আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

নদীতে বেড়া, নেতাদের মাছ চাষ

তিন কিলোমিটার অংশে বেড়া। নেপথ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। সাধারণ মানুষকে নদীতে নামতে মানা।

প্রবহমান নদীকে ‘বদ্ধ জলাশয়’ দেখিয়ে ইজারা নেওয়া হয়েছে। নদীর তিন কিলোমিটার অংশে মাছ চাষ করতে দেওয়া হয়েছে আড়াআড়ি বেড়া। স্থানীয় লোকজনের নদীতে নামা নিষেধ। নদী দখল করে মাছ চাষের এমন আয়োজন যশোর শহরের অদূরে মুক্তেশ্বরী নদীতে। তিন মাস ধরে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি মিলে এভাবে মাছ চাষ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যশোর শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত মুক্তেশ্বরী নদী। শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া বাজার থেকে নদীতে বেড়া দেওয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আবরপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সেতুর পাশে আরেকটি আড়াআড়ি বেড়া দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তেশ্বরীর প্রবহমান ধারাটি সরু হয়ে গেছে। প্রস্থে কোথাও ১২০, কোথাও-বা ১৫০ ফুটের মতো। ইজারাদারের লোকজনকে ডিঙিনৌকা নিয়ে পাহারা দিতে দেখা যায়।

‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’ নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি কমিটি আছে। নদীটি দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কমিটির সদস্যসচিব আবদুল মাজেদ বলেন, প্রবহমান নদী কখনো ইজারা হতে পারে না। এটা জনগণের সম্পদ। এতে একমাত্র জনগণের অধিকার। সরকার কোনোভাবেই এটা ইজারা দিতে পারে না। অবিলম্বে ইজারা বাতিল করে নদীটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।

মুক্তেশ্বরী নদীকে ‘প্রবহমান নদী’ উল্লেখ করে ইজারা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি চিঠিটি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠির তোয়াক্কা না করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গত ৪ জুন জেলা জলমহাল কমিটির সভায় পাকদিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে তিন বছরের জন্য ভেকুটিয়া থেকে মন্ডলগাতি পর্যন্ত ১০৩ একর ৬৬ শতক নদী ইজারা দেন, যার বার্ষিক ইজারামূল্য ধরা হয় ৭ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নদীতীরবর্তী একাধিক বাসিন্দা বলেন, নদীটি উন্মুক্তই ছিল। অনেকেই মাছ ধরতেন। তা ছাড়া গোসল, সেচ, পাট জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নদী ব্যবহার করতেন তাঁরা। গত জুন থেকে নদীটা আর জনগণের নেই। ইজারাদারেরা মাইকে প্রচার করেছেন, ‘নদী ইজারা নেওয়া হয়েছে, জনসাধারণ কেউ যেন নদীর পানিতে না নামে।’ এরপর দু-একজন নদীতে নামলে তাঁদের মারধর করা হয়েছে। ভয়ে এখন কেউ নদীর ধারে যান না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাকদিয়া মৎস্যজীবী সমিতিতে ৪০ জন মৎস্যজীবী সদস্য আছেন। তাঁদের বেশির ভাগ নদী ইজারা নেওয়ার কথা জানেনই না। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নদীর ওই অংশ ইজারা নিয়েছেন।

ইজারা নেওয়া অংশে মাছ চাষের মোট অংশীদার ১৩ জন। এর মধ্যে মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সরজিৎ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ঠাকুর দাস বিশ্বাসের দুটি অংশ। অপর ১১টি অংশ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি উজ্জ্বল রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, মীর ফিরোজ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলামের একটি করে অংশ রয়েছে।

জানতে চাইলে ইউপি সদস্য উজ্জ্বল রহমান বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য অনেক টাকাপয়সা লাগে। মৎস্যজীবীরা ওই টাকা দিতে পারেন না। এ জন্য আমরা তাঁদের সঙ্গে অংশীদার হয়েছি। ১৩টি শেয়ারের মধ্যে মৎস্যজীবীদের দুটি রয়েছে।’

আরবপুর ইউপির সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্যজীবী সমিতি নদীতে মাছ চাষ করলে স্থানীয় মানুষ ঝামেলা করে। এ জন্য আমরা পাঁচ-সাতজন তাদের একটু দেখভাল করি।’

সাধারণ মানুষকে নদীতে নামতে না দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাকদিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সরজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘মানুষকে নদীতে নামতে দেব কেন? আমরা তো সরকারের কাছ থেকে লিগ্যালি (বৈধভাবে) নদী ইজারা নিয়ে অনেক টাকা খরচ করে মাছ ছেড়েছি। নদীতে কেউ যাতে না নামে, এ জন্য মাইকে প্রচার চালানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলার আহ্বায়ক খন্দকার আজিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নদী মুক্ত, নদীর পানি যে পর্যন্ত যাবে, সে পর্যন্ত নদীর সীমানা। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কোনো সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে বর্তমান জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, নদীর এই অংশ আগেও ইজারা হয়েছে। ইজারা না দেওয়ার জন্য পাউবোর দেওয়া চিঠি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। যে কারণে মৎস্যজীবীদের অনুকূলে নদী ইজারা দেওয়া হয়।

দৈনন্দিন

খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের প্রধান খাবার হরিণের মাংস। কালেভদ্রে এরা শূকরও খেয়ে থাকে, এত দিন এটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত ধারণা। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাঘের খাদ্যতালিকায় হরিণ, শূকরের পাশাপাশি গুইসাপ, কাঁকড়া ও মাছও রয়েছে।

সুন্দরবনের বাঘের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষক দলটি বাঘের মল ছাড়া হাড়গোড়ও পরীক্ষা করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের করা গবেষণার এ ফলাফল চলতি মাসের শুরুতে জার্মানির এনডেঞ্জারড স্পেসিস রিসার্চ নামের একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে বাঘের খাবারের ৫০ শতাংশ হরিণের মাংস থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শূকরের মাংস থেকে আসে। আর খুলনা-বাগেরহাট অংশে বিচরণকারী বাঘ খাবারের ৭০ শতাংশ মেটে হরিণ থেকে। আর বাকি ৩০ শতাংশ আসে শূকর ও অন্যান্য প্রাণী থেকে। সামগ্রিকভাবে বাঘের খাবারের ৮৯ শতাংশ আসে হরিণ ও শূকর থেকে। গবেষকেরা বলছেন, বাঘ যদি মাছ ও কাঁকড়া খায়, তাহলে বুঝতে হবে সুন্দরবনে খাদ্যসংকট চলছে।

২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি

সুন্দরবনের প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে বাঘের ৫১২টি মলের নমুনা পরীক্ষা করে এ গবেষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিম গ্রুমব্রিজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এসব মল পরীক্ষা করে মূলত সুন্দরবনের বাঘ কী ধরনের খাবার খায়, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা।বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে বাঘের প্রধান খাবার সাধারণত বুনো মহিষ, সাম্বার, চিত্রা হরিণের মতো বড় প্রাণী। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে এ ধরনের বড় প্রাণী নেই। ফলে এখানে বাঘ বাধ্য হয়ে হরিণ ও শূকর খেয়ে থাকে। তবে বাঘ যে মাছ ও কাঁকড়া খায়, তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। কারণ, চরিত্র ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী বাঘের মাছ ও গুইসাপের মতো জলজ প্রাণী খাওয়ার কথা না।’

আবদুল আজিজ বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের বাঘ সাধারণত এ ধরনের প্রাণী খায় না। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে তারা তা খাচ্ছে। বাঘ যে ধরনের প্রাণী, তাতে তার জন্য খাদ্য হিসেবে প্রচুর পরিমাণে মাংসল প্রাণীর দরকার।’ তাঁর ভাষ্য, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো যাবে, যদি হরিণ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাড়ানো হয়। সুন্দরবনের বাঘ খাদ্য হিসেবে বানরও খেয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ ২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি। অর্থাৎ বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হরিণের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

বাঘের খাদ্যসংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের খাবারের কোনো সংকট নেই। তবে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হরিণের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

এত দিন ধারণা ছিল সুন্দরবনের বাঘ মায়া হরিণ খায় না। কিন্তু চাঁদপাই, হরিণটানাসহ বিভিন্ন স্থানের মল পরীক্ষা করে বাঘের মায়া হরিণ খাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বাঘের পেটে প্রচুর পরিমাণে মাটিও পাওয়া গেছে। জলজ প্রাণী খেতে গিয়ে এসব মাটি বাঘের পেটে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

৪ নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক

ওয়েস্ট কনসার্ন-এর জরিপের তথ্য। মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল-বিল-নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

শিল্পকারখানা আর শহরের পয়োনিষ্কাশনের সব বর্জ্য নিয়ে ফেলা হচ্ছে নদীতে। বুড়িগঙ্গা–কর্ণফুলীর মতো একসময়ের টলটলে পানির নদীগুলো এ কারণে এখন মারাত্মক দূষণের শিকার। দেশের অন্য নদীগুলোরও দূষণের চিত্র প্রায় একই। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এর চেয়েও ভয়াবহ বিপদের কথা উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে প্লাস্টিকের দূষণ। শুধু রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। এর অর্ধেকই রয়েছে বুড়িগঙ্গায়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ওয়েস্ট কনসার্ন–এর এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৮ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির হিসাবে বুড়িগঙ্গা বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদীর তালিকায় নাম লিখিয়েছিল। আর ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা যৌথভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত অববাহিকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ওয়েস্ট কনসার্নের নির্বাহী পরিচালক মাকসুদ সিনহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মতো দেশের অন্য বড় শহরের নদীগুলোয়ও প্লাস্টিকের দূষণ তীব্র হয়েছে। আমরা ওই চার নদীর জরিপ করতে গিয়ে দেখেছি, সেখানে প্লাস্টিকসহ অন্য ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এই নদীগুলোকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।’

করোনাকালে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে

করোনাভাইরাসের মহামারির এ সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বায়ুও আগের চেয়ে নির্মল হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ ৪ শতাংশ কমেছে। প্রকৃতিতেও ফিরেছে নানা বৈচিত্র্য। কিন্তু এর মধ্যেও হতাশার চিত্র নিয়ে এসেছে নদীতে প্লাস্টিক দূষণ। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল–বিল–নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সামগ্রিকভাবে প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা, পদ্মা ও যমুনা নদী বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের গত আগস্টের হিসাবে, বিশ্বে গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার ৯০০ কোটি মাস্ক ও ৬ হাজার ৬০০ গ্লাভস নদী হয়ে সাগরে পড়ছে। এর আগে বিশ্বে বছরে ৮০ কোটি টন প্লাস্টিক নদী হয়ে সাগরে জমা হতো, যা বছরে ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি ও ১ লাখ মাছের মৃত্যু ডেকে আনে।

বঙ্গোপসাগরে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক

পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক চলমান এক গবেষণায় আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিষয়ক নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ওই দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পদ্মা থেকে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে থালা, প্রসাধনসামগ্রীর মোড়ক এবং নিত্যব্যবহার্য থালা ও জগ—সবই ছিল ওই তালিকায়। ব্যবহার করার পর তা বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। গবেষণাটি কয়েকটি ধাপে করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত বছর দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে।

গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যেসব দেশ প্লাস্টিক তৈরি করছে, তাদেরও এই দূষণের দায় নিতে হবে। ফলে সব মিলিয়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। আর পলিথিনের কারখানা ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযানও চালাচ্ছি।’

গত জুনে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি ‘বিশ্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যের উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।

বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডিও) ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জলে-স্থলে বর্তমানে ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। প্রতিদিন এর সঙ্গে ৩ হাজার টন করে যোগ হচ্ছে। সংস্থাটি দেশের পরিবেশের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগকে চিহ্নিত করেছে। তারা বলছে, দেশে যেখানে জৈব বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছে।

জানতে চাইলে ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে। যাঁরা প্লাস্টিকের ব্যবহার করছেন, তাঁদের সচেতন করতে হবে। যাতে তাঁরা যত্রতত্র প্লাস্টিকসামগ্রী না ফেলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পৌনে তিন লাখ একর বনভূমি বেদখলে

  • কারা দখলে রেখেছে, জানানো হয়নি
  • সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল কক্সবাজার জেলায়
  • দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও করা হয়েছে

দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমিই বেদখল হয়ে আছে। প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে এসব জমি দখল করেছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আজ সোমবার এসব তথ্য জানায় বন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। জেলাটিতে ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনভূমি বেহাত হয়েছে।

বৈঠকে বন অধিদপ্তর বেদখল হওয়া বনভূমির তথ্য জানালেও কারা এসব জমি দখলে রেখেছেন তা লিখিতভাবে জানায়নি। কারা এসব জমি দখল করেছে ও এখন কী অবস্থায় আছে, তা বিস্তারিত জানাতে বন অধিদপ্তরকে বলেছে সংসদীয় কমিটি। তবে বন অধিদপ্তর মৌখিকভাবে জানিয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে আছে এসব বনভূমি।

বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সংরক্ষিত, বিজ্ঞপ্তিত, রক্ষিত, অর্জিত বা অর্পিত ও অশ্রেণিভুক্ত মিলিয়ে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। প্রতিবেদনে বনভূমি বেদখলের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু পাশে বনভূমি দখলের প্রবণতা বেড়ে যায়।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। অনেক দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে বলে বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আদালতে মামলা করে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে।


অন্যদিকে বন বিভাগের প্রয়োজনীয় জনবলেরও অভাব রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বনভূমি দখলকারীদের তালিকা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন পর্যন্ত এসব উদ্ধারে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে কারা আছেন এসব জানাতে বলা হয়েছে। অনেক প্রভাবশালীও বনভূমি দখল করেছেন। জবরদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করা এখন সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে রাখা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে একের পর এক হামলা

প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে মা ইলিশ নিধন। অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অসহায় হয়ে পড়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তিনটি পৃথক হামলার ঘটনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। মা ইলিশ ধরার খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামতসহ বন্দর থানার পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছামাত্র একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হামলার মুখে আত্মরক্ষায় অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা পিছু হটেন। হামলায় পুলিশের দুই সদস্য এবং তাঁদের বহনকারী একটি স্পিডবোটের চালক আহত হন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার দেবুয়া এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার মেহেন্দীগঞ্জের দুজন প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।

মৎস্য বিভাগ বলছে, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা, বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন-সংলগ্ন এলাকার কীর্তনখোলা নদী ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের অংশ হওয়ায় প্রজননের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকায় মা ইলিশের বিচরণ বেশি হওয়ায় অসাধু জেলেরা সেখানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরেন। প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা রাতের আঁধারে নদীর এসব অংশে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত রাখেন। এঁদের নিবৃত্ত করতে গেলেই নদীতে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর, শাওরা সৈয়দখালী, চরকিল্লা, অন্তর্বাম, দেবুয়া, কাইসমা, ধুলখোলা, আবুপুর, গঙ্গাপুর, নাছোকাঠি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধন। একই সঙ্গে বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন-সংলগ্ন নদীতে রাতের জোয়ারে প্রতিনিয়ত অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করে আসছে স্থানীয় একটি চক্র। এঁরা পেশাদার জেলে না হলেও প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাছ ধরেন। তাঁদের ইঙ্গিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের চারদিকে মেঘনার শাখা-প্রশাখা, যেখানে ব্যাপক মা ইলিশের বিচরণ। এই এলাকায় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে শিশুদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিধান না থাকায় তাঁরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। এমনকি তিনিও অভিযানে গিয়ে জেলেদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, ওই এলাকার বিশাল মেঘনা নদীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নৌ পুলিশের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু এত স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হিজলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন বলেন, অবস্থা বিবেচনায় এখানে পুলিশের আরও ৩৪ জন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের দুটি এলাকায় ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন মেঘনার পাহারায় নিযুক্ত করা হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতি জানানো হলে দুই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৭ দিনে ৩৩৬ জনের কারাদণ্ড

এবার ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৪ অক্টোবর থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৭৭০টি অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ৩৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। অভিযানের সময় ৩৬৭টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে আটক লোকজনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শুক নদে মাছ ধরার সুখ

নদীর বাঁধজুড়ে মানুষের ঢল। কেউ দাঁড়িয়ে বাঁধের ধারে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে। চারপাশে জলের ঝপাৎ-ঝপাৎ শব্দ। নানা বয়সের মানুষ জাল ফেলে মাছ ধরছে। এই চিত্র ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদের বুড়ির বাঁধ (জলকপাট) এলাকার। দুই দিন ধরে সেখানে মাছ ধরা চলছে।

শুক্রবার রাতে খুলে দেওয়া হয় জলকপাটের দরজা। পানি কমে গেলে শনিবার ভোরে হাতে হাতে ফিকা জাল নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন স্থানীয় লোকজন। শুরু হয়ে গেছে মাছ ধরার উৎসব। মাছ ধরার এ উৎসব ঘিরে এলাকাটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। প্রতিবছর দু-তিন দিন ধরে এখানে মাছ ধরার উৎসব চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচসুবিধার জন্য শুক নদের ওপর বুড়ির বাঁধ নামে একটি জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। এসব পোনা যাতে কেউ ধরতে না পারেন, তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। অক্টোবরের শেষের দিকে সেখানে মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জলকপাট নির্মাণের পর থেকে সেখানে মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে। এতে যোগ দেন আশপাশের গ্রাম ও শহর থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার ভোরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে, আবার কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিড়ের কারণে একজনের জাল অন্যজনের জালের ওপরে পড়ছে। আর তা নিয়ে চলছে হাসি-তামাশা। এসব দেখে সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের মহসিন আলী বললেন, ‘এইঠে যতলা লোক মাছ মারছে বাঁধের পানি ফাঁকা পাওয়া জাসেনি। জাল ফেলাবা গেলেই অন্যের জালের ওপরত পড়ছে।’

এসব বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে আবার কলার ভেলায় ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন। বাঁধের ওপরে বসেছে খাবার, ফল ও খেলনার দোকান। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিরাপদে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী গ্যারেজ। সেখানে প্রতিটি বাইসাইকেলের জন্য ১৫ ও মোটরসাইকেল রাখতে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।’

অনেক ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাঁধের ওপর বিক্রি করছেন। শহর থেকে আসা মানুষজন সেসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকে এখান থেকে মাছ কিনে শহরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বনাথ দাস নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময়ে মাছ কিনতে চলে আছি। আজ ১৬ হাজার টাকার ছোট মাছ কিনেছি। এগুলো শহরের বাজারে নিয়ে যাব।’

প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।

পুরোনো ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. ইউসুফ জানালেন, এই বাঁধের পানিতে বোয়াল, বাইম, শোল, ট্যাংরা, খলসে, পুঁটি, টাকি, মলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ বেশি পাওয়া যায়। তবে অনেকের জালে আবার রুই-কাতলা ধরা পড়ে।

প্রতিবছর এ সময় ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়া এলাকা থেকে জাল হাতে এখানে চলে আসেন মনিরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘মাছ ধরার এই উৎসবে অনেক দিন দেখা নেই—এমন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আমরা এটাকে মিলনমেলাও বলে থাকি।’

সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত বলেন, ‘পানি ছেড়ে দিলে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরা উৎসবে পরিণত হয়। আমরা যুগের পর যুগ এ উৎসব ধরে রাখতে চাই।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com