আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ধানের আগুন প্রাণে লেগেছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটা খবর হচ্ছে ‘কৃষক ধানের দর না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দিয়েছে’। আমি ব্যক্তিগতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এতো অ্যাক্টিভ নই। তবে আমার ফেইসবুকে একটা ভ্যারিফাইড পেইজ আছে, সেখানে ও ইউটিউবে ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর টিভি কন্টেন্টগুলো আপলোড করি দর্শকদের সুবিধার্থে। গত কয়েকদিন ধরেই ফেইসবুকের মেসেঞ্জারে, পোস্টের নিচে কমেন্টে অনেকেই বলছিলেন কৃষক ধানের দর পাচ্ছেন না। কিন্তু ধান ক্ষেতে আগুন দেয়ার খবরটি মানুষকে ব্যথিত করেছে বেশি। চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মুসলিম উদ্দিন যখন খবরটি আমাকে জানায় তখন আমিও বেশ ব্যথিত হই। কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার এক দাগের ৫৬ শতাংশ জমির ধান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। সে বলছে, বাজারে ১ মণ ধান বিক্রি করলে পায় ৫০০ টাকা। এ দিকে ধান কাটানোতে শ্রমিককে দিতে হচ্ছে এক হাজার টাকা। ধান কেটে এনে শ্রমিকের টাকাই দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর আর খরচতো রয়েই গেছে। লোকসানের কথা ভেবে রাগে, ক্ষোভে, অভিমানে মালেক সিকদার আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন ফসলের ক্ষেত। কৃষকের এই অভিমান, ফলানো ফসল নষ্ট করে প্রতিবাদ করা নতুন কিছু নয়। আমরা এর আগেও দেখেছি সিলেটে টমেটোর দর না পেয়ে বস্তা বস্তা টমেটো রাস্তায় ফেলে নষ্ট করেছে কৃষক। আরও আগে ময়মনসিংহে বেগুনের দর না পেয়ে কৃষক মণকে মণ বেগুন নষ্ট করে দিয়েছে। কৃষকের এই অভিমানে, এই প্রতিবাদে আমরা ব্যথিত হই বটে কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে আমরা আসলে কতটা তৎপর?

গত মার্চ এপ্রিলে দেশের ৫টি জেলায় আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ প্রাক বাজেট আলোচনায় বারবার ধানের মূল্য নিয়ে কৃষকের হতাশার বিষয়টি উঠে এসেছে। সে সময় আমন মৌসুমের ধান বাজারে ছিলো। কৃষক আশঙ্কা করছিলো, বুরো মৌসুমে এমন হলে তারা মারা পড়বে। হলোও তাই। মনে পড়ছে নাটোরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সামনে এক কৃষক বলছিলেন, ‘কী আর বলবো! এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে, ঘরে ৭০০ থেকে ৮০০ মণ ধান। ধান রাখার জায়গা নেই। কিন্তু এই ধান দিয়ে আমি কী করবো? ধানের তো দাম নাই। ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ ধান বিক্রি করলে তো খরচের অর্ধেকও আসে না।’

আমি গত ৮/১০ দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানের ধানের বাজার দর সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। ফোনে কথা বলেছি বিভিন্ন কৃষকের সঙ্গে। তাদের অনেকের দাবি গত দশ বছরে ধানের এতো কম দাম তারা দেখেনি। দিনাজপুরের বিরুল উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান জানিয়েছেন, তার এলাকায় ব্রি ২৮ ধান প্রতি বস্তা (কাঁচা ধান ৭৬ কেজিতে ১ বস্তা) বিক্রি করতে হচ্ছে ১০৫০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অথচ প্রতি বস্তা ধানের উৎপাদন খরচ ১২০০-১৩০০টাকা।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা গ্রামের কৃষক আবু হেলাল খান জানিয়েছেন, ধানের দর ৫০০-৫৫০ টাকা। এই দরে ধান বিক্রি করলে খরচই উঠবে না। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় না করায় ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ জেলার বিষম্বরপুরের আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ৮ বিঘা জমিতে ব্রি ২৮ ও ব্রি ২৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন পেয়েছেন ১০-১২ মণ। প্রতি বিঘায় ধান ফলনে খরচ হয়েছে ৫০০০টাকা। অথচ ধান বিক্রি করে পাচ্ছেন ৫৫০০ টাকা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই দরে ধান বিক্রি করে তিনি কীভাবে সংসার চালাবেন?

নেত্রকোণার কৃষক বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, তার এলাকায় কাঠা প্রতি জমিতে ৫ মণ ধান হয়েছে। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকায়। অথচ এক কাঠা জমিতে ধানের আবাদ, কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা খরচ হয়।

বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালি, রাজশাহী, বগুড়া সব এলাকার কৃষকের এক কথা ধানের দর নেই।
আমি কৃষকের কাছে জানতে চেয়েছি, ‘এই যে বলেন ধানের দর নেই, তাহলে ধান চাষ কেন করেন? অন্য কিছু চাষ করেন।’ কিন্তু ধান চাষ এ দেশের কৃষকের রক্তের ভেতর। তারা জানান, ‘ধান না করে করবো কী? অন্য কোন ফসল করার সঙ্গতি আমাদের নেই।’ ধানের একটা কৃষকবান্ধব বাজার তৈরির বিকল্প নেই। সরকার বলছে ১০৪০ টাকা মণ ধরে তারা ধান কিনবে। তবে সরকারের ধান কেনার প্রস্তুতি সময়টা একটু দীর্ঘ। এর ভেতর এক শ্রেণির সিন্ডিকেটভুক্ত ফড়িয়া সুবিধা নেয়ার জন্য নানা রকম গুজব ছড়িয়ে কম দামে ধান কিনে সংরক্ষণ করছে।

আবার আমরা যদি খাদ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান দেখি, তাহলে দেখবো, চলতি আমন ও গত বোরো মৌসুমে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যথাক্রমে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৬ টন ও ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪২৬ টন চাল ক্রয় করেছে। যা মৌসুমভিত্তিক মোট উৎপাদনের ৫ দশমিক ৭ ও ৭ দশমিক ১ শতাংশ। সরকার আমন ও বুরোর ধান-চাল ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ করলেও আউশের ক্রয়মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারণ হয় না। ফলে তিন মৌসুমে উৎপাদিত ধান-চালের আনুমানিক ৯৫ শতাংশই থেকে যাচ্ছে সরকারের ক্রয় কার্যক্রমের বাইরে। আর তা থেকে যাচ্ছে খোলাবাজারে। খোলাবাজারের সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোন এক কারণে সরকারও পেরে উঠছে না। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ম্ভর- এই কথাটা ভাবতে ভালো লাগে, শুনেও গর্ব হয়। এ কথা সত্যি সরকারের বহুমূখি প্রচেষ্টায় কৃষির উত্তরণ হয়েছে। সরকার কৃষিতে নানা রকম ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিয়ে কৃষির অগ্রযাত্রাকে ত্বরাণি¦ত করেছে। কৃষি সাফল্যে সরকারের কৃষি কৌশলের যেমন অবদান আছে, তেমনই অবদান রেখেছে গবেষকদের গবেষণাও। কিন্তু এসব কিছুর পর কৃষক যদি তার উৎপাদিত পণ্যের দাম না পায়, লাভের গুড় নিয়ে যায় মধ্যস্বত্বভোগীরা, তাহলে সব পণ্ড হবে। কৃষক আর দাঁড়াতে পারবে না। সরকারই বা আর কত ভর্তুকি দেবে! আবার কৃষকই আর কত লস দিয়ে ধানের আবাদ করবে!

এ সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন দুটি কারণে। প্রথমত খাদ্যের জন্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য। দ্বিতীয়ত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন।

সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে ধানসহ সকল বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যাতে মধ্যসত্বভোগীদের হাতে সাধারণ কৃষক ও জনসাধারণ জিম্মি হয়ে না পড়ে। সরকারের ধান প্রক্রিয়াটি আরও আগে থেকে শুরু হলে ধান উঠার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক যেন তা বিক্রি করতে পারে সে বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কারণ কৃষক সাধারণত সার, তেল, বীজ, সেচের জন্য দোকান থেকে বাকি নেয় কিংবা ঋণ নিয়ে এই ব্যয় বহন করে। তাই ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ঋণ পরিশোধের জন্য অর্ধেকের বেশি ধান বিক্রি করে দিতে হয়। এই সময়টায় তার পক্ষে ধান সংরক্ষণ করে রাখার মতো সুবিধা থাকে না। অন্যদিকে মহাজন বা দোকানের ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে পরের ফসলের প্রস্তুতিও সে নিতে পারবে না।

কৃষি শ্রমিকের সমস্যা নিরসনে যান্ত্রিক কৃষির বিকল্প নেই। মাঝারি কৃষক থেকে ক্ষুদ্র কৃষক সকলেই যেন যান্ত্রিক কৃষির সুফল পেতে পারে সরকারকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়েছে এবং বাড়ছে। বেড়েছে আমাদের ক্রয়ক্ষমতাও। কৃষি ও কৃষককে টিকিয়ে রাখতে হলে আর সবপণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি পণ্যের দাম বাড়াতেই হবে।
চালের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা শুধু ভাত, চিড়া, মুড়িতেই সীমাবদ্ধ। আর উৎসব পার্বণে পিঠাপুলি। কিন্তু চীনে দেখেছি চাল থেকে নানা খাদ্য দ্রব্য তৈরি করছে তারা। চালের তৈরি কেক, বিস্কিট দেদারছে বিক্রি করছে সেখানে। প্রতিবছরই আমরা বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করি। অথচ বিকল্প হিসাবে চাল ব্যবহার করলে গম আমদানির প্রয়োজন থাকতো না।

মনে রাখার প্রয়োজন, অনেক কৃষকই ধান আবাদ থেকে ইতোমধ্যে সরে গেছে। এই সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে, তবে ধান আবাদের জমির পরিমাণও কমবে। সেই সঙ্গে আমাদের মূল খাদ্যের সংকট সৃষ্টি হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভৌগোলিকভাবেই এই অঞ্চল ধান চাষের জন্য উপযোগী। আর ঐতিহ্যগতভাবে এ দেশের কৃষক ধান আবাদের সঙ্গে যুক্ত। ধানকে কেন্দ্রে রেখেই কৃষিকে নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ভাবতে হবে আমাদের কৃষকের স্বার্থের কথা। আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। কৃষিই আমাদের পরিচয়।

ফসল

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা ১৭ ধান

স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুনাগুন সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে।

[৪] বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীণ সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০ টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়।

[৫] শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপন করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ঔষধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপন করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে মনে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ হচ্ছে।

[৬] ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুনাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমি একসাথে লাগিয়ে তার টা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভাল। আর আমার টা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপন করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বৃদ্ধ করব

[৭] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

[৮] আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মরিচ

জয়পুরহাট ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৪ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩৭০ মেট্রিক টন মরিচ।

[৪] এছাড়া জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

[৫] জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

[৬] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ

লেখক

জেলায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে  গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।      
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বাসস’কে জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে  ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৪ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩৭০ মেট্রিক টন মরিচ। এ ছাড়াও জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা  রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।     


জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও  ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।  যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবেনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা শুরু

লেখক

সরকারের কৃষি ক্ষেত্রে নানামুখি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে কার্তিকের মঙ্গা আর স্পর্শ করতে পারেনা। খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরাও খুশি। এতে কৃষকের পাশাপাশি দিনমজুররাও ব্যস্ত হয়ে উঠছেন ধান কাটা মাড়াই কাজে।     
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি ২০২১-২২  রোপা আমন চাষ মৌসুমে ৬৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও চাষ হয়েছে ৬৯ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে আগাম জাতের রোপা আমন ধান রয়েছে ৪ হাজার ৮শ হেক্টর। আগাম জাত গুলোর মধ্যে রয়েছে  ব্রী ধান-৭৫, বিনা ধান ১৭, আগাম হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে ধানি গোল্ড ও এরাইজ-৭০০৬ জাত। এ গুলোর গড় উৎপাদন হচ্ছে হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন।  জেলার এবার মোট  উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ২ লাখ  মেট্রিক টন চাল। এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকায়  রোপা আমন চাষে তেমন কোন সমস্যা হয়নি।  চলতি জুলাই দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে আমনের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হলেও আগস্টের শেষ সপ্তাহে রোপণ কার্যক্রম শেষ হয়  বলে  জানায় কৃষি বিভাগ। 


কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। জেলায় ২০২০-২০২১ মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে মতে জেলায় এবার বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ  মেট্রিক টন।  বোরো ধান কাটা মাড়াই শেষ করেই কৃষকরা রোপা আমন চাষে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও অন্যান্য জাতের ধানও পাক ধরেছে।  অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও আগামী নভেম্বর মাস থেকে সব জাতের ধান কাটা মাড়াই পুরো দমে শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর।     

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নোয়াখালীর সূবর্ণচরে পানির উপরে সমন্বিত পদ্ধতিতে শসা চাষে বিপ্লব

লেখক

জেলার উপকূলীয় অঞ্চল সূবর্ণচরে পানির উপরে সমন্বিত পদ্ধতিতে শসা চাষে কৃষকদের বিপ্লব। অল্প খরচে দাম বেশি পাওয়ায় শসা চাষ করে অনেকেই এখন নিজদের ভাগ্য বদল করছেন। কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতার হাসি। উপজেলার দেড় হাজার কৃষি পরিবার এখন বছরব্যাপী চাষ সম্ভব এই সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সূবর্ণচরের চরক্লার্ক ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। সমন্বিত পদ্ধতিতে পানির ওপর মাচায় সবুজের সমারোহে উপরে উঁকি দিচ্ছে হলুদ ফুল আর নিচে থরে-থরে ঝুলছে শসা। আর মাচার নিচে করা হয়েছে মাছের চাষ। পাশাপাশি বরবটি, কুমড়া, শিম সহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করা হচ্ছে।
এখানকার শসা বিষাক্ত সার ও কীটনাশক মুক্ত হওয়ায় চাহিদাও রয়েছে বেশ। বীজ রোপণের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। বিঘা প্রতি খরচের চেয়ে লাভ দ্বিগুণ হওয়ায় শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।


কৃষকরা জানান, আগে এসব জমিতে তারা ধান চাষ করতেন। লবণাক্ততা ও বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ করে লোকসানের মুখে পড়তে হতো। উপকূলীয় মেঘনা নদীর পাড়ের এলাকা হওয়ায় জোয়ারের পানি এসে ফসল নষ্ট করে দিত। তাই স্থানীয় কৃষকরা সবাই মিলে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের পরামর্শে সমন্বিত পদ্ধতিতে মাচায় শসা চাষের উদ্যোগ নেন। শসা চাষ শুরুর পর চাষীরা খুব লাভবান হতে লাগল। এক একর জায়গায় শসা চাষ করে প্রায় দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হয় তাদের। এছাড়াও মাচার নিচে মাছ চাষ করেন। সব মিলে বছরে এক একর জায়গা থেকে কৃষকদের তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় হয়।
কৃষক মোজাম্মেল জানান, সমন্বিত পদ্ধতিতে শসা চাষাবাদ করে আমরা বর্তমানে খুব ভালো আছি, পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে আছি। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। যদি সড়ক ভালো হতো তাহলে উৎপাদিত ফসলের আরো ভালো দাম পাওয়া যেত।


সূবর্ণচর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, সূবর্ণচরে ২০২০-২১ অর্থবছরে এক হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের শসার চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এবার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে। সমগ্র উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের ধাপে-ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এ বছর নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলাসহ পুরো জেলায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। সূবর্ণচরের মাটি ও জমি শসা চাষে উত্তম হওয়ায় প্রতি বছরই উপজেলায় চাষ বাড়ছে। সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সাারা বছরই শসা চাষ সম্ভব। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও চাষিদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে সূবর্ণচরের শসা চাষের এই বিপ্লব পুরো জেলার কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com