আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ধানের লোকসান পোষাতে গমের দিকে তাকিয়ে নীলফামারীর কৃষকেরা

চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।

ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকেরা

নীলফামারীতে চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ গমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। একইসঙ্গে ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এমনটিই আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে, সদরে দুই হাজার ২৭০, সৈয়দপুরে ২৫০, ডোমার এক হাজার ১৫০, ডিমলায় ৮৮০, জলঢাকায় ৮৫০ ও কিশোরগঞ্জে ৪০০ হেক্টর জমি। আর এতে উৎপাদনের গড় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৬ মেট্রিকটন।

এ ছাড়াও এবার বারি-২৬, ২৮, ৩০ ও ৩৩ জাতের গমের ক্ষেতে ফলন হয়েছে বেশ ভালো। এতে সাম্ভব্য গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮০১ দশমিক এক মেট্রিক টন। কৃষিবিদেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও উচ্চ ফলনশীল পুষ্টি সমৃদ্ধ গমের চাষ করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন তিনি।

নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেংমারী দিঘলটারী গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৮) জানান, কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার জমিতে আগাম জাতের গমের আবাদ করেছি।

মাঠভর্তি কেবল গমের আবাদ।
মাঠভর্তি কেবল গমের আবাদ।

তিনি বলেন, ধানের বাজার দর না থাকায় প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে।

একই গ্রামের তসলিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, চলতি মৌসমে দুই বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। বারি-২৬ জাতের গম ভাল ফলন হয়। এই জাতের গম বিঘায় ১৫-১৬ মন পর্যন্ত হয়। বাজারে দামও ভাল। বাজারে এখন প্রতিমণ গম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির গম ফলাতে খরচ হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। এতে প্রায় বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ১৯ হাজার টাকা।

জেলার শহর ও বড় বাজারের গম ব্যবসায়ী ও আড়তদার দীপক দাস বলেন, বর্তমানে গমের জাত অনুযায়ী ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা দামে (পুরাতন) গম বেচাকেনা হচ্ছে। কৃষকরা মোটামুটি ভাল দাম পাচ্ছেন।

জেলার ডোমার উপজেলার মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গামটুকপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, গম চাষে সার ও কীটনাশক কম লাগে, একটু সেচ দিলে ভাল ফলন হয়। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শষ্য) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর গমের আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৫-১৬ মণ। বাজারে দামও রয়েছে ভাল ও চাহিদাও বেশ।

ফসল

গোমতির পাড়ে শীতকালী সবজি চাষের উৎসব

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা একটি গ্রাম। চারার গ্রাম নামে পরিচিত সমেষপুর। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাসে এ গ্রাম থেকে বিক্রি হবে অন্তত ৩ কোটি টাকার রবিশস্যর চারা। সে লক্ষ্যই এখন ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। সমেষপুরে এখন উৎসবের আমেজ।

[৩] সরেজমিনে ঘুরে ও চারা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,শীত আসতে এখনো ঢের বাকি। তার আগেই তৈরি করা হয়েছে বীজতলা। এখন মাটি থেকে মাথা উঁকি দিয়ে আছে টমেটো, মরিচ, তাল বেগুন, শিংনাথ বেগুন,, ফুল ও বাঁধাকপি। এই চারাগুলো রোপণ করা হবে জমিতে। যেখান থেকে উৎপাদিত টমেটো, তাল বেগুন, ফুল ও বাঁধাকপিতে হাসবে কৃষকের জমি।

[৪] সমেষপুরে গত ৭০-৮০ বছর ধরে চারা রোপণ ও বিক্রি করে আসছে শতাধিক পরিবার। কম সময়ে মুনাফা হয় বলে চারা চাষির সংখ্যা বাড়ছে। সমেষপুরের রবিশস্যর চারা পুরো দেশেই যায়। পাইকাররা কাকডাকা ভোরে সমেষপুরে চলে আসেন। পিকআপভ্যান ও মাইক্রোবাসে করে চারা কিনে নিয়ে যান।

[৫] সমেষপুরের কৃষক মনির হোসেন জানান, তিনি ৮ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। আশ্বিন থেকে অগ্রাহায়ণ পর্যন্ত অন্তত তিনবার চারা উৎপাদণ হবে তার বীজতলায়। শতাধিক পরিবার এই তিন মাসে তিনবার চারা উৎপাদন ও বিক্রি করবেন।

[৬] মনির হোসেন জানান, এই তিনবারের মধ্যে প্রতিবার চারা উৎপাদনে তার খরচ হবে ৮০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। খরচের মধ্যে রয়েছে বীজতলা তৈরির জন্য বাঁশ,পলিথিন, কীটনাশক ,সার ও শ্রমিকের মজুরি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারা বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে তার অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা মুনাফা হবে।

[৭] শতাধিক পরিবার বছরের এই সময়টাতে রবিশস্যর চারা উৎপাদন করে। এতে প্রত্যেক পরিবারের গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় হয়। এভাবে অন্তত ৩ কোটি টাকার রবিশস্যর চারা বিক্রি হয় সমেষপুরে।

[৮] ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সমেষপুরে চারা কিনতে প্রতিদিনই কৃষকরা আসেন। চারা কিনতে আসা চট্টগ্রামের কৃষক ফয়সাল হোসেন বলেন, সমেষপুরের চারা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো। গত দশ বছর ধরে আমি সমেষপুর থেকে চারা নিয়ে নিয়ে জমিতে রোপণ করি।

[৯] ফুলকপি এক হাজার চারার দাম ৮’শ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি হাজার ৬’শ টাকা করে। এছাড়াও তাল বেগুন যেগুলো প্রতিটি এককেজি করে হয় ওই বেগুনের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার টাকায় কিনেছি। আটি বেঁধে গাড়িতে তুলেছি। পরদিন বিকেলে গিয়ে জমিতে রোপণ করবো।

[১০] সমেষপুরে এতো টাকার চারা উৎপাদন ও বিক্রি হলেও কৃষি অফিস থেকে নেই কোনো সহযোগিতা এমন অভিযোগ অন্তত ২০জন কৃষকের।

[১১] আবু আওয়াল নামে একজন কৃষক জানান, তিনি এ বছর ২০ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজ সার কিংবা পরামর্শ সংক্রান্ত কোনো সহযোগিতা কখনো কোনো দিন কৃষি বিভাগ করেনি। কোনো সমস্যা হলে কৃষকরা নিজেরাই আলাপ আলোচনা করে সমাধান খুঁজে নেন।

[১২] কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, যদি সমেষপুরের কৃষকরা কৃষি বিভাগের কোনো সাপোর্ট না পায় সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। আমি আজ থেকেই ওই কৃষকদের জন্য করণীয় সব কিছু করার ব্যবস্থা শুরু করবো। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মেহেরপুরে কাদা জমিতে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য

লেখক

জমিতে সেচ দিয়ে কাদা তৈরি করে ধান লাগানোর মতো করেই মেহেরপুরের কৃষকরা পেঁয়াজের চাষ শুরু করেছে। কৃষকরা যুগ যুগ ধরে পেঁয়াজ চাষ করে আসছে শীত মৌসুমে শুকনো মাটিতে। মেহেরপুরের চাষিরা তাদের চাষের ধরণ বদলিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেতে আমন ধান আবাদের মতো কাদা তৈরি করে রোপণ করেছে পেঁয়াজের চারা। এ পদ্ধতিতে পেঁযাজের ফলন নিয়ে চিন্তিত হলেও হাল ছাড়েনি কৃষি বিভাগ ও উদ্যোমী চাষিরা। গত ৪ বছর ধরে জেলায় কাদা জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাদায় রোপণ করা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ফলনই নয়, নতুন পদ্ধতিতে চাষ করে বিঘাতে গড়ে ৫০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন অনেকেই। আগামীতে এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেঁয়াজ উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলায় এবার নতুন পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। বারি পেঁয়াজ-৫ সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছে চাষিরা। 
জেলার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহমেদ মাস্টার বলেন- মুজিবনগরে শীতকালে ব্যাপক পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে সেটি ভারতীয় বীজ থেকে উৎপন্ন ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজ। এ পেঁয়াজ বেশি দিন ঘরে রাখা যায় না। আবার সময় চাহিদা ও দাম না পাওয়ায় চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজের পরিবর্তে কয়েকজন কৃষক গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন ও ভােলা দামে বিক্রি করে ওই জমিতেই আবার শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ করছেন।  পেঁয়াজ আবাদের এ ধারায় দেশের পেঁয়াজ সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন অগ্রগামী এসব কৃষক। 
মেহেরপুর সদর উপজেলার শুভরাজপুর গ্রামের কৃষক ওহাব আলী জানান- তিনি ৫ বিঘা বারি পেঁয়াজ -৫ নতুন পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম। নভেম্বর থেকেই এ পেঁয়াজ উত্তোলন করা যাবে বলে তিনি জানান। ফলে চাষিরা সারা বছর পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে পেঁয়াজের ঘাটতি যেমন কমবে, তেমনি চাষিরাও সারা বছর ন্যায্য দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।


মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি গোলাম মোস্তফা জানান- ১৫বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি এবছর ২০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেয়াঁজের চাষ করেছেন। ৯৫ থেকে ১১০ দিনে এ পেঁয়াজ বিঘায় ১২০ থেকে ১৫০ মণ উৎপাদন হয়। গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ প্রতি বিঘায় চাষ করতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ জানান- জেলায় বিভিন্ন চাষিদের মাধ্যমে ২৫ হেক্টর জমিতে বারী পেঁয়াজ-৫ আবাদ করা হয়েছে। ভালো ফলন হবে এবং চাষিরা লাভবান হবে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- নতুন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে মেহেরপুর জেলা কৃষিতে যুগান্তকারী এক পরিবর্তনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। লাভ ও ফলনে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। আগামীতে এ জেলায় আরও বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ইঁদুরের হাত থেকে ৩৬০ কোটি টাকার ফসল রক্ষা

গত বছর প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭৬ টন ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালেও ইঁদুর নিধন অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ইঁদুর নিধন করে ৩০০ কোটি টাকার ফসল রক্ষা করা হয়।

[৩] সোমবার রাজধানীর খামারবাড়ির আ.কা.মু. গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০২১ ও ২০২০ সালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যটি উঠে আসে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি বছর মাসব্যাপি এ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ অভিযান। জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০২১ এর প্রতিপাদ্য- জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে, ইঁদুর মারি একসাথে।

[৪] ইঁদুরের ব্যাপক ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করার পাশাপাশি ইঁদুর নিধন কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহবান জানান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। সোমবার জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

[৫] তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই ইঁদুর কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের কয়েকগুন নষ্ট করে থাকে। এ ক্ষতির পরিমান বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। উদ্বুদ্ধরণের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ইঁদুর নিধন করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ইঁদুর দমন করা অত্যন্ত জরুরি।

[৬] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম, বিনার মহাপরিচালক মফিজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন।

[৭] স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ড. মো. আবু সাইদ মিঞা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা ১৭ ধান

স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুনাগুন সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে।

[৪] বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীণ সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০ টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়।

[৫] শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপন করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ঔষধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপন করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে মনে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ হচ্ছে।

[৬] ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুনাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমি একসাথে লাগিয়ে তার টা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভাল। আর আমার টা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপন করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বৃদ্ধ করব

[৭] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

[৮] আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মরিচ

জয়পুরহাট ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৪ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩৭০ মেট্রিক টন মরিচ।

[৪] এছাড়া জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

[৫] জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

[৬] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com