আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

অন্যান্য

সৌদি খেজুর চাষ করে সফল সোলাইমানের গল্প

বাংলাদেশে বেকারত্বের হার চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। চাকরির বাজার ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এখন বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পেতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উপায়ে কৃষি কাজ করতে পারেন। এতে অনেকেই সফল হচ্ছেন। এবার সৌদি খেজুর চাষ করে সোলাইমানের সফলতার গল্প জেনে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আপেল কুল চাষে লাভের মুখ

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া গ্রামে খেত থেকে কাশ্মীরি বরই তুলছেন কৃষক আবুল কাসেম। গতকাল বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া গ্রামে খেত থেকে কাশ্মীরি বরই তুলছেন কৃষক আবুল কাসেম। গতকাল বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো

চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। পরিপক্ব বরইগুলো দেখতে লাল আপেলের মতো। স্বাদে মিষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এগুলো কাশ্মীরি আপেল কুল হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুনিপাড়া গ্রামে গোমতী নদীর তীরে এই বরইয়ের বাগান।

গ্রামের আবুল কাসেম প্রথমবারের মতো কাশ্মীরি আপেল কুলের চাষ করেন। প্রতিদিন বহু লোক তাঁর বাগানে এসে বরই কিনে নিয়ে যান। ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো। এতে আবুল কাসেম বেশ খুশি। তিনি আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এই বরইয়ের চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে, নদীর একেবারেই তীর ঘেঁষে ৪০ শতক জমিতে রোদের মধ্যে চিকচিক করছে বরই। সর্বোচ্চ চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। এগুলোতে বরই ধরে আছে। কিছু কিছু ডাল ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। গাছ থেকে আপেল রঙের পাকা বরই ছিঁড়ছেন আবুল কাসেম। কুমিল্লা শহর থেকে কাশ্মীরি বরই কিনতে এখানে এসেছেন বেশ কয়েকজন। খেত থেকে সদ্য তোলা প্রতি কেজি বরই বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়। 

জানতে চাইলে আবুল কাসেম বলেন, গত বছর যশোর শহরের সোহাগ নার্সারি থেকে ৩০০টি বরইগাছের চারা কিনে আনেন। এরপর মে ও জুন মাসে ঝাকুনিপাড়া এলাকার লিজ নেওয়া জমিতে এক ফুট লম্বা ২৭৫টি বরইগাছের চারা রোপণ করেন। তখন ওই গাছে কেঁচো সার ব্যবহার করেন। বরইগাছ বড় হওয়ার পর ছড়ানো ডাল ঠিক রাখার জন্য বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে গাছগুলোতে ফুল আসে। এসব কুল প্রথমে সবুজ থাকে। পরে সেটি লাল রং ধারণ করে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফল পরিপক্ব হয়। এরপর থেকে বরই বিক্রি শুরু করেন। এই জমিতে বরই চাষ করতে তাঁর ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও কুমিল্লা শহর থেকে মানুষ এসে তাঁর এই বাগান থেকে বরই কিনে নিয়ে যান। এবার ফলন ভালো হওয়ার আগামী বছর আরও ৮০ শতক জমিতে বরইয়ের চাষ করবেন। ইতিমধ্যে জায়গা নিয়েছেন। তাঁর জানামতে, কুমিল্লা অঞ্চলে আর কেউ এই জাতের বরই চাষ করছেন না। এটি কাশ্মীর থেকে আনা জাত। তাই একে কাশ্মীরি বরই বলে। দেখতে আপেলের মতো। এ কারণে একে কেউ কেউ কাশ্মীরি আপেল কুলও বলেন।

কৃষক আবুল কাসেম আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে অভাব–অনটনের মধ্য দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। মা-বাবা গত হয়েছেন বহু আগেই। ১৯৮৯ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামের লাগোয়া খাজা নার্সারিতে তাঁর ৩০০ টাকা বেতনে চাকরি হয়। সেখানে নার্সারির গাছের পরিচর্যা করেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা নগরের শাকতলা এলাকায় বিসমিল্লাহ নার্সারি দিই। তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ডে ফুল ও ফলের গাছ লাগাই। এভাবে আমার পুঁজি বাড়ে। গত বছর বিসমিল্লাহ নার্সারির জায়গার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। জায়গার মালিক নবায়ন না করার কারণে আমি গ্রামে ফিরে আসি। এরপর ঝাকুনিপাড়ায় বড় ছেলের নামে শাহজাহান অ্যাগ্রো অ্যান্ড নার্সারি নামে নতুন নার্সারি দিই। এই নার্সারির আওতায় বরইবাগানের পাশে অন্য জমিতে বিভিন্ন ফুল, ফল, সবজির চারা বপন করে চারা বিক্রি করি। আমার স্ত্রী সালেহা বেগম, ছেলে শাহজাহান এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন। নার্সারির আয় থেকে বড় মেয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ে। ছোট মেয়ে এলাকার স্কুলে ষষ্ঠ ও ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের পড়ার খরচ জোগান দেওয়া হয়।’

কুমিল্লার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, এ জাতের বরই মিষ্টি হয়। খেতে সুস্বাদু। ফলনও বেশি হয়। এতে কৃষকেরা লাভবান হন।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, ছোটবেলা থেকে আবুল কাসেম গাছগাছালি নিয়ে পড়ে আছেন। এবার তাঁর বাগানের বরইয়ের সুনাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিল্লা শহর ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বরই কিনতে আসছেন। এটি একটি ভালো খবর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

“মরুর ‘সাম্মাম’ ফল এখন আত্রাইয়ে”

নওগাঁর আত্রাইয়ে রেজাউলের সাম্মাম ফলের বাগান। সম্প্রতি উপজেলার মিরাপুর গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো
নওগাঁর আত্রাইয়ে রেজাউলের সাম্মাম ফলের বাগান। সম্প্রতি উপজেলার মিরাপুর গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

মরু অঞ্চলের ফল ‘সাম্মাম’ চাষ শুরু হয়েছে নওগাঁর আত্রাইয়ে। সাম্মাম চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন আত্রাই উপজেলার মিরাপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম। সৌদি আরব থেকে বীজ সংগ্রহ করে দেড় বিঘা পতিত জমিতে দুই জাতের সাম্মাম চাষ করে প্রায় এক টন ফল উৎপাদন করেছেন তিনি।

সাম্মাম সুস্বাদু ও মিষ্টি জাতের ফল। ইতিমধ্যে সাম্মাম এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক জাতের সাম্মামের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরে লাল। আরেক জাতের সাম্মামের বাইরের অংশ হলুদ আর ভেতরে লাল। তবে দুটি ফলই খেতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত।

এলাকায় নতুন জাতের এই ফলের চাষ হওয়ায় রেজাউল ইসলামের সাম্মাম খেত দেখতে আসছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা। কেউ কেউ সাম্মাম চাষের পরামর্শও নিচ্ছেন রেজাউল ইসলামের কাছ থেকে।
সৌদি আরব থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে দুই ধরনের সাম্মামের বীজ বপন করেন রেজাউল ইসলাম। দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ব হয় সাম্মাম। নতুন জাতের হওয়ায় অনেকেই রসাল ফলটি কিনছেন।

কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, সাম্মাম ফলের তেমন একটা রোগবালাই নেই, গাছে খুব সামান্য সার ও কীটনাশক দিতে হয়। পতিত দেড় বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো সাম্মাম চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। প্রথম বছরে জমিতে প্রায় এক মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হয়েছে। একেকটি সাম্মাম ফল দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের হয়। প্রতি কেজি ফল পাইকারি দেড় শ এবং খুচরা দুই থেকে আড়াই শ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

রেজাউল ইসলাম জানান, সাম্মাম চাষে ছেলে সোহানুরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁকে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, তরমুজ জাতের সাম্মাম ফল উৎপাদনে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি। বীজ বপন থেকে পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে। এ ছাড়া সময়মতো জৈব সার দেওয়া হয়। এভাবে তিন মাস যেতে না যেতেই সাম্মাম পরিপক্ব ফলে রূপ নেয়। এই ফলের বেশ চাহিদা রয়েছে। নতুন জাতের এই ফল চাষ করলে সবাই লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন বলেন, রেজাউল ইসলাম একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সব সময় নতুন নতুন কৃষিপণ্য চাষে আগ্রহী। তরমুজের মতো অনেকটা সংকর জাতের এই ফলের গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। ফলনও বেশ ভালো। রেজাউলকে আশপাশের অনেকেই সাম্মাম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা কাউছার হোসেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সত্যিকারের ‘ড্রাগন’ হতে পারলেন না তোয়ো ম্রো

বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের বসন্ত ম্রোপাড়ায় নিজের বাগানে কাজ করছেন তোয়ো ম্রো। সম্প্রতি তোলা ছবি। প্রথম আলো
বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের বসন্ত ম্রোপাড়ায় নিজের বাগানে কাজ করছেন তোয়ো ম্রো। সম্প্রতি তোলা ছবি। প্রথম আলো

‘ভালো দাম পাওয়া গেলে ড্রাগন ফলে সত্যিকারের ড্রাগন হতে পারতাম। কিন্তু করোনা ড্রাগন হতে দিচ্ছে না। লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। এ জন্য কিছু কম দামে হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

চিম্বুক পাহাড়ের বসন্ত ম্রোপাড়ার বাগানি তোয়ো ম্রো গত বুধবার এভাবে তাঁর বাগানের ড্রাগন ফল বিক্রির সমস্যার কথা বলছিলেন। অবশ্য শুধু তোয়ো ম্রো একা নন, লকডাউনের কারণে আশানুরূপ দাম না পেয়ে ড্রাগনবাগানিরা সবাই কম–বেশি হতাশ।

তোয়ো ম্রো আদর্শ বাগানি হিসেবে ২০১৮ প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার পান।

বাগানে কাজ করতে করতে তোয়ো ম্রো বলছিলেন, ভোরে ফলের গাড়ি নিয়ে বান্দরবান বাজারে গিয়েছিলেন। আবার বাগানে ফিরে ড্রাগন ছিঁড়ছেন। আগামীকাল (গতকাল) সকালে আবার ৫০০ কেজি ড্রাগন চট্টগ্রামের এক প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। এ জন্য বসে থাকার সুযোগ নেই। দাম কম হলেও বিক্রি না করে উপায় নেই।

তোয়ো ম্রো জানান, গত বছর প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবারে বড়গুলো ২০০-২৫০ টাকা এবং ছোটগুলো ১০০-১৫০ টাকায়ও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাইয়ের দ্বিতীয় দফার ফলনে ১৪-১৫ টন ড্রাগন ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে ৩০-৩৫ লাখ টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান বাজার থাকলে ১০-১২ লাখ টাকা পাওয়াও কঠিন হবে বলে তাঁর ধারণা।

সদর উপজেলায় বান্দরবান-চিম্বুক সড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে বসন্ত ম্রোপাড়া। পাড়ার পাশে তোয়ো ম্রোর বিশাল ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ২ একর জমিতে ২ হাজার ২০০ ড্রাগনের খুঁটিতে সব কটিতে কম–বেশি ফল ধরেছে। বাগানটি দেখতে সবুজের ভাঁজে ভাঁজে লাল রঙের ক্যাক্টাসের কাঁটাবন মনে হয়।

তোয়ো ম্রোর স্ত্রী পিঠে থুরুং (ঝুড়ি) ঝুলিয়ে ড্রাগন ফল তুলতে তুলতে বললেন, প্রতিদিন ১৪-১৫ মণ ফল ছিঁড়তে হয়। রাতে ফল মেপে রাখা, ভোররাতে গাড়িতে তুলে দেওয়া, সকালে আবার ফল ছেঁড়া—অনেক কষ্টের কাজ।

থানচি উপজেলায়ও ড্রাগনের ভালো ফলন হয়েছে। এখানকার বাগানি খামলাই ম্রো বলেন, দাম ভালো না হওয়ায় উৎপাদন খরচও পাওয়া যাচ্ছে না। দূরে হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যান না। লকডাউন শেষে দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কে এম নাজমুল হক বলেন, তোয়ো ম্রো জেলায় ড্রাগন চাষের পথিকৃৎ। তবে এখন প্রতিবছর চাষ বাড়ছে। ২ বছর আগেও ৪০-৪৫ একর জমিতে চাষ হতো। বর্তমানে বান্দরবান সদর উপজেলা ছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও লামা উপজেলায় সোয়া ১০০ একর জমিতে প্রায় ৫৮০ টন ড্রাগন উৎপাদিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, বাজারে ড্রাগনের চাহিদা থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ জন্য বাগানিরা দাম পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, তোয়ো ম্রোর যোগাযোগ ভালো থাকায় বিক্রি করতে পারছেন। অনেকে বিক্রিও করতে পারেননি। তবে লকডাউন প্রত্যাহার হলে দাম পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ফল ফলছে বারো মাস

ফল ফলছে বারো মাস
ফল ফলছে বারো মাস

বারো মাসই নতুন নতুন জাতের ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের কৃষক। ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক ধানী জমিতে ফলের বাগান গড়ে তুলছেন। এ কারণে প্রতি বছরই ফল চাষের জমি বাড়ছে এবং ফল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিজ্ঞানীরাও চেষ্টা করছেন বারো মাসই ফল উৎপাদন করা যায় কিনা। অনেক ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন।

যেমন বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যের আম এখন সাত মাসই পাওয়া যায়। বারো মাস থাই পেয়ারা উৎপাদন এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আধুনিক প্রযুক্তি তথা হরমোন ব্যবস্থা করে বারো মাস আনারস উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ফল উৎপাদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ফলের জমি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৫ হেক্টর। এই পরিমাণ জমিতে ফলের উৎপাদন হয়েছে ৯৯.৭২ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ফল উৎপাদন হয়েছে ১০৬.০৮ লাখ মেট্রিক টন। এক বছরের ব্যবধানে ফলের উৎপাদন বেড়েছে ৬.৩৬ লাখ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হটিকালচার উইংয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে ১৭৩টি হটিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে সেন্টারের কর্মীরা বিভিন্ন ফলের কোটি কোটি চারা ও কলম উৎপাদন করে তা কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা ফল গাছের শ্রেণি বিন্যাস করেছে।

যেমন উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে কোন কোন ফল ভালো উৎপাদন হবে সে অনুযায়ী ৫০-৬০ প্রকার বিভিন্ন ফলের চারা ও কলম সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চারা কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকও লাভবান হচ্ছে।ভালো জাতের কলম ও চারার নিশ্চয়তা পাচ্ছে। ড্রাগন, স্ট্রবেরি, থাই পেয়ারার নাম যারা কখনই শোনেনি তারাই আজ এ ফলের চাষ করে উচ্চমূল্যে বাজারে বিক্রি করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছুদিন আগেই মালটা সম্পূর্ণ বিদেশনির্ভর ফল ছিল। এখন দেশে উৎপাদিত এ ফল দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশের মাল্টা বিদেশে রফতানি হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। গবেষণার মাধ্যমে আমের ‘আরলি ও লেট ভ্যারাটি’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে প্রথম আম পাকার শুরু থেকে প্রায় সাত মাস পর্যন্ত আম পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেয়ারা ও আনারসের মতো দেশি ফল উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ছে। সংস্থাটির ২০১৫ সালের প্রধান ফসলের পরিসংখ্যান-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৮ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়মিতভাবে বাড়ছে।

বিবিএসের তথ্যমতে, গত চার বছরে দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেড়েছে পেয়ারার। এই সময়ে দেশে পেয়ারার ফলন দ্বিগুণ হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে কাজী পেয়ারা চাষের মধ্য দিয়ে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত ছয়টি উন্নত জাতের পেয়ারা এবং বেসরকারিভাবে আমদানি হওয়া থাই পেয়ারা চাষে দেশে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে।

বিবিএসের হিসাবে, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে পেয়ারার ফলন হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২ লাখ টন লিচু, ৪ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁপে, ৪০ হাজার টন কমলা, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন আনারস ও ১ লাখ ৫৫ হাজার টন কুল উৎপাদিত হয়েছে। আর মোট ফল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি টন।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে ৪৫ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি টন ফল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমের উৎপাদন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদিত হয়েছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ টন। শুধু উৎপাদনই বৃদ্ধি হয়নি, বাংলাদেশ থেকে ফল রফতানিও প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ফল রফতানি থেকে আয় আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৮৮ কোটি টাকার ফল রফতানি করে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ফল উৎপাদন ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আম, পেয়ারা ও কুল বা বরইর বেশ কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষকরা গত পাঁচ বছরে ৮৪টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এ কারণে হেক্টরপ্রতি ফলন আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হটিকালচার উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. কুদরত-ই-গণী জাগো নিউজকে বলেন, ফল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে প্রতি বছরই ফলের উৎপাদন বাড়ছে। এছাড়া ফল উৎপাদনে অধিক লাভ দেখে কৃষকও আগ্রহী হয়ে উঠছে। বারি-৬ আম উদ্ভাবন করা হয়েছে পাহাড়ি এলাকার জন্য। এ বছর দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপকভাবে আম চাষ হয়েছে। পাহাড়ে আগে কখনই পরিকল্পিতভাবে আম চাষ হতো না।

তিনি বলেন, থাই পেয়ারা কৃষকের সুদিন ফিরিয়েছে। কৃষকদের ট্রেনিংসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কারণে কৃষকরা এখন পলিব্যাগ পরিয়ে ফলের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

হটিকালচার উইংয়ে কর্মরত কৃষিবিদ মাহবুবা মুনমুন জাগো নিউজকে বলেন, পিরোজপুরে একজন মানুষের ৫০ একরের মালটা বাগান রয়েছে। এ এলাকায় ৩২০টি মালটা বাগান গড়ে উঠেছে। মালটা চাষে সফলতার কারণে এখানে একটি গ্রামের নাম করণ হয়েছে ‘মালটা গ্রাম’।

তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবিত খাটো নারিকেলের চারা বিতরণ করা হচ্ছে কৃষকদের মাঝে। নারিকেল গাছে ফলন বেশি। তাছাড়া ঝড়েও এ ধরনের চারা ভেঙে পড়ে না। এছাড়া গাছের পরিচর্যা, নারিকেল সংগ্রহ খুবই সহজ। নারিকেলের প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ এবং কাজে লাগে বলে জানান এই কৃষিবিদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com