আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
নূর মোহাম্মদের নতুন ধান
স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ।

• বরেন্দ্রভূমিতে খরায় নষ্ট হয় ধান
• ধানরক্ষা করতে কাজে লেগেছেন তিনি
• সংকরায়ন করে একের পর এক নতুন ধান উদ্ভাবন
• মাটির ঘরটাকে বানিয়েছেন গবেষণাগার

শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদ নেই, তবে আছে ধান নিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন। সংকরায়ণ করে একের পর এক নতুন ধান উদ্ভাবন করছেন তিনি। স্বশিক্ষিত এই বিজ্ঞানীর কাজ আমলে নিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরাও। ধানগুলো জাত হিসেবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিজ্ঞানীর নাম নূর মোহাম্মদ। বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বরেন্দ্রভূমিতে প্রায় প্রতিবছরই খরায় নষ্ট হয়ে যায় ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই কাজে লেগে যান তিনি। নিজের মাটির ঘরটাকে বানিয়ে ফেলেন গবেষণাগার। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হেলাল উদ্দিনের সাহচর্য পান নূর মোহাম্মদ। সেখানে হাতে-কলমে শেখেন অনেক কিছু।

এ পর্যন্ত সংকরায়ণের পর নূর মোহাম্মদের কৌলিক সারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০। সর্বশেষ তিনি একটি নতুন সারি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর দাবি, দেশে প্রচলিত বোরো ধান বপন থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত ১৪০ দিন লাগে। তাঁর উদ্ভাবিত এই ধান বোরো মৌসুমে বপন থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে কাটা যাবে। তিনি খরাসহিষ্ণু এই ধানের সারির নাম দিয়েছিলেন এনএমকেপি-৫। এনএমকেপির অর্থ হচ্ছে ‘নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা’। প্রথম দিকে তিনি এনএমটি অর্থাৎ নূর মোহাম্মদ তানোর নামে ধানের নামকরণ করতেন।

এনএমকেপি-৫-এর বিঘাপ্রতি ফলন ২৫ মণ। এই ধানের বিশেষত্ব হচ্ছে, পাকার পরও পাতা সবুজ থাকে। গাছ মজবুত। খরাসহিষ্ণু। পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম। এটি রোপা আমন মৌসুমেও হয়। তখন জীবনকাল হয় ১১০ থেকে ১১৫ দিন। এ ধান বোরো মৌসুমে ২৫ মণ ও আমন মৌসুমে ১৮ মণ পর্যন্ত হয়। এই জাতের ধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর আগেই ঘরে তোলা যাবে। সাধারণত শেষের দিকে সেচের খরচ বেড়ে যায়। পাম্পেও পানি কম মেলে। প্রথম দিকের চেয়ে পানির পরিমাণও বেশি লাগে। ১০ দিন আগে ওঠার কারণে সেচের খরচ কম হবে। আগাম ওঠার কারণে ভালো বাজার মিলবে। চাল চিকন। ভাত খেতে ভালো।

নূর মোহাম্মদ তাঁর যে পাঁচটি জাত স্বীকৃতি পাওয়ার মতো বলে মনে করেন, সেগুলো হচ্ছে এনএমকেপি-১ থেকে এনএমকেপি-৫ পর্যন্ত। তিনি দেশের প্রচলিত ধানের জাতকে উজ্জীবিত করে তার জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। কোনোটির ফলন বাড়িয়েছেন। খরাসহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবন করেছেন। এ ছাড়া আমন মৌসুমের জন্যও তিনি খরাসহিষ্ণু ও স্বল্প জীবনকালের আরও দুই জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এর একটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-৫ ও অপরটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০১। বীজতলায় ফেলা থেকে শুরু করে আমন ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যায়। তবে তিনি জানান, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটও এই জাতের আমন উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু তাঁরটা সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী করে এই ধান উদ্ভাবন করেছেন। এই ধান ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত বৃষ্টি না পেলেও খরা মোকাবিলা করে ভালো ফলন দিতে সক্ষম। এর ফলন বিঘায় ২০ থেকে ২১ মণ।

এবার তিনি সবচেয়ে স্বল্প জীবনকালের খরাসহিষ্ণু বোরো ধান উদ্ভাবন করেছেন বলে দাবি করেছেন। এই ধানের নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০৩। সুগন্ধি এ ধান আমন মৌসুমেও হয়। কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের জন্য নূর মোহাম্মদ ২০০৫ সালে পান রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক। সেরা কৃষি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮ পেয়েছেন এই কৃষিবিজ্ঞানী।

পরিবেশ

পেঁয়াজেও পারব

ভাও বুঝতে পারাটাই সফলতার প্রথম কথা। ভুসিমালের ব্যবসা থেকে রাজনীতি কিংবা উড়োজাহাজ নির্মাণ—সবকিছুতেই ভাও বুঝতে হয়। ভাও বুঝে পা ফেলতে হয়, বিনিয়োগ করা না–করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটা একরকমের ঘ্রাণশক্তি। কেউ নাকের কাছে নিয়েও ঘ্রাণ পায় না, কেউ দূর থেকেও পেয়ে যায়। আমাদের আমদানিকারকেরা ভাও বোঝেন না, ঘ্রাণশক্তি কম, সেটা কেউই কবুল করবেন না। তারপরও তাঁরা বলে বেড়াচ্ছেন, ভারত যে পেঁয়াজ রপ্তানি আটকে দেবে, সেটা তাঁরা আগে থেকে কোনো ধারণা করতে পারেননি। নাকি আচ্ছামতো মজুত করে এখন নাকে কাঁদছে? চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কথায় অন্তত সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, রাতারাতি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শিগগিরই অভিযানে নামবেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ পেঁয়াজ ল্যাং খেয়েছিল। তার সব কটি কার্যকরণ এবার দৃশ্যমান। তারপরও কেউ যদি বলেন টের পাননি, তাহলে হয় তিনি বোকা অথবা অন্যদের তিনি বোকা বানাচ্ছেন। বিজনেস ইন্টেলিজেন্সের সব শাখার রিডিং ছিল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।গত বছর ভারতের মহারাষ্ট্রের নির্বাচন সামনে রেখে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এবার বিহার নির্বাচন। সেবারও কেন্দ্রের সরকার চায়নি পেঁয়াজের দামে দম আটকে যাক। তাই পেঁয়াজের দামের লাগাম টেনে ধরতে গতবার রপ্তানির দরজা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার বর্ষার পর দশেরার পালা চুকলেই বন্যাবিধ্বস্ত বিহারে নির্বাচন। সেখানে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কোনো অসন্তোষ তৈরি হোক, সেটাও কেন্দ্রীয় সরকার চায় না। তাই কোনো ঝুঁকি নেয়নি। এতে কাছের প্রতিবেশী রাগ করবে না গোস্যা হবে, সেটা নিয়ে তাদের চর্চার সময় নেই।ভারতের রাজনীতিতে পেঁয়াজের যে কী কদর, তা সবার জানা। পেঁয়াজের বাড়তি দামের জের ধরে অতীতে সরকার পতনের মতো ঘটনাও ঘটেছে সে দেশে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে এ বছর প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। গতবার পেঁয়াজচর্চার সময় কৃষিমন্ত্রী বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন আগে যেখানে প্রতি হেক্টরে ১০-১১ টন হতো, সেটা এবার হবে ১৮-১৯ টন। তবে তিনি কিছু ‘কিন্তু’, ‘যদি’ যোগ করে বলেছিলেন, ‘সবার কাছে নতুন বীজ পৌঁছালে’ সেটা সম্ভব। নতুন বীজ পৌঁছাক না পৌঁছাক এবার কৃষক অনেক জায়গায় অন্য ফসল বাদ দিয়ে পেঁয়াজ লাগিয়েছিলেন। বাড়তি জমি, ভালো বীজ সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে এবার উৎপাদন বেড়েছিল। কিন্তু ন্যায্যমূল্য পায়নি। মার্চে পাবনার পেঁয়াজচাষি হারুনদের সরল হিসাবে (যার মধ্যে ব্যক্তিগত আর পারিবারিক খাটাখাটনির কোনো হিসাব ধরা হয় না) এক বিঘা পেঁয়াজ লাগাতে খরচ পড়েছিল ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মাঠপর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ পড়ে অন্তত ৩০ টাকা। পাবনার কাশীনাথপুরের হাটে প্রতি কেজি দাম পেয়েছিল ৩৫–৩৭ টাকা। কৃষকের যদি কেজিপ্রতি ১০–১২ টাকা না থাকে তাহলে তিনি কেন আবার পেঁয়াজ করবেন। সে সময় কৃষিমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল ‘এ রকম দাম থাকলেও কৃষকের লাভ থাকবে।’ এটা ছিল মার্চের প্রথম সপ্তাহের কথা। (আগস্টের আগে পেঁয়াজ আমদানি নয়, ১৩ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো)। সে সময় কৃষকদের আবেদন ছিল পেঁয়াজ যেন আমদানি করা না হয়। কৃষিমন্ত্রী সে সময় দেশের খ্যাতিমান কৃষি বিশেষজ্ঞ, কৃষিবিদদের আহ্বান মেনে নিয়ে আমদানি আপাতত বন্ধ রাখার পক্ষে ছিলেন। কৃষিবিদেরা বলেছিলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিষয় মাথায় রেখে আপাতত পেঁয়াজ আমদানির বিষয় মাথা থেকে বাদ দিতে হবে। আর আমদানি যদি করতেই হয়, তাহলে আগস্টের পরে।’

আগস্টের আগে পেঁয়াজ আমদানি না হলে কী হতো

বাংলাদেশের পেঁয়াজচাষিরা কেজিপ্রতি ১০–১২ টাকা করে পেতেন। তাঁরা পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত হতেন। পেঁয়াজকে অন্য আরও পাঁচটা ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জমি পেতে হয়। বেশি পেঁয়াজ মানে কম আলু চাষ, কম ডাল চাষ, কোথাও কম ভুট্টা চাষ।

সবচেয়ে বেশি লাভ হতো ভারতের পেঁয়াজ কিনে খাওয়া আমজনতার। বাংলাদেশ ভারতের পেঁয়াজের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় ও রপ্তানি কম হওয়ায় দাম নাগালের মধ্যেই থাকত। জুলাই–আগস্টের ঝড়বৃষ্টিতে কিছুটা দাম বাড়লেও আকাশ ছুঁত না। ভোট ব্যাংকের চিন্তায় দিল্লিকে রপ্তানি লক করতে হতো না।

আমরা কী করতে পারি

দেশে কমবেশি যে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, তার একটা বড় অংশ নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায়। যাঁরা রেখেঢেকে কথা বলেন তাঁদের হিসাব অনুযায়ী নষ্টের পরিমাণ ৫ লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান মনে করেন, নষ্টের পরিমাণ ৬ লাখ টনের কম নয়। কিছু নষ্ট হয় চাষির হাতে। তবে অনেকটায় নষ্ট হয় কারবারি আড়তদারদের হাতে। এটা আমরা রক্ষা করতে পারলে আমাদের আমদানির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।

আরেকটা পথ হচ্ছে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো। যেহেতু পেঁয়াজকে অন্যান্য রবিশস্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জায়গা বের করে নিতে হয়, তাই মৌসুম বদলের কৌশলে যেতে হবে। মেহেরপুরের কৃষকেরা ইতিমধ্যেই সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। আউশ ধান কাটার পরপর তাঁরা ‘সুখসাগর’ নামের নতুন এক জাতের পেঁয়াজের আবাদ করছেন। এটাকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের যেখানে যেখানে আউশের আবাদ আছে, সেখানেই এটা চাষ করা সম্ভব। ডিসেম্বরের শুরুতেই এই পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে।তাহেরপুরি পেঁয়াজের(আমাদের চাষের মূল পেঁয়াজ) পাশাপাশি বারি উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বারি পেঁয়াজ ৫ সম্প্রসারণে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে আক্ষেপ কমবে। মার্চে লাগিয়ে জুনের প্রথম সপ্তাহে বর্ষার আগেই এই পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায়। এসবের পাশাপাশি পেঁয়াজ গুদামজাত করা ও সংরক্ষণের সাশ্রয়ী প্রযুক্তির আশ্রয় আর গবেষণা বাড়াতে হবে।

সমাধান আমাদের হাতের মুঠোই আছে, দরকার শুধু সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের। যে সিদ্ধান্ত তৈরি হবে কৃষকের কথা, কৃষিবিদ আর কৃষিবিজ্ঞানীদের কথার আলোকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ভুট্টা চাষে বড় সাফল্য

  • পাঁচ বছর আগে ২০১৫–১৬ অর্থবছরে দেশে ভুট্টার উৎপাদন হয়েছিল ২৭ লাখ টন। গত ২০১৯–২০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
  • গত মৌসুমে বিশ্বে হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে বেশি ফলনের রেকর্ড তুরস্কের। দেশটিতে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ১১ টন ফলন হয়েছে। আর গত বছর বাংলাদেশে হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে পৌনে ১০ টন।

ভুট্টা চাষে কম সময়েই সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যান্য খাদ্যশস্যের চেয়ে কম পরিচর্যা ও কম সেচ খরচে ভালো ফলন হয় এবং দামও ভালো পাওয়া যায় বলে ভুট্টা চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ছে। মাত্র পাঁচ বছরে দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলনেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের গত আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মৌসুমে বিশ্বে হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে বেশি ফলনের রেকর্ড তুরস্কের। দেশটিতে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ১১ টন ফলন হয়েছে। এক বছর আগে তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবার হেক্টরপ্রতি সাড়ে ১০ টন ফলন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে গত বছর বাংলাদেশে হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে পৌনে ১০ টন। আবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০১৮–১৯ অর্থবছরে হেক্টরপ্রতি ফলন ছিল ৮ টনের কিছু বেশি। সরকারি দুই সংস্থার হিসাবে কিছুটা হেরফের থাকলেও ভুট্টার উৎপাদন যে বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। এতে ভুট্টার একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে। চাহিদা থাকায় চাষ বাড়ছে। ফলনেও সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে এ অঞ্চলে ভুট্টার সর্বোচ্চ ফলন হয় বাংলাদেশে।

ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে উৎপাদন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, পাঁচ বছর আগে ২০১৫–১৬ অর্থবছরে দেশে ভুট্টার উৎপাদন হয়েছিল ২৭ লাখ টন। গত ২০১৯–২০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগাম বন্যার কারণে এবার অনেক জায়গায় ভুট্টার আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরও উৎপাদন অর্ধকোটি টনের কাছাকাছি থাকবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল।

দেশে বর্তমানে সাড়ে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে। তবে ভুট্টা উৎপাদনের অর্ধেকই হয় রংপুর বিভাগে। উৎপাদনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ। জেলা হিসেবে দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটে ভুট্টার উৎপাদন বেশি।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালদিহি ইউনিয়নে এবার ২৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন আতাউর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে ভুট্টায় বিঘাপ্রতি খরচের সমান মুনাফা হয়েছে। এ কারণে ভুট্টার আবাদে ঝুঁকছেন তিনি। তবে এবার করোনার কারণে তাঁরা শুধু খরচের টাকা তুলতে বা কম মুনাফা করতে পেরেছেন।

দেশে গ্রীষ্ম ও শীত—এ দুই মৌসুমে ভুট্টা চাষ হয়। তবে মোট উৎপাদনের ৮৭ শতাংশই হয় শীত মৌসুমে। এলাকাভেদে ফলন ওঠে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত। দেশীয় ফলনের সময় আমদানির দরকার হয় না। এ কারণে দেশে ভুট্টার আমদানি দিন দিন কমছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৭–১৮ অর্থবছরে ১৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছরে তা কমে ১৪ লাখ টনে নেমেছে।

বাজার বড় হচ্ছে

প্রাণিখাদ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, দেশে প্রাণিখাদ্যের বাজার বছরে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মাছ, গবাদিপশু ও হাঁস–মুরগির উৎপাদন বাড়ায় ভুট্টার চাহিদাও বাড়ছে। প্রাণিখাদ্য তৈরির বড় অংশই ভুট্টা থেকে আসে। এর মধ্যে মুরগির খাদ্য তৈরিতে ৫৫ শতাংশ ভুট্টার দরকার হয়। এ হার গবাদিপশুর খাদ্যে ৩০ শতাংশ এবং মাছের ক্ষেত্রে ১২–১৫ শতাংশ। এ তিন খাতে বছরে ৪৫ লাখ টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এদিকে মানুষের খাওয়ার উপযোগী মিষ্টি ভুট্টার চাহিদাও বাড়ছে।

প্রাণিখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে দেশে ভুট্টার বাজারের আকার প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশে ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার। আর আমদানি হয় (গত অর্থবছর) আড়াই হাজার কোটি টাকার ভুট্টা।

রপ্তানির সম্ভাবনা

চট্টগ্রামের গ্রিনগ্রেইন গ্রুপের কর্ণধার শাকিল আহমেদ প্রায় এক যুগ আগে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইয়েমেনে ভুট্টার তিনটি চালান পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধিতায় রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তিনি আর ভুট্টা রপ্তানি করতে পারেননি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে নেপালে ১ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১৪৬ কোটি টাকার ভুট্টা রপ্তানি হয়েছে। এ সম্পর্কে রপ্তানিকারক শাকিল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, ভুট্টা রপ্তানির জন্য আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং কৌশলসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। এগুলো করা হলে বৈশ্বিক বাজারে ভুট্টা রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদেই জমি, ছাদেই চাষ, ছাদচাষিদের বারো মাস

শাহিনুর আক্তার বাজারের লেবু কিনে খান না। তাঁর লেবুগাছটি ফলের ভারে নুয়ে পড়ছে। এ বছর পেয়ারা কিনতে হয়নি তাঁকে। পেঁপেগাছটির প্রায় সারা শরীর আঁকড়ে ফল ধরেছে।

ঢাকায় মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শাহিনুরের ২ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ছাদটি এখন ছোটখাটো খেত অথবা বলতে পারেন নয়া জমানার শূন্যোদ্যান। মৌসুমি ফল, শাকসবজি হয়। ফোটে নানান জাতের দেশি ফুল আর বিদেশি অর্কিড।

সুজলা–সুফলা ছাদ ঘুরে দেখিয়ে কৃষক শাহিনুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে বড় হয়েছি। ছোট থেকেই গাছের প্রতি টান ছিল। আমার সঙ্গে গাছ থাকতেই হবে। গাছের সঙ্গে আমার সময় ভালো কাটে।’

শাহিনুরের খেতে ৩০ প্রজাতিরও বেশি গাছ রয়েছে। চালকুমড়া, বেগুন, পুঁইশাক, লাউ, ধুন্দল ও পেঁপে নিয়মিত হয়। আছে লেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আম, ড্রাগন ফল, সফেদা, মাল্টা, করমচা, জামরুল। বছরে পাঁচ কেজি জামরুল ধরে তাঁর গাছে।

রাজধানীতে জমি নেই, কিন্তু ছাদ আছে লাখ লাখ। উদ্যানবিদ ও কৃষিবিদেরা বলছেন, এখানে ছাদকৃষির সম্ভাবনা অনেক। টাটকা শাকসবজি-ফল, শোভা আর নির্মল বাতাসের লোভে এতে মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।

করোনাকালে আগ্রহটা বেড়েছে। পরিবেশবান্ধব সংগঠন গ্রিন সেভার্স ছাদকৃষি ও বাগানের বিকাশে কাজ করে। এ সময় সংগঠনটির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় ছাদে আবাদের বিষয়ে প্রশ্ন আসা বেড়েছে। অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাগানবাড়িও চাহিদা বাড়ার হিসাব দিচ্ছে।

শাহিনুর যে ভবনে থাকেন, সেটির আরও দুটি ফ্ল্যাটের মালিক এখন ছাদে বাগান করছেন। পাশের ছাদটি সবুজ হয়েছে গত ছয় মাসে। চারদিকে তাকিয়ে আশপাশের অন্য ছাদগুলোতেও প্রচুর গাছ দেখা যায়।

রাজধানীতে অবশ্য পাঁচ-ছয় বছর ধরেই ছাদকৃষির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সরকারি হিসাবে গত বছর পর্যন্ত নগরে আবাদি ছাদের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৭৫। আর হাল নাগাদ গ্রিন সেভার্স ৬ হাজারের বেশি ছাদকৃষির সঙ্গে কাজ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘নগর কৃষি উৎপাদন সহায়ক’ একটি দিশারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হবে।

প্রকল্পের পরিচালক তাহেরুল ইসলাম বললেন, আগ্রহী নাগরিকেরা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তা নিতে পারেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পরিবেশকে ভালো রাখা দরকার এবং নগর কৃষি নিয়ে সরকার ভাবছে।’

ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ছাদকৃষিসহ গাছের বিষয়ে নানান পরামর্শ দিয়ে থাকে গ্রিন সেভার্স। সংগঠনটির গাছের ডাক্তার, ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক এবং গাছের হাসপাতালও আছে। এ সংগঠন কাজ শুরু করেছিল ২০০৯-১০ সালে।

প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৩–১৪ সাল থেকে মানুষের মধ্যে ছাদবাগানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ছাদকৃষি এখন মানুষের আড্ডারও বিষয়।’ ফেসবুকে বেশ কিছু গ্রুপ গড়ে উঠেছে। সদস্যরা নিজেদের বাগানের ছবি তুলে শেয়ার করেন। অন্যকে উৎসাহিত করেন।

কোভিডের কালে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে গত জুলাই মাসে ছাদকৃষি শুরু করেছেন ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহসিনা হক। বাড়িটি তাঁর নিজের। ছাদে লেবু, আম, মাল্টা, ডুমুর, আমড়া, পেয়ারা ও কমলা লাগিয়েছেন। চিচিঙ্গা, লাউ, পুঁইশাক, করলাসহ সবজি ফলে। আছে নানান জাতের ফুল।

মোহসিনা ও তাঁর স্বামী চিকিৎসক খন্দকার হামিদুল হক কৃষি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। মাটি, আটটি টব, আটটি ড্রাম, কিছু সার এবং গাছ বাড়িতে পৌঁছে যায়। একজন কৃষি কর্মকর্তা এসে তদারকি করে যান। মাঝেমধ্যেই ফোন করে খোঁজখবর নেন।

মোহসিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে বাসায় থাকতে থাকতে বোর হয়ে যাচ্ছিলাম। তখন মনে হলো, বাগান করলে কেমন হয়? ছাদ তো আছেই।’

ছাদে আবাদ করতে গিয়ে পরিবারটি অনেক নতুন আনন্দের খোঁজ পেয়েছে। সবাই মিলে গাছের যত্ন নেন। বিকেলে চায়ের আড্ডা জমে ওঠে ছাদে।

বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে মাটি, সার, গাছ, টবসহ ছাদে বাগান আর কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে। দুই বছর বয়সী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন প্রথম আলোকে বলছেন, করোনাকালে বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে। তিনি জানান, এযাবৎ তাঁরা ছাদে আবাদ, বারান্দায় বাগান, গাছ দিয়ে আঙিনা-ভবনের পরিবেশ সাজানোর মতো ৪৬৫টি কাজে সেবা জুগিয়েছেন। প্রায় অর্ধেকই ছিল ছাদকৃষি-সংক্রান্ত কাজ।

ছাদের সুরক্ষা?

মোহাম্মদপুরের যে বাসায় শাহিনুর আক্তার থাকেন, তাঁর মালিকানা তিনিসহ চারজনের। তিনি বাগান শুরু করেছিলেন ২০১২ সালে। দুই বছর হলো পুরোদমে তাঁর ছাদকৃষি চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তিনি নিজেই ছাদের দেখভাল করেন।

জালোওয়াশান আখতার খান বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া করা ফ্ল্যাটে থাকেন। বছরখানেক আগে ছাদে বেগুন, টমেটো, পুঁইশাক আর লাউ লাগিয়েছিলেন। কিছুদিন পর বাড়িওয়ালা বললেন, এসব করা যাবে না, ছাদ নষ্ট হবে।

জালোওয়াশান বাধ্য হয়ে সব গাছ বারান্দায় নামালেন। তারপর একবার ছাদে মাচা বেঁধে তাতে করলা, চালকুমড়া আর ধুন্দলের লতা তুলেছিলেন। বাড়িওয়ালা এসে সেগুলোও সরাতে বলেন। তৈরি গাছ বারান্দায় নিয়ে দড়িতে বাইয়েছিলেন জালোওয়াশান। বাঁচেনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলছেন, ছাদে পানি জমতে না দিলে চাষাবাদ বা বাগান ছাদের ক্ষতি করবে না। পানিনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর বৃষ্টিতে বা রোদে ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এমনিতেও সমস্যা হয় না।

এই স্থপতি বললেন, নব্বইয়ের দশকের পরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে। ছাদ নির্মাণে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। তা মানলে ছাদগুলো ছাদকৃষি বা বাগান করার উপযোগী মজবুত হয়।

গ্রিন সেভার্স যে ৬ হাজার গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করেছে, কেউ ছাদ নষ্ট হওয়ার কথা বলেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আহসান রনি বলেন, গাছ থাকলে বরং ছাদের উপকার হয়। সরাসরি সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি পড়ে না। আর টবের মাটির কারণে তেমন ভার পড়ে না।

কৃষি এবং ছাদে চাষাবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ। তিনি বলছেন, কেউ কেউ ডেঙ্গু মশা হওয়ার ভয় করেন। সেটা ভুল। অব্যবহৃত ছাদে বরং পানি জমে থাকে। খেত-বাগান থাকলে নিয়মিত নজরদারি আর পরিচ্ছন্নতার সুযোগ বাড়ে।

ছাদবাগান থেকে ছাদকৃষি

শাইখ সিরাজ বলছেন, ১৯৮০ সাল থেকে ছাদে কাজি পেয়ারার গাছ লাগানো দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তখন শহুরে মানুষ শখে ছাদে হয়তো ফুলগাছ লাগাত। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘তখন এটাকে ছাদবাগান বলতাম। এখন এটাকে ছাদকৃষি বলছি।’

মানুষ টাটকা এবং রাসায়নিকমুক্ত সবজি-ফল চায়। ছাদে লেবু-মরিচগাছ লাগানো শুরু হলো। বাগান হয়ে উঠল খেত। এখন সরকার আর সিটি করপোরেশন আগ্রহ দেখাচ্ছে। শাইখ সিরাজ বলেন, সরকার সহায়ক নীতি করে এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ছাদকৃষি-সংক্রান্ত প্রকল্পটির পরিচালক তাহেরুল ইসলাম বলছেন, ‘সবুজের সঙ্গে থাকলে মন ভালো থাকে।’ ছাদকৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিলেই হয়। ঢাকায় ১৪ লাখের মতো ছাদ আছে। এর কিছু অংশও কাজে লাগলে মানুষ ও পরিবেশ উপকৃত হবে।

নগরীর দুই সিটি করপোরেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রচারণা করছে, ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে। গত মাসে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এর একটি নীতিমালা করা হবে।

মেয়র আরও বলেছেন, পরিবেশ আর কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীদের নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। যাঁরা ছাদবাগান করবেন, তাঁদের এই কমিটি সনদ দেবে। দুই সিটি করপোরেশনে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কাজের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছাদকৃষি করবেন?

রাজধানীর অনেক রাস্তার ধারে গাছ লাগানোর কেজো আর শৌখিন পাত্র পাওয়া যায়। অনলাইনেও গাছ আর নানা ধরনের সরঞ্জাম প্রচুর বিক্রি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে নার্সারি।

আগারগাঁও এলাকায় শাহ আলমের অরণ্য নার্সারি। তিনি ২২ বছর ধরে এই ব্যবসায় আছেন। বললেন, ৫ থেকে ৭ বছর ধরে মানুষ ছাদবাগানের জন্য গাছে নিচ্ছে বেশি। তিনি নিজেও মৌসুমি সবজি আর বড় ড্রাম বা পাত্রে হওয়া ফলের গাছ বেশি রাখছেন।

ছাদকৃষক হওয়ার এখনই সময়! ছাদে সবজিটা ভালো হয়, দ্রুত ফলন হয়। মানুষ তাই সবজি চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কয়েক বছরেই ফলন হয়, এমন ফলের গাছ অনেক আছে। ছাদকৃষকের জন্য তা সুখবর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে এর ওয়েবসাইটে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনে অনুষ্ঠান আর বিভিন্ন ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

ছাদকৃষির জন্য গ্রিন সেভার্সের কিছু পরামর্শ আছে। পর্যাপ্ত রোদ পায়, এমন জায়গা বাছতে হবে। পানির সরবরাহ ভালো থাকা চাই।

টব বা ড্রাম মেঝে থেকে সামান্য উঁচুতে বসাতে হবে। ঘেঁষাঘেঁষি বসাবেন না। প্লাস্টিকের ড্রামে প্রচুর গ্যাস হয়। মোটা টিনের ড্রাম ভালো করে রং করে নিন। সবজি বুনবেন টুকরো খেত বা বেড তৈরি করে।

ফলসহ গাছ কিনবেন না। নার্সারিতে ফলন দেওয়া গাছের বয়স বেশি থাকে। বাড়িতে নিয়ে এলে বেশি দিন আর ফল দেবে না।

সচরাচর তিন বছর বয়স থেকে একটি গাছের ফলন ভালো হয়। ফল দেয় সাত থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত। সুতরাং একটু ছোট গাছ কিনুন।

গাছে বেশি পানি দেবেন না। পানির পরিমাণ এমন হবে, যেন ৩০ মিনিটের মধ্যে মাটি তা শুষে নিতে পারে।

মাটির যত্নে বিশেষ মনোযোগ চাই। দরকারমতো সার দিতে হবে। নিয়মিত নিড়ানি দিতে হবে। শিকড় পর্যন্ত খাবার পৌঁছাতে মাটি আলগা করে দিতে হয়।

পোকা বা রোগে আক্রান্ত পাতা বা ফল ফেলে দিতে হবে। তাহলে সেগুলো ছড়িয়ে পড়বে না। বিষ না দেওয়া ভালো।

মোহাম্মদপুরের ছাদচাষি শাহিনুর ইউটিউব, অনলাইন ঘেঁটে পরামর্শ নেন। তিনি বাজারের সার, কীটনাশক দেন না। সবজি, ফলের খোসা ও ডিমের খোলা থেকে সার তৈরি করেন। নিম, অ্যালোভেরা দিয়ে প্রতিষেধক বানান। প্রয়োজনে গ্রিন সেভার্স থেকে গাছের ডাক্তার ডাকেন।

ইট-কংক্রিটের এই ঘনবসতি শহরে গরম বাড়ছে। করোনা–বিরতির পর বাতাসের দূষণ লাফিয়ে ফিরে আসছে। ছাদে খেত থাকলে তার নিচের তলা অনেকটা শীতল থাকে। সবুজের ছায়া আর কিছুটা নির্মল বাতাস হয়।

এ ছাড়া ছাদে আবাদ থাকলে পাখি আসে, বললেন শাইখ সিরাজ। এই শহর থেকে পাখিরা হারিয়ে যাচ্ছে। ছাদগুলো সবুজ হলে তারাও হয়তো ফিরবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গমের ছত্রাক চিহ্নিত হবে ৩০ মিনিটে

  • গমে ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক আছে কি না, তা চিহ্নিত করার মতো প্রযুক্তি এত দিন ছিল না।
  • এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আগে ধান ও গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
  • প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করেছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিজ্ঞানীরা।

গমের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একদল বিজ্ঞানী। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গমগাছ, এর বীজ বা গমের দানা পরীক্ষা করে ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক চিহ্নিত করা যাবে। এ জন্য সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট।

গবেষণাটির ফলাফল চলতি মাসের শুরুতে বিজ্ঞান সাময়িকী ইঞ্জিনিয়ারিং–এ প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি অনেকটা মানুষের গর্ভধারণ পরীক্ষার মতো। গমের কোনো একটি অংশ নতুন উদ্ভাবিত ‘স্ট্রিপের’ মধ্যে রাখতে হবে। আধা ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে সেখানে ব্লাস্টের জন্য দায়ী ছত্রাক আছে কি না। এই যন্ত্রটি তৈরি করতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ পড়বে। ভবিষ্যতে তা আরও কমতে পারে।

এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (আইবিজিই), যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্স। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে মূল গবেষণা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণাকেন্দ্র এতে কারিগরি ও আংশিক অর্থায়ন করেছে।

গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বশেমুরকৃবির অধ্যাপক মো. তোফাজ্জল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ধান ও গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরপর এর ডিএনএর দুটি সুনির্দিষ্ট ক্ষুদ্র অংশকে আলাদা করা হয়েছে, যা শুধু গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাকের জিনোমে থাকে। এরপর ওই জিনোমকে চিহ্নিত করার জন্য যন্ত্রটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। যন্ত্রটি দক্ষিণ আমেরিকা ও বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা গমের ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক শনাক্ত করতে পেরেছে, এটা গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গবেষণাটির একটি অংশ হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে(আইবিজিই)। ছত্রাক চিহ্নিত করার যন্ত্রটি উদ্ভাবন করা হয়েছে চীনের একাডেমি অব সায়েন্সের ল্যাবরেটরিতে। আর তা মূল্যায়ন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ জন্য প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে।

বিশ্বব্যাপী গমের ব্লাস্ট রোগকে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। ১৯৮৫ সালে রোগটি প্রথম ব্রাজিলে দেখা দেয়। পরবর্তী সময় আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ের প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমিতে তা ছড়িয়ে পড়ে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে তা শতভাগ গম নষ্ট করে ফেলে। ব্লাস্ট গমের শিষের ভেতরে দানা তৈরি হতে দেয় না।

২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে গমে প্রথম এই রোগটি দেখা দেয়। সে সময় চারটি জেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমির গম নষ্ট হয়। এমনকি এই রোগটি ধানেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা বলেন বিজ্ঞানীরা। ওই রোগের আক্রমণে বাংলাদেশে গমের উৎপাদন ১২ লাখ টন থেকে কমে ৮ লাখ টনে নেমে আসে। ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ৭০ হাজার হেক্টর গমের জমিতে তা ছড়িয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে বশেমুরকৃবি উপাচার্য মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মিঞা বলেন, গমের ব্লাস্ট রোগ দমনে ভবিষ্যতে নতুন গবেষণার দুয়ারও এর মাধ্যমে উন্মোচিত হলো। আর ব্লাস্ট রোগ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তায় বড় হুমকি। ফলে এই আবিষ্কার একই সঙ্গে বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। জীবাণুমুক্ত গম উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আগে এটি যেন সহজে ব্যবহার করা যায়, সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকেরা মাঠে খুব সহজে গমের যেকোনো নমুনা থেকে যেন এই ছত্রাক চিহ্নিত করতে পারেন এবং এর দামও যেন কৃষকের হাতের নাগালের মধ্যে থাকে, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টন গম উৎপাদিত হয়। বিদেশ থেকেও বাংলাদেশ প্রতিবছর ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করে থাকে। বিশ্বের পঞ্চম আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ আমেরিকা, কানাডা, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে গম আমদানি করে। কিন্তু কোনো গমে ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক আছে কি না, তা চিহ্নিত করার মতো প্রযুক্তি এত দিন ছিল না।

এ ব্যাপারে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গুয়ো লিয়াং ইয়াং বলেন, গম বিশ্বের প্রধানতম খাদ্যগুলোর একটি। বিশ্বের শীর্ষ আমদানি-রপ্তানি খাদ্যপণ্য এটি। তাই গমে যে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ল, সেটি সবাইকে চিন্তিত করেছিল। এখন অন্তত কোনো দেশে এই রোগ ছড়িয় পড়ল কি না বা আমদানি-রপ্তানির সময় গমে ব্লাস্টের উপস্থিতি আছে কি না, তা দ্রুত জানা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বেশি টাকায়ও মিলছে না আমনের চারা

সাধারণ সময়ে ভোলার বিভিন্ন হাটবাজারে এক কেজি আমনের চারা সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এখন ৪০০ টাকাতেও চারা মিলছে না। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে ৭টি (১ থেকে ৭ নম্বর) ওয়ার্ডের ৮০ শতাংশ খেত এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। বাঁধের বাইরে থাকায় প্রতিদিন জোয়ারে দুই বেলা প্লাবিত হচ্ছে। এতে পচে গেছে এসব এলাকার আমনের চারা। ফলে আমনের চারা রোপণের মৌসুমে দেখা দিয়েছে সংকট। বাজারে চারার দামও বেড়েছে। তবে সংকট থাকায় বেশি দামও দিয়ে চারা পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।

ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের (৪ নম্বর ওয়ার্ড) রুহুল আমিন মিজি বলেন, ‘আমার ৯৬ শতাংশ জমিতে আমন চারা পচে গেছে। আবার নতুন করে লাগাবেন, কিন্তু চারা মিলছে না। এক কেজি ধানের চারা সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু সংকটের কারণে ৪০০ টাকা খরচ করেও চারা পাওয়া যাচ্ছে না।’

আমার ৯৬ শতাংশ জমিতে আমন চারা পচে গেছে। আবার নতুন করে লাগাবো, কিন্তু চারা মিলছে না। এক কেজি ধানের চারা সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু সংকটের কারণে ৪০০ টাকা খরচ করেও চারা পাওয়া যাচ্ছে না।’

সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সোনাডুগি, দালালবাজার, বাগারহাওলা, উত্তর ইলিশা, চরানন্দসহ ৬ থেকে ৭টি গ্রামের বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এসব খেতের পাকা আউশ ধান পানিতে ডুবে থাকায় অঙ্কুর বের হয়েছে। সেই ধান কেটে কৃষক সড়কে ও বাঁধের ওপর শুকাতে দিয়েছেন। কিন্তু খানিক পরপর বৃষ্টি নামায় ধান শুকাতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। করোনাকালে এমন দুর্ভোগে পড়ে হাসি নেই কৃষকের মুখে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) তথ্যমতে, জেলায় প্রথম দফায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ১০ হাজার ৮৩৮ হেক্টর (প্রায় ২৬ হাজার ৭৭০ একর) ও দ্বিতীয় দফায় ২১ হাজার ৫৭৪ হেক্টর (প্রায় ৫৩ হাজার ২৮৮ একর) জমির ফসল নিমজ্জিত হয়।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বরিশাল ও চরফ্যাশন থেকে চারা সংগ্রহ করতে বলা হচ্ছে। যাঁরা পাচ্ছেন না তাঁদের পুরোনো লাগানো চারা তুলে গোছ ভেঙে দু-একটি করে লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

তবে চরফ্যাশন উপজেলাতেও আমনের চারার সংকট আছে। চরফ্যাশন উপজেলা আদর্শ কৃষি খামারের পরিচালক মো. ফারুক জানান, উচ্চ জোয়ার আর বৃষ্টিতে তাঁদের সমিতির ৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমনের বীজতলার চারা ৩০ দিনে লাগাতে হয়। এখন চারার বয়স ৫০ থেকে ৫৫ দিন চলে যাওয়ার পরও খেত ডুবে থাকার কারণে তাঁরাও চারা লাগাতে পারছেন না।
ভোলা কৃষি কর্মকর্তা হরলাল মধু বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে কৃষকেরা যা আশঙ্কা করছেন, তা হতো না যদি তাঁরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারতেন। সময় চলে যাওয়ায় এখন চারা পেলেও ভালো ফলন হবে না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের রবি মৌসুমে প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com