আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

নতুন পোশাক কেনার আসক্তি কিভাবে কমাবেন

দোকানে পোশাক দেখছেন এক নারী
দোকানে পোশাক দেখছেন এক নারী

কম দামে নতুন পোশাক কিনতে আমরা সবাই ভালোবাসি। বেশিরভাগ সময়ই এগুলো আমরা দ্রুত এবং সস্তায় কিনি এবং একবার পড়ার পরেই তা ছুড়ে ফেলে দেই।

কিন্তু হালের এসব পোশাকই গ্রিন হাউস গ্যাস নি:সরণ, পানি এবং বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। সৃষ্টি করে মাত্রাতিরিক্ত বর্জ্য এবং অন্যান্য দেশে এগুলো পাঠানো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা তেমন ব্যবহার উপযোগী থাকে না।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশগত অডিট কমিটি দেশটির সরকারের কাছে এই শিল্প বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পরিবেশ এবং শ্রম বিষয়ক ১৮টি সুপারিশ করেছে তারা। সরকার বলছে, এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে তারা।

তবে ক্ষতিকর এমন শপিং করার অভ্যাস কমিয়ে আনতে কি করা যায় সে বিষয়ে টেকসই ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো:

১. কম কেনাই বেশি কেনা

পরিবেশবাদী আন্দোলনকারী ও টলি ডলি নামে নৈতিক ফ্যাশন বিষয়ক ব্লগার টলমিয়া গ্রেগরি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, কম কিনতে হবে।”

তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোন অনুষ্ঠান যেমন রাতে পরার কিংবা ছুটির দিনে পরার আলাদা আলাদা পোশাক কেনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের।”

টলেমিয়া গ্রেগরি
টলেমিয়া গ্রেগরি

“প্রথম দিকে মানুষ একে আক্রমণাত্মক মনে হতে পারে,” তিনি বলেন।

“কিন্তু এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য সব ধরণের চেষ্টা করতে হবে আমাদের। মাথায় রাখতে হবে যে এটা একটা ভালো উদ্যোগ।”

একই কথা বলেছেন সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ফ্যাশনের উপযোগিতা, নকশা এবং ফ্যাশন বিষয়ক অধ্যাপক কেট ফ্লেচার। তিনি বলেন, “কম পোশাক কেনা মোটেও দেহের প্রতি মারাত্মক কোন অবিচার বা বঞ্চনা নয়।”

তিনি পরামর্শ দেন, “নিজের ওয়্যারড্রোবে যেসব পোশাক আছে সেগুলোই আগে লক্ষ্য করুন। কারণ ওগুলোই আপনার জীবনমান নির্ধারণ করে।”

তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় এমন পোশাক কিনি যা আমাদের তুষ্ট করার পরিবর্তে অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

“কেনাকাটা করার সময় মানুষ অত্যন্ত তৃপ্তি লাভ করে। কিন্তু পরক্ষণেই ওই কেনা বস্তু বা পোশাকের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে,” তিনি বলেন।

“কেনাকাটা নিয়ে মানুষ কতটা সুখী এমন এক গবেষণায় দেখা যায়, মৌলিক চাহিদা মেটার পরে অন্যসব কেনা কাটা মানুষের কল্যাণে তেমন কোন কাজে আসে না।”

তিনি বলেন, পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব তথ্যকে অগ্রাহ্য করে।

“আমরা আসলে যা দেখি তা হচ্ছে, অতিরিক্ত পাওয়ার বিষয়টি মানুষের কল্যাণের বোধকে কমিয়ে দেয়।”

“এটা একাকীত্ব এবং উচ্চ মাত্রার অবসাদ ডেকে আনে। এটা আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে এবং একাকী করে তুলছে,” তিনি বলেন।

২. সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক কিনুন

মিস ফ্লেচার-যিনি টেকসই ফ্যাশন নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন তিনি বলেন, “জনপ্রিয় ফ্যাশনের শহরগুলো বা হাই স্ট্রিট কেনা কাটার জন্য খুব সুনির্দিষ্ট পরিসর দিয়ে থাকে যার মধ্য থেকেই মানুষ আগ্রহ নিয়ে কেনাকাটা করে।”

“আপনার রুচি যদি আসলেই নতুনত্ব, আধুনিকতা, পরিবর্তন এবং বৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল হয় তাহলে, আপনার ওয়্যারড্রোব আর সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক কেনাতেই আপনি এগুলো অনেক বেশি পরিমাণে খুঁজে পাবেন।”

ফ্রান্সেসকা উইলো
ফ্রান্সেসকা উইলো

ফ্রান্সেসকা উইলো, ইথিক্যাল ইউনিকর্ন নামে নিজের ফ্যাশন ব্লগের এই লেখিকা বলেন, “প্রথমেই খুঁজে দেখার জন্য সেকেন্ড হ্যান্ডই সবচেয়ে ভালো অপশন। কারণ এটি ইতোমধ্যে অস্তিত্ব রয়েছে এমন জিনিসের উপযোগিতা বাড়িয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “অনেকেই চ্যারিটি শপগুলোকে কৌশলে এড়িয়ে যান। কারণ তারা জানেন যে তারা আসলে কি চাইছেন। কিন্তু ডি-পপ এবং ভিনটেডের মতো সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের অ্যাপগুলো আপনার পোশাক নির্বাচনের জন্য আসলেই সহায়ক।”

৩. প্রাকৃতিক উপাদান বাছাই করুন

টেকসই বিষয়ক ব্লগাররা বলেন, “যেকোন মূল্যে” নতুন সিনথেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি পোশাক কেনা বন্ধ করতে হবে।

মিস উইলো বলেন, “আমি হেম্প, লিনেন এবং জৈব সুতি বস্ত্র যা গ্লোবাল অরগানিক টেক্সটাইল স্ট্যান্ডার্ডের অনুমোদনের আওতায় পড়ে এমন পোশাক নিখুঁত না হলেও কিনি।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের উচিত কাপড়ের দীর্ঘস্থায়ীত্ব বাড়ানো। এটা নির্ভর করে কিভাবে আপনি কাপড়ের যত্ন নিচ্ছেন তার উপর। নির্দেশিকা দেখে এবং সে অনুযায়ী ধৌত করলে কাপড় টেকসই হয়।”

“বেশিরভাগ মানুষই বেশি গরম পানিতে কাপড় ধুয়ে থাকেন। অথচ ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করলে জ্বালানিও কম ব্যয় করতে হয়।”

তিনি বলেন, “আপনার কাছে থাকা সিনথেটিক কাপড় ধৌত করতে হলে তার সাথে আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে যাতে এর থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্র তন্তুগুলো জলজ পরিবেশকে দূষিত না করে।”

ব্যাগ কোন সমাধান নয়। তবে এটি আমাদের সৃষ্ট সমস্যাকে কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৪. যাচাই করুন

মিস উইলও বলেন, যেকোনো ব্র্যান্ড থেকে নতুন কাপড় কেনার আগে সেগুলো কোথায় এবং কারা বানিয়েছে সে বিষয়ে মানুষের প্রশ্ন করা উচিত।

“ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অনুমোদন পাওয়া ব্র্যান্ডগুলোর কাপড়ই কেনা উচিত। কারণ তারা অন্তত ন্যায্য মজুরীর বিষয়টি নিশ্চিত করে,” তিনি বলেন।

দক্ষ হয়ে উঠুন, তাহলে আপনি নিজেই এই অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন
দক্ষ হয়ে উঠুন, তাহলে আপনি নিজেই এই অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন

তিনি বলেন, অনেক ব্লগ রয়েছে যেগুলোতে এ ধরণের ব্র্যান্ড সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে যা আপনার সহায়ক হতে পারে।

“অনেক ক্রেতার কাছেই ঝামেলার মনে হতে পারে। সত্যি করে বলতে গেলে ভোক্তাদেরকে আসলেই অনেক কাজ করতে হবে এগুলো মানতে হলে। আর এজন্যই আমাদের প্রক্রিয়া এবং নীতিগত পরিবর্তন দরকার।”

“কিন্তু নিজের থেকেই এই পরিবর্তন শুরু করাটা সহজ। দক্ষ হয়ে উঠুন, তাহলে আপনি নিজেই এই অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন। যা আপনাকে তৃপ্তি দেবে,” তিনি বলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

পরিবেশ

দেশে ছাদকৃষি, প্রবাসে বাঙালির আঙিনা কৃষি

আজকাল ছাদকৃষি ছাড়া বাসভবনকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারেন না অনেকেই। একইভাবে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমিয়েও স্বপ্নের বসতবাড়িটির চারদিক সাজাতে কৃষিরই আশ্রয় নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশি। ছাদকৃষির পথ ধরেই প্রবাসে এখন রচিত হচ্ছে বাঙালির আঙিনা কৃষি।

সিরাজগঞ্জ শহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের এই বাসভবনের বয়স মাত্র এক বছর। কিন্তু তার স্ত্রী শারিতা মিল্লাতের ছাদকৃষি উদ্যোগই যেন পরিপূর্ণ করেছে এই বাড়িটিকে।

একইভাবে দেশে আশি বা নব্বই দশক থেকে ছাদকৃষিতে মজে থাকা অনেকেই, কিংবা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম বিদেশের মাটিতে সাজাচ্ছেন আঙিনা কৃষি। কানাডা প্রবাসী জাহিদ হুসাইন ও আলিয়া রহমান দম্পতির টরেন্টোর স্কার্বোরো এলাকার আঙিনা কৃষি জানান দিচ্ছে সেকথাই।

বাংলাদেশি সব রকমের শাকসবজি আর নানারকম বিদেশি ফলের স্বাদ তারা গ্রহণ করছেন এই আঙিনা কৃষি থেকেই।

তারা বলছেন, কৃষিতে মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে মূল প্রেরণা টেলিভিশন অনুষ্ঠান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঢাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গড়ে উঠেছে সুসজ্জিত ছাদকৃষি

ঢাকা মহানগর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গড়ে উঠেছে সুসজ্জিত ছাদকৃষি। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের শুশ্রূষার ক্ষেত্রে ঐ ছাদকৃষি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

পুলিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সেখানে ফলছে রকমারি ফল ফসল। এদিকে কয়েকমাসের উষ্ণতায় ইউরোপ আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন আঙিনা কৃষিতে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তাই সঠিক স্থানে সঠিক চারা রোপণের সময় এটি। বৃক্ষমেলা কিংবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা যায়। তবে ফলদ ও ওষধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দেওয়া উচিত। এতে ফল, ঔষধ এবং কাঠ সবই পাওয়া যায়। বন্যামুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং সূর্যালোক পড়ে এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত। আসুন জেনে নেই কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশেপাশে লাগাতে পারেন। এমন স্থানে দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, আম, কাঁঠাল, লিচু গাছ রোপণ করতে পারেন।

বাড়ির ছাদে
পাকা বাড়ির ছাদে টবে করে গাছের চারা রোপণ করা যায়। যেমন- কমলালেবু, পেয়ারা, কুল, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী, লিচু প্রভৃতি গাছ লাগাতে পারেন।

বাড়ির দক্ষিণ পাশে
রোদ ও আলোর জন্য ছোট এবং কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী গাছ লাগানো যেতে পারে।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

বাড়ির পূর্ব-পশ্চিমে
মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল-সন্ধ্যা বাড়ির আঙ্গিনায় আলো থাকবে। বাউকুল, আপেলকুল, সফেদা, আম্রপালি, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছ এখানে রোপণ করতে পারেন।

বাড়ির উত্তর পাশে
বড় ও উঁচু গাছপালা থাকলে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হয়। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।

পতিত জমি
আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।

হাট-বাজার
ছায়দানকারী গাছ রোপণ করা উচিত। আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ রোপণ করা উচিত।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

রাস্তার পাশে
উঁচু ও ডালপালা ছাঁটাই করা যায় এমন গাছ রোপণ করা দরকার। মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, ইপিল ইপিল, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়। গ্রামের পথের দু’ধারে বা ফিডার রোডের পাশে শিশু, নিম, দেবদারু, চম্পা, ইপিল ইপিল, পাইন্যাগোলা বা লুকলুকি, মান্দার, পালিত মাদার, পানিয়া মাদার, বাবলা, খয়ের, বকফুল, তাল, খেজুর ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে। বড় রাস্তা বা মহাসড়কের পাশে কৃষচূড়া, কনকচূড়া, রেইনট্রি, গগন শিরীষ, রাজকড়ই, শিলকড়ই, শিশু, মেহগনি, অর্জুন, দেবদারু, সোনালু, নিম, নাগেশ্বর, আকাশমণি, বকুল, পলাশ, তেলসুর, ঝাউ, বটল পাম প্রভৃতি গাছ লাগানো যায়।

রেল লাইনের পাশে
মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।

বাঁধের ধারে
শেকড় শক্ত এবং বিস্তৃত এমন গাছ যেমন- বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর ইত্যাদি গাছ রোপণ করা দরকার।

জমির আইল
যেসব গাছের শেকড় কম বিস্তৃত, কম ছায়াদানকারী, ডালপালা ছাঁটাই করা যায় যেমন- মেহগনি, দেবদারু ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে হবে। জমির ভেতরেও গাছ লাগানো যায়। এ ক্ষেত্রে ইউক্যালিপটাসকে বেছে নিতে পারেন। ফসলের ক্ষেতে দূরে দূরে অল্প কিছু এরূপ গাছ লাগানো যেতে পারে। বরেন্দ্র এলাকায় এখন ধানের জমিতে মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে ব্যাপক হারে আমগাছ লাগানো হচ্ছে। এমনকী জমির আইলেও অনেক গাছ লাগানো হয়। অনেক জায়গায় আইলে তালগাছ লাগিয়ে বাড়তি লাভ পাওয়া গেছে। তাল ছাড়া খেজুর, সুপারি, বাবলা, বকাইন, জিগা, কড়ই, ইউক্যালিপটাস, পালিত মাদার ইত্যাদি গাছ লাগানো যেতে পারে।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

নিচু জমি
জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা দরকার। পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ নিচু জমিতে রোপণ করা যেতে পারে।

পুকুর পাড়
মাটি ভাঙে না এবং শোভাবর্ধন করে যেমন সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, ডালিম ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়।

নদীর তীর
পানি সহিষ্ণু, শক্ত মজবুত ও বড় হয় এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন- শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, বাঁশ, মূর্তা, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।

বিল
বিল এলাকা যেখানে বছরে দু-তিন মাস পানি জমে থাকে সেখানে হিজল, করচ, বিয়াস, পিটালী, জারুল, মান্দার, বরুণ, পলাশ, কদম, চালতা, পুতিজাম, ঢেপাজাম, রয়না বা পিতরাজ, অর্জুন ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়।

কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন
কোন গাছ কোথায় রোপণ করবেন

চর
উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন জেগে ওঠা চরে কেওড়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, গোলপাতা গাছ লাগানো যায়। তবে উপকূলে যেসব চর একটু উঁচু ও স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি ওঠে না। সেসব চরে বাবলা, ঝাউ, সনবলই, সাদা কড়ই, কালো কড়ই, জারুল, রেইনট্রি ইত্যাদি লাগানো যায়। উপকূল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ঝাউ, লোনাঝাউ, পিটালী, করচ, পানিবিয়াস লাগানো যেতে পারে।

উপকূল
লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, হালকা পাতাবিশিষ্ট গাছ যেমন- সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়াই, বাবলা, নারিকেল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।

উঁচু পাহাড়
অনেক পাহাড়ি জমিতে কমলালেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতির লেবু, লিচু, আম, পেয়ারা, গোল মরিচ, আদা, আনারসের সফল বিস্তার ঘটেছে। এছাড়াও তেলসুর, চাপালিশ, চিকরাশি, শিলকড়াই, গর্জন, গামার, সেগুন, ইপিল-ইপিল, বাঁশ, কাজুবাদাম প্রভৃতি কাঠের চাহিদা মেটাতে সহায়ক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন

যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন
যেভাবে চারাগাছের পরিচর্যা করবেন

অনেকেই শুধু চারা রোপণ করে চুপচাপ বসে থাকেন। পরে দেখা যায়, চারা আর চারার মতো নেই। আগাছার মতো হয়ে আছে। তাই বলতে চাই- চারা লাগিয়ে ফলের আশায় বসে থাকলে হবে না। সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। কেননা বাগানে পরিচর্যার ফলে ২০ থেকে ৪০ ভাগ ফল বেশি উৎপাদন সম্ভব।

আসুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিচর্যার কথা জেনে নিন-
১. চারা রোপণের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত কাঠি দিয়ে চারা সোজা করে বেঁধে দিতে হবে।
২. গরু-ছাগলের নাগাল থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা করতে হবে।
৩. চারার গোড়ায় জন্মানো অবাঞ্চিত আগাছা দমন জরুরি।
৪. মাটির আর্দ্রতার জন্য শুকনো লতাপাতা, খড়, কচুরিপানা দিয়ে চারার গোড়ায় মালচিং করতে হবে।
৫. কোনো চারা দুর্বল, রোগাক্রান্ত বা মারা গেলে ওই জায়গায় একটি নতুন সবল চারা লাগাতে হবে।
৬. চারা সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক রাখতে অবাঞ্চিত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে।
৭. বৃষ্টি না হলে রোপণের পর ঝরনা দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. দ্রুত বৃদ্ধিতে রোপণের একমাস পর গোড়ার একফুট দূর দিয়ে নালা করে ১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া দিতে হবে।
৯. ফলগাছে বর্ষার আগে ও পরে বয়স এবং জাতভেদে একবার পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হবে।
১০. প্রতিবছর ফল পাড়ার পর পুরনো, রোগাক্রান্ত, মরা ডালপালা ছেটে দিতে হবে।
১১. রোদ ও আলো বাতাস চলাচল বাড়িয়ে দিতে পারলে পরের বছর নতুন ডালপালায় ফুল-ফল বেশি হবে।
১২. রোগবালাই পোকামাকড় দমনে নিকটস্থ কৃষি বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টার বা বন বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা

ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা
ইতিহাসে প্রথমবার অ্যান্টার্কটিকায় ২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা

পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সম্প্রতি অঞ্চলটির একেবারে উত্তর প্রান্তে সেমোর দ্বীপে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার ব্রাজিলিয়ান গবেষক কার্লোস শায়েফার বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মহাদেশটিতে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর রেকর্ড করা হয়েছে। ওই দিন সেখানে তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল ২০ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, আমরা আগে কখনোই অ্যান্টার্কটিকায় এত বেশি তাপমাত্রা দেখিনি। এর আগে সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে এটিকে এখনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বলতে রাজি নন এ গবেষক। কারণ, এটি খুবই স্বল্প সময়ের তাপমাত্রা ছিল, স্থায়ী নয়। কার্লোসের মতে, ওই এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু ঘটছিল, এটা তার সংকেত মাত্র।

এর মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই আর্জেন্টিনার জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছিল, তারা আর্জেন্টাইন অ্যান্টার্কটিকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এর আগে ওই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাওয়া গিয়েছিল ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ।

গত মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত এক দশক ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম সময়। এরমধ্যে ২০১৬ সালের তাপমাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি, এরপরেই উষ্ণতম বছর ছিল ২০১৯। ২০২০ সালেও সেই ধারা চলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, গত মাস এযাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণতম জানুয়ারি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর দুই প্রান্তের বরফ গলে যাচ্ছে। এতে উপকূলীয় দেশগুলোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যাবে, বিপন্ন হবে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঘরছাড়া হবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com