আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ধান কাটার হারভেস্টরের ব্যাপক বিক্রি, ভর্তুকি ৫০ ভাগ

করোনাভাইরাস ঠেকাতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটিতে অন্যান্য ব্যবসার পরিস্থিতি যখন খারাপ, তখন ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন্ড হারভেস্টরের বিক্রি ব্যাপকভাবে বাড়ছে। দেশের কৃষিযন্ত্র খাতের শীর্ষস্থানীয় দুই কোম্পানির একটি জানিয়েছে, গত বছর তারা ৪০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বিক্রি করেছিল, এ বছর তা ১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় আরেকটি কোম্পানি জানিয়েছে, চাহিদা ব্যাপক। তাদের মজুতে থাকা হারভেস্টর বিক্রি শেষের পথে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমে এবার মোট জমির ৫ শতাংশের ধান কম্বাইন্ড হারভেস্টর কাটা হবে, যা এতদিন মাত্র এক শতাংশের নিচে ছিল। এবার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেওয়া সাধারণ ছুটির হাওরে ধান কাটতে শ্রমিকের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছিল। কম্বাইন্ড হারভেস্টর ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্র দিয়ে হাওরে পানি আসার আগেই দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৬২ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে।

কম্বাইন্ড হারভেস্টরে ধান কাটার ক্ষেত্রে তিনটি সুবিধার কথা বলছেন কৃষক ও যন্ত্র বিপণনকারীরা। প্রথমত, হারভেস্টর দিয়ে দ্রুত ধান কাটা যায়। শ্রমিকের অভাব কোনো সমস্যা তৈরি করে না। দ্বিতীয়ত, হারভেস্টরে খরচ সাধারণ পদ্ধতিতে ধান কাটার প্রায় অর্ধেক। তৃতীয়ত, হারভেস্টরে কাটলে ফসলের ক্ষতি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। 
সব চেয়ে বড় সুবিধা হলো, যেসব কৃষি উদ্যোক্তা অথবা কৃষক সমিতি হারভেস্টর কেনে, তাদের মোট দামের অর্ধেক ভর্তুকি দেয় সরকার। হাওরে এটা ৭০ শতাংশ। এর মানে হলো, জাপানের একটি ব্র্যান্ডের একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর ২৮ লাখ টাকা দিয়ে কিনলে সরকার ১৪ লাখ টাকা দেয়। হাওরের কৃষকেরা ভর্তুকি হিসেবে পান ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর চীনা একটি ব্র্যান্ডের একটি হারভেস্টর ২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনলে কৃষক ভর্তুকি পান ১০ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা মোটামুটি কৃষক পর্যায়ে চলে গেছে। বাকি ১০০ কোটিও ছাড় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাওরে নতুন কিছু হারভেস্টর দেওয়া হয়েছে। আগের কিছু হারভেস্টর ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্র মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত ধান কেটে ফেলা যায়।’
দেশে এখন জাপানি ও চীনা কম্বাইন্ড হারভেস্টর বাজারজাত করে চার-পাঁচটি কোম্পানি। এর মধ্যে বাজার হিস্যার দিক দিয়ে এগিয়ে এসিআই মোটরস, যারা জাপানের ইয়ানমার ব্র্যান্ডের কম্বাইন্ড হারভেস্টর বাজারজাত করে। তাদের দুটি হারভেস্টরের একটির দাম সাড়ে ২৯ লাখ টাকা, অন্যটি ২৮ লাখ টাকা। 
এ ব্যাপারে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রথম আলোকে বলেন, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হারভেস্টর বিক্রির মৌসুম। আশা করছি, এবার এক হাজার ইয়ানমার হারভেস্টর বিক্রি হবে। এই এক হাজার হারভেস্টর এক মৌসুমে চার লাখ একর জমির ধান কাটতে পারবে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়েও দেশে কৃষিতে ৪০ শতাংশ শ্রমিক সংকট থাকে। এই সংকটের একটা অংশ এবার সামাল দেবে হারভেস্টর। 
এসিআইয়ের হিসাবে, সনাতনী উপায়ে এক একর জমির ধান কাটতে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। হারভেস্টরে খরচ প্রায় অর্ধেক, ৫ হাজার টাকা। এক হাজার হারভেস্টরে এ ক্ষেত্রে সাশ্রয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সনাতনী পদ্ধতিতে ধান কাটতে ফসল নষ্ট হয় ১২ শতাংশের মতো। হারভেস্টরে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে যে ধান রক্ষা পায়, তার মূল্য ১০০ কোটি (১ হাজার হারভেস্টরে)। 
সুব্রত রঞ্জন বলেন, সব মিলিয়ে এক হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টরে এক মৌসুমে ৩০০ কোটি টাকার বাড়তি সুফল পাবেন দেশের কৃষকেরা। ১০ মৌসুমে হারভেস্টরগুলো কৃষিতে ৩ হাজার কোটি টাকার মূল্য যোগ করবে। 
কৃষি যন্ত্রের বাজারে আরেক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেটাল গ্রুপ চীনের ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ডের হারভেস্টর বিক্রি করে। তাদের হারভেস্টরের দাম সাড়ে ২০ লাখ টাকা। সেটি কিনলে সরকার ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা টাকা ভর্তুকি দেয়। 
মেটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিদ জামিল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ভর্তুকি দেওয়ায় হারভেস্টর বিক্রি বাড়বে। কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি সবসময়ই থাকে। যন্ত্র ব্যবহার করলে ধান কাটায় কৃষকের খরচ ৪০ শতাংশ কম হবে। এতে ধান আবাদ করে কৃষক লাভবান হবে। তিনি বলেন, এখন যন্ত্র দিয়ে ২ শতাংশেরও কম ধান কাটা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ আছে। 
সাজিদ জামিল বলেন, সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পরও বাকি টাকা এক সঙ্গে কৃষকেরা দিতে পারেন না। এ কারণে আমাদের বাকিতে দিতে হয়। এখন সাধারণ ছুটিতে টাকা সংগ্রহ করাও কঠিন। 
চিটাগং বিল্ডার্স, আলিম ইন্ডাস্ট্রিজ ও আবেদীন ইক্যুইপমেন্ট বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট-বড় কম্বাইন্ড হারভেস্টর আমদানি করে। 
কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে জমি চাষ ও সেচে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ৯০ শতাংশের বেশি। ধান মাড়াইয়ে যন্ত্রের ব্যবহার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পিছিয়ে ছিল ধান কাটা। সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। 
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মিজানুর রহমান এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একটি হারভেস্টর কিনেছেন ২৯ লাখ টাকায়। এর মধ্যে ভর্তুকি পেয়েছেন সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। এখন তিনি হাওরে বোরো মৌসুমের ধান কাটছেন। দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তাঁর। 
মিজানুর রহমান বলেন, বোরো ও আমন মিলিয়ে তিনটি মৌসুম পেলেই তার বিনিয়োগ উঠে যাবে। এতে লাগবে দেড় বছর। হারভেস্টরটি চালানো যাবে পাঁচ বছরের মতো। 
কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এগিয়ে নিতে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। 
জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল মনে করেন, একটি মাঠে একটি যন্ত্র নামলে সেটার সেবা নেওয়ার সুযোগ সব কৃষকই পান। যান্ত্রিকীকরণ কৃষকের খরচ কমায় এবং একটি ফসল শেষ করে আরেকটি ফসল চাষের মধ্যকার সময় কমিয়ে আনে। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, কৃষকেরা যখন অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন সরকার ভর্তুকি না দিলেও দামী যন্ত্র কিনবেন। থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের মতো দেশে এভাবেই কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে।

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে হয়ে উঠুন লাভবান

খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ছেলে থেকে বুড়ো সবার প্রিয় এই সবজি পিঠে-পুলি বানানোর জন্য আদর্শ এক সবজি। সিদ্ধ করেও যেমন খাওয়া যায়, তেমনই পুড়িয়েও এই সবজি খাওয়া যায়। বাজারে এই সবজি সহজলভ্যও বটে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলু চাষ করে বর্তমানে অনেক চাষি লাভের মুখ দেখছেন।

মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্যসম্মত দিক (Health Benefit)

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেতকণিকার পরিমান বাড়ে। এছাড়াও এই সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ থাকায়, নার্ভ ভালো রাখতে এবং ধমনী ও হার্ট ভালো রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর আধার। আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল এই সবজি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকায়, এটি খেলে মানব শরীরের হৃদস্পন্দন ঠিক থাকে সাথে সাথে কিডনির রোগও দূর হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কেমন হবে আগামীর কৃষি:

বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি অধিকাংশ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নত ফলনশীল জাত। এর ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন।

বর্তমানে যেভাবে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে ইনশাল্লাহ।

যদিও আমাদের কৃষি আমার মতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কিন্তু কথা হলো আগামী দিনে কেমন হবে আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষি উৎপাদন কি দিন দিন বাড়তেই থাকবে? বিজ্ঞান সম্মত উত্তর হবে বাড়তেই থাকবে না কিন্তু আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কেননা আমাদের ফসলের জাত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা উপযুক্ত পরিবেশে আরো বেশি। প্রশ্ন এখানেই যে, আমরা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কি ধরে রাখতে পারব? প্রতিবছর কৃষি জমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে বাড়ি-ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মানের জন্য। নিবিড় চাষাবাদের ফলে আমাদের মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমিতে লবনাক্ততা বাড়ছে দিন দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর, ফলে উৎপাদন দিন দিন কমছে। এসব সমস্যার বাহিরে যে সমস্যা আমাদের জন্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকট হয়ে দাড়াবে তা হলো আর্সেনিক বিষাক্ততা।

জমিতে ফসল ফলানোর জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকা জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ জমিতে এর পরিমাণ মাত্র শতকরা ২ ভাগ এর কাছাকাছি। এছাড়াও আমাদের মাটিতে গাছের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। ৯০ এর দশকে আমাদের জমিতে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের জিংক, বোরন সার জমিতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে এবং আশংকা করা হচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মাটি থেকে গ্রহণকৃত ১৪টি খাদ্য উৎপাদনের অধিকাংশ সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে আমাদের জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

বাংলাদেশের ২০ ভাগ অঞ্চল উপকূলীয় এবং দেশের চাষযোগ্য জমির ৩০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, আমাদের অধিকাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপকূলীয় অধিকাংশ অঞ্চলে শুধুমাত্র কিছু স্থানীয় লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত বছরে একবার চাষ করা হয়। ফলে আশানুরুপ ফলনও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কিছু ছাড়িয়ে আর্সেনিক বিষাক্ততা আমাদের কৃষির জন্য। স¤প্রতি এক গবেষনা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ। কৃষিবিদদের জন্য চিন্তার কারণ হলো যে, আর্সেনিক দূষিত পানি দ্বারা যে সকল ফসলে সেচ প্রদান করা হয় সেসব ফসলের খাদ্যপোযোগী অংশে থাকে আর্সেনিকের উপস্থিতি।

অতি সমপ্রতি আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয়ে যে, গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আমার বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের কৃষি গবেষকরা এসব সমস্যা সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে কৃষিকে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ চাষীর উজ্বল সম্ভবনা

বাংলাদেশর গ্রীস্মকালীন টমেটো সবজির pionear হিসাবে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিচিত। এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ হয়। গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকেরা আগ্রহী কিন্তু পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা, গ্রীস্মকালীন টমেটোর রোগমুক্ত বীজের অভাব উন্নত জাতের অভাব পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা পরিবহন ব্যববস্থা এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা গ্রীস্মকালীন

টমেটো  বাজারজাত করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যদি কৃষকদের গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত এ সকল সমস্যা গুলি সমাধান করা যায়। তাহলে বাঘারপাড়া’র টমেটো দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রীস্মকালীন টমেটো  উৎপাদন কারী দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে এবং কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থ্যার উন্নয়ন হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মিষ্টি মরিচ চাষ: এক সম্ভাবনার নাম

মিষ্টি মরিচ আমাদের দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানিং এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় শহরের আশেপাশে সীমিত পরিসরে কৃষক ভাইয়েরা এর চাষ করে থাকের, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া মিষ্টি মরিচের বিদেশে রপ্তানীর সম্ভাবনাও প্রচুর। কারণ সারা বিশ্বে টম্যাটোর পরেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ।

মিষ্টি মরিচের পুষ্টিমান ও ব্যবহার:
পুষ্টিমানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

মিষ্টি মরিচ লাগানোর নিয়ম কানুন:
ক্যাপসিয়াম বা মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না। মিষ্টি মরিচের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজ থেকে প্রথমে চরা তৈরি করে নিতে হয়। এ জন্য বীজগুলোকে ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেমি. দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজ বোনার ৭-১০ দিন পর চারা ৩-৪ পাতা হলে মাঝারি আকারের পলিথিন ব্যাগে চারা স্থানান্তর করতে হবে।

এরপর মূল জমি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেড চওড়া ২.৫ ফুট রাখতে হয়। দুই বেডের মাঝখানে নালা রাখা দরকার। প্রতি শতক জমির জন্য গোবর ৪০ কেজি,  ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমওপি ১ কেজি, দস্তা ২০ গ্রাম এবং জিপসাম ৪৫০ গ্রাম  প্রয়োগ করতে হয়। এর মধ্যে অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরির সময়, বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি, দস্তা, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমওপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমওপি পরবর্তীতে দুইভাগ করে চারা রোপণের ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত ৩০ দিন বয়সের চারা তৈরি করা বেডে ১.৫ ফুট দূরে দূরে লাইনে রোপণ করা হয়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।

যেহেতু, ক্যাপসিকাম খরা ও জলাবদ্ধতা কোনটাই সহ্য করতে পারে না, তাই প্রয়োজন অনুসারে জমিতে সেচ দিতে হবে। কোন গাছে ফল ধরা শুরু হলে খুঁটি দিতে হবে যাতে গাছ ফলের বারে হেলে না পড়ে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

ফসল তোলা:
মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণেল পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জিরা চাষ কৌশল

জিরা একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় মসলা এবং প্রতিটি রান্নাঘরে খুব সহজে স্থান করে নিয়েছে জিরা। নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্যে প্রয়োজন বিধায়  বাংলাদেশে শীতকালে জিরা চাষ সম্ভব। সঠিক পরিচর্যায়  সহজেই হেক্টরপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি জিরার ফলন পাওয়া সম্ভব।সুনিষ্কাশিত উর্বর,গভীর এবং বেলে দোঁআশ মাটি জিরা চাষের জন্যে উত্তম।

বীজের হার ও বপন: প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ কেজি বীজ লাগে ছিটিয়ে বীজ বপন করতে । তবে সারিতে মাদা করে লাগালে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি বীজ লাগে। সারিতে বপন করলে দুরত্ব হবে ২৫× ১৫ সেমিঃ। জিরা বোনার আগে ২/৩ দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং বোনার আগে প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম হারে ভিটাভেক্স মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। অক্টোবর,নভেম্বর মাস বীজ বোনার উত্তম সময়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৫-৮ টি লাঙ্গল এবং মই দিয়ে জমি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। হেক্টর প্রতি ৫ টন জৈব সার, এবং শেষ চাষের আগে ২০ কেজি ইউরিয়া, ৮০-১০০  কেজি টিএসপি ও ৭০-৭৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর বীজ বোনার ৩০ দিন পর একবার এবং ৬০ দিন পর আরেকবার ২০ কেজি করে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রত্যেকবার সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিতে হবে।
পরিচর্যা: বীজ বোনার ২৫-৩০ দিন পর আগাছা এবং অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে এবং চারার গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ জো না থাকলে বীজ বোনার পরে হালকা সেচ দিতে হবে। ফুল আসার সময়ে এবং জিরা পুষ্ট হওয়ার সময়ে যেন মাটি শুকনা না থাকে, তা লক্ষ রাখতে হবে।


ফসল তোলা এবং সময়: ৯০-১১০ দিনের মধ্যে জিরা তোলা যায়। ফসল পেকে গেলে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে,খামারে এনে তারপর রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ জিরা আলাদা করতে হয়। ভালভাবে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ কেজি ফলন পাওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com