আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

নিরাপদ সবজির গ্রাম কালীদীঘি

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গোদাগাড়ীর কালীদিঘি গ্রামকে নিরাপদ সবজী গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাড়ির পাশে খেত থেকে শিম তুলছেন শাহিনুর বেগম।
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গোদাগাড়ীর কালীদিঘি গ্রামকে নিরাপদ সবজী গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাড়ির পাশে খেত থেকে শিম তুলছেন শাহিনুর বেগম।

গ্রামটির নাম কালীদীঘি। এটি গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের। বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত শুষ্ক মাটির এ গ্রামে বড় কোনো গাছপালা নেই। এখানে ফসল ফলানোই একটা চ্যালেঞ্জ।

শফিকুল ইসলাম জানান, মুজিব বর্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে তিনি এ গ্রামের কৃষকদের বাড়ির আনাচকানাচে নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। নিরাপদ সবজি বলতে এখানে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। পোকা দমনে শুধু জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া কৃষকদের কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। গত আড়াই থেকে তিন মাসে এ উদ্যোগ অনেকটা সফল হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এ জন্য সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ করা হয়নি। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা নিজের থেকে এটা করেছেন। এখন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এ সবজি চাষ হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এখন অন্য গ্রামের কৃষকেরাও এটা অনুসরণ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার কালীদীঘি গ্রামে গিয়ে প্রায় সব বাড়ির পাশেই কিছু না কিছু সবজিখেত দেখা যায়। প্রতিটি খেতেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সবজির নামসহ সাইনবোর্ড দেওয়া রয়েছে। গ্রামের মধ্যে আছে একটি বড় সাইনবোর্ড। তাতে লেখা, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নিরাপদ সবজি গ্রাম।’ সাইনবোর্ডের দুই কোনায় বঙ্গবন্ধুর দুটি ছবি রয়েছে। গ্রামকে নিরাপদ সবজির জন্য প্রস্তুত করতে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তার উল্লেখ আছে সাইনবোর্ডটিতে। এর নিচে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোদাগাড়ীর বিদিরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের নাম ও মুঠোফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে, যাতে যে কেউ যেকোনো সময় পরামর্শের জন্য তাঁকে কল করতে পারেন।

কিষানি আনোয়ারা বেগম (৪৫) তাঁর বাড়ির আঙিনায় পালং শাক, লাল শাক, বেগুন ও মরিচ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে বেগুন ও শাক নিজে খাচ্ছেন এবং প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি করে বেগুন বিক্রি করছেন। তাঁর খেতে মরিচ এখনো ধরেনি। তাঁর বাড়ির আঙিনায় রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড। আনোয়ারা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ছাড়া তিনি অন্য কিছুই খেতে ব্যবহার করেননি।

আরেক কিষানি শাহীনুর বেগম বললেন, তাঁর স্বামী মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাঁর ছেলে কলেজে পড়ার পাশাপাশি পাশের একটি কারখানায় কাজ করেন। এ অবস্থায় তিনি বাড়িতে সবজি চাষ করেছেন। শাহীনুর বলেন, কর্মকর্তাদের পরামর্শে শুধুই ছাই ব্যবহার করে শিমের পোকা দমন করেছেন তিনি। পাশেই তাঁর মেয়ের বাড়ি। সেই বাড়িতে সদস্য কম। নিজেরা খেয়ে তাঁর মেয়ে এক মণ শিম বিক্রি করেছেন।

আবদুর রউফের স্ত্রী বিরজা বেগম খেতে বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, বেগুন, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও পটল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের কোনো সবজি কিনতে হয় না। পোকার খুব আক্রমণ হলে একবার হালকা করে ওষুধ ছিটান। কর্মকর্তাদের পরামর্শে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেছেন। খুব ভালো সবজি হয়েছে।

ভ্যানচালক জোগেশ্বরের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাড়ির গাছে পেঁপে পেকে রয়েছে। তাঁর বাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পেঁপে বাগানের একটি সাইনবোর্ডও দেওয়া রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিয়তি রানী গাছ থেকে পাকা পেঁপে কেটে বলেন, তাঁর পেঁপে না খেলে তিনি ভীষণ মন খারাপ করবেন। নিয়তি রানীর ছোট্ট বাগানে পেঁপে ছাড়াও রয়েছে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া ও লাল শাক।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, গোদাগাড়ীতে নিরাপদ সবজি গ্রামের বিষয়টি তাঁর জানা আছে।

জৈব

বাংলাদেশে পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কচুরিপানার বেডে বিষমুক্ত ভাসমান সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষক

কচুরিপানার বেডে বিষমুক্ত ভাসমান সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষক
কচুরিপানার বেডে বিষমুক্ত ভাসমান সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষক

নাটোরের বড়াইগ্রামে কচুরিপানার বেডে ভাসমান সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। ফলে দিনে দিনে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এক সময়ের ক্ষতিকর কচুরি পানা এখন কৃষকের উপকারী সঙ্গী।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভাসমান বেডে সবজি চাষ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বাটরা, বাঘাইট, মেরিগাছা, ধানাইদহ, তারানগর গ্রামে কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করা হচ্ছে। চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রনোদনা ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে কৃষি দফতর। এসকল ভাসমান বেডে লাল শাক, সবুজ শাক, ধনিয়া পাতা, পালং শাক, গিমা কলমি, জাঙলায় লাউ ও শষার চাষ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সরেজমিন উপজেলার নগর ইউনিয়নের বাটরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় চাষী আব্দুল মজিদ বাড়ির অদূরে বিলের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে আটটি বেড তৈরি করেছেন। সেখানে লাল শাক, গিমা কলমি, লাউ ও শষার চাষ করেছেন। 

পাশেই আব্দুল বারী নামে অপর এক কৃষকও একই ফসল করেছেন।

চাষী আব্দুল মজিদ বলেন, ভাসমান বেডে সবজি চাষ খুবই লাভজনক। বেডে প্রকৃতিক উপাদানে জৈবিক সক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। কোনো প্রকার সার ও কিটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। আবার যে জমিতে সবজির চাষ করা হয় এমনিতে জলাবদ্ধতা ও কচুরিপানার কারণে সেখানে কোনো ফসল হতো না। এখন সেখানে ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

চাষী আব্দুল বারী বলেন, চলতি বছর আমার এক বিঘা জমিতে ভাসমান বেড করে সবজি চাষ করেছি। ইতিমধ্যে সব খরচ বাদে আমার প্রায় সোয়া লাখ টাকা আয় হয়েছে। যেটা অন্য কোনো বছর হয় নাই। আবার ডাঙ্গার জমিতে সবজি চাষ করেও পাই নাই।

তারানগর গ্রামের অপর চাষী খাদেমুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করে প্রথম বছরেই লাভবান হয়েছি। গ্রামের অনেক চাষী ইতিমধ্যে ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি চাষ শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার ইকবাল আহমেদ বলেন, ভাসমান বেডে সবজি চাষ একটি লাভজনক ফসল। এটা আবার বিষ মুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য ও জলবায়ুর জন্য উপকারী। যে সকল স্থানে সবজি চাষ হচ্ছে সেখানে কচুরীপানা ও জলাবদ্ধতার করণে কৃষক কোনো চাষ-বাস করতে পারতেন না। ভাসমান বেড তৈরিতে কচুরী পানা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কচুরীপানা এক সময় পনে জৈব সারে পরিণত হচ্ছে। আবার 
জলাবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদনও ব্যহত হচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

ব্লু ইকোনমির নতুন সম্ভাবনা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল

মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল
মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল

স্পিরুলিনা এক ধরনের এককোষী আঁশ জাতীয় নীলাভ শৈবাল। যা সাগরের ক্ষারীয় পানিতে জন্মে। এ শৈবাল থেকে ৫৫-৬০% প্রোটিন পাওয়া যায়। মানুষের খাদ্য হিসেবে এর ব্যবহার রয়েছে। তবে মাছ ও পোল্ট্রির খাদ্য হিসেবে স্পিরুলিনার ব্যবহারে খাদ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জানা যায়, মাছসহ অন্যান্য জীবের খাদ্য হিসেবে স্পিরুলিনা শৈবালের বাণিজ্যিক চাষের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগ। এ উপলক্ষে ৪ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের ইনারগাইয়্যা কোম্পানির সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

Spirulina

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. মাহফুজুল হক এবং কোম্পানির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. সাউমিল শাহ স্বাক্ষর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ, একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আহসান বিন হাবিব, প্রফেসর ড. এসএম রহমত উল্লাহ, প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমীন, প্রফেসর ড. মো. আলী রেজা ফারুক, প্রফেসর মো. সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী প্রফেসর কে এম শাকিল রানা। 

মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল
মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল

প্রফেসর ড. মো. আহসান বিন হাবিব জানান, স্পিরুলিনা অত্যন্ত উন্নত মানের খাদ্য হিসেবে অন্যান্য দেশে বিশেষভাবে সমাদৃত। কারণ প্রোটিনসমৃদ্ধ এককোষী নীলাভ-সবুজ উদ্ভিদে লিপিডাস ৬-১০%, খনিজ লবণ ১২-১৬% ও শর্করা জাতীয় উপাদান রয়েছে। এছাড়া এটি লিগমেন্টাস, ফাইকোসায়ানিন, ভিটামিন, মিনারেলস ও হরোমোন তৈরি করে থাকে।

মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল
মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যে স্পিরুলিনা শৈবাল

তিনি আরও জানান, প্রোটিন ও লিপিডের সমন্বয়ে গঠিত ফাইকোসায়ানিন অত্যন্ত আকর্ষণীয় রং তৈরি করে। ফলে এ রং প্রসাধনী সামগ্রী, ওষুধ, পানীয় ও খাবার ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। যার দাম প্রতিকেজি প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। স্পিরুলিনা মানুষ, মুরগি, গরু, ছাগলের খাদ্যেও বিকল্প হিসেবে ৭৫% ব্যবহার করা সম্ভব। 

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের খাদ্যে ৭৫ শতাংশ মাছের মিলের পরিবর্তে স্পিরুলিনা ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

যশোরে দেশের প্রথম আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com