আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

ধান-চালের বাজারে নেই নিয়ন্ত্রণ

ধান-চাল সংগ্রহে চলতি বছরে বড় ধরনের হোঁচট খেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটু একটু করে সরকারের মজুদ বেড়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। এ দুর্বলতার কারণে বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ব্যবসায়ীদের হাতে বাজার জিম্মি হয়ে পড়ছে। চলতি বছরের সংকটময় পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে সরকারি মজুদের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বাজার ও কৃষিসংশ্নিষ্ট গবেষকরা।


এই বিশেষজ্ঞরা প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সঙ্গে তুলনা করে দেশের প্রধান খাদ্যশস্যের দাম নাগালে রাখতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন প্রায় সমান সমান। কোনো বছর সামান্য রপ্তানি হয়, আমদানিও করতে হয়। কিন্তু সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ ও মজুদ কার্যক্রমের দুর্বলতায় একদিকে উৎপাদক কৃষক ন্যায্য দাম পান না, অন্যদিকে কৃষকসহ মধ্যবিত্তদের বেশি দামে কিনে খেতে হয়। বেশি মুনাফা করে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে চালের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ সংগ্রহ করছে সরকার। সেটা প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ টন। বছরে ৫০ লাখ টন ধান কিনে
সরকারের আপৎকালীন মজুদ করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশের মতো নিবন্ধন পদ্ধতিতে কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান কিনতে হবে। মিলারদের মাধ্যমে চাল প্রক্রিয়া করে সংরক্ষণের কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ন্যায্যমূল্যে চাল কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতে রেশন কার্ড বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর আহমেদ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রওশন জামালসহ বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দিয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, সরকার আরও
মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।
তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে সাড়ে ছয় কোটি কম। বাঙালি অধ্যুষিত এই রাজ্য বছরে এ দেশের প্রায় দ্বিগুণ ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে। নেপালের জনসংখ্যা বাংলাদেশের চার ভাগের এক ভাগ হলেও সেখানে ১৫ লাখ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হয়। আর শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যা বাংলাদেশের আট ভাগের এক ভাগ হলেও ওই তুলনায় কৃষকদের কাছ থেকে অনেক বেশি ধান কেনে।


সম্প্রতি দেশে ধান-চালের উৎপাদন কোনো কোনো বছর চাহিদার চেয়ে বেশি হয়েছিল। সরকার রপ্তানির পরিকল্পনা করেছিল। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো কোনো বছর উৎপাদনে ঘাটতি হয়েছে। গত বছর তেমন গেছে। সরকারের মজুদ কম থাকায় বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। চুক্তি করেও ব্যবসায়ীরা সরকারকে চাল দেয়নি। বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রেও তারা কৌশল নিয়েছে। ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার অর্থনীতিতেও ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কারসাজির মুখে সরকার যাতে জনস্বার্থে, বিশেষ করে গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের স্বার্থে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে, সে জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা উচিত বলে মনে করেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, সঠিক কৌশলে মজুদ চালের বিতরণ বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল করতে হয়। কিন্তু সরকারের সে সক্ষমতা থাকে না।
এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ ও মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনায় আরও গুদাম নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে এবং কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হচ্ছে, যা ভারতেও নেই। তবে ভারতে পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা চালু আছে। আমাদের দেশে আংশিক রেশনিং আছে। এ ছাড়া হতদরিদ্রদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আছে; কাবিখা, টিআর, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআরসহ অন্যান্য ব্যবস্থা চালু আছে। এখন এগুলো অ্যাপসের মাধ্যমে করার চেষ্টা চলছে। তাতে প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার যে পরিমাণ ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, কৃষকরা তা সরবরাহ করেনি। কারণ, বাজারে ভালো দাম পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের কথা :বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন সমকালকে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ৪০ লাখ টন চাল মজুদ করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের মতো কৃষকদের নিবন্ধন করে সরাসরি ধান কিনতে হবে। এখন মিল থেকে কেনায় মিলাররা গেম খেলছেন। জরুরি প্রয়োজনে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এখন অনলাইন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দরকার।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমাকালকে বলেন, ধান-চালের ক্ষেত্রে তিনটি জায়গায় নজর দেওয়ার সময় এসেছে। প্রথমত, ভোগের চাহিদার পুনঃমূল্যায়ন প্রয়োজন। উৎপাদন, মজুদ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব করা দরকার। এ হিসাবে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ধান-চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়া ত্রুটিযুক্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা আছে। তৃতীয়ত, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সমস্যা হলেই সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে খাদ্য, বাণিজ্যসহ আটটি মন্ত্রণালয় জড়িত। সবাইকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রওশন জামাল ‘বাংলাদেশের কৃষকদের সহায়তা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশের ধান-চাল সংগ্রহ, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই মৌসুমে সরকারের সংগ্রহ নীতি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত চাল উৎপাদনের পরও আমদানি করতে হচ্ছে। সরকার মিল মালিকদের কাছ থেকে চালের বড় অংশ কিনছে। তা খুচরা ও পাইকারি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত ধানের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ সংগ্রহ করছে। সরকারের এত কম পরিমাণ ক্রয় কৃষকের উৎপাদিত ধানের দাম বাড়াতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ১০ কোটি। এ রাজ্য কৃষকদের প্রণোদনা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি নীতিমালা করেছে। নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকে ৫২ লাখ টন ধান কিনে ৩৫ লাখ টন চাল মজুদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ রাজ্য। এই চাল রেশন কার্ডের মাধ্যমে আবার কম মূল্যে জনসাধারণকে দেবে। রাজ্যের ৭২ লাখ কৃষকের মধ্যে সরকার ৩০ লাখকে নিবন্ধনের আওতায় এনেছে। চলতি খরিপ মৌসুমে নিবন্ধন করা কৃষকদের মধ্যে ১৩ লাখের কাছ থেকে কিনবে। একজন কৃষক সাড়ে ৪ টন সরবরাহ করতে পারবে।
শুধু ভারত নয়; নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে চাল সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় তুলনামূলক পিছিয়ে বাংলাদেশ। নেপালের জনসংখ্যা ৩ কোটি ৯৫ লাখ। দেশটিতে প্রতি বছর ৬০ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ৫৬ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়। কৃষকদের থেকে সরাসরি প্রতি বছর ১৫ লাখ টন ধান কিনে মজুদ করছে নেপাল সরকার। প্রতি কেজি ধানের দাম ২৮ দশমিক ৮৫ রুপি কৃষকদের দেওয়া হবে।
শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ। দেশটির সরকারের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৪৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হবে। এ বছর চালের চাহিদা ২৯ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করেছে। এবার সরকারিভাবে ৫ লাখ ৫৩ হাজার টন চাল মজুদ করা হবে।


নিয়ন্ত্রণহীন বাজার :বাংলাদেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন। বিপুল সংখ্যক কৃষক উৎপাদনের ব্যয় মেটাতে ধান কেটে শুরুতেই বিক্রি করে দেন। পরে আবার তারাই কিনে খান। মিল মালিক ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মজুদ করে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ টন চাল মজুদ ও বিতরণ করা হয়। বোরো ও আমন মৌসুমে আলাদা চাল সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১২ টন সরকারের কাছে বাস্তবিক মজুদ থাকে। এবার বোরো মৌসুমে সাড়ে ১১ লাখ টন চাল ও ৮ লাখ টন ধান এবং আমন মৌসুমে সাড়ে ৬ লাখ টন চাল ও ২ লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ দুই মৌসুম মিলে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। আমন মৌসুমে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজার ৩৮৬ টন ধান ও ৬৫ হাজার ৪১৭ টন চাল সংগ্রহ করেছে সরকার। সর্বশেষ তথ্যে সরকারের মজুদ রয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৩৮ হাজার টন, যা সারাদেশের চাহিদার মাত্র ৬ দিন মিটবে। মজুদের এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। এখন মজুদ বাড়াতে আরও ১০ লাখ টন চাল আমদানি করছে সরকার। তবে বিশ্ববাজারে চাল আমদানি সহজ নয়। গত দুই মাসে মাত্র ৭১ হাজার ৭৭০ টন চাল আমদানি হয়েছে।
বাজারে সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ জন্য ৭ জানুয়ারি চাল আমদানি শুল্ক্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ টন চাল আমদানি হয়েছে।


বাজারে চালের দাম কমেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এখন বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, যা গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। মাঝারি মানের চাল ৫২ থেকে ৫৮ টাকা ও সরু চাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।
সরকারের পরিকল্পনা :খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রকিবুল হাসান সমকালকে বলেন, দেড় লাখ টন ধান সংরক্ষণে প্রতিটি পাঁচ হাজার টন সক্ষমতার ৩০টি গুদাম নির্মাণ করতে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। আরও এক লাখ ৬০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন ১৬২টি গুদাম নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার আটটি মডার্ন সাইলো নির্মাণ শুরু হয়েছে। এগুলো শেষ হলে আরও ১১ লাখ টন সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে। সব মিলে তখন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এগ্রোবিজ

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে হতে পারে সারের সংকট

সারের সংকট
সারের সংকট
সারের সংকট

চলতি বোরো মৌসুমে সার কিনতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। আর সরকারকেও সার বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাজেটে বরাদ্দের তিন গুণের বেশি—প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ এখন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ধান, আলু ও সবজি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমওপি সারের ৬০ শতাংশ আনা হতো রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। ওই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এখন বাংলাদেশকে এমওপি কিনতে হচ্ছে কানাডা থেকে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে সারের সংকট হতে পারে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সারের খুচরা মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও ব্যবহারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমওপি সারের ২০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলে সামনের বোরো মৌসুমে ধান, গম ও রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ এম এম শওকত আলী, সাবেক কৃষিসচিব

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন করে আর সারের দরকার হবে না। সামনে আলুর মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা বাড়বে। ওই সময়ের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের সার সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কানাডা থেকে মোট আট লাখ টন এমওপি সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে ওই দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে এই সার নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে সার বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি বাড়ছে। এই চাপ নিয়েও সরকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই ভর্তুকি দিয়ে যাবে।’

কমানো হয়েছে চাহিদা

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৬৯ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ওই চার ধরনের সারের চাহিদা কমিয়ে ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশে প্রয়োজনীয় সারের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে এমওপি সারের বড় অংশ আসে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে।

প্রসঙ্গত, ওই চারটি প্রধান সার কৃষকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে সরকার প্রাথমিকভাবে সারে ভর্তুকি বাবদ ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বেশির ভাগ সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করতে হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব করে দেখা হয়েছে, ভর্তুকির পরিমাণ এবার বেড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা গিয়ে দাঁড়াবে।

জিপসাম, জিংক সালফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে তা বিক্রি করে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকারের অন্যান্য খাতের ভর্তুকি কমিয়ে প্রয়োজনে সারে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, যাতে সারের দাম কম থাকে। কারণ, কৃষকের হাতে এখন টাকা কম। বিশ্ববাজার থেকেও খাদ্য আমদানি করা সামনের দিনে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে দেশের উৎপাদন ঠিক রাখতে সারের দাম ও জোগান ঠিক রাখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিদেশ থেকে খালি হাতে ফিরে ড্রাগন চাষে সাফল্য

বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম
বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম (৩৩)। ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। আকামা জটিলতায় খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এক বছর বেকার থাকার পর ইউটিউবে পতিত জমিতে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখেন। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নেমে পড়েন ড্রাগন চাষে। দেড় বছরের ব্যবধানে এখন উপজেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান তাঁর। এ বছর খরচ বাদে আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ইন্দুরকানি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল। উপজেলার টগরা গ্রামে দেড় একর জমিতে তিনি ড্রাগনের বাগান তৈরি করেছেন। তাঁর বাগানে এখন সাড়ে তিন হাজার ড্রাগন ফলের গাছ আছে।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক হিসেবে ১০ বছর সৌদিতে কাজ করে ২০১৯ সালে দেশে ফেরেন তিনি। আকামা সমস্যার কারণে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিছু একটা করবেন বলে ভাবছিলেন। একদিন ইউটিউবে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখতে পান। সেই থেকে ড্রাগন চাষে আগ্রহ জন্মে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেড় একর পতিত জমি ড্রাগন চাষের উপযোগী করেন। গাজীপুর থেকে ৬০ টাকা দরে ৬০০ চারা নিয়ে আসেন। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে শুরু করেন চাষাবাদ। পরের বছর জুনে ফল পাওয়া শুরু করেন।

ড্রাগনের বাগান করতে মিরাজুলের খরচ হয়েছিল ছয় থেকে সাত লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ উঠে গেছে। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল আসে। বছরে ছয় থেকে সাতবার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। এখন পরিপক্ব ও রোগমুক্ত গাছের শাখা কেটে নিজেই চারা তৈরি করেন। ড্রাগন চাষের পাশাপাশি বাগানে চুইঝাল, এলাচ, চায়না লেবুসহ মৌসুমি সবজি চাষ করেন। এ ছাড়া ড্রাগনের চারাও উৎপাদন করে বিক্রি করেন তিনি।

মিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাগানের বেশির ভাগ গাছে এ বছর ফল ধরেছে। গত মঙ্গলবার বাগান থেকে দেড় টন ফল সংগ্রহ করেছেন। ২৫০ টাকা কেজি দরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি হয়। নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ–ছয়বার বাগান থেকে ফল তোলা যাবে। আশা করছেন, খরচ বাদে এবার আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

মিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার বাগান থেকে চারা নিয়ে অনেকে বাড়িতে ও ছাদে ছোট পরিসরে ড্রাগনের বাগান করেছেন। আমি এ পর্যন্ত ৪০ টাকায় দেড় হাজার চারা বিক্রি করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ বয়সের একটি ড্রাগনের চারা রোপণের পর ২৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এর মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিন পরপর সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সার দিতে হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা বলেন, মিরাজুল ইসলামকে ড্রাগন চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। উপজেলায় তাঁর বাগানটি সবচেয়ে বড়। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে ছোট থেকে বাগানটি বড় করেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নাসিরনগরে বন্যায় তলিয়ে গেল কৃষকের বাদামখেত

নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের বাদামখেত। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে
নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের বাদামখেত। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের প্রায় ৩০ হেক্টর বাদাম চাষের জমি। কয়েক দিন আগে উজানের পানিতে তাঁদের পাকা ধানের জমি তলিয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকেরা বাদাম চাষ করেছিলেন। আবারও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হলেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল উপজেলায় শিলাবৃষ্টি এবং ১৪ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত উজানের পানিতে কৃষকের পাকা ধানের জমি তলিয়ে যায়। কৃষকেরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। উপজেলায় এবার প্রায় ৫০ হাজার মণ বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু উজানের পানিতে হঠাৎ বন্যায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘নাসিরনগর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ করা হয় আমাদের ইউনিয়নে। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যার কারণে কৃষকেরা তাঁদের ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। তাঁদের সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।’

ওই এলাকার বাদামচাষি মেরাজ মিয়া বলেন, তিনি ছয় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেন। দু-এক দিনের মধ্যে বাদাম তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খেতে গিয়ে দেখেন সব বাদাম পানির নিচে। এখন এই বাদাম তুলে কোনো লাভ নেই। এগুলো গরুও খাবে না।

মো. রজব আলী নামের এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের জামারবালি, সোনাতলা ও মাইজখোলা গ্রামে বাদামখেত আছে। গত তিন দিনে পাঁচ-ছয় ফুট পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন বাদাম তুলতে কাজের লোকও পাওয়া যাচ্ছে না।’

কৃষক ফতু মিয়া বলেন, গোয়ালনগর ইউনিয়নের বাদাম চাষের জমিগুলো হঠাৎ পানি আসায় তলিয়ে গেছে। ফসল তলিয়ে তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কয়েক দিন আগেও পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের দাবি, গোয়ালনগরে বাদাম চাষের জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার কয়েকটি চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করা হয়। চরাঞ্চলের উঁচু জমিতে প্রথমে আলু চাষের পর বাদাম চাষ করা হয়। আগাম বন্যার কারণে নিচু এলাকার কিছু বাদামখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

আবু সাইদ আরও বলেন, ১৫-২০ দিন আগে উপজেলার প্রায় সব বাদাম উঠে গেছে। গোয়ালনগর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এক হেক্টর জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিলেটে বন্যা হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা

পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা
পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের সেচের পানি সরবরাহে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া এমন অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড় বালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলছেন, সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু বিএমডিএর ১০৮ নম্বর গভীর নলকূপের অপারেটরের দায়িত্বে থাকা বিউটি বেগমের স্বামী আকতারুজ্জামান বোরো ধান চাষের জন্য প্রতি বিঘার জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা ও অন্য মৌসুমে ৩০০ টাকা নেন। ১০ বছর ধরে তিনি এভাবেই বাণিজ্য করে আসছেন।

সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিএমডিএর গভীর নলকূপ থেকে খেতে সেচের পানি পেতে হয়রানির শিকার দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিএমডিএর ১ হাজার ৪৩১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে সচল ১ হাজার ৪১৮টি। সেচের আওতায় ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের জমি রয়েছে ৫৩ হাজার ৫০০ হেক্টর।

* সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। * সেচের আওতায় ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের জমি আছে। * কৃষকদের নলকূপের আবেদন পেলে যাচাই করে স্কিম তৈরি করা হয়।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের নলকূপের আবেদন পেলে যাচাই করে স্কিম তৈরি করা হয়। এরপর সমবায়ের ভিত্তিতে অংশীদারি ফি বাবদ এক লাখ টাকা জমা দিতে হয়। এই নলকূপ পরিচালনার জন্য বিএমডিএ একজন অপারেটর নিয়োগ দেন। প্রিপেইড মিটারিং পদ্ধতিতে কৃষকের নিজ নামে প্রিপেইড কার্ড থাকতে হয়। সেই কার্ড থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেচের পানির জন্য ন্যূনতম ১১০ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই।

বড় বালিয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, ২০১১ সালের দিকে বড় বালিয়া মণ্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আকতারুজ্জামান এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ফি হিসেবে এক লাখ জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো কৃষক সেটা দিতে এগিয়ে আসেননি। ফলে আকতারুজ্জামান, দাউদুল ইসলাম ও জোবায়দুর রহমান মিলে অংশীদারি ফি দেন। আকতারুজ্জামানের ৮০ শতাংশ টাকা থাকায় গভীর নলকূপের নিয়ন্ত্রণ তিনিই পান। অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান তাঁর স্ত্রী বিউটি বেগম। যদিও কৃষকেরা আকতারুজ্জামানকেই অপারেটর হিসেবে জানতেন।

সেচের পানি পেতে হয়রানির শিকার হয়ে সদর উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার ৫০ জন কৃষক গত ১৭ এপ্রিল বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেন। সেখানে গিয়ে কৃষক ও অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন, ২০১২ সালে নলকূপটি চালু হলে আওতাধীন কৃষকের কাছ থেকে আকতারুজ্জামান সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের অতিরিক্ত টাকা আদায় শুরু করেন। আর সেই টাকা থেকে তিনি মাঝেমধ্যে অন্য দুই অংশীদারকে কিছু টাকা ভাগ দেন।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. শাহজাহান আলী বলেন, গভীর নলকূপটির আওতায় তাঁর ১০ বিঘা জমি রয়েছে। কার্ডের বাইরে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও আকতারুজ্জামানকে প্রতি বিঘায় সেচের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। এই টাকা না দিলে তিনি পানি দেন না।

ওই নলকূপের আওতায় চার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছেন কৃষক মো. হেলাল। তিনি অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় অপারেটর খেতে পানি দেননি। এতে জমি ফেটে যায়। পরে তিনি শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে খেত রক্ষা করেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী মোকলেসুর রহমান বলেন, ১০ বছর ধরে সেচের পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আসছেন। এখন বিরক্ত হয়ে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এরপরও কোনো বিচার পাননি।

এ বিষয়ে মো. আকতারুজ্জামান বলেন, তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর দেখেন গ্রামে কোনো গভীর নলকূপ নেই। পরে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নলকূপটি স্থাপন করেন। কৃষকেরা অংশীদারত্বের টাকা দিতে রাজি না হলে তিনি বিএমডিএকে জানান। সে সময় তাঁরা টাকা দিয়ে দিতে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘পরে আপনি টাকাটা ধীরে ধীরে তুলে নেবেন।’ সেই পরামর্শেই সেচের পানি বাবদ প্রিপেইড কার্ডের অতিরিক্ত কিছু টাকা তিনি নিচ্ছেন। জোর করে কিছু নিচ্ছেন না।

বিএমডিএ ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে। নলকূপটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com