে এসেছে-

হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমি আমার উম্মাতের কয়েকটি দল সম্পর্কে জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন।

(এ কথা শুনে) হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিস্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন; যাতে আমরা যেন নিজেদের অজান্তে তাদের দলভূক্ত হয়ে না যাই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

– ‘তারা তোমাদেরই ভাই; তোমাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত।

– তোমাদের সঙ্গেই (একই সমাজে) বসবাস করে।

– তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই (আল্লাহর) ইবাদত করে।

 কিন্তু তারা এমন লোক যে-

‘একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হয়।’ (ইবনে মাজাহ)

হারাম কাজগুলো কী হতে পারে?

কুরআনুল কারিমের ঘোষণা- ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।’ এ শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনেক সময় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারাম ঘোষিত কাজও করে থাকে। অথচ তারা সমাজে সবার সঙ্গে আল্লাহর সব বিধান মেনে চলা ব্যক্তি। কিন্তু গোপনে সুযোগ পেলেই-

– দৃষ্টির খেয়ানত করে। সামনাসামনি কারো দিকে না তাকালেও পেছনে কিংবা লুকিয়ে এ কাজটি করে থাকে।

– লজ্জাস্থানের খেয়ানত করে। সবার সামনে অনেক পরহেজগার কিন্তু লোক চোখের অন্তরালে চারিত্রিক কুলষতায় জড়িয়ে পড়ে।

– মানুষের অধিকার নষ্ট করে। গোপনে মানুষ ধন-সম্পদ, জমা-জমি ও ফল-ফসলের ক্ষতি করে।

– নির্জনে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় জানা-অজানা হারাম অনেক কাজে নিয়োজিত হয়।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে মানুষের গোপন সেসব অন্যায় অপরাধের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন। যেন তাদের এসব অন্যায় অপরাধের কারণে দুনিয়ার জীবনের সব নেক আমলগুলো পরকালে ধূলিকনায় পরিণত না হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। গোপনে হারাম কাজে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম

সব নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর হারামাইনে প্রথম জুমা

করোনার কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পুরোপুরি বন্ধ ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল মক্কার মসজিদ আল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববি। তবে সম্প্রতি পবিত্র দুই মসজিদে নামাজ আদায় ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। এরপরই প্রথম জুমায় হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেন।

মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চ মাসে মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় হারামাইনের দরজা। এরপর করোনা প্রকোপ কমলে কিছু বিধিনিষেধ তুলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুনরায় নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়। এরপর সম্প্রতি সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।
মক্কার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও বেসরকারি খাতের কর্মী আব্দুল্লাহ মাহদি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এটি সৃষ্টিকর্তার রহমত। মসজিদের পথে আবার চলতে পারছি এবং মানুষে পরিপূর্ণ কাবা প্রাঙ্গণ। যদিও মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের মাস্ক পরে থাকতে হবে। তবে এটি কোনো ব্যাপার না। কাবা আবার মুসল্লিদের পদচারণয় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

গত সপ্তাহের শনিবার সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হারামাইনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর থাকা করোনাকালীন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। মাস্ক পরা ও টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাকি সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। সব মুসল্লিদের জন্য খুলে দেয়া হয় হারামাইনের দরজা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কুসংস্কার নিমজ্জিত বিশ্বে এসেছিলেন রসুল (সা.)

মানব সভ্যতার এক যুগ সন্ধিক্ষণে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে পৃথিবী চরম দুর্দশার কবলে পতিত হয়। সভ্যতা ও মানবতা চির বিতাড়িত হয়ে নানা কুসংস্কারে সমাজ নিমজ্জিত হয়ে যায়। ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার স্টিমরোলার যেন সর্বদা হানা দিচ্ছিল দুর্বলদের কুঠিরে। আর দুর্বলদের বিচারের বাণী সর্বক্ষেত্রেই অসহায়। 

এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে দিয়ে নিজ হাতে গড়া পাথরের দেব দেবতার সামনে অসহায় ভিখারির মতো লুটিয়ে পড়ত। নারী জাতির কোনো সম্মান ছিল না। অপমানের গ্লানি থেকে বাঁচতে কন্যা শিশুদের নির্দয়ভাবে জীবিত কবরস্থ করত। সামান্য বিষয় নিয়ে যুগের পর যুগ যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। এমনই ঘোর অন্ধকার জাহিলিয়াতের যুগে এক উজ্জ্বল নূরানী আলোর মশাল নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, সব নবী-রসুলের প্রধান, বিশ্ব নবী, শ্রেষ্ঠ নবী, আখেরি নবী মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার আগমনের সময় রবিউল আউয়াল মাস হলেও তারিখে মতানৈক্য রয়েছে। রবিউল আউয়াল মাসের ৮, ৯, ১২ ও ১৮ তারিখসহ ইতিহাসে বিভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাই মহানবীর জন্মতারিখ অনির্ধারিত রয়ে যায়। 

তিনি শেষ নবী। তারপরে আর কোনো নবী এ সুন্দর বসুন্ধরাতে আসবেন না। মানব জাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য ওহির মাধ্যমে ঐশী প্রত্যাদেশ তার মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য তাঁর মনোনীত ধর্মের বিধিনিষেধকে এখানেই পরিসমাপ্ত করবেন। শেষ নবীর নবুওয়াতের পরিধি ও কার্যক্রম কিয়ামত পর্যন্ত বনী আদমের জন্য যথেষ্ট ও নির্ধারিত। 

আল্লাহর শাশ্বত মনোনীত চিরন্তন দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ীরূপে পৃথিবীবাসীর সামনে উপস্থাপন করার মহান কাজ তিনি সফল ও সুনিপুণভাবে আঞ্জাম দেন। রাহমাতুল্লিল আলামিন মানবতার মুক্তিদূত বাবা হারা, মা হারা, দাদা হারা হয়ে এতিম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সমগ্র আরববাসীর সামনে সৎ চরিত্রবান আমানতদার, সমাজসেবক ও ইনসাফগার হিসেবে আলামিন উপাধিতে ভূষিত হলেন, তখন যেন তিনি সমগ্র আরববাসীর গর্বের ব্যক্তি ও কুরাইশ বংশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। 

৪০ বছর বয়সে যুবক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুয়াতপ্রাপ্ত হন, আল্লাহর বাণী প্রচার করতে শুরু করলেন, বিশ্বমানবতাকে মুক্তির বাণী শোনালেন, তখন নিজ বংশের আপনজনসহ সমগ্র আরবের লোকেরা তার বিরোধী ও শত্রুতে পরিণত হলো। নানাভাবে অত্যাচারসহ তাকে হত্যার জন্য তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। তখন যৎসামান্য আরবগণ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নতুন মুসলিমগণও তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছিলেন না।

পরিশেষে আল্লাহপাকের নির্দেশে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনাবাসী তাকে সাদর সম্ভাষণ জানান এবং প্রিয় নবীর নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করেন। ১০ বছর মদিনা-মনোয়ারা থেকে ইসলামের বাণী প্রচার করেন, যা সারা বিশ্বের মুসলমানদের কেন্দ্রভূমি হিসেবেই বিবেচিত হয়। 

অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়সহ তিনি হজ আদায় করেন এবং বিদায় হজে উপস্থিত সোয়া লাখ সাহাবিকে লক্ষ্য করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার প্রাণপ্রিয় সাহাবিগণ, আল্লাহর অর্পিত দায়িত্ব আমি কি সঠিকভাবে পালন করেছি’, সাহাবিগণ সমস্বরে বললেন, অবশ্যই আপনি পালন করেছেন। 

তিনি অশ্রুসজল চোখে আল্লাহকে বললেন, ‘হে আমার পরওয়ারদিগার, আপনি সাক্ষী থাকুন, আমার সাহাবিগণ সাক্ষ্য দিচ্ছে, আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ইসলামে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর সেরা ১০টি উপায়

আমরা যারা ইসলামকে সামান্য হলেও মেনে চলার চেষ্টা করি তাদের অনেকের ইচ্ছা থাকে নতুন নতুন দু’আ, কুরআনের আয়াত ও সূরা মুখস্থ করার। হয়তো আমরা অনেকেই সে চেষ্টা করেছি।কেউ কেউ সফল হয়েছি এবং হচ্ছি। কেউবা আবার ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়েও দিয়েছি। মুখস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পেছনের একটি অন্যতম কারণ হলো এটা মনে করা যে, আমাদের স্মৃতিশক্তি কমে গিয়েছে।

তাহলে এই স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় কী? আসুন এ ব্যাপারে জেনে নেই কিছু কৌশল।

স্মৃতি বলতে মূলত তথ্য ধারণ করে পুনরায় তা ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বিজ্ঞানীরা আমাদের স্মৃতিকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করেছেন। ১. স্বল্পস্থায়ী বা স্বল্প মেয়াদী স্মৃতি ২. দীর্ঘস্থায়ী বা দীর্ঘ মেয়াদী স্মৃতি। খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যে সব স্মৃতি স্থায়ী থাকে সেগুলো হচ্ছে স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি। আর দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যেসব স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে সেগুলো হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। এই লেখায় আমরা মূলত দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করবো।

১. ইখলাস বা আন্তরিকতা: যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে ইখলাস বা আন্তরিকতা। আর ইখলাসের মূল উপাদান হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়তের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব সম্পর্কে উস্তাদ খুররাম মুরাদ বলেন, “উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে। ”

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাদের এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। ” [সূরা আল-বায়্যিনাহঃ ৫]

তাই আমাদের নিয়ত হতে হবে এমন যে, আল্লাহ আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন।

২. দু’আ ও যিকর করা: আমরা সকলেই জানি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দু’আ করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দু’আটি পাঠ করতে পারি, “হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। ” [সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪]

তাছাড়া যিকর বা আল্লাহর স্মরণও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “…যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন…” [সূরা আল-কাহ্‌ফঃ ২৪] তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।

৩. পাপ থেকে দূরে থাকা: প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। ইমাম আশ-শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না। ”

আল-খাতীব আল-জামী'(২/৩৮৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেন: “এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘হে আবদ-আল্লাহ, আমার স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে দিতে পারে এমন কোন কিছু কি আছে? তিনি বলেন, যদি কোন কিছু স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে তা হলো পাপ করা ছেড়ে দেয়া। ”

যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায় এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর ‘আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
 
৪. বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা: একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে, আমাদের সকলের মুখস্থ করার পদ্ধতি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুরআনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

৫. মুখস্থকৃত বিষয়ের উপর আমল করা: আমরা সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো একটি বিষয় যতো বেশিবার পড়া হয় তা আমাদের মস্তিষ্কে ততো দৃঢ়ভাবে জমা হয়। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে অতো বেশি পড়ার সময় হয়তো অনেকেরই নেই। তবে চাইলেই কিন্তু আমরা এক ঢিলে দু’পাখি মারতে পারি। আমরা আমাদের মুখস্থকৃত সূরা কিংবা সূরার অংশ বিশেষ সুন্নাহ ও নফল সালাতে তিলাওয়াত করতে পারি এবং দু’আসমূহ পাঠ করতে পারি সালাতের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়। এতে একদিকে ‘আমল করা হবে আর অন্যদিকে হবে মুখস্থকৃত বিষয়টির ঝালাইয়ের কাজ।

৬. অন্যকে শেখানো: কোনো কিছু শেখার একটি উত্তম উপায় হলো তা অন্যকে শেখানো। আর এজন্য আমাদেরকে একই বিষয় বারবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পড়তে হয়। এতে করে ঐ বিষয়টি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।

৭. মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণ: পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য একান্ত আবশ্যক। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ আমাদের ঘুম বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের অলস করে তোলে। ফলে আমরা জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ি। তাছাড়া কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। সম্প্রতি ফ্রান্সের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যয়তুনের তেল চাক্ষুস স্মৃতি (visual memory) ও বাচনিক সাবলীলতা (verbal fluency) বৃদ্ধি করে। আর যেসব খাদ্যে অধিক পরিমাণে Omega-3 ফ্যাট রয়েছে সেসব খাদ্য স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপের জন্য খুবই উপকারী। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অনেক ‘আলিম কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণের কথা বলেছেন। ইমাম আয-যুহরি বলেন, “তোমাদের মধু পান করা উচিত কারণ এটি স্মৃতির জন্য উপকারী। ”

মধুতে রয়েছে মুক্ত চিনিকোষ যা আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মধু পান করার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ইমাম আয-যুহরি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীস মুখস্থ করতে চায় তার উচিত কিসমিস খাওয়া। ”

৮. পরিমিত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যস্ত অফিসের মতো কাজ করে। এটি তখন সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যসমূহ প্রক্রিয়াজাত করে। তাছাড়া ঘুম মস্তিষ্ক কোষের পুণর্গঠন ও ক্লান্তি দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দুপুরে সামান্য ভাতঘুম আমাদের মন-মেজাজ ও অনুভূতিকে চাঙা রাখে। এটি একটি সুন্নাহও বটে। আর অতিরিক্ত ঘুমের কুফল সম্পর্কে তো আগেই বলা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাওয়াহ বিতরণ না করে নিজের মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া।

৯. জীবনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারসমূহ ত্যাগ করা: বর্তমানে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া ও জ্ঞান অর্জনে অনীহার একটি অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখি। ফলে কোনো কাজই আমরা গভীর মনোযোগের সাথে করতে পারি না। মাঝে মাঝে আমাদের কারো কারো অবস্থা তো এমন হয় যে, সালাতের কিছু অংশ আদায় করার পর মনে করতে পারি না ঠিক কতোটুকু সালাত আমরা আদায় করেছি। আর এমনটি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে নিজেদেরকে আড্ডাবাজি, গান-বাজনা শোনা, মুভি দেখা, ফেইসবুকিং ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখা। তাই আমাদের উচিত এগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা।

১০. হাল না ছাড়া: যে কোনো কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। যে কোনো কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে শুরুটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। তাই আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সালাম দেওয়ার ফজিলত

সালাম আরবী শব্দ। এর অর্থ শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, দোয়া, আরাম, আনন্দ ইত্যাদি।

সালাম একটি সম্মানজনক অভ্যর্থনামূলক ইসলামী অভিবাদন। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আদমকে (আ.) সালামের শিক্ষা দেন। হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাকে ফেরেশতাদের সালাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সালাম দিলে ফেরেশতারাও এর উত্তর দেন।

আসসালামু আলাইকুম মানে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

সালামের মাধ্যমে পরস্পরের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেওয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। আর এর উত্তর দেওয়া অবশ্যকরণীয়।  

হাদিসে রয়েছে, একজন মুসলমানের সঙ্গে অপর মুসলমানের দেখা হলে কথা বার্তার আগে সালাম দিতে হবে। সালামের ফজিলত অনেক। প্রথমত সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর (ওয়ালাইকুমুস সালাম) দেওয়া সুন্নত।  

মেশকাতে বর্ণিত আছে, একবার এক ব্যক্তি রাসুলের (সা.) নিকটে এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম। তখন তিনি বললেন, লোকটির জন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন, ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আল্লাহর রাসুল (সা.) তার জওয়াব দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন ওয়া বারাকাতুহু। রাসুল (সা.) তারও জওয়াব দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে।  

সালামের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, যখন দুজন মুসলমানের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, সালাম-মুসাফাহা (হ্যান্ডশেক) করে তখন একে অপর থেকে পৃথক হওয়ার আগেই তাদের সব গুণাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সালামের মাধ্যমে পরস্পরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। অহঙ্কার থেকেও বেঁচে থাকা যায়। সর্বত্র সালামের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে একে অপরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রবিউল আউয়ালের শিক্ষা সম্প্রীতির দীক্ষা

সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। বনি আদম সবাই একই মা-বাবার সন্তান। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অনুসরণই একমাত্র পথ। পবিত্র মাহে রবিউল আউয়ালেই তাঁর আবির্ভাব। দীর্ঘ ১৩ বছর বহু জুলুম–নির্যাতন–নিপীড়ন সহ্য করে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসেই তিনি পবিত্র মক্কা থেকে হিজরত করে পুণ্যভূমি মদিনায় শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসলাম সব মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়, দ্বন্দ্ব–সংঘাতকে সমর্থন করে না। তাই শান্তিদূত রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ নানা ধর্মের ও নানা বর্ণের লোকদের নিয়ে একটি সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন; যা জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সবার মানবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যা মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এ চুক্তির উদ্দেশ্যাবলির অন্যতম ছিল যুদ্ধের পরিবর্তে পরস্পরের শান্তিপূর্ণ অবস্থান করা, অত্যাচারিত–নিপীড়িতকে সাহায্য করা এবং চুক্তিভুক্ত সব পক্ষের মানমর্যাদা ও ধর্মবিশ্বাসের অধিকার সংরক্ষণ করা।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মাহে রবিউল আউয়াল মদিনার সমাজে বসন্তের সুবাস বয়ে আনে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনে বিরাট পরিবর্তন সাধন করে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নৈরাজ্য, সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করে যুদ্ধবাজ গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘাতের পরিবর্তে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন।

ইসলাম বহুজাতিক রাষ্ট্র ও সমন্বিত সমাজ প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ঘোষণা করা হয়, ‘মুমিন মুসলিমগণ ও যারা তাদের অনুগামী হয়ে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং তাদের সঙ্গে মিলে দেশের প্রতিরক্ষা করবে, তাদের মধ্যে তারা অভিন্ন একটি জাতি বলে পরিগণিত হবে এবং ন্যায়সংগত আচরণ করবে। কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে, কেউ জুলুমের থাবা বিস্তার করতে চাইলে, কেউ অন্যায় বা সীমা লঙ্ঘন করতে চাইলে ও বিপর্যয়–বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে সবাই সম্মিলিতভাবে তার প্রতিকার করবে, যদিও সে তাদের কারও সন্তানও হয়। কোনো মুমিন কারও পক্ষ নিয়ে কাউকে হত্যা করবেন না, আল্লাহর নিরাপত্তা জিম্মাদারি সবার জন্য সমান। অবশ্যই অঙ্গীকার পূর্ণ করতে হবে। যে কেউ আল্লাহ ও আখিরাতে ইমান এনেছে, তার জন্য কোনো চুক্তি ভঙ্গকারীকে সাহায্য করা বা আশ্রয় দেওয়া বৈধ নয়। যে এমন কাউকে সাহায্য করবে অথবা আশ্রয় দেবে, তার ওপর রোজ কিয়ামতে আল্লাহর লানত ও ক্রোধ নিপতিত হবে।’ (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)।বিজ্ঞাপন

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)–এর মহান আদর্শ হলো ‘যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটন করবে, সে ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার জন্য দায়ী হবে। পিতার অপরাধে পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধে পিতাকে দায়ী করা যাবে না।’ ‘কেউ কারও পাপের বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা-৬ আনআম, আয়াত: ১৬৪ ও সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ১৫)। যদি কেউ মজলুম হয়, তাহলে সে নিজের প্রতিরক্ষা করতে পারবে। প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, কোনো ব্যক্তি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না এবং মজলুমকে সবাই সাহায্য করবে। প্রতিবেশীকে নিজের মতোই গণ্য করতে হবে। তার কোনো ক্ষতি বা তার প্রতি কোনো অপরাধ সংঘটন করা যাবে না। কোনো জালিম বা অপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে না। যে জুলুম করবে এবং অপরাধ করবে, সে নিরাপদ নয়। যে ব্যক্তি এ চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে, আল্লাহ তার সাহায্য করবেন। (ইবনে কাসির)।

শান্তির জন্য চাই সত্যনিষ্ঠা ও সংযম। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ‘কেউ হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর অনুমোদন ব্যতিরেকে (রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়া) যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হতে পারবে না।’ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) সে ব্যক্তির সাহায্যকারী যে সত্যনিষ্ঠ ও সংযত।’ (সিরাতুন্নবী, ইবনে হিশাম)।

মহানবী (সা.) অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করে রবিউল আউয়াল মাসেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। দ্বন্দ্ব–সংঘাত এড়িয়ে সন্ধিতে আবদ্ধ হওয়া, প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা তাঁর শান্তিকামিতার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ এবং মাহে রবিউল আউয়ালের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। তিনি শান্তি স্থাপনের জন্য মদিনা সনদ ছাড়াও হুদাইবিয়ার সন্ধিসহ আরও বহু সন্ধিতে আবদ্ধ হয়েছেন। বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা জীবন এ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা মন্দকে ভালোর দ্বারা প্রতিহত করো’ (সুরা-৬ আনআম, আয়াত: ১৬৪)। ‘ভালো ও মন্দ সমান নয়, তোমরা মন্দকে উৎকৃষ্ট আচরণ দ্বারা প্রতিহত করো। ফলে তোমার জানের দুশমন, প্রাণের বন্ধুতে পরিণত হয়ে যাবে।’ (সুরা-৪১ হা–মিম সিজদা, আয়াত: ৩৪)।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com