আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে

মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে
মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে

বাংলাদেশে এ বছর খুলছে না স্কুল, পরবর্তী ক্লাশে উত্তীর্ণ হবার জন্য অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন হবে শিক্ষার্থীদের।

এজন্য এক মাসের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করে তার ওপর হবে এই মূল্যায়ন।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আজ (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা জানিয়েছন।।

তিনি বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট পাঠিয়ে দেবেন, এবং এরপর অনলাইনে কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্কুলে গিয়েও উত্তর জমা দেয়া যাবে।

শিক্ষামন্ত্রী এও বলছেন, বছর শেষে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যাসাইনমেন্টের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন কোন প্রভাব ফেলবে না।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে এভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সবার আগে যে পদক্ষেপ নিয়েছিল সেটি হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা।

এ কারণে গত ১৭ই মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, এবং অক্টোবরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়িয়েছে সরকার।

এর আগে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পিইসি, অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা এবং সর্বশেষ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত নিজ নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণীতে প্রমোশন দিতে বলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সিলেবাসে কী থাকবে

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে প্রতিটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

এটি মূলত হবে প্রতিটি ক্লাসে পুরো বছরের জন্য যে সিলেবাস তৈরি করা হয়, তার একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই সিলেবাস দেয়া হবে। একই সঙ্গে সব স্কুল প্রধানদের কাছেও তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি।

মূল্যায়ন কীভাবে হবে

ওই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে চার সপ্তাহে চারটি অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করা হবে, এবং তার উত্তর সংগ্রহ করা হবে।

এক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করা হবে অনলাইনে, এবং উত্তর অনলাইনে জমা দেয়া যাবে।

একই সাথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্কুলে গিয়েও অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবেন।

এবং একটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবার পর পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করা যাবে।

এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে
এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

এই সময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য কোন পরীক্ষা বা ক্লাসওয়ার্ক প্রদান বা জমা নিতে পারবে না।

এরপর চারটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার পর একটি মূল্যায়ন করবে কর্তৃপক্ষ।

তবে এই মূল্যায়ন পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। মূল্যায়ন যেন ‘শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি’ না করে সে বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

“এটি (মূল্যায়ন) কেবল আমাদের (কর্তৃপক্ষের) বোঝার জন্য যে শিক্ষার্থীর কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে, যাতে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ওই বিষয়ে বাড়তি নজর দেয়া যায়, যত্ন নেয়া যায়, সেজন্য।”

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এভাবেই মাধ্যমিকের পাঠ কার্যক্রম চলবে।

স্কুল খুলবেকবে?

স্কুল কবে খুলবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন ঘোষণা দেননি শিক্ষামন্ত্রী।

তবে মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার ঘোষণা আসায় ধরে নেয়া হচ্ছে এ বছর স্কুল খুলছে না।

এর মানে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান এবং সংগ্রহ প্রক্রিয়ার জন্য স্কুল খোলা থাকলেও পাঠদান কার্যক্রমের জন্য আপাতত স্কুল খুলছে না।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অ্যাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চলবে।

স্থানান্তরিত হওয়া শিক্ষার্থীদের কী হবে?

কোভিডের কারণে অনেক পরিবার হয়ত এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন, সেই সব পরিবারের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, “এক হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্টগুলো ওয়েবসাইটে ও টেলিভিশনে পাবেন, সুতরাং সেখান থেকে নিয়ে শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকেরা স্কুলে জমা দিতে পারবেন।

অথবা বর্তমান আবাসস্থলের কাছের মাধ্যমিক স্কুলটিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিলেবাস এবং অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।”

এবং অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে সেই প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে পারবেন।

  • এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

    এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে

  • শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

    শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

  • মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে

    মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে

  • এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে
  • শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি
  • মাধ্যমিক শিক্ষা: এ বছর স্কুল খুলবে না, বার্ষিক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে যেভাবে

পরিবেশ

পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক বর্জ্য

ই-বর্জ্য হচ্ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য। যেমন: পরিত্যক্ত টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, এয়ারকন্ডিশনার, মুঠোফোন, ইলেকট্রনিক খেলনাসামগ্রী ইত্যাদি। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিস ব্যবহারের পরে যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখনই এটি বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। সাধারণ দৃষ্টিতে এগুলোকে চিরাচরিত বর্জ্য মনে হলেও আসলে কিন্তু তা নয়। এগুলো পচনশীল নয়, তাই পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এ কারণে মাটি, গাছপালা, ফসল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, পুরোনো ইলেকট্রনিকসামগ্রী যখন ভাঙারির দোকানে স্থান পায়, তখন দোকানিরা প্রয়োজনে এসব বর্জ্যকে রোদের তাপে শুকিয়ে নেন। অনেকে বর্জ্যগুলোকে দোকানে না রেখে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। ছবিগুলো সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তোলা। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শীতের সকালে সদরঘাট

রাজধানীতে শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। গত কয়েক দিন ভোরের সদরঘাট ছিল কুয়াশার চাদরে ঢাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ সরে গিয়ে রোদ–ঝলমলে হয়ে ওঠে চারদিক। রোদ-কুয়াশার এই খেলার মধ্যেই চলে বুড়িগঙ্গাপারের মানুষগুলোর জীবন। ছবিগুলো মঙ্গলবার ভোরে তোলা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

প্রেরণার উৎস বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)

সমকালে মানুষের মুখে আজও উচ্চারিত হয় একটি নাম—বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)। তাঁকে নিয়ে অনেক কথা, কিংবদন্তি বিদ্যমান সমাজে। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করেন। প্রচলিত পীরের যে ধারণা, তার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে শায়খ আবদুল কাদের জিলানির মিল নেই। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত এক আলোর সারথী। হজরত হাসান (রা.)–এর বংশের অত্যুজ্জ্বল এই মানুষটিকে নিয়ে এই লেখা।


হিজরি পঞ্চম শতকে এসে মুসলিম জাহান এক চরম দুর্বিপাকে পড়ে। কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় খিলাফতের মধ্যে গড়ে ওঠে বহু স্বাধীন রাজ্য। এর মধ্যে আবার একদিকে চলতে থাকে গৃহযুদ্ধ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে চলতে থাকে খ্রিষ্টান শক্তি কর্তৃক বহিরাক্রমণ। এই নাজুক রাজনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ও নেমে এসেছিল চরমভাবে। গ্রিক ও অন্যান্য অমুসলিম দর্শন নির্বিচারে আমদানি ও তার ব্যাপক চর্চার কারণে মুসলিম মানসে ছড়িয়ে পড়েছিল এর মারাত্মক কুফল। তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাসে ইসলামবিরোধী ভাবধারার অনুপ্রবেশ ঘটে। ইসলামের নির্ভেজাল তৌহিদি দর্শন কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনৈসলামি দর্শনের সংমিশ্রণে হারিয়ে ফেলে তার স্বকীয়তা। এর ফল ছিল যেমন মারাত্মক, তেমনি সুদূরপ্রসারী। ‘আমাদের সূফীয়ায়ে কিরাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতির এই চরম দুর্দিনে ইসলামের আঁধার আকাশে উদিত হয়েছিল এক রওশন আফতাব, যার বিমল জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছিল দিগদিগন্ত। তিনি হচ্ছেন মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)।


তিনি মুসলিম মিল্লাতের, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধঃপতন দূর করে তাদের সিরাতুল মুস্তাকিমে পুনঃস্থাপনের জন্য চালিয়েছিলেন বিরামহীন সংগ্রাম। বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য করেছিলেন আমরণ সাধনা। প্রমাণ করেছিলেন এর শ্রেষ্ঠত্ব। গ্রিক ও ভারতীয় অনৈসলামি পরিবেশ থেকে ইসলামি তাসাউফকে উদ্ধার করে ভাস্বর করে তুলেছিলেন স্বকীয় মহিমায়। শরিয়তকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের সহিহ পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। শতধাবিচ্ছিন্ন জাতির মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন ঐক্যের চেতনা। আসলে তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন অনিবার্য পুরুষ ছিলেন। তিনি বিপর্যস্ত, বিপন্ন মুসলিম উম্মাহকে নতুন পথ দেখিয়েছেন, আশার আলো জ্বালিয়েছেন।বিজ্ঞাপন


প্রতিবছর এই মনীষীর মৃত্যুর দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিনটি ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে পালিত হয়।
শামসুল আলম তাঁর ‘ABDUL QUADER GHILANI’ গ্রন্থে বলেন, আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) জিলান শহরের নাইফে ৪৭০ হিজরির রমজানে/১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জিলান শহর হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ তীরবর্তী পর্বতঘেরা অঞ্চল।
তাঁর পিতার নাম ছিল সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জেঙ্গি এবং মাতার নাম ছিল সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা। পিতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.)–এর বংশধর আর মায়ের দিক থেকে ছিলেন হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)–এর বংশধর। হাসানি ও হুসাইনি দুই পবিত্র রক্তধারার সম্মিলন ঘটেছিল তাঁর মধ্যে।


তাঁকে নিয়ে অনেক কথা বইপুস্তকে পাওয়া যায়। এখানে তাঁর প্রতিভাদীপ্ত সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা যাক। সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নাদভি লিখেছেন, ইমাম গাজালি (রহ.)–এর ইহয়াউল উলুমুদ্দিন-এর পরে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিবিশিষ্ট রচনারীতির প্রতিকৃতি হিসেবে এবং যথাযথভাবে যুগের চাহিদা পূরণে সফল ও বরকতময় প্রচেষ্টা হিসেবে যে গ্রন্থটির উল্লেখ করতে হয়, সেটি হলো শায়খ আবদুল কাদের জিলানির ‘গুনইয়াতুত তালিবিন’। যারা নিজেকে সংশোধন করতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষ করে মুরিদদের পথপ্রদর্শনের মূল্যবান দিকদর্শন রয়েছে এটিতে।


হজরত শায়খ জিলানির শিষ্যমণ্ডলীভুক্ত ব্যক্তিগণ এবং যাঁরা কোরআন, সুন্নাহ এবং সালফে সালিহীন ও সুমহান পূর্বসূরিদের অনুসৃত আকিদা ও প্রত্যয়ের আলোকে নিজেদের জীবনকে সুগঠিত করতে অভিলাষী, যাঁরা নিজের চরিত্র শোধন ও অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি লাভে আগ্রহী, তাঁদের সবার কাছেই এই মহান গ্রন্থটি নীতিমালা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকা—উভয় মহাদেশে এই গ্রন্থটির মাধ্যমে উপকৃত লোকদের সংখ্যা হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ।


স্বভাব–চরিত্র
তিনি ছিলেন রাসুলে করিম (সা.)–এর পূর্ণ অনুসারী। মানুষে মানুষে তিনি কোনো পার্থক্য করতেন না। বাদশাহ-ফকিরকে দেখতেন একই নজরে। এমনকি গরিবকে দিতেন তিনি প্রাধান্য। আমির লোকদের হাদিয়া তিনি গ্রহণ করতেন না। তবে গরিবের হাদিয়া গ্রহণ করতেন সন্তুষ্টচিত্তে। জীবনে শাহি–দরবারে কখনো গমন করেননি। তাঁর দরবারে যত হাদিয়া উপস্থিত, হতো তিনি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত লোকদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতেন। মানুষের দুঃখ সহ্য করতে পারতেন না। তা দূর করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তিনি বন্ধুবৎসল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও অমায়িক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। অপরের সালামের অপেক্ষা তিনি করতেন না। আগেই সালাম দিতেন, মুসাফাহার জন্য আগেই হাত বাড়িয়ে দিতেন।

উপদেশ
গাউসুল আজম বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) উপদেশের এমন সব মণি-মুক্তা ছড়িয়ে রেখে গেছেন, যার ঔজ্জ্বল্য কোনো দিনই হারাবে না। যেমন:
তিনি বলেন, মুমিনের কাজ তিনটি: আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইচ্ছা–সিন্ধুতে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া।
প্রথমে ফরজ, পরে সুন্নত ও তারপরে নফল। ফরজ ছেড়ে সুন্নত–নফল নিয়ে মশগুল থাকা আহম্মকি। সুন্নত আদায় বাকি রেখে নফল আদায়ের চেষ্টারও কোনো মূল্য নেই। ফরজ ছেড়ে দিয়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে থাকা বাদশাহকে পরিত্যাগ করে গোলামের খিদমতে আত্মনিয়োগের শামিল। শুধু প্রতিমাপূজার নামই শিরক নয়, প্রবৃত্তির দাসত্ব করাও শিরকের শামিল।


শায়খের ইন্তেকাল
হিজরি ৬৬২ সালের ১১ রবিউস সানি তাঁর মাশুকে আলার নিকট গমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর চার স্ত্রীর গর্ভে ২৭ পুত্র ও ২২ কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।
ইসলামের খিদমতের জন্য তিনি যেসব কাজ করেছেন, সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য অনাগতকাল ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালের দিনকেই ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম বলা হয়।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, শায়খ জিলানি দুনিয়াতে বৈরাগ্যসাধনের শিক্ষা দেননি। তিনি জগৎকে ব্যবহার ও পরিমাণমতো উপভোগ করতে নিষেধ করেননি। তবে এর উপাসনা ও দাসত্ব এবং আন্তরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর উপদেশাবলি ও মূলতত্ত্ব রাসুলের হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, অবশ্যই জগৎ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আর তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে পরকালের জন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাছুরটির দুই মাথা, দুই মুখ

সদ্য জন্ম নেওয়া বাছুর‌টির মাথা দুটি, মুখও দুটি, আর চোখ চার‌টি। জন্মের পর দুই মুখ দি‌য়েই মা গাভির দুধ পান করেছে বাছুরটি। এমন আকৃতির বাছুর‌টি দেখ‌তে আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন গরুর মালিকের বাড়িতে।

শ‌নিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের আরাজি মিলনপুর গ্রা‌মে বাছুরটির জন্ম হয়। গরুর মা‌লিক মিলনপুর বাজারের পশ্চিমে জসিম উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁর বা‌ড়ি‌তে মোট ১৫টি গরু আছে। এর ম‌ধ্যে ১০টি দেশি ও ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের পাঁচটি। ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের একটি গাভির বাছুর হয়েছে। সেই বাছুরের দুটি মাথা, মুখ দুটি ও চোখ চার‌টি।বিজ্ঞাপন

মোসলেম উদ্দিন আরও বলেন, ‘এপ্রিল মা‌সের শে‌ষে গরু‌টি ডাক দি‌লে ডাক্তার দেখাই। সাধারণত গাভিন হওয়ার ৯ মাস প‌রে বাচ্চা হয়। কিন্তু সাত মা‌সের ম‌ধ্যেই বাচ্চা হ‌য়ে গেল। গরুর এমন বাছুর জন্মাতে পারে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুরটির জন্মের পর থেকে কিছুটা দুর্বল। ত‌বে বাছুরটি এখন পর্যন্ত জীবিত আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বল‌ছেন, এটি বিরল ঘটনা। এ ধর‌নের ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তাঁরা। আসল মাথা কোনটি, কোন মুখ দি‌য়ে ঘাস খা‌বে বাছুর‌টি এই নিয়ে চল‌ছে নানা জল্পনাকল্পনা।

এ বিষয়ে জান‌তে চাইলে বীরগঞ্জ উপ‌জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ইউনুস আলী ব‌লেন, ‘এটা একটা জন্মগত সমস্যা; যা কনজেনিটাল অ্যাবনরমালিস (congenital abnormalis) এবং টেরাটোজেনিক ইফেক্টের (teratogenic effect) কারণে হয়ে থাকে। এতে সাত মাসে গাভির গর্ভপাত হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দাম না বাড়ালে চাল নয়

আমনে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। খাদ্য মন্ত্রণালয় রাজি নয়।

  • আমদানি করে মজুত বাড়াবে সরকার।
  • এক লাখ টনের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান।
  • মজুত কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে।

বোরো মৌসুমের পর আমনেও ধান-চাল সংগ্রহ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে চাল দিতে কেজিপ্রতি চার টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। বাড়তি দাম না পেলে তাঁরা সরকারকে চাল দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

অবশ্য সরকার আগের মতোই অনঢ়। খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম বাড়াবে না। প্রয়োজনে আমদানি করে চালের মজুত বাড়াবে তারা। এরই মধ্যে চলতি মাসে খাদ্য অধিদপ্তর এক লাখ টন চাল আমদানির দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রয়োজনে আরও কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও রেখেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমাও দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে চাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

সারওয়ার মাহমুদ , খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করলে দেশে আসার পর শুল্কসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৩৪ টাকা। থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে পড়বে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চালকলের মালিকেরা চান, সরকার সেদ্ধ চালের দাম প্রতি কেজি ৪১ টাকা নির্ধারণ করুক। গত মঙ্গলবার নওগাঁয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চালকলের মালিকেরা। সূত্র জানায়, বৈঠকে দাম বাড়ানোর দাবি ওঠে। অবশ্য সরকার জানিয়ে দেয়, দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। পরদিন (গত বুধবার) বগুড়ায় চালকলের মালিকেরা কেন্দ্রীয়ভাবে আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানে বেশির ভাগ মালিক সরকারকে চাল না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

এদিকে সরকারি চালের মজুতও কমতির দিকে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে চালের মজুত ১০ লাখ টন থেকে কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে। গত বছর এ সময়ে সরকারের গুদামে প্রায় ১১ লাখ টন চাল ছিল।

সরকার গত বোরোতে ১৮ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। যদিও মিলমালিকেরা সরকারকে চুক্তি অনুযায়ী চাল দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহের সময় এক দফা বাড়িয়েও ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করা যায়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, কেউ চাল না দিলে আমদানি করে মজুত বাড়ানোর সুযোগ তো রয়েছেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com