আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

নির্ধারিত দামের ধার ধারছে না কেউ

  • দাম নির্ধারণ করে ৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
  • টিসিবির হিসাবে গতকাল ঢাকায় প্রতি কেজি আলু ৪৫–৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোথাও তা কার্যকর হয়নি। বাজারে গতকাল বুধবারও আগের মতো চড়া দামেই আলু বিক্রি হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়ে জানায়, হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২৩, পাইকারিতে ২৫ ও খুচরায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এ দরে বিক্রি না হলে তা কঠোরভাবে মনিটরিং (পর্যবেক্ষণ) করতে হবে। চিঠিতে আলু কেনা ও রাখা বাবদ এখন পর্যন্ত প্রতি কেজি ২১ টাকা খরচ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা বলছে, গতকাল ঢাকায় প্রতি কেজি আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ১১১ শতাংশ বেশি। আলুর এত দাম কখনো ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

হিমাগারে প্রতি কেজি ২৩, পাইকারিতে ২৫ ও খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ। কোথাও কার্যকর হয়নি। অভিযান চালাবে সরকার।

দেশে আলু বেশি উৎপাদনকারী তিন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে হিমাগার থেকে নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি শুরু হয়নি। একই ছিল ওই সব জেলা ও ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারের চিত্র।

উত্তরাঞ্চলে সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম বগুড়ার মহাস্থানহাটের পাইকারি দোকানে গতকাল আলু জাতভেদে ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা দরে বিক্রি হয়। জেলার ৩৪টি হিমাগারের মধ্যে ৮টি ও জয়পুরহাটের ১৬টির মধ্যে ৪টিতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৩ থেকে ৩৬ টাকায়। পুনট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক বিপ্লব ঘোষ বলেন, সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি করলেও আলুতে প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মুনাফা থাকবে। প্রশাসন বাজার তদারক করলেই আলুর দাম কমবে।

এদিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হিমাগারগুলোতে আলু নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে অভিযান চালানো হবে। কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবারক হোসেন বলেন, তাঁর উপজেলায় আটটি হিমাগার রয়েছে। আলুর দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদারক শুরু করেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শাহী, আমানত, রাজ্জাক ও এসবি হিমাগার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সেখানে প্রতি কেজি আলু ৩৩ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়। শহরের গোবিন্দনগরের পাইকারি দোকানে একই আলু বিক্রি হয় ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা দরে। খুচরা বাজারে দাম ৪০ টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ের হিমাদ্রি হিমাগারের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এমদাদুল হক বলেন, তাঁরা শুধু ভাড়ার বিনিময়ে আলু সংরক্ষণ করেন। আলুর মালিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ানো বা কমানোর ওপর হিমাগার কর্তৃপক্ষের হাত নেই।

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ের হিমাগারগুলোতে গতকাল অভিযান চালান জেলার সদর উপজেলার ইউএনও আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি হিমাগারে আলু রাখা ব্যক্তিদের তালিকা দিতে ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেন। ইউএনও বলেন, তালিকা পেলেই মজুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গতকাল মুন্সিগঞ্জের বড় বাজার, মুন্সিরহাট, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, মুক্তারপুর ও দয়াল বাজারের খুচরা দোকানে প্রতি কেজি আলু ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হয়। হিমাগার পর্যায়ে দর কেজিতে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা। আলু ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত এক দশকে তিনি আলুর ব্যবসায় প্রচুর লোকসান দিয়েছেন। এবার তা অনেকটা পুষিয়ে নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, যখন লোকসান হয়েছে, সরকার কোনো খবর নেয়নি। এখন লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করছে।

বাজারে এখন সবজির দাম চড়া। বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ টাকায়। এর মধ্যে চাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তি। করোনাকালে আয় কমে যাওয়া মানুষ বিপাকে রয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে গত মাসের শেষ দিকে সরকার মিলগেটে চালের দর বেঁধে দেয়। তাতে অবশ্য খুচরা বাজারে দাম কমেনি। এরপর আলুর দাম বেঁধে দেওয়া হলো।

এর মধ্যে বাজারে আলুর দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার একটি গুজব শুনে কেউ কেউ বাড়তি পরিমাণে আলু কিনেছেন। তেমনই একজন মফিজুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজার থেকে ১০ কেজি আলু কিনে ফিরছিলেন। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের বিষয়টি জানালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকার পেঁয়াজের দামও তো কমবে বলে জানিয়েছিল, কমেছে কোথায়?

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া; প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সিগঞ্জ)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

বানেশ্বর বাজারে ৪৮ কেজিতে আমের মণ আর হবে না

দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় ব্যবসাকেন্দ্র রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার। এখান থেকে সারা দেশে কৃষিপণ্য যায়। এই বাজারের ছিল নিজস্ব ওজনরীতি। সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ ধরা হলেও বানেশ্বর বাজারে আমের মণ ধরা হতো ৪৮ কেজিতে। পেঁয়াজের মণ ৪২ ও রসুনের ৪১ কেজিতে।

এই বাজারের ব্যবসায়ীরা এক মণের দামে ৪০ কেজির ওপরে যেটুকু বেশি নেন, তার নাম দিয়েছেন ‘ঢলন’। বাজারের রীতি অনুযায়ী, কৃষক ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য থাকেন। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসন এক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের ‘ঢলনপ্রথা’ বাতিল করেছেন। ফলে এই বাজারে আর আমের মণ ৪৮ কেজিতে হবে না। ব্যবসায়ীরা এত দিন কৃষকদের বুঝিয়েছিলেন কৃষিপণ্যের ওজন পরে কমে যায়। সে কারণে এই ‘ঢলন’ দিতেই হবে। এভাবে বানেশ্বর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই ঢলনপ্রথা চালু আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন চাষিরা।

শুক্রবার সকালে বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় নতুন এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাংসদ মুনসুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী সুলতান। সভায় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।বিজ্ঞাপন

সভায় চাষিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের এক মণে অতিরিক্ত কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের দিতে হতো। দিতে না চাইলে তাঁদের পণ্য বিক্রি হতো না। তাঁরা আড়তদারদের কাছে জিম্মি ছিলেন। এতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। তাঁরা এই ঢলনপ্রথা দীর্ঘদিন ধরে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

পুঠিয়া উপজেলার শাহাবাজপুরের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ হলেও তিনি ৪২ কেজির মণ ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। মাড়িয়া গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, তিনি রসুন বিক্রি করেছেন ৪১ কেজিতে মণ হিসেবে।

ব্যবসায়ী বাবর আলী বলেন, বানেশ্বর বাজারে তিনি ৩৬ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর আমের আড়ত আছে। প্রতিবছর আমের মণ নির্ধারণ করা হয়। দুই বছর আগে ৪৫ কেজিতে মণ ছিল। এবার ব্যবসায়ীরা বসে ঠিক করেছিলেন ৪৮ কেজিতে মণ। তিনি বলেন, কাঁচামাল ঢাকায় নেওয়ার পথে পচে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। এ জন্যই ঢলন নেওয়া হয়।বিজ্ঞাপন

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, ব্যবসায়ীরা বানেশ্বর বাজার থেকে কৃষকের কাছ থেকে ঢলন নেন, কিন্তু রাজশাহীর বাইরে গিয়ে তাঁদের আর ঢলন দিয়ে বিক্রি করতে হয় না। এখানে ৪৮ কেজিতে মণ ধরে তাঁরা আম কিনেছেন। কিন্তু ঢাকায় তাঁরা ৪০ কেজিতে মণ হিসেবেই বিক্রি করেছেন। যেহেতু তাঁরা ঢাকায় গিয়ে ঢলন দেন না। এই যুক্তিতে তাঁদের বাধ্য করা হয়েছে যে তাঁরা বানেশ্বরেও ৪০ কেজিতে মণ ধরে সব কৃষিপণ্য কিনবেন। তিনি বলেন, অল্প দিন আগেই তিনি পুঠিয়ায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে গিয়েই চাষিদের কাছ থেকে এই অভিযোগ শোনেন। চাষিরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপরই এ সভার আয়োজন করা হয়।

ইউএনও নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ আরও বলেন, সারা দেশে ৪০ কেজিতে এক মণ। ব্যতিক্রম ছিল বানেশ্বর বাজার। অথচ এই বাজারেই রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে। এখানে চাষিরা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছিলেন। এই ওজন নিশ্চিত করতে শনিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। পুঠিয়ার সব বাজারেই যাতে এই ওজন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হবে। রাজশাহী জেলার অন্যান্য বাজারে যেহেতু ৪০ কেজিতে মণ, সে জন্য তিনি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোজ্য তেলের দাম কমানোর ঘোষণা, কেজি-লিটার নিয়ে বিভ্রান্তি

মিলগেটে খোলা ভোজ্যতেলের দাম ২ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মিলমালিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

তরল পদার্থের মাপের একক লিটার হলেও দেশের খোলা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল কেজি দরে কেনাবেচা হয়। বর্তমান দাম অনুযায়ী কেজি ও লিটারের ক্ষেত্রে প্রায় ৮ টাকার একটি পার্থক্য রয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে মিলগেটে খোলা সয়াবিন তেল ৯০ ও পাম তেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে এ দরটি কেজি না লিটারের, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বলছে, দরটি হবে কেজিতে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা লিটারের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

তরল পদার্থের মাপের একক লিটার হলেও দেশের খোলা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল কেজি দরে কেনাবেচা হয়। বর্তমান দাম অনুযায়ী কেজি ও লিটারের ক্ষেত্রে প্রায় ৮ টাকার একটি পার্থক্য রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে তিনটি কোম্পানির প্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা লিটারে ৯০ টাকার বিষয়ে আলোচনা করে এসেছেন। ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুণী প্রথম আলোকে বলেন, দাম হবে কেজিতে। বিজ্ঞাপন

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯২ থেকে ৯৭ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা এক বছর আগের তুলনায় লিটারপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

কয়েক দফার ফোনালাপের পর সর্বশেষ দফায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা লতিফ বকশী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান দরটি ২ টাকা কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেটা লিটারে হতে পারে, কেজিতেও হতে পারে।


পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে জানান, আজ সেখানে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ আদেশ (এসও) লেনদেন হচ্ছে লিটারপ্রতি ৮৪ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে।

সাধারণ মানুষ বেশি কেনে বোতলের তেল। সেখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা

দেশে গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছিলেন। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯২ থেকে ৯৭ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা এক বছর আগের তুলনায় লিটারপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

টিসিবির হিসাবে, বাজারে এখন পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮২ থেকে ৮৪ টাকা। এক বছর আগে যা ৫৮ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে ছিল।

ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ মানুষ বেশি কেনে বোতলের তেল। সেখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে, আশাবাদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

খুচরা বাজারে আলুর দাম আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সরকার–নির্ধারিত দামের নিচে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় আলুর দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল (বুধবার) আলুর দাম কোল্ড স্টোরেজে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি ছিল। সেটা আজ ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেটা ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা আশাবাদী, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে আলুর দাম সরকার–নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে আসবে।’

আলুর বাজার অস্থির হয়েছে, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না, এটা কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। ভোক্তাদের সহযোগিতার জন্যই আমরা টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা দরে বাজারে আলু ছেড়েছি।’বিজ্ঞাপন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই তাদের সাথে সম্পর্ক আরও ভালো হোক। এখন পৃথিবীটা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। তাই আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতের অংশীদার হতে চাই।’

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ

পেঁয়াজের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাই। ভারত নিজেদের প্রয়োজনে যেকোনো সময় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করতে পারে। তবে আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করেছি, বন্ধের এক মাস আগে যেন অন্তত আমাদের জানায়। এখন আমরা সেলফ সার্ভিসে নজর দেব।’

অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানিকৃত পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়ে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। সেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে খুচরা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। আমার ধারণা, আগামী বছর পর্যন্ত পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজির নিচে দাম হবে না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিল্ক ভিটা ও রূপালী ব্যাংকের চুক্তি, দুগ্ধ খামারিরা ঋণ পাবেন ৪ শতাংশ সুদে

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষি-প্রণোদনার সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুগ্ধ খামারিদের সহায়তার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ, দেশকে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ এবং যুবক ও যুব-নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিল্ক ভিটা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বৃহস্পতিবার রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, এমপি এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু।

মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়া দুধ প্রস্তুত করেছে মিল্ক ভিটা। এসব গুঁড়া দুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। করোনা মহামারি শুরু হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন-আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। মিল্ক ভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে। খামারিদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পর্ষদকে ধন্যবাদ জানান মিল্ক ভিটা চেয়ারম্যান।

শেখ নাদির বলেন, মিল্ক ভিটার জন্য গ্রাহকেরা এখনো ৭০ টাকায় প্রতি লিটার দুধ কিনতে পারছেন। মিল্ক ভিটা না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করত এবং গ্রাহককে আরও বেশি দামে প্রতি লিটার দুধ কিনে খেতে হতো।


রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন বলেন, অতীতে অনেক সমবায় প্রকল্প এসেছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করা প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর সময় অবহেলিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে দুগ্ধ খাতের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মতিঝিল এলাকায় মিল্ক ভিটার আউটলেট খোলার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন

মিল্ক ভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে।

রূপালী ব্যাংকের মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, করোনাকালে দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের সংকটে পড়ার অবস্থা হলে আমরা ‘করোনাকালে দুধ না ফেলে ঘি বানান, দুগ্ধ খাতে জাগুক প্রাণ’-স্লোগান সামনে রেখে দুগ্ধ চাষিদের পাশে দাঁড়ালাম। দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ৪ শতাংশ সুদে খামারিদের মাঝে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত সমবায়ী দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটাকে প্রস্তাব দেই আমি।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল সংযুক্ত ছিলেন পরিচালক অরিজিৎ চৌধুরী। রূপালী ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জিএম অশোক কুমার সিংহ রায়, মো. শফিকুল ইসলাম, গোলাম মর্তুজাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগের জিএম মো. মজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়ার মুন্সি রফিকুল ইসলাম, খুলনার ইউনুস গাজী ও সিরাজগঞ্জের জিন্নাহ সরকারের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টিসিবির ট্রাক সেলে ২৫ টাকায় মিলছে এক কেজি আলু

সরকার–নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আলু বিক্রি করা হচ্ছে। আজ বুধবার থেকে এই আলু বিক্রি কার্যক্রম টিসিবির অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

সকালে রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তেজগাঁও জামে মসজিদসংলগ্ন পদচারী–সেতুর নিচে টিসিবির ডিলার কবির স্টোর নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। ট্রাকের সামনে নারী-পুরুষের প্রায় সমান দীর্ঘ সারি। একেকটি সারিতে ২৫ থেকে ৩০ জন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কথা বলে জানা গেল, তাঁদের কেউ কেউ এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

পল্টনের বাসিন্দা রুহুল আমিন মিরপুর বিআরটিএতে একটি কাজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ট্রাক সেল দেখতে পান। তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে তিনি তাঁর প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কেনেন।

রুহুল আমিন জানান, ট্রাক সেলে যেসব পণ্য পাওয়া যায়, যেমন: চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ ও আলু—সবই কিনেছেন। তার মোট ৬০৫ টাকা খরচ হয়েছে। আমিন বলেন, ‘এখানে কম দামে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। তাই সুযোগ বুঝে এখান থেকে আমার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে নিলাম। আমার কিছু টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আকলিমা খাতুন বললেন, ‘আলু প্রতিদিন তরকারিতে কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করা যায়। এই আলুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টটাও বেড়ে গেছে। আগে আলুভর্তা, আলুভাজি কিংবা ডাল দিয়ে কোনো এক বেলার খাবার খাওয়া যেত। এখন সেই আলু খাওয়ার জন্যও আগে চিন্তা করতে হচ্ছে।’

বিজয় সরণিতে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছে নাখালপাড়ার কবির স্টোর নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আকবর হোসেন জানান, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য এক কেজি করে আলু বিক্রি করতে বলা হয়েছে। তাঁরা টিসিবির নির্দেশনা মোতাবেক আলু বিক্রি করছেন।

ট্রাক সেলে চিনি প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, এক কেজি ডাল, এক কেজি পেঁয়াজ ও তেলের ৫ লিটারের একটি বোতল নিতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com