আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ধান কুড়োনোর আনন্দে মেতেছে শিশুরা

উপড়ে সুনীল খোলা আকাশ। আলের পরে আল। বিস্তীর্ন ধান খেত। ঘাসের শিশির মেখে শিশুদের কচি পায়ের দৌড়। গরু-ছাগলের মাঝে সাদা বকের সারি। হেমন্তের সোনালি রোদে চাষিরা শুকিয়ে নিচ্ছেন সোনামাখা ধান। কেটে নেয়া ধানের গাছ থেকে মাটিতে ঝড়ে পড়েছে কিছু ধানের শীষ। মাটিতে পড়ে থাকা ধানের শীষ দেখেই কচি পায়ের দৌড়। ধানের শীষ কুড়িয়ে নিচ্ছে শিশুদের দল। ধানের শীষ কুড়োনোর প্রতিযোগিতাও শুরু হয় তাদের মাঝে। 

আগে হাতে নেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কিছু ধান ইঁদুর নিয়ে গেছে গর্তে। জমানো খাবার হিসেবে হয়তো রেখেছিলো তারা। কিন্তু দুষ্টু শিশুর দল মাটি খুঁড়ে বের করছে সেসব ধান। এসব ধান কুড়িয়ে গ্রামীণ শিশুরা জড়ো করছে বাড়িতে। অনেক ধান হলে তারা বিক্রি করবে বাবাদের কাছেই। পিতাই দেবে সে ধানের মূল্য। দুচোখে চক চক করছে স্বপ্ন। বাবার সঙ্গে বাজারে যাবে একদিন। ধান বেচবে। তারপর সেই টাকা দিয়ে হবে নতুন জামাকাপড়, ক্রিকেটের ব্যাট, হবে পিকনিক। 

গ্রামে গ্রামে এখন বিরাজ করছে এমন দৃশ্য। মায়াময় এসব দৃশ্য দেখে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন বড়রা। শিশুদের এই আনন্দে বাধা দিচ্ছেন না বাবা মা। চাষিদের ধান কাটার উৎসবে যোগ দিয়েছে শিশুরা। তাই চাষিরাও খুশি।

পঞ্চগড়ের গ্রামীণ শিশুরা এখন ধান কুড়োনোর আনন্দে মেতেছে। শিশুদের এই ধান কুড়োনো এলাকার অনেক পুরোনো সংস্কৃতি হলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্কুল বন্ধ থাকায় ছুটির আমেজে সব ছোট্ট বন্ধুরা মিলে ধান কুড়োচ্ছে। ধানের পরিমাণ মুখ্য না হলেও আনন্দটাই তাদের কাছে অনেক বড় ।

শিশুদের ধান কুড়োনোর আনন্দ তাদের মনোজাগতিক বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। করোনা সংকটের কারণে শহুরে শিশুরা যখন চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়েছে তখন গ্রামীণ শিশুরা এসব আনন্দে মেতে আছে। তারা প্রকৃতির সঙ্গ পাচ্ছে। এ আনন্দ তাদের দৈহিক গঠনেও কাজে লাগবে।  

পঞ্চগড় জেলা শিশু কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, উত্তরবঙ্গে শিশুদের ধান কুড়োনো অনেক আগে থেকেই একটি প্রচলিত সংস্কৃতি। লেখাপড়ার চাপে শিশুদের আনন্দ উদযাপনের এই সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিলো। করোনা সংকটে স্কুল বন্ধের কারণে তারা আবার সেই আনন্দ উপভোগ করছে। শিশুদের মেধা বিকাশে এই আনন্দ বিরাট ভূমিকা রাখবে। 

উল্লেখ্য, আসছে ডিসেম্বরেই পড়বে প্রবল শীত। তখন হাড় কাঁপানো শীতে শিশুরা হয়তো জড়োসড়ো হয়ে পড়বে। তখন মাঠে থাকবে না ধান। বিশাল মাঠে দৌড়াদৌড়ি হয়তো কমে  যাবে তাদের। শীতের কাপড়ের সংকটে পড়বে তারা। আছে প্রবল ঠাণ্ডায় নানা রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কাও। এ ব্যাপারে এখনি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মানুষ। 

ফসল

পাহাড়ে সবজি চাষে প্রতিবন্ধী শফিউলের সাফল্য

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে সবুজেঘেরা গোমতির বান্দরছড়া গ্রাম। সেখানেই অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেয়া ৯ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন সবজি সাম্রাজ্য। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিবন্ধিতা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে তিনি আজ সফল সবজি চাষি। অর্জন করেছেন সফল সবজি চাষির জাতীয় স্বীকৃতিও।

বলছিলাম পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির গোমতির বান্দরছড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশরের সবজি বিপ্লবের কথা। নিজের জমি না থাকলেও যে সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করা যায় তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে এক প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে বাম পায়ে বিষাক্ত কিছু লেগে সংক্রমণ দেখা দেয় শফিউল বশরের। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২০০১ সালে বাম পা কেটে ফেলতে হয়। তখন থেকেই ক্রাচের ওপর ভর করে চলছে তার জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি সবজিখেতের ছোট আইলে ক্রাচের ওপর ভর করে হাঁটতে হাঁটতে জাগো নিউজকে নিজের সবজি বিপ্লবের গল্প শোনান শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শফিউল বশর।

তিনি জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজের মনের জোরে সাফল্যের স্বপ্ন দেখেছেন। নিজের দশ শতক জমিতে স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়— এ চিন্তা থেকেই নিজের বাড়ির আশপাশে অন্যের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন ১০-১২ বছর আগে।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে অন্যের কাছ থেকে বন্ধক নেয়া ৯ বিঘা জমিতেই গড়ে তুলেছেন সবজিখেত। সবজিখেতে আলুর আড়ালে শোভা ছড়াচ্ছে মিষ্টিকুমড়া। তার সবজি সাম্রাজে খণ্ড খণ্ড জমিতে রয়েছে ক্ষীরা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ, ভেলু (ডালজাতীয়), করলা ও টমেটো। ডায়মন্ড জাতের আলু গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন ভুট্টা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ক্রাচে ভর করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা সবজি সাম্রাজ্য দেখভাল করেন শফিউল বশর। তার পরামর্শেই সবজি উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করছেন ৮-৯ জন নিয়মিত শ্রমিক।

বন্ধকি জমিতে সবজি চাষ করে বছরে ৫-৬ লাখ টাকা উপার্জন করেন এ চাষি। শুধু নিজের নয়, তার জমিতে নিয়মিত কাজ করা ৮-৯টি পরিবারেও আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।

স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার শফিউল বশরের। সবজি চাষ করে পরিবারের ব্যয় মিটিয়ে তার দুই ছেলেকে বিএ পাস করিয়েছেন। ছেলেরা শিক্ষিত হয়েও সানন্দে প্রতিবন্ধী বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। শ্রমিকের সঙ্গেই কাজ করেন দুই ছেলে। ৭-৮ বছর আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সফল এ মানুষটি।

শারীরিক প্রতিবন্ধী সবজি চাষি মো. শফিউল বশরের বড় ছেলে আবুল বাসার বলেন, ‘লেখাপড়া শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে বাবার স্বপ্ন পূরণে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছি। বাবার অদম্য মনোবল আমাদের অনুপ্রাণিত করে।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন শফিউল বশর, যা এলাকার মানুষকে উজ্জীবিত করেছে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাবলম্বী হতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত শেখ মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মো. শফিউল বশর একই জমিতে একাধিক ফসল ফলান। ফলে ফসলে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। প্রতিবন্ধী কৃষক শফিউল বশরের মতো কৃষি নৈপুণ্যে উদ্যোগী হয়ে অনেকে এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গাজর চাষে প্রথমবারেই বাজিমাত

পরীক্ষামূলকভাবে গাজর চাষ করে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন কৃষক সাদেক মিয়া। রক্তিম আভা ছড়িয়ে মাটির নিচে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে গাজর।

আলুর মতোই মাটির নিচে পরিপূর্ণ বিকাশ হয় গাজরের। মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে উদ্ভিদগুলো সমৃদ্ধি লাভ করে তার ফল বৃদ্ধিতে। কচি পাতাগুলোতে ধরা দেয় কোমলতার হাসি।

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ভুলকোট গ্রামের একটি খেতে শোভা পাচ্ছে গাজর। খামখেয়ালির ছলে অল্প জমিতে গাজর চাষ করে কৃষক সাদেক মিয়া এখন ঘরে তুলছেন দ্বিগুণ লাভের এই সবজি।

কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, আমাদের উপজেলায় কখনো গাজর চাষ হয়নি। কৃষি অফিসার মো. শামিমুল হক শামিম যখন গাজর চাষ করার কথা বললেন প্রথমে আমার বিশ্বাসই হয়নি। তবুও তার কথা রাখতে গিয়ে অল্প জমিতে গাজর চাষ করি। কিন্তু এখন আমি নিজেই অবাক। মাত্র এক হাজার টাকা খরচ করে গাজর চাষ করেছি। এখন আমি প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, স্বল্প খরচে দিগুন লাভ হওয়া এই গাজর আগামীতে কয়েক বিঘা জমিতে চাষ করব। আমার এই গাজর চাষের ফলন দেখে এলাকার অনেক চাষিই আগ্রহ দেখাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, গাজর পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি সবজি। একে ‘সুপার ফুড’ বলা হয়। গাজরে ভিটামিন ‘এ’ সহ অন্যান্য উপাদান থাকায় দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ক্যান্সার প্রতিরোধ, অ্যান্টিঅক্সিজেন বৃদ্ধি, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিসহ বলিরেখা রুখতে এবং কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, গাজর একটি অর্থকারী ফসল হিসেবে সারাদেশে কৃষিখাতে জায়গা করে নিয়েছে। এ উপজেলায় কখনো গাজর চাষ হয়নি। আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো গাজর চাষ করিয়েছি। আশা করি আগামীতে গাজর চাষে কৃষক এগিয়ে আসবেন এবং এ থেকে প্রচুর লাভবান হবেন।

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, অর্থকারী ফসল হিসেবে কৃষি খাতে গাজর একটি সম্ভাবনাময় ফসল। সঠিকভাবে বাজারজাত করা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। এছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে গাজর চাষে কৃষকদের সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আম্ফানও দমাতে পারেনি এলাচ চাষি শাহজাহানকে

রান্নার সুঘ্রাণ বাড়াতে দেশে এলাচের চাহিদা ব্যাপক। চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয় এ মসলা। মসলাজাতীয় ফসল এলাচ চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে দেশে। চীন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের উর্বর জমি এলাচ চাষের উপযোগী।

দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ শুরু করেন বেনাপোল পৌরসভার নারানপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলী। ৯ বছর আগে ২০১২ সালে পৌরসভার সামনে পাঠবাড়ি এলাকায় এক বিঘা জমিতে দুই জাতের এলাচ চাষ শুরু করেন। ওয়েবসাইটে এলাচ চাষের ফর্মুলা দেখে উদ্বুদ্ধ হন। পরে বিদেশ থেকে এলাচ গাছের ৭০টি মূল সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে অন্য ফসলের মাঠে এলাচ চাষ করি। কিন্তু ফলন ভালো হয়নি। পরে একটি মেহগনি বাগান (গাছের ছায়াযুক্ত স্থান) লিজ নিয়ে চাষ শুরু করি। এতে ফলন ভালো হয়। ২০১৬ সালে যে গাছ রোপণ করা হয়েছিল তাতে ২০১৯ সালে কিছু ফল এসেছিল। যেটা বিক্রির পর্যায়ে ছিল না। প্রথম ফল সে কারণে আত্মীয়স্বজন ও পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। কিন্তু গত ২১ মে আম্ফানে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফুল আর ফলে ভরা এলাচ খেত দেখতে এক সময় দেশি-বিদেশি লোক আসতো। কিন্তু আম্ফানে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন দু-একজন এলেও এলাচ গাছ দেখতে না পেয়ে ফিরে যান।

তিনি আরও বলেন, একটা চারা কমপক্ষে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এলাচ খুব লাভজনক চাষ। প্রতি একর জমিতে ১২০০টি চারা রোপণ করা যায়, যা থেকে এককালীন প্রায় ১৫ লাখ টাকার এলাচ বিক্রি সম্ভব। অন্য কোনো চাষে এত লাভ সম্ভব নয়।

এলাচ চাষ শুরুর পর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের একদল বৈজ্ঞানিক ফলন দেখতে বাগান পরিদর্শন করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাগান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেন। এরপর কোনো খোঁজ নেয়নি।

আম্ফানে ক্ষতি হলেও থেমে নেই শাহজাহান আলী। নতুন করে মাটি সংগ্রহ করে চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাচের চারা নিতে বুকিং দিচ্ছেন অনেকে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, শাহজাহান দেশের প্রথম এলাচ চাষি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আগে পরে শাহজানের এলাচ বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অনেকে এসেছেন। বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ দেশে প্রথম শুরু করলেও আম্ফানে সব শেষ। এখন চারা করা হচ্ছে। গাছ রোপণ করলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এলাচ চাষী শাহজাহান। গবেষণা করে এজাতীয় মসলার চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দ্বিগুণ লাভে গাজর চাষে বিপ্লব!

দ্বিগুণ লাভে গাজর চাষে বিপ্লব!

গাজর চাষে যেন বিপ্লব ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায়। প্রতিটি গ্রামেই কম বেশি চাষ হয় মূল জাতীয় এই সবজির। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন কৃষকের মাঝে আগ্রহও বাড়ছে গাজর চাষে।

শীত মৌসুমে এ এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল গাজর। সারাদেশেই গাজরের চাহিদা রয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সীমিত আকারে রফতানিও হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

কৃষি অফিস ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলায় গাজর চাষ শুরু হয় দুই দশক আগে। প্রথম দিকে শুধু জয়মন্ডপ ইউনিয়নে স্বল্প পরিসরে এর চাষাবাদ শুরু হয়।

কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে গাজর চাষে আগ্রহ বাড়ে কৃষকদের। ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার প্রায় সব গ্রামে। গাজর চাষ করে অনেক পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। হয়েছে কর্মসংস্থানও।

উপজেলার জয়মন্ডপ, কিটিংচর, লক্ষ্মীপুর, নীলটেক, মেদুলিয়া, ভাকুম, কানাইনগর, মোসলেমাবাদ, বিন্নাডাঙ্গী, চর দুর্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি কৃষক গাজর চাষের সঙ্গে জড়িত।

গাজর চাষি কানাই লাল, আকবর ও রশিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, অন্য ফসলের চেয়ে গাজর চাষ লাভজনক বেশি। মাত্র দুই থেকে আড়াই মাসে ফসল তোলা যায়। গাজর তুলে ধান চাষ করেন তারা। প্রতি হেক্টর জমিতে গাজর উৎপাদন হয় ১৮ থেকে ২০ টন।

খেতে থাকা অবস্থায়ই ব্যবসায়ীরা চাষিদের গাজর কিনে নেন। গাজর তুলতে কোনো ঝক্কিঝামেলা নেই।

একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও গাজর তুলতে কোনো শ্রমিক লাগে না। কারণ গোখাদ্যের জন্য গাজর পাতার (উপরের অংশ) বেশ চাহিদা রয়েছে স্থানীয়দের কাছে। গরুর খামারীরাই খেত থেকে গাজর তুলে দিয়ে পাতা নিয়ে যান।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক জানান, এ অঞ্চলে কিংঅরেন্স নামে হাইব্রিড গাজর বেশি ফলন হয়। এ বীজ জাপান থেকে আমদানি করা। প্রতি কেজি বীজ কৃষকদের কিনতে হয় ১২ হাজার টাকায়। এক কেজি বীজ এক বিঘা জমিতে বপন করা যায়। প্রতি বিঘায় গাজর চাষে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। লাভ থাকে প্রায় দ্বিগুণ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিংগাইর উপজেলার গ্রামে গ্রামে এখন খেত থেকে গাজর তোলা, ধোয়া এবং বাজারজাত করার মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। গ্রামের নারী-পুরুষ জমি থেকে দল বেঁধে গাজর তুলছেন। পাতা কেটে নিচ্ছেন। আবার সেই গাজর বিভিন্ন খাল-বিলের পাশে কিংবা বাড়িতে গর্ত করে ধোয়া হচ্ছে।

শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে বসে বিশেষ কায়দায় গাজর পরিষ্কার করছেন। এরপর ট্রাকে বিভিন্ন আড়তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গাজর।

বছরের এই সময়ে শুধু গাজর ধোয়ার জন্য রাজশাহী, নাটোর, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলার শ্রমিক আসেন সিংগাইরে। ১০০ টাকা বস্তা চুক্তিতে তারা গাজর তুলে ধুয়ে বাজারজাত উপযোগী করেন।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যাপারী আমজাদ হোসেন। জয়মন্ডপ গ্রামে এসেছেন গাজর কিনতে।

তিনি বলেন, মানিকগঞ্জের সুস্বাদু গাজরের চাহিদা অনেক। রাজধানীর পাশে হওয়ায় তারা এখান থেকে প্রতি বছর গাজর কিনে নেন। একইভাবে কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, মিরপুর ও সাভারের পাইকারি আড়তে এই গাজর সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, সীমিত আকারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও সিংগাইরের গাজর রফতানি হচ্ছে।

নিজ এলাকার চাষিদের গাজর সংরক্ষণের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে জয়মন্ডপ এলাকায় একটি হিমাগার তৈরি করেছেন সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। মধু-উজালা নামের ওই হিমাগারে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন আলু এবং গাজর রাখা যায়।

চাষিরা বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা কম থাকায় তারা স্বল্প মূল্যেই গাজর বিক্রি করতে বাধ্য হন। এই এলাকায় আরও হিমাগার নির্মাণ করা হলে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, সিংগাইর উপজেলায় ২০১৮ সালে ১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ হয়। ২০১৯ সালে গাজর চাষ হয় ১ হাজার ১১৭ হেক্টর জমিতে এবং চলতি বছরও একই পরিমাণ জমিতে গাজর চাষাবাদ হয়েছে।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সিংগাইর উপজেলার মাটি এবং আবহাওয়া গাজের চাষের উপযোগী। এজন্য গাজর চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হন। তাছাড়া গাজর চাষ অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক। বিক্রি নিয়েও চাষিদের কোনো ঝামেলা নেই। খেত থেকেই গাজর কিনে নেন ব্যবসায়ীরা।

এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন গাজর। প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি টাকার গাজর বিক্রি হয় এ উপজেলা থেকে।

তিনি বলেন, কীভাবে গাজর চাষিরা পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে আরও ভালো ফলন পেতে পারেন সে ব্যাপারে তারা পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

খোয়াই নদীর চরে বেড়েছে চাষাবাদ

খরস্রোতা খোয়াই নদী, আবার কখনো স্রোতবিহীন নদী। নদীর মাঝখানে পানি, আবার দুইদিক কিনারে বেশ উঁচু উঁচু খালি চর রয়েছে। এই চরে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের শাক সবজি ও আখ।

খোয়াই নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় প্রবেশ করে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে কালনী নামক স্থান দিয়ে মিলিত হয়েছে মেঘনা নদীতে ।

শুকনো মৌসুমে খোয়াই নদীর দুই পাশে বড় বড় চর জেগে ওঠে। এ চরের বুকে হাজার হাজার কৃষক তাদের স্বপ্নের ফসল চাষাবাদ করেন। যার মধ্যে রয়েছে আখ, সরিষা, গম, টমেটো, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও আলুসহ বিভিন্ন ফসল।

ফসলে ভরে যায় নদীর দুই দিকের চরগুলো। একদিকে পানি অন্যদিকে সবজির বাগান দেখে যেন চোখ মিলিয়ে যায়। কৃষিবিভাগের মতে, নদীর দুই পাড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কৃষক ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উবাহাটা, লেঞ্জাপাড়া, পুরানবাজার, আলাপুর, কালিগঞ্জ, চরহামুয়া, দক্ষিণ চরহামুয়া, কলিমনগর এলাকায় খোয়াই নদীর তীরে আখ, সীম, টমেটো, করলা, বেগুন, বরবটি, লাউ, কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ আরও অনেক সবজি চাষ করা হচ্ছে।

এসব সবজি চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চরের পাশেই নদীর পানি থাকায় এসব শাকসবজি চাষ করতে পানির জন্য বেগ পেতে হয় না।

আগে যারা আখ চাষে উৎসাহী ছিলেন তারা অনেকেই এখন শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত রয়েছেন। বাল্লা থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর দুই পাড়ে বিভিন্ন সবজি ও গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন নানা পেশার মানুষ। চরে সবজি চাষ ছাড়াও নদীতে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

আলাপুর গ্রামের আল আমিন মিয়া জানান খোয়াই নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন। এর মধ্যে মুলা আর মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। করোনায় আগে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। করোনায় সময় চাকরি চলে গেছে। এরপরে তার বাড়ির পাশে খোয়াই নদীর চরে সবজি চাষ শুরু করেন।

প্রথমবারেই সফলতা আসে মুলা চাষ করে। প্রায় ২৫ হাজার টাকা মুলা বিক্রি করেছেন। এবার চাষ করেছেন মিষ্টি কুমড়ার। মিষ্টি কুমড়ারও বাম্পার ফলন হয়েছে। সাবাসপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম নদীর চরে ফুলকপি আর বাঁধাকপির চাষ করে লাখ টাকা আয় করছেন।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনার কারণে মানুষ সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আর বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছেন।

এর কারণে আরো মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে সবজি চাষ করার জন্য আমরা সাবির্ক সহযোগীতা করছি। অনেককেই পরার্মশ দিয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করলে যে কেউ সফল হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com