আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

নতুন জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে সাফল্য

নতুন জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে সাফল্য
নতুন জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে সাফল্য

ঠিক যেন আপেল, আপেলের মতো লাল ও খেতেও ঠিক আপেলের মতোই সুস্বাদু। অতিমিষ্টি কাশ্মীরি নুরানী আপেল কুলের বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখছেন শিবচরের বেলজিয়াম প্রবাসী যুবক লিয়াকত বেপারী। ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন দেখে বেলজিয়াম থাকা অবস্থায় স্থির করেন দেশের মাটিতে কাশ্মীরি নুরানী আপেল কুলের বাগান করবেন তিনি। চারা রোপণের ১০ মাসের মাথায় গাছগুলোতে ফল আসা শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা পেলে আরও সাফল্য পাওয়া যেতো বলে জানান পরিচর্যাকারীরা। তবে দ্রুত এ ধরণের উদ্যোক্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন কৃষি কর্মকর্তা। 

মাদারীপুরের শিবচরের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামে লিয়াকত বেপারীর ফলের বাগান। প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ বিঘা জমিতে রোপণ করেছেন আপেল কুল ও মালটা গাছের চারা। চারা রোপণ করার ১০ মাস পরই চারাগুলো পরিপক্কতা পেয়েছে। গাছে থোকায় থোকায় কাশ্মীরি নুরানী আপেল কুল ধরেছে। প্রতি গাছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি করে আপেল কুল ধরেছে। তবে গেল বুলবুলের তাণ্ডবের কারণে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন লিয়াকত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে এই আপেল গাছ থেকে প্রায় ৫০ কেজি করে ফল পাওয়া যেত। এছাড়া গাছগুলো একবার পরিপক্ক হয়ে উঠলে ১০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে ওই গাছ থেকে। কেজি প্রতি ৭০ টাকায় পাইকারী দরে বিক্রিও শুরু করেছে। বেড়েছে ক্রেতাদের চাহিদাও। তার এই বাগানে ৭-৮ জন লোক দিনরাত পরিচর্যা রয়েছে। আপেলের মতো দেখতে, এই ফলটি অতি মিষ্টি, খেতে আপেলের মতোই ও সুস্বাদু। পাশাপাশি একই বাগানে মালটা রোপণ করেও সাফল্যের আশা করছেন লিয়াকত বেপারী। তিনি জানান, এখন আমি ফল বিক্রি শুরু করেছি। তবে এই উদ্যোগে উপজেলা কৃষি  সম্প্রসারণ অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তেমন সহযোগিতা পাননি বলে বাগান মালিক লিয়াকত বেপারী ও পরিচর্যাকারীদের অভিযোগ।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ রায় জানান, নতুন জাতের এই কাশ্মীরি নুরানী আপেল ফলটি শিবচরে রোপণ করে প্রাথমিকভাবে সাফল্য দেখা গেছে। এই ফল রোপণ ও চাষের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসকর্তৃক কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এগ্রোবিজ

সাব-লিজ দেয়া যাবে না সরকারি জমি

সরকারের কাছ থেকে নেয়া লিজের জমি সাব-লিজ দেয়া যাবে না। একইসঙ্গে জমির শ্রেণি, আকার, প্রকারেও কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা যাবে না।

এমন নিয়ম রেখে গত ৬ জানুয়ারি সংশোধিত ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে ইজারাকৃত প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তি মেরামতের ক্ষেত্রে ইজারা গ্রহীতা জেলা প্রশাসক/উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে অবকাঠামোর কোনোরূপ পরিবর্তন না করে অথবা কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করে নিজ ব্যয়ে বর্তমান স্থাপনার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করতে পারবেন। তবে মেরামত বাবদ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বার্ষিক ইজারার টাকার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

‘অর্পিত বাড়ি-ঘরের সালামি বর্গফুট নির্ধারণের হার বহাল থাকবে। তবে বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অবস্থান বিবেচনা করে নির্ধারিত ভাড়ার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম-বেশি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা, ব্যাখ্যাসহ সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদিত হতে হবে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, খালি জমি ইজারা নেয়ার পর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে নিজ খরচে ঘর উঠালে সেক্ষেত্রে ওই খালি জমির নির্ধারিত ইজারা মূল্যের সঙ্গে অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২০ শতাংশ ইজারা গ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে।

লিজ-গ্রহীতা ও জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে সালামির অর্থ আদায়যোগ্য এবং জনবান্ধব করতে ভূমি মন্ত্রণালয় অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আরও সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি পেল ১১৩ প্রতিষ্ঠান

আরও ৩ লাখ ৪৬ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি পেল ১১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অনুমতির এই চিঠি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১০ জানুয়ারি) ৬৪টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টন চাল এবং গত ৬ জানুয়ারি ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ২ লাখ টন ও ৩ জানুয়ারি ১ লাখ ৫ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানির জন্য ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

লাগামহীন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চালের দাম দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির কথাও ওইদিন জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে চাল আমদানি করতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ীদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জানুয়ারি। আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে অনুমতিও দিয়ে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙ্গা দানাবিশিষ্ট বাসমতি নয় এমন সেদ্ধ চাল শর্তসাপেক্ষে আমদানির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাল আমদানির শর্তে বলা হয়েছে, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে জানাতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা ১ থেকে ৫ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে বাকি চাল বাজারজাত করতে হবে।

এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ১ টন থেকে ২০ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ৫০ শতাংশ চাল এনে বাজারজাত করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টিসিবির পেঁয়াজে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা, যা বাজারের দেশি পেঁয়াজের তুলনায় অর্ধেক। এরপরও ক্রেতাদের চাহিদা কম। কয়েকদিন আগেও ট্রাকের সামনে লম্বা লাইন দেখা গেলেও এখন আর নেই কোনও ভিড়। অনেক স্থানেই ডেকে ডেকে পেঁয়াজ বিক্রির চেষ্টা করছেন পরিবেশকরা।

হাঁকডাকে দু-একজন ক্রেতা এলেও তাদের আগ্রহ ডাল অথবা তেলে। কিন্তু পরিবেশকদের শর্ত শুনেই ফিরে যাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। কারণ, নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ না নিলে অন্য কোনও পণ্য বিক্রি করছেন না পরিবেশকরা। অর্থাৎ যেকোনও পণ্য কিনলে সঙ্গে পেঁয়াজ নিতে বাধ্য করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা এলাকার টিসিবির ডিলার মাসুদ পারভেজ বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পণ্যের সঙ্গে পেঁয়াজও বিক্রি করার চেষ্টা করছি। পেঁয়াজ নিয়ে আমরা লোকসানে পড়ে গেছি। আর বরাদ্দের পেঁয়াজ শেষ না হলে টিসিবি থেকে অন্য পণ্য দেয়া হচ্ছে না।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেল ঘুরে দেখা গেল, ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে কেউ পেঁয়াজ উঠিয়েছেন তিনদিন কেউবা পাঁচদিন আগে। এরপরও বিক্রি করতে পারেননি। ফলে কারও কারও পেঁয়াজে পচন ধরেছে। অপেক্ষাকৃত ভালো পেঁয়াজ বাছাই করে তা অন্য পণ্যের সঙ্গে ‘প্যাকেজ আকারে’ বিক্রি করছেন পরিবেশকরা।

ক্রেতারা জানান, টিসিবির পেঁয়াজগুলোতে পচন ধরেছে, মানও ভালো না। অন্যদিকে বাজারে দেশি পেঁয়াজের ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ফলে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।

এদিকে, পেঁয়াজের পাশাপাশি টিসিবির ট্রাকে মাঝারি দানার এক কেজি ডালের দাম ৫০ টাকা, যা বাজারের চেয়ে ৩০ টাকা কম। পাঁচ লিটারের এক বোতল তেলের দাম ৪০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সাশ্রয় ১৫০ টাকার মতো। এছাড়া এখন নেই চিনির সরবরাহ। অন্যদিকে অধিকাংশ ট্রাকসেলে তেল পাওয়া যায়নি।

সেক্ষেত্রে ডালের সঙ্গে আড়াই কেজি এবং যেসব পরিবেশকের কাছে তেল রয়েছে তারা কমপক্ষে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ গছিয়ে দিচ্ছেন। এ জন্য ওই সব পণ্যও বিক্রি কমে গেছে।

রামপুরাসহ রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে কিছুটা দূরে অবস্থানকারী টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রির ট্রাক দেখা গেলেও ক্রেতাদের কোনও লাইন ছিল না। অলস সময় কাটাচ্ছেন পরিবেশকরা। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে টিসিবির পেঁয়াজ স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য বিশাল লাইন থাকত।

টিসিবির ট্রাকসেলের পাশেই রামপুরা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রোকেয়া খাতুন বলেন, আগেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে মাত্র এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারতাম। এখন চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ কিনতে পারছি বাজারে। বাজারে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দামও কম, মানও ভালো।

এদিকে পরিবেশকদের প্যাকেজ সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এনামুল হক নামের এক ক্রেতা বলেন, জোর করে অন্য পণ্যের সঙ্গে পেঁয়াজ গছিয়ে দিচ্ছে। আমার পেঁয়াজের কোনও প্রয়োজন ছিল না। তবে তেলের জন্য পেঁয়াজ কিনতে হলো। যতটুকু পেঁয়াজ দিয়েছে এর মধ্যে বেশির ভাগ পচা বলে মনে হচ্ছে।

প্রেসক্লাবের সামনে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা বাবলু মিয়া বলেন, এখান থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনেছি এতদিন। আজ অবশ্য লাইনে দাঁড়াতে হয়নি।

জানতে চাইলে আরেক ডিলার মনসুর আলী বলেন, প্রতিদিন আড়াই টন করে বরাদ্দ পাচ্ছি। কিন্তু বিক্রি হয় ৩০০-৪০০ কেজি। যা অবিক্রীত থেকে যায়, তা কয়েকদিনে বিক্রি করি। তাই বরাদ্দ পাওয়া পেঁয়াজ পুরোটা বিক্রি করতে সময় লাগছে। এ সময়ের মধ্যে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বরাদ্দের পেঁয়াজ বিক্রি না হলে টিসিবি অন্য পণ্য সরবরাহ দিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দেশে কৃষিখাতের উন্নয়ন হলেও কৃষকের হয়নি’

দেশে কৃষিখাতে যতখানি উন্নতি হয়েছে, ততখানি কৃষকের উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে উৎপাদনের প্রাক্কলনেও সমস্যা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে রক্ষা করাই এই খাতে মূল চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে চালের বাড়তি দাম যেন উৎপাদকের কাছে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিপণ্য মূল্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

রোববার (১০ জানুয়ারি) ‘চালের দাম বাড়ছে কেন? কার লাভ, কার ক্ষতি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব মন্তব্য উঠে আসে বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সংলাপে বক্তারা বলেন, চালের দাম যেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে তা খেয়াল রাখতে হবে। কৃষক, কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত সব পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কৃষিপণ্য মূল্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্ষেপণ এবং স্বল্প-মধ্য মেয়াদে দাম নির্ধারণ করা সহজ হবে। এই কমিশনের মাধ্যমে বাজার সংকেত পাবে, নীতি নির্ধারকরা পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং গবেষণাকে কার্যকরভাবে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।

এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশে ধান উৎপাদনের সঠিক প্রাক্কলনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রাক্কলনের ওপর ভিত্তি করেই নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সরকারের ধান-চাল মজুদ করার সক্ষমতা কম হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই বাজার প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, তুলনামূলক ছোট কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করতে হবে। ছোট ও মাঝারি কৃষকের টিকে থাকার সক্ষমতা কম। তাই তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলের মোট নয়টি জেলা থেকে প্রায় ৪০ জন কৃষক, কৃষাণী এবং কৃষি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এই সংলাপে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

তারা বলেন, মিল মালিকরা আগেই ধান কিনে মজুত করে রাখে, যে কারণে চালের দাম বাড়লেও কৃষক তার মূল্য পায় না। ধান চাষে খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হয়, তাই কৃষক ধান চাষ থেকে সরে আসছেন। তারা আরও বলেন যে, সরকার যে ধান সংগ্রহ করেন সেখানে সবাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। তাই কম দামে মিল মালিকের কাছে বিক্রি করতে হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পক্ষে সংসদ সদস্য ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, কৃষিখাতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ভর্তুকি ও উদ্যোগ রয়েছে। এই সব সুবিধা কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।

এদিকে, ধান চাষে লাভবান না হওয়ায় ধানের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে বলে মনে করেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, কৃষি খাতে অনেকে ধান চাষ থেকে উচ্চমূল্যের ফল-ফসলের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় এবং চাষযোগ্য জমি কমে আসায় ধান চাষের ক্ষেত্রে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

শাইখ সিরাজ আরও বলেন, সরকারি গুদামে ছোট কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ করার সুযোগ করে দিতে হবে যেন ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে অল্প দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়।

বিআইডিএসর সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়লেও এই বাড়তি দামের কারণে কৃষক লাভবান হয় না। কৃষক অনেক আগেই কম দামে ধান বিক্রি করে দেয়।

বিআইডিএসর সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী শাহাবুদ্দিন বলেন, সরকারের বর্তমানে খাদ্যশস্য মজুদ পর্যাপ্ত নয় এবং এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকার প্রকৃত কৃষকের থেকে চাল না কিনে মিলারদের থেকে ক্রয় করছে, তাই কৃষক উপকৃত হচ্ছে না।

মিলারদের ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মজুদদারদের কারণে বাজারে চালের অপর্যাপ্ততার কথা তুলে তিনি বলেন, প্রতিবছর বাম্পার ফলনের পরেও চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সরকারকে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র করে সরাসরি কৃষক থেকে চাল ক্রয় করতে হবে।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম খান বলেন, মিলাররা মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় ধান ক্রয় করেছে।

চালের এই বাম্পার ফলনের কথার সঙ্গে দ্বিমত করে তিনি বলেন, এই মৌসুমের শুরু থেকেই সরবরাহ কম ছিল।

বাজারে চালের পর্যাপ্ততা নিয়ে বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ আলম বাবু বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও সঠিক সময়ে এই নীতি গ্রহণ না নেয়ায় সেই পরিমাণ চাল আমদানি করা যায়নি।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড মো. নাজিরুল ইসলাম।

এছাড়া সংলাপে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষি বিষয়ক সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আড়তদার, চাল ব্যবসায়ী, চালকল মালিক অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত ও মন্তব্য তুলে ধরেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দাম কমেছে চাল-পেঁয়াজের, আরও বেড়েছে ভোজ্যতেলের

গত এক সপ্তাহে চালে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং পেঁয়াজে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে। বিপরীতে আরেক দফা বেড়েছে ভোজ্যতেল বা সয়াবিনের দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে দেশি আদা, এলাচ ও চিনির দাম।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর শাহজাহানপুর, মালিবাগ বাজার, কারওয়ান বাজার, বাদামতলী বাজার, সূত্রাপুর বাজার, শ্যামবাজার, কচুক্ষেত বাজার, মৌলভীবাজার, মহাখালী বাজার, উত্তরা আজমপুর বাজার, রহমতগঞ্জ বাজার, রামপুরা এবং মিরপুর-১ নম্বর বাজারের পণ্যের দামের তথ্য নিয়ে গত শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে টিসিবি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নাজির ও মিনিকেট বা চিকন চালের দাম ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে কেজিতে ৫৬ থেকে ৬৪ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৬৬ টাকা। আর মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের দাম ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে কেজিতে ৫০ থেকে ৫৮ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা।

এদিকে, চালের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে কমেছে মসুর ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও জিরার দাম। এর মধ্যে সব থেকে বেশি কমেছে আলুর দাম। মানভেদে আলুর কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। আগে আলুর কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

অন্যদিকে, গত এক সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, যা আগে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা।

দেশি রসুনের দাম ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা রসুনের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এতে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

এছাড়া জিরার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে, যা আগে ছিল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। আর আমদানি করা আদার দাম ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

আমদানি করা আদার দাম কমলেও গত এক সপ্তাহে দেশি আদার দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এদিকে, দফায় দফায় বাড়তে থাকা সয়াবিন তেলের দাম গত এক সপ্তাহে আরও এক দফা বেড়েছে। লুজ সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১০৮ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০৭ থেকে ১০৯ টাকা। বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।

দাম বাড়ার এ তালিকায় থাকা ছোলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। ছোট এলাচ ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে। আর চিনির দাম ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে কেজি ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com