আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ধানের দরপতনের দায়

থমাস মুরের ‘ইউটোপিয়া’, সেই যে কল্পরাজ্য, যেখানে নাগরিকরা সুখী ও সন্তুষ্ট। সে রাজ্যের নাগরকিদের প্রত্যেকেই বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় কৃষি কাজে অংশ নেয়। সে রাজ্যে যে যে পেশাতেই থাকুক না কেন, ফসল বোনার সময় নয়তো ফসল কাটার সময় গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজে অংশ নেয়ার নিয়ম। আর যদি কেউ শুধু কৃষি কাজই করতে চায়, তবে সে সম্মানের সঙ্গেই কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে সারা জীবন।

গত কয়েকদিন ধরে আমার ইউটোপিয়ার কথাই মনে হচ্ছিলো। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় পাকা ধানে আগুন দেওয়া কৃষক আব্দুল মালেক সিকদারের ধান কেটে দিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সিরাজগঞ্জে শ্রমিক সংকট ও ধানের দরপতনে লোকসানের মুখে পড়া হতাশ চাষির ক্ষেতের ধান কেটে দিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় চাষির ধান কেটে ঘরে তোলার কাজে সহযোগিতা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ও হেলডস ওপেন স্কাউট গ্রুপ। এই খবরগুলো খুব আশার সঞ্চার করে। হতাশ ও অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়ানো এই মানুষগুলোই বাংলাদেশে নতুন এক ইউটোপিয়ার বারতা দিলো।

কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে উঠে আসা একটা দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের কৃষি বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকা জরুরী। আমাদের দেশে বইপত্রে একটা নির্দিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত কৃষিশিক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও সে শিক্ষাটা হাতে কলমে নয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী যেমন কৃষকের ব্যথাটা অনুভব করতে পারে না, ঠিক তেমনি কৃষকের ফসল ফলানোর অনন্য আনন্দটুকু থেকেও সে বঞ্চিত হয়। আমি প্রতিবছর ‘ফিরে চল মাটির টানে’ নামে একটা কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। আমার এ কাজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা দেখে অন্যরাও যেন তাদের সন্তানদের কৃষির সঙ্গে সংযোগ ঘটায়। এই ছেলে-মেয়েরা হয়তো বড় হয়ে কেউ কৃষক হবে না, কিন্তু তাদের চিন্তা-ভাবনায় যেন কৃষিটা থাকে। যে ছেলেটা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলো, সে যেন কৃষকের কথা চিন্তা করে একটা সফটওয়্যার ডেভেলপ করে। যে মেয়েটা গবেষক হবে সেও যেন কৃষিকে মাথায় রাখে। যে যেখানেই যাই করুক, সবার ভেতরই যেন কৃষির প্রতি ভালোবাসা থাকে।

যাইহোক, সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকের ধানের বাজারদর নিয়ে মিডিয়া বাজার খুব গরম, বিশেষ করে স্যোশাল মিডিয়া। আমি মনে করি বর্তমানে ধানের দর না থাকার পেছনে আমাদেরও দায় আছে, দায় আছে সবরকমের মিডিয়ার। ২০১৭ সালে আকস্মিক বন্যায় হাওড় অঞ্চলের ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনাটি মিডিয়াতে এমনভাবে ফোকাস পায় যেন দেশে খাদ্য ঘাটতি অবশ্যম্ভাবী। সরকার থেকে বলা হয়েছিলো, এই ক্ষতির ফলে ঘাটতি হবে ১০ লাখ টন চালের। সে সময় সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে চাল ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, চাতাল মালিক লাভের প্রত্যাশায় প্রচুর চাল মজুদ করে। সরকারও আপতকালীন নিরাপত্তার জন্য বাইরে থেকে চাল আমদানি করে। চাল আমদানির শুল্ক ২৮% থেকে ২%- এ নামিয়ে আনা হয়। সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রচুর চাল আমদানি হয়। ২০১৭-২০১৮ সালে আমদানি হয় ৬০ লাখ টন চাল। কিন্তু সে বছর হাওড়ে ও উত্তরাঞ্চলে বন্যায় সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। হাওড়ে বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও সে বছর সারাদেশে বোরোর ফলন ভালো ছিলো। প্রকৃত অর্থে খুব বেশি ঘাটতি হয়নি। কিন্তু আমদানি থামেনি। সরকার আমদানি শুল্ক পুনরায় আরোপ করার আগেই প্রচুর এলসি খোলা হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা লাভের প্রত্যাশায় প্রচুর চাল নিয়ে আসে। তারপর আমনেও বাম্পার ফলন। আর ২০১৮ সালেও ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

যে লাভের আশায় চালকল মালিক, আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা খাদ্য মজুদ করেছিলো, সেই আশায় গুঁড়েবালি। তাদের গুদামে এখনো পুরনো চাল রয়ে গেছে। ফলে তারাও এখন আর চাল কিনছে না। বেশ কয়েকজন চালকল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বোরোর এই মৌসুমে সারাদেশে চালু রয়েছে মাত্র ১ হাজার চালকল। অথচ বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার সময় দেশের ১৬ হাজার চালকলের প্রায় সবকটিই চালু থাকতো। চালকল মালিকরা লোকসান গুনেছেন। তারা টাকা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট। ব্যাংক ধান কিনতে ব্যবসায়ীদের টাকা দিচ্ছে না।

আরেকটি বিষয় হলো, ভারত প্রতি তিন বছর পর পর তাদের খাদ্যগুদামগুলোতে থাকা খাদ্যশস্য ঝেড়ে ফেলে নতুন করে মজুদ করে। সে সময় কমমূল্যে প্রচুর চাল তারা বিক্রি করে দেয়। চালের মান তেমন ভালো হয় না। তারা সেগুলো সাধারণত গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু আমাদের দেশের চাল ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ঐ চাল কম মূল্যে কিনে এনে পুনরায় মিলিং করে বাজার মূল্যে বিক্রি করে। এ সমস্ত অনেক কারণেই এ মৌসুমে ধানের দরপতন।

চালকল মালিকরা এ মৌসুমে ধান কিনছেন না- এটিই কৃষকের ধানের দর না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সরকারি গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিকটন। বর্তমানে খাদ্য মজুদ আছে প্রায় ১৩ লাখ টন। সরকার এ মৌসুমে ১২ লাখ টন চাল কেনার কথা বলেছে, যা মোট উৎপাদনের ৫ শতাংশেরও কম। ফলে উদ্বৃত্ত চাল নিয়ে ধানের দরের এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন ব্যাপার।

আমি অনেক দিন থেকে বলে আসছি সরকারের খাদ্যমজুদ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেটা কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টন হওয়া উচিত। আমাদের দেশের ৩ কোটি টন দানাদার খাদ্যের বাজারে সরকারি মজুদ ক্ষমতা মাত্র ২০ লক্ষ টন (তাও কাগজে কলমে)। এতো কম মজুদ ক্ষমতা নিয়ে সরকার খোলাবাজারিদের সঙ্গে পেরে উঠবে না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমি মনে করি ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকারের ধান কেনার পরিমাণ বাড়ানো উচিত।

কৃষকের অভিযোগ, সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনে না। কৃষকের কাছ থেকে সরকার সরাসরি ধান না কেনারও কারণ আছে। সরকারি গুদামে ধান দিতে হলে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে হয়। আর না হলে গুদামে ধান গাজিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের বেশি হলে কৃষকের সে ধান সরকার নেয় না। এদিকে কৃষকেরা ময়েশ্চার কী সেটাই জানে না। সরকারি কর্মকর্তারাও তাই নিশ্চিন্ত হতে চালকলমালিকদের কাছ থেকেই ধান কেনে।

এসব ছাড়াও ধানের বাজারে অন্য কোন সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা সরকারের তা তলিয়ে দেখা উচিত। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো উচিত সংশ্লিষ্টদের। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম না পাওয়ার কষ্টটুকু কৃষকের একান্ত নিজের। অথচ কৃষি ও কৃষকের সমস্যাটা যদি আমরা সকলেই অনুভব করতে পারতাম তাহলে এই সংকটই অতিক্রম করা কঠিন হতো না।

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে হয়ে উঠুন লাভবান

খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ছেলে থেকে বুড়ো সবার প্রিয় এই সবজি পিঠে-পুলি বানানোর জন্য আদর্শ এক সবজি। সিদ্ধ করেও যেমন খাওয়া যায়, তেমনই পুড়িয়েও এই সবজি খাওয়া যায়। বাজারে এই সবজি সহজলভ্যও বটে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলু চাষ করে বর্তমানে অনেক চাষি লাভের মুখ দেখছেন।

মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্যসম্মত দিক (Health Benefit)

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেতকণিকার পরিমান বাড়ে। এছাড়াও এই সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ থাকায়, নার্ভ ভালো রাখতে এবং ধমনী ও হার্ট ভালো রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর আধার। আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল এই সবজি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকায়, এটি খেলে মানব শরীরের হৃদস্পন্দন ঠিক থাকে সাথে সাথে কিডনির রোগও দূর হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কেমন হবে আগামীর কৃষি:

বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি অধিকাংশ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নত ফলনশীল জাত। এর ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন।

বর্তমানে যেভাবে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে ইনশাল্লাহ।

যদিও আমাদের কৃষি আমার মতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কিন্তু কথা হলো আগামী দিনে কেমন হবে আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষি উৎপাদন কি দিন দিন বাড়তেই থাকবে? বিজ্ঞান সম্মত উত্তর হবে বাড়তেই থাকবে না কিন্তু আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কেননা আমাদের ফসলের জাত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা উপযুক্ত পরিবেশে আরো বেশি। প্রশ্ন এখানেই যে, আমরা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কি ধরে রাখতে পারব? প্রতিবছর কৃষি জমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে বাড়ি-ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মানের জন্য। নিবিড় চাষাবাদের ফলে আমাদের মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমিতে লবনাক্ততা বাড়ছে দিন দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর, ফলে উৎপাদন দিন দিন কমছে। এসব সমস্যার বাহিরে যে সমস্যা আমাদের জন্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকট হয়ে দাড়াবে তা হলো আর্সেনিক বিষাক্ততা।

জমিতে ফসল ফলানোর জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকা জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ জমিতে এর পরিমাণ মাত্র শতকরা ২ ভাগ এর কাছাকাছি। এছাড়াও আমাদের মাটিতে গাছের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। ৯০ এর দশকে আমাদের জমিতে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের জিংক, বোরন সার জমিতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে এবং আশংকা করা হচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মাটি থেকে গ্রহণকৃত ১৪টি খাদ্য উৎপাদনের অধিকাংশ সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে আমাদের জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

বাংলাদেশের ২০ ভাগ অঞ্চল উপকূলীয় এবং দেশের চাষযোগ্য জমির ৩০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, আমাদের অধিকাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপকূলীয় অধিকাংশ অঞ্চলে শুধুমাত্র কিছু স্থানীয় লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত বছরে একবার চাষ করা হয়। ফলে আশানুরুপ ফলনও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কিছু ছাড়িয়ে আর্সেনিক বিষাক্ততা আমাদের কৃষির জন্য। স¤প্রতি এক গবেষনা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ। কৃষিবিদদের জন্য চিন্তার কারণ হলো যে, আর্সেনিক দূষিত পানি দ্বারা যে সকল ফসলে সেচ প্রদান করা হয় সেসব ফসলের খাদ্যপোযোগী অংশে থাকে আর্সেনিকের উপস্থিতি।

অতি সমপ্রতি আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয়ে যে, গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আমার বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের কৃষি গবেষকরা এসব সমস্যা সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে কৃষিকে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ চাষীর উজ্বল সম্ভবনা

বাংলাদেশর গ্রীস্মকালীন টমেটো সবজির pionear হিসাবে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিচিত। এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ হয়। গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকেরা আগ্রহী কিন্তু পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা, গ্রীস্মকালীন টমেটোর রোগমুক্ত বীজের অভাব উন্নত জাতের অভাব পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা পরিবহন ব্যববস্থা এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা গ্রীস্মকালীন

টমেটো  বাজারজাত করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যদি কৃষকদের গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত এ সকল সমস্যা গুলি সমাধান করা যায়। তাহলে বাঘারপাড়া’র টমেটো দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রীস্মকালীন টমেটো  উৎপাদন কারী দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে এবং কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থ্যার উন্নয়ন হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মিষ্টি মরিচ চাষ: এক সম্ভাবনার নাম

মিষ্টি মরিচ আমাদের দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানিং এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় শহরের আশেপাশে সীমিত পরিসরে কৃষক ভাইয়েরা এর চাষ করে থাকের, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া মিষ্টি মরিচের বিদেশে রপ্তানীর সম্ভাবনাও প্রচুর। কারণ সারা বিশ্বে টম্যাটোর পরেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ।

মিষ্টি মরিচের পুষ্টিমান ও ব্যবহার:
পুষ্টিমানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

মিষ্টি মরিচ লাগানোর নিয়ম কানুন:
ক্যাপসিয়াম বা মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না। মিষ্টি মরিচের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজ থেকে প্রথমে চরা তৈরি করে নিতে হয়। এ জন্য বীজগুলোকে ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেমি. দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজ বোনার ৭-১০ দিন পর চারা ৩-৪ পাতা হলে মাঝারি আকারের পলিথিন ব্যাগে চারা স্থানান্তর করতে হবে।

এরপর মূল জমি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেড চওড়া ২.৫ ফুট রাখতে হয়। দুই বেডের মাঝখানে নালা রাখা দরকার। প্রতি শতক জমির জন্য গোবর ৪০ কেজি,  ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমওপি ১ কেজি, দস্তা ২০ গ্রাম এবং জিপসাম ৪৫০ গ্রাম  প্রয়োগ করতে হয়। এর মধ্যে অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরির সময়, বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি, দস্তা, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমওপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমওপি পরবর্তীতে দুইভাগ করে চারা রোপণের ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত ৩০ দিন বয়সের চারা তৈরি করা বেডে ১.৫ ফুট দূরে দূরে লাইনে রোপণ করা হয়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।

যেহেতু, ক্যাপসিকাম খরা ও জলাবদ্ধতা কোনটাই সহ্য করতে পারে না, তাই প্রয়োজন অনুসারে জমিতে সেচ দিতে হবে। কোন গাছে ফল ধরা শুরু হলে খুঁটি দিতে হবে যাতে গাছ ফলের বারে হেলে না পড়ে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

ফসল তোলা:
মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণেল পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জিরা চাষ কৌশল

জিরা একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় মসলা এবং প্রতিটি রান্নাঘরে খুব সহজে স্থান করে নিয়েছে জিরা। নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্যে প্রয়োজন বিধায়  বাংলাদেশে শীতকালে জিরা চাষ সম্ভব। সঠিক পরিচর্যায়  সহজেই হেক্টরপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি জিরার ফলন পাওয়া সম্ভব।সুনিষ্কাশিত উর্বর,গভীর এবং বেলে দোঁআশ মাটি জিরা চাষের জন্যে উত্তম।

বীজের হার ও বপন: প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ কেজি বীজ লাগে ছিটিয়ে বীজ বপন করতে । তবে সারিতে মাদা করে লাগালে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি বীজ লাগে। সারিতে বপন করলে দুরত্ব হবে ২৫× ১৫ সেমিঃ। জিরা বোনার আগে ২/৩ দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং বোনার আগে প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম হারে ভিটাভেক্স মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। অক্টোবর,নভেম্বর মাস বীজ বোনার উত্তম সময়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৫-৮ টি লাঙ্গল এবং মই দিয়ে জমি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। হেক্টর প্রতি ৫ টন জৈব সার, এবং শেষ চাষের আগে ২০ কেজি ইউরিয়া, ৮০-১০০  কেজি টিএসপি ও ৭০-৭৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর বীজ বোনার ৩০ দিন পর একবার এবং ৬০ দিন পর আরেকবার ২০ কেজি করে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রত্যেকবার সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিতে হবে।
পরিচর্যা: বীজ বোনার ২৫-৩০ দিন পর আগাছা এবং অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে এবং চারার গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ জো না থাকলে বীজ বোনার পরে হালকা সেচ দিতে হবে। ফুল আসার সময়ে এবং জিরা পুষ্ট হওয়ার সময়ে যেন মাটি শুকনা না থাকে, তা লক্ষ রাখতে হবে।


ফসল তোলা এবং সময়: ৯০-১১০ দিনের মধ্যে জিরা তোলা যায়। ফসল পেকে গেলে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে,খামারে এনে তারপর রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ জিরা আলাদা করতে হয়। ভালভাবে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ কেজি ফলন পাওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com