আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার
নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে।

নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

তিন একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্নও দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। তাইতো তার নিজ হাতে তিনি শুরু করেন মাল্টা চাষ।

এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। সে সময় ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন রিনা।

তিনি জানান, মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এ বছর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করারও আশা করছেন তিনি।

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে এলাকার চাষিদেরকে লাভজনক ফল চাষে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাগন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুণ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলেও আশা করছেন এই কৃষিবিদ।

এগ্রোবিজ

সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে জাপানে পাতাকপি চাষ

জাপানে পাতাকপি চাষ সর্বাধুনিক পদ্ধতি জানতে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঁধাকপি, যা পাতাকপি নামে বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত। বহু গুণসম্পন্ন এই বাঁধাকপি শুধু সবজি হিসেবে নয়, জুস হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে আছে ভিটামিন-এ, বি১, বি২, বি৬, ই, সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, পটাশিয়াম, সালফারসহ আরও নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিক দেশে একাধিক রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হত বাঁধাকপির রসকে। বিশেষত কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতে গ্রিক চিকিৎসকেরা এই সবজির উপরই মূলত ভরসা করতেন। একই রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতেন মিশরীয় মানুষরাও। তারাও শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমাতে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধাকপি খেতেন।

আধুনিক চিকিৎসায় এই সবুজ গোলাকার সবজিটির প্রবেশ ঘটে ইংরেজদের হাত ধরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ব্রিটিশরাই সারা বিশ্বে বাঁধাকপির জয়গান গেয়ে বেড়িয়েছে। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটি খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রক্তে সুগারের মাত্রাকে বেঁধে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে।

পাতাকপি চাষ ২
পাতাকপি চাষ ২

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে ১.৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি ও ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তা ছাড়া ক্যালসিয়াম ০.৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ৬০০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যারোটিন ও ২৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, বাঁধাকপি পাকস্থলীতে গিয়ে যখন হজম হতে থাকে, তখন এগুলো থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয়।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা বলছেন- বাঁধাকপি, ব্রোকোলি বা কেইল শাকের মত কিছু সবজি বাউয়েল বা মলাশয়ের ক্যান্সার ঠেকাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনা ভাইরাস: চামড়া সংগ্রহ কম হওয়া সত্ত্বেও দামে বিপর্যয় কেন

লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করছেন শ্রমিকরা।
লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করছেন শ্রমিকরা।

নরসিংদীর বাসিন্দা হারুনুর রশিদ গতকাল ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঢাকার পোস্তায় প্রায় ১১০০ পিস কাঁচা গরুর চামড়া নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।

এবারের চামড়ার সংগ্রহ অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় ভেবেছিলেন ভালো লাভ তুলতে পারবেন।

কিন্তু পোস্তার চিত্র ওই আগের মতোই। চামড়া কম আসায় দাম বেশি দেয়া তো দূরের কথা বরং গত বছরের চাইতেও এবার আরও কম দাম রাখা হচ্ছে।

সরকার গত বছর কোরবানির পশুর চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছিল, এবার তার চাইতে ২০% থেকে ৩০% শতাংশ কমিয়ে দাম ধরা হয়েছে। অথচ সেই দামও পাচ্ছেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়।

সেখানে, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয় প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

একটি বড় আকারের গরুর চামড়া গড়ে ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া গড়ে ২৫-৩০ বর্গফুট এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া গড়ে ১৫-২০ বর্গফুট হয়ে থাকে।

সেক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম পড়ার কথা ১২শ থেকে ১৬শ টাকা। মাঝারি গরুর চামড়ার দাম ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা। এবং ছোট আকারের গরুর চামড়ার দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হওয়ার কথা।

ট্যানারি।
ট্যানারি।

অথচ সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী গরুর যে চামড়ার দাম হওয়ার কথা ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, সেটার দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

গতকালকে কম দাম ধরায় হারুনুর রশিদের মতো অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী আজকে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন, ভেবেছিলেন আজ হয়তো ভালো দাম পাবেন।

কিন্তু আজকের পরিস্থিতি আরও খারাপ। মি. রশিদের কাছে ওই একই চামড়ার দাম আজ চাওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। এবং ছাগলের চামড়ার জন্য কেউ কোন দামই দিতে চাইছে না। দিলেও সেটা ৫ টাকা, ১০ টাকার বেশি না।

প্রচণ্ড গরমে চামড়া নষ্ট হতে শুরু করায় এতো চামড়া নিজের কাছে রাখারও অবস্থা নেই।

এমন অবস্থায় পোস্তায় আসা অসংখ্য মৌসুমি ব্যবসায়ী তাদের কাছে থাকা কাঁচা চামড়াগুলো ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখছেন না।

ট্যানারি মালিকদের দাবি করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর চামড়াজাত পণ্যের অর্ডার কম আসায় এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রচুর কাঁচা চামড়া পড়ে রয়েছে। এজন্য তারা বেশি দাম দিতে চাইছে না।

এমন অবস্থায় চামড়ার দরপতন ঠেকাতে ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে ২৯শে জুলাই কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

২৯শে জুলাই কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
২৯শে জুলাই কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এতে ধারণা করা হচ্ছে যে চামড়ার চাহিদা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়ার দাম পাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেছেন যে বিশ্বে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা অনেক কমে গেছে।

এখন আর্টিফিশিয়াল লেদার বা পিউ লেদার চলে এসেছে। যেগুলো মোটামুটি টেকসই এবং দামেও কম।

এছাড়া কাঁচা চামড়ার চাহিদা বলতে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে একেবারেই নেই।

তাই তিন দশক পরে রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হলেও, এতে ব্যবসায়ীরা কতোটুকু লাভবান হবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

মি. আহমেদ বলেন, “যেখানে রেডিমেড পণ্যের চাহিদা কমে গেছে সেখানে কাঁচা চামড়ার বাজার বলতে গেলে নেই। আর পণ্য যদি রপ্তানি করতে হয়, সেটার জন্য আরও আনুসাঙ্গিক লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। এগুলো ভাবতে হবে।”

প্রশ্ন উঠেছে বাজারে যদি কাঁচা চামড়ার দাম এতো কম হয় তাহলে চামড়াজাত পণ্যের দাম এতো বেশি কেন?

এ ব্যাপারে চামড়াজাত পণ্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাঁচা চামড়ার অনেকটাই কাটিংয়ে বাদ পড়ে যায় সেইসঙ্গে এগুলো সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে বড় অংকের খরচ হয়, মজুরিও লাগে অনেক বেশি। যার প্রভাব চামড়াজাত পণ্যের দামের ওপর পড়ে।

এছাড়া মি. আহমেদ বলেন, “একটি তৈরি পণ্যে চামড়ার পরিমাণ থাকে ২৫% থেকে ৩০%। বাকি থাকে লাইনিং, লেয়ার, অ্যাডহেসিভ, সোলসহ অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল। দামটা বাড়ে বাকি সেই ৭০%- ৭৫% ম্যাটেরিয়ালে।”

তবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে এখনও সম্ভাবনাময় বলছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকার যে রপ্তানি অনুমোদন দিয়েছে সে বিষয়ে যদি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় তাহলে সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষকের স্বপ্ন বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা কেজিতে

করোনার প্রভাবে সবজির দাম না পাওয়ায় সর্বস্বান্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সবজিচাষিরা। ছবি: লেখক
করোনার প্রভাবে সবজির দাম না পাওয়ায় সর্বস্বান্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সবজিচাষিরা। ছবি: লেখক

রুনা আক্তারের বাড়ি গাজীপুরে। বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়ের গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক হোসেন মিয়ার সঙ্গে। একসময় দুজনই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে এই দম্পতি ফিরে আসেন মাটির টানে গ্রামে। সংসারের অসচ্ছলতা ঘোচাতে এক সন্তানের জননী রুনা সঞ্চিত ৩০ হাজার টাকা আর এনজিওর ঋণ নিয়ে দুই কাঠা জমি বন্ধক নেন। 

জমিতে চাষ করেন উচ্চফলনশীল জাতের করলা। মাচা তৈরি, চারা রোপণ, পরিচর্যা থেকে শুরু করে ফলন আসার আগ পর্যন্ত তাঁর হয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে এবার বিক্রি মৌসুমের শেষে দাঁড়ায় মাত্র ৫০০ টাকায়। সর্বশেষ ৮০ টাকা মণে করলা বিক্রি করেছেন রুনা। সঞ্চয় এবং এনজিও থেকে ঋণের টাকায় সবজি উৎপাদন করে এখন চরম বিপাকে রুনা। তাঁর পরিবার সামনের মৌসুমে নতুন সবজি চাষ করবে কি না, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শুধু রুনা আক্তার নন, ফুলবাড়িয়া উপজেলার অনেক সবজিচাষির এ অবস্থা। করোনার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার না আসায় এবং পরিবহন বন্ধ থাকায় সবজির ন্যায্যমূল্য তাঁরা পাননি। সবজি বিক্রি করতে না পারায় সবজি নষ্ট হচ্ছে এখন খেতেই। তাই সর্বস্বান্ত রুনার মতো এমন কৃষকের স্বপ্নের ফসল এখন হাটে বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা কেজি দরে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার প্রায় সব সবজিচাষি এখন সর্বস্বান্ত। এদিকে এবারের মৌসুমে ঘাটতি থাকায় সামনের মৌসুমের সবজি উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানান চাষিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সবজি চাষাবাদ থেকে চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টির অভাব দেখা দেবে। এই সমস্যা দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা করে তাঁদের প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে সবজি চাষে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

রুনা তাঁর সঞ্চিত অর্থে করলা আবাদ করে এখন সর্বস্বান্ত। ছবি: লেখক
রুনা তাঁর সঞ্চিত অর্থে করলা আবাদ করে এখন সর্বস্বান্ত। ছবি: লেখক

সবজিচাষিদের এমন ভয়াবহ সংকটকালে কৃষি বিভাগসহ স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি সবজিচাষিদের সবজি বিক্রি এবং তাঁদের ঘাটতি নিরসনে কোনো প্রকার তদারকি করছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। যদিও প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজার ফসলের মাঠে কৃষকের ফসলের খোঁজ নিতে আসার কথা থাকলেও কালেভদ্রেও তাঁদের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।


সরেজমিনে উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুর, এনায়েতপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, ফুলতলা, বাক্তা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর, শ্রীপুর, কালাদহ ইউনিয়ন এবং পুটিজানা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি সবজি যেমন কলা, বেগুন, টমেটো, শসা, লাউ–কুমড়া, লেবুসহ নানা সবজি নষ্ট হচ্ছে খেতে। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারগুলোতে লকডাউন থাকায় কৃষক তাঁর পণ্য নিতে পারছে না, পাশাপাশি বাজারে পাইকার না থাকায় ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না চাষিরা। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে সবজি চাষ করে বিক্রি করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া এবং এনায়েতপুর ইউনিয়নে অন্তত ১ হাজার ৫০ একর জমিতে সবজির চাষা হয়েছে; যা বিক্রি না হওয়ায় এবং বাজারমূল্য না থাকায় কোটি টাকার বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন সবজিচাষিরা।

উপজেলার বাবুগঞ্জ বাজারে সবজি বিক্রি করতে না পেরে এভাবেই করলা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সবজিচাষিরা। ছবি: লেখক
উপজেলার বাবুগঞ্জ বাজারে সবজি বিক্রি করতে না পেরে এভাবেই করলা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সবজিচাষিরা। ছবি: লেখক

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের সবজিচাষি রহিমা খাতুন, সেলিম হোসেন, মাহমুদ আলী এবং এনায়েতপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের কাজিম উদ্দিন, মোস্তাক মিয়া, জয়নাল, হায়দার আলী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া আর পাহাড় অনন্তপুর এবং এনায়েতপুরের গোপীনাথপুর ও ফুলতলায় উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। এখানকার সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা কিনে নিয়ে যান। এবার করোনাভাইরাসের কারণে এবং স্থানীয় কিছু পাইকারের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা বলেন, বাজারে নিলে করলা দুই টাকা কেজি, কলা ও বেগুন কেউ এক টাকা করেও কেনে না। কোনো সবজি বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। সব সবজি পচে যাচ্ছে খেতে। এদিকে মৌসুমও শেষ। তাই সামনের মৌসুমে নতুন সবজি চাষের টাকাও তাঁদের হাতে নেই। সরকার ঋণসহায়তা ও প্রণোদনা না দিলে সবজির আবাদ করা সম্ভব নয়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলাটির মৌসুমি সবজি উৎপাদনের জন্য দেশব্যাপী সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে আলু, হলুদ, রসুন, কলা, শিম, বরবটি, করলা, বেগুন, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজির চাষ হয় এ জনপদে। প্রতি সপ্তাহে উপজেলার কালাদহ, গোপীনাথপুর, বাবুগঞ্জ ও ফুলবাড়িয়ায় সবজির বড় হাট বসে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা আসেন সবজি কিনতে।

এখন করোনার প্রভাবে পাইকার না আসায় এবং বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন থাকায় স্থানীয় পাইকারেরা সবজি কিনছেন না। এর মধ্যে আবার স্থানীয় পাইকারদের সিন্ডিকেট করার অভিযোগও করছেন কৃষকেরা।

এভাবেই কৃষকের খেতে নষ্ট হচ্ছে করলা। ছবি: লেখক
এভাবেই কৃষকের খেতে নষ্ট হচ্ছে করলা। ছবি: লেখক

উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুরের সবজিচাষিদের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিনা চৌধুরী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষের সবজি চাষের ওপর তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে পাহাড় অনন্তপুরে প্রচুর মৌসুমি সবজির আবাদ হয়। এবার করোনার প্রভাবে চাষিরা খুবই বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। তাঁরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সব প্রান্তিক সবজিচাষিকে সরকারিভাবে প্রণোদনার আওতায় আনা প্রয়োজন এবং সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা।


তবে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নে লেবুর জন্য জনপ্রিয়। ফুলতলা গ্রামের লেবুচাষিরা শুরুত লেবুর দাম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেটের কারণে দাম ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে বলে জানান ফুলতলার লেবুচাষি নুরুল ইসলাম মাস্টার।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে শুধু সবজি। এর মধ্যে করলা চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমিতে। বাকি জমিতে শসা, লাউ, বেগুন, কুমড়াসহ অন্যান্য সবজির চাষ হয়েছে।

পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে লেবুর দাম কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। ছবি: লেখক
পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে লেবুর দাম কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। ছবি: লেখক

উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুরের সবজিচাষিদের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিনা চৌধুরী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষের সবজি চাষের ওপর তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে পাহাড় অনন্তপুরে প্রচুর মৌসুমি সবজির আবাদ হয়। এবার করোনার প্রভাবে চাষিরা খুবই বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। তাঁরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সব প্রান্তিক সবজিচাষিকে সরকারিভাবে প্রণোদনার আওতায় আনা প্রয়োজন এবং সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা।


তবে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নে লেবুর জন্য জনপ্রিয়। ফুলতলা গ্রামের লেবুচাষিরা শুরুত লেবুর দাম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেটের কারণে দাম ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে বলে জানান ফুলতলার লেবুচাষি নুরুল ইসলাম মাস্টার।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে শুধু সবজি। এর মধ্যে করলা চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমিতে। বাকি জমিতে শসা, লাউ, বেগুন, কুমড়াসহ অন্যান্য সবজির চাষ হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম

কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম
কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ২১তম

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় কোন দেশে? উত্তরটা বেশ সহজ—চীনে। দেশটি অনেক বড়, জনসংখ্যার দিক দিয়েও তারা শীর্ষে। খুব স্বাভাবিক কারণেই বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের সংস্থান করতে হয় দেশটিকে। আর তাই কৃষিপণ্য উৎপাদনের দিক দিয়ে চীন বিশ্বের শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী দেশ। চীনের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মূল্য প্রায় ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বড় দেশ ভারত। কৃষিপণ্য উৎপাদনেও ভারত আছে দ্বিতীয় স্থানে। দেশটি উৎপাদন করে অবশ্য চীনের অর্ধেক, ৪১৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য। তালিকার পরের নামটিও সহজে অনুমেয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উৎপাদন ভারতের অর্ধেকের কম, ১৮৯ বিলিয়ন ডলার।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট–এর প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইইইউ) নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। কৃষি উৎপাদনের এসব তথ্য তাদেরই। ২০১৭ সালের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে। সব দেশের তথ্য এর পরে আর এখনো পায়নি সংস্থাটি।

এবার দেখা যাক তালিকায় আর কারা কারা আছে। শীর্ষ দশে ইন্দোনেশিয়া বা ব্রাজিলের নামটি বিস্ময়ের উদ্রেক করবে না। রাশিয়াও কৃষি উৎপাদনে বড় দেশ, তারাও আছে নবম স্থানে। অনেকে হয়তো অবাক হবেন পাকিস্তানের নামটি দেখে। তালিকা অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদক। তাদের উৎপাদন আর্থিক মূল্যে ৭০ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার কোটি ডলার।

যে কারণে এ লেখা তৈরি, এবার সেটা বলা যাক। বাংলাদেশ আয়তনে অনেক ছোট, কিন্তু জনসংখ্যায় বিশ্বে অষ্টম। একসময় দেশটি ছিল বিপুল খাদ্যঘাটতির দেশ। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কেবল খাদ্যপণ্যেই নয়, সামগ্রিকভাবে কৃষিপণ্য উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী, কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আছে ২১তম স্থানে। আর্থিক মূল্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আশা করা যায়, তালিকা হালনাগাদ হলে বাংলাদেশ আরও কয়েক ধাপ এগোবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ঔষধি গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার মানুষ বেকার

বাজার বন্ধ। আড়তের সামনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ঘৃতকুমারী। নাটোর সদর উপজেলার আমীরগঞ্জ ভেষজবাজারে সোমবার বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো
বাজার বন্ধ। আড়তের সামনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ঘৃতকুমারী। নাটোর সদর উপজেলার আমীরগঞ্জ ভেষজবাজারে সোমবার বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো

দেশের একমাত্র ভেষজ ঔষধি গ্রাম নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়ার সাড়ে চার হাজার চাষি, ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। গত ২০ দিনে তাঁদের লোকসান হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামটিতে সারা বছর ১ হাজার ৫০ বিঘা জমিতে ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা), শিমুল মূল, অশ্বগন্ধাসহ ২২ প্রজাতির ভেষজ ঔষধি গাছের চাষ হয়। ভোর থেকে চাষিরা জমি থেকে এসব গাছগাছড়া সংগ্রহ করে পাইকারি আড়তের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। গ্রামেও গড়ে উঠেছে ভেষজ হাটবাজার। করোনার প্রভাবে এসব হাটবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। ঘৃতকুমারীসহ অন্যান্য গাছগাছড়ার পাতা ও মূল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আজ সোমবার সকালে ঔষধি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ও আমীরগঞ্জের ভেষজবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। পাইকারি আড়তের সামনে ঘৃতকুমারীর পাতা স্তূপ করে রাখা। কিছু কিছু পাতায় পচন ধরেছে। উৎপাদনের ভরা মৌসুম হওয়ায় এ সময় জমিতে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও তা চোখে পড়েনি।

লক্ষ্মীপুর বাজারের ভেষজ ব্যবসায়ী শাহ জালাল জানান, এখানকার সাড়ে চার হাজার মানুষ সরাসরি ভেষজ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎসও ভেষজ চাষ। সরকার পরিবহন বন্ধ ঘোষণার পরের দিন থেকে সব ভেষজবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন হলেও বেচাবিক্রি হচ্ছে না। সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন।

ভেষজ গ্রামের চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল হোসেন জানান, তাঁরা প্রতি কেজি ঘৃতকুমারী পাইকারি বিক্রি করেন ২০ টাকায়। প্রতিদিন এই গ্রামে ৭৫ হাজার কেজি ঘৃতকুমারী বেচাকেনা হয়। এ হিসাবে তাঁদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। গত ২০ দিনে তাঁদের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য গাছগাছড়া অবিক্রীত অবস্থায় পচে যাওয়ার ফলে আরও কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

গ্রামের কৃষকদের চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আনা হবে কি না, জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে ভাবতে হবে। আপাতত ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে কমানো যায়, সে ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com