আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ইতিহাসের সাক্ষী: কেমন ছিল নেলসন ম্যান্ডেলার কারামুক্তির দিনটি?

মুক্তির পর গাড়িতে করে যাচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
মুক্তির পর গাড়িতে করে যাচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

দীর্ঘ ২৭ বছর বন্দী থাকার পর ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্ত হন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন তিনি। তার মুক্তির এই দিনটির জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার লাখ লাখ কৃষ্ণাঙ্গ অপেক্ষা করছিল। এর মধ্য দিয়েই দেশটিতে অবসান ঘটতে শুরু করে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শ্বেতাঙ্গ শাসনের।

ঐতিহাসিক সেই দিনটির কথা স্মরণ করেছেন তারই এক রাজনৈতিক সহকর্মী ভ্যালি মুসা। তিনি জানান, নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির ব্যাপারে তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। এজন্য তাদেরকে খুব দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। কিন্তু সবকিছু যে সেই পরিকল্পনা মতোই হয়েছে তা নয়।

তিনি জানান, মাত্র একদিন আগে তাদেরকে জানানো হয় যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

“দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা। এবং অবশ্যই বলতে হয় যে আমরা এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।”

এক সপ্তাহ আগেও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিষিদ্ধ ছিলেন। এমনকি বাড়ি থেকে বের হওয়ারও অনুমতি ছিল না তার। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা দেখলেন সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে।

১০ই ফেব্রুয়ারি ছিল শনিবার।

তিনি বলেন, “সেদিন সকালে সরকার আমাদের সাথে বৈঠক করার কথা জানালো। আমরা ছোট্ট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সেখানে গেলাম। সরকার বললো, তারা আমাদের জানাতে চায় যে আগামীকাল অর্থাৎ পরদিন নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেওয়া হবে।”

“১১ই ফেব্রুয়ারি রবিবার, ১৯৯০ সাল, সকাল এগারোটায়। তারা বললেন, নেলসন ম্যান্ডেলা চান মুক্তির পর তাকে যেন কারাগারের গেটে তার কমরেডদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এজন্যে আমাদের কোন প্রস্তুতি ছিল না। তখন সবকিছু ম্যানেজ করা আমাদের জন্যে খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।”

নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি উপলক্ষে সোয়েটো শহরে উৎসব।
নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি উপলক্ষে সোয়েটো শহরে উৎসব।

তাদের এরকম একটি ঘটনা আয়োজনের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। তাদের কাছে ছিল অল্প কিছু গাড়ি। কিন্তু তার জন্যে এসব চালাতে পেশাদার চালক ছিল না। মুক্তির পর নেলসন ম্যান্ডেলা যে গাড়িতে করে সেন্ট্রাল স্কয়ারের দিকে যাচ্ছিলেন সেটি জনতার ভিড়ে আটকা পড়ে গিয়েছিল। গাড়ির চালক সেসময় খুবই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন।

এক পর্যায়ে নেলসন ম্যান্ডেলাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

“গাড়ির চালক নিরাপদে থাকতে চেয়েছিলেন এবং জনতার ভিড় থেকে নেলসন ম্যান্ডেলাকে বাঁচাতে তিনি তাকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছিলেন। আমরা তাকে ফোনও করতে পারছিলাম না।”

ভ্যালি মুসা বলেন, “আমরা কয়েকজন বুঝতেও পারছিলাম না যে কী করবো। আমাদের সঙ্গে আর্চ বিশপ টুটুও ছিলেন। এক পর্যায়ে আমরা নেলসন ম্যান্ডেলাকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা জানতাম না তিনি কোথায়।”

কেপ টাউনের একজন ট্রাফিক অফিসার অবশেষে তাদেরকে জানালেন যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে পাওয়া গেছে। তিনি জানালেন, স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মীর আত্মীয়দের সঙ্গে বসে তিনি চা খাচ্ছেন।

নেলসন ম্যান্ডেলা টাউন হলের একটি ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালেন জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার জন্যে। সমবেত লোকজন তাকে দেখে উল্লাস করে উঠলো।

সমাবেশে যারা জড়ো হয়েছে তাদের অনেকেই এই প্রথম নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখতে পেলেন। কারণ মি. ম্যান্ডেলা কারাগারে যাওয়ার পরেই তাদের জন্ম হয়েছে।

নেলসন ম্যান্ডেলা: জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর।
নেলসন ম্যান্ডেলা: জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর।

জনতার উদ্দেশ্যে নেলসন ম্যান্ডেলা বললেন, “কোন মহান ব্যক্তি হিসেবে আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে নেই, দাঁড়িয়ে আছি আপনাদের একজন বিনীত সেবক হিসেবে।”

নেলসন ম্যান্ডেলা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন ১৯৬৪ সালে। এই অপরাধে তার সাজা হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তার ছবি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি তাকে উদ্ধৃত করে কিছু বলাও ছিলো বেআইনি।

কিন্তু এসব বিধিনিষেধ তার কারা-কক্ষকে প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক প্রতীক হয়ে উঠতে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে। সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করে সহিংসতা, ধর্মঘট, বয়কট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা।

১৯৯০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট এফ ডাব্লিউ ডি ক্লার্ক পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বর্ণবাদী শাসন অবসানের কথা ঘোষণা করলেন।

ভ্যালি মুসা বলেন, “আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এএনসি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। আমার মতো রাজনৈতিক নেতাদের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।”

কিন্তু সেদিনই ভ্যালি মুসা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার্লামেন্টের বাইরে বিশাল এক প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই আইন অমান্য করার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটে যখন প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টের ভেতরে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

“এ ধরনের বিক্ষোভ ছিল খুবই বিরল ঘটনা। ওই সমাবেশের দাবি ছিল এএনসির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি। আমি যখন সমাবেশ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তখন শাসকরা ঘোষণা করলো যে তারা এসব দাবি মেনে নিচ্ছে। ফলে আমি যে বেআইনি কাজ করছিলাম তখন হঠাৎ করেই সেটা আর বেআইনি থাকলো না।”

মুক্তির দুদিন পর সোয়েটো স্টেডিয়ামে তৎকালীন স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সাথে।
মুক্তির দুদিন পর সোয়েটো স্টেডিয়ামে তৎকালীন স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সাথে।

সরকার তখনও ঘোষণা করেনি যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে কখন মুক্তি দেওয়া হবে। শুধু বলা হয়েছে তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা। মি. ম্যান্ডেলাকে স্বাগত জানানোর জন্যে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার একজন সদস্য ছিলেন ভ্যালি মুসা। এর আট দিন পর সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে বৈঠকে ডাকা হলো এবং সেদিনই বলা হলো যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে পরের দিন মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

“বৈঠক খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়েছিল। তারা জানালেন নেলসন ম্যান্ডেলা ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তাকে যেন জেলখানার গেটে মুক্তি দেওয়া হয়। যেন তুলে দেওয়া হয় তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের হাতে। তখন আমি ও আমার সহকর্মীদের মনে হয়েছিল যে তাদেরকে বলি, তোমরা কি তাকে আরো কিছু সময় জেলে আটকে রাখতে পারো না, যাতে আমরা কিছু একটা আয়োজন করতে পারি? কিন্তু আমরা সেরকম কিছু বলিনি।”

পরে তারা জানতে পেরেছিলেন যে নেলসন ম্যান্ডেলা তার মুক্তির ব্যাপারে আরো কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু ডাব্লিউ ডি ক্লার্ক সেই অনুরোধ রাখেন নি।

সরকার চেয়েছিল খুব নিরবে তাকে মুক্তি দিতে। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা তাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি তাদেরকে জানান, অন্যান্য বন্দীদের যেভাবে মুক্তি দেওয়া হয় তিনিও ঠিক সেভাবেই জেল থেকে বের হয়ে যেতে চান।

মুক্তির আগেও নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে কয়েকবার দেখা করেছিলেন ভ্যালি মুসা। তিনি বলেন, “তার মুক্তির বিষয়ে উৎসব আয়োজন করার মতো কোন সময় আমাদের ছিলো না। এটাই ছিল বাস্তবতা। তিনিও খুব শান্ত ছিলেন। তার পর দিন কী হবে এসব বিষয়ে আমারা অনেক কিছু আলাপ করেছিলাম।”

কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা চেয়েছিলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর জোহানেসবার্গে যাওয়ার আগে তিনি কেপটাউনে জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। কারাগার থেকে তাকে সেন্ট্রাল স্কয়ারে নিয়ে যাওয়ার জন্যে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মীর কাছ থেকে একটি গাড়ি ধার করতে হয়েছিল। লোকজনকে বলা হয়েছিল সেখানে জড়ো হতে।

২৭ বছরের কারাবাসের ১৯ই বছরই রোবেন আইল্যান্ডের এই জেলখানায় কাটিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মুক্তির পর ১৯৯৫ সালে তিনি তার ঘরটি দেখতে গিয়েছিলেন।
২৭ বছরের কারাবাসের ১৯ই বছরই রোবেন আইল্যান্ডের এই জেলখানায় কাটিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মুক্তির পর ১৯৯৫ সালে তিনি তার ঘরটি দেখতে গিয়েছিলেন।

তখন তো ল্যাপটপ ছিলো না, তাই নেলসন ম্যান্ডেলার ভাষণ টাইপ করতে ভ্যালি মুসাকে বেশ কয়েকবার কারাগার ও কেপটাউন শহরে যাওয়া আসা করতে হয়েছিল।

হাতে একেবারেই সময় ছিল না। ফলে নেলসন ম্যান্ডেলার স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলা, এএনসির আরো কয়েকজন নেতা তখন জোহানেসবার্গ থেকে একটি ভাড়া করা বিমান নিয়ে এসেছিলেন কেপটাউনে।

“এসব লোকজনের ভাড়া করা বিমানে চলাচলের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। এছাড়াও একটা বোয়িং যতো সময় নেয়, ছোট্ট বিমানগুলো তার চাইতেও অনেক বেশি সময় নিয়ে থাকে। তারা প্রায় দ্বিগুণ সময় নিয়েছিল। তাদের আসতে দেরি হয়। ফলে দু থেকে তিন ঘণ্টা পর নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।”

এর কয়েক ঘণ্টা পর, যখন সন্ধ্যা নেমে আসে, নেলসন ম্যান্ডেলা কেপটাউনের টাউন হলের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। ভাষণ দিলেন জনতার উদ্দেশ্যে। তাড়াহুড়োর মধ্যে তিনি তার চশমা হারিয়ে ফেলেন।

“সিটি হলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা জনতার সমুদ্রের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। মনে হচ্ছিল সবকিছু যেন নিখুঁতভাবে শেষ হচ্ছে। স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রামী বহু মানুষ তাদের জীবনে কখনো এধরনের চিত্র দেখতে পারে না। কিন্তু আমি সেই দৃশ্যটা দেখেছি। এবং এই মুহূর্তটি সারা জীবনই আমার সাথে থেকে গেছে।”

ভাষণে নেলসন ম্যান্ডেলা বললেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ, তারা আজ স্বীকার করে নিয়েছেন যে বর্ণবাদের কোন ভবিষ্যৎ নেই।”

নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।

ভ্যালি মুসা পরে ম্যান্ডেলা সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • ২৭ বছরের কারাবাসের ১৯ই বছরই রোবেন আইল্যান্ডের এই জেলখানায় কাটিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মুক্তির পর ১৯৯৫ সালে তিনি তার ঘরটি দেখতে গিয়েছিলেন।

    ২৭ বছরের কারাবাসের ১৯ই বছরই রোবেন আইল্যান্ডের এই জেলখানায় কাটিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মুক্তির পর ১৯৯৫ সালে তিনি তার ঘরটি দেখতে গিয়েছিলেন।

  • মুক্তির দুদিন পর সোয়েটো স্টেডিয়ামে তৎকালীন স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সাথে।

    মুক্তির দুদিন পর সোয়েটো স্টেডিয়ামে তৎকালীন স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সাথে।

  • নেলসন ম্যান্ডেলা: জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর।

    নেলসন ম্যান্ডেলা: জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর।

  • নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি উপলক্ষে সোয়েটো শহরে উৎসব।

    নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি উপলক্ষে সোয়েটো শহরে উৎসব।

  • মুক্তির পর গাড়িতে করে যাচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

    মুক্তির পর গাড়িতে করে যাচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

  • ২৭ বছরের কারাবাসের ১৯ই বছরই রোবেন আইল্যান্ডের এই জেলখানায় কাটিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মুক্তির পর ১৯৯৫ সালে তিনি তার ঘরটি দেখতে গিয়েছিলেন।
  • মুক্তির দুদিন পর সোয়েটো স্টেডিয়ামে তৎকালীন স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সাথে।
  • নেলসন ম্যান্ডেলা: জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর।
  • নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি উপলক্ষে সোয়েটো শহরে উৎসব।
  • মুক্তির পর গাড়িতে করে যাচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

শিখে নিন টবে দারুচিনির চাষের কৌশল

পৃথিবীতে ভোজ্য মসলা যতরকম আছে তারমধ্যে দারুচিনি সবথেকে উল্লেখযোগ্য। এই প্রাচীনতম মসলা বহুদিন ধরে ওষধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। এছাড়াও খাবারে স্বাদ বাড়ানো থেকে শুরু করে, পানীয় এবং তরল মশলাদার খাবারে স্বাদ বাড়ানোর জন্যও এই দারচিনির ব্যবহার হয়। এলাচ, গোলমরিচ, লবঙ্গের সাথে সাথে দারুচিনির নামও মসলা হিসেবে একই পংক্তিতে উচ্চারিত হয়। বহু কৃষক দারুচিনির চাষ করে ভীষণভাবে উপকৃত হয়েছেন। বাজারে এই দারুচিনির চাহিদা প্রচুর পরিমানে থাকায়, এই চাষে ভালো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সৌখিন মানুষেরাও ভালোবেসে দারুচিনির চাষ বাড়িতে করে থাকেন। দারুচিনি গাছের বাকল, ফুল, কুঁড়ি, পাতা, ফল, শেকড় সবকিছুই কাজে লেগে যায়। দারুচিনি গাছ বাড়িতে চাষ করতে গেলে ঘরে ছাদে দুই জায়গাতেই চাষ করা যায়।

মনে রাখতে হবে এই চাষ করতে গেলে উপযুক্ত পরিমানে রোদ দরকার। বাংলার জলবায়ুতে মূলত শীতকালে এই চাষ করা সবথেকে ভালো। জানুয়ারি মাসে দারুচিনি গাছে ফুল ফোটা আরম্ভ করে, এবং এই গাছের ফল পাকতে আরম্ভ করে জুলাইয়ে। সেইসময়ই ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে নিয়ে এসে বাগানে বা টবে রোপন করে দেওয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় রোদ (Sunlight)

কড়া সূর্যালোক দারুচিনি জন্য প্রয়োজনীয়, তাই এটি পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দারুচিনি রোপন করতে গেলে রৌদ্রোজ্জ্বল স্থান যেমন জানালার ধারে, ব্যালকনি কিংবা ছাদের খালি স্থান ব্যবহার করতে হবে।

উপযুক্ত মাটি (Soil)

দারুচিনি চাষের জন্য ভাল মানের মাটি ব্যবহার করা আবশ্যক। বাগানের মাটি ব্যবহার না করাই ভালো, কেননা এতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। অনে সময় আমরা আশেপাশ থেকে মাটি নিয়েই টব ভরে গাছ লাগানো হয়।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংবেদনশীল গাছগুলোতে এই উপায় কার্যকরী হয় না। নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল এমন মাটি ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উত্তম নিষ্কাশনযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটি ব্যবহার করা সবথেকে উত্তম। জেনে রাখা ভালো দারুচিনি খরা একদমই সহ্য করতে পারে না। মাটির বিকল্প হিসেবে ১৫% ট্রাইকোকমপোস্টযুক্ত কোকোডাস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাইরে চাষ করার জন্য এক মিটার (৩০ সেন্টিমিটার গভীর) পর্যন্ত গর্ত করে মাটি দিয়ে পূরণ করে নিতে হবে। ঘরের ভিতরে বা ছাদবাগানের দারুচিনি চাষের জন্য একটি বড় পাত্র প্রয়োজন হবে।

রোপন (Planting)

দারুচিনির বীজ সংগ্রহও করা যায় অথবা নার্সারি থেকে দারুচিনির গাছ কিনেও আনা যায়।

বাইরে চাষের ক্ষেত্রে

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১ মিটার x ১ মিটার এবং ৩০ সেমি গভীরতায় খনন করে মাটি দিয়ে গর্তটি পূরণ করতে হবে।

ঘরের মধ্যে টবে রোপনের ক্ষেত্রে

নিচে গর্ত সহ বড় সিরামিক পাত্র (৬০ x ৫০ সেমি) ব্যবহার করতে হবে। পাত্রটি মাটি বা কোকোডাস্ট দিয়ে পূরণ করে নিতে হবে। ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতা এবং ৩০ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি গর্ত তৈরি করতে একটি বাগান ট্রোয়েল ব্যবহার করে নেওয়া ভালো। বীজ ব্যবহার করলে  ১.৫ সেন্টিমিটার গভীর গর্ত তৈরি করে নেওয়া উচিত। এবার গাছটি গর্তের মধ্যে রেখে মাটি দিয়ে চাপা দিতে হবে। বীজ ব্যবহার করলে প্রতি ১.৫ সেমি গর্তে একটি করে বীজ পুঁততে হবে এবং মাটি দিয়ে বীজটি ঢেকে দিতে হবে।

মাটি সবসময় ভেজা রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দিতে হবে। দারুচিনি গাছ পাত্রে রোপন করার পর, টবের নিচের গর্ত থেকে জল বের না হওয়া পর্যন্ত জল দিতে হবে। টবের উপরের ৫ সেন্টিমিটার শুকিয়ে গেলেই আবার গাছটিকে জল দিতে হবে।

গাছের পরিচর্যা (Caring)

দারুচিনি গাছে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বছর ৫০ গ্রাম টিএসপি, ৭৫ গ্রাম এমওপি ও ৫০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবছর ২-৩ কেজি ট্রাইকোকম্পোস্ট ও সার প্রয়োগ শেষে একই হারে টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া দিতে হবে।

দারুচিনি প্রথম ধরতে দুই থেকে তিন বছর সময় নেয় এবং তার পরে প্রতি দুই বছর পরপরই ফসল দিতে থাকে। দারুচিনি গাছ কম করে ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তাই একে নিয়মিত করে ছোট রাখতে হবে। পাঁচ বছর বয়সী দারুচিনি গাছ থেকে নিয়মিত দারুচিনি সংগ্রহের ডাল পাওয়া সম্ভব। দারুচিনি ব্যবহার করার জন্য যে শাখাগুলি কাটা হবে সেগুলি থেকে বাকল তুলে নিতে হবে, বাকলগুলি ব্যবহার করার আগে জলে ভালোভাবে ভিজিয়ে নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

রজনীগন্ধা চাষের পলিথিন ব্যাবহারে ব্যাপক লাভ

রজনীগন্ধা চাষে উৎপাদিত ফসল ৫০-৬০% বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং ৩০% জল ও সারের খরচ কমানো যেতে পারে | সাধারণত, রজনীগন্ধা চাষে কৃষকবন্ধুদের বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় | যার মধ্যে আগাছা দমন এক গুরুতর সমস্যা | এই সমস্যা সমাধানে চাষীভাইদের প্রায় দিশেহারা অবস্থা হতে হয় | তাই অনেকেই দ্বিধায় থাকেন আগামীদিনে এর চাষ আদৌ করবেন কি না | কারণ রজনীগন্ধা ফুলগাছটি হল একধরনের একবীজপত্রী ঘাসের মতো এবং এর মধ্যে অন্যান্য ঘাস জন্মালে তা দমন করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে |

 তাছাড়া বর্তমান দিনে মাঠে কাজ করার মজুরের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য নিড়ানি দিয়ে ঘাস মারা খুব ব্যায়বহুল এবং এখানে দেখা যাচ্ছে মোট চাষের খরচের প্রায় ৪০% আগাছা দমনের জন্যই খরচ হচ্ছে  | আর সবসময় দিনমজুর পাওয়াও যায় না, যাঁর ফলে গাছের ফলন ভীষণভাবে কমে যাচ্ছে। তাই, রজনীগন্ধা চাষে পলিথিনের ব্যবহার (Polythene Technique) করে কিভাবে এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়, নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো;

পলিথিন পদ্ধতি ও তার উপকারীতা(How to use Polythene):

রজনী গন্ধা মাঠে আগাছা দমনের ওষুধ প্রয়োগ করা যায় না। চাষীভাইদের এই বিস্তর সমস্যার কথা মাথায় রেখে বিগত কয়েকবছর ধরে বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (Bidhan Chandra Krishi Viswavidyalaya) গবেষণা চালাচ্ছে | ফলস্বরূপ, পলিথিন ব্যবহারের কথা তার জানিয়েছেন | এই পলিথিন ব্যাবহার করে রজনীগন্ধা চাষে উৎপাদিত ফসল ৫০-৬০% বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং ৩০% জল ও সারের খরচ কমানো যেতে পারে | শুধু তাই নয় প্রায় ৪০% আগাছা দমনের খরচও কমানো যেতে পারে (১০,০০০ প্রতি বিঘাতে পলিমাচিং করে)।

মাঘ মাসে মাটিকে চষে প্রথমে চষে নিতে হবে | এরপর ১.২ মিটার চওড়া ও ৬ ইঞ্চি উঁচু বেড বানাতে হবে এবং ওই বেডগুলিকে ভাল করে সমতল করার পর ৪০ গেজের কালো পলিথিন দিয়ে মুড়ে ফেলতে হবে। এরপর ২ ইঞ্চি ব্যসের প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে পলিথিনের উপর চাপ দিয়ে ছেঁদা করতে হবে  | এমনভাবে করতে হবে যে, গাছ থেকে গাছ ও লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব যথাক্রমে ২০ ও ৩০ সেন্টিমিটার থাকে।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

চাপান সার হিসাবে ১০-২৬-২৬ ১০ কেজি + ইউরিয়া ১০ কেজি + সরষের খোল ১০ কেজি + ট্রাসেল-২ ১ কেজি প্রতি বিঘাতে প্রতি ১ মাস অন্তর ২ টি বেডের মাঝখানে প্রয়োগ করে ভাসিয়ে জল দিতে হবে। শীতকালে এই চাপান সারটি দেখেশুনে প্রয়োগ করতে হবে গাছের বৃদ্ধির উপর নজর রেখে।

এই পদ্ধতি অবলম্বনে চাষীভাইদের সমস্যা অনেকাংশে কম হবে | মূলত, তারা চাষের খরচ অনেকটাই কমিয়ে লাভের মুখ দেখতে পাবেন |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

শতবর্ষী তেজপাতা গাছ চাষের সহজতম উপায়

রান্নায় তেজপাতা না হলে রান্না যেন ঠিক জমে না।মাংস অথবা ঘুঘনি– তেজপাতার ব্যবহারে এই পদগুলির স্বাদই যায় খুলে। ওষধি হিসাবেও তেজপাতার বহুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। মুখের অরুচি দূর করা থেকে শুরু করে, মাড়ির ক্ষত সারাতে এবং চর্মরোগ নিবারণেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রসাধনী দ্রব্য বানাতেও তেজপাতার গুরুত্ব অপরিসীম। তেজপাতা গাছের বাকল থেকে সুগন্ধি তেল ও সাবানও তৈরি হয়। বহু কৃষক অধিক লাভের আশায় বর্তমানে তেজপাতার চাষ করছেন। বাজারে প্রচুর পরিমানে তেজপাতার চাহিদা থাকায়, এই চাষে লাভ বৈকি ক্ষতি হয় না। অল্প বিনিয়োগে প্রচুর টাকা আয় করা যায় বলে তেজপাতা চাষে কৃষকরা বহুল পরিমানে আয় করছেন।

জলবায়ু (Climate)

বেলে দো-আঁশ মাটি তেজপাতা চাষের পক্ষে আদর্শ। তেজপাতার যেখানে চাষ হবে সেই জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে। বেলে দোআঁশ ছাড়াও প্রায় সবধরনের মাটিতেই তেজপাতার চাষ করা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যবর্তী সময় তেজপাতা চাষের জন্য আদর্শ।

চারা রোপন (Planting)

জমিতে মাদা করে চারা রোপন করা উচিত। জমিতে যখন ছায়া অবস্থান করবে সেইসময় তেজপাতার চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। চারা রোপন সবসময় সোজা ভাবে করা উচিত। চারা যদি মারা যায় তাহলে সেই চারা সরিয়ে নতুন করে চারা লাগানো উচিত। মূলত বীজ থেকে তেজপাতার চারা তৈরী হয়। তেজপাতার চারা লাগানোর পর সেই অঞ্চলে ছায়ার ব্যবস্থা করা উচিত। প্রয়োজন হলে সেখানে বড় গাছ লাগানো উচিত। জমিতে জল সেচ চারা লাগানোর পর অবশ্য কর্তব্য।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

জমিতে উপযুক্ত পরিমানে সার প্রয়োগ হলে তেজপাতার ফলনও স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। জমিতে ৫০ কেজি গোবর সার, ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম, টিএসপি ১৫০ গ্রাম, এমওপি ১৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও চারা যখন পোঁতা হবে সেই সময় প্রত্যেকটা মাদায় ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০ গ্রাম ছাই দেওয়া উচিত।

সেচ (Irrigation)

শুখা মরসুমে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমানে জল সেচ দিতে হবে। জলের অভাবে যাতে গাছ না মারা যায় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জল নিকাশের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাখা উচিত।

আগাছা দমন (Weed management)

তেজপাতার জমিতে আগাছা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে দিতে হবে। আগাছা গাছের পুষ্টি নষ্ট করে দিতে পারে, তারজন্যই আগাছা দেখা দিলে এই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও তেজপাতা গাছ ৮ থেকে ৯ বছর হলে তা কেটে ফেলা উচিত।

রোগ নিয়ন্ত্রণ (Disease Control)

এই গাছের মূলত পাতা পোড়া এবং পাতায় গল রোগ দেখা যায়। ছত্রাকের কারণে এই পাতা পোড়া রোগ হয়ে থাকে তেজপাতা গাছের। কচি পাতায় প্রধানত এই রজার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তেজপাতায় এই রোগ দেখা দিলে, জলে টিল্ট মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের একমাত্র পন্থা জৈব কৃষিকাজ

বর্তমান আধুনিক যুগে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে তেমন বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা | এই ব্যাপক চাহিদাপূরণের জোগান বাড়াতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে | কার্বাইডে পাকানো ফল, হাইব্রিড শাক-সব্জি, ব্রয়লার মুরগি ইত্যাদি | এই কোনো কিছুই আদতে আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয় | অতিরিক্ত ফলন বাড়াতে দিনের পর দিন ক্ষতিকর পেস্টিসাইডসের বহুল ব্যবহার বাড়ছে। ফলত, খাবারের এই কৃত্রিমতায় পুষ্টিগুণ কমছে  যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর| তাই, কৃষিকাজে আবারও অগ্রগতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে জৈব কৃষি বা অর্গ্যানিক ফার্মিং | এই জৈবিক কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকবন্ধুদের মধ্যে |

জৈব কৃষিকাজ কি (What is Organic Farming)?

কোনও রকম কৃত্রিম ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব পন্থা অবলম্বন করে চাষবাস, ফলনই হল অর্গ্যানিক ফার্মিং। রোজকার আনাজপাতি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ সবই উৎপাদিত হতে পারে অর্গ্যানিক উপায়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা অর্গ্যানিক উপায়ে চাষ করা ফল, আনাজ, হার্ব, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু ইত্যাদির।

যেহেতু কোনও রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার নেই,  তাই  সার বানাতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ের ভিত কিন্তু সারের উপরেই। ফার্মের পশু-পাখির বিষ্ঠা শুকিয়ে তা দিয়েই মূলত তৈরি হয় জৈব সার। এ ছাড়াও কচুরিপানা খুব ভাল সারের কাজ করে। তাই গাছের গোড়ায় কচুরিপানাও দেওয়া হয়ে থাকে। মাটি ছাড়া শুধু কচুরিপানা জমিয়েও তাতে করে ফেলা যায় পেঁপে গাছ। এই জৈব সারই হলো গাছের ফলন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি | মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কেঁচোকেও। গাছের গোড়ায় যাতে অক্সিজেন পৌঁছায়, তার জন্য খুরপি দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো নিজেই এই কাজটা করে দেয়। গাছে পোকা লাগলেও নষ্ট হয় আনাজপাতি। অর্গ্যানিকে কিন্তু পেস্টিসাইড চলবে না। তাই ব্যবহার করা হয় নিম তেল। গোমূত্রও ব্যবহার করা হয় কীটনাশক হিসেবে। ফলে পোকাও ধ্বংস হয়, আবার ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই |

জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি (Types of Organic Farming):

এই জৈব কৃষির পন্থাকে কাজে লাগিয়ে শাক-সব্জি, আনাজ, মাছ, মাংস প্রায় সব উৎপাদিত হয় | যেমন,

শাক (Herbs):

কুলেখাড়া,ধনে, নটে, লাল নটে, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, কালমেঘ, পুদিনাও চাষ করা যেতে পারে এই উপায়ে। একসঙ্গে একাধিক হার্ব চাষ করা হয় সারি হিসেবে। এতে হার্ব তুলতে সুবিধে হয়। ব্রাহ্মী, কুলেখাড়া চাষ করা যায় জলেই। প্রথমে ছোট পাত্রে এবং পরে গাছ বড় হলে তা তুলে বড় পাত্রে রাখা হয়। এই গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ভেষজ ঔষধ |

সব্জি (Vegetables):

একই জমিতে বছরে ২ বার, তিন বার ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ধান তোলা হয়ে গেলে সেই জমিতেই চাষ হয় তৈলবীজ যেমন সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল ইত্যাদি। আবার সরষে তোলার পরে ও ধান গাছ লাগানোর আগে করা হয় তিল চাষ। বাঁধাকপি, ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে জায়গা বেশি লাগে। কারণ প্রত্যেকটি চারা বা বীজের মাঝে ব্যবধান হবে এক হাত। আবার মুলোর সঙ্গে চাষ করা হয় লাল নটে শাক। মাটিতে চাষের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান বাড়ে। কুমড়ো, পেঁপে, লাউ, বেগুনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে আনাজ বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত, জৈবিক উপায়ে ফলনের বৃদ্ধি হতে একটু দেরি হওয়ায় ধৈর্য রাখতে হবে, তবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপন্ন হয় |

পোল্ট্রি (Poultry):

কোয়েল, মুরগি থেকে শুরু করে গরু প্রতিপালনও করা যায় এখানে। মুরগি ২ টি ভাগে প্রতিপালন করা হয়। একটি ডিমের জন্য, অন্যটি মাংসের জন্য। কোয়েলের ক্ষেত্রেও তাই। অর্গ্যানিক দুধের চাহিদা প্রচুর। আবার গরুর দুধ থেকে ঘি, মাখন যেমন তৈরি করা যায়, তেমনই গোবর ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরি করতে এবং গোমূত্র কীটনাশক হিসেবে।

মাছ (Fish farming):

পুকুরেই চাষ করা হয় তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কই ইত্যাদি মাছ। পানাও ছড়িয়ে থাকে পুকুরের উপরে যাতে তারা খাবার পায়। অন্য দিকে আলাদা পুকুরে চাষ করা হয় চিংড়ির। জিওল মাছ বা বড় মাছ ধরা হয় বেড় জালে।

জৈব কৃষিকাজে বর্জ্যের ব্যবহার (Waste management):

অর্গ্যানিক চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বর্জ্যের ব্যবহার। জৈব বর্জ্য সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যায়। ফলে তা দিয়ে সার তৈরিও সহজ। কিন্তু শহরাঞ্চলে বর্জ্যের অনেকটাই প্লাস্টিক, সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরুরি। এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক দিন বর্জ্য সংগ্রহ করে। তার পরে তা থেকে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক বর্জ্য পৃথক করা হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা করে তা হস্তশিল্পের কাজে লাগানো হয়। অন্য দিকে কিচেন ওয়েস্ট অর্থাৎ আনাজপাতির খোসা, মাংসের ছাঁট ইত্যাদি পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সার তৈরি করা হয়। আবার, এই সার চলে যায় বিভিন্ন অর্গ্যানিক ফার্মে।

বাড়িতে কিভাবে জৈবিক উপায়ে চাষ করা যায় (Organic farming at home):

বাড়িতেই খুব সময় উপায়ে অর্গ্যানিক চাষ করে সব্জি উৎপাদন  (Organic vegetables cultivation) করতে পারেন | এই চাষের জন্য স্বল্প জায়গা ও জলের ব্যবহার প্রয়োজন। বড় ড্রামের গায়ে সমান ব্যবধানে চৌকো করে চিরে নিন। প্রত্যেকটি চেরা জায়গায় একটি করে চারা লাগান। একটি ড্রামেই জন্মাবে একাধিক গাছ। আবার, উল্লম্ব ভাবে একের পর এক ট্রে বা টবে চাষ করতে পারেন থানকুনি, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা | বাড়ির বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। ফলে, আপনার বাড়ির বর্জ্য নষ্ট হবেনা আবার সব্জিও উৎপাদন হবে |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন তৈল উৎপাদনকারী সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি

সূর্যমুখী ফুলের নিষ্কাশিত তেল পুষ্টিগুণে ভরপুর। বহু চাষিভাই সূর্যমুখী চাষ করে উপকার পেয়েছেন। এই ফুলের চাষ করার পদ্ধতি যেমন সহজ, তেমনই এই ফুলের চাষের থেকে অর্থকরী লাভও কম নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এর বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়া তেল ভোজ্য তেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এর চাষ লক্ষ্য করা যায়। 

সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি (Farming Procedure)

সূর্যমুখীর চাষ মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর অর্থাৎ অগ্রহায়ণ মাসেই করাই ভালো। এর ফলে অধিক ফলনের লাভ থাকে। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে মাসও এই চাষের উপযুক্ত সময়। 

সূর্যমুখী বীজ বপন পদ্ধতি (Planting)

এই চাষের আদর্শ নিয়ম সারি করে সূর্যমুখীর বীজ বোনা। একটা সারি থেকে  আরেকটা সারির দূরত্ব কমপক্ষে ৫০ সেমি হওয়া উচিত। প্রতি সারিতে গাছের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখলে ভালো। এই নিয়মানুযায়ী বীজ পোঁতা হলে প্রতি হেক্টর ৮-১০ কেজি বীজের দরকার পড়বে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি এমপি ১২০-১৫০ কেজি,

হেক্টর প্রতি জিপসাম ১২০-১৭০,

হেক্টর প্রতি জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি,

হেক্টর প্রতি বরিক এসিড ১০-১২ কেজি,

হেক্টর প্রতি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি

অর্ধেক ইউরিয়া সার এবং বাদবাকি অন্যসব সার শেষবার চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে ভালো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। বাদবাকি যে ইউরিয়া পড়ে রয়েছে তা দুই ভাগে, চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পরে, বাকিটা  ৪০-৪৫ দিন পর অথবা ফুল ফোটার আগে ব্যবহার করতে হবে। 

রোগবালাই  প্রতিকার (Disease Control)

সূর্যমুখী চাষে পাতা ঝলসানো রোগটি ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে প্রথমে সূর্যমুখীর পাতায় গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে। পরে ওই দাগ বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে পাতা পুরোপুরি ঝলসে যায়।

শিকড় পচা রোগ সূর্যমুখী চাষের আরও এক অন্তরায়। স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। এর ফলে  গাছের গোড়া আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দিকে গাছ নেতিয়ে পড়ে এবং কিছুদিনের মধ্যে সব গাছ শুকিয়ে মারা যায়।

তাই এই রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোভরাল-৫০ ডবি্লউ পি (২%) জলে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে স্প্রে করলে এই রোগ মুক্ত হয়। ফসল কেটে নেওয়ার পর গাছের পড়ে থাকা অংশ পুড়িয়ে ফেললে এই রোগ চলে যায়। 

প্রতিকার

ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে মাঠ শোধন করলে এই রোগের বিস্তার আটকানো যায়।  জমিতে জল থাকলে এই জাতীয় ছত্রাক বেঁচে থাকতে পারে না। রোগ আক্রমণ করলে জমিতে প্লাবন সেচ দিলে এই প্রকোপ কমে।

বীজ সংগ্রহের নিয়ম (Harvest)

বীজ পোঁতার থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ৯০-১১০ দিনের মাথায় সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আদর্শ সময়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com