আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

দেড় বছর পর মসজিদে হারামে নারীদের কোরআন পাঠদান শুরু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসছে। পুনরায় চালু হচ্ছে নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায়। সেই ধারাবাহিকতায় দেড় বছর পর এবার পবিত্র মসজিদুল হারামের নারী মুসল্লিদের পবিত্র কোরআনের পাঠ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ফের কোরআন হিফজের এ অধিবেশন শুরু হয়।

মসজিদুল হারামের পরিচালন পর্ষদের জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিভাগের উপসহকারী ড.ফাদিয়া বিনতে মুস্তফা আল আশরাফ বলেন, ‌‘সংশ্লিষ্টি অভিজ্ঞ শিক্ষিকারা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের পাঠদান করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজ ও পাঠ বিশুদ্ধ করাবেন।’

কোরআন পাঠদান কার্যক্রমের প্রধান অধ্যাপক মারয়াম জুবায়ের বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজের কার্যক্রম চলবে। এরপর ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মুসল্লিদের মধ্যে কোরআন পাঠদান চলবে।’

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদে হারামে পবিত্র কোরআনের কপি মুসল্লিদের পাঠের জন্য আগের মতো সরবরাহ করা হয়। নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে আনা হয়। তা ছাড়া মসজিদুল হারামের পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অবশ্য মসজিদের সব কার্যক্রমে স্বাস্থবিধি মেনে কেবল টিকা নেওয়া মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

গত আগস্ট মাস থেকে প্রায় দেড় বছর পর মসজিদে হারামে আলোচনা সভা পুরনায় শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে সৌদির প্রায় ৩৭ মিলিয়ন লোককে টিকা দিয়ে ধীরে ধীরে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়।

ইসলাম

আগের রূপে ফিরল পবিত্র মসজিদুল হারাম

সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম তুলে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মসজিদটিতে স্বাভাবিক সময়ের মতো মুসল্লিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর মসজিদটিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মেঝেতে যে চিহ্ন আঁকা হয়েছিল তা তুলে নিয়েছেন কর্মীরা।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

পবিত্র মসজিদুল হারামের মেঝেতে আঁকা সামাজিক দূরত্ববিধির চিহ্ন তুলে ফেলছেন কর্মীরা। গতকাল রোববার পবিত্র মক্কায়।
পবিত্র মসজিদুল হারামের মেঝেতে আঁকা সামাজিক দূরত্ববিধির চিহ্ন তুলে ফেলছেন কর্মীরা। গতকাল রোববার পবিত্র মক্কায়। 

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং মসজিদে আগের মতো মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রোববার সকালের ছবি ও ভিডিওতে মুসল্লিদের একসঙ্গে সারি বেঁধে কাঁধে–কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। গত বছর করোনা মহামারি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এ দৃশ্য মসজিদটিতে প্রথমবারের মতো দেখা গেল। দীর্ঘদিন পর কাবা শরীফ প্রাঙ্গণে নামাজ শুরুর আগে মসজিদুল হারামের ইমামকে বলতে শোনা যায়, ‘দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন, খালি স্থান পূরণ করুন।’বিজ্ঞাপন

পবিত্র মসজিদুল হারামে সামাজিক দূরত্ববিধি তুলে নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ বলেছে, মসজিদে প্রবেশের জন্য মুসল্লিদের অবশ্যই করোনার টিকার পুরো ডোজ নিতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে।

সৌদি আরব গত আগস্টে ঘোষণা দেয়, যেসব বিদেশি টিকা নিয়েছেন, তাঁরা যদি পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদিতে আসেন, তাহলে তারা তাঁদের গ্রহণ করবে।

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ যেকোনো সময় পালন করা যায়। তবে প্রতিবছর পবিত্র হজ পালন করতে হয় বছরে মাত্র একবার। হজের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে যান লাখ লাখ মানুষ। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছর বিদেশিদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেবার মাত্র ৬০ হাজার সৌদি নাগরিককে হজ পালনের অনুমতি দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

পাকা কলা দীর্ঘদিন ভালো রাখবেন যেভাবে

পাকা কলা কিনে আনার ২ দিনের মধ্যেই তা অতিরিক্ত পাকতে শুরু করে। এক্ষেত্রে কলার খোসায় কালো কালো দাগ পড়তে শুরু হয়। অনেকেই আবার অতিরিক্ত পাকা কলা ফেলে দেন।

আসলে কলা অতিরিক্ত পেকে গেলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে জানলে অবাক হবেন, খুব সহজ ৫ উপায়েই আপনি পাকা কলা দীর্ঘদিন ভালো রাখতে পারবেন। জেনে নিন পাকা কলা সংরক্ষণের সহজ উপায়-

>> ঘরের তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে রাখুন পাকা কলা। সাধারণত ৫৪ ডিগ্রি ফারেন্টহাইট বা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো থাকে পাকা কলা। কলা ভালো রাখতে তা সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন।

>> অন্যান্য ফলের সঙ্গে পাকা কলা রাখবেন না। ইথাইলিন নিঃসরণ করে এমন ফল যেমন-অ্যাভাকাডো, পিচ, টমেটো, আপেল ও ডুমুর ইত্যাদি থেকে কলা দূরে রাখা প্রয়োজন। এসব ফল থেকে নিঃসৃত গ্যাস থেকে কলা দ্রুত পাকে।

>> ইথিলিন নামক গ্যাসের কারণেই কলা দ্রুত পাকে। তাই কলার বোটা প্লাস্টিক বা খবরের কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে পারেন।

>> কলা বেশি পাকতে শুরু করলে তা রেফ্রিজারেটরে রাখতে পারেন। তাপমাত্রা যত ঠাণ্ডা হবে কলা পাকার গতি ততই ধীর হবে। কলার ওপরের রংয়ের সামান্য পরিবর্তন হলেও ভেতরের স্বাদ ও ঘ্রাণ অপরিবর্তিত থাকবে ফ্রিজে রাখলে।

>> খোসা ছাড়ানো কলার গায়ে যেন কালো দাগ না পড়ে এজন্য এর গায়ে টকজাতীয় ফলের রস ছড়িয়ে দিন। এতে ফলের রংয়ের পরিবর্তন হয় না।

>> পাকা কলা চাইলে রেফ্রিজারেইটরে বরফ করেও রাখতে পারেন। এজন্য কলার খোসা ছড়িয়ে টুকরো করে বরফের ট্রেতে রেফ্রিজারেটরে রাখুন। বরফ করা কলা প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

উচ্চারণসহ সুরা ‘আন-নাসর’-এর আমল ও শিক্ষা

তিন আয়াতে সমৃদ্ধ মহা সুসংবাদ ইসলামের আসন্ন বিজয়ের ঘোষণা ‘সুরা আন-নাসর’। এ সুরায় শুধু ইসলামের বিজয়ের সুসংবাদই আসেনি বরং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও ক্ষমা প্রার্থনার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোরআনুল কারিমের ১১০ নং সুরায় রয়েছে মানুষের জীবনের প্রতিটি পদে পদে খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও আমল।

অর্থ ও উচ্চারণসহ সুরা আন-নাসর
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰهِ وَ الۡفَتۡحُ
ইজা ঝাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ্
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।

وَ رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اَفۡوَاجًا
ওয়া রাআইতান্নাসা ইয়াদখুলুনা ফি দ্বীনিল্লাহি আফওয়াঝা
আর আপনি দেখবেন মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে (জীবন ব্যবস্থা ইসলামে) প্রবেশ করছে।

فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ اسۡتَغۡفِرۡهُ اِنَّهٗ کَانَ تَوَّابًا
ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু ইন্নাহু কানা তাওয়্যাবা
সুতরাং আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা পবিত্রতা পাঠ করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী। (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণে সুরাটি শিখে নেওয়া জরুরি )

সুরার মূল বক্তব্য
যে কোনো বিজয়ের জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিকল্প নেই। সে কারণেই মানুষকে অনন্ত কালের জন্য এ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যে কোনো বিজয় বা সফলতার জন্য আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। তবে তিনি দান করবেন বিজয় বা সফলতা। আর সাহায্য চাইতে হবে, আল্লাহ প্রশংসা, পবিত্রতা ঘোষণা এবং তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে।

সুরার বৈশিষ্ট্য ও আমল
মানুষের জীবনে সুরাটির বৈশিষ্ট্য ও আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুরাটি নাজিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলব্দি করেছিলেন- এটিই তাঁর উপর নাজিল হওয়া বিদায়ী সুরা। তাইতো তিনি বিদায় হজের ভাষণ দিতে যাওয়ার জন্য কোসওয়া নামক উষ্ট্রী প্রস্তুত করার কথা বলেছিলেন। এর তিনি এ উষ্ট্রীতে চড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।

১. হজের ভাষণে প্রিয় নবির বিদায়ের ইঙ্গিত
শায়খে আকবর আল্লামা মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি বলেন, ‘যখন সুরা আন-নাসর নাজিল হয়, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার ময়দানে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ঐতিহাসিক এ ভাষণে তিনি একথাও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া-পরকালের যে কোনো একটি পছন্দ করার সুযোগ দান করেছেন। তখন ওই বান্দা আল্লাহর সাক্ষাত পছন্দ করেছে। এ বক্তব্য শুনেই হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উপলব্দি করলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের ব্যাপারেই এ কথা বলেছেন এবং তাঁর বিদায় আসন্ন।

২. ইসলামের বিজয়ে ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা সুরা আন-নাসরে ইসলামের বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন যে, অচিরেই মানুষ দলে দলে ইসলামের জীবন ব্যবস্থায় শামিল হবে। ছোট্ট দুইটি আয়াতে এ ঘোষণা দেওয়া হলেও এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। মক্কা বিজয়ে দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
‘এটি সেই বিজয়! আমার পরওয়াদেগার যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি আমাকে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি সুরা আন-নাসর তেলাওয়াত করেন।’
৩. ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মক্কা বিজয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে সময় আরব জাহানের অন্যসব ব্যক্তিরা হক ও বাতিলের ফয়সালার অপেক্ষা করছিল। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে হক প্রতিষ্ঠিত হলো, উদ্ভাসিত হলো আর বাতিল, কুফর ও জুলমত বিদায় নিলো। তখন আরবের অন্যান্য ব্যক্তিরাও ইসলাম গ্রহণের জন্য হাজির হতে থাকে। আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করে সেই সুসংবাদই দিয়েছেন প্রিয়নবিসহ বিশ্ববাসীকে-
وَ رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اَفۡوَاجًا
আর (অচিরেই) আপনি দেখবেন মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে (জীবন ব্যবস্থা ইসলামে) প্রবেশ করছে।

৪. এ সুরার শেষ আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও আমল। যে আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। এখানে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপনে প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণার পাশাপাশি তাঁরই কাছে দুনিয়ার যাবতীয় অযোগ্যতা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বান্দার এসব কৃতজ্ঞতা ও তাওবা-ইসতেগফার গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে-
فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ اسۡتَغۡفِرۡهُ اِنَّهٗ کَانَ تَوَّابًا
সুতরাং আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা পবিত্রতা পাঠ করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী।

মনে রাখা জরুরি
দুনিয়া ও পরকালের সফলতা ও বিজয় লাভে আল্লাহর রহমতের বিকল্প নেই। কেননা আমল-ইবাদত দ্বারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশা খুবই কম। তাঁর রহমতেরই ক্ষমার দরজা খোলা থাকবে। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি ঘোষণা করেন-
‘তোমাদের কেউ তাঁর আমলের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সাহাবাগণ জানতে চাইলেন, আপনিও পারবেন না? প্রিয় নবি বললেন, ‘না’, যদি না আল্লাহ তাআলা তার রহমতের দ্বারা আবৃত করেন।’

এ সুরার বিশেষ শিক্ষা ও আমল
আল্লাহ তাআলা ঘোষিত এ বিজয়ের সুসংবাদে আনন্দ-উৎসবের কোনো ঘোষণা এ সুরায় আসেনি। বরং এ বিজয়ের ফলে মহান আল্লাহ মুমিন বান্দাকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। আর কোনো বিজয় আসলে এমনটি করাই শ্রেয়। আর এটিই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শ। এ আদর্শ প্রতিষ্ঠিত থাকলে বিজয়ও থাকবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
১. প্রশংসা, পবিত্রতা ও কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন

فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ : সুতরাং আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা পবিত্রতা পাঠ করুন।

মক্কা বিজয়ের পর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল ছিল এমন-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় প্রিয়নবির বিনয় ও কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপনের বিষয়টি ফুটে ওঠেছে এভাবে-
‘মক্কায় প্রবেশ করার সময় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উষ্ট্রের পিঠে আরোহী থাকা অবস্থায় আল্লাহর দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন। এ দৃশ্য ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য চিরস্মরণীয় ও অনুকরণীয়।’

২. ক্ষমা প্রার্থনা
وَ اسۡتَغۡفِرۡهُ : আর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
এ নির্দেশের কারণেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনভর তাওবাহ-ইসতেগফার করতেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত তাওবাহ করেছেন।

যারা আল্লাহ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাদের জন্যই রয়েছে মহান প্রভুর ক্ষমা। যে ঘোষণা এসেছে এ সুরার সর্বশেষ অংশে-
اِنَّهٗ کَانَ تَوَّابًا: নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা আন-নাসরের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। বিজয় ও খুশির সংবাদে অতি আনন্দে উৎফুল্ল না হয়ে আল্লাহর প্রশংসা, পবিত্রতা ও ক্ষমা প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জুমার দিনে মুহাম্মাদ (সা.)- এর প্রতি দরূদ পড়বেন কেন?

সপ্তাহের সেরা দিন জুমা। আর এ দিনের সেরা ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রিয় নবির প্রতি দরূদ পড়া। কিন্তু কেন জুমার সেরা দিনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়তে হবে? আর কীভাবেই বা পড়বেন দরুদ?

দরূদ পড়া ইবাদত। জুমার দিন দরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাছাড়া দরূদ পড়া মহান আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ ও ফেরেশতারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। তাইতো কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের নবির প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

জুমার দিন দরূদ পড়ার ফজিলত ও মর্যাদা

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়া ফজিলতপূর্ণ ইবাদত ও সাওয়াবের কাজ। তিনি নিজেই হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা তুলে ধরেছেন-

১. হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’

লোকেরা (উপস্থিত সাহাবারা) বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে?

তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা পয়গম্বরদের দেহসমূহকে খেয়ে ফেলা মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন।’ (বিধায় তাঁদের শরীর আবহমান কাল ধরে অক্ষত থাকবে।) (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

২. হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চেয়ে আমার বেশি কাছাকাছি হবে; যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরূদ পড়বে।’ (তিরমিজি)

৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবেআল্লাহ (এ দরূদ পড়ার বকরতে) তার উপর দশবার দরূদ পাঠ (রহমত নাজিল) করবেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অভিশাপ দিলেন যে, ‘সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না।‘ (অর্থাৎ অন্তত আরবিতে সংক্ষেপে ছোট্ট বাক্যে- صَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّد – সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ কিংবা صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলল না।)’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

৫. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আরও বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না (যেমন কবর পূজারীরা ওরস ইত্যাদির মেলা লাগিয়ে করে থাকে)। তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পাঠ করা দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

৬. হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত কৃপণ তো সেই ব্যক্তি; যার কাছে আমি উল্লেখিত হলাম অর্থাৎ আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করলো না।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

৭. হজরত ফাজালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লোককে নামাজে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদও পড়েনি।

এ (অবস্থা) দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘লোকটি তাড়াহুড়ো করলো।’ এরপর তিনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, ‘যখন কেউ দোয়া করবে, তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা ও আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে দোয়া আরম্ভ করে; তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)

দরূদ ও সালাম পেশ করবেন কীভাবে?

হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার নিয়ম কী? কোন শব্দে তা পেশ করতে হবে?

১. হজরত আব্দুর রহমান ইবনু আবু লাইলা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, কাব ইবনু উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি কি আপনাকে এমন একটি হাদিয়া (উপহার) দেব না; যা আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি?

আমি বললামহ্যাঁআপনি আমাকে সে হাদিয়া (উপহার) দিন।

তিনি বললেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! আপনাদের উপর অর্থাৎ আহলে বাইতের উপর কীভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? কেননা, আল্লাহ তো (শুধু) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন- আমরা কিভাবে আপনার প্রতি সালাম জানাবো!

তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনতোমরা এভাবে বলো-

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধরদের উপর বরকত দান করুন; যেভাবে আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

২. হজরত আবু মাসউদ বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা সায়াদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মজলিসে বসা ছিলাম। এমন সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। হজরত বাশির ইবনে সাআদ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মহান আল্লাহ আমাদেরকে আপনার প্রতি দরূদ পড়তে আদেশ করেছেনকিন্তু কীভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব?

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরুত্তর থাকলেন। পরিশেষে আমরা আশা করলাম, যদি (বাশির) তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তো ভাল হত)। কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা বলো-

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিম। ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিমা ফিল আলামিন। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) তথা মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরিবারবর্গের উপর সালাত (রহমত) পেশ করুন; যেভাবে সালাত (রহমত) পেশ করেছিলেন ইবরাহিমের পরিবারবর্গের উপর। আর আপনি মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিজনবর্গের প্রতি বরকত নাহিল করুন; যেভাবে বিশ্ব জগতে ইবরাহিমের পরিজনবর্গের প্রতি বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহা সম্মানীয়। আর সালাম কেমন, তা তো তোমরা জেনেছো।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালেক, দারেমি)

৩. হজরত আবু হুমাইদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, লোকেরা (সাহাবারা) বললো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কীভাবে আপনার প্রতি দরূদ পেশ করব?’ তিনি বললেন, তোমরা বলো-

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিমওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিমইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর সালাত (রহমত) পেশ করুন; যেভাবে আপনি ইবরাহিমের বংশধরের উপর সালাত (রহমত) নাজিল করেছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বরকত নাজিল করুন; যেভাবে আপনি ইবরাহিমের বংশধরের উপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।’ (বুখারি ও মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক)

মনে রাখা জরুরি

জুমার দিন বিশেষ ৩টি আমলের মধ্যে দরূদ একটি। জুমার নামাজের পর থেকে দরূদের আমল করা জরুরি। বিশেষ করে জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিবের নামাজের অপেক্ষার সময়টিতে দরুদ পড়ার ফজিলত অনেক বেশি। এছাড়াও এ দিন সুরা কাহফ পড়া এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত যে কোনো ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করাও বিশেষ আমল।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সপ্তাহের সেরা দিন জুমায় দরূদের সেরা আমল করার প্রতি মনোযোগী হওয়া। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় আমল করা। রহমত বরকত ও ক্ষমার দিকে ধাবিত হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনটি আমল-ইবাদতে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি দরূদ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আগের রূপে ফিরল পবিত্র কাবা শরীফ

সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম তুলে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার (১৭ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মসজিদটিতে স্বাভাবিক সময়ের মতো মুসল্লিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর মসজিদটিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ঘরের চত্বরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশনামূলক মেঝের চিহ্নগুলোও অপসারণ করা হয়েছে।

সরকারি সৌদি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শিথিল করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাবাঘরে মুসুল্লিদের প্রবেশ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

গতকাল সকালের ছবি ও ফুটেজে মুসল্লিদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। গত বছর কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দেয়ার পর প্রথমবারের মতো এ দৃশ্য দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর কাবা শরীফ প্রাঙ্গণে নামাজ শুরুর আগে মসজিদুল হারামের ইমামকে বলতে শোনা যায়, ‘দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন, খালি স্থান পূরণ করুন।’

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা তুলে নেয়া হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসল্লিদের অবশ্যই করোনাভাইরাসের টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করতে হবে এবং কাবা চত্বর এলাকায় মাস্ক পরতে হবে।

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ যেকোনো সময় পালন করা যায়। তবে প্রতিবছর পবিত্র হজ পালন করতে হয় বছরে মাত্র একবার। হজের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে যান লাখ লাখ মানুষ। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছর বিদেশিদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেবার মাত্র ৬০ হাজার সৌদি নাগরিককে হজ পালনের অনুমতি দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার জনের বেশি আক্রান্ত ও আট হাজার ৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com