আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মানুষসহ সব প্রাণের অস্তিত্ব পরিবেশের উপরই নির্ভরশীল। কারণ পরিবেশই প্রাণের ধারক ও বাহক। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে হুমকি। মানুষ যেমন তার প্রয়োজনে পরিবেশকে নিজের উপযোগী করছে; ঠিক তেমনি সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে মানুষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে প্রাণের অস্তিত্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অসচেতনতা এবং অপরিকল্পিত পরিকল্পনা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ পরিবেশ সংকটের এই দায় সমগ্র মানব জাতির।

পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশের সঠিক ব্যবহার ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতির কথা সামনে রেখেই প্রতি বছর ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। জাতিসংঘ মানব পরিবেশের সুরক্ষা ও উন্নতিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক কর্মোদ্যোগ আর জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দিনটি পালিত হয়। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে পরিবেশবাদের উন্নয়নে সুইডেনের স্টকহোমে ৫-১৬ জুন প্রথম পরিবেশ বান্ধব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্ধিতকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার একটি মৌলিক সাধারণ দৃষ্টিকোণ গঠন করাই ছিল এর লক্ষ। এ সম্মেলনকে স্টকহোম সম্মেলন বলা হয়। একই বছর ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করে এবং UNEP (United Nations Environment Programme) নামে পরিবেশবাদী একটি সংস্থা তৈরি করে।

আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

১৯৭৪ সালের ৫ জুন প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হওয়ার পর থেকে ১শ’টির বেশি দেশে দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে একটি বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। দিবসটি সামুদ্রিক দূষণ, মরুকরণ, ওজোনস্তর, মাটি দূষণ, বশ্বৈকি উষ্ণতা হ্রাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত একটি বৃহৎ পদক্ষেপ। প্রতিবছর একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়। যা পরিবেশগত সমস্যার প্রতি মানুষের মনোযোগ সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন UNEP (United Nations Environment Programme) ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘প্লাস্টিক দূষণ নিরোধ’- কে নির্ধারণ করেছে। প্রাকৃতিক স্থান, বন্যপ্রাণী এবং নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে দৈনন্দিন জীবনে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।

জাতিসংঘ পরিবেশের প্রতিপাদ্য বিষয়টি পালনের জন্য বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানায়। যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব পালিত হয়। এবার ‘প্লাস্টিক দূষণ নিরোধ’-এর অতিথি দেশ হিসেবে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি এবং সুশীল সমাজ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

প্লাস্টিক সামগ্রীর ওপর অধিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কারণ যত্রতত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশকে দূষিত করে প্রাণী জগতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। মানুষের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশকে দূষণ করে জলজ, স্থলজ, বনজ, এমনকি মানবজাতির স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অতিমাত্রায় প্লাস্টিক ব্যবহার ও এর যত্রতত্র নিক্ষেপ পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। পলিথিন ব্যাগ, গৃহস্থালির ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পণ্যের মোড়ক, কসমেটিকস্ প্লাস্টিক, পানির জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ফলে প্রকৃতিকে দূষিত করছে। কারণ প্লাস্টিক এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা সহজে পচে না এবং যার পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে প্রচুর সময় লাগে। ফলে পরিবেশের ওপর এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। যেহেতু প্লাস্টিক অপচ্য পদার্থ সেহেতু বন, জল ও স্থলের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রাণীর বাসস্থান ও খাদ্য গ্রহণে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করছে। ফলে সেসব স্থানের প্রাণীর জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি কোনো কোনো প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। শুধু প্রাণীর ক্ষেত্রেই নয়, প্লাস্টিক মানব দেহে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।

উনবিংশ শতাব্দীর আবিষ্কার প্লাস্টিক বর্তমানে সর্ববৃহৎ পণ্য যা বছরে ১ ট্রিলিয়ন হারে উৎপাদিত হয়। কাগজ বা কাপড়ের তুলনায় প্লাস্টিকের স্থায়িত্ব বেশি এবং এর ব্যবহার সহজ হওয়ায় পৃথিবীর সব প্রান্তে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৯৭ সালে নাবিক ও গবেষক চালস্ ম্যুর আবিষ্কার করেন- পৃথিবীর বিভিন্ন মহাসাগরে প্রচুর প্লাস্টিক সামগ্রী জমে আছে, যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন- সামুদ্রিক কচ্ছপ ভাসমান প্লাস্টিক ব্যাগকে জেলিফিশ ভেবে ভুল করে খেয়ে ফেলায় মারা যায়। একইভাবে মাছ ও পাখির জন্যও প্লাস্টিক ব্যাগ ক্ষতির কারণ। প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার এবং যত্রতত্র সেগুলো ফেলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সাহায্য করছে। পলিথিনের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করণে আইন প্রণীত হয়। বাংলাদেশই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে ২০০২ সালে। এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ আইন চালু আছে।

আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

তবে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ আইন প্রণীত হওয়া সত্তে¡ও প্লাস্টিকের ব্যবহার তেমন কমেনি। দিনটি এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এবং পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। শুধু প্লাস্টিক নয়, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে নানান কারণে। পরিবেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের ফলে পরিবেশ অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনিরাপদ করে ফেলছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ, জল, বায়ু ও মাটির উপর প্রচুর চাপ পড়ছে। মানুষের নিজেদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বনের পর বন উজাড় করে আবাদি জমি তৈরি করছে, যার জন্য প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাণী জগৎ। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চলের নানা ধরনের পশু-পাখি। পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে যে সব প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা জরুরি তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। চাষাবাদ বৃদ্ধি করার জন্য নানা ধরনের রাসায়নিক সারের ব্যবহার মাটির আর্দ্রতা নষ্ট করে মাটিকে দূষিত ও বিষাক্ত করে তুলছে যা গাছপালাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং মানব দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করছে।

সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে মানুষ নিজেদের সুবিধার্থে তৈরি করছে নানারকম প্রযুক্তি, বাড়ছে ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের চাহিদা যার থেকে নির্গত পদার্থ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দূষণে অগ্রণি ভূমিকা পালন করে চলেছে। কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বায়ু দূষণে প্রাণীর বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অধিক নগরায়ন, যানবাহন বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবেশ তার বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। মানুষ শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা বর্তমান পৃথিবীর বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পৃথিবীতে সুস্থভাবে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশের অংশ হিসেবে মানুষ পরিবেশ থেকে প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করে। তাই পরিবেশ বিপর্যস্ত হলে অন্যান্য প্রাণীর সাথে সাথে মানুষের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে। তাই নিজেদের স্বার্থেই মানুষকে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিভিত্তিক সমাধানের সাথে সাথে সমন্বিত মনোভাব একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জনসচেতনতা। যেমন- সামুদ্রিক পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য ওটামুর (Watamu) লোকজন প্রতি শুক্রবার স্থানীয় মহাসাগর থেকে প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করে।

পরিবেশকে সুস্থ রাখতে গাছ সবচেয়ে বেশি জরুরি। অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ ও বনজ সম্পদকে রক্ষা করে বায়ু দূষণের মাত্রাকে কমানো সম্ভব। বাস্তুতন্ত্রের যে সব জীব পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে সব নীতিমালা প্রণীত রয়েছে তার যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবেশ দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে পারে। প্রাণের অস্তিত্বের জন্য পরিবেশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুরক্ষিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

    আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

    আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

    আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

    আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ

  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
  • আমাদের পরিবেশ আমাদের ভবিষ্যৎ
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

লজ্জাবতী গাছের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে বলে গবেষকরা বলছেন

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের আশেপাশে থাকা অনেক গাছপালা, উদ্ভিদ বা তরুলতা নানা ঔষধি কাজে মানুষজন ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধের ক্ষেত্রে এসব গাছ-গাছড়ার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

বাংলাদেশের গবেষকরা বলছেন, আমাদের আশেপাশে থাকা অনেক গাছের ঔষধি গুণ রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষজন এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার করে এলেও এখন তাদের গবেষণায় এগুলোর নানা গুণাগুণ দেখতে পেয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”পৃথিবীজুড়ে ৫০ হাজারের ওপর এমন গাছ ও উদ্ভিদ রয়েছে, যা মানুষ নানা কাজে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশেও এরকম প্রায় ১৫০০ প্রজাতির তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮০০ প্রজাতির গাছ ও উদ্ভিদের ঔষধি ক্ষমতার প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”

এর অনেক গাছই আমাদের ঘরের আশেপাশে, অযত্নে, অবহেলায় বড় হয়ে ওঠে। আবার সংরক্ষণের অভাবে অনেক গাছ ও উদ্ভিদ এখন হারিয়ে যেতেও বসেছে।

ঔষধি গাছ নিয়ে গবেষণা করছেন ড. তাহমিনা হক

বহুকাল ধরে গ্রামে গঞ্জের মানুষ ঔষুধ হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন, এরকম গাছপালা নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন ড. তাহমিনা হক। সেখানে তিনি ৪৬৭ জনের ওপর গবেষণা করেছেন।

তিনি বলছেন, ”ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, সেখানকার মানুষ অন্তত ২৪৭টি উদ্ভিদ নানা ধরণের ঔষধি কাজে ব্যবহার করে। বিশেষ করে ৭৩টির মতো শারীরিক সমস্যায় তারা এসব গাছের নিয়মিত ব্যবহার করেন। সব মিলিয়ে আমরা দেখতে পেয়েছি, এসব গাছপাতার ৪৮৫ ধরণের কাজে ব্যবহার করা হয়।”

তিনি বলছেন, এর অনেকগুলো গাছের গুণাগুণের বিষয়টি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। আবার গবেষণায় এখনো প্রমাণিত না হলেও অনেক উদ্ভিদ বা তরুলতা ব্যবহারকারীরা বলছেন, তারা সেগুলো ব্যবহার করে উপকার পেয়েছেন।

ড. হক গ্রামেগঞ্জে ঔষধি হিসাবে যেসব গাছপালা, উদ্ভিদ বা তরুলতার ব্যবহার দেখতে পেয়েছেন, সেরকম কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো:

পেট খারাপের জন্য জবা গাছের পাতা ও ফুল গরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়।

১. মেন্দা

এই গাছটি বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে চাপাইত্তা, কারজুকি, রতন, খারাজুরা নামেও পরিচিতি রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এখনো পেটের পীড়া, রক্ত-আমাশা হলে পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে দুইবেলা খাওয়া হয়। ড. তাহমিনা হক বলছেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এই গাছের বাকল ও পাতা উভয়ই ব্যবহার করা হয়। একসময় হাড় ভেঙ্গে গেলে ছালের মিশ্রণ স্থানীয়ভাবে প্লাস্টারিংয়ে ব্যবহার করা হতো। অনেক সময় বুকের ব্যথার জন্য মালিশ করা হয়।

২. বনধনে

পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ার ওষুধে কার্যকর। ঘা-পাঁচড়ার ক্ষেত্রে পাতার মিশ্রণ লাগানো হয়।

ভাট ফুল বা বনজুই: কৃমিনাশক এবং ডায়রিয়ার জন্য কাজ করে। কাচা হলুদের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।

৩. ভাট ফুল বা বনজুঁই

কৃমিনাশক এবং ডায়রিয়ার জন্য কাজ করে। কাঁচা হলুদের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। যাদের চর্ম রোগ রয়েছে, তারা এই ফুলের রস মালিশ করে উপকার পেয়েছেন।

৪. নিম

ডায়াবেটিসের রোগীরা অনেকে নিমের পাতা শুকিয়ে ছোট ছোট ট্যাবলেট বানিয়ে সকাল বিকেল খেয়ে থাকেন। এছাড়া বহুকাল থেকে চিকেন পক্স, চামড়ার অ্যালার্জির মতো সমস্যায় নিমের পাতা গরম পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পোকা মাকড়ের কামড়ের ক্ষত হলে, সেখানে নিম আর হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগানো হয়। দাঁতের ব্যথার জন্য নিমের ডালের রস ব্যবহার করা হয়।

৫. তুলসী

এটি বাংলাদেশের অনেকের কাছেই একটি পরিচিত নাম। বিশেষ করে গ্রামের অনেক বাড়িতেই দেখা যায়। সর্দিজনিত রোগে এই গাছটির পাতা খাওয়া হয়। অনেকে চায়ের সঙ্গেও ভিজিয়ে খান। বলা হয়ে থাকে, তুলসী পাতা ভেজে ঘি দিয়ে নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

৬. চিরতা

এটি অনেক স্থানে কালমেঘ নামেও পরিচিত। ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে থাকেন। পাতাগুলো গুড়ো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অনেকে খান। পেট খারাপ, ডায়রিয়া, জ্বর ও বাত ব্যথার ক্ষেত্রে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়।

বিলিম্বির ভালোমন্দ উভয় গুণই রয়েছে

৭. পাথরকুচি

গ্রামে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, পাথরকুচি কিডনির পাথর ভাঙ্গতে সহায়তা করে, যদিও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবহারকারীরা গবেষকদের কাছে বলেছেন, জ্বর ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় পাথরকুচির পাতা বেটে খেয়ে তারা উপকার পেয়েছেন। চামড়ার অ্যালার্জির জন্যও এটি বেটে ব্যবহার করা হয়। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় পাথরকুচির পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

৮. তকমা

হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে।

৯. কেশরাজ বা কালোকেশী

ভারত উপমহাদেশে বহুকাল ধরেই চুলের যত্নে এই গুল্মজাতীয় গাছটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। ড. তাহমিনা হক বলছেন, গবেষণার সময় অনেকে বলেছেন, মেয়েদের মাসিকের সমস্যায় অনেকে পাতার রস খেয়ে থাকেন। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা ছত্রাকরোধী বা অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসাবে প্রমাণিত হয়।

ঠাণ্ডার জন্য, ফুসফুসের নানা সমস্যায় বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি খাওয়ানো হয়।

১০. বাসক

ঠাণ্ডার জন্য, ফুসফুসের নানা সমস্যায় বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি খাওয়ানো হয়। শ্বাসনালীর সমস্যায় লালাগ্রন্থিকে বাসকের রস সক্রিয় করে বলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি ভাব হতে পারে।

১১. অর্জুন

এই গাছের মূল, ছাল, কাণ্ড, পাতা, ফল ও ফুল ঔষধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হৃদরোগ, বুকে ব্যথার জন্য অর্জুনের ছাল গুড়ো করে খেয়ে থাকে। অর্জুনের গুড়ো বাসক পাতার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়। মচকে গেলে বা হাড়ে চিড় ধরলে রসুনের সঙ্গে মিশিয়ে অর্জুনের ছাল বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

১২. রিফিউজি লতা

এটি একেক অঞ্চলে একেক নামে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এই লতা গাছটি দেখা যায়। কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে সহায়তা করে।

১৩. জবা

পেট খারাপের জন্য জবা গাছের পাতা ও ফুল গরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। জন্ডিসের জন্য পাতার জুস খাওয়া হয়। ফুলের রস নারীরা মাসিক ও স্রাবজনিত সমস্যার জন্য খেয়ে থাকেন।

১৪. লজ্জাবতী

অনেকে একে লাজুক লতা বা অঞ্জলিকারিকাও বলে থাকেন। এই গাছের শেকড় বেটে গুড়ো করে ডায়রিয়ার জন্য খাওয়া হয়ে থাকে। পাতা ঘা-পাঁচড়া নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। গাছের পাতা ও ফুল বেটে শরীরের ক্ষতের স্থানে ব্যবহার করা হয়। বাতজ্বর বা হাড়ের ব্যথায়ও এই গাছটি বেটে দিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া আমাশয়, হাত-পায় জলুনির জন্য অনেকে লজ্জাবতী গাছের মিশ্রণ ব্যবহার করেন।

পথেঘাটে অনাদরে অযত্নে জন্ম নিলেও দূর্বা ঘাস একেবারে ফেলনা নয়

১৫. দূর্বা ঘাস

মাঠে, ঘাটে, রাস্তার এই ঘাস অবাধে জন্মালেও অনেকেরই এর ঔষধি গুণের কথা জানা নেই। রক্তক্ষরণ, আঘাতজনিত কেটে যাওয়া, চর্ম রোগে এই ঘাসের রস অনেক উপকারী। কোথাও কেটে গেলে এই পাতার রস লাগালে রক্তপাত তাৎক্ষণিক বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

১৬. ধুতুরা

এটা এখন বিলুপ্তির পথে। এটা অনেকে অ্যাজমার জন্য ব্যবহার করতেন। পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে ধোয়া তৈরি করে সেটা শোকা হতো।

সাধারণ যেকোনো পেটের ওষুধের জন্য থানকুনি পাতা কার্যকরী।

১৭. থানকুনি

এটি সম্ভবত বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি ঔষধি উদ্ভিদ। খুবই সাধারণ যেকোনো পেটের ওষুধের জন্য থানকুনি পাতা কার্যকরী। এটা পাতা বেটে রস বা ভর্তা করে খাওয়া হয়। এই পাতা হজম শক্তি বাড়ায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চুল পড়া কমায়, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

১৮. স্বর্ণলতা

জন্ডিস নিরাময়, তলপেটের ব্যথা কমানো, ও ক্ষত উপশমে এই লতা কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। লতা সেদ্ধ করে পানি খাওয়া হয়। এই লতার পানি পিত্তনাশক ও কৃমি দমনে সহায়তা করে। ব্যাকটেরিয়া দমনেও এটি সহায়ক। তবে এই পাতার রস অনেক সময় গর্ভপাত, বা প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেও ধারণা আছে।

স্বর্ণলতা অনেকে কাছে আগাছা মনে হলেও এরও রয়েছে বিশেষ গুণ

১৯. শতমূলী

শতমূলী উচ্চমানের ফলিক এসিড ও পটাশিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস। এতে ফাইবার, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি রয়েছে। এটি বন্ধ্যাত্ব নিরাময় ও শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

২০. বিলিম্বি

কামরাঙ্গা গোত্রের একটি ফল হলেও এটি আলাদা ধরণের একটি ফল। এই ফল ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে প্রমাণিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ভেতরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। চুলকানি নিরাময়, মাম্পস, চামড়া ফাটা, যৌনরোগ চিকিৎসায় অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এই গাছের ফল ও পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে যাদের কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের জন্য এই ফল বা পাতা ক্ষতিকর।

উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারের বিভিন্ন ওষুধে সাজনার পাতা ও ফল ব্যবহার হয়।

২১. সাজনা

উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারের বিভিন্ন ওষুধে সাজনার পাতা ও ফল ব্যবহার হয়। মনে করা হয়, সাজনা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কাচা রসুনের সঙ্গে সাজনা গাছের পাতা একসাথে মিলিয়ে খেয়ে বাতের ব্যথা উপশম হয়। এছাড়া এই গাছের পাতা ও ফল অনেক পুষ্টিকারক বলে গবেষণায় দেখা গেছে। রুচি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে বহুকাল ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশ্বাস রয়েছে।

এছাড়া আমলকি, হরিতকী, বহেরার মতো ফলগুলো ঔষধি হিসাবে বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিড়ালছানার চেয়েও জাপানে সিংহের দাম কম!

এমনকী, বিনামূল্যে সিংহ দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, পোষা প্রাণীর দোকানে একটি বিড়ালছানার মূল্য সিংহের দ্বিগুণ!

প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন, খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো নানা কারণে জাপানের চিড়িয়াখানাগুলোতে ভিড় কমছে৷ এক সময়ের বনের রাজা খ্যাত সিংহের প্রতি মানুষের আকর্ষণও কমে গিয়েছে৷

বন্যপ্রাণীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেপ জাপান-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণী ব্যবসায়ী স্যুওশি শিরাওয়া জার্মান সংবাদসংস্থা ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘জাপানে এখন সিংহ খুবই সস্তায় পাওয়া যায়, প্রতিটি চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী পার্কগুলোতে সিংহের চাহিদা আগে অনেক বেশি ছিলো এবং সিংহকে সবচেয়ে বড় শিকারী হিসাবে দেখা হতো৷ এখন সিংহের জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে৷” একটি সিংহের মূল্য ১০০,০০০ ইয়েন অর্থাৎ ৮১২ ইউরো বা ৯৬৬ ইউএস ডলারের কমও হতে পারে৷ এমনকী, বিনামূল্যে সিংহ দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তিনি জানান৷

অন্যদিকে, পোষা প্রাণীর দোকানে একটি বিড়ালছানার মূল্য সিংহের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪০০,০০০ ইয়েন বা ৩,২৪৮ ইউরো৷ টোকিও ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেভিন শর্ট বলেন, ‘‘সিংহ লালনপালন ব্যয়বহুল, সিংহের খিদে বেশি পায়, তাছাড়া জাপানে মাংসের মূল্যও অনেক বেশি৷ সিংহের জন্য খাঁচার প্রয়োজন, বেবি বা সিংহ শাবকরা দর্শকদের কাছে টানতে পারে, তবে প্রাপ্তবয়স্ক সিংহদের প্রতি মানুষের আকর্ষণ অনেক কম৷”

সিংহের প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন৷ এযুগের শিশু, তরুণদের চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহের পরিবর্তে অনলাইন গেমস বা প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনে বেশি আগ্রহ দেখা যায়৷

চিড়িয়াখানার প্রধান লক্ষ্য দর্শনার্থী ও জাপানের জনসংখ্যা কমার ফলে স্বাভাবিকভাবেই দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে৷ জনসংখ্যা কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ আরো ৫০ মিলিয়ন মানুষ কমে যাবে৷ শিশুদের নিয়ে তাদের তরুণ মা-বাবারাও আর চিড়িয়াখানায় যাবে না৷

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শীঘ্রই গলবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফস্তর!

প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

অ্যান্টার্কটিকায় থাকা এই বরফস্তরটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ মিটার। অর্থাৎ, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার প্রায় ৩৫/৪০ ভাগ!

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মহাসাগর আর সমুদ্রের পানি দিনদিন যেভাবে গরম হয়ে উঠছে তাতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের স্তরটিও আর কয়েকদিন পর হয়ত গলতে শুরু করবে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। আর আতঙ্কিত হওয়ার মত এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল “প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (পিনাস)”।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের স্তরটি (আইস শিট) রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়। এর নাম “ইস্ট অ্যান্টার্কটিক আইস শিট”। পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুও রয়েছে এই ইস্ট অ্যান্টার্কটিকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই দৈত্যাকার বরফস্তরটির উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। অর্থাৎ, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার প্রায় ৩৫/৪০ ভাগ!

এই বরফের স্তরটিতে এখনও যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তার আয়তন ২ কোটি ৭০ লক্ষ ঘন কিলোমিটার। এই বরফ পুরোপুরি গলে গেলে পৃথিবীর সবকয়টি মহাসাগর ও সমুদ্রের জল-স্তর ৫৮ মিটার বা ১৯০ ফুটেরও বেশি উঠে আসবে। ফলে, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বহু শহর, জনপদ, হারিয়ে যাবে বহু দেশ পৃথিবীর মানচিত্র থেকে, তলিয়ে যেতে সময় লাগবে না অনেক মহাদেশেরও বড় অংশের।

একটি আন্তর্জাতিক গবেষকদল এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাদের সদ্য প্রকাশিত গবেষণাপত্রে। সেই দলে রয়েছেন, জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্থ সায়েন্স ও ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী, গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মহাসাগর সংলগ্ন পৃথিবীর এই বৃহত্তম বরফের স্তরটির গলন উদ্বেগজনক ভাবে শুরু হতে হয়তো আর খুব দেরি হবে না। ফলে, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে শেষ ভাগ পর্যন্ত মহাসাগর, সমুদ্রগুলির জল-স্তর উঠে আসতে পারে কম করে ৩ থেকে ৪ ফুট ওপরে। এমনকী তা উঠে আসতে পারে ৭ থেকে ১০ ফুটও। এতে পানির তলায় তলিয়ে যেতে পারে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বহু শহর।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খুব দ্রুত শিল্প আর প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাতে গিয়ে প্রকৃতিতে মজুদ থাকা অপরিশোধিত তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ-ব্যবহারের কারণে এখন পৃথিবীর বাতাসে আমরা যে পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস জমা করেছি, ২ কোটি ৮০ লক্ষ থেকে ২ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগেও আমাদের গ্রহের বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ঠিক ততটাই। তার কারণটা অবশ্য ছিল ভিন্ন। পৃথিবীর গা তখন পুড়ে যাচ্ছে সৌরকিরণে। আর সূর্য তখন ছিলো বয়সে তরুণ। ফলে, ওই সময়েও ইস্ট অ্যান্টার্কটিকার এই বরফের স্তরটি গলে গিয়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে।

পরে, আজ থেকে ২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগে থেকে যখন ধীরেধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে পৃথিবী। তখন আবার বরফ জমে বাড়িয়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম এই বরফের স্তরটিকে। তবে তাকে আর সেভাবে গলতে দেয়নি এতদিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ব্রহ্মপুত্র নদীতে বাঁধ দিচ্ছে চীন, আপত্তি ভারতের

ভারতের আসাম প্রদেশের গুয়াহাটি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীতে একটি জেলে নৌকা। এএফপি

যদিও একইভাবে বাংলাদেশের উজানে ফারাক্কা, গজলডোবাসহ বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভাটিতে অবস্থানরত ভারত ও বাংলাদেশ পানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

চীনা গণমাধ্যমকে উদৃত করে ভারতের ‘ইনডিয়া টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশাল এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নদীটির বেশিভাগই ভারতীয় ভূমির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চীনা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশটির আশঙ্কা, বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর উজানে তেমন কোনো পরিবর্তন না এলেও, ভাটির দেশের ব্রহ্মপুত্র-নির্ভর মানুষা নানা সমস্যায় পড়তে পারেন। 

শুষ্ক মৌসুমে নদীর ভাটির অংশে পানির প্রবাহ হ্রাস পায়। ফলে প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় নয় মাস ভাটির দেশগুলো পানি সংকটে পতিত হয়। 

চীনা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিয়ং বলেন, নদীর ভাটিপথের শুরুতেই একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি একাধিক দেশের পানি সরবরাহের মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সাথে এটি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তায়ও সাহায্য করবে। এটি চীনের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।  

চীন ২০১৫ সাল থেকে তিব্বতে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনা করছে।  

নতুন বাঁধকে “উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র” হিসেবে অভিহিত করে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঁধটি “ইয়ারলুং জ্যাংবো” নদীর মেডং এলাকায় নির্মাণ করা হবে। 

মেডং অঞ্চল অরুনাচল সীমান্তঘেঁষা তিব্বতের সর্বশেষ সীমানা।

প্রসঙ্গত, এর আগে ভারত বহুবার চীনের সরকারকে অনুরোধ করেছে তারা যেন উজানে এমন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে যাতে নদীর অবাধ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদিও একইভাবে বাংলাদেশের উজানে ফারাক্কা, গজলডোবাসহ বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

চাঁদ থেকে পাথর আনতে চীনের মিশন শুরু

প্রথমবারের মতো সফলভাবে মানুষবিহীন মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করলো দেশটি

চাঁদ থেকে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ আনতে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মানুষবিহীন মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে চীন।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) চীনের দক্ষিণের প্রদেশ হাইনানের ওয়েনচ্যাং থেকে দেশটির স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টায় সবচেয়ে বড় রকেট লং মার্চ ৫ উৎক্ষেপিত হয়।

“চ্যাংই ফাইভ” নামে এ যানটি এক প্রাচীন চীনা চন্দ্রদেবীর নামানুসারে রাখা হয়েছে। এটি এখনও পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে সাহসী চন্দ্রাভিযান। এই মিশনটি সফল হলে চীনের মহাকাশ বিষয়ে গবেষণা ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মঙ্গল থেকে নমুনা আনার বা চাঁদে অভিযানের পথকে আরও সুগম করতে পারে।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার পর চীনই হবে বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যারা চাঁদ থেকে পাথর আনবে। মহাকাশযান সাধারণত চাঁদে পৌঁছাতে তিনদিন সময় নেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

উভলিঙ্গদের কাহিনি: 'আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন' মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনাভাইরাস: 'বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে'

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

ফ্রান্সের মুসলিমদের 'প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ' মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সের মুসলিমদের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com