আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

নিরামিষভোজীরা যে ডায়েট অনুসরণ করেন তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে

নিরামিষভোজীরা যে ডায়েট অনুসরণ করেন তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে
নিরামিষভোজীরা যে ডায়েট অনুসরণ করেন তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে

ভেগান বা নিরামিষভোজীদের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিলেও বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোকের ঝুঁকি।

সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাটি, ১৮ বছর ধরে ৪৮ হাজার মানুষের উপর পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে নিরামিষভোজীদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগীর সংখ্যা মাংসাশীদের তুলনায় ১০ জন করে কম পাওয়া গেছে।

কিন্তু স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা তিনজন করে বেশি পাওয়া গেছে।

ডায়েট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস যেমনই হোক না কেন, বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো।

গবেষণায় নতুন কি পাওয়া গেছে?

এপিক-অক্সফোর্ড স্টাডি মূলত একটি দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা প্রকল্প যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে পরীক্ষা চালায় তাদের তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।

১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেকই ছিলেন মাংসাশী। ১৬ হাজারের কিছু বেশি ছিলেন নিরামিষভোজী।

আর সাড়ে সাত হাজার অংশগ্রহণকারী জানান যে তারা আহার হিসেবে মাছ খেতেন।

অংশগ্রহণের সময় এবং ২০১০ সালে আবার নতুন করে এসব অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য, ধূমপান এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলোও আমলে নেয়া হয়েছিলো।

সব মিলিয়ে, করোনারি হৃদরোগ বা সিএইচডি’র সংখ্যা মেলে ২৮২০টি, স্ট্রোকের সংখ্যা ১০৭২টি যার মধ্যে ৩০০টি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ জনিত স্ট্রোকের ঘটনাও রয়েছে। মস্তিষ্কের দুর্বল শিরা ছিড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে এ ধরণের স্ট্রোক হয়।

মাংসাশীদের তুলনায় মাছ ভোজীদের মধ্যে সিএইচডি’র ঝুঁকি ১৩ ভাগ কম ছিলো।

আর নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই হার ২২ভাগ কম ছিলো।

কিন্তু যারা উদ্ভিদ ও শাক সবজি খেয়ে জীবন ধারণ করেন বা যারা নিরামিষভোজী, তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ ভাগ বেশি ছিলো।

গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তবে তারা বলেন যে, এর প্রকৃত কারণ খুঁজে পেতে হলে আরো গবেষণার দরকার রয়েছে।

এমনও হতে পারে যে, খাদ্যাভ্যাসের সাথে আসলে এর কোন সম্পর্ক নেই। বরং যারা মাংস খায় না তাদের জীবনের অন্যান্য কারণের জন্যই হয়তো এই ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে
প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে

তার মানে কি নিরামিষভোজী অস্বাস্থ্যকর?

ব্রিটিশ ডায়েটিক এসোসিয়েশনের ডা. ফ্রাঙ্কি ফিলিপস বলেন যে, এটা নাও হতে পারে। কারণ এই গবেষণাটি শুধুমাত্র একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা মাত্র।

“তারা শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে যে মানুষ কি খায় এবং তাদেরকে বছরের পর বছর ধরে অনুসরণ করেছে, এটা শুধু সম্পৃক্ততাই জানান দেয়, কারণ বা প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে না,” তিনি বলেন।

“সবার জন্য বার্তা হচ্ছে, সবচেয়ে ভালো হচ্ছে একটি পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস এবং বিভিন্ন ধরণের খাবার খাওয়া।”

“মাংসাশীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরণের খাবার খায় না। কারণ তারা প্রতি রাতে খাবার হিসেবে মাংসই খায় এবং কোন ধরণের শাক-সবজি খায় না।”

গবেষণা শুরুর পর থেকে কি মানুষের খাবারে পরিবর্তন এসেছে?

২০১০ সালে গবেষকরা আবার অংশগ্রহণকারীদের কাছে গিয়ে তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল।

কিন্তু ডা. ফিলিপস বলেন, নিরামিষভোজীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছিলো।

“এই তথ্যগুলো কয়েক দশক আগে সংগ্রহ করা হয়েছিলো,” তিনি বলেন।

“স্বাভাবিকভাবেই আজ থেকে ২০ কিংবা ৩০ বছর আগে নিরামিষভোজীদের

সাথে আজকের নিরামিষভোজীদের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।”

“নিরামিষভোজীদের খাবারের পরিধি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এগুলো এখন মূল ধারার সাথে যুক্ত হয়েছে।”

আমরা এখন অনেক বেশি মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অনেক বেশি জানি যা অন্ত্রের ক্যান্সার তৈরি করে।

প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে
প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে

তাহলে কি খাওয়া উচিত?

ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইট ওয়েল গাইড নামে খাবার সম্পর্কিত একটি নির্দেশিকা দিয়েছে। আপনি যে ধরণের খাবারই খান না কেন, আপনার থালায় এ ধরণের খাবার থাকাটা জরুরী বলে উল্লেখ করা হয়েছে এতে..

•দিনে কমপক্ষে ৫ ভাগ ফল এবং শাক-সবজি খান

•মূল খাবার হিসেবে উচ্চ মাত্রায় আঁশ সম্পন্ন এবং শ্বেতসার বহুল খাবার যেমন আলু, রুটি, ভাত কিংবা পাস্তা রাখা উচিত

•প্রোটিন ভুলে গেলে হবে না- চর্বিহীন মাংস, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, তফু কিংবা লবণহীন বাদাম খেতে হবে

•দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার থাকতে হবে

•উচ্চ মাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার, চিনি কিংবা লবণ যত কমানো যায় ততই ভালো

কিন্তু যারা নিরামিষভোজী তাদের নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি গ্রহণ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, যারা মাংস, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছ খায় তারা পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায় যা স্বাস্থ্যকর রক্ত এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়।

যাই হোক, যদিও সকালের নাস্তার বিভিন্ন সিরিয়াল এবং ইস্ট সমৃদ্ধ খাবারে ভিটামিন বি১২ থাকে তবু নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে।

উদ্ভিদ-জাত খাবার থেকে আয়রনও কম পাওয়া যায়। তাই যারা মাংস খান না তাই তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যাতে নিয়মিত গমের রুটি, আটা, শুকনো ফল এবং ডাল খান।

এছাড়া গত মাসে নিরামিষভোজীদের আহ্বান জানানো হয়েছিলো যে তারা যাতে মস্তিষ্কের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভিটামিন কোলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

ঈদ মানেই নানা মিষ্টি স্বাদের খাবার। আর সেই তালিকায় সেমাই তো থাকবেই! সেমাইয়ের সুস্বাদু সব পদ জিভে জল আনবেই! ঈদের সকালে সেমাই দিয়ে তৈরি করতে পারেন ব্যতিক্রম স্বাদের দুই পদ। চলুন জেনে নেয়া যাক রেসিপি-

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

স্পেশাল দুধ সেমাই

উপকরণ:
তরল দুধ ২ লিটার
সেমাই ২৫০ গ্রাম
গুঁড়া দুধ ৫ টেবিল চামচ
চিনি স্বাদমতো
এলাচ ও দারুচিনি কয়েকটি
লবণ স্বাদমতো
কিসমিস ও বাদাম কুচি ইচ্ছামতো
ঘি দুই টেবিল চামচ
দুধের সর বা মালাই আধা কাপ।

প্রণালি:
দুই লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে সোয়া এক লিটার করে নিতে হবে। এবার এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিন। উপরে ঘন সর জমবে, সেটাকে তুলে রাখুন আলাদা করে। এবার দুধে চিনি মেশান। আলাদা পাত্রে খানিকটা দুধ তুলে নিয়ে সেই দুধের সঙ্গে পাউডার মিল্ক গুলিয়ে নিন। গোলানো গুঁড়া দুধ আবার বাকি দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এবার স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। দুধ ফুটে উঠলে বাদামী করে ভেজে রাখা সেমাই দিয়ে একটু নেড়ে নিন। দুই মিনিট চুলায় রেখে নামিয়ে নিতে হবে। তারপর সেমাইয়ের ওপর দুধের সর আর কিসমিস, বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ঈদের সকালের স্পেশাল স্বাদের দুধ সেমাই।

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাই সন্দেশ

উপকরণ
লাচ্ছা সেমাই ২ কাপ
কনডেন্স মিল্ক ১ কাপ
ঘি ২ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়া সামান্য
মাওয়া পরিমাণমতো
বাদাম/ কিসমিস (সাজানোর জন্য)

প্রণালি:
প্যানে ঘি হালকা গরম করে লাচ্ছা সেমাইগুলো অল্প আচে ভেজে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন সেমাই পুড়ে না যায়। এবার কনডেন্স মিল্ক আর এলাচ গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে সন্দেসের ঘনত্ব আসলে চুলে থেকে নামিয়ে ঘি মাখানো একটা সমান থালায় বিছিয়ে মাওয়া গুঁড়া ওপর দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। সন্দেশটা একটু ঠান্ডা হলে চাকু দিয়ে পছন্দমত শেপে কেটে বাদাম বা কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি
গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

শাহী খাবার মানেই রাজকীয় একটা আমেজ। গরুর মাংসের শাহী রেজালা ভীষণ লোভনীয় একটি খাবার। এর সুঘ্রাণেই জিভে জল চলে আসতে বাধ্য। পোলাও কিংবা পরোটার সঙ্গে খেতে বেশ লাগে এই রেজালা। চলুন রেসিপি জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ:
গরুর মাংস-১ কেজি
আদা বাটা-১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ চা চামচ
ধনে বাটা- ১ চা চামচ
জিরা বাটা- ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ তুচি- ১ কাপ
পোস্তদানা বাটা- ১ টেবিল চামচ
টক দই- ১/২ কাপ
কাঁচা মরিচ (আধাফালি)- ১৫-২০টি
কিসমিস- ২ টেবিল চামচ
গরম মসলা ১ চা চামচ
ঘি- ১/২ কাপ
তেল- ১/২ কাপ
মাওয়া- ২ টেবিল চামচ
গোলাপজল- ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি:
তেল, ঘি, পেঁয়াজ, কাচামরিচ, কিসমিস ছাড়া মাংস ছোট টুকরা করে সব মশলা মাখিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। হাঁড়িতে তেল ঘি দিয়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা করে তুলে নিয়ে মাংস দিয়ে কষাতে হবে। এরপর বেরেস্তা মেশাতে হবে। কষানো হলে ২-৩ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অল্প আঁচে রেখে দিতে হবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল গরুর মাংসের শাহী রেজালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে
কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

ভুনা খিচুড়ি এমনিতেই সুস্বাদু একটি খাবার। তার সঙ্গে যদি কলিজা ভুনা যোগ হয় তবে তো কথাই নেই। তবে সঠিক রেসিপি জানা না থাকলে খিচুড়ি সুস্বাদু হবে না। চলুন জেনে নেয়া যাক সুস্বাদু ভুনা খিচুড়ি রান্নার রেসিপি-

উপকরণ: ১
পোলাওয়ের চাল ৪০০ গ্রাম
ভাজা মুগ ডাল ২৫০ গ্রাম
আদাবাটা ২ টেবিল চামচ
রসুন ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ
গরম মশলার গুঁড়া (দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ) ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা ২টি
কাঁচা মরিচ ৪-৫টি
লবণ স্বাদমতো
ঘি আধা কাপ
তেল ও পানি পরিমাণমতো।

উপকরণ: ২
কলিজা ভুনা:
খাসির কলিজা ৫০০ গ্রাম
আলু (মাঝারি) ২টি
পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ
আদাবাটা ১ চা-চামচ
মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ
হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ
দারুচিনি ২ টুকরা
এলাচ ৪টি (থেঁতো)
তেজপাতা ২টি
লবণ স্বাদমতো ও তেল ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ১
কলিজা ডুমো করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। আলু ডুবো করে কেটে হলুদ ও লবণ মেখে ভেজে তুলে রাখুন। এবার প্যানে তেল দিয়ে সব মসলা কষিয়ে তাতে কলিজা ও আলু দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে ১ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিয়ে হবে। কলিজা ভুনা করে নামিয়ে নিন।

প্রণালি: ২
পোলাওয়ের চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরান, হাঁড়িতে তেল দিয়ে তাতে তেজপাতা, আদাবাটা, রসুনবাটা, চাল-ডালের মিশ্রণ অর্ধেক পেঁয়াজ বেরেস্তা, লবণ ও পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে একটু নেড়ে ঢেকে দিন। যদি ১ কাপ চাল-ডালের মিশ্রণ হয়, তবে দেড় কাপ গরম পানি দিতে হবে।

নামানোর আগে ভুনা করা কলিজা গরমমসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ দিয়ে পাঁচ মিনিট দমে রেখে ওপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও ঘি ছড়িয়ে সালাদ বা আচারের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

রেসিপি জানা থাকলে গরুর মাংসের বিরিয়ানির থেকে সহজ রান্না আর হয় না। এর স্বাদ তো প্রায় সবারই জানা। সুস্বাদু এই খাবারটি রাঁধতে চাইলে জেনে নিন সহজ রেসিপি-

উপকরণ
গরুর মাংস- ১ কেজি
পোলাওর চাল- ১ কেজি
বিরিয়ানি মসলা- ৩ টেবিল চামচ
এলাচ ও দারুচিনি বাটা- ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
পেয়াজকুচি- ১ কাপ
তেল- ১ কাপ
আলু- ১ কাপ (কিউব করে কাটা)
কিচমিচ- ১০-১৫ টি
পানি- যতটুকু চাল তার দ্বিগুণ পানি লাগবে
তেজপাতা- ৩ টি
লবণ- স্বাদমতো
জিড়া গুড়া- ১ টেবিল চামচ
গোলাপ জল- ১ চামচ
কেওরা জল- ১ চামচ।

প্রণালি:
প্রথমে মাংসকে ছোট ছোট টুকরো করে ধুয়ে নিতে হবে। এখন যে পাত্রে চাল ও মাংস জায়গা হবে এমন একটি বড় পাত্র নিতে হবে। পাত্রটি চুলায় বসিয়ে তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হয়ে আসলে পেঁয়াজকুচি ও তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে।

পেঁয়াজ যখন হালকা বাদামি কালার আসবে তখন আদা বাটা, রসুন বাটা, জিড়ার গুঁড়া, ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে একটু কষিয়ে নিতে হবে। যখন মসলা কষে আসবে তখন ধুয়ে মাংস দিয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যখন মাংস মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন আলু দিয়ে একটু সিদ্ধ করে নিতে হবে।

তারপর বিরিয়ানি মসলা দিয়ে একটু নাড়তে হবে। এখন পোলাওর চাল ধুয়ে এই মাংস ও আলুর মধ্যে দিয়ে একটু ভাজতে হবে। যখন পানি শুকিয়ে চাল ভাজা ভাজা হবে তখন আগে থেকে করে রাখা গরম পানি দিয়ে দিতে হবে।
যখন গরম পানি কমে মাখা হয়ে আসবে তখন চুলার আঁচ কমিয়ে ধমে রাখতে হবে।

এরপর এই চালের উপর গোলাপ জল ও কেওরা জল দিয়ে চালগুলোকে নেড়ে আবার ২ মিনিটের মত দমে রাখতে হবে। ২ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পরিবেশনের পালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দুধে সহনীয় ব্যাকটেরিয়া থাকলে ক্ষতি নেই

দুধে সহনীয় ব্যাকটেরিয়া থাকলে ক্ষতি নেই
দুধে সহনীয় ব্যাকটেরিয়া থাকলে ক্ষতি নেই

দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দেশে উদ্ভূত সংকটের নেপথ্যে থাকা মৌলিক বিষয় ও করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের ডেইরিবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক। দেশে উৎপাদিত তরল দুধের গুণগত মানের ওপর সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন, এতে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি ও দুধের দাম পড়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক ও দুগ্ধশিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

গবেষকদের দাবি, দুধে স্বভাবতই কিছু ব্যাকটেরিয়া বা নানা কারণে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সহনীয় মাত্রার বেশি না হলে তা মানবদেহের ক্ষতির কারণ হবে না।

গবেষকেরা বলছেন, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। অঞ্চল ও পরিবেশভেদে এবং গবাদিপশুর খাদ্যাভ্যাসের ওপর দুধে কী পরিমাণে জীবাণুর উপস্থিতি থাকবে, তা নির্ভর করে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা বিভিন্ন ধাতুর উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ উপস্থিত থাকলেই তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলা যাবে। মূলত, দুধের এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করে গবেষণার ফল প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও শঙ্কার সৃষ্টি হবে, যা মধ্যম আয়ের দেশে দুগ্ধশিল্পের মতো ক্রমবিকাশমান একটি শিল্পের জন্য মোটেই সুখকর নয়।

দুধের গুণগত মান নষ্টের মৌলিক বিষয় ও মান নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণীয় এবং ভোক্তা ও খামারিদের সংকট উত্তরণে বিভিন্ন দিক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে এই গবেষক দল। দলে রয়েছেন ডেইরিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিশিষ্ট ডেইরিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম, মো. আবিদ হাসান সরকার, মো. সাদাকাতুল বারি ও মো. রেজওয়ানুল হাবীব।

প্রতিবেদনে তাঁরা বলেন, কাঁচা তরল দুধে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকা খুবই স্বাভাবিক। পাস্তুরায়ণের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্যাথজেনিক (রোগ সৃষ্টিকারী) ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণভাবে মেরে ফেলা। গবেষকদের দেখা উচিত প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া পাস্তুরিত দুধে আছে কি না? তবে পাস্তুরিত দুধে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর প্রথম ও প্রধান কারণ হলো গুদামে কিংবা দোকানে কোল্ড চেইন বজায় না রাখা। চেইন ঠিক না থাকলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে, ফলে দুধে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং পরীক্ষার সময় মাথায় রাখতে হবে সমস্যাটি কোথায়—কৃষকপর্যায়ে, প্রক্রিয়াজাতকরণে নাকি বিপণনব্যবস্থায়।

তা ছাড়া দুগ্ধজাত পণ্যে মানবস্বাস্থ্যের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। দইয়ে থাকে উপকারী ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া। দই ও ফার্মেন্টেড (গাঁজন) দুগ্ধজাতীয় দ্রব্যে ব্যবস্থাপনার ত্রুটির জন্য সেখানেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া চলে আসতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত না করে মোট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে দইকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা যাবে না।

চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে গবেষকেরা বলেন, গবাদিপশুর চিকিৎসা কিংবা রোগ প্রতিরোধে কয়েক দশক ধরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে গাভির শরীর পুরোপুরি মাত্রায় তা শোষণ করতে পারে না। এ কারণে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক মল-মূত্রের সঙ্গে এবং কিছু দুধের মধ্যে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুগ্ধবতী গাভিকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে বিশেষ সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা যাবে না। আবার দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেলেই সেই দুধ খাওয়া যাবে না, সেটা ঠিক নয়। এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে, যা পৃথিবীর অনেক দেশেই পাওয়া যায়। অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সহনীয় মাত্রার বেশি পাওয়া গেলেই তা খাবার অনুপযোগী বলে গণ্য হবে।

ভারী ধাতুর উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পুষ্টিগুণের কারণে দুধকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ খাদ্য হিসেবে অভিহিত করা হলেও নানাবিধ ভারী ধাতু, যেমন: সিসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক ও মার্কারি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নর্দমার ময়লা পানি বা কলকারখানার বর্জ্যের প্রবাহ সেচ হিসেবে ঘাসের জমিতে ব্যবহারে ভারী ধাতু গবাদিপশুর খাদ্যে চলে যায়। সেখান থেকে যায় মাংসে, দুধে। এ ক্ষেত্রেও ভারী ধাতু শনাক্ত হলেই দুধ খাওয়া যাবে না, তা ঠিক নয়। সহনীয় মাত্রার ওপরে আছে কি না, সেটা নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায়, মানুষ ফল-সবজিতে ফরমালিনের উপস্থিতির মতো অযথা আতঙ্কিত হবে, পুষ্টিকর দুধ খাওয়া কমিয়ে দেবে এবং দুগ্ধশিল্প হুমকির মুখে পড়বে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গবেষক দলটি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে। তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুগ্ধশিল্প নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। কোনো উৎস থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেই তা সারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে—এমনটা বলা যাবে না। দুধে ক্ষতিকর অণুজীব, অ্যান্টিবায়োটিক বা ভারী ধাতুর দূষণের জন্য মূলত পরিবেশদূষণ, কোল্ড চেইন বজায় না রাখা, অনিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা, অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, কৃষিক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিকের ব্যবহার দায়ী। সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা প্রয়োজন। এ দুগ্ধশিল্পের বিকাশের জন্য দেশে আদর্শ মানদণ্ড তৈরি এবং দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের পরীক্ষার জন্য রেফারেন্স ল্যাবরেটরি গড়ে তুলতে হবে। প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এবং ডেইরি রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দেশের বিভিন্ন বাজার, প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান ও খামারিদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দুধে ক্ষতিকর উপাদানের উৎস জানতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। বিশেষজ্ঞ দলকে এসব নমুনা পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে শিগগির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ ও সুপারিশ প্রদান করতে বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com