আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

নারীর অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা

পৃথিবীর ৫ থেকে ১৫ শতাংশ নারী অতিরিক্ত অবাঞ্ছিত লোম বা হারসিউটিজমের সমস্যায় ভোগেন। এটি আসলে শুধু লোমজনিত সমস্যা নয়, এটি অনেক সমস্যা মেলানো একটি লক্ষণের অংশ।

অ্যান্ড্রোজেন নামের হরমোনজনিত শারীরিক সমস্যার একটি লক্ষণ এই অবাঞ্ছিত লোম। অ্যান্ড্রোজেনের (যেমন টেস্টোস্টেরন) মূল কাজ পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিকশিত করা। নারীর শরীরেও এ ধরনের পুরুষ হরমোন সামান্য পরিমাণে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। কিন্তু স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্ড্রোজেন তৈরি হলে তাঁদের শরীরে লোমের আধিক্য দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে লোমগুলো মোটা ও গাঢ় কালো রঙের, যা মুখ, বুক, তলপেট, পিঠ, ওপরের বাহু বা ঊরুতে
দেখা যায়।

মূলত কিশোরী, তরুণী বা কম বয়সীদের সমস্যা হলেও যেকোনো বয়সেই এ ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। মেনোপজের পর অনেকেই এ সমস্যায় নতুন করে পড়তে পারেন।বিজ্ঞাপন

হারসিউটিজমের কারণ

অবাঞ্ছিত লোমের এই সমস্যার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) অন্যতম। এ ছাড়া অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির রোগ, ওভারি বা ডিম্বাশয়ের টিউমার এবং অন্যান্য কিছু হরমোন গ্রন্থির অস্বাভাবিকতার উপসর্গ হিসেবে অতিরিক্ত লোমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের (যেমন অ্যান্ড্রোজেন বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ, ফিনাইটয়েন, মিনক্সিডিল) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো কারণই খুঁজে পাওয়া যায় না।

অতিরিক্ত লোমের প্রধানতম কারণ পিসিওএস। এ রোগে আক্রান্ত নারীদের ডিম্বাশয় থেকে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন নিঃসরিত হয় এবং অ্যান্ড্রোজেনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। শহুরে বিলাসী জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের কারণে স্থূলতা বাড়ে। এই পিসিওএসের ব্যাপকতা সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বেড়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হয়, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ এ রোগে ভুগছেন।

অবাঞ্ছিত লোম কেবল সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়, এর সঙ্গে আরও নানা সমস্যা ও জটিলতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

অনিয়মিত মাসিক

দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকা, নির্ধারিত সময়ে আগে বা পরে অনিয়মিতভাবে মাসিক হওয়া এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। পিসিওএসের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাসিক অনিয়মিত হলেও কারও কারও মাসিক স্বাভাবিক থাকতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভপাত

এ রোগে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে পারে না। ফলে ডিম্বস্ফুটন (ওভল্যুশন) ঠিকমতো হয় না। এ কারণে পরবর্তী সময়ে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। তা ছাড়া এ রোগে আক্রান্ত নারীদের গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি।

জরায়ু ক্যানসার

দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকলে জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

স্থূলতা

পিসিওএসের বেশির ভাগ রোগীর ওজন বেশি, তাই এদের স্থূলতাজনিত বিভিন্ন জটিলতা থাকে। আবার কারও কারও ওজন স্বাভাবিক থাকতে পারে।

ডায়াবেটিস

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো পিসিওএসের মূল কারণ হলো শরীরের ইনসুলিন অসংবেদনশীলতা। ফলে পিসিওএসের রোগীর ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস থাকে। তা ছাড়া এদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও অনেক বেশি।বিজ্ঞাপন

উচ্চ রক্তচাপ

এদের অনেকের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রাও এদের বেশি।

এসব কারণে পিসিওএসের রোগীদের হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে অন্যদের তুলনায় বেশি।

অতিরিক্ত ওজনের জন্য কারও স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের সমস্যাজনিত রোগ) হতে পারে। দুশ্চিন্তা, অবসাদ, সাইকোসেক্সুয়াল সমস্যাসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা হতে পারে। সব রোগীর একই ধরনের সমস্যা থাকে কি? না, তা নয়। পিসিওএসের সব রোগীর সব সমস্যা একসঙ্গে না–ও থাকতে পারে। সচরাচর বয়ঃসন্ধিকালে অনিয়মিত মাসিকের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ব্রন, মুখে অবাঞ্ছিত লোম ইত্যাদি উপসর্গের মাধ্যমে এ রোগের শুরু। এ সময় ওজন কমানোসহ সঠিক চিকিৎসা না করলে পরবর্তী সময়ে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বয়স বাড়তে থাকলে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

কী করবেন

মনে রাখবেন, অবাঞ্ছিত লোম সমস্যার সঙ্গে অন্য আরও অনেক সমস্যা জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই কেবল লোমের সুরাহা করতে ব্যস্ত না থেকে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। থাইরয়েড ও অ্যান্ড্রোজেন হরমোন, রক্তে চিনি, চর্বি, রক্তচাপ, ওভারি বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির আলট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদি পরীক্ষার দরকার হতে পারে।

  • রোগ নির্ণয়ের পর উপসর্গ অনুযায়ী পুষ্টিবিদ, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, ত্বক বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নিতে হতে পারে।
  • এ রোগের চিকিৎসা শুরু হবে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে। সুষম খাবার, ব্যায়াম, সঠিক ওজন অর্জন করা এবং ধরে রাখা চিকিৎসার মূল ভিত্তি। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে মেটাফরমিন, মাসিকের সমস্যা, লোম এবং ব্রনের জন্য ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন-সমৃদ্ধ পিল (জন্মবিরতিকরণ বড়ি) এবং স্পাইরনোল্যাক্টোন–জাতীয় ওষুধ ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন ডি ব্যবহারেও সুফল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে লোম কমানোর জন্য অন্যান্য চিকিৎসা, যেমন লেজার থেরাপি, মলম ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চর্বির অস্বাভাবিকতা থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। সময়মতো বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা করা হলে সে ক্ষেত্রেও সুফল পাওয়া যায়।

দৈনন্দিন

পুষ্টির পাশাপাশি কামরাঙা যখন বিষ

কামরাঙা টক জাতীয় এই ফলে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে এবং এতে ক্যালরিও কম। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য কামরাঙা বিষ হিসেবে কাজ করতে পারে, তাই সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রতিবেদনে কামরাঙার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই তুলে ধরা হলো। রাইজিংবিডি

সুস্থ মানুষেরা পরিমিত পরিমাণে কামরাঙা খেয়ে উপকার পেতে পারেন। কামরাঙার উল্লেখযোগ্য ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুলো হলো- ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট ও কপার। একাধিক গবেষণার ফলাফলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, কামরাঙা ক্যানসার এড়াতে সাহায্য করবে। এই ফলের ফাইবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ফাইবার ওজন কমাতেও সহায়তা করে। এসব ফাইবার বিপাক ও হজম ক্রিয়া উন্নত করে- এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, পেট কামড়ানি ও ডায়রিয়া থেকে উপশম পাওয়া যায়।

কামরাঙার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সোরিয়াসিস ও ডার্মাটাইটিসের উপসর্গ প্রশমিত করতে পারে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে, যা শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনের মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হলে কোভিড-১৯ এর মতো ভাইরাস সংক্রমণ সহজেই বিতাড়িত হয়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ জনিত গলা ব্যথা কমাতেও ফলটি অবদান রাখতে পারে।

কামরাঙার উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ও যথাযথ রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে। এতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

কামরাঙাতে বহুবিধ পুষ্টি রয়েছে বলে আমরা সহজেই ধরে নিতে পারি যে, এটি খেলে শরীর উপকৃত হবে। কিন্তু একথা সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়, বিশেষত যাদের কিডনি রোগ রয়েছে। গবেষকরা জানান, এই ফলে ক্যারামবক্সিন নামে যে বিষ রয়েছে তা কিডনি রোগকে শোচনীয় করে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সুস্থ কিডনি এই বিষকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারে, কিন্তু এই কাজে অসুস্থ কিডনির সক্ষমতা কম।

কিডনি রোগীর শরীরে ক্যারামবক্সিন জমতে থাকে এবং একসময় মস্তিষ্কে চলে আসে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এই বিষ বেড়ে গেলে এসব উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে- হেঁচকি, পেশির অসাড়তা, খিঁচুনি, মানসিক বিভ্রান্তি ও দীর্ঘসময় চেতনাহীনতা (কোমা)। অতঃপর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে।শরীরে ক্যারামবক্সিনের বিষক্রিয়া হচ্ছে ধারণা করলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে, অন্যথায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।

ব্রাজিলে অবস্থিত পন্টা গ্রোসা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কিডনি রোগীর পেট খালি থাকলে বেশি কামরাঙা না খেলেও বিষক্রিয়ায় ভুগতে পারেন। কামরাঙা খাওয়ার আগে প্রচুর পানি পান না করলে বিষক্রিয়া আরো বেড়ে যেতে পারে। কিডনি যত বেশি অকার্যকর হবে, বিষক্রিয়া জনিত পরিণতির ঝুঁকিও তত বেশি। তবে শরীরে ক্যারামবক্সিনের মাত্রা কত হলে বিষক্রিয়া হয় তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি গবেষকরা।

কিডনি রোগের ধরন যেমনই হোক না কেন, সতর্কতাস্বরূপ কামরাঙা পরিহার করাই উত্তম। কিডনি রোগের পাশাপাশি স্নায়ুতাত্ত্বিক সমস্যা থাকলে এই ফল মুখে না নেওয়াটাই নিরাপদ।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘আমার তো কিডনির সমস্যা নাই, তাহলে আমি কি ইচ্ছেমতো কামরাঙা খেতে পারব?’ বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি হয়তো জানেন না আপনার কিডনিতে কোনো সমস্যা আছে কি না; তাই সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

কিডনি রোগ নেই ভেবে ইচ্ছেমত কামরাঙা খেতে যাবেন না, নিশ্চিত হতে চেকআপের প্রয়োজন আছে। এমনকি কিডনি সুস্থ হলেও এই ফল বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ অক্সালেটের প্রভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া ক্যারামবক্সিনের প্রভাবে স্নায়ুতাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

কামরাঙা খেতে চাইলে এই তিন পরামর্শ বিবেচনা করুন- খালিপেটে খাবেন না, বেশি পরিমাণে খাবেন না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সিদ্ধ করে রাখা ডিম কতক্ষণ পর্যন্ত খাওয়া উচিত

সিদ্ধ করা ডিম সব কিছুরই সঙ্গে খেতে ভালো লাগে। অনেকেই অফিসের টিফিনেও ডিমসিদ্ধ নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু সকালে সিদ্ধ করে রাখা ডিম দুপুরবেলায় খাওয়া কি ঠিক? বা সিদ্ধ করা ডিম কতক্ষণ ভালো থাকে?

ঠিক ভাবে রাখতে পারলে সিদ্ধ করা ডিম ফ্রিজে সপ্তাহখানেক ভালো থাকে, কিন্তু তারপরই তা নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। আর ডিম যদি ফ্রিজে না রাখেন তাহলে সিদ্ধ করার অন্তত ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ডিম খেয়ে ফেলা উচিত। কারণ ডিম খুব তাড়াতাড়িই নষ্ট হয়ে যায়। সেই কারণে বিশেষজ্ঞরা বার বার টাটকা ডিমই খেতে পরামর্শ দেন।

সিদ্ধ করা ডিম ভালো রাখার জন্য সবার আগে তাপমাত্রার দিকটা খেয়াল রাখা উচিত। কারণ ডিম সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রা হওয়া জরুরি। এই তাপমাত্রায় রেখে ডিম খোসাসহ ফ্রিজে রেখে দিলে সপ্তাহখানেক ভালো থাকবে। কোনও ভাবেই খোসা ছাড়ানো সিদ্ধ করা ডিম ফ্রিজে রাখবেন না। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নিয়মিত ঠান্ডা পানি পানে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

লেখক

আমাদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ তাপমাত্রার পানির থেকে ঠান্ডা পানি পান করতে বেশি পছন্দ করেন। ঠান্ডা পানি পানে স্বাস্থ্যের ওপর যেমন ভাল প্রভাব পড়ে, তেমন বেশ কিছু ক্ষতিকারক প্রভাবও পড়ে। তাহলে জেনে নিন অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করলে স্বাস্থ্যের উপর কেমন প্রভাব পড়ে:হার্ট রেট কমে যেতে পারেঠান্ডা পানি পান করার একটি ক্ষতিকারক দিক হলো, হার্ট রেট কমে যাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠান্ডা পানি কেবল হৃদস্পন্দনকেই কমায় না, এটি ভ্যাগাস নার্ভকেও উদ্দীপিত করে। নার্ভটি শরীরের অনিচ্ছাকৃত কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভ্যাগাস নার্ভের উপর ঠান্ডা পানি সরাসরি প্রভাব ফেলে, ফলে হার্ট রেট কমে যায়।\

শরীরকে শক দিতে পারেকঠোর পরিশ্রমের পর কখনোই ঠান্ডা পানি পান করা উচিত নয়। তবে অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের পর ঠান্ডা পানি পান করতে পছন্দ করেন, বিশেষ করে গরমকালে শরীরচর্চা করার পর। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার পর ঈষদুষ্ণ পানি পান করা উচিত। কারণ শরীরচর্চার সময় শরীরে প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয়। তাই ওই সময় ঠাণ্ডা পানির সেবন, শরীরের তাপমাত্রায় অসামঞ্জস্যতা আনতে পারে। যার ফলে হজমে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া শরীরচর্চার পরপরই ঠান্ডা পানি পান করলে, দীর্ঘস্থায়ী পেটে ব্যথা হতে পারে, কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা পানি আমাদের শরীরে শক দেয়। ফ্যাট ব্রেকডাউনে প্রভাব ফেলেখাবার খাওয়ার পরই ঠান্ডা পানি পান করলে তা শরীরের ফ্যাট ব্রেকডাউনের ক্ষমতাকে হস্তক্ষেপ করে। ঠান্ডা পানি খাবার থেকে আসা ফ্যাটকে শক্ত করে। ফলে শরীর থেকে অবাঞ্ছিত ফ্যাট ব্রেকডাউন কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া, খাবার খাওয়ার পর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করতে চাইলেও কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর পান করা ভাল। 

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারেহজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখার জন্য ঘরোয়া তাপমাত্রার পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে ঠান্ডা পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মূল কারণ হল, ঠান্ডা পানি পান করার ফলে খাদ্য শক্ত হয়ে যায় এবং শরীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া, অন্ত্রও সংকুচিত হয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম প্রধান কারণ। হজমে প্রভাব ফেলেঠান্ডা পানি হজমে গুরুতর প্রভাব ফেলে। ঠান্ডা পানি এবং কিছু ঠান্ডা পানীয় রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে এবং হজমেও প্রভাব ফেলে। ঠান্ডা পানি পান করার ফলে, হজমের সময় পুষ্টি শোষণের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মাথার চুল বাড়ায় শিউলি ফুল!

লেখক

সকালে শিশির মাখা শিউলি ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। শিউলি মূলত শরতেরই ফুল। তবে শিউলির শোভা ও সৌরভ হেমন্তেও কিছুটা থাকে।

রূপেগুণে পরিপূর্ণ এই ফুল। সুবাস ছড়ানোর পাশাপাশি নানা রকম ওষুধি গুণে ভরপর এই ফুল। অনেকের কাছে এই ফুলটি খুবই প্রিয়। নানা কাজে শিউলি ফুল ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক শিউলি ফুলে গুণগুলো।

আর্থারাইটিস ও সাইটিকার ব্যাথা সারাতে: প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি ফুলের পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে, ছেঁকে নিয়ে তা পান করুন। এতে আপনার আর্থারাইটিসের ও সাইটিকার ব্যাথা কমবে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে এই ব্যাথা দূর হবে।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে: ব্রণ দূর করতে দারুণ কাজ করে শিউলি। কারণ এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি গুণ। যা আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি। এটি মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

গলার আওয়াজ: কারণে-অকারণে গলার আওয়াজ বসে যায়? তবে আপনি শিউলি পাতার রস ২ চামচ পরিমিত মাত্রায় গরম করে দিনে দুইবার খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

জ্বর কমাতে: জ্বর কমাতে বেশ সাহায্য করে শিউলি। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কমাতে শিউলির চা পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কৃমি ও মেদ সমস্যা সমাধানে: শিউলিফুলের পাতার  রস অল্প গরম করে নিয়মিত কয়েকদিন খান। কৃমি সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। এছাড়া শিউলি গাছের ছালের চূর্ণ সকালে ও বিকালে গরম পানিতে খেলে মেদ কমে।

ম্যালেরিয়ার পর: গবেষণা দেখা গেছে, ম্যালেরিয়ার সময় শিউলি পাতার বাটা খেলে এই রোগের উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে। ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটগুলো নষ্ট হয়, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ে। 

মাথার চুল বাড়ায়: শিউলি ফুলের পাতা নারকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নিন। এরপর পাতা ফেলে দিয়ে তেল সংরক্ষন করুন। এই তেলের ব্যবহারে আপনার মাথার চুল বাড়তে পারে।

শিউলি গাছের নির্যাস প্রাণীদের পাকস্থলিতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া মানব দেহে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শিউলি গাছের যাবতীয় অংশ সেবন করতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

হিজাবিদের চুলে খুশকি, সমস্যার সমাধান কী?

লেখক

হিজাব পরেন এমন অনেকেই প্রায়ই জানতে চান, কীভাবে চুলের যত্ন নিলে এবং কোন প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করলে খুশকিসহ চুলের এমন কমন কিছু সমস্যা থেকে সহজেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। তাই আজকে জেনে নেব, কী কী কারণে হিজাবিদের চুলে খুশকি বেড়ে যেতে পারে এবং এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী কিছু সমাধান। হিজাবিদের চুলে খুশকির উপদ্রব সাধারণত বেশি দেখা যায়! কিন্তু কেন? যেকোনো সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই যদি তা প্রতিহত করা যায়, এর চেয়ে ভালো সমাধান আর কী হতে পারে? হিজাবিদের কিছু অসচেতনতা এবং লাইফস্টাইলে অসাবধানতার কারণেও কিন্তু দেখা দিতে পারে খুশকিসহ নানান হেয়ার সমস্যা। তাই শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, হিজাবিদের চুলে খুশকির উপদ্রব কেন বেশি দেখা যায়। 

  • টানা অনেকক্ষণ ধরে হিজাব পরে থাকলে

হিজাবিদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা কোনো রকম ব্রেক না দিয়ে সারাদিন লম্বা সময় ধরে হিজাব পরে থাকেন। এর ফলে চুলে এবং চুলের গোঁড়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না। তাই চুলের গোঁড়া তেল চিটচিটে হয়ে খুশকির সৃষ্টি হয়। 

  • তাড়াহুড়া করে চুল না শুকিয়েই হিজাব পরা হলে

কোথাও বের হওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে গোসল করে হিজাব পরেই বের হয়ে যাওয়া অনেকের একটি কমন অভ্যাস, যা চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ভেজা অবস্থায় কোনোভাবেই চুলে হিজাব পরবেন না। 

  • খুব টাইট করে চুল বাঁধা হলে

চুল খুলে যাওয়া বা বের হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই খুব টাইট করে চুল বেঁধে রাখেন। এতে চুলের গোঁড়া দ্রুত ঘেমে যায়। আর এই ঘাম থেকেই পরে খুশকির সৃষ্টি হয়। 

  • বাতাস প্রবেশে বাঁধা পায় এমন কাপড়ের হিজাব ব্যবহার করলে

হিজাবের কাপড় বাছাই করার সময় এমন কাপড় বেছে নিতে হবে যা আরামদায়ক এবং যা দিয়ে সহজেই মাথায় বাতাস প্রবেশ করতে পারে। বাতাস প্রবেশ না করার ফলে চুলের গোঁড়ায় ঘাম জমে খুশকি বেড়ে যায়। 

  • হিজাবের কাপড় ব্যবহারের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না রাখলে

হিজাবের কাপড় নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করা না হলে, এতে মাথার ত্বকের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ বেড়ে যায়। তাই কোনোভাবেই ময়লা হিজাব ব্যবহার করা যাবে না। 

  • সঠিক ভাবে হেয়ার কেয়ার করা না হলে

হিজাবিদের মধ্যে অনেকেই রেগুলার হেয়ার কেয়ারে প্রচণ্ড অনীহা করে থাকেন। অথচ হিজাবিদের সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন বা প্রয়োজন বুঝে নিয়মিত ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।

তাই, যারা হিজাব পরেন তাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে চুলের সুরক্ষার পাশাপাশি চুলকে খুশকিমুক্ত এবং অয়েল ফ্রি রাখতে উপরের কাজগুলো করা থেকে নিজেদের বিরত রাখা ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com