আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

প্রতিদিন বাগানেই নষ্ট হচ্ছে দেড় কোটি টাকার ফুল

চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।

গ্লাডিওলাস, জারবেরা, গোলাপ, গাদা এবং রজনীগন্ধাসহ ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছেন চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জের মৎস্য ভবন সড়কের চাষী আলম আলী। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতেন তিনি। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে ফুল বিক্রি। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন শ্রমিক দিয়ে ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে তাকে। একদিকে ফুল নষ্ট ও শ্রমিকের খরচ, অন্যদিকে বাগান রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মিত ব্যয়; সবমিলিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন আলম আলী।

১০ দিন আগে আলম আলীকে ছয় বিঘার গাদা, এক বিঘার গ্লাডিওলাস গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফুল চাষই তার উপার্জনের একমাত্র উৎস। বর্তমান অবস্থা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বললেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। এক টাকাও রোজগার নেই, খরচ আছে। চোখে অন্ধকার দেখছি।’

শুধু এই একজন চাষী নন, তার মতো দেশের দেড় লাখ ফুলচাষী আছেন মহাসংকটে। জমি থেকে প্রতিদিন ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে না পেরে গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমির। চাষী ছাড়াও শ্রমিক, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সাড়ে ২৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয় ফুল ব্যবসা ঘিরে। তারাও বেকার হয়ে গেছেন। ফুলচাষীরা সরকারের কাছে অনুদান অথবা স্বল্পসুদে ঋণ দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল প্রসাদ সমকালকে জানান, সারাদেশে দেড় লাখ ফুলচাষী আছেন। ফুলের আবাদ হয় ২৫ হাজার একর জমিতে। চাষী ছাড়াও ফুলের সঙ্গে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ আরও সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ যুক্ত। চাষী থেকে শুরু করে ফুলের খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিদিন এ খাতে গড়ে লেনদেন হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রান্তিক চাষীরা ফুল বিক্রি করে পান দেড় কোটি টাকা। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও অনেক চাষী ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

বাবুল প্রসাদ বলেন, ২৬ মার্চ ও পহেলা বৈশাখ- এই দু’দিনে ২০-২২ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হতো। এবার সেটা হয়নি। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি ফুলচাষীদের টিকিয়ে রাখতে অনুদান বা স্বল্পসুদে ঋণ দাবি করেন।

ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও নাটোরসহ দেশের ২৪ জেলায় ফুলচাষ হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় কিছু জমিতে ফুল চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি ফুলচাষী যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মানিকগঞ্জে। দেশি ফুলের পাশাপাশি বিদেশি নানা জাতের ফুল চাষ করেন তারা। 

ফুলের বড় মার্কেট রাজধানীর শাহবাগ ও আগারগাঁওয়ে। প্রতিদিন এই দুটি মার্কেটে ৬০-৭০ লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ফুলের পাইকারি মার্কেট আছে। ফুল মার্কেটের শ্রমিকরাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।

এবার সাত বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাকশপোতা গ্রামের ফুলচাষী জিকু মণ্ডল। করোনায় টানা ছুটিতে ফুল বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিন ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। ফুল কাটতে শ্রমিক খরচ এবং গাছের রক্ষণাবেক্ষণে সপ্তাহে ৫-৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এ কারণে গত সপ্তাহে গাদা ও চন্দ্রমল্লিকা গাছ কেটে ফেলে জমিতে চাষ দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, গাদা ও মল্লিকা চাষে তার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতেন। এখন পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

যশোরের মনিরামপুরের বাইশা গ্রামের আকবর আলী বলেন, তার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস ও রডস্টিক যখন বিক্রির সময় এলো, ঠিক তখনই গাড়ি চলাচল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল। একট ফুলও বেচতে পারেননি। গাছ উপড়ে ফেলেছেন। এখন ওই জমিতে পাট বোনার চিন্তাভাবনা করছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার মুণ্ডমালা গ্রামের ফুলচাষী ওয়াজ্জেল হোসেন গাদা, রজনীগন্ধা ও চন্দ্রমল্লিকা চাষ করেছেন সাড়ে আট বিঘা জমিতে। বিক্রি বন্ধ থাকায় গত সপ্তাহে চন্দ্রমল্লিকার গাছ কেটে ফেলেছেন। এ চাষে খরচ হয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। 

ওয়াজ্জেল স্থানীয় ন্যাপা মোড়ের ফুলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, ন্যাপা, শ্যামকুর ও কাজীরবেড়- এই তিন ইউনিয়নে ৯ শতাধিক ফুলচাষী প্রায় ছয়শ’ একর জমিতে ফুলের আবাদ করেন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে বিক্রি একেবারেই বন্ধ। কয়েকশ’ বিঘা জমির ফুল গাছ উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফুলচাষিরা ধ্বংসের মুখে। অভাব-অনটনে আছেন তারা।

  • ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।

  • চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।

    চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।

  • ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে ফুলগাছ উপড়ে ফেলছেন শ্রমিকরা।
  • চুয়াডাঙ্গার চরেরমাঠে এক শ্রমিক ফুল কেটে ফেলে দিচ্ছেন।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

ঘুষ না দেওয়ায় ১০ বিঘা জমির ফুল বাগান ধ্বংস!

লেখক

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ি এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তৈরি দুটি ফুল বাগানের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগী জাকারিয়া মণ্ডলের অভিযোগ, মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ তাণ্ডব চালানো হয়। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বাগান মালিক জাকারিয়া থানায় অভিযোগ করার পর ওই শিক্ষকও পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ বিঘা জমি প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়ে আট বছর ধরে ফুল চাষ করে আসছিলেন পাশের জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই গ্রামের জাকারিয়া মণ্ডল। লিজের মেয়াদ শেষে হয়ে গেছে বলে গত ১৩ অক্টোবর দুটি বাগানের সব গাছ কেটে দখলমুক্ত করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজাদ।

জাকারিয়া মণ্ডলের অভিযোগ, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিজ নবায়নের জন্য স্কুলে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় লিজ নবায়ন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তার বাগানই সাবাড় করে দেওয়া হয়। এতে তার বিরাট আর্থিক ক্ষতিসহ বাগানে কাজ করা শত শত নারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর আগে লিজের মেয়াদ শেষ গেছে। তারপরও জাকারিয়া জমি ছাড়ছিল না। এ নিয়ে তাকে উকিল নোটিশও করা হয়েছে। জমি দখলমুক্ত করতেই ফুলগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, উভয়পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দেশে দেশে ফুলের ভাষা

আসছে বসন্ত। আসছে ফুলের দিন। প্রাচীন যে ফুলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, ধারণা করা হয় তার বয়স ১৩ কোটি বছর! আর পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের পদচারণ শুরু হয়েছিল মাত্র ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল ফুলের পৃথিবীতে, ফুলেল অভ্যর্থনায়। সেই থেকে আজ অবধি মানুষের ফুল নিয়ে বিস্ময় কাটেনি; আজও ফুলের প্রতি অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ অনুভব করে মানুষ। ধীরে ধীরে পৃথিবীতে মানুষের বয়স যত বেড়েছে, জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফুলের ব্যবহারও তত বেড়েছে। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, প্রেমে, বন্ধুত্বে ফুল হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আমাদের দেশে তো বটেই, প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতার মানুষ ফুলকে দেখেছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

প্রাচীন গ্রিকদের পুষ্পপ্রীতি 

ফুলের রং এবং সৌন্দর্যের জন্য গ্রিসের পৌরাণিক কাহিনিতে ফুলের কথা বিশেষ স্থান পেয়েছে। কিছু কিছু ফুলের নামকরণেও সেসব কাহিনির চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গ্রিক ঐতিহ্যে ফুলের গুরুত্ব কেবল যে কল্পকাহিনিতেই স্থান পেয়েছে, তা-ই নয়। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তাদের সমাজে ফুল উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল এবং আজও তা গ্রিকদের সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত প্রথা। প্রাচীনকালে তারা দেব-দেবীর উদ্দেশে পবিত্রতা এবং পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ফুল উৎসর্গ করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রিকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা বদলে গেছে। বর্তমানে সুন্দরের বন্দনায়, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহার এক বাঙ্​ময় ব্যঞ্জনায় উন্নীত হয়েছে। অপার্থিব দেব-দেবীর স্থান চলে গেছে পার্থিব দেব-দেবী, প্রিয়জন-পরিজনদের দখলে। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে ফুল উপহার দেওয়া বর্তমান গ্রিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য প্রথা। 

প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় ফুল 

প্রাচীন মিসরীয়রাও তাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যে ফুলকে বিশেষ মর্যাদায় উপস্থাপন করেছিল। নীল নদের অববাহিকায় যেসব বাহারি রঙের ও সুঘ্রাণের ফুল ফুটত, সাধারণ লোকজন তাদের প্রিয়জনদের বিভিন্ন পালাপর্বে তা উপহার দিত। যুদ্ধে যাওয়ার আগে ফেরাউনরা তাদের রথগুলোকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিত। যুদ্ধ থেকে বিজয়ী সেনা, সেনাপতিরা যখন ফেরত আসে, তখনো তাদের ফুল দিয়ে সাদরে বরণ করা হতো, যেমন করা হতো গ্রিক যোদ্ধাদের। 

মিসরের পৌরাণিক কাহিনি ঘাঁটলে দেখা যায় যে আনন্দ অনুষ্ঠানে প্রাচীন মিসরীয়রা পদ্ম ফুলের গান গাইত এবং এই ফুলের আরাধনার জন্য উৎসবের আয়োজন করত। পদ্ম ফুল ভোরে ফোটে এবং রাতে এই ফুলের পাপড়ি আবারও গুটিয়ে কুঁড়ির মতো হয়ে যায় বলে মিসরীয়রা এই চমৎকার ফুলটিকে পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করত। নীল পদ্মের খুব সুন্দর এবং তীব্র ঘ্রাণ রয়েছে। তাই প্রাচীন মিসরীয় শিল্পীরা নীল পদ্মে ঘেরা মৃত ব্যক্তির ছবি আঁকত, উপহার দিত। ফুল ছিল আধুনিক মিসরীয়দের মতো প্রাচীন মিসরীয় সংস্কৃতিতে অপরিহার্য বস্তু। 

অটোমান সাম্রাজ্য 

অভিব্যক্তি, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহারের প্রচলন অটোমান সাম্রাজ্যে। ফুলপ্রেমীরা ফুল উপহার দিয়ে প্রিয়জনকে পৌঁছাত বিশেষ বার্তা। ফুলগ্রহীতা নির্দিষ্ট ফুল, ফুলের সংখ্যা এবং সেই ফুল সাজানোর ধরন দেখে বার্তাটি বুঝতে পারত। সে সময়টি ছিল ১৬০০ সালের দিকে। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতিতেও ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে বিশেষ বার্তা পাঠানোর রেওয়াজ ছিল। 

ভিক্টোরীয় সময়কাল 

১৮ শতকের প্রথম দিকে পত্রপত্রিকার প্রচার-প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তুর্কিদের ফুলের মাধ্যমে সাংকেতিক বার্তা প্রদানের ধারণা ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার উদ্ভিদপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে সময়টা ছিল ভিক্টোরীয় যুগ। ইউরোপে এ সময় মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, বাসনার শিল্পসম্মত প্রকাশের উপায় হিসেবে ফুল উপহার দেওয়া হতো। এটা ছিল স্বীকৃত এবং প্রথাসিদ্ধ উপায়। আবেদন, নিবেদন যা মুখে বা লিখে প্রকাশ করলে মাধুর্য হারায়, তার জন্য ফুল উপহার দিলে রুচি, শিল্পবোধ আলাদা মাত্রায় উজ্জ্বল হয়, মর্মার্থ মর্মে পৌঁছে। ফুলের রূপ, বিন্যাসশৈলী, গড়ন, রং এবং মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে একেকটি ফুলকে আলাদা করে সাজিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বা বার্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন তাদের সংস্কৃতিতে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। 

বাংলাদেশ

আমাদের সমাজে ফুলকে দেখা হয় পবিত্রতা ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে। পৃথিবীর অন্যান্য সংস্কৃতির মতো আমাদের দেশেও ফুল উপহার দেওয়া হয় শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য। 

আমাদের দেশে ফুলের প্রাচুর্য থাকলেও ব্যবহারের বৈচিত্র্য তেমন নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফুল উপহার দেওয়ার চর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন একটা দেখা যায় না। তবে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠানের প্রসারের ফলে ফুল উপহার দেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। 

একসময় আমাদের দেশে শুধু গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে দেওয়া হতো। এই প্রথা সম্ভবত গড়ে উঠেছিল মোগলদের কারণে। উপহার হিসেবে গোলাপের সেই আবেদন এখনো আছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, দোলনচাঁপা। বসন্তদিনে এসব ফুল দিয়ে সাজানো ফুলের একটি তোড়া প্রিয়জনের হৃদয়ে দোলা দেবে বৈকি!

লেখক: অনুজীববিজ্ঞানী, বর্তমানে ফ্রান্সের বিচার বিভাগে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শিমুল ফুলে পাখির মেলা

ফাগুন আসতে আর বেশি দেরি নেই। টকটকে লাল শিমুল ফুলে ভরা গাছে তারই পদধ্বনি। পাখিরাও যেন শুনেছে সে ধ্বনি। তাই শিমুল ফুলে বেড়েছে তাদের আনাগোনা। বগুড়া শহরের চেলোপাড়া ফতেহ আলী সেতু এলাকার শিমুলগাছের সৌন্দর্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

এ পদ্ম এল কোত্থেকে?

কথা বলার ক্ষমতা থাকলে কুমিল্লার দক্ষিণ গ্রামের পদ্ম ফুলগুলো হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন্মকথা’ কবিতার শিশুটির মতোই বলত:  
‘এলেম আমি কোথা থেকে
কোনখানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে।’

এখন এই বিস্ময় ঘেরা প্রশ্নগুলো করছেন উদ্ভিদবিদ, গবেষকেরা। পদ্মের এ প্রজাতি দেশে তো বটেই, পুরো এশিয়ায় বিরল। উত্তর আমেরিকার একটি প্রজাতির সঙ্গে কিছুটা মিল আছে বটে। তবে ওই পদ্মের সঙ্গেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা পেয়েছেন গবেষকেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান রাখহরি সরকারের কথা, ‘এই নতুন প্রকৃতির পদ্মফুল নিঃসন্দেহে ভিন্নতর। এমন পদ্ম আগে কোথাও পাওয়া যায়নি।

আমাদের উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্যে এটি একটি নতুন সংযোজন। এটা কীভাবে এখানে এল তা সত্যিই আশ্চর্যের।’

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় পদ্মফুল নিয়ে একটি ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের একটি জলাশয়ের পদ্মের ছবিটিতে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং বিভাগের সঙ্গে কাজ করা গবেষকদের।


এই ‘অন্যরকম’ পদ্মের সন্ধানে ছুটে যান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ও গবেষক। তাঁরা  ইতিমধ্যে পাঁচবার ওই এলাকায় গেছেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গবেষণার মাধ্যমে এই বিশেষ পদ্ম ফুলটিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

গবেষকেরা বলেন, বিশ্বে পদ্মের দুই প্রজাতি। এর একটি এশিয়ান পদ্ম  (বৈজ্ঞানিক নাম-নিলাম্বো নুসিফেরা গেয়ার্টনার (Nelumbo nucifera Gaertner)। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ পদ্ম জন্মে। এর রং হয় সাদা এবং হালকা বা গাঢ় গোলাপি।

গোলাপি ও সাদা বর্ণের পদ্মফুল দেখতে আমরা অভ্যস্ত এবং আমাদের দেশের সর্বত্র এই পদ্মটিই বেশি পাওয়া যায়।

আরেক প্রজাতির পদ্ম হলো আমেরিকান লোটাস বা ইয়োলো লোটাস। (বৈজ্ঞানিক নাম Nelumbo lutea Willd. )। এ প্রজাতির পদ্ম শুধু উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় জন্মে।

বুড়িচংয়ে পাওয়া এ পদ্ম আমেরিকান লোটাসের কাছাকাছি, অন্তত রঙের দিক থেকে। কিন্তু বুড়িচংয়ের পদ্মের সঙ্গে আমেরিকান লোটাসের কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে বলে জানান রাখহরি সরকার। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান লোটাসের পাপড়ির সংখ্যা যেখানে ২০ থেকে ২৫টি হয়, সেখানে নতুন এ পদ্মের পাপড়ির সংখ্যা ৭০টির মতো। আবার এর পুংকেশরের গঠনও আমেরিকান লোটাস থেকে আলাদা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে গবেষণার কাজে আছে বেঙ্গল প্ল্যান্টস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। এর নির্বাহী পরিচালক শিকদার আবুল কাসেম শামসুদ্দীন শুধু পদ্মফুল নিয়ে গবেষণা করছেন পাঁচ বছর ধরে। তিনিও বুড়িচংয়ে যান কয়েক বার। শামসুদ্দিন সিকদার বলেন, সাধারণ পদ্মের সঙ্গে এর আরেক ভিন্নতা হলো এটি আকারে বড়। এর গঠন শৈলী এবং বর্ণ বৈচিত্র্যময়। হালকা হলুদ বর্ণের এমন পদ্ম ইতিপূর্বে কোথাও পাওয়া যায়নি। কাজেই হলুদ বর্ণের পদ্মটি বাংলাদেশে পাওয়া সমস্ত পদ্মফুল থেকে ভিন্নতর এবং উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্যের দৃষ্টিতে অত্যন্ত উৎসাহজনক

এই পদ্ম এখানে এল কীভাবে সেই প্রশ্নটি এখন গবেষকদের ভাবাচ্ছে। তাঁদের ধারণা, হয়তো অনেক আগে এলাকার কেউ এই পদ্ম যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন। অর্থাৎ কেউ হয়তো উত্তর বা মধ্য আমেরিকার কোনো দেশ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। হয়তো দীর্ঘদিনের বিবর্তনে গঠন বৈচিত্র্যের দিক থেকে এ পদ্মে ভিন্নতা এসেছে।

বুড়িচংয়ের দক্ষিণ গ্রামের খুব বয়স্ক ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা ছোটবেলা থেকে এ পদ্ম দেখছেন। আর এ গ্রামের কোনো ব্যক্তি এখন বা অতীতেও ওসব দেশে গিয়েছিলেন, এর কোনো নজির নেই।

তবে একটি পদ্মের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে দু-তিন শ বছর কোনো বিষয় না, এমনটাই মন্তব্য করেন অধ্যাপক রাখহরি সরকার। তাঁর কথা, পদ্মের বীজ এক হাজার তিন শ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তাই কয়েক শ বছর আগে এখানে এ বীজ এলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে বুড়িচংয়ের পদ্মের উৎপত্তি, এর বিকাশ নিয়ে গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় যে আসেনি, তা তাঁরা জোর দিয়েই বলছেন। শুধু গবেষকেরা একটি বিষয় নিশ্চিত, এ পদ্ম একেবারে নতুন। আর দেশের উদ্ভিদ প্রজাতির পরিবারে এ এক নতুন সংযোজন। সংগত কারণে, এটি গবেষণার একটি নতুন উপাদান।

জলাশয় কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অনেক এলাকা থেকে পদ্ম হারিয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের কথা, বছর আট-দশ বছর আগে যেসব বিলে বা জলাশয়ে পদ্ম ছিল তা এখন পাওয়া যায় না। পদ্ম কেবল জলাশয়ে শোভা বৃদ্ধিকারী ফুল না। এটি অনেক ভেষজ গুণ সম্পন্ন এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পদ্মের শিকড় চীন, জাপানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে স্বীকৃত ও সমাদৃত। এখন বুড়িচংয়ের এ পদ্মের যদি যথাযথ সংরক্ষণ হয়, এর বিস্তার হয় তবে আমাদের প্রকৃতির জন্য এ হবে এক বড় শুভ সংবাদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গরু-ছাগলেই খাচ্ছে ফুল

  • করোনায় বেচাবিক্রি বন্ধ। পাঁচ মাসে নষ্ট হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল। তাই প্রণোদনা ঋণ পেতে চান ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
  • করোনার কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে গদখালী ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। আর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে ফুলখেত।
  • বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি জানায় দেশে করোনার কারণে গত পাঁচ মাসে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে।

করোনাভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান যশোরের গদখালীর ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, মাঠে তেমন ফুল নেই, যাও–বা আছে, তা-ও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে গরু-ছাগলকেই খাওয়ানো হচ্ছে ফুল। এখন অবস্থা এতটাই সঙিন যে সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ওপর রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ।


করোনার কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে গদখালী ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। আর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে ফুলখেত, ধ্বংস হয়েছে ফুল ও নার্সারির শত শত শেড।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনার কারণে গত পাঁচ মাসে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে শুধু যশোর অঞ্চলেই অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে এই অঞ্চলের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন।

আবদুর রহিম বলেন, ‘দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা ফুলের চাষ ও ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। ফুলচাষিদের প্রায় ৭০ ভাগ বর্গাচাষি। করোনাভাইরাস ও আম্পানের কারণে এই খাতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা ঋণ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। তা না হলে এই খাতকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।

২৫ বছর ধরে ফুলের চাষ করা প্রতিবন্ধী ইমামুল হোসেন-সাজেদা দম্পতি জানান, সংসার ও দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে ভেঙে পড়া শেডের টিন বিক্রি করে দিয়েছেন। সাজেদা বেগম বলেন, ‘ঋণের কিস্তির জন্য ব্যাংক ও এনজিওর লোকজন নিয়মিত বাড়িতে আসছেন। কিন্তু কিস্তি পরিশোধ করতে পারছি না। কী খাব আর কী করে ঋণ শোধ করব, ভাবতেই মাথায় যেন আকাশ
ভেঙে পড়ে।’

ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে রজনীগন্ধার চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি প্রায় তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু করোনাভাইরাস ও আম্পান আমাদের পথে বসিয়েছে।’

পানিসারার আরেক চাষি মো. জালাল উদ্দীনের একটি ফুলের দোকানও আছে। তিনি জানান, দিনে ১০০ টাকাও বিক্রি হয় না। অথচ আগে ২-৩ হাজার টাকা বেচাকেনা হতো।

ফুলের দোকানি তারেক রহমান বলেন, ‘আগে দিনে ১০-২০ হাজার টাকার এবং বিশেষ দিনগুলোতে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ফুল বিক্রি করেছি। এখন দিনে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকার ফুল বিক্রি হয়। এতে চলছে না।’

১৯৮২ সালে একটি নার্সারির মাধ্যমে ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা এলাকায় ফুলের চাষ শুরু করেন শের আলী সরদার। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের পথিকৃৎ বলা হয় তাঁকে। তাঁকে দেখে পানিসারা ও গদখালী এলাকায় ৭৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার চাষি ফুল চাষে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘৪১ বছরের ফুল চাষের জীবনে এমন অবস্থা আমি কখনো দেখিনি।’

পানিসারা গ্রামের আজিজুর সরদার জানান, আগে প্রতি মাসে যেখানে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকার ফুল ও চারা বিক্রি হতো, সেখানে গত পাঁচ মাসে হয়েছে মাত্র ৯৫০ টাকা। ব্যাংকে ১৩ লাখ টাকা এবং দুটি এনজিওতে ৭ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে তাঁর। ঋণের কিস্তি দিতে ব্যাংক ও এনজিও থেকে চাপ দিচ্ছে। তিনি ঝড়ে ভেঙে পড়া শেডের ৩০০ পিস টিন ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে এখন সংসার চালাচ্ছেন। আজিজুরের স্ত্রী তপুরা বেগম বলেন, খুব দুশ্চিন্তা হয়। রাতে ভালো ঘুম হয় না।
শফিকুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে জারবেরার চাষ করেছি। করোনায় বিক্রি বন্ধ ও আম্পানে জমি লন্ডভন্ড হওয়ায় ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। এভাবে জীবন চলছে না।’

জানতে চাইলে ঝিকরগাছার কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুল চাষের সঙ্গে ৭ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও প্রায় ১ লাখ শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

যশোর শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও আশপাশে গড়ে উঠেছে ফুল চাষ ও পাইকারি বিক্রির বৃহত্তম মোকাম। ফুল সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয় বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত দিবস, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও দুই ঈদ উপলক্ষে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার ফুল।

গদখালী বাজারের দোকানি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আগে অনেক ফুল বিক্রি হতো। এখন ফুল কেনার লোক নেই। এভাবে আর চলতে পারছি না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com