আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

নারীদের কবর জিয়ারতে ইসলাম যা বলে

ইসলাম ডেস্ক: কবর জিয়ারত মানুষকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখে। এ কারণেই কবর জিয়ারত করা সুন্নাত। এ সুন্নাত আমল কি শুধু পুরুষের জন্য? নারীরা কি বাবা-মা, স্বামী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে পারবে না? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

দুনিয়ার খ্যাতি, সম্পদের প্রতিযোগিতা কিংবা ক্ষমতার মোহ কমাতে কবর জিয়ারতের বিকল্প নেই। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে কবর জিয়ারত করতে বলেছেন। এটি একটি সুন্নাতি আমল।

নারীর কবর জিয়ারত;  তবে এক সময় নারীদের কবর জিয়ারতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরবর্তীতে তা তুলে নেওয়া হয়েছে মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগে নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা নিষেধ ছিল। পরে নারীদের কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়। বিধায় তারাও কবর জিয়ারত করতে পারবেন। একাধিক হাদিস থেকে তা প্রমাণিত-

১. হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রতি জুমআবার তাঁর চাচা হজরত হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর জিয়ারত করতেন। তিনি সেখানে নামাজ পড়তেন, কান্নাকাটি করতেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম)

২. উম্মাহাতুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাও কবর জিয়ারত করতেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, একদিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কবরস্থান থেকে আসলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোথা থেকে আসলেন? তিনি বললেন, আমি আমার ভাই আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের কবরের কাছ থেকে আসলাম।

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেননি?
তিনি উত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ’, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কবর জিয়ারতের আদেশ করেছিলেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, বায়হাকি)

৩. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রিয় নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হজরত আবু বকর সিদ্দিক ও হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কবর জিয়ারত করতেন।’

নারীর কবর জিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা: নারীর কবর জিয়ারতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বনবি। নারীর কবর জিয়ারতের নিষেধাজ্ঞার সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইমাম তিরমিজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেছেন যে ইসলামিক স্কলারদের মতে, যে হাদিসে কবর জিয়ারতকারী নারীদের অভিশাপ করা হয়েছিল; সেটি ছিল ইসলামের প্রথম যুগের হাদিস। তখন কবর জিয়ারত ইসলামে নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে যখন নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তখন সে অনুমতি পুরুষ-নারী নির্বিশেষে সবার জন্যই দেওয়া হয়েছে।’

নারীর কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়ার পরই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে ফাতেমা ও স্ত্রী হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের আপনজনদের কবর জিয়ারত করেছেন মমে হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়।

নারীর কবর জিয়ারতের শর্ত: তবে নারীর কবর জিয়ারতে রয়েছে শর্ত। কবর জিয়ারত করতে গিয়ে বেপর্দা হওয়া যাবে না। পর্দা রক্ষা করে সম্ভব হলেই কেবল নারীরা আজনজনদের কবর জিয়ারত করতে পারবেন। তাই নারীদের জন্য কবরস্থানের পরিবেশের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। কবরস্থানে কান্নাকাটি বিলাপ বা যে কোনো ধরনের শোরগোল করা যাবে না।

মনে রাখতে হবে: আপনজনের কবরের সঙ্গে যদি কোনো গায়রে মাহরামের কবর থাকে। যাদের সঙ্গে সম্পর্কের দিক থেকে বিয়ে বৈধ। এসব পরিপ্রেক্ষিতে জীবিত অবস্থায় যেভাবে তাদের সঙ্গে পর্দার বিধান ছিল ঠিক সেভাবে কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রেও সতর ও পর্দার কথা স্মরণ করে কবর জিয়ারত করতে হবে।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কীভাবে কবর জিয়ারত করতেন?
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী এবং হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে। কিন্তু হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিল তার জন্য গায়রে মাহরাম। তিনি কিভাবে এ তিন জনের কবর জিয়ারত করতেন?
মুসনাদে আহমদ ও হাসিয়াতু জামিয়ালি মাসানিদ ওয়াল সুনানে এসেছে, আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রওজা শরিফে আল্লাহর রাসুল ও আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর ছিল তখন আমি স্বাভাবিকভাবেই কবরের কাছে যেতাম। যখন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দাফন করা হয; (তিনি ছিলেন গায়রে মাহরাম) তখন আমি ভালোভাবে কাপড় পরে পর্দাসহ জিয়ারত করতাম।’

নারীর কবর জিয়ারতের বিশেষ সতর্কতা
পর্দা ও পবিত্রতার সব শর্ত রক্ষা করে নারীরা আপনজনের (মাহরাম) কবরের কাছে যেতে পারবেন। তবে, তাদের জন্য পুরুষের মতো কবর জিয়ারতের সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ ইসলামের শত্রুরা নারীর কবর জিয়ারতকে অমর্যাদা হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করে।
আর যারা ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ ও অনুকরণ করে চলেন, তারা বেগানা পুরুষের কবরের পাশেও পর্দা রক্ষা করেন। অবশ্য একাকি কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে যাওয়া বা কাছ থেকে দেখা, তাদের জন্য দোয়া করা নারীর জন্য নিষেধ নয়।

আপনজনদের কবরস্থানে যাওয়ার বা দোয়া করার অনুমতি থাকলেও নারীদের জন্য জানাজার নামাজে শরিক হওয়ার কোনো বিধান ইসলামি শরিয়তে নেই। আবার আলাদাভাবে জানাজা নামাজ বা মূল জামাআতে কোথাও তারা জানাজা পড়তে পারবেন না। নারীদের জন্য জানাজা ওয়াজিবও নয়। তবে তারা মৃতব্যক্তির জন্য দোয়া, দরূদ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ইত্যাদি করতে পারবেন। ( জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামি ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ)

সুতরাং মুমিন মুসলমান নারীর উচিত, পর্দা ও পবিত্রতার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। কোনো ধরনের ফেতনা ও পর্দার লঙ্ঘন না হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে আপন-জনদের কবর জেয়ারত করতে যাওয়া। পর্দার খেলাপ হয় এমন অনুগামী হয়ে পুরুষদের সংশ্রব ও সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলা। কবরের পাশে উচ্চ স্বরে বিলাপ বা শোরগোল থেকে মুক্ত থাকা। পর্দা ও পবিত্রতার খেলাপ হবে মনে করলে নারীদের কবর জিয়ারত করতে না যাওয়াই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে ইসলামের দিকনির্দেশনার ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের জন্য কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

প্রতিদিন ওমরা করতে পারবেন ৭০ হাজার

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি চালু হয়েছে পবিত্র ওমরা। শুরুতে সীমিতসংখ্যক মানুষকে এই সুযোগ দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে দৈনিক ৭০ হাজার মানুষ ওমরা আদায় করতে পারবেন।

৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয় বলে জানিয়েছে আরব নিউজ।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দৈনিক ওমরা আদায়কারীদের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০ হাজার করা হলেও স্বাস্থ্য সচেতনতা ও করোনাবিধির প্রতি সম্পূর্ণরূপে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওমরা করতে ইচ্ছুকরা তাওয়াক্কালনা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।’

এর আগে সৌদি আরবের হজ ও ওমরা সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ ওয়াজান জানিয়েছিলেন, ওমরা আদায়কারীদের সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার এবং এক লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

আল আরাবিয়া চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যারা ওমরার অনুমতি পেয়েছেন তাদের কার্যক্রম শুধু তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়া সায়ি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয় বরং বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ ওমরা পালনকারীদের অন্যান্য সব ইবাদত করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এই অনুমতির অধীনে ওমরা আদায়কারীরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় এবং মদিনায় মসজিদে নববিতে জিয়ারত করতে পারছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ফিতনা থেকে বাঁচার পাঁচ উপায়

পৃথিবী যতই এগিয়ে যাচ্ছে নানা রকম ফিতনা ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের সব সরঞ্জাম হাতের মুঠে থাকায় চারিত্রিক অবক্ষয়ও একদম তলানিতে। দিন যতই যাচ্ছে নানা সংকট যেন আরো বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) শেষ জামানায় ফিতনার ভয়াবহ বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘শিগগিরই ফিতনা রাশি রাশি আসতে থাকবে। ওই সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাঁড়ানো ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি থেকে বেশি রক্ষিত। আর ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে বেশি বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তাহলে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৬০১)

এই হাদিসের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে ফিতনা মানুষের জন্য এক বড় সংকট। তাই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। নিম্নে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো—তাকওয়াময় জীবনচর্চা

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিনের অনিবার্য একটি গুণ। এই গুণ অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজে ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাবেয়িদের যুগে একবার ফিতনা দেখা দিলে লোকজন তালক ইবনে হাবিবের কাছে এসে জানতে চাইলেন যে চারদিকে অনেক ফিতনার প্রকাশ ঘটেছে, আমরা কিভাবে এর থেকে নিরাপদে থাকব? জবাবে তিনি বলেন, তাকওয়ার মাধ্যমে। তারা বলেন, আমাদের তাকওয়ার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিন। তিনি ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তাকওয়া হলো এমন আমল, যা আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশের জন্য আল্লাহর দেখানো পথে সওয়াব লাভের আশায় করা হয় এবং গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর শাস্তির ভয় করা হয়।’ (আজ-জুহদু ওয়ার রাকাইক : ১/৪৭৩)
 
ভালো কাজে আত্মনিয়োগ

সৎকর্ম বা আমালুস সালেহ মুমিনের অন্যতম গুণ। এ কর্মের মাধ্যমেই একজন মুমিন ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আঁধার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকেলে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে দ্বিন বিক্রি করে বসবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২১৩)

বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিহার করা

একাকী বা বিচ্ছিন্নতাবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে সমাজবদ্ধতা বা মুসলিমদের জামাত আঁকড়ে ধরা। হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা মুসলিমদের জামাত ও ইমামের সঙ্গে আকঁড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোনো জামাত বা ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, ‘তাহলে সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকবে, যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাঁত দিয়ে আঁকড়ে থাকো এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬৭৮)

কোরআন ও সুন্নাহর বিধান আঁকড়ে ধরা

প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ ও যাবতীয় ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার আরেকটি কার্যকরী উপায় হলো, ইসলামী শরিয়তের দুই উৎস কোরআন ও সুন্নাহর বিধানকে নিজেদের জীবনের জন্য অপরিহার্য করে নেওয়া। যারা ইসলামের এই দুই উৎসকে আঁকড়ে ধরবে তারা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুই বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ তা ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নত।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৬০৪)

ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া

যেকোনো অকল্যাণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া মুমিনের অন্যতম হাতিয়ার। দোয়াকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং না চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তাই রাসুল (সা.) দুনিয়া ও আখিরাতের সব ফিতনা এবং কবর ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাতে এই দোয়া বেশি পাঠ করতেন।

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কবরি, ওয়া মিন আজাবিন নারি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৭৭)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতের সব ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ইসলামে দান-সদকার সওয়াব অপরিসীম

ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। একে সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরিয়তে দান-সদকা দুই ভাগে বিভক্ত। একটি এমন দান যা অবস্থাপন্ন মুসলিম ব্যক্তির জন্য ফরজ। এ ধরনের দানই জাকাত। অন্যটি মুসলিম ব্যক্তিকে করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু তার জন্য ফরজ করা হয়নি। এমন দানকে সদকা বলা হয়। আল কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মোমিনরা! তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আল্লাহর স্মরণ থেকে তোমাদের গাফিল না করে। যারা এ কারণে গাফিল হয় তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। নতুবা সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ সুরা মুনাফিকুন, আয়াত ৯-১০। ‘আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের মুখোমুখি কোর না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৯৫। একই সুরায় ২৭৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা রাতে-দিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের ধনসম্পদ খরচ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে বদলা রয়েছে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’

দান-সদকার পাশাপাশি ইসলামের কিছু বিধান মেনে চললেই মানুষ অতি মহৎ মানবিক চরিত্রের অধিকারী হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে অন্য মানুষকে সাহায্য করা, ভালো আচরণ করা, ক্ষমাশীল হওয়া, সহনশীল ও পরোপকারী হওয়া, উদারতা এবং দয়ালু ও মহৎপ্রাণ হওয়া। রসুল (সা.) বলেছেন, মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়া ইমানের অর্ধেক।আল কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সহনশীলতা ও নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সহনশীলদের সঙ্গে আছেন।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৩।
দান-সদকায় ধনসম্পদ ও রিজিক বৃদ্ধি পায়। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত এবং সদকাকে বৃদ্ধি করেন।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৬।

রসুল (সা.) বলেন, ‘সদকা কোনো সম্পদ হ্রাস করে না।’ মুসলিম। হজরত উকবা বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই দান-সদকা কবরের আজাব বন্ধ করে দেয়। আর কিয়ামতের দিন বান্দাকে আরশের ছায়ায় জায়গা করে দেয়।’ তাবারানি, বায়হাকি। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের জীবদ্দশায় ১ দিরহাম দান করা তার মৃত্যুর পর ১০০ দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম।’ আবু দাউদ, মিশকাত)। দান-সদকার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘খেজুরের একটি টুকরা দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা কর।’ বুখারি, মুসলিম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দান সম্পদ কমায় না, দান দ্বারা আল্লাহ বান্দার সম্মান বাড়ানো ছাড়া কমান না। কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয় প্রকাশ করলে আল্লাহ তাকে মানুষের কাছে বড় করে তোলেন।’ মুসলিম।

সদকা পুণ্য ও তাকওয়া অর্জনের উপায়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,  ‘তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কখনো পুণ্য লাভ করবে না।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯২।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকাহ গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পার।’ সুরা তওবা, আয়াত ১০৩। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন যায় না যেদিন দুজন ফেরেশতা পৃথিবীতে আগমন করেন না। তাদের একজন দানশীল ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকেন এবং বলেন, হে আল্লাহ! আপনি দানশীল ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দিন। দ্বিতীয় ফেরেশতা কৃপণের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস ও বরবাদ করুন।’ বুখারি, মুসলিম। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দানকারী আল্লাহর নিকটতম, বেহেশতের কাছাকাছি এবং মানুষের ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে, আর দূরে থাকে ভয়াবহ দোজখ থেকে। পক্ষান্তরে কৃপণ অবস্থান করে আল্লাহ থেকে দূরে, বেহেশতের বিপরীতে এবং মানুষের শুভ কামনার বাইরে অথচ দোজখের একান্ত সন্নিকটে। জাহেল দাতা, বখিল আবেদের চেয়ে আল্লাহর কাছে অবশ্যই বেশি প্রিয়।’ তিরমিজি।

হাদিসে আছে, ‘সাত প্রকারের লোক আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে। তার মধ্যে এক ব্যক্তি সে যে গোপনে এমনভাবে সদকা করে : তার ডান হাত যা খরচ করে বাঁ হাত জানতে পারে না।’ বুখারি, মুসলিম।

প্রশ্ন আসতে পারে, দান-সদকার উত্তম মাধ্যম কোনটি? অভাবীদের দান করা বা মসজিদ-মাদরাসায় দান করা এ রকম আরও অনেক মাধ্যম আছে, এগুলোর মধ্যে কোনটি উত্তম? গরিব -দুঃখীদের দান-সদকা করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।

দানের মধ্যে আরেকটি উত্তম দান হচ্ছে সদকায়ে জারিয়া। যার সুফল সব সময় অব্যাহত থাকবে। যেমন মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, টিউবওয়েল স্থাপন ইত্যাদি। তা দাতা মারা যাওয়ার পরও সুফল অব্যাহত থাকে এবং মানুষ উপকৃত হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান-সদকার তৌফিক দান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

দেড় বছর পর মসজিদে হারামে নারীদের কোরআন পাঠদান শুরু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসছে। পুনরায় চালু হচ্ছে নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায়। সেই ধারাবাহিকতায় দেড় বছর পর এবার পবিত্র মসজিদুল হারামের নারী মুসল্লিদের পবিত্র কোরআনের পাঠ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ফের কোরআন হিফজের এ অধিবেশন শুরু হয়।

মসজিদুল হারামের পরিচালন পর্ষদের জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিভাগের উপসহকারী ড.ফাদিয়া বিনতে মুস্তফা আল আশরাফ বলেন, ‌‘সংশ্লিষ্টি অভিজ্ঞ শিক্ষিকারা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের পাঠদান করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজ ও পাঠ বিশুদ্ধ করাবেন।’

কোরআন পাঠদান কার্যক্রমের প্রধান অধ্যাপক মারয়াম জুবায়ের বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজের কার্যক্রম চলবে। এরপর ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মুসল্লিদের মধ্যে কোরআন পাঠদান চলবে।’

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদে হারামে পবিত্র কোরআনের কপি মুসল্লিদের পাঠের জন্য আগের মতো সরবরাহ করা হয়। নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে আনা হয়। তা ছাড়া মসজিদুল হারামের পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অবশ্য মসজিদের সব কার্যক্রমে স্বাস্থবিধি মেনে কেবল টিকা নেওয়া মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

গত আগস্ট মাস থেকে প্রায় দেড় বছর পর মসজিদে হারামে আলোচনা সভা পুরনায় শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে সৌদির প্রায় ৩৭ মিলিয়ন লোককে টিকা দিয়ে ধীরে ধীরে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

দুপুরের ঘুম ভাব কাটাবেন যেভাবে

দুপুরে খাবারের পর অনেকের আলস্য চলে আসে, ঘুমাতে ইচ্ছা করে। খাওয়ার পর মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস পাওয়ার কারণেই এমন ঘুম ঘুম ভাব আসে।

মানুষের শরীরে এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এ স্বাভাবিক ব্যাপারটি সহজ সাধারণ উপায় অবলম্বন করেই দূর করা যায়। দুপুরের ঘুম ভাব দূর করার কয়েকটি সহজ উপায় চুলন জেনে নেওয়া যাক…
  
পানি পান করুন: পানি ঘুম ঘুম ভাব দূর করার সবয়েছে ভালো ওষুধ। পানি পান করলে আমাদের দেহের কোষগুলো নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এক গ্লাস পানি পান করে নিন। দেখবেন ঝিম ঝিম ঘুম ধরা ভাব কেটে গেছে। এরই সঙ্গে পানি পান করলে মস্তিষ্ক নতুন করে কাজ করার জন্য তৈরি হয়ে যায়।

এক কাপ চা-কফি: চা বা কফি ঝিম ভাব দূর করার জন্য সব চাইতে কার্যকর একটি পানীয়। দুপুরের খাবারের শেষে এক কাপ চা-কফি খেলে এক নিমেষে দূর হবে ঝিম ধরা ভাব। চা-কফির ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে বেশ কার্যকর।

হাঁটাহাঁটি করুন: বসে থাকলে কিংবা চেয়ারে একটু গা এলিয়ে পড়ে থাকলে ঘুম ঘুম ভাব আরও জেঁকে বসে। তাই পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও হাঁটুন। এতে শরীরের আলস্য কেটে যাবে। আর ঘুম ঘুম ভাবও দূর হবে।
 
চোখে মুখে পানি দিন: চোখে পানির ঝাপটা দিন। চোখে মুখে ঠান্ডা পানির একটু ঝাপটা দিলে আমাদের মাথা ঝিম ধরা এবং শরীরে অলসভাব একেবারে দূর হয়ে যায়।

কথা বলুন: আপনি যদি ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে চুপচাপ কাজে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন, তাহলে কখনোই এই ঝিম ধরা ভাবটি যাবে না। কারণ এতে করে আপনার আলস্য কাটানোর কোনো কাজই হচ্ছে না।

দুপুর পরের এই অস্বস্তিকর ভাব থেকে উঠতে চাইলে কলিগ বা সহপাঠীর সঙ্গে ৫-১০ মিনিট কথা বলতে পারেন। আমরা যখন কথা বলি বা কোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে থাকে। তাই অল্প কিছুক্ষণ কথা বলে দেখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com