আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন 'চায়না সবজি গ্রাম'!
পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

অনেকেই ভুলে গিয়েছেন তাঁদের গ্রামের আগের নাম কী ছিল? এমনও হয় নাকি? আলবাৎ হয়। বাংলাদেশের সাভারের তেতুল ঝোড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের নাম এখন সবাই বেমালুম ভুলেই গিয়েছে। এখন সেইসব গ্রামের একটাই নাম, একটাই পরিচয়- ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

কেন এমন হল? জানা গিয়েছে, সাভারের ওই অঞ্চলের কৃষকরা আগে শীতকালীন সবজির চাষই করত। হঠাৎই ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে চাইনিজ খাবারের চাহিদা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি নানা সবজির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সূত্রেই সাভারের ওই সব গ্রামে বিভিন্ন বিদেশি সবজির চাষ শুরু হয়। ধীরেধীরে তাতে মুনাফাও যথেষ্ট বেশি হতে থাকে এইসব বিদেশি সবজি চাষে। ফলে গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এখন বিদেশি সবজি চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

সাভারের প্রায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে হচ্ছে চায়না সবজির চাষ। কী কী সবজি চাষ হচ্ছে? ব্রকোলি, ক্যাপসিকাম, চায়নাপাতা, চাংচিং ওনিয়ন, পিংক বাঁধাকপি-সহ ২২ জাতের বিদেশি সবজি চাষ করছেন সাভারের কৃষকরা।

সাভারে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন বিদেশি সবজির চাষ এখন বিপুল জনপ্রিয়। এই চাষে সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মেইটকা গ্রামের বেকার যুবক-সহ অনেকেই। এছাড়া ভাকুর্তা কাউন্দিয়া এবং ধামসোনা ইউনিয়নের চাষীরাও বিদেশি সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন এবং ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাভারের অনেক বাড়ির ছাদেও এই সব সবজির চাষ করছেন অনেকে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকার চাইনিজ রেস্তোরাঁ ও পাঁচ তারকা হোটেলে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি আড়তেও সাভারের সবজির চাহিদা ব্যাপক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

শাকসবজি

বিষমুক্ত সবজিতে দিন বদল

সবজিবাগানে ঝুলছে লাউ। সেগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক আশরাফুল। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামে
সবজিবাগানে ঝুলছে লাউ। সেগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক আশরাফুল। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামে

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরই বাবার মৃত্যুতে সাত সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে আশরাফুল ইসলামের ওপর। সংসার সামলাতে কৃষক বাবার ছেলে আশরাফুলও শুরু করের কৃষিকাজ। প্রথাগত ধান চাষ করতে গিয়ে অকালবন্যায় পরপর তিনবার ফসল নষ্ট হয়। ২ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও থেমে যাননি আশরাফুল। ঘুরে দাঁড়াতে তিনি শরণাপন্ন হন উপজেলা কৃষি অফিসে। তাদের পরামর্শেই শুরু করেন বিষমুক্ত সবজি চাষ।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের আশরাফুলের সফলতা পেতে সময় লাগেনি। প্রথম বছরেই পেয়ে যান লাভের দেখা। বিষমুক্ত সবজি চাষ করে আশরাফুল এখন সফল কৃষক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় বলছে, এই উপজেলায় আশরাফুল বিষমুক্ত সবজি চাষের প্রবর্তক। ২০১৯ সালে উপজেলা বৃক্ষমেলায় সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কারও পান তিনি।

সম্প্রতি বালিকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আশরাফুল নিজের সবজির বাগানে কাজে ব্যস্ত। হাতের কাজ শেষ করে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান তাঁর জীবনের গল্প। ২০০৫ সালে তাঁর বাবা আবদুল বাতির মারা যান। এরপর মা, তিন ভাই, দুই বোন, স্ত্রী মিলে সাত সদস্যের পরিবারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। পরপর তিনবার অকালবন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে তিনি যখন দিশেহারা, তখন চাচাতো ভাইদের বলে তাঁদের জায়গায় সবজি চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে লাভের দেখা পান। এভাবে বাড়তে থাকে সবজি চাষের পরিধি। ২০১০ সালে তিনি ছোট পরিসরে এই সবজি চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে তিনি ব্যাপকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন। বাবা রেখে গিয়েছিলেন ৪ কেদার (৩০ শতকে ১ কেদার) জমি। এবার তিনি ১২ কেদার জমিতে সবজি চাষ করেছেন। তার মধ্যে ৬ কেদার জমিতে লাউ চাষ করেছেন। ৩ কেদার জমিতে ফুলকপি আর ৩ কেদার জমিতে ব্রুকলি চাষ করেন।

আশরাফুল বলেন, ঘুম থেকে উঠেই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবজির খেতে। কাজ বেশি হলে গ্রামের আরও দুই-তিনজন যুবককে বেতন দিয়ে সহযোগী হিসেবে কাজে নেন। এবার সবজি চাষে তাঁর ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও ৮-১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

আশরাফুলের দেখানো পথ অনুসরণ করে অনেকেই এই পথে হাঁটছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গৌস মিয়া জানান, আশরাফুলের কাছ থেকে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি এবার ৭ কেদার জমিতে সবজি চাষ করেছেন। আশরাফুলের সহযোগিতায় তিনি লাভবান হয়েছেন।

সৌদি থেকে দেশে আসা আশরাফুলের বন্ধু ছইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রবাসে গিয়েও কষ্ট করে যা করতে পারিনি গত পাঁচ বছরে বিষমুক্ত সবজি চাষে আশরাফুল তা করতে পেরেছে। আশরাফুল নিজে বেশি পড়ালেখা করতে না পারলেও ছোট ভাইদের পড়ালেখা শিখিয়েছে। গত বছর একজন সরকারি চাকরিও পেয়েছেন।’

আশরাফুলের ভাই আমির হোসেন বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আশরাফুল অনেক কষ্টে সবজি চাষ করে ভাইবোনদের পড়ালেখা ও সংসার খরচ চালিয়েছেন। এখন ১০ কেদার জমি কিনেছেন। গরু কিনেছেন আরও ১২টি। গরুর গোবর থেকে জৈবসার তৈরি করে সবজি খেতে ব্যবহার করেন। ক্ষতিকারক পোকা দমনের জন্য জাদুর ফাঁদ, সেক্স ফেরমোন পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাশিম বলেন, আশরাফুল এলাকার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি নিজে সবজি চাষে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন। এখন তাঁর কল‍্যাণে গ্রামের মানুষকে সবজি কিনতে হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশরাফুল এই উপজেলার বিষমুক্ত সবজি চাষের প্রবর্তক। একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে আমরা তাঁকে পুরস্কৃত করেছি। যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাঁকে সহযোগিতা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

বিষমুক্ত সবজি চাষে সাফল্য

সবজিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রাজ কুমার পাল। সম্প্রতি নড়াইল সদরের চরবিলা গ্রামে। প্রথম আলোসবজিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রাজ কুমার পাল। সম্প্রতি নড়াইল সদরের চরবিলা গ্রামে
সবজিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রাজ কুমার পাল। সম্প্রতি নড়াইল সদরের চরবিলা গ্রামে। প্রথম আলোসবজিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রাজ কুমার পাল। সম্প্রতি নড়াইল সদরের চরবিলা গ্রামে

রাজ কুমার পাল (৫২) ভ্যান চালিয়েছেন। কখনো মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করেছেন। আবার কখনো পরের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তবু তাঁর সংসারে অভাব লেগেই ছিল। অবশেষে সবজি চাষ করে তাঁর সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

রাজ কুমার পালের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের চরবিলা গ্রামে। বাড়ির সামনের উঠানসহ ৫০ শতাংশ জমিতে শাকসবজি চাষ করেছেন। এই জমিতে শসা, আলু, শিম, ঝিঙে, টমেটো, ডাঁটাশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, লালশাক, ঢ্যাঁড়স ও বাতাবি লেবু চাষ করা হয়েছে। চাষাবাদে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার। বিষমুক্ত সবজি হিসেবে রাজ কুমার পালের সবজি বিশেষ কদরও পাচ্ছে। 

গত বছর থেকে বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেন রাজ কুমার। তবে ওই বছর তিনি কিছুটা লোকসানে পড়েছিলেন। চলতি মৌসুমে তিনি লাভের দেখা পেয়েছেন। ৮ হাজার টাকা ব্যয় করে এ মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের সবজি ফলিয়েছেন। গত ৫০ দিনে সবজি বিক্রি করে ঘরে তুলেছেন ২০ হাজার টাকা। আরও প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হবে। 

রাজ কুমার পাল জানান, প্রতিদিন ভোরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জমি থেকে টাটকা সবজি তুলে পরিষ্কার করেন। পরে বাইসাইকেলে করে ১৫ কিলোমিটার দূরে শহরের বাজারে বিক্রি করতে যান। গত বছর পাইকারি দরে বিক্রি করতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার তিনি নিজেই বাজারে নিয়ে সবজি বিক্রি করছেন । এতে তিনি দামও বেশি পাচ্ছেন। গত বছরের লোকসান এবার উঠে আসবে। 

সবজি চাষে রাজ কুমার পালের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। কৃষিকাজে তাঁকে সহায়তা করেন তাঁর স্ত্রী। এ দম্পতির দুই ছেলে কলেজে পড়েন। সাফল্য আসায় আরও বেশি জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন রাজ কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘টাকা সঞ্চয় করে আগামী বছর কিছু জমি কিনব। বেশি জমিতে সবজি চাষ করলে আরও বেশি লাভ হবে।’ 

রাজ কুমার পালের সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবার বিষমুক্ত সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর প্রতিবেশী ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘রাজ কুমার পরিশ্রমী চাষি। তাঁর দেখাদেখি আমরাও বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেছি। তাঁর কাছ থেকে সবজি চাষ করার কলাকৌশল শিখেছি।’ প্রতিবেশী রমেশ পালও একই কথা বলেন। 

শাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজ কুমার অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে মানুষ করছেন। শুনেছি, তিনি এলাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষ করে শহরের বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর কার্যক্রমে গ্রামের অনেকে এখন বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’ 

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে উপজেলায় ১৫ জন কৃষক বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদ করছেন। বিষমুক্ত সবজি বিক্রির জন্য শহরে একটি  নির্ধারিত দোকান রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

সবজি চাষে সুদিন ফিরেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষক মহিউদ্দিনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া

সরকারি চাকরি ও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বেকার যুবকরা যদি যুব উন্নয়ন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন তাহলে দেশের বেকার সমস্যা থাকবে না

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া সবজি চাষে সুদিন ফিরে পেয়েছেন। ২৫ বিঘা জমিতে তিনি সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার বাগানের উৎপাদিত সবজি জেলার বিভিন্ন বাজারসহ আশপাশের জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

মহিউদ্দিন মিয়া জানান, ২০০৮ সালে একই গ্রামের তার বন্ধু জামাল মিয়ার সাথে যৌথভাবে ৫ বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। শুরুর দিকে তেমন পুঁজি ছিল না। তাই স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই বন্ধু মিলে ৫ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন।

এভাবে জামাল মিয়ার সাথে কয়েক বছর যৌথভাবে সবজি চাষ করার পর ২০১৯ সালে মহিউদ্দিন মিয়া নিজের জমি ও গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে মোট ২৫ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন। মহিউদ্দিন মিয়ার বাগানে বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এ সাহেদ বলেন, “আগে আমরা প্রতি বিঘা জমি বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা জমায় (ভাড়া) দিতাম। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমি সবজি চাষের জন্য বছরে ৭ হাজার টাকা করে জমায় দিচ্ছি।”

কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে টমেটো, পেঁপে, লাউ, ফুলকপি, করলা, ব্রকুলি (সবুজ ফুলকপি), ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ক্যাপসিকাম চাষ করেছি।

“গতবছর ১৮ লাখ টাকা খরচ করে বাড়িতে একটি বিল্ডিং বানিয়েছি। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি।

তাদের সবজির বাগান দেখে এলাকার যুবকরাও সবজি চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গ্রামের আরও ১২ জন যুবক সবজি চাষ শুরু করেছে। সরকারি চাকরি ও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বেকার যুবকরা যদি যুব উন্নয়ন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন তাহলে দেশের বেকার সমস্যা থাকবে না।

এব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি র্কমর্কতা মুন্সি তোফায়েল হোসেন জানান, সদর উপজেলার ৬৫০ হেক্টর জমিতে এবছর সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি চাষে কৃষকরা খুবই লাভবান হচ্ছে। কৃষকরা দিনদিন আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার সবজির বাগানসহ অন্যান্য সবজির বাগানগুলো তিনি নিয়মিত তদারকি করেন। এসব সবজির বাগানে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

সবজিতে সবুজ চাকলা গ্রাম

কপিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক
কপিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

‘ধান আবাদোত খালি লস। আলু আবাদও পোষায় না। এই জন্যে চার বছর থাকি মুই সবজির আবাদ করছুং।’ এই কথা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার চাকলা গ্রামের আলিম উদ্দিনের। সবজি আবাদ করে তিনি লাভের মুখও দেখছেন। বললেন, ‘এবার ১৫ হাজার টাকা খরচ করি ৮০ শতক জমিত মুলা নাগাছনু। খরচ বাদে লাভ হইছে ৬০ হাজার টাকা।’

শুধু আলিমই নন, তাঁর গ্রামের অনেক কৃষকই ধান ও আলুর আবাদে লোকসান করে সবজির চাষে ঝুঁকেছেন। গ্রামটিতে ঢুকলে চারদিকে সবজির খেতই বেশি চোখে পড়ে। যেন সবজিতে সবুজ হয়ে রয়েছে চাকলা গ্রাম।

তারাগঞ্জ সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আলমপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রাম। এ গ্রামের ৮০ ভাগ মানুষ সারা বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজির চাষ করছে। এখানকার খেতগুলো এখন টমেটো, গাজর, ধনেপাতা, শিমসহ শাকসবজিতে ভরে উঠেছে। ফলনও ভালো। এখানকার সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দেলওয়ার হোসেন বলেন, সবজি চাষ করে চাকলা গ্রামের অনেকেই সচ্ছল হয়েছেন। অনেক যুবক বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। দিনমজুর ও গৃহবধূরাও অভাব দূর করেছেন।

যেন সবুজের সমারোহ। খেত থেকে মুলা তুলছেন কৃষক
যেন সবুজের সমারোহ। খেত থেকে মুলা তুলছেন কৃষক

আজ শুক্রবার গ্রামটিতে ঢুকেই চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ সবজিখেত। কেউ খেত থেকে ধনেপাতা, শিম, লাউ, বেগুন তুলছেন, কেউ করছেন পরিচর্যা। বেশির ভাগ বাড়িতে চকচক করছে টিনের চালা। আধা পাকা বাড়িও আছে বেশ কয়েকটি।

গ্রামটিতে ঢোকার মুখে সিরাজুল ইসলামের বাড়ি। একসময় তিনি দিনমজুরি করতেন। এখন সবজি বিক্রির টাকায় তিনি ৪০ শতক জমি কিনেছেন। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন। তিনি জানান, ৮ বছর ধরে ৪০ শতক জমিতে সারা বছর ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ধনেপাতা, টমেটো ও শিমের আবাদ করছেন তিনি। শীতের শুরুতে ভালো ফলন হওয়ায় এখনই প্রায় ৩৯ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

স্বামী মারা যাওয়ার পর মনোয়ারা বেগম আলমপুর বাজারে মুড়ি আর মৌসুমি ভাপা পিঠা বিক্রি করতেন। এতে এক বেলার খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। দুই সন্তানকে নিয়ে প্রায় না খেয়ে থাকতে হতো। ৭ বছর আগে বসতভিটার ৬ শতক জমিতে লাউ-শিমের চাষ শুরু করেন। এ লাউ-শিম বিক্রি করে আয় আসে ৫ হাজার টাকা। পরের বছর অন্যের ১২ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ, টমেটোর চাষ করেন। এবার ২৮ শতকে লাউ, ২০ শতকে বেগুন চাষ করেছেন। বন্ধক নিয়েছেন ৩৫ শতক জমি। আছে একটি গাভি ও ৭টি ছাগল। দুই সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন, জানালেন তিনি।

খেত থেকে ধনেপাতা তুলছিলেন আজাহারুল ইসলাম। তিনি ৬০ শতক জমিতে টমেটো, শিম, লাউ, ধনেপাতা চাষ করেছেন। এতে বেশ লাভবান হয়েছেন। চাকরির জন্য না ঘুরে নিজেদের জমিতে ৫ বছর ধরে সবজির চাষ করে মাসে গড়ে ১০ হাজার করে টাকা আয় করছেন। তিনি বলেন, সবজি চাষে তিনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার করেন না। জৈব সারই ভরসা। পোকামাকড় দমনে তিনি সেক্স ফেরোমন লিউর (বিশেষ ধরনের ফাঁদ) পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। এতে সবজির ফলন বেশ ভালো হয়। খরচও কম।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে লাভ বেশি। বিষয়টি বুঝতে পেরে চাকলা গ্রামের ধনী-গরিব সবাই সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজির চাষাবাদ ও রোগবালাই দমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি

ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি
ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি

বরিশালের উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকা সাতলা বিল। এখানকার বাসিন্দারা বছরের প্রায় ছয় মাস পানিবন্দী থাকে। এক ফসলি জমির কারণে তাদের অভাব–অনটনের মধ্যে থাকতে হয়। তবে তাদের বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিয়েছে ভাসমান সবজি চাষ। লাভজনক হওয়ায় সহস্রাধিক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। বর্তমানে এ উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জলাশয়ে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে।

সাতলার নয়াকান্দি, শিবপুর, রাজাপুর, উত্তর সাতলা, পটিবাড়ী গ্রামের কৃষকেরা ভাসমান সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর, গৌরনদী, উজিরপুর, বানরীপাড়া, আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ ও আশপাশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগে যশোর থেকে সবজি আনতেন। বর্তমানে শীত মৌসুমে উজিরপুরের গুঠিয়া, জল্লা, বামরাইল, হারতায় উৎপাদিত সবজি দিয়ে চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে একমাত্র সাতলার ভাসমান সবজিই ভরসা।

শুরুর কথা

সাতলা বিলে ভাসমান সবজি চাষ কবে কীভাবে শুরু হয়েছিল, নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি। সাতলা গ্রামের কৃষক ভরত মণ্ডল (৭০) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ভাসমান সবজি চাষ দেখে আসছি। আমাদের বাবা-দাদারা এইভাবে চাষ করতেন। তাঁদের কাছে শুনেছি, এখানে রমেন বাড়ৈ নামের এক লোক প্রথমে এই চাষ শুরু করেছিলেন।’

উজিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০-২৫ বছর আগে এলাকায় সামান্য পরিমাণে ভাসমান সবজি চাষ হতো। ২০১০ সালের পরে ব্যাপকতা লাভ করে। পরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে চাষির সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ১৫০ হেক্টরে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে।

বেড তৈরি

পানির ওপরে লম্বালম্বিভাবে দুটি বাঁশ বা কলাগাছ ফেলে তার ওপর কচুরিপানার স্তূপ করা হয়। পরে স্তূপ শেওলা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কেউ কেউ নারকেলের ছোবড়া ব্যবহার করেন। শেওলা পচে শুকিয়ে গেলে তার ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দিয়ে লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাকের বীজ বপন করা হয়। আর ঢ্যাঁড়স, লাউ, শসা, শিম, লাফা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমার, বেগুন উৎপাদন করতে কচুরিপানার ধাপই যথেষ্ট। উঁচু করে কচুরিপানার ধাপ তৈরি করে রাখার পর পচে গেলে ৫-৭ দিন পরেই তার ওপরে সরাসরি বীজ বপন করা হয়। ভাসমান সবজি চাষের একেকটি বেড এক মৌসুমের জন্য করা হয়। সবজি চাষ শেষ হলে ওই পচা ধাপ বোরো চাষের আগে জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০ মিটার লম্বা ২ থেকে আড়াই মিটার প্রস্থ একটি বেড তৈরি করতে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এক মৌসুমে একেক বেড থেকে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়।

দক্ষিণ সাতলার শুকচাঁদ বিশ্বাস (৪৮) বলেন, ‘এবার ১০টি বেডে সবজি চাষ করেছি। বেড তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। এখন ৭০-৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারব।’

সরেজমিন একদিন

গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, সাতলা বিলের পানির ওপর ভাসমান বেডে শসা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, বেগুন, লালশাক, পালংশাকসহ নানা প্রকার সবজির সমারোহ। বিলের পানি ছাড়াও এই পদ্ধতিতে বাড়ির পাশে জলাশয়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে।

শিবপুর গ্রামের শুকলাল বাড়ৈ (৪৫) বলেন, এলাকার অধিকাংশ জমিতে এক ফসল হয়। বছরে প্রায় ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। আগে অভাব–অনাটন লেগেই থাকত। পরে ভাসমান সবজি চাষ শুরু করেন।

শুকলাল বাড়ৈ আরও বলেন, ‘সপ্তাহে দুদিন বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ও চৌমহনী হাটে সবজি নিয়ে বিক্রি করি। কখনো কখনো ব্যবসায়ীরা এসে বাড়ি থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যান। বিষমুক্ত হওয়ায় প্রচুর চাহিদা রয়েছে এসব সবজির।’

একই গ্রামের আনোয়ার বাহাদুর বলেন, ‘এলাকার অনেককে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে দেখে আমিও শুরু করি। এতে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হয়। বর্ষার মৌসুমে মানুষের কষ্ট হয়। তবে সাতলা বিলের মানুষের জন্য তা আশীর্বাদ।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com