আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দেশে শুরু হয়েছে উচ্চশক্তি সম্পন্ন পুষ্টিকর পশুখাদ্য প্লান্টেইন নামের ঘাসের চাষ।

পশুর শরীরে গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞার পর উন্নতবিশ্ব শুরু করে জৈব ও পুষ্টিকর খাদ্য নিয়ে গবেষণা।

এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপুষ্টি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত ওই ঘাস ইতোমধ্যেই সাড়া ফেলেছে খামারিদের মাঝে।

২০০৪ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইউরোপিয় ইউনিয়নের দেশগুলোর জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা আনে পশুর শরীরে যেকোনো ধরণের গ্রোথ প্রমোটার ব্যবহারের ওপর। তারপর থেকেই নতুন উদ্যমে চলতে থাকে পশুপুষ্টি নিয়ে গবেষণা।

বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পুষ্টি বিভাগের তরুণ বিজ্ঞানী ড. আল মামুন জাপানের ইউআতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার একাডেমিক গবেষণার অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে পুষ্টিকর ঘাস প্লান্টেইন নিয়ে দীর্ঘ অভিযোজন পরীক্ষায় সফল হন।

এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বিজ্ঞান একাডেমি ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থার যৌথ অর্থায়নে মানিকগঞ্জের গিলান্ডো গ্রামে ৬ জন কৃষকের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক প্লান্টেইন চাষের এই প্রকল্প।

ঘাসের পুষ্টিমাণ ও উপকারিতা সম্পর্কে ইতোমধ্যেই ধারনা পেয়েছেন কৃষক।

বিজ্ঞানীরাও যথেষ্টই আশাবাদী প্লান্টেইন নিয়ে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আল মামুন বলছেন, মাঠ ফসল হিসেবেও কৃষকের জন্য লাভজনক হতে পারে প্লান্টেইনের চাষ।

জৈব

বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের একমাত্র পন্থা জৈব কৃষিকাজ

বর্তমান আধুনিক যুগে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে তেমন বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা | এই ব্যাপক চাহিদাপূরণের জোগান বাড়াতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে | কার্বাইডে পাকানো ফল, হাইব্রিড শাক-সব্জি, ব্রয়লার মুরগি ইত্যাদি | এই কোনো কিছুই আদতে আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয় | অতিরিক্ত ফলন বাড়াতে দিনের পর দিন ক্ষতিকর পেস্টিসাইডসের বহুল ব্যবহার বাড়ছে। ফলত, খাবারের এই কৃত্রিমতায় পুষ্টিগুণ কমছে  যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর| তাই, কৃষিকাজে আবারও অগ্রগতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে জৈব কৃষি বা অর্গ্যানিক ফার্মিং | এই জৈবিক কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকবন্ধুদের মধ্যে |

জৈব কৃষিকাজ কি (What is Organic Farming)?

কোনও রকম কৃত্রিম ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব পন্থা অবলম্বন করে চাষবাস, ফলনই হল অর্গ্যানিক ফার্মিং। রোজকার আনাজপাতি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ সবই উৎপাদিত হতে পারে অর্গ্যানিক উপায়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা অর্গ্যানিক উপায়ে চাষ করা ফল, আনাজ, হার্ব, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু ইত্যাদির।

যেহেতু কোনও রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার নেই,  তাই  সার বানাতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ের ভিত কিন্তু সারের উপরেই। ফার্মের পশু-পাখির বিষ্ঠা শুকিয়ে তা দিয়েই মূলত তৈরি হয় জৈব সার। এ ছাড়াও কচুরিপানা খুব ভাল সারের কাজ করে। তাই গাছের গোড়ায় কচুরিপানাও দেওয়া হয়ে থাকে। মাটি ছাড়া শুধু কচুরিপানা জমিয়েও তাতে করে ফেলা যায় পেঁপে গাছ। এই জৈব সারই হলো গাছের ফলন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি | মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কেঁচোকেও। গাছের গোড়ায় যাতে অক্সিজেন পৌঁছায়, তার জন্য খুরপি দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো নিজেই এই কাজটা করে দেয়। গাছে পোকা লাগলেও নষ্ট হয় আনাজপাতি। অর্গ্যানিকে কিন্তু পেস্টিসাইড চলবে না। তাই ব্যবহার করা হয় নিম তেল। গোমূত্রও ব্যবহার করা হয় কীটনাশক হিসেবে। ফলে পোকাও ধ্বংস হয়, আবার ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই |

জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি (Types of Organic Farming):

এই জৈব কৃষির পন্থাকে কাজে লাগিয়ে শাক-সব্জি, আনাজ, মাছ, মাংস প্রায় সব উৎপাদিত হয় | যেমন,

শাক (Herbs):

কুলেখাড়া,ধনে, নটে, লাল নটে, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, কালমেঘ, পুদিনাও চাষ করা যেতে পারে এই উপায়ে। একসঙ্গে একাধিক হার্ব চাষ করা হয় সারি হিসেবে। এতে হার্ব তুলতে সুবিধে হয়। ব্রাহ্মী, কুলেখাড়া চাষ করা যায় জলেই। প্রথমে ছোট পাত্রে এবং পরে গাছ বড় হলে তা তুলে বড় পাত্রে রাখা হয়। এই গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ভেষজ ঔষধ |

সব্জি (Vegetables):

একই জমিতে বছরে ২ বার, তিন বার ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ধান তোলা হয়ে গেলে সেই জমিতেই চাষ হয় তৈলবীজ যেমন সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল ইত্যাদি। আবার সরষে তোলার পরে ও ধান গাছ লাগানোর আগে করা হয় তিল চাষ। বাঁধাকপি, ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে জায়গা বেশি লাগে। কারণ প্রত্যেকটি চারা বা বীজের মাঝে ব্যবধান হবে এক হাত। আবার মুলোর সঙ্গে চাষ করা হয় লাল নটে শাক। মাটিতে চাষের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান বাড়ে। কুমড়ো, পেঁপে, লাউ, বেগুনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে আনাজ বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত, জৈবিক উপায়ে ফলনের বৃদ্ধি হতে একটু দেরি হওয়ায় ধৈর্য রাখতে হবে, তবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপন্ন হয় |

পোল্ট্রি (Poultry):

কোয়েল, মুরগি থেকে শুরু করে গরু প্রতিপালনও করা যায় এখানে। মুরগি ২ টি ভাগে প্রতিপালন করা হয়। একটি ডিমের জন্য, অন্যটি মাংসের জন্য। কোয়েলের ক্ষেত্রেও তাই। অর্গ্যানিক দুধের চাহিদা প্রচুর। আবার গরুর দুধ থেকে ঘি, মাখন যেমন তৈরি করা যায়, তেমনই গোবর ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরি করতে এবং গোমূত্র কীটনাশক হিসেবে।

মাছ (Fish farming):

পুকুরেই চাষ করা হয় তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কই ইত্যাদি মাছ। পানাও ছড়িয়ে থাকে পুকুরের উপরে যাতে তারা খাবার পায়। অন্য দিকে আলাদা পুকুরে চাষ করা হয় চিংড়ির। জিওল মাছ বা বড় মাছ ধরা হয় বেড় জালে।

জৈব কৃষিকাজে বর্জ্যের ব্যবহার (Waste management):

অর্গ্যানিক চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বর্জ্যের ব্যবহার। জৈব বর্জ্য সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যায়। ফলে তা দিয়ে সার তৈরিও সহজ। কিন্তু শহরাঞ্চলে বর্জ্যের অনেকটাই প্লাস্টিক, সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরুরি। এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক দিন বর্জ্য সংগ্রহ করে। তার পরে তা থেকে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক বর্জ্য পৃথক করা হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা করে তা হস্তশিল্পের কাজে লাগানো হয়। অন্য দিকে কিচেন ওয়েস্ট অর্থাৎ আনাজপাতির খোসা, মাংসের ছাঁট ইত্যাদি পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সার তৈরি করা হয়। আবার, এই সার চলে যায় বিভিন্ন অর্গ্যানিক ফার্মে।

বাড়িতে কিভাবে জৈবিক উপায়ে চাষ করা যায় (Organic farming at home):

বাড়িতেই খুব সময় উপায়ে অর্গ্যানিক চাষ করে সব্জি উৎপাদন  (Organic vegetables cultivation) করতে পারেন | এই চাষের জন্য স্বল্প জায়গা ও জলের ব্যবহার প্রয়োজন। বড় ড্রামের গায়ে সমান ব্যবধানে চৌকো করে চিরে নিন। প্রত্যেকটি চেরা জায়গায় একটি করে চারা লাগান। একটি ড্রামেই জন্মাবে একাধিক গাছ। আবার, উল্লম্ব ভাবে একের পর এক ট্রে বা টবে চাষ করতে পারেন থানকুনি, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা | বাড়ির বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। ফলে, আপনার বাড়ির বর্জ্য নষ্ট হবেনা আবার সব্জিও উৎপাদন হবে |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব উপায়ে কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস চাষ করুন

কালো চাল সাদা চালের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর । ক্যানসার রোগ প্রতিরোধে কালো চাল অনন্য। এই চালে শর্করার পরিমাণ সাদা চালের চেয়ে কম, আয়রন ও ভিটামিন বি-এর পরিমাণ বেশি। কালো চালে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলি হল- ফ্যাট ১.৫ গ্রাম (৩%), কার্বোহাইড্রেট ১১%, আঁশ ৫%, ভিটামিন এ ২%, আয়রণ ৬%। উপকারীতার জন্য পশ্চিমবঙ্গে কালো চালের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

কালো চাল ক্যানসাররোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভিনয়েড যা অ্যানথোসায়ানিন নামে পরিচিত যা কালো চালে খুব বেশি পরিমাণে থাকাতেই চালের রঙ কালো হয়েছে। এই উপাদানটি থাকার কারণেই ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্নায়ূরোগ এমনকি ব্যকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে কালো চাল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধমনীতে রক্ত চলাচল যেসব কারণে বাধগ্রস্ত হয়, কালো চালের উপাদান তা হতে দেয় না। ফলে উচ্চ রক্তচাপ হয় না এবং হৃদরোগ তথা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

এরাজ্য থেকে কর্ণাটক ও তামিলনাডু যাচ্ছে কালো চাল। বাংলার কালো চালের ভালো বাজার তৈরি হচ্ছে ইউরোপের দেশে। চাষের এলাকা বাড়াতে কৃষি দপ্তর থেকে বীজ দেওয়া হয়। সঙ্গে প্রযুক্তিও দেওয়া হয়।

শুধুমাত্র আমনের মরশুমেই ব্ল্যাক রাইস চাষ করা যাবে। বোরো মরশুমে চাষ হয় না । কারণ এর ফুল ফোটার সময় যদি তাপমাত্রা বেশি থাকে তাহলে ফুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শ্রাবণের মাঝামাঝি ধান লাগানো হয়। ১৩৮-১৪০ দিনের ফসল। চালের তুষ, চাল মিলের ছাই, চিটে গুড়, কেচো সার দিয়ে জৈবসার তৈরি করে তা জমিতে প্রয়োগ করা হয়। মাজরা পোকা ও দানের পাতা মোড়া রোগ দমনে মহুয়া খোল ও নিম খোলের নির্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি দপ্তরের বিষশষজ্ঞরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে?

খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে
খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে

বর্জ্য থেকে প্রস্তুত পচা জৈব উপাদানকে বলা হয় কমপোস্ট সার বা মিশ্র জৈব সার। পেষাই হয়ে যাওয়া আখ, ধানের খড়, আগাছা ও অন্যান্য গাছ ও বর্জ্য থেকে তৈরি সারই হল কমপোস্ট সার। এই সারে গড়ে ০.৫ শতাংশ নাইট্রোজেন, ০.১৫ শতাংশ ফসফরাস, ০.৫ শতাংশ পটাসিয়াম থাকে। সার তৈরির প্রাথমিক স্তরে কমপোস্ট পিটে প্রতি টন কাঁচামালে ১০/১৫ কেজি সুপার ফসফেট বা রক ফসফেট মেশালে সারের গুণমান বাড়ানো যায়। শহরের মল, ডাস্টবিন ও রাস্তার আবর্জনা থেকে তৈরি সারও হল কমপোস্ট সার। এতে থাকে ১.৪ শতাংশ নাইট্রোজেন, ১ শতাংশ ফসফরাস ও ১.৪ শতাংশ পটাসিয়াম।

কমপোস্ট সার তৈরির জন্য খামার বর্জ্যকে সাড়ে চার থেকে ৫ মিটার লম্বা, দেড় থেকে দু’মিটার চওড়া ও ১ থেকে ২ মিটার গভীর গর্ত খুঁড়ে রেখে দেওয়া হয়। গর্তে খামার বর্জ্যকে স্তরে স্তরে রাখা হয়। প্রতিটি স্তর গরুর গোবরের কাই দিয়ে বা জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। জমি থেকে ০.৫ মিটার উপর পর্যন্ত গর্তগুলি ভরাট করে দেওয়া হয়। ৫-৬ মাসের মধ্যে সার ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। কমপোস্ট সার প্রস্তুতি প্রকৃতপক্ষে গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের জৈব অবশেষকে জীবাণু দ্বারা পচানোর প্রক্রিয়া ।

সার তৈরির পদ্ধতি

এখানে তিনটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।

ইন্দোর পদ্ধতি

জৈব বর্জ্য গোয়ালে বিছানার মতো করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মূত্রে ভেজা সেই বর্জ্য এবং গোবর প্রতি দিন সরিয়ে আনা হয় এবং ১৫ সেমি পুরু স্তর তৈরি করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। মূত্রে ভেজা মাটি গোয়াল থেকে সংগ্রহ করে জলে ভেজানো হয় এবং দিনে দু-তিনবার ওই বর্জ্যের স্তরের ওপর চাপানো হয়। এই প্রক্রিয়া প্রায় দিন পনেরো চলে। তার পর খুব ভাল মানের কমপোস্ট সার বর্জ্যের স্তরের ওপর চাপানো হয় এবং গোটা উপাদানটিকে উল্টেপাল্টে দেওয়া হয়। পুরনো সার গোটা উপাদানটিকে পচাতে সাহায্য করে। গোটা উপাদানকে পরবর্তী ১ মাস একই ভাবে রেখে দেওয়া হয়। তত দিনে এই সার পুরোপুরি আর্দ্র হয়ে যায়। এই সার আরও এক বার উল্টেপাল্টে দেওয়া হয়। আরও এক মাসের মধ্যে নতুন সার ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে ওঠে।

খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে
খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে

ব্যাঙ্গালোর পদ্ধতি

২৫ সেন্টিমিটার পুরু শুকনো বর্জ্য পদার্থ একটি গর্তে ছড়িয়ে রাখা হয়, তার ওপর জলে ভেজা থকথকে গোবর ছড়িয়ে দেওয়া হয় ভেজানোর জন্য। ভিজে স্তরের উপর শুকনো বর্জ্যের আরও একটি স্তর চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে শুকনো বর্জ্যের স্তর, তার উপর গরুর গোবরের দ্রবণ, এই ভাবে স্তরে স্তরে গর্তটি মাটির উপর ০.৫ মিটার পর্যন্ত ভরাট করা হয়। এই অবস্থায় কোনও ঢাকা না দিয়ে ১৫ দিন রাখা হয়। এর পর এই উপাদান উল্টেপাল্টে তুলে কাদা মাখিয়ে ৫ মাস বা যত দিন না ব্যবহার হচ্ছে ,তত দিন একই ভাবে রেখে দেওয়া হয়।

খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে
খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে

কোয়েম্বাটোর পদ্ধতি

কী ধরনের বর্জ্য পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে তার ভিত্তিতে নানা মাপের গর্তে সার প্রস্তুত করা হয়। প্রথমে গর্তে বর্জ্য পদার্থের একটি স্তর বানানো হয় , তার উপর আড়াই থেকে ৫ লিটার জলে ৫ থেকে ১০ কিলো গরুর গোবরের দ্রবণ ও ০.৫ থেকে ১ কিলো হাড়ের গুঁড়োর মিশ্রণ সমান ভাবে ছড়ানো হয়। এ ভাবে একের পর এক স্তর তৈরি করা হয়, যতক্ষণ না উপাদানের উচ্চতা মাটির থেকে ০.৭৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। এর পর এটিকে কাদামাটি দিয়ে মুড়িয়ে একই ভাবে ৮-১০ সপ্তাহ রেখে দেওয়া হয়। তার পর পুরো পদার্থটি তুলে জলে ভিজিয়ে উল্টেপাল্টে আয়তাকার স্তুপ বানিয়ে , যত দিন না ব্যবহার হচ্ছে, ছায়ায় রেখে দেওয়া হয়।

কোয়েম্বাটোর পদ্ধতিতে প্রথমে অবাত পচন প্রক্রিয়া তারপর সবাত পচন প্রক্রিয়া চলে। এটি ব্যাঙ্গালোর পদ্ধতির বিপরীত। কোয়েম্বাটোর বা ইন্দোর পদ্ধতির মতো ব্যাঙ্গালোর প্রক্রিয়ায় সার পচানো হয় না। কিন্তু এটাই সবচেয়ে ভারী।

খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে
খামার বর্জ্য থেকে মিশ্রসার তৈরি করব কীভাবে

খামার-বর্জ্যের রক্ষণাবেক্ষণ

যেখানে জন্তু জানোয়ার আছে, সেখানে তাদের বর্জ্যও আছে। পশুপালন শিল্পের চেহারা নেওয়ার পর থেকে পশুপালনের খামার যত বেড়েছে, তার তুলনায় বহু বহু গুণ বেড়েছে খামারে পশুর সংখ্যা। এর ফলে খুব ছোট জায়গাতেও প্রচুর পরিমাণে পশু বর্জ্য পাওয়া যায়। যখন এক জায়গায় প্রচুর পরিমাণে পশু বর্জ্য তৈরি হয়, তখন তাকে নিরাপদে ও কম খরচে কার্যকর ভাবে ব্যবহার করাও মুশকিল, ফেলে দেওয়াও কঠিন। সরকারি নিয়মনীতি এবং উন্নত মানের বর্জ্য রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে পারে এবং খামারগুলিতে যেন তা প্রয়োগ করা হয়, সে দিকে লক্ষ রাখা উচিত। কিন্তু যত দিন আমরা আমাদের খাদ্যের জন্য ছোট জায়গায় শিল্পের আকারে প্রচুর পশু পালনের ওপর নির্ভর করে থাকব, তত দিন পশু বর্জ্য সংক্রান্ত সমস্যা থেকে যাবে।

যে সব খামারে পশুরা ঘাসের জমিতে চরে বেড়ায়, সেখানে সবটা না হলেও বর্জ্যের অনেকটাই সরাসরি জমিতে যায়, যা সার হিসেবে কাজ করে এবং তার ভেতরে থাকা পরিপোষক পদার্থ চক্রাকারে মাটিতে ফিরে যায়। পশুপালন শিল্প খামারে, পশুরা যেখানে থাকে সেখানেই বর্জ্য ত্যাগ করে। সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে, অন্যত্র নিয়ে যেতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে— প্রতিটি ধাপই পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশুপালনের জন্য ব্যবহৃত ঘরগুলিকে শুধুমাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতে চাইলে প্রচুর পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়। দুগ্ধ শিল্পের ক্ষেত্রে, যেখানে বর্জ্য ধুয়ে পরিষ্কার করার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকে, সেখানেও গরু পিছু দিনে ১৫০ গ্যালন জল খরচ হয়।

পশুপালন শিল্পের কারখানায় বিভিন্ন ব্যবস্থায় বাতাস দূষিত হয় এবং ৪০০-রও বেশি গ্যাস নির্গত হয়, বেশির ভাগটাই বিশাল পরিমাণ পশু বর্জ্যের কারণে। প্রধানত যে সব গ্যাস নির্গত হয়, তার মধ্যে রয়েছে, হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন, অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইড। বায়ূদূষণের ক্ষেত্রে এই গ্যাসগুলি বিপজ্জনক, এগুলি পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য –দু’য়ের পক্ষেই অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বর্জ্যের কারণ শিল্প খামারগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রিক অক্সাইডও নির্গত হয়। অ্যাসিড বৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হল এই গ্যাস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

আবর্জনা যখন উৎকৃষ্ট জৈব সার

যে বস্তুকে মানুষ বর্জন করতে চায়, সেটাই বর্জ্য। এই সরল সংজ্ঞাকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়ে আমরা এতকাল আবর্জনাকে ‘আবর্জনা’ই মনে করে এসেছি। বর্জ্যও যে সম্পদ, সেটি আমরা বুঝতে চাইনি। সে কারণে আবর্জনা এখন বোঝা হয়ে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপকে বিপন্ন করে চলেছে। বিঘ্ন ঘটাচ্ছে জীবমণ্ডলের স্থিতাবস্থায়। বর্জ্য মোকাবিলা এখন পরিবেশ রক্ষার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া যেকোন সবজির খোসা, মাছের আঁশ- কাটা, মোরগ-মুরগির নাড়িভুঁড়ি-হাড়, ভাত, ডাল, রুটি, চা, তরিতরকারি থেকে শুরু করে গাছের পাতা, পুরোনো কাগজ, খড়খুটো, ঘাস সবকিছু থেকে এই জৈব সার তৈরি করা যায়। এ সারকে আবর্জনা সারও বলা যায়। তবে আবর্জনা থেকে এ সার তৈরির বেলায় কিছু নিয়ম কিন্ত আপনাকে মানতে হবে। আর সে নিয়মকানুন কি ? সেটাই নীচে আলোচনা করার চেস্টা করবো । আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটা নির্দিষ্ট গর্তে ফেলতে হবে। এক মিটার লস্বা X এক মিটার প্রস্থ X এক মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরী করে সেখানে আবর্জনা সংরক্ষণ করতে হবে। এই আবর্জনা থেকে যদি জৈব সার তৈরি করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন উৎকৃষ্ট সার পাবো অন্যদিকে আমাদের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর থাকবে । আবর্জনা থেকে তৈরি জৈব সারে নাইট্রোজেন কম থাকে। এ জন্য এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে আবর্জনায় ছিটিয়ে দিলে সেই ঘাটতি পূরণ হবে। এটা এমনভাবে ছিটাতে হবে, যেন আবর্জনা থেকে দরদর করে পানি না পড়ে, বরং হাতে দিয়ে চাপ দিলে আঙুলের ফাঁকে পানি জমে। সারের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য গর্তে দুই কেজি ফসফেট সার ভালো করে ছিটিয়ে দিতে পারেন।

এরপর গর্তে জমানো আবর্জনার ওপর মাটি দিয়ে তিন মাস আটকে রাখতে হবে। তিন মাস পর গর্তের আবর্জনাগুলো একই মাপের অন্য একটি গর্তে বদল করে দিতে হবে। এর ৬ সপ্তাহ পর থেকে এই সার ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে যাবে। রোদে শুকিয়ে বস্তায় ভরে এই সার অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। ( CAJ ) বিষ্ঠা থেকে কম্পোস্টঃ হাঁস -মুরগীর বিষ্ঠা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট গর্তে ফেলতে হবে। এক মিটার প্রস্থ X এক মিটার গভীর X তিন মিটার লম্বা গর্ত করে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত পলিথিন বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতিদিন বিষ্ঠা সংগ্রহ করে গর্তে রাখতে হবে। বিষ্ঠার পরিমাণ ১০ কেজি হলে আড়াই লিটার পানি এবং আধা কেজি চুন ছিটিয়ে দিতে হবে। একইভাবে আগের মতোই গর্তে জমানোর প্রথম ১৫ দিন, প্রতি ৩ দিন পরপর উল্টে পাল্টে দিতে হবে। এরপর প্রতি ৭ দিনে একবার নাড়াচাড়া করে দিলেই হবে। কম্পোষ্টের মান বাড়াতে গর্ত বিষ্ঠা দিয়ে ভর্তি হয়ে গেলে ২ কেজি ফসফেট বিষ্ঠার ওপর ছিটিয়ে দিতে হবে। এবার পলিথিন দিয়ে ২ মাস আটকে রাখতে হবে। কপোষ্ট পরীক্ষাঃ ২ মাস পর বিষ্ঠাগুলো গাছ পচাঁ গন্ধের মত গন্ধ সৃষ্টি করবে। কপোষ্ট দেখতে হবে গাঢ় বাদামি রঙের। শরীরে লাগলে গরম অনুভূত হবে না। এ রকম কপোষ্ট জমিতে সার হিসাবে প্রয়োগ করা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com