আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

দেশে দেশে ফুলের ভাষা

আসছে বসন্ত। আসছে ফুলের দিন। প্রাচীন যে ফুলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, ধারণা করা হয় তার বয়স ১৩ কোটি বছর! আর পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের পদচারণ শুরু হয়েছিল মাত্র ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল ফুলের পৃথিবীতে, ফুলেল অভ্যর্থনায়। সেই থেকে আজ অবধি মানুষের ফুল নিয়ে বিস্ময় কাটেনি; আজও ফুলের প্রতি অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ অনুভব করে মানুষ। ধীরে ধীরে পৃথিবীতে মানুষের বয়স যত বেড়েছে, জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফুলের ব্যবহারও তত বেড়েছে। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, প্রেমে, বন্ধুত্বে ফুল হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আমাদের দেশে তো বটেই, প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতার মানুষ ফুলকে দেখেছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

প্রাচীন গ্রিকদের পুষ্পপ্রীতি 

ফুলের রং এবং সৌন্দর্যের জন্য গ্রিসের পৌরাণিক কাহিনিতে ফুলের কথা বিশেষ স্থান পেয়েছে। কিছু কিছু ফুলের নামকরণেও সেসব কাহিনির চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গ্রিক ঐতিহ্যে ফুলের গুরুত্ব কেবল যে কল্পকাহিনিতেই স্থান পেয়েছে, তা-ই নয়। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তাদের সমাজে ফুল উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল এবং আজও তা গ্রিকদের সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত প্রথা। প্রাচীনকালে তারা দেব-দেবীর উদ্দেশে পবিত্রতা এবং পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ফুল উৎসর্গ করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রিকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা বদলে গেছে। বর্তমানে সুন্দরের বন্দনায়, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহার এক বাঙ্​ময় ব্যঞ্জনায় উন্নীত হয়েছে। অপার্থিব দেব-দেবীর স্থান চলে গেছে পার্থিব দেব-দেবী, প্রিয়জন-পরিজনদের দখলে। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে ফুল উপহার দেওয়া বর্তমান গ্রিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য প্রথা। 

প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় ফুল 

প্রাচীন মিসরীয়রাও তাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যে ফুলকে বিশেষ মর্যাদায় উপস্থাপন করেছিল। নীল নদের অববাহিকায় যেসব বাহারি রঙের ও সুঘ্রাণের ফুল ফুটত, সাধারণ লোকজন তাদের প্রিয়জনদের বিভিন্ন পালাপর্বে তা উপহার দিত। যুদ্ধে যাওয়ার আগে ফেরাউনরা তাদের রথগুলোকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিত। যুদ্ধ থেকে বিজয়ী সেনা, সেনাপতিরা যখন ফেরত আসে, তখনো তাদের ফুল দিয়ে সাদরে বরণ করা হতো, যেমন করা হতো গ্রিক যোদ্ধাদের। 

মিসরের পৌরাণিক কাহিনি ঘাঁটলে দেখা যায় যে আনন্দ অনুষ্ঠানে প্রাচীন মিসরীয়রা পদ্ম ফুলের গান গাইত এবং এই ফুলের আরাধনার জন্য উৎসবের আয়োজন করত। পদ্ম ফুল ভোরে ফোটে এবং রাতে এই ফুলের পাপড়ি আবারও গুটিয়ে কুঁড়ির মতো হয়ে যায় বলে মিসরীয়রা এই চমৎকার ফুলটিকে পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করত। নীল পদ্মের খুব সুন্দর এবং তীব্র ঘ্রাণ রয়েছে। তাই প্রাচীন মিসরীয় শিল্পীরা নীল পদ্মে ঘেরা মৃত ব্যক্তির ছবি আঁকত, উপহার দিত। ফুল ছিল আধুনিক মিসরীয়দের মতো প্রাচীন মিসরীয় সংস্কৃতিতে অপরিহার্য বস্তু। 

অটোমান সাম্রাজ্য 

অভিব্যক্তি, অনুভূতি প্রকাশে ফুল উপহারের প্রচলন অটোমান সাম্রাজ্যে। ফুলপ্রেমীরা ফুল উপহার দিয়ে প্রিয়জনকে পৌঁছাত বিশেষ বার্তা। ফুলগ্রহীতা নির্দিষ্ট ফুল, ফুলের সংখ্যা এবং সেই ফুল সাজানোর ধরন দেখে বার্তাটি বুঝতে পারত। সে সময়টি ছিল ১৬০০ সালের দিকে। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতিতেও ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে বিশেষ বার্তা পাঠানোর রেওয়াজ ছিল। 

ভিক্টোরীয় সময়কাল 

১৮ শতকের প্রথম দিকে পত্রপত্রিকার প্রচার-প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তুর্কিদের ফুলের মাধ্যমে সাংকেতিক বার্তা প্রদানের ধারণা ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার উদ্ভিদপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে সময়টা ছিল ভিক্টোরীয় যুগ। ইউরোপে এ সময় মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, বাসনার শিল্পসম্মত প্রকাশের উপায় হিসেবে ফুল উপহার দেওয়া হতো। এটা ছিল স্বীকৃত এবং প্রথাসিদ্ধ উপায়। আবেদন, নিবেদন যা মুখে বা লিখে প্রকাশ করলে মাধুর্য হারায়, তার জন্য ফুল উপহার দিলে রুচি, শিল্পবোধ আলাদা মাত্রায় উজ্জ্বল হয়, মর্মার্থ মর্মে পৌঁছে। ফুলের রূপ, বিন্যাসশৈলী, গড়ন, রং এবং মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে একেকটি ফুলকে আলাদা করে সাজিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বা বার্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন তাদের সংস্কৃতিতে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। 

বাংলাদেশ

আমাদের সমাজে ফুলকে দেখা হয় পবিত্রতা ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে। পৃথিবীর অন্যান্য সংস্কৃতির মতো আমাদের দেশেও ফুল উপহার দেওয়া হয় শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য। 

আমাদের দেশে ফুলের প্রাচুর্য থাকলেও ব্যবহারের বৈচিত্র্য তেমন নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফুল উপহার দেওয়ার চর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন একটা দেখা যায় না। তবে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠানের প্রসারের ফলে ফুল উপহার দেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। 

একসময় আমাদের দেশে শুধু গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে দেওয়া হতো। এই প্রথা সম্ভবত গড়ে উঠেছিল মোগলদের কারণে। উপহার হিসেবে গোলাপের সেই আবেদন এখনো আছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, দোলনচাঁপা। বসন্তদিনে এসব ফুল দিয়ে সাজানো ফুলের একটি তোড়া প্রিয়জনের হৃদয়ে দোলা দেবে বৈকি!

লেখক: অনুজীববিজ্ঞানী, বর্তমানে ফ্রান্সের বিচার বিভাগে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘৌড়দৌড়। এমনকি হালের বলদের দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। তাই তো ছাগলের দৌড় দেখতে ভিড় জমান এলাকার ছেলে-বুড়ো সবাই। করোনাকালীন একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এমন আয়োজন আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ছাগল দৌড়ের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার ‘পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংগঠন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন বিকেলে স্থানীয় ফেনাবাড়ি বন্দে অনুষ্ঠিত ছাগল দৌড় প্রতিযোগিতায় পালিত ১৬টি ছাগলসহ এর মালিকরা অংশ নেন। চারটি ধাপের ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ছাগলের সঙ্গে দৌড়ান এর মালিকরাও।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাকিব মিয়ার ছাগল প্রথম, মোজরাই গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছাগল দ্বিতীয় ও পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের হিরু মিয়া ছাগল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

বিজয়ী ছাগলের মালিকদের যথাক্রমে একটি মোবাইল ফোন, একটি সাউন্ড বক্স এবং একটি হিটার জগ উপহার দেয়া হয়।

পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংঘের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান মাছুম বলেন, করোনাকালীন শহরের মতো গ্রামে কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকার মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে বন্যপাখি শিকার করছে ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণীর পাখি শিকারি।

শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচার ভেতরে। তারপর খাঁচাবন্দি পাখিগুলো প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জেলার বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।

চাড়োল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লাহিড়ী হাটে’ গড়ে উঠেছে বন্যপাখি বিক্রির এ হাট। প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার এখানে বসে বন্যপাখির হাট। অথচ হাটটি ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। শুধু এ হাটেই নয়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে- টিয়া, গাড়োল টিয়া, ঘুঘু, শালিক, বক, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া টিয়া ৮০০ টাকা, ঘুঘু ৪৫০ টাকা, বক জোড়া ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া করে।

জানা গেছে, স্থানীয়রা বাধা দিলেও পাখি শিকারিদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, পাখি বিক্রি ও কিনতে আসাদের বাধা দিলেও তারা শোনেন না। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোরভাবে বন্যপ্রাণি নিধন দমন করা উচিত।

পাখি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষদ ও গ্রাম পুলিশ পাখি নিধনরোধের চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, যখনই জানতে পারি কোথাও পাখি শিকার হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বন্যপাখি শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এমনটাই আশা প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মানুষদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com