আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পরীক্ষামূলক বিদেশি জাতের বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছে মেটাল এগ্রো লিমিটেড নামে দেশিয় একটি বীজ উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি ফুল চাষে দেশের বিভিন্ন এলাকার নার্সারি মালিক ও ফুল চাষীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

গ্রীষ্মকালীন সময়ে দেশে ফুলের চাহিদা বিবেচনায় বিদেশি জাতের ফুল চাষ নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংটিহাজরা ডাংগা ইউনিয়নের কাউয়াপুকুর গ্রামে মঙ্গলবার ফুল চাষের মাঠ প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি জাপানের বিখ্যাত ‘টাকি সিড’কোম্পানি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বীজ ও চারা এনে ওই এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে।

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

মতবিনিময় সভার আয়োজকরা জানান, দেশে প্রতিনিয়ত ফুলের চাহিদা বাড়ছে। এখানে মূলত শীতকালে কিছু প্রজাতির মৌসুমি ফুল পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন ফুলের চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে চীন, জাপান, মালেয়শিয়া, থাইল্যান্ডের মত দেশ থেকে ফুল আমদানি করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশেও গ্রীষ্মকালের বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলচাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ আকারে এ ফুলচাষ করা গেলে বিদেশেও ফুল রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আমাদের এখানে দেশিয় ফুলের খুব বেশি জাত নেই। দেশিয় বাজারে কয়েক প্রজাতির গোলাপ, গাদা, জবা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধাই আমাদের ভরসা। অথচ বিশ্ব বাজারে বছর জুড়েই নানান প্রজাতির ফুল বাজারজাত দেখা যায়।

যে কারণে পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার ফুলচাষী এবং নার্সারি মালিকদের বিদেশি প্রজাতির ফুল চাষে আগ্রহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

ইতোমধ্যে তারা জাপানের বিখ্যাত ‘টাকি সিড’থেকে উন্নত প্রজাতির ফুলবীজ আমদানি করে তা থেকে ফুল উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করেছে। তাদের প্রদর্শনী প্লটে শোভা পাচ্ছে বিদেশি প্রজাতির রং বেরংয়ের রকমারি ফুল। ভিনদেশি এসব ফুলের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক জাপানী ডাইয়েনতাস, এস্টার, মেথিউলা, এন্টিরিনাম, কেবেজকাট ফ্লাওয়ার, স্যালভিয়া, ভিইওলাসহ ১২০ প্রজাতির ফুল চাষ করে সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশপাশি অতিথি অভ্যর্থনার জন্য ব্যবহৃত জাপানি জাতের বিভিন্ন স্টিকের চাষও করা হচ্ছে। তবে এসব ফুলের বিদেশি নামের পরিবর্তে নন্দিনী, মিথিলাসহ দেশিয় সহজে উচ্চারণযোগ্য নাম দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আগামী শীত মৌসুমে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরসহ দেশের ১০ জেলায় ফুল চাষীদের মাঝে এ ফুলের বীজ ও চারা সরবরাহ করা হবে। ফুল উৎপাদনসহ বাজারজাতকরণেও সহযোগিতার কথা জানায় মেটাল এগ্রো।

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেন, এ ফুলের চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া হবে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলার ফুলচাষী ও নার্সারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে।

বিদেশি ফুল চাষ প্রকল্পটির কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড.হেইদি ওয়ারনেট এ ফুলচাষ প্রকল্পটি দেখভাল করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও এশিয়া মহাদেশে ৩০ বছর ধরে ফুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া চীনে ২২ বছর ধরে ফুল চাষের ওপর কাজ করেছেন। বর্তমানে ইউএসএআইডির হয়ে মেটাল এগ্রো লিমিটেডের কনসালটেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুল বিশেষজ্ঞ ড. হেইদি ওয়ারনেট বলেন, বাংলাদেশের এ অঞ্চল ফুল চাষে বেশ উপযোগী। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুল চাষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং দেশিয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে সক্ষম হবে। চীনে এ ফুল চাষে সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর। তবে বাংলাদেশে ঠিকমত এই ফুলচাষ করা গেলে পাঁচ বছরে মধ্যেই সাড়া ফেলবে আশা করি।

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

মতবিনিময় সভায় যশোর, বরিশাল, নাটোর, রাজশাহী এবং দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার ফুলচাষী ও নার্সারি মালিক ছাড়াও ইউএসএআইডির অনিরুদ্ধ হোম রায়, জাপানের টাকি সিডের প্রতিনিধি নোরিকাজু সাতোইওসি অংশ নেন। এ সময় জাপানী ফুল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ফুল চাষী ও নার্সারি মালিকদের সহায়তার আশ্বাস দেন মেটাল এগ্রো লিমিটেড।

মেটাল এগ্রোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আফজাল হুসাইন বলেন, বাংলাদেশে শুধুই শীতকালে কিছু ফুল পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে বিদেশ থেকে ফুল আমদানি করতে হয়। দেশে গ্রীষ্মকালে ফুলের চাহিদা মেটাতে আমাদের এ উদ্যোগ। বর্তমানে যশোর, চট্টগ্রাম ও সাভারে ছোট পরিসরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে দেশিয় ফুল চাষ করা হচ্ছে। যা দেশের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিন শীত থাকায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ফুল চাষের জন্য উপযোগী। আমরা বছর জুড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ফুলের চাষ ছড়িয়ে দিতে চাই।

পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল বলেন, কৃষকরা ধান পাটসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করেও অনেক সময় লোকসানে পড়েন। আমরা জাপানের টাকি সিড থেকে ফুলের বীজ আমদানি করছি। এই ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নার্সারি মালিক ও ফুল চাষীদের আমরা বিভিন্নভাবে সহায়তার চেষ্টা করছি। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ব বাজার রফতানি করা যাবে।

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

    পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য

  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
  • পঞ্চগড়ে বিদেশি ফুল চাষে সাফল্য
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফুল

‘গ্লাডিওলাস’ হতে পারে চাষির ঘরে নতুন ফসল

খেতে ফুটে আছে ‘গ্লাডিওলাস’ ফুল। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের আকবরপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে। ছবি: প্রথম আলো
খেতে ফুটে আছে ‘গ্লাডিওলাস’ ফুল। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের আকবরপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে। ছবি: প্রথম আলো

সারা বছর তো কিছু জমি পতিত থাকেই। এই জমিতে কোনো ফসলেরই চাষ হয় না। আবার আমন ধান কাটার পর এই পতিত জমির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। কিছু জমিতে প্রচলিত কিছু সবজি ও শস্য চাষ হয়তো হয়। কিন্তু অনেক জমিই পড়ে থাকে খালি। এই পতিত জমিতে ‘গ্লাডিওলাস’ হতে পারে চাষির ঘরে নতুন এক ফসল। উপার্জনের নতুন এক উপায়।

আর এই সম্ভাবনা শুধু মৌলভীবাজার জেলার জন্যই অপেক্ষা করছে না, বৃহত্তর সিলেটজুড়েই খুলে দিতে পারে চেনা চাষবাসের বাইরে ফুল চাষের নতুন এক বাণিজ্যিক দিগন্ত। মৌলভীবাজারের আকবরপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গেলে দূর থেকেই চোখে পড়ে ঢেউখেলানো ছোপ ছোপ রঙের সারি। প্রকৃতির কোলে চারপাশের সবুজে ঘেরা টিলার ফাঁকে রংধনুর মতো এক সারি রং যেন আপন মনে ফুটে আছে। লাল, সাদা, বেগুনি নানা রঙের মেলা। কাছে ভিড়লে সে রং আরও উজ্জ্বল, আরও নজরকাড়া। এই রং আসলে গ্লাডিওলাস ফুলের। নতুন মাটিতে পরীক্ষামূলক চাষের সফল প্রকাশ।

আকবরপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্তমানে ২০৮টি ফসল নিয়ে গবেষণা করছে। এই গবেষণার মধ্যে আছে ফল, সবজি ও ফুল। দেশে যশোর জেলায় প্রথম ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি ফুলের উৎপাদনও হচ্ছে যশোরে। আরও কয়েকটি জেলায় ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফুল চাষে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এখনো পিছিয়ে। এখনো বাণিজ্যিক ফুলের চাষবাস এই অঞ্চলে দেখা যায় না। অনেকের ধারণা, এই অঞ্চলের মাটিতে উচ্চ মাত্রার লবণাক্ততা রয়েছে। এ মাটিতে ফুল চাষ করা যাবে না। সে জন্য কোনো চাষি বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে আগ্রহী নন। এতে ১২ মাসই বৃহত্তর সিলেটের প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকছে। আমন ধান কাটার পর এই পতিত জমির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিছু জমিতে প্রচলিত মৌসুমি সবজির চাষ হয়। বাকি জমিতে কোনো জাতের ফসলই কেউ চাষ করে না।

এই পতিত জমিকে চাষের কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে আকবরপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল গবেষক আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গ্লাডিওলাস ও টিউব রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করেন। চাষে তাঁরা সফলতাও পেয়ে যান। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় গ্লাডিওলাসের খেত। ১২ রঙের গ্লাডিওলাস ফুটেছে তাঁদের চাষের খেতে। সাদা, লাল, হলুদ, পিঙ্ক, বেগুনিসহ বহুরঙা এই ফুলগুলো নজরকাড়া রূপে উজ্জ্বল। গ্লাডিওলাস মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার ফুল। কিন্তু ফুলটির মন আমোদ করা রূপ দেশের বাজারে তার চাহিদা তৈরি করে নিয়েছে। বর্তমানে মৌলভীবাজারে বিয়ে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা এবং জাতীয় দিবসে ফুলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে যশোর ও ঢাকা থেকে আসা ফুলে। অনেক দূরের উৎপাদনস্থান থেকে আসা এই ফুল পরিবহনের সময় অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। অনেক ফুলের সৌন্দর্য আর ঠিক থাকে না। ফলে এই জেলায় ফুলের দামও অনেক বেশি পড়ে।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকেরা জানিয়েছেন, আকবরপুরে গ্লাডিওলাস ও টিউব রজনীগন্ধার সফল চাষ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সিলেট অঞ্চলে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব। চাষিরা এগিয়ে এলে এই অঞ্চলের অনাবাদি জমি ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। শুধু ধান বা মৌসুমি সবজির ওপর নির্ভর না করে ফুল চাষ থেকে চাষিরা লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। এটা হতে পারে এই অঞ্চলের চাষিদের কাছে নতুন একটি ফসল। লাভও হবে ধান ও সবজি থেকে বেশি।

কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার জানিয়েছেন, এই ফুল চাষে তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। আমন ধান কাটার পরই পতিত জমিতে ফুলের চাষ করা যাবে।

কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম শরিফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে এসে দেখেছি, অনেক জায়গা পতিত পড়ে থাকে। কিছু সবজি হয়। কিছু গাছ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। ভাবলাম, এখানে ফুলের উৎপাদন হয় কি না। লাগানোর পর দেখলাম ফুল খুব ভালো হয়েছে। বৃহত্তর সিলেটে কয়েক লাখ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি পতিত পড়ে থাকে। সব জমিতে হয়তো চাষ করা যাবে না। কিন্তু রবি মৌসুমে সমতল ভূমির যেখানে সেচের সুযোগ আছে, তা ফুল চাষের আওতায় আনা যাবে। এই অঞ্চলের মাটি কিছুটা অম্ল ধরনের হলেও তাতে গ্লাডিওলাস চাষ করা সম্ভব। এটা হয়তো গ্রীষ্মকালেও করা যাবে। আমরা সেটাও গবেষণা করে দেখব। গ্লাডিওলাস চাষে চাষিরা সবজি থেকে দ্বিগুণ লাভ পাবেন।’ তিনি জানান, সব চাষিকে হয়তো সরাসরি বীজসহ অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া যাবে না। কিন্তু আগ্রহী চাষিকে কারিগরি ও চাষবিষয়ক সব পরামর্শ দেওয়া যাবে। ফুল চাষ এই অঞ্চলে চাষিদের সামনে আয়ের এক নতুন সম্ভাবনা বলে ওই কর্মকর্তা মনে করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মিজান গার্ডেনে গাছে গাছে ফুল-ফল

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া গ্রামের মিজান গার্ডেন। সেখানে গেলেই এখন প্রথমেই নাকে আসে বাতাসে ভেসে আসা টক-মিষ্টি কাঁচা মাল্টার গন্ধ। চারপাশে তাকাতেই চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মাল্টাসহ নানা ফল। গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের ফল। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে ডালপালা।

এই অপরূপ দৃশ্যের পেছনে যাঁর শ্রম-ঘাম ও পরিকল্পনা, তাঁর নাম মিজানুর রহমান। তিনি ঢাকার নিউমার্কেটে ব্যবসা করেন। ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি মাসেই তিনি বাড়িতে আসেন বাগানের গাছের পরিচর্যা করার জন্য। মাল্টা চাষে সফলতা অর্জন করে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে ফল চাষের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় আট একর জমির ওপর বাগানটি করেছেন মিজান। নিজের নামে তিনি বাগানটির নাম দিয়েছেন ‘মিজান গার্ডেন’। সফল হওয়ায় মাল্টার বাগানটি এখন এলাকায় সাড়া ফেলেছে। তবে এই বাগানে মাল্টা ছাড়াও রয়েছে পার্সিমন, রামবুটান, ড্রাগন, প্যাশন, জাম্বুরা, পেঁপে, পেয়ারা ও কমলার মতো নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফলের গাছ। প্রায় তিন বছর আগে বাগান করার উদ্যোগ নেন মিজানুর রহমান। সে সময়ই মাল্টার গাছগুলো লাগানো হয়েছিল।

মিজানুরের বাগানে মাল্টা
মিজানুরের বাগানে মাল্টা

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তিন বছর বয়সী গাছগুলোতে থোকায় থোকায় মাল্টা ধরেছে। বাউফলের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে মাল্টা কিংবা কমলালেবুর মতো ফল চাষে মিজানের সফলতা এখন পথ দেখাচ্ছে বিশেষজ্ঞ ও অন্য চাষিদের। পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এসব ফল বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। আগে ধারণা ছিল, বিদেশে ছাড়া মাল্টা বা কমলালেবু ভালো হয় না। দেশে নিদেনপক্ষে বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলার মাটিই কেবল এই ফলগুলো চাষের উপযোগী। মিজান সে ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।

মিজানের অনুপস্থিতে বাগানটির দেখভাল করেন মিজানের আত্মীয় মো. আরিফুর রহমান। তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাগানটির পরিচর্যা করেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগানের গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে বড় করে তোলা হয়েছে। পুষ্টি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়েছে কেঁচো কম্পোস্ট, ভার্মিকম্পোস্ট, খৈল, গোবর ও জৈব সার। তিনি বলেন, মাটিতে গোবর মিশিয়ে রোপণ করা হয় নাগপুরী, বারি-১, চায়না, এলাচি, বেরাকাটা জাতের কমলা এবং পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান ও বারি জাতের মাল্টার চারা। জৈব সার আর প্রাকৃতিক উপায়ে পরিচর্যায় ফল আসে গাছগুলোতে। 

বাগানের খুঁটিনাটি বিষয়ে কথা হয় খোদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে ও বিষমুক্ত ফল পাওয়ার আশায় তাঁর এ উদ্যোগ। এসব ফল গাছের খাদ্য হিসেবে সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। এ বছর পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়স্বজনসহ প্রতিবেশী ও স্থানীয় দুস্থ লোকজনের মধ্যে এসব মাল্টা বিলিয়ে দেওয়া হবে। পরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিষমুক্ত এসব ফল চাষ করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মশিউরের পর্তুলিকার রাজত্ব

ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছাদবাগানে পর্তুলিকা ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত মশিউর রহমান। মঙ্গলবার সকালে তোলা। ছবি: প্রথম আলো
ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছাদবাগানে পর্তুলিকা ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত মশিউর রহমান। মঙ্গলবার সকালে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের যুবক মশিউর রহমান। নিজের ছাদবাগানে সংগ্রহ করেছেন প্রায় এক শ ধরনের পর্তুলিকা। সারা দেশের সংগ্রাহকদের মধ্যে সেসব পর্তুলিকা বিলিয়ে দিচ্ছেন বিনা মূল্যে। সব প্রাণীর জন্য বাসযোগ্য সমাজ গড়তে গ্রামের ফাঁকা জায়গায় নিজ উদ্যোগে রোপণ করেছেন হাজারো ফলদ গাছ।

জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মিরকুটির ছেও গ্রামের মকবুল হোসেনের সন্তান মশিউর রহমান। একটি বেসরকারি কলেজের তড়িৎ প্রকৌশলের শিক্ষক তিনি। প্রকৃতি রক্ষায় নানান কাজের পাশাপাশি বসতবাড়ির ছাদে চমৎকার এক বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে নানান রঙের পর্তুলিকা।

পর্তুলিকার রাজত্ব
দোতলা ভবনের ছাদজুড়ে সারি সারি টব। আপেল, কমলা, ব্লু ডেইজ, অর্কিড, শাপলা, এমারলিস লিলি, গোলমরিচ, চুইঝাল, চন্দন, এলাচি, আলু বোখারাসহ নানান জাতের প্রায় ৫০০ গাছ মাথা উঁচু করে আছে এসব টবে। চার বছর ধরে মশিউর তাঁর বাড়ির ছাদে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। ছাদের এক পাশে ককশিটের তৈরি টবে হাজারো ছোট ছোট ফুল। সবুজ লতানো ঘাসের বুকে যেন লাল, গোলাপি, সাদা, খয়েরি, বেগুনির মতো অজস্র রঙের মেলা বসেছে। মুখভর্তি হাসি নিয়ে মশিউর পরিচয় করিয়ে দেন, ‘এই আমার পর্তুলিকার রাজত্ব’। পার্সোলিন, ডায়মন্ড রিং, মসরোজ, জায়ান্ট ও টায়রা প্রজাতির প্রায় ৯৮ ধরনের পর্তুলিকা মশিউরের রাজত্বে। তিন বছর আগে শখের বশে পর্তুলিকা সংগ্রহ শুরু হলেও বর্তমানে তা নেশায় পরিণত হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে ৬০ ধরনের পর্তুলিকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সংগ্রাহকের কাছ থেকে নিয়েছেন আরও ৩৮ ধরনের পর্তুলিকা। এসব সংগ্রহ করতে গিয়ে শুরুতে পরিবারের বাধার মুখে পড়লেও এখন তাদের কাছেই সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পান তিনি।

পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার
ছেলেবেলা থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে মশিউরকে চেনেন আশপাশের লোকজন। তবে পর্তুলিকার বড় সংগ্রাহক হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে চেনেন সবাই। মশিউর বলেন, ‘দেশের প্রায় দুই হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে পর্তুলিকা দিয়েছি। এতে দেশব্যাপী একটা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা থেকে পর্তুলিকা বিলানো শুরু করলেও এই পর্তুলিকা এখন আমার পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধুদের সামাজিক বনায়নে অর্থায়নের আহ্বান জানাচ্ছি। পরিচিতির কারণে তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে। এভাবে অর্থ সংগ্রহ করে গত বর্ষায় গ্রামের বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রায় এক হাজার ফলের গাছ লাগিয়েছি।’

আয়ের পথ
স্নাতক শেষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে হবিগঞ্জ চলে যান মশিউর। তখন বাগান ও পর্তুলিকা দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তাঁর ছোট ভাই মেহেদী হাসান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী সে সময় থেকেই পর্তুলিকা বিক্রি শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মেহেদি জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অনেক কিছু বিক্রি করে। ভাইয়ার সংগ্রহ থেকে আমিও পর্তুলিকা বিক্রি শুরু করি। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পর্তুলিকা বিক্রি করেছি।’

এদিকে চাকরিতে মন টেকেনি মশিউরের। নিজের বাগানের টানে আবারও গ্রামে ফিরে আসেন। অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য পর্তুলিকা বিক্রি করছেন বলে জানান মশিউর। তাঁদের মধ্যে গৃহিণীরা এগিয়ে। পর্তুলিকা চাষকে পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

গড়তে চান বাসযোগ্য সমাজ
মশিউরের বারান্দায় আসা পাখিদের জন্য খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। পশুপাখির বাসস্থান ও খাবার জোগানের জন্য গ্রামের ফাঁকা জায়গা ও সড়কের পাশে কয়েক হাজার ফলদ গাছ রোপণ করেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক শ তালের আঁটি সংগ্রহ করেছেন সড়কের পাশে রোপণের জন্য। গ্রামের যুবকদের সঙ্গে মিলে সড়কের পাশে রোপণ করেছেন শত শত সুপারিগাছ। মশিউর মনে করেন, মানুষের মতো অন্যান্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গেরও এই সমাজে সমান অধিকার আছে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে মানুষ নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করছে। ফলে পরিবেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পোকামাকড় ও পশুপাখি হারিয়ে যাচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে পৃথিবী। মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাজকে সব প্রাণের জন্য বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে বিশ্বাস মশিউরের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

গোলাপের রাজ্যে তামাকের আগ্রাসন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলীতে গোলাপের জায়গায় এখন তামাকের চাষ হচ্ছে। বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায়। প্রথম আলো
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলীতে গোলাপের জায়গায় এখন তামাকের চাষ হচ্ছে। বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায়। প্রথম আলো

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী নামটি সারা দেশে পরিচিত গোলাপের গ্রাম হিসেবে। সেই পরিচয় এখন ম্লান হতে চলেছে। গোলাপের রাজ্যে চলছে এখন তামাকের আগ্রাসন। বরইতলী গ্রামে গোলাপ আর তামাকের অবস্থান পাশাপাশি।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে শুধু বরইতলী ইউনিয়নে গোলাপের চাষ হয়। এই ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে বর্তমানে ৫০ একর জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে। তামাকের চাষ হচ্ছে পাঁচ একর জমিতে। গোলাপ চাষের সঙ্গে অন্তত ৩০০ জন চাষি ও শ্রমিক জড়িত আছেন। 

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছর উপজেলায় তামাকের চাষ কমেছে বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বরইতলী এলাকায় গিয়ে। সেখানে গত বছরের চেয়ে এবার তামাকের চাষ বেশি দেখা গেছে। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, বাজারে কাগজের ফুল ও চীনা ফুলের কদর বেড়ে যাওয়ায় আসল গোলাপের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা। অন্যদিকে তামাকে গোলাপ চাষের চেয়ে লাভ বেশি। এ কারণে চাষিরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। 

তামাকচাষি ছৈয়দুল আলম বলেন, ‘১০ বছর ফুলের চাষ করেছি। শেষের তিন বছর ফুল চাষ করে সুবিধা করতে পারিনি। এ কারণে এখন তামাকের চাষ করছি। ছৈয়দুল চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে তামাকের চাষ করেছেন।’ 

ফুলচাষিরা জানিয়েছেন, বরইতলী থেকে চাষিরা সরাসরি চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়, ঢাকার শাহবাগ ও সাভার এবং কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন আড়তে গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাস ফুল সরবরাহ করেন। এবার আড়তদারদের কাছে প্রতিটি গোলাপ সাড়ে আট টাকা ও গ্ল্যাডিওলাস ১১-১২ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। 

উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের দরগাপাড়া, মাইজপাড়া, আলমনগর, হিন্দুপাড়া, বড়পাড়া, ওপরঘোনা, খয়রাতিপাড়া এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করেছেন চাষিরা। ওই এলাকার জমিগুলোতে গ্ল্যাডিওলাস, গোলাপ, চায়না গাঁদা, হলুদ গাঁদা, জারবেরা, জিপসিসহ নানান প্রজাতির ফুল ফুটেছে।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাইজপাড়া এলাকায় গোলাপ বাগানের পাশেই তামাকের চাষ করা হয়েছে। এই গোলাপ বাগানটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি বলেন, তাঁর বাগানের চারপাশে গত দুই বছর আগেও গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাস ফুলের চাষ হতো। এখন শুধু তাঁর বাগানটি ছাড়া চারপাশের সব জমিতে তামাকের চাষ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন এমন যে, গোলাপের রাজ্য যেন তামাক দখল করে নিয়েছে। 

ফুল বাগানের শ্রমিক বেলাল উদ্দিন বলেন, ভালোবাসা দিবস, পয়লা বৈশাখ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও  বর্ষবরণের রাতে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এসব দিবসকে ঘিরে অগ্রিম প্রস্তুতিও থাকে ফুলচাষিদের। তবে এ বছর গত বছরের তুলনায় দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি কম হয়েছে।

বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম বলেন, ৩৫ বছর ধরে বরইতলী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুল যাচ্ছে। তবে প্রতিবছর ফুলের চাষ কমছে। এসব এলাকায় সবজি ও তামাকের চাষ বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাজারে প্লাস্টিকের ফুলের কদর  বাড়ছে। সামাজিক অনুষ্ঠানে এখন কৃত্রিম ফুল ব্যবহার করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অদ্ভুত কিছু ফুল

পৃথিবীর সব মানুষই কম বেশি ফুল ভালোবাসেন। পরিচিত ফুলের বাইরেও রয়েছে অনেক রকমের অদ্ভুত ফুল। এমন কিছু অদ্ভুত ফুল নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের অ্যালাবাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com