আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

নরসিংদীর শিবপুরে বিভিন্ন জাতের মুরগির এক বৈচিত্র্যময় খামার গড়ে তুলেছেন কামরুল ইসলাম মাসুদ। উন্মুক্ত পরিবেশে মুরগি পালনের এক অনন্য নজিরও গড়েছেন তিনি।

এক সময় হাঁস-মুরগি পালন হতো মুক্ত পরিবেশেই। বাণিজ্যিক পোল্ট্রির যুগে এলো খাচায় পালনের রীতি। আবারো ঘুরেফিরে নানা দিক বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী তাগিদ এসেছে মুরগি পালন হতে হবে উন্মুক্ত পরিবেশেই। এ বিষয় আমলে এনে বৈচিত্র্যময় নানা জাতের মুরগির এক উন্মুক্ত ও পরিবেশসম্মত খামার গড়ে তুলেছেন কামরুল ইসলাম মাসুদ।

এখানে দেশি মুরগীর মাতৃজাত রয়েছে ২৫০টি। এছাড়া রয়েছে ১ হাজার টারকি, ১ হাজার ৫’শ ফাওমী ও আরআইআর জাতের মুরগী, ২০/২৫টি সিল্কী জাতের মুরগী ছাড়াও আরো কয়েকটি অপ্রচলিত জাত। খামারির দাবি দেশি মুরগী লাভজনক।

টানা লোকসানের কারণে পোল্ট্রি খামারিরা বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানাচ্ছেন এই খামারি।

তবে কামরুল ইসলাম মাসুদ বলছেন, তার উদ্যোগ শুধু লাভের চিন্তা থেকে নয়। সৌখিনতার সঙ্গে দেশি জাত রক্ষার দায়বদ্ধতাও উপলব্ধি করেছেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে পোল্ট্রির পাশাপাশি টার্কি মুরগি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাজধানীর বাড্ডায় নিজেদের প্রচেষ্টায় শুরু হয় একটি খামার। এখানে টার্কি, তিতির, উটপাখি ও কোয়েল পাখি পালন করা হয়।

কৃষিমনস্ক প্রকৌশলী শাহীন হাওলাদার ও দুবাই ফেরত মিরাজ হোসেনের প্রচেষ্টায় চালু হয় খামারটি। এই খামার করেই উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হয়েছেন তিনি। মিরাজ হোসেন দুবাই থেকে আসার পর কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে অনলাইনে টার্কি সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর টার্কি পালনের উপর কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাত্র ৬টি টার্কি নিয়ে খামারটি শুরু করেন।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

বর্তমানে টার্কি উৎপাদনে বিশেষভাবে অবদান রেখেছে মিরাজের টার্কি ফার্ম। ফার্মের কারণে মিরাজ সবার কাছে ‘টার্কি মিরাজ’ নামে পরিচিত। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে মাত্র ৬টি টার্কি দিয়ে ফার্মটি শুরু করলেও বর্তমানে খামারে ৩-৪ মাস বয়সী ১৫০টি এবং ৮-৯ মাস বয়সী ৪৬টি টার্কি রয়েছে। একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয় ১০-১২ কেজি। পুরুষ টার্কির তুলনায় স্ত্রী টার্কি আকৃতিতে ছোট এবং ওজনে কম হয়। একটি স্ত্রী টার্কি বছরে ৮০-১০০টি ডিম দেয়।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৮ দিনে টার্কির বাচ্চা উৎপাদন হয়। প্রতিমাসে এখানে ২০০-২৫০টি বাচ্চা উৎপাদন হয়। এছাড়া দেশি মুরগির সাহায্যে সনাতন পদ্ধতিতেও ২৮ দিনে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।

টার্কির একমাস বয়সের একটি বাচ্চার দাম ৩ হাজার টাকা, তিতিরের বাচ্চার দাম ২ হাজার টাকা। বড় একজোড়া টার্কির দাম ১০-১২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

অনুকূল পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘর ও নিয়মিত খাবার দিলে টার্কি রোগাক্রান্ত হয় না। একটি টার্কির জন্য ৪-৫ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে। খামারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন ফার্মাসিস্ট এনামুল হক। চারটি ভ্যাকসিনেশন সিডিউল আছে। রানীক্ষেতসহ চারটি রোগের জন্য ভ্যাকসিন দিতে হয়।

পাশাপাশি মিরাজ হোসেন উটপাখিও পোষা শুরু করেন। এছাড়া কোয়েল পালন করতে থাকেন। সাধারণত একটি ভালো জাতের কোয়েল পাখি বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটি ডিম থেকেই বাচ্চা হয়। এই বাচ্চা পরবর্তী ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যেই ডিম দেওয়া আরম্ভ করে।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে সেখানেই কোয়েলের খাঁচা রাখা উত্তম। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, বৃষ্টির পানিতে কোয়েলের খাঁচা যেন ভিজে না যায়। এতে কোয়েলের রোগ-ব্যাধি বেশি হয়।

মিরাজ হোসেনের দেখাদেখি নুরুল হুদা, পার্থ মজুমদার বাপ্পি এবং শরীফ আব্দুল কাইয়ুমও এ ধরনের খামার করেছেন। কেবল টার্কি নয় তিতির, কোয়েলের খামার করেও সফলতা পেয়েছেন। মিরাজের ইচ্ছা বাণিজ্যিকভাবে সারা দেশে এই খামারের পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

এ ব্যাপারে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি টার্কি বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখি। বেকারত্ব দূর করার জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ। প্রতি শুক্রবার আমার খামারটি পরিদর্শনে আসেন অনেক উদ্যোক্তা।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা

ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা
ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা

ব্রয়লার মুরগি নিয়ে বিপদে পড়েছেন পোল্টি ফার্মের মালিকরা। মুরগি বিক্রি করার সময় হয়েছে কিন্তু পাইকার বা ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। আগে ছোট খামারিরা খামার থেকে খুচরা কিছু মুরগি বিক্রি করতেন। এখন খুচরা ক্রেতাও নেই। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও গুজবের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলছেন খামারিরা।

শেরপুর জেলার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান। জাগো নিউজকে তিনি বললেন, ‘আমরা পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা মহাবিপদের মধ্যে আছি। ব্রয়লার মুরগির বয়স ৩২-৩৫ দিন হয়ে গেছে। এখন বিক্রি করার উপযুক্ত সময় কিন্তু পাইকার আসছে না। অন্যান্য ক্রেতারাও আসছে না। পাইকারদের ফোন করেছিলাম, তারা বলেছে, মুরগি বিক্রি করার জায়গা নেই। ঢাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। অন্যান্য শহরেও বেচাকেনা বন্ধ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’৩২ দিন পর মুরগিকে যতই খাওয়াই ওজন বাড়বে না। এখন মুরগি বিক্রিও করতে পারছি না আবার খাওয়াতেও পারছি না। কারণ আমার ফার্মে যে মুরগি আছে তাতে প্রতিদিন ৬ হাজার ৬০০ টাকার খাবার লাগে। ইতোমধ্যে সাতদিন চলে গেছে। এই সাত দিনে খাওয়া বাবদ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা লোকসান হয়েছে। এ লোকসাস কতদিন দিতে হবে তা জানি না।’

একই জেলার খামারি শহিদুল ইসলাম বললেন, ‘কত টাকা কেজি পরের কথা, পাইকারই তো আসছে না। এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করতে খরচ হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকা। সেখানে ৫০ টাকা কেজিও বিক্রি করা যাচ্ছে না।’

আট হাজার মুরগি আছে শহিদুলের ফার্মে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে পাঁচ হাজার মুরগির বয়স হয়ে গেছে। তাদের বিক্রি করার সময় ইতোমধ্যে পার হয়েছে। এরা আর বাড়বে না। অথচ প্রতিদিন ১১ হাজার টাকার খাবার দিতে হচ্ছে। এখন এদের বিক্রিও করতে পারছি না মেরেও ফেলতে পারছি না। আমরা মহাবিপদে আছি।’

যশোরের আফিল এগ্রো লিমিটেডের সহকারী পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু বলেন, ‘করোনার প্রভাবে পোলট্রি মুরগির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা পোলট্রির মুরগি কেনা থেকে বিরত থাকছেন। এর কারণে খামারিরা উৎপাদিত মুরগির দাম পাচ্ছেন না। ছোট ছোট খামারিরা ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।’

আফিল ফার্ম থেকে উৎপাদিত হয় দিনে ২৫ হাজার কেজি ব্রয়লার। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা।

‘চীনে করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই পোল্ট্রি মুরগির বাজার খুব খারাপ। বাংলাদেশে করোনা আসার পর কয়েকদিন আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন আমরা ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে মুরগি বিক্রি করছি’-বললেন সহকারী পরিচালক মাহবুব আলম।

করোনাভাইরাস হবে-এই গুজবে মানুষ মুরগি, ডিম, দুধ খাওয়া বাদ দিয়েছে। যে কারণে ডেইরি এবং পোল্ট্রি শিল্প ধস নেমেছে।

প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. শেখ আজিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করোনাসহ যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম দরকার হলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। এজন্য ডিম, দুধ ও মাংস খেতে হবে। ডিম, দুধ ও মাংস খেয়ে করোনা হয়েছে-এমন কোনো প্রমাণ নেই। দুধ হলো আদর্শ একটি খাবার। এর বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালায় তারা মনুষ্যরূপী শয়তান।’

তিনি বলেন, ‘তারা দেশের এই পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার প্রচারণাও দরকার। টেলিভিশন, রেডিও, পত্রপত্রিকা, অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারণা করা প্রয়োজন।’

প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের এই পরিচালক আরও বলেন, আজ প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বৈঠকে বিজ্ঞাপন এবং টেলিভিশনে স্ক্রল যাওয়ার জন্য একটি স্লোগান ঠিক করা হয়েছে। তা হলো-‘নিয়মিত ডিম, দুধ, মাংস খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার

 বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার
বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার

নেদারল্যান্ডসে ভাসমান দুগ্ধ খামার নির্মাণ করা হয়েছে। ভাসমান খামারটি সে দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণ করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফার্মটির অবস্থান রটারডামে। বিশেষ স্থাপনাটি ডাচদের আইকনিক স্থাপনার একটি। এ খামারের ধারণা দেন ডাচ প্রকৌশলী পিটার ভ্যান ভিনডেগারডেন।

জানা যায়, বেলাডন নামের প্রপার্টি কোম্পানি বন্দরনগরী রটরডামে বিশেষ খামারটি বানাচ্ছে। খামার পরিচালনায় উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। গরু থেকে দুধ দোহন, দুধ পরিবহনে বিশেষ পরিবহন ও বিশেষ এলইডি বাতি ব্যবহার করা হবে।

তিনতলা উচ্চতার খামারটি সমুদ্রতীরে নোঙর করা থাকবে। চলতি বছরের শেষ দিকে খামারটি চালু হবে। এতে দৈনিক ৮শ’ লিটার দুধ উৎপাদন হবে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

ডাচ প্রকৌশলী পিটার ভ্যান ভিনডেগারডেন জানান, খামারে ব্যবহৃত উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে। খাবার আসবে রটারডামের ৮০ ভাগ খাদ্য শিল্প থেকে। এছাড়াও খামারে উৎপাদিত হবে ঘাসও। স্থানীয় গম মিল থেকে কিছু উপজাত সংগ্রহ করা হবে। এখানকার শক্তির চাহিদা মেটানো হবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে।

পিটার জানান, বিশেষ সেলফ ব্যবহার করে ঘাস উৎপাদন করা হবে। খামারে উৎপাদিত দুধ বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাস্তুরিত করা হবে। এখানে দইও উৎপাদিত হবে। গোবর ব্যবহার করা হবে সার হিসেবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, এটি হবে আইকনিক স্থাপনা ও মাইলফলক। যা ভবিষ্যতে এ ধরনের খামার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পানি, সার ও কীটনাশক কম লাগায় আদর্শ হয়ে উঠতে পারে খামারটি। তবে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদায় এ ধরনের খামার কতটা জোগান দিতে পারে, সেটা এখন দেখার বিষয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে

 গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে
গরমে পোল্ট্রি খামারের যত্ন নিবেন কীভাবে

প্রাণিজ আমিষের বড় একটা অংশ আসে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। প্রায় অর্ধকোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এ শিল্পের সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। গরমকাল এ পোল্ট্রি খামারের বিশেষ যত্ন না নিলে কমে যেতে পারে ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি এবং লেয়ার খামারের ডিম সংখ্যা। সে কারণেই নিচের টিপসসমূহ জেনে নিন-

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব
ঘর্মগ্রন্থি না থাকার কারণে মোরগ-মুরগির অতিরিক্ত গরম অসহ্য লাগে। এতে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত তাপে এদের পানি গ্রহণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার, রক্তচাপ, নাড়ির স্পন্দন, রক্তে ক্যালসিয়ামের সমতা, খাদ্য গ্রহণ, শরীরের ওজন ও ডিমের উৎপাদন হ্রাস পায়। ১৫ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এদের উৎপাদন সর্বোচ্চ। ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শতকরা ৪ ভাগ হারে পানি গ্রহণ বৃদ্ধি পায়। ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পর থেকে ডিমের সংখ্যা না কমলেও প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ডিমের ওজন শতকরা এক ভাগ হারে কমে যায়। ২৬.৫ সেলসিয়াস ডিগ্রি তাপমাত্রার পর থেকে মোরগ-মুরগির খাদ্যের রূপান্তর ক্ষমতা হ্রাস পায়। ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্রতি ডিগ্রি তাপ বৃদ্ধিতে ২ থেকে ৪ শতাংশ খাবার গ্রহণ কমে যায়। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মোরগ-মুরগির জন্য অসহনীয় এবং ৩৮ ডিগ্রির পর মৃত্যু হার খুব বৃদ্ধি পায়।

তাপজনিত ধকল প্রতিরোধ
খামারের আশেপাশে ছায়াযুক্ত বৃক্ষ রোপণ এবং ঘর পূর্ব-পশ্চিমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় বায়োসিকিউরিটির কথা চিন্তা করে গাছপালা রোপণের প্রতি অনুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। গরমে পোল্ট্রি শেডে প্রত্যক্ষ সূর্যালোক পরা যাবে না। অত্যধিক গরম প্রতিরোধে প্রয়োজনে শেডের ছাদে বা টিনের চালায় দিনে দু’তিন বার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টিনের নিচে চাটাই বা হার্ডবোর্ড দিয়ে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক সময় মুরগি যখন হাঁ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় তখন ঘরে সেপ্র মেশিন দিয়ে কুয়াশার মত করে পানি ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। পানির ড্রিংকার ও ফিডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ঘন ঘন ড্রিংকারের পানি পাল্টাতে হবে। গরমে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শেডের মেঝে অনেক সময় স্যাঁতসেঁতে হয়ে লিটার দ্রুত ভিজে যায়। ফলে রোগের আক্রমণও বাড়ে। সেজন্য প্রতিদিন সকালে ব্রয়লার শেডের লিটার উলোট-পালোট করা প্রয়োজন। লিটারে গুঁড়ো চুন ব্যবহার করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। শেড থেকে শেডের দূরত্ব ৩০ ফুটের বেশি হলে ভালো হয়। শেডে মোরগ-মুরগির ঘনত্ব বেশি হলে তা কমিয়ে দিতে হবে। বাতাসের অবাধ চলাচল শেডের ভেতরের তাপমাত্রা শীতল রাখতে সাহায্য করবে এবং পোল্ট্রির জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাসমুক্ত রাখবে। শেডে স্টেন্ড ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।

খাবার ব্যবস্থাপনা
ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। যেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এদের খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, সেহেতু প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ৮ থেকে ১০ ভাগ শক্তি কমিয়ে প্রোটিন, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১০-১২ গ্রাম গ্লুকোজ ও মুরগি প্রতি ১০ গ্রাম ভিটামিন সি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক বিটেইনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আছে যা কোষের মধ্যে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হিট স্ট্রোকের হাত থেকে এরা রক্ষা পায়। গরমে পোল্ট্রির অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা বেড়ে যায়। বিটেইনে মিথাইল মূলক বিদ্যমান, যা মিথিওনিন ও কলিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। গরমে প্রয়োজনে একদিনের বাচ্চার জন্য পানিতে আখের গুড়, ভিটামিন-সি অথবা ইলেকট্রোলাইট যুক্ত স্যালাইন পানি দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

 সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প
সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

আসাদুজ্জামান সোহাগ একজন সফল উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম করে আজ তিনি গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাকে দেখে অনেক যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে উৎসাহ পাচ্ছেন।

জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছেলে আসাদুজ্জামান সোহাগ। ২০০১ সালে তিনি কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসনে কলেজ থেকে বি.কম পাস করে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্সি ও দালালের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেন। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরে দেশেই চাকুরির চেষ্টা করেন। তাতেও বিফল হয়ে হতাশায় ভুগতে থাকেন।

সবশেষে কোন উপায় না দেখে বড় ভাই ও বাবা-মায়ের পরামর্শে ৪ বিঘা জমিতে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু লাভ আশানুরূপ না হওয়ায় তাতে আরও হতাশ হয়ে পরেন। পরবর্তীতে এক বন্ধুর পরামর্শে মাদারীপুর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদীপশু, হাস-মুরগি পালন, মৎস চাষ এবং কৃষি বিষয়ে ২ মাস ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নেন।

প্রশিক্ষণ শেষে বাবার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে আরও একটি পুকুর খনন করেন। ২টি পুকুরে মাছ চাষ ও পুকুর পাড়ে শাক-সবজির চাষ শুরু করেন। এবার ভালো লাভ হওয়ায় ওই লাভের টাকা দিয়ে আরেকটি পুকুর খনন করেন। পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ফলের গাছ রোপণ এবং পরবর্তীতে ১ হাজার ১০০ মুরগির একটি লেয়ার পোল্ট্রি খামার স্থাপন করেন। এতেও ভালো লাভ হওয়ায় আরো ২টি পুকুর লিজ নিয়ে ১ হাজার ৩০০ লেয়ার মুরগির শেডের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

 সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প
সফল উদ্যোক্তা সোহাগের গল্প

এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুরুতে আমি তিন লাখ টাকা দিয়ে কাজ আরম্ভ করি। বর্তমানে আমার ৮৫ লাখ টাকা মূলধন আছে। আমার প্রকল্পে ১০ জন বেতনভুক্ত কর্মচারী আছে। এরমধ্যে ২ জন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রকল্প দেখে আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকার ১১ বেকার যুবক আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।’

মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুব উন্নয়ন থেকে গবাদীপশু, হাস-মুরগি পালন, মৎস চাষ এবং কৃষি বিষয়ে ২ মাস ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসাদুজ্জামান সোহাগ কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে সে খুব অল্প সময়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পান।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com