আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

পারিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়ঃ—
আমাদের গ্রামীণ জনপদে আগে বেশীরভাগ ঘরে দেশী মুরগী পালন করা হতো। রাত-বিরাতে বাড়ীতে অতিথি এলে এই মুরগী জবাই করে আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করা হতো। এমনকি মাঝে মাঝে গভীর রাতেও মুরগীর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যেতো। পরে জানতে পারতাম, মেহমান এসেছে তাই রাতেই মুরগী জবেহ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে রাতে তো দুরের কথা, দিনের বেলাতে পুরো এলাকা খুঁজে বেড়ালেও দেশী মুরগী খুব বেশী পাওয়া যাবে না। কারন আজ আর গ্রামীণ জনপদের মানুষ দেশী মুরগী আগের মত পালন করে না। কিন্তু এর কারন কি ? কেন মানুষ দেশী জাতের মুরগী পালন করছে না ? কি এর প্রতিবন্ধকতা ? কেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশী জাতের মুরগী

সকলের অভিজ্ঞতালব্ধ মতামত কামনা করছি। এবং আপনাদের আলোচনা ও মতামতের আলোকে পরবর্তীতে দেশী জাতের মুরগী নিয়ে কিছু লেখার আশা করছি——-
#উপরোল্লিখিত আহ্বানটি জানাই,আলোচনা/ মতামত গ্রহনের জন্য গত ২৫/০৭/২০১৬ ইং তারিখে। যাতে করে প্রকৃত কারন গুলো খুঁজে বের করে একটি ফলপ্রসূ সমাধান দেয়া যায় এবং দেশী মুরগী সফল ভাবে পালনে আবার সকলকে আগ্রহী করে তোলা যায়। আলহামদুলিল্লাহ্‌, অভুতপূর্ব সারা পেয়েছি। অসংখ্য মুল্যবান মতামত পেয়েছি। যারা মতামত দিয়েছেন, সকলকে আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাদের এই মুল্যবান মতামতের জন্য আমি সহ পুরো দেশবাসী উপকৃত হবেন, সেজন্য আমি মতামত প্রদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

কেন মানুষ দেশী জাতের মুরগী পালন করছে না ? কি এর প্রতিবন্ধকতা ? কেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশী জাতের মুরগী ? এই তিনটি প্রশ্নকে সামনে রেখে আমাদের আলোচনা চলে। সেই আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে যে সমস্যা গুলো গুরুত্ব পেয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা যাক—–
১) রোগ-ব্যাধির আক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অজ্ঞতা ২) হিংস্র প্রাণীর উপদ্রব ৩) কম উৎপাদন ক্ষমতা ৪) আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও ৫) কৃষি জমি বা উন্মুক্ত জমি হ্রাস ও কৃষি বিমুখতা । এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজা যাক।

১) রোগ-ব্যাধির আক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অজ্ঞতাঃ—
প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে, এটা মহান আল্লাহ্‌র একটি অবধারিত বিধান। তাই এই বিধান আমাদের সবার মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিরোধক অথবা যখন অসুস্থ্য হই তখন প্রতিষেধক গ্রহন করে থাকি সুস্থ্য জীবন যাপনের আশায়। ঠিক একই ব্যাবস্থা সকল প্রাণীর জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যে সকল প্রাণী জঙ্গলে বাস করে, তারা প্রাকৃতিক নিয়মে বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহন করে থাকে, বিভিন্ন উৎস থেকে এই চিকিৎসা গ্রহনের পদ্ধতি সৃষ্টিকর্তা তাদের দান করেছেন। যেমন অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন যে, বিরাল বা কুকুর মাঝে মাঝে ঘাস খায়। বিভিন্ন পাখি মাঝে মাঝে মাটি,বালু বা ইট-পাথরের গুড়া খায়। চরুই পাখি ও সাপ একটি গাছের কচি ডগা খায়। কিন্তু কেন ? এটা ওদের চিকিৎসা পদ্ধতি। আল্লাহ্‌ আমাদের যেমন চিকিৎসা জ্ঞান দান করেছেন, তেমনি সকল প্রানিকে ও দান করেছেন। তাই সুস্থ্য থাকতে গেলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরন সকলের ক্ষেত্রেই জরুরী। যখনই এর ব্যাতিক্রম ঘটবে, তখনই সমস্যা সৃষ্টি হবে।
আমাদের পারিবারিক খামার ছোট হোক বা বড় হোক, খামারের প্রানিদের সুস্থ্য রাখতে চাইলে, সঠিক নিয়ম ও চিকিৎসা পদ্ধতি মেনেই পালন করতে হবে। কিন্তু আমাদের জানার অভাব বা সদিচ্ছার অভাবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা হয়ে ওঠে না। আর যে কারনে পারিবারিক খামারে নেমে আসে বিপর্যয়। যেটা বানিজ্যিক খামারে কম পরিলক্ষিত হয়। এর কারন পারিবারিক খামারে সঠিক নিয়ম না মানা। তাই পারিবারিক খামার থেকে সুফলতো আসেই না, বরং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। প্রায়শ শোনা যায়, হঠাৎ একটি রোগে সকল হাঁস-মুরগী মরে গিয়ে এখন খামার শূন্য। আর এই ক্ষতির কারনে গৃহকর্তা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। নতুন করে আবার অর্থ-সময়-শ্রম দিতে রাজি না হওয়ার কারনে, এই ক্ষতিগ্রস্থ খামার খালি পরে থাকে। আর এভাবেই কমে যাচ্ছে পারিবারিক খামার। কিন্তু কে এজন্য দায়ী ? নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট খামারি। রোগ-বালাই হতেই পারে। কিন্তু নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করলে, রোগের প্রতিরোধক-প্রতিষেধক সঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে, অনেকাংশে খামারকে নিরাপদে রাখা সম্ভব এবং এটাই লাভজনক খামারের মূল মন্ত্র।

সম্ভাব্য সমাধানঃ—
খামারকে রোগমুক্ত রাখতে চাইলে নিয়মিত প্রতিরোধক প্রয়োগ করতে হবে। কারন রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসা করার চেয়ে রোগকে প্রতিরোধের চেষ্টা করা শ্রেয়। তারপরেও রোগ হয়ে গেলে সঠিক নিয়মে ,সঠিক ঔষধ, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। নিজের জানা না থাকলে নিকটবর্তী অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় পশু চিকিৎসক বা উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়।

টিকা প্রদান ও তার গুরুত্বঃ নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুসারে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান করলে প্রাণীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি সৃষ্টি হয় এবং সংক্রামক রোগ হতে প্রানিকে রক্ষা করা যায়। টিকাদান ফলপ্রসূ হলে রোগের প্রাদুর্ভাব খুব কম হবে এবং মৃত্যুর হার সহনীয় পর্যায় রাখা যাবে। টীকা খুবই অল্প মুল্যে প্রতি উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে পাওয়া যায়। এবং টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তাবৃন্দ সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন।



লেয়ার বা ডিম দেয়া মুরগির টিকাঃ—- মারেক্স, রাণীক্ষেত, গামবোরো, ব্রংকাইটিস, বসন্ত, সালমোনেলা, করাইজা ।
টিকা প্রদানের পূর্বে সতর্কতাঃ— মুরগি ধরার সময় যত্ন সহকারে ধরতে হবে,
মুরগিকে যে কোন ধরনের ধকল মুক্ত অবস্থায় টিকা প্রয়োগ করতে হবে,
অসুস্থ্য মুরগিকে কোন অবস্থাতেই টিকা দেয়া যাবে না, টিকা প্রদান উপকরণ ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে, আবহাওয়া যখন ঠান্ডা সেসময়ে টিকা প্রদান করতে হবে।

#টিকা প্রদান কর্মসূচী (লেয়ার বা ডিম দেয়া মুরগির জন্য)—-
বয়স—–রোগের নাম—–ভ্যাকসিনের নাম—টিকা প্রদানের পদ্ধতি
১ দিন—মারেক্স রোগ—–মারেক্স ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে ইজেকশন।
২ দিন-গামবোরো রোগ-গামবোরো ভ্যাকসিন (লাইভ)-চোখে ফোঁটা (প্যারেন্ট মুরগির টিকা প্রদান করা না থাকলে)।
৩-৫ দিন-রানীক্ষেত রোগ–বি, সি, আর, ডি, ভি–দুই চোখে ফোঁটা (প্যারেন্ট মুরগির টিকা প্রদান করা থাকলে ৭ থেকে ১০ দিন বয়সে)।
৭ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি,—–চোখে ফোঁটা
১০-১৪ দিন–গামবোরো রোগ-গামবোরো ভ্যাকসিন–এক চোখে ফোঁটা
২১-২৪ দিন–রানীক্ষেত রোগ–বি, সি, আর, ডি, ভি–দুই চোখে ফোঁটা
২৪-২৮ দিন–গামবোরো রোগ–গামবোরো ভ্যাকসিন-এক চোখে ফোঁটা
৩০ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি,—–চোখে ফোঁটা
৩৫ দিন—মুরগি বসন্ত–ফাউল পক্স ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে ইনজেকশন
৫০ দিন——কৃমি——কৃমির ঔষধ———খাদ্য অথবা পানির সাথে
৬০ দিন–রানীক্ষেত–আর, ডি, ভি—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন
৭০ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি–চোখে ফোঁটা বা পানির সাথে
৮০-৮৫ দিন-কলেরা–ফাউল কলেরা ভ্যাকসিন—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
৯০-৯৫ দিন–ইনফেকসাস করাইজা–আই, করাইজা ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১১০-১১৫ দিন–কলেরা–ফাউল কলেরা ভ্যাকসিন—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১৩০-১৩৫ দিন–ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস, রানীক্ষেত, এগড্রপসিনড্রম—সমন্বিত টিকা—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১৩০-১৩৫ দিন—কৃমি—কৃমির ঔষধ—-খাদ্য অথবা পানির সাথে।

#বিশেষ সতর্কতা– প্রয়োজনবোধে খাদ্যের সাথে ৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ককসিডিওসিস রোগ প্রতিরোধের জন্য ককসিডিওস্ট্যাট ব্যবহার করতে হবে। উপরোক্ত টীকার তালিকা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রোগের প্রার্দুভাবের ইতিহাস, টিকার প্রাপ্যতা ও স্থানীয় পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নিজ নিজ খামারের জন্য নিজস্ব তালিকা প্রস্তত করতে হবে। টিকা সবসময় প্রস্ততকারীর নির্দেশমত ব্যবহার করতে হবে। সকল প্রকার টিকা ও ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

২) হিংস্র প্রাণীর উপদ্রবঃ— দ্বিতীয় সমস্যা হিসেবে হিংস্র প্রাণীর উপদ্রব স্থান পেয়েছে। আসলেই গ্রামীণ জনপদে এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। শেয়াল, বনবিড়াল,গুইসাপ, ভেজি,চিল, কাক এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কুকুরের আক্রমনে প্রচুর পরিমান হাঁস-মুরগী বিনষ্ট হয়ে থাকে।যেটা পারিবারিক খামারের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এর কারন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা উন্মুক্ত অবস্থায় দেশী হাঁস-মুরগী পালন করে থাকি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-খামারের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বাড়াতে হবে। প্রতিকুল আবহাওয়া, বন্যপ্রাণী ও দুস্কৃতিকারী হতে রক্ষা করতে হবে। বাড়ির আসেপাশে অপ্রয়োজনীয় ঝোপ-ঝার যথাসম্ভব ধ্বংস করতে হবে। হিংস্র প্রাণীদের আবাসস্থল সাধ্যানুযায়ী ধ্বংস করতে হবে। প্রহরী হিসেবে কুকুর পোষা যেতে পারে। আবার দেশী মুরগীকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায়ও পালন করা যেতে পারে।

৩) কম উৎপাদন ক্ষমতাঃ—–
তৃতীয় সমস্যা হিসেবে দেশী মুরগীর কম উৎপাদন ক্ষমতা প্রধান্য পেয়েছে। কিন্তু আমি এই বিষয়টির সঙ্গে সঙ্গত কারনে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। কারন, আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি আমার খামারে দেখেছি, স্বাভাবিক খাবার ( শুধু ধান ও পোকা-মাকড় ) খেয়েও দেশী মুরগী বছরে কমপক্ষে ৭ বার ১৮-২০ টি করে ডিম দেয়। আমি গড়ে ১৮ টি করে হিসেব করলেও ১৮x৭= ১২৬ টি। আমি হলফ করে বলতে পারি একটু উন্নত খাবার পরিবেশন করা হলে এরা অনায়াসে বছরে কমপক্ষে ২০০ ডিম দিবে। তাহলে এদের উৎপাদন ক্ষমতা কিভাবে কম বলে আমি স্বীকার করি ? এছাড়া বাজার চাহিদার শীর্ষে থাকে দেশী মুরগীর ডিম ও মাংস এবং দামেও চড়া । তাহলে আমি ডিম বা মাংস যে হিসাবেই বিক্রি করিনা কেন, খরচের তুলনায় লাভ ভালো থাকে।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-অধিক উৎপাদন পেতে হলে মুরগিকে দৈনিক সুষম খাবার খেতে দেবেন। প্রত্যহ প্রতিটি মুরগিকে ১১৫ গ্রাম সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও ২৫ গ্রাম সবুজ শাক-সবজি বা কচি ঘাস কুচি কুচি করে কেটে খেতে দিন। আপনি নিজেই সুষম খাদ্য তৈরি করতে পারেন। সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো নিম্নরূপ :
খাদ্য উপাদান-গম/ভুট্টা ভাঙা বা চালের খুদ ৪০০ গ্রাম। গমের ভুসি ৫০ গ্রাম। চালের কুঁড়া (তুষ ছাড়া) ২৫০ গ্রাম। তিলের খৈল ১২০ গ্রাম। শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১০০ গ্রাম। ঝিনুকের গুঁড়া ৭৫ গ্রাম। সুষম খাদ্য মোট ১,০০০ গ্রাম বা ১ কেজি। অথবা ২য় পদ্ধতি হিসেবে –দুই বেলা সকাল ও সন্ধ্যায় শুধু ধান ভাঙ্গা এবং দুপুরে লেয়ার খাবার। দ্বিতীয়টি সবচেয়ে সাশ্রয়ী পদ্ধতি ও ফলদায়ক। এছাড়া অধিক ডিম পেতে এবং বাচ্চা উৎপাদন করতে চাইলে, সকল মুরগীকে কুঁজো বা উমে বসানো যাবে না। কারন এতে মুরগীর স্বাস্থ্যহানী হয় এবং ডিম উৎপাদন কমে যায়। তাই বড় সাইজের এবং ডিমে তা দিতে অভিজ্ঞ ৪/৫ টি মুরগীকে এ কাজে সময় সুবিধা অনুযায়ী ব্যাবহার করা শ্রেয়। এবং খামারের অন্য মুরগীগুলোর ডিম দেয়া শেষ হলে খাবারের সঙ্গে কিছু মাল্টি ভিটামিন ও মিনের‍্যালস দিতে হবে। এতে সে আবার ডিম দেয়ার জন্য দ্রুত প্রস্তুত হবে।

৪) আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনঃ—-
চার নম্বর সমস্যা হিসেবে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন মতামত প্রতিয়মান হয়েছে। আমারও মনে হয় এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের ক্রয় ক্ষমতা ছিল খুবই কম। যে কারনে চাহিদা পুরনের জন্য নিজেরাই যথাসম্ভব উৎপাদন করতো বেশীরভাগ মানুষ।আবার গ্রামীণ জনপদের বেশীর ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারনে, পারিবারিক খামারের খাবার নিয়ে সমস্যা পোহাতে হতো না। কিন্তু এখন সময়ের সঙ্গে মানুষের স্বভাব পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষের অভাব ঘুচে গিয়ে সচ্ছলতা এসেছে,ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। এছাড়া অন্য কিছু বিষয়ও সংযুক্ত হয়েছে। যেমন– বয়লার মুরগীর সহজলভ্যতা, পরনির্ভরশীলতা, তথাকথিত সামাজিক মর্যাদাবোধ, কর্মবিমুখতা, মুরগীর খাবার ও ঔষধের উচ্চ মুল্য, সার্বিক কৃষি বিমুখতা ইত্যাদি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-বর্তমান সময়ে খাদ্যে ভেজাল ও বিষ একটি বড় সমস্যা। বয়লার মুরগী নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে। আমি সেদিকে যেতে চাই না। কিন্তু নিজের হাতে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী সর্বাধিক নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত, রুচিশীল, সুস্বাদু। আমি যখন আধুনিক হয়েছি, সঙ্গে আমার রুচিটাও আধুনিক হওয়ার কথা। আর রুচি আধুনিক হলে আমি কি পরনির্ভরশীল হয়ে অসাস্থ্যকর খাবার খাবো, নাকি যথাসম্ভব নিজে উৎপাদন করে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য খাবো, সেটা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি। কৃষি বিমুখ হয়ে আমরা ক্রমশ পরনির্ভরশীল হয়ে পরেছি। টাটকা নিরাপদ খাদ্যের পরিবর্তে ভেজাল ও বিষযুক্ত খাদ্য গ্রহন করে নিজে ও সন্তানদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছি। আধুনিকতার নামে আমরা নিজেকেই হারিয়ে ফেলছি প্রতিনিয়ত। এই তথাকথিত আধুনিকতা এখন পর্যন্ত আমাদের জন্য কোন সুখবর বয়ে আনেনি, কোনদিন আনবেও না। কারন যে আধুনিকতা নিজের স্বকীয়তাকে বিনষ্ট করে, সেই আধুনিকতা কোন সুফল বয়ে আনতে পারেনা।

৫) কৃষি জমি বা উন্মুক্ত জমি হ্রাস ও কৃষি বিমুখতাঃ— এটি ৫ম সমস্যা হিসেবে স্থান পেয়েছে। আসলেই এটি একটি প্রধান কারন বলে আমারও মনে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে মানুষের আবাসন এর চাহিদা বাড়ছে। যে কারনে কমছে কৃষি বা উন্মুক্ত জমি। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন, শিল্পায়ন গ্রাস করছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—আবাসনের প্রয়োজন খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কর্ম সংস্থানের জন্য শিল্পায়ন ও জরুরী। কল-কারখানা স্থাপন না হলে দেশ দ্রুত আগায় না। কিন্তু নগরায়ন ,আবাসন বা শিল্পায়ন পরিকল্পিত ভাবে করলে অনাকঙ্খিত ফসলি জমি নষ্টের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশকে দূষণের হাত থেকেও বাঁচানো সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।

  • পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

    পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

  • পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

    পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

  • পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়
  • পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

বাংলাদেশ

মাশরুম চাষ করে বাঁকুড়া জেলায় প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র আজ পেয়েছেন অসামান্য সাফল্য

বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। করোনার প্রথম ঢেউয়ে টিকতে পারলেও দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগেই চাকরি হারিয়ে বেকার হলেন। বাবা-মা, দুই ভাইয়ের সংসারে প্রণবের একার রোজগার’ই ভরসা। শেষমেশ, অভাবের সংসারে রোজগারের পথ দেখালো মাশরুম। আজ এই যুবক মাশরুম চাষ থেকে শুধু যে  অর্থ উপার্জন করছে তাই নয়, বরং আয় করছেন প্রচুর অর্থ সাথে অন্যদেরও উতসাহিত করছেন (Mushroom farming) মাশরুম চাষে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

মাশরুমের চাহিদা – 

মাশরুম হচ্ছে মূলত এক ধরনের ছত্রাক। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেল ও চাইনিজ হোটেলগুলোতে মাশরুমের চাহিদা আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মাশরুমের বাজার মূলত শহরে গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। মাশরুম শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ঔষধি গুণসংবলিত সবজি হিসেবে গোটা পৃথিবীতেই এর আলাদা কদর রয়েছে। ভারতবর্ষের মতো দেশে যেখানে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির পরিমাণ কমে চলেছে, সেখানে কৃষি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে মাশরুম চাষ। কারণ এটি উৎপাদনে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের মধ্যে ছোট জায়গায় স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সস্তা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমেই এটি উৎপাদন করা যায়।

মাশরুম চাষ (Mushroom cultivation) – 

মাশরুম চাষে খুব একটা বাড়তি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। উৎপাদনে সময় লাগে অনেক কম। এর জন্য বিশেষ কোনো প্রযুক্তিরও প্রয়োজন নেই। এমনকি কোনো ধরনের রাসায়নিকেরও প্রয়োজন হয় না। সে হিসেবে বলা যায়, গ্রাম ও নগরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস্য হয়ে উঠতে পারে মাশরুম চাষ। একই সঙ্গে তা হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত লাভজনক ও আকর্ষণীয় কৃষিনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোগ। 

মুর্শিদাবাদের নিতান্ত গৃহবধূ হাফিজা বিবি। স্বামী কাজ করতেন কেরালায় রাজমিস্ত্রির, লকডাউন পরবর্তীতে আর কাজে ফিরতে পারেননি। ছেলে-মেয়ে-স্বামী নিয়ে অভাবের সংসারে রোজগারের আশা দেখিয়েছে সেই মাশরুম। এ’রকম ভাবেই সমাজের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিকল্প রোজগারের পথ দেখাচ্ছে মাশরুম চাষ।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ইতিহাস বলছে, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা মাশরুমকে মনে করতো অমরত্বের উৎস্য। সে সময় এক রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য মাশরুম উৎপাদন ও গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল ফারাওরা। প্রাচীন আমলে ইউরোপে বেশ জনপ্রিয় ছিল মাশরুম। রোমানদের কাছে এটি ছিল দেবতার খাবার। চীন ও জাপানে ঔষধি হিসেবে মাশরুম ব্যবহার হয়ে আসছে কয়েক হাজার বছর ধরে। শুধু ইউরোপ বা এশিয়া নয়, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও মাশরুম খাওয়ার চল ছিল। সেখানে বিশেষ ধরনের রহস্যময় গুণসংবলিত খাবার হিসেবে ছত্রাকটির বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। প্রাচীন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় কৃত্যে ব্যবহার হতো মাশরুম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মৌ চাষ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজি সংবলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাড়তি আয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মৌ চাষের যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন, ফল ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও উন্নয়নে মৌ চাষ অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী লক্ষ জনগোষ্ঠীকে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ অধিক মধু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশে খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ, সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি তথা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশে মৌ চাষের ইতিহাস
মৌমাছি সাধারণত বনে জঙ্গলে, গাছের ডালে, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, দালানের সুবিধামতো জায়গায় মৌচাক তৈরি করে থাকে। সুন্দরবনে মৌয়ালরা বাঘের ভয়কে তুচ্ছ করে মধু সংগ্রহ করে থাকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যায়।বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে অনেক কিছু সহজসাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৌমাছিকে পোষ মানানো সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিম উপায়ে বিভাজনের মাধ্যমে রানী উৎপাদন করে প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের তৈরি বাক্সে প্রতিপালন করা হয়।

মৌমাছির পরিচিতি
– মৌমাছি এক ধরনের  সামাজিক ও উপকারী পতঙ্গ;
– সংঘবদ্ধভাবে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ সমন্বয়ে একটি কলোনিতে বসবাস করে;
– স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রকৃতিতে বসবাস করে;
– প্রধানত ফুল থেকে নেকটার ও পোলেন সংগ্রহ করে;
– সময় ও ক্ষেত্র বিশেষ কচিপাতা, উদ্ভিদের কাণ্ড, মিষ্টি ফল এবং চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে;
– নেকটার অথবা মিষ্টি রস সংগ্রহ করে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের  তাৎক্ষণিক খাবার ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসাবে মধু উৎপাদন করে;
– সংগৃহীত পোলেন থেকে মৌমাছি বিশেষ করে অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিন জাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করে।

মৌমাছির প্রকারভেদ
প্রকৃতিতে চার প্রকারের মৌমাছি পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অ্যাপিস মেলিফেরা, অ্যাপিস ডরসেটা, অ্যাপিস সেরানা ও অ্যাপিস ফ্লোরিয়া। তবে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির চাষাবাদ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লাভজনক।

অ্যাপিস  মেলিফেরার বৈশিষ্ট্য
– ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি;
– আকারে বড় ও শান্ত প্রকৃতির;
– অধিক মধু উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতি কলোনিতে বছরে মধু উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ কেজি) বাক্সে পোষ মানে এবং কখনই বাক্স বা কলোনি পরিত্যাগ করে না।  পরাগায়নে মৌ চাষ
মৌমাছির মাধ্যমে সফল পরাগায়ন সম্ভব এটি সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষিদের পাশাপাশি কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অধিক মধু এবং ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষি এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদনের ফলে দেশের জিডিপিতে আরও অবদান রাখা সম্ভব।

মৌ চাষে সতর্কতা

মৌবাক্সে বসানোর আশপাশের জমিতে বালাইনাশক সব সময়ই বিকেলের পরে স্প্রে করা প্রয়োজন। না হলে বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছি মারা যাবে।

মৌ চাষের সুফল
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষের উল্লেখযোগ্য সুফল নিম্নরূপ
– নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ;
– বিশেষ বিশেষ রোগ নিরাময়;
– বাড়তি আয়;
– খাদ্যে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও উন্নয়ন;
– মোম ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবিধ প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন;
– স্বাদ ও রুচির দিক থেকে খাদ্যের মান উন্নয়ন;
– কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের উন্নয়ন;
– দেশজ সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান;
– বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা;
– ফল ও ফসলের সফল পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি;
– আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা;
– মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ছাগল পালনে সাফল্যের কাহিনী

দুধ এবং মাংস– পুষ্টির জন্য অপরিহার্য এক উপাদান। এই দুই প্রাণিজ উপাদান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন খাদ্য। আমরা ছাগলের মারফত এই দুই উপাদানই পাই। ছাগল মূলত পালন করা হয় মাংস ও দুধ এই দুই উপাদান উৎপাদনের জন্য। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কারণে এই প্রাণীর পালন বর্তমানে বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে। বহু কৃষক ও নবাগত চাষ করতে আসা তরুণ এই ছাগল পালনের জন্য বর্তমানে উৎসাহ দেখাচ্ছেন।

ছাগল পালনের বিভিন্ন সুবিধা: (Benefits of Goat rearing)

গ্রামে বহু মানুষ হাইব্রিড ছাগল পালন করে অর্থ উপার্জন করছেন। অত্যন্ত সহজ এই প্রাণী পালন। ছাগল পালন বর্তমানে তাই বহু দরিদ্র মানুষের কাছে এক অন্যতম ব্যবসায়িক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সংকর জাতের ছাগল পালন করার লাভ অনেক বেশি। এই ছাগলের রোগ ব্যাধি অত্যন্ত কম হয়েই এই ছাগলগুলির মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর। ছাগলের দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই দুধ শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খেতে পারে। ছাগলের দুধের চাহিদা থাকার জন্যও এই প্রাণীর পালন আদি কাল থেকে আজও বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে।

ছাগল পালনে সাফল্য: (Success)

গ্রামের এক উপজাতীয় মহিলা উদ্যোক্তা সুলোচানা কেন্দুচাপাল। ছাগল পালনে অনেকটা সময় দেওয়ার পরেও তিনি ছাগল থেকে তেমন আয় করতে পারছিলেন না। তার সঙ্গে ছিল ছাগলের মৃত্যু এবং তা পালনে অতিরিক্ত খরচ। সুলোচনা পরে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং স্থানীয় পশুচিকিত্সকদের প্রযুক্তিগত নির্দেশনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন শুরু করেন। তিনি এসজেজিএসওয়াইয়ের আওতায় ব্যাংক থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন এবং সিরোহি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতো উন্নত জাতের ছাগল পালন শুরু করেন।

এরপরেই তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জানা গেছে প্রশিক্ষণের পরে নিয়ম করে ছাগলদের ডি-ওয়ার্মিং, টিকাদানের কারণে সুলোচনার পালিত ছাগলগুলির আর মৃত্যু হয়নি।

বর্তমানে সুলোচনা বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি আয় করেন। মাত্র ১০,০০০ টাকা ছাগলগুলি পালনে তাঁকে খরচ করতে হয়েছে। লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায়, সুলোচনা বর্তমানে ভীষণই খুশি এবং আনন্দিত।

জনপ্রিয়তা (Popularity)

ভারত ছাড়াও গোটা বিশ্ব জুড়ে ছাগল পালন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইউক্রেইনের মতো সম্পদশালী দেশেও ছাগল পালন সাফল্যের সঙ্গে হয়ে আসছে। সেখানকার অনেক পরিবার, এই ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশেও ছাগল পালন অত্যন্ত এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

টার্কি চাষের সহজতম পদ্ধতি

মুরগি বা হাঁসের মাংসের সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও, টার্কির মাংসের সঙ্গে আমরা ততটাও পরিচিত নই। মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এই পাখি, বেশ বড়সড় আকারের হয়। গৃহপালিত পাখি হিসাবে টার্কি গোটা পৃথিবী জুড়ে চাষ হয়। টার্কি পোলট্রির ১১ টি প্রজাতির মধ্যে অন্যতম। নরম ঘাস মূলত টার্কির মূল খাদ্য। এই পাখির রোগবালাই কম হয় বলে, এই পাখির চাষে বিনিয়োগও কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে এই পাখির মাংস অত্যন্ত উত্তম। টার্কির মাংসে অত্যন্ত কম চর্বি থাকায়, এই পাখির মাংস মুরগি, হাঁসের বিকল্প হিসাবে বহুখানে খাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু জায়গায় আজকাল টার্কির চাষ হচ্ছে। ভারতে টার্কির মাংস দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকায় প্রথম টার্কির চাষ শুরু হয়,ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে এই বিশেষ প্রজাতির পাখির চাষ ছড়িয়ে পড়ে। টার্কির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় ও এই মাংসে চর্বি কম থাকায়, টার্কি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ, ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট, বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট–টার্কি পাখির জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই তিনটি জাতের চাষই বেশি পরিমাণে গোটা পৃথিবী জুড়ে করা হয়।

টার্কি মাংসের লাভকর দিক: (Turkey Rearing Benefits)

১) এর মাংস উৎপাদক ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
২) মুরগির মতোই নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে টার্কির চাষ করা হয়।
৩) টার্কি পালনের খরচের কম কারণ এই পাখি সাধারণ ঘাসপালা খেয়েই বেড়ে উঠতে পারে।
৪) টার্কি মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বি কম থাকায় এই পাখির মাংসের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে।
৫) এই পাখির মাংসে জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাসের মতন বিভিন্ন উপাদান থাকে। এ উপাদান গুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।
৬) নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।
৭) টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন প্রচুর পরিমানে রয়েছে, তাই এই মাংস খেলে শরীর রোগ ব্যাধি তেমন বাসা বাঁধতে পারে না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই পাখির মাংস বাড়াতে সাহায্য করে।

রোগবালাই:(Disease Management)


টার্কির তেমন রোগবালাই না হওয়ায়, এই পাখি পালনে খরচ কম অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে শীত পড়লে টার্কির ঠাণ্ডাজনিত রোগ দেখা যায়, এই রোগের থেকে টার্কিকে বাঁচাতে রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

টার্কির বাসস্থান তৈরী: (Shelter making)

টার্কি পালতে গেলে দুটি ঘরের মধ্যে কম করে ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। সাথে সাথে বাচ্চা পাখিদের ঘর বড় পাখিদের ঘর থেকে কম করে ৫০-১০০ মিটার দূরে থাকতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের মধ্যে রাখা অবশ্যক। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ২.৬-৩.৩ মিটারের মধ্যে যাতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টার্কির ঘর কংক্রিটের তৈরী করা উচিত। এতে পাখি আর্দ্রতার থেকে বাঁচবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কৌশল

গোবর খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে এবং এর সাথে কেঁচোর দেহ থেকে রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে যে সার তৈরি হয় তাঁকে কেঁচো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট বলা হয়। এটি সহজ একটি পদ্ধতি ১ মাসের বাসী গোবর দিয়ে ব্যবহার উপযোগী উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা হয়। এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়।‘ভার্মি কম্পোষ্ট´ বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োজনীয় প্রধান উপকরণ

কেঁচো-২০০ টি, মাটির তৈরি নালা বা চারি অথবা ইট দিয়ে নির্মিত চৌবাচ্চা এবং ১ মাসের বাসী গোবর।

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করার পদ্ধতি/ধাপসমুহ

১। ২ মিটার লম্বা, ১ মিটার চওড়া ও ১ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট ইট দিয়ে চৌবাচ্চা তৈরি করতে হবে। চৌবাচ্চার উপর টিনের/খড়ের চালা দিতে হবে। 

২। গর্তের মধ্যে বাসী পচা গোবর ঢেলে ভরে দিতে হবে। অতঃপর ২০০ থেকে ৩০০ কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। এ কেঁচোগুলো গোবর সার মল ত্যাগ করবে। এই মলই কেঁচো সার। 

৩। কেচোর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সার তৈরীর সময় নির্ভর করে। সংখ্যা বেশী হলে দ্রুত কেঁচো সার তৈরি হবে। কেঁচো সার দেখতে চায়ের গুড়ার মত। 

৪। সার তৈরি হওয়ার পর চৌবাচ্চা হতে সতর্কতার সাথে কম্পোস্ট তুলে চালুনি দিয়ে চালতে হবে। সার আলাদা করে কেঁচোগুলো পুনরায় কম্পোস্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করতে হবে। 

৫। কেঁচো সার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী/ নিজস্ব ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সাইজের প্যাকেট/বস্তা ভর্তি করে রাখা যেতে পারে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার কোথায় ব্যবহার করবেন

সকল প্রকারের শাক সবজি ক্ষেতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে শাক সবজির ফলন বাড়ানো যায়। ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফলবাগানে এই সার ব্যবহার করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এই সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে মাটিতে বায়ুচলাচল বৃদ্ধি পায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, মাটির বিষাক্ততা দূরীভূত হয়। মাটির অনুজৈবিক কার্যাবলী বৃদ্ধি পায় ফলে মাটি হতে গাছ্র পুষ্টি পরিশোধন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার মাত্রার ১/২ অংশ ব্যবহার করলেই চলে। ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে অর্ধেক ফলন পাওয়া যায়। এই সার পুকুরে ব্যবহার করে ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন ত্বরান্বিত করে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়। 

চালুনীর সময় সাবধান থাকতে হবে যেন শিশু কেঁচো মারা না যায়। শিশু কেঁচোগুলো পুনরায় গর্তে রক্ষিত বাসী গোবরের মধ্যে কম্পোস্ট তৈরির জন্য ছেড়ে দিতে হবে।  পিপঁড়া, উইপোকা, তেলাপোকা, মুরগী, ইঁদুর, পানি ও পোকার কামড় থেকে কেঁচোগুলোকে সাবধানে রাখতে হবে। প্রয়োজনে চৌবাচ্চার উপর মশারী ব্যবহার করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com