আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

 নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

প্রবল বৃষ্টি, তীব্র শীত উপেক্ষা করে গ্রামের জঙ্গল চষে ৬টি পাখি খুঁজে আবুল হাসনাত মো. নাজমুল কামাল রনি পেয়েছেন ‘বিগ বার্ডার অব দ্য ইয়ার’ এবং রাশেদুল কবীর ও মুহম্মদ তারিক হাসান দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়ে ‘বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। ‘পাখিমেলা’য় এই তিন তরুণকে পুরস্কৃত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। প্রথম হওয়া রনির জবানীতে তার পাখি দেখার গল্প তুলে ধরেছেন আদীব মুমিন আরিফ-

রনি যা বলেন
কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কাজ করি। পুরো সপ্তাহ খেটে খেতে হয়। ফলে শুক্রবার সকালেই বেরিয়ে পড়ার একমাত্র সুযোগ থাকে। অথচ এদিন সকালেই কিনা আকাশ মেঘে ঢাকা। তারপরও পাখি দেখার নেশায় রাজশাহী শহরের বাসা থেকে বাইকে বেরিয়ে গেলাম। এটি গত বছরের ৫ মে’র ঘটনা। নওদাপাড়া এলাকায় এসে দেখি আলো বাড়ছে। ফলে আমার আশাও বাড়তে লাগল। কিন্তু পাখি তো দেখি না, মাঝেমধ্যে শাহ বুলবুলির ডাক শুনি।

নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

তবে একপলক দেখার পরই ওরা হাওয়া হয়ে যায়। ব্যস্ত হয়ে কড়ইয়ের বাঁকলে পোকা খুঁজছে দুই-তিনটি টিট, ওড়া না শেখা কোকিল ছানা এ ডালে-ও ডালে লাফাচ্ছে। ছোট আকারের প্যাঁচার এক পরিবার আমি কী করছি জ্ঞানীর মতো খুব খেয়াল করছে। একটু দূরে কালাপাখ কাবাসির ডাক শোনা যাচ্ছে। আকাশ আরো কালো হয়ে আসছে। হঠাৎ বড় কড়ইগাছে বাতাবি কাঠবিড়ালি বসতেই কী যেন উড়ে পালাল। খুব আস্তে ওর পিছু নিয়ে সবুজ পাতার পেছনে দেখি ছোট্ট একটি পাখি। অসম্ভব দ্রুত গাছের পোকা ঠোকরাচ্ছে। এ ডাল থেকে ও ডালে লাফাচ্ছে। গায়ের রংটি এই অস্থির পাখির এমন, একবার লুকালে আর দেখিই না। এই পাখির ছবি কোনো দিনও দেখিনি। এটি হয়তো নতুন। সকাল ৯টা বাজে। আকাশ এত কালো হয়ে এসেছে যে মনে হলো সন্ধ্যা নেমেছে। কয়েকটি শট নিয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির পথ ধরলাম। দুপুরে খেয়ে-দেয়ে পাখিটির ছবি ‘বার্ডস বাংলাদেশ’ ও ‘আস্ক আইডিস অব ইন্ডিয়ান বার্ডস’ ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকজন নামকরা পাখিবিদ বললেন, এটি ‘ব্রাউন ক্যাপড পিগমি উডপেকার’ বা ‘ইন্ডিয়ান উড পেকার’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পরে ড. মনিরুল এইচ খান ও সায়াম ইউ চৌধুরীও সেটি নিশ্চিত করলেন। পরে ইনাম আল হকও নিশ্চিত করলেন। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের কোনো কোনো এলাকায় দেখা গেলেও এ দেশে আগে কেউ দেখেননি বলে এর কোনো বাংলা নাম নেই। পরে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এটির নাম প্রস্তাব করল ‘খয়রা টুপি বাটকুড়ালি’। ইংরেজিতে একে বলে ‘ব্রাউন ক্যাপড উডপেকার’। ১৪ সেন্টিমিটারের ছোট্ট কাঠঠোকরা জাতের এই পাখির মাথার ওপর ও দুই চোখের পেছনে খয়েরি রং আছে।

শুধু খয়রা টুপি বাটকুড়ালিই নয়, আমাকে এবারের ‘বিগ বার্ডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার এনে দিয়েছে ‘চিতঠুটি গগনবেড়’ও। এটিও এ দেশে আমিই প্রথম রেকর্ড করেছি। সে গল্পও দারুণ। সেদিন আগের রাত থেকে তুমুল, সকালেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমাদের হরিণা গ্রামের লোকেরা আষাঢ়ের এই বাদলধারাকে স্থানীয় ভাষায় ‘আশ্বিনী গেইন’ (আশ্বিনের বাদলা) বলি। মায়ের মুখে শুনেছি— এর মানে হলো, আশ্বিন চলে যাচ্ছে, এখন রাজশাহীর বিখ্যাত কনকনে শীত নামবে। তারপরও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাখি দেখার নেশায় বেরিয়ে গেলাম ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর। বিকেল ৫টায় পদ্মা নদীর তীরে এসে দেখি পাখি দেখার সব সময়ের সঙ্গী অনিক বা তার নৌকার চিহ্নমাত্র নেই। ফোন দিলাম। বলল, নদীতে নৌকা বাইছে, হাসনাতের চরে থাকবে। ফলে অচেনা এক মাঝিকে নিয়েই বড় বড় ঢেউ আর পুব আকাশের ঘন কালো মেঘ উপেক্ষা করে নদীযাত্রা শুরু করতে হলো। আস্তে আস্তে বৃষ্টির ফোঁটা বড় হচ্ছে, রেইনকোট পরেও ঠান্ডা লাগছে। ক্যামেরাটি প্লাস্টিক, গামছায় মোড়া। ক্যামেরা ভেজানো যাবে না। নষ্ট হয়ে গেলে লেন্স, ক্যামেরা কেনার পয়সা কোথায় পাব? জবুথবু বসে আছি। ট্রলারচালিত নৌকা কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘হাসনাতের চরে’ চলে এলো।

নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

প্রায় বর্ষায়ই চরটি পানিতে ডুবে থাকে, শুকনো মৌসুমে জাগে। নৌকা ভিড়ল। বড় একঝাঁক ‘রাঙা মানিকজোড়’ এদিক-সেদিক হাঁটছে। মাথাগুলো দেখছি। আমায় দেখে উড়ে পালাবে বলে বুকে হাঁটা শুরু করতে হলো। কনুই-হাঁটু জ্বলে, হাঁপ ধরে যায়। একটু জিরিয়ে আবার এগোই, ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলি। এভাবে ৫০০ গজ এগিয়ে গেলাম। আর এগোলে ওরা ভয়ে পালাবে। কিন্তু আমার রিং পরানো হার্টও দ্রিম দ্রিম বাড়ি দিতে লাগল। হায় আল্লাহ, সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে পঞ্চাশেক রাঙা মানিকজোড়ের পালে একটি ‘চিতিঠুটি গগনবেড়’! তা-ও আবার রাজশাহীর এক অচেনা চরে! পুরো শরীর ঠান্ডায় না উত্তেজনায় কাঁপতে লাগতে বুঝতে পারলাম না। কয়েক ফোঁটা চোখের জল বৃষ্টিতে মিশে গেল। এই পাখিটির ইংরেজি নাম ‘স্পট বিল প্যালিকান’ বা ‘গ্রে প্যালিকান’। আকাশে বেড়ানোর সময় বিশাল ডানা পুরো আকাশ বা গগনকে বেড় বা ঢেকে ফেলে বলে বাংলায় একে ‘গগনবেড়’ বলে। ৫০ থেকে ৬০ ইঞ্চি লম্বা, চার থেকে ছয় কেজি ওজনের পাখিটি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়ার কোনো কোনো অঞ্চলে প্রজনন করে। বক গোত্রের পাখিটি স্বজাতি রাঙা মানিকজোড়ের সঙ্গে মিলে বাসা বাঁধে। অগভীর, পরিষ্কার পানিতে ঘুরে ঘুরে ছোট মাছ খায়। এর আগে কোনো দিনও আমাদের দেশে এদের দেখা যায়নি। আমার এই ছবি আর বিবরণই তাদের প্রথম রেকর্ড। ফলে বৃষ্টি, কাদা, বালি পরোয়া না করেই ছবি তুলে ফেললাম। চিতিঠুটি গগনবেড় সারা বিশ্বেই ‘প্রায় বিপন্ন’ পাখি। পাখির ছবি তোলা, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজের সুবাদে ২০১৬ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আমাকে ‘পাখি সংরক্ষণ সম্মাননা ২০১৬’ প্রদান করেছে।

নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

সাগরের দুটি পাখি
তখন ১৪ সদস্যের দলটি ছিল বঙ্গোপসাগরে। প্রকৃতি ও প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইসাবেলা ফাউন্ডেশন’ ও বন বিভাগের গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র রাশেদুল কবীরও আছেন সে দলে। তিনি পাখির বাসস্থান, প্রজনন ও বৈচিত্র্য নিয়ে এমফিল করছেন। করতোয়া জাহাজে চড়ে বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে পৌঁছে যে যার মতো সামুদ্রিক পাখির ছবি তুলছিলেন। নতুন মনে হলো বলে তিনি একটি পাখির ছবি দ্রুত তুলে ফেললেন। পরে জানলেন, ‘মাস্কড বুবি’ নামের এই সামুদ্রিক পাখিটি এর আগে এ দেশে দেখা যায়নি। পর দিন তিনি সেখানেই ‘রেড বিল্ড ট্রপিক বার্ড’র ছবি তুললেন। এটি এর আগে একবার মাত্র এ দেশে রেকর্ড হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

bird-in-(5)

রাতচরার দুটি প্রজাতি
অন্যদিকে তৃতীয় পুরস্কার পাওয়া মুহাম্মদ তারিক হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেখা পেয়েছেন ‘সাভানা নাইটজার’ ও ‘ইন্ডিয়ান নাইটজার’ নামে দুটি দুর্লভ প্রজাতির পাখি। ২০১৩ সাল থেকেই তিনি পাখির ছবি তোলা শুরু করেন। ২০১৫ সালে পাখি নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। ছোটবেলা মেলা থেকে মাটির পাখি কিনে খেলা করতেন। আর তখন থেকেই তার পাখির প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা সৃষ্টি হতে থাকে। বাড়ির পাশেই পড়ে আছে সরকারি খাস জমি। সেখানে আছে খিছু ঝোপঝাড়, অর্জুন গাছ ও ঘেসো জমি। বাগানে থাকে নানা প্রজাতির পাখির ঝাঁক ও শেয়ালের দল। তাই বাড়িতে গেলেই বাগানে ঢুঁ মেরে আসেন। তেমনি একদিন বাগানে যান পাখির ছবি তুলতে। দূরে গাছের ডালে কিছু একটা বসে থাকতে দেখেন। ক্যামেরা বের করে কিছু ছবি তোলেন। দেখেন পাখিটি ঘুমোচ্ছে। এটা ছিল দেশি রাতচরা পাখি। যারা দিনে ঘুমায় রাতে কাজে ব্যস্ত থাকে। পাখিটির গাঁয়ের রং গাছের ডালের রঙের মতো। খুব ভালো করে লক্ষ্য না করলে এদেরকে দেখা অসম্ভব। বাড়ি এসে পাখিপ্রেমীদের সাথে গল্প করে জানতে পারেন, পাখিটি বাংলাদেশে খুবই দুর্লভ। এর দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। তাই পরের দিন আবার গেলেন সেই বনে, গিয়ে আগেরটির দেখা পেলেন না। সারাদিন খুঁজে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির দিকে রওনা দেন। সূর্য ডুবে যাওয়ায় রাতচরারা বেড়িয়ে পরে। সাথে সাথেই ছবি তোলেন আরো একটি পাখির। এটির নাম মেঠো-রাতচরা। দুই দিনে দুই দুর্লভ পাখির ছবি তুলে পেয়ে যান বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় পুরস্কার। তারিক হাসান বর্তমানে অহনিশ ফিল্মের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন।

নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

এবং পাখিমেলা
‘২০০১ সালে এই আয়োজনটির শুরু হয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পাখিমেলা হচ্ছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে মেলায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৬৯০ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে পাখি পর্যবেক্ষণ ও নতুন প্রজাতির পাখির সন্ধান নিশ্চিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। দুর্লভ ও নতুন পাখির সন্ধান দিয়ে গত পাঁচ বছরে মোট পনেরো জন তরুণ পাখিবিদ প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ‘বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তারা ক্রেস্ট ও সম্মাননা পান। সেরা পাখিবিদকে একবছরের জন্য ‘বিড বার্ডার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব দেওয়া হয়।’ কথাগুলো বললেন এ পুরস্কারের সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা বন্য প্রাণীবিদ ড. মনিরুল এইচ খান।

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

    নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান
  • নতুন প্রজাতির ৬ পাখির সন্ধান

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টি ব্যাগের ব্যবসা করে আয় করুন প্রচুর অর্থ

চা পানীয়টি আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটি পানীয়। প্রিয়জনের সাথে বৈঠক থেকে শুরু করে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করা সবেতেই চা (Tea) আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। সাধারণ চায়ের জায়গায় এসেছে, গ্রীণ টি, হার্বাল টি, লেমনগ্র্যাস টি, ব্লু টি ইত্যাদি। আর প্রকারভেদের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে টি ব্যাগের গুরুত্ব। কারণ এটি খুব অল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং যে কোন স্থানে এর থেকে চা বানানো যায়। অফিস ও হোটেলগুলিতে এর যথেষ্ট চাহিদাও রয়েছে। তাই টি ব্যাগ তৈরীর ব্যবসাটি হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য লাভদায়ক।

চা উৎপাদনকারী দেশ গুলির মধ্যে অংশ নেয় চীন, ভারত , কেনিয়া , শ্রীলঙ্কা , জাপান , ইন্দোনেশিয়া , ভিয়েতনাম, তানজেনিয়া , মালয়, বাংলাদেশ, তার্কী এবং চা পানকারী দেশ গুলির মধ্যে ইংল্যান্ড, জর্মানী, কানাডা ও আমেরিকার বেশ নাম রয়েছে।

এ কারণে বেশিরভাগ সংস্থা টি ব্যাগ বিক্রি শুরু করেছে। আপনি যদি নতুন ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনি টি ব্যাগ মেকিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটির মাধ্যমে আপনি খুব ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যিনি তৈরী করেন, তার থেকে নিয়ে এসে আপনি বাইরে বিক্রি করতে পারেন, এতে আপনার বিনিয়োগের দরকার পড়বে না। কিন্তু যদি বেশী লাভ করতে চান, তবে বিনিয়োগ করে নিজের ব্যবসা শুরু করুন।

টি ব্যাগ ব্যবসা শুরু করার জন্য জায়গা (How to start) –

এটি শুরু করার জন্য আপনি কোনও জায়গা ভাড়া নিতে পারেন। আপনার নিজের জমি থাকলে ব্যবসার জন্য সুবিধা হবে। এমন জায়গা চয়ন করুন, যেখানে মানুষের সমাগম রয়েছে। টি ব্যাগ তৈরীর জন্য আপনাকে মেশিন ইনস্টল করতে হবে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় বিনিয়োগ –

আপনি যদি বড় আকারে ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে আপনাকে বেশী অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মেশিনটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল, সুতরাং বেশী পরিমাণ রাশি বিনিয়োগের দরকার রয়েছে এই ব্যবসায়, তবে আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোণ নেন, তবে আপনি ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

চা ব্যাগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল –

ফিল্টার পেপার –

এর ভিতরে চায়ের পাতা স্টোর করতে হবে। এই কাগজটি সুক্ষ ছিদ্রযুক্ত এবং পাতলা, পাশাপাশি সহজে ভিজে যায় না, তাই এই কাগজটি চা ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

চা পাতা –

আপনি যেমন প্রকারের ব্যাগ বিক্রি করতে চান, তেমন চা পাতা কিনতে হবে।

বিভিন্ন প্রকারের চা –

সাধারণ চা, গ্রীণ টি, উলং টি, ব্ল্যাক টি, হার্বাল টি

চা ব্যাগগুলিতে চা পাতা পূরণ করার প্রক্রিয়া –

চা ব্যাগ তৈরীর মেশিনের সাহায্যে প্রস্তুত চা পাতাগুলি ফিল্টার পেপারে পূরণ করতে হয়। সাধারণত প্রায় ২-৪ আউন্স চা পাতা একটি টি ব্যাগে ভরা হয়। এর পরে, একটি প্যাকিং মেশিনের সাহায্যে ব্যাগটি সিল করা হয়। টি ব্যাগের সাথে একটি সুতো সংযুক্ত থাকে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় থেকে লাভ –

আপনি চায়ের পাতার গুণমান অনুযায়ী ব্যাগের দাম নির্ধারণ করতে পারেন। এই ব্যবসা থেকে খুব ভাল লাভ করা যায়। এর আরও বিক্রয়ের জন্য, আপনি বাজারে পাইকারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এগুলি ছাড়াও আপনি হোটেল বা অফিসের লোকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এই ব্যবসা আপনাকে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

সহজ পদ্ধতিতে টবে করুন কদবেল চাষ

ছেলে থেকে বুড়ো সবারই প্রিয় টক ঝাল কদবেল। কদবেলের আচার, কদবেল মাখা সকলেরই অত্যন্ত পছন্দের। যারা বাগান করতে পছন্দ করেন, বিশেষত টবে, তাদের জন্য কদবেল এক আদর্শ ফল। কদবেলের আকার অনেকটা টেনিস বলের মতো। শরতের শুরুতে কদবেল বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলের মন মাতানো স্বাদ বিশেষ করে মহিলাদের ভীষণই পছন্দের।

টবে কদবেল চাষের পদ্ধতি (Farming Process)

মন কাড়া স্বাদের জন্য পাকা কদবেল সবার কাছেই অত্যন্ত প্রিয়। কদবেল গাছে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ। তবে ফল পাকতে সময় লাগে সেপ্টেম্বর-অক্টবর। টবে রোপনের জন্য কদবেলের কলমের চারা বেশি ভালো। কলমের চারা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ফুল-ফল ধরে। ছাদের টবে এই গাছের চাষ সহজেই করা যায়। জোড় কলম করে এর কলম তৈরি করা যায়। এ গাছের চাষাবাদ অনেকটা বেলের মতোই।

মাটি তৈরি (Land Preparation)

হাফ ড্রামে অথবা টবে পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু করে ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর ১০ সেন্টিমিটার বালির স্তর দিতে হবে। ড্রামের তলার দিকে জল বার করে দেওয়ার জন্য ছিদ্র রাখতে হবে। এবার তিন ভাগ দো-আঁশ মাটির সাথে দুই ভাগ গোবর সার, ড্রামপ্রতি ২০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি (ফসফেট) সার, ১ কেজি হাড়ের গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২০ গ্রাম ম্যাগেনেসিয়াম সালফেট (ম্যাগসাল) সার ও ১০ গ্রাম দস্তা সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ড্রামে বা টবে ভরে হালকা করে জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে এক থেকে দুই সপ্তাহ রেখে দিতে হবে।

ড্রাম বা টবের ঠিক মাঝখানে কদবেলের কলম বসিয়ে কলমের গোড়ার মাটি শক্ত করে চেপে দিতে হবে। কলম লাগানোর পর গাছের গোড়ায় জল দিতে হবে। সোজা ভাবে কলম রাখতে গেলে, গোড়ার কাছাকাছি কাঠি পুঁতে তার সাথে কলম বেঁধে দিলে ভালো। শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনও সময় কদবেলের কলম লাগানো যায়। ছাদের ওপর রোদের মধ্যে কদবেলের গাছ রাখা উচিত। এতে গাছের ভালোই হবে।

ফলন এবং পরিচর্যা (Caring)

কলমের গাছে ফুল ফাল্গুন-চৈত্র মাসে নাগাদ আসে। শরৎকালে ফল পেকে যায়। ডালপালা ফল সংগ্রহ করার সময় কিছু ছেঁটে দেওয়া উচিত। এর ফলে পরের বছর ফলন ভালো হবে। কদবেল গাছে ফুল-ফল ভালো আনার জন্য প্রতি বছর ফল তোলা শেষ হলে গাছের গোড়ার মাটিতে ড্রামপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ১০০ গ্রাম এমওপি সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার দুই কেজি প্যাকেটের কম্পোস্ট সারের সাথে মিশিয়ে গোড়ার মাটি নিড়িয়ে তার সাথে মিশিয়ে সেচ দিতে হবে।

গাছের বৃদ্ধি ভালো হলে বছরে একবার সার দিলে হবে না। বর্ষাকালের আগেও ঠিক একই ভাবে পুনরায় সার দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে টব বা ড্রামের মাটি যাতে না শুকিয়ে যায়। টবের মাটি কখনো শুকিয়ে গেলে নিয়ম করে সেচ দিয়ে নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com