আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মতামত

দেশে দেশে ‘ফিরে চল মাটির টানে’

বিপ্লবী নেতা মার্কাস গার্ভে বলেছিলেন, যে মানুষের নিজের মূল, অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কোনো জ্ঞান নেই সে মূলত একটি শিকড়হীন গাছ। রবিঠাকুরও আমাদের মাটির টানে ফিরে যেতে বলেছেন শিকড়ে, যেখান থেকে উৎপত্তি হয়েছে নিজের অস্তিত্বের। সমুদ্র উত্থিত এই ব-দ্বীপের পলি জমা উর্বর মাটিতে পূর্বপুরুষরা বুনেছিল ফসলের বীজ, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির স্বপ্ন। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মূল প্রোথিত রয়েছে হাজার বছর আগে, এই কৃষিতেই।

পাঠক! আপনারা হয়তো জানেন, চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ‘ফিরে চল মাটির টানে’ অনুষ্ঠানে দেখেছেন আমি প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ ও স্কুলের একঝাঁক শিশু-কিশোর নিয়ে চলে যাই কৃষকের কাছে, কৃষির কাছে। যেন এই অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ, আগামী প্রজন্ম একবার হলেও ছুঁয়ে আসে নিজের শিকড়পোঁতা মাটি, নিয়ে আসে বাংলাদেশের কৃষকের শ্রমে-ঘামে সিক্ত মাটির ঘ্রাণ। সেখান থেকে যেন তারা দীক্ষা নিতে পারে ধ্যানমগ্ন ও শ্রমসাধনার সমৃদ্ধ জীবনের এবং আরও শক্ত ও মজবুত করতে পারে নিজের শিকড়কে।

নতুন প্রজন্মকে আগের প্রজন্মের সঙ্গে, অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে প্রতিটি উন্নত ও সভ্য জাতিরই। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত উন্নত রাষ্ট্রগুলোর কৃষি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাঠ দেওয়া হয় নতুন প্রজন্মকে। যেমন বলা যায় স্কটল্যান্ডের উইটমোর অর্গানিক ফার্মের কথা। সেখানে শিশুরা নিয়মিত কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য প্রস্তুত প্রণালির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ৫০ মাইল দূরের ম্যুর পার্ক এলাকায় আন্ডার উড ফ্যামিলি পার্কের কথাও বলা যেতে পারে। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও আপনারা ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে দেখেছেন।

ক’দিন আগে কাজের প্রয়োজনে যেতে হয়েছিল মার্কিন মুলুকের নিউইয়র্কে। সেখানে স্কুলের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের কৃষি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ও হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলল। পোকান্টিকো হিলসের স্টোন বার্নস সেন্টার ফর ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার। পাহাড়বেষ্টিত নৈসর্গিক পরিবেশে সমন্বিত কৃষির এক বিশাল আয়োজন। প্রতিষ্ঠানটিতে একদিকে চলছে কৃষি উৎপাদন, অন্যদিকে কৃষি নিয়ে বহুমুখী গবেষণা। এখানে বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য যেমন রয়েছে ব্যবহারিক কৃষি শিক্ষার আয়োজন, একইভাবে রয়েছে প্রচলিত কৃষিব্যবস্থার ত্রুটিগুলো হাতে-কলমে জানার ব্যবস্থাও।

৮০ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান আমেরিকার স্বনামখ্যাত শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ ডেভিড রকফেলার ও তার মেয়ের মালিকানাধীন। তাদের উদ্যোগেই প্রথমে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলা হয়; যা দিনে দিনে বহুমুখী কৃষি উৎপাদন ও কৃষিপণ্যের স্বাদ ও মান সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই ‘স্টোন বার্ন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ সেন্টারেই রয়েছে ‘ব্লু হিল’ নামের ব্যয়বহুল ও অভিজাত রেস্টুরেন্ট। সরাসরি খামারজাত খাদ্যের সেই রেস্তোরাঁয় একজনের খাবারের আনুমানিক মূল্য পড়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস বলে খামারটি ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রকফেলার পরিবারের নিজস্ব ও রক্ষণশীল একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০০৪ সালে এটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কৃষিবিষয়ক শিক্ষার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে ১৩ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ; যাদের সবারই কৃষির প্রতি যেমন রয়েছে অনুরাগ, একইভাবে রয়েছে সম্যক জানা-বোঝাও।

আগেই স্টোন বার্ন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার সেন্টার পরিদর্শনের সময়সূচি ও অনুমোদন নিয়ে রাখা ছিল। তাই প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ নির্বাহী আমাদের সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে ভিতরে নিয়ে গেলেন। তিনি জানালেন তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে। স্টোন বার্ন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার সেন্টার গভীরভাবে চায় নতুন প্রজন্মকে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষা দিতে। সে শিক্ষাটি হোক হাতে-কলমে। মাটি ও ফসলের স্পর্শের মধ্য দিয়ে। শুধু উন্নত বিশ্ব নয়, পৃথিবীব্যাপীই শিক্ষা হয়ে উঠেছে রুদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ভবন কাঠামোর ভিতরমহলের বিষয়। কিন্তু এখানে রয়েছে মুক্ত প্রাঙ্গণে মাটির ঘ্রাণ মেখে নতুন এক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ।

সনাতন কৃষি ও আধুনিক কৃষির পার্থক্যটি খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে। অবশ্য প্রকৃতিনির্ভর কৃষিকে বেশি করে প্রাধান্য দিচ্ছে তারা। মাঠে দেখা মিলল একদল শিক্ষার্থীর, যারা হাতে-কলমে নিচ্ছে কৃষি শিক্ষা। আর তাদের শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিচালক রেনে মারিয়ন। কথা হয় মারিয়নের সঙ্গে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা নিউইয়র্কের একটি কলেজের নবম গ্রেডের। কলেজের প্রাণিবিদ্যা ক্লাসের অংশ হিসেবেই উদ্ভিদের জীবনপ্রণালি, কৃষি ও এর অনুশীলনগুলো প্রথমবারের মতো সরেজমিন দেখছে। কৃষির পরিবর্তনগুলো তারা বোঝার চেষ্টা করছে।

মারিয়ন জানান, যদিও আমাদের সনাতন কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। কৃষি থেকে অনেকেই সরে গেছেন। কিন্তু কয়েক প্রজন্ম আগে এসব শিক্ষার্থীর পূর্ব প্রজন্মও কৃষক ছিল। ওরা সেই অতীতটা জানে না। ওদের সেই অতীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা জরুরি। মাঠে দেখা মেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণের। নাম লরেন্স। কথা হয় তার সঙ্গে। সে জানায়, নয় মাসের সমন্বিত কৃষির একটি কোর্স করছে সে। কোর্সের শুরুর তিন মাস ছিল প্রাণিসম্পদ। তা শেষ করার পর বনায়ন বিষয়ে কোর্স করেছে তিন মাস, এরপর চলছে পুরোপুরি কৃষি শিক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টোন বার্ন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার সেন্টারটি বিস্ময়কর এক কৃষি ক্ষেত্র। মাঠে যেমন ফসলের উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, একইভাবে ধারণা দেওয়া হচ্ছে উদ্ভিদের রোগবালাই, কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ে। বিস্তীর্ণ ফসলি খেত তার পাশে দীর্ঘদিনের বন-বনানীর ভিতর দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিচরণ করছে, সেই সঙ্গে জেনে নিচ্ছে কৃষির পানি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নানা বিষয়। স্টোন বার্ন সেন্টারের ব্লু হিল রেস্টুরেন্টের কিচেনে গিয়ে রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। সেখানেও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কিচেনে শিক্ষার্থীদের কাজ কী? স্টোন বার্ন সেন্টারে এক দিনের জন্য সংযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সবজি কাটা থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত। এর প্রতিটি পর্ব অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত।

রেনে মারিয়ন জানান, ফসল উৎপাদনের সব পর্বে যেমন নানা বিষয়ে দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন রয়েছে, তেমন দৃষ্টি রাখতে হবে কৃষিপণ্যকে খাদ্যে পরিণত করার কৌশলের দিকেও। বিশেষ করে সবজি বা ফল কাটা, তা রান্না করা এবং পরিবেশনের ওপর নির্ভর করছে এর বিশুদ্ধতা।

পাঠক! এসব শুনে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে পড়ছে ফিরে চল মাটির টানের কথা। আমাদের প্রতিটি সেশনেই শিক্ষার্থীদের কৃষি কাজের পাশাপাশি থাকে নিজ হাতে খাদ্য রান্নার বিষয়। অনেক বিড়ম্বনা সহ্য করে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এ কাজগুলো সম্পন্ন করে। যাই হোক, সমন্বিত কৃষি শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী আমেরিকান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলল, ফসলের মাঠ থেকে খাবারের প্লেট পর্যন্ত অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রস্তুতি পর্যন্ত এই সম্যক ধারণা তাদের জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে।

আগেই বলেছি, স্টোন বার্ন সেন্টার একদিকে যেমন আধুনিক কৃষির নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের কাজ করে চলেছে, একইভাবে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে কৃষিকৌশল সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে যাতে তারা যে কোনো সময় কৃষিকাজে হাত দিতে পারে। ইতিমধ্যে আমেরিকার ৪৬টি স্কুলের মাধ্যমিক শ্রেণির নিয়মিত পাঠক্রমে যুক্ত রয়েছে এই সেন্টার পরিদর্শন ও ব্যবহারিক শিক্ষা। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও চিন্তা করা হচ্ছে প্রজন্মকে কৃষিসচেতন করে গড়ে তোলার। খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের স্বার্থেই প্রতিটি নাগরিকের জানা প্রয়োজন ফসল উৎপাদনের কলাকৌশল। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কৃষি সম্পর্কিত ধ্যান-ধারণা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের দেশেও খোদ প্রধানমন্ত্রী বার বার আহ্বান জানাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের কৃষকের মাঠে গিয়ে কৃষি সম্পর্কিত ধারণা নেওয়ার জন্য। হৃদয়ে মাটি ও মানুষের পক্ষ থেকে প্রায় এক দশক ধরে ‘ফিরে চল মাটির টানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমি চেষ্টা করে চলেছি নতুন প্রজন্মকে কৃষির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। আমার বিশ্বাস, এসবের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম মাটির সঙ্গে তাদের সম্পর্কটুকু ধরে রাখবে।

দৈনন্দিন

কাঁচা আমের জেলি তৈরির রেসিপি জেনে নিন

জেলি সাধারণত আমরা বাইরে থেকে কিনে এনে খাই। খেতে সুস্বাদু হলেও সেসব জেলি আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই চেষ্টা করুন ঘরেই জেলি তৈরি করে নিতে। অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় কাঁচা আমের জেলি। রেসিপি জেনে নিন-

উপকরণ:
কাঁচা আম- ৩০০ গ্রাম
চিনি- স্বাদ মতো
লেবুর রস- ১ চা চামচ
সবুজ ফুড কালার- ১ চিমটি।

প্রণালি:
হাঁড়িতে ২ কাপ পানি দিয়ে আম সেদ্ধ হতে দিন। নরম হয়ে গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। ছেঁকে রাখা পানি আরেকটি হাঁড়িতে নিন। পানি দেয়ার আগে মেপে নেবেন। প্রতি এককাপ পানির জন্য এককাপ চিনি দরকার।

চিনি গলে গেলে লেবুর রস দিয়ে দিন। লেবুর রস জেলি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করবে। ফুড কালার দিন। মাঝারি আঁচে বেশ কিছুক্ষণ জ্বাল করে মিশ্রণটি ঘন করে নিন। থকথকে হয়ে গেলে নামিয়ে কাচের বয়ামে ঢেলে দিন গরম থাকা অবস্থায়ই। ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা রেখে দিন সেট হওয়ার জন্য। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু জেলি। পাউরুটি কিংবা টোস্টের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দিনে কতটুকু ফ্যাট খাওয়া উচিত?

ওজন কমাতে অনেকে লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করেন। স্বল্প কার্বযুক্ত খাদ্য আপনার শর্করা গ্রহণ শস্য, ডাল, ডাল, রুটি, মাড়যুক্ত সবজি এবং ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে তোলে। এটি আপনাকে প্রোটিন এবং ফ্যাটযুক্ত খাবারের উপর নির্ভরশীল করে তোলে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং বিপাকজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের লো-কার্ব ডায়েটের বিভিন্ন অনুপাত রয়েছে – এগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে।

লো-কার্ব ডায়েটের সমস্ত বিপাকীয় উপকার পাওয়ার জন্য কেবল কার্বস কম গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে ক্যালোরি খাওয়া দরকার যা চর্বি এবং প্রোটিনের থেকে পাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন, ফ্যাট ঝরিয়ে ফেলা ভীষণ উপকারী কারণ এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এটি সত্যি নয়। কারণ যখন আপনি প্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরিয়ে ফেলবেন, তখন এটি আপনার ক্ষুধার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আপনার পুষ্টিরমাত্রায় তারতম্য তৈরি করতে পারে। সুতরাং, ফ্যাট খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার নিম্ন-কার্ব ডায়েট থেকে কীভাবে সর্বাধিক উপার্জন করা যায়
ক্যালোরি ৪০% ফ্যাট এবং ৩৫% প্রোটিন দিয়ে গঠিত। বাকিটা কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। যেকোনো ডায়েটে আপনার ক্যালোরি গ্রহণের ক্ষেত্রে আপোষ করা উচিত নয়। আদর্শ ও কার্যকর ওজন হ্রাস করার জন্য, আপনার প্রতিদিন ১৫০০ ক্যালোরি খাওয়া উচিত। এর মধ্যে ৬০০ ক্যালোরি ফ্যাটযুক্ত উপাদান থেকে আসা উচিত। এখন থেকে যেহেতু ১ গ্রাম ফ্যাট ৯ ক্যালোরির সমান, সুতরাং দিনে ৬৭ গ্রাম ফ্যাট প্রয়োজন।

একটি ভালো নিয়ম হলো আপনার চর্বি গ্রহণের মাত্রা আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজনের প্রতি পাউন্ডের অনুপাতে ০.৪ থেকে ০.৫ গ্রাম হওয়া উচিত।

খাবারের সাথে যে ধরণের ফ্যাট এবং প্রোটিন খাচ্ছেন সেদিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত। আপনার প্লেটে আরও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত করা উচিত। এতে প্রোটিন,এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ রয়েছে যা ওজন কমানোর সময় আপনার স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে। বাদাম, বীজ, সীফুড, ছোলা এবং নির্দিষ্ট দুগ্ধজাত জাতীয় খাবারগুলোতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পেঁয়াজ এবং আলু একসাথে রাখলে কী হয়?

আমাদের প্রতিদিনের রান্নার সবচেয়ে পরিচিত উপাদান হলে আলু ও পেঁয়াজ। বিভিন্নরকম রান্নার এগুলো ব্যবহার করা হয়। তাই আলু কিংবা পেঁয়াজ ছাড়া রান্না সম্পূর্ণ করাই মুশকিল বলতে গেলে। আলু দিয়ে চমৎকার স্বাদের সব খাবার তৈরি করা যায়, পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয় অনেকটা মশলার মতো। স্বাদ আর সুগন্ধ বাড়াতে পেঁয়াজ যোগ করা হয়। আলু কিংবা পেঁয়াজ, পুষ্টিতে কেউ কারও চেয়ে কম নয়। কিন্তু আজ পুষ্টি নিয়ে কথা হবে না, কথা হবে এমন একটি বিষয়ে যা জানা আপনার জন্য জরুরি।

পেঁয়াজ এবং আলু একসাথে সংরক্ষণ করা উচিত?
আলু এবং পেঁয়াজ সম্পর্কে আমরা জানি না এমন একটি সাধারণ তথ্য হলো, এগুলো একসাথে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। বিস্মিত? আসলে এটি আমাদের অনেকের জন্যই বিস্ময়কর। কারণ আমরা বেশিরভাগই একই ঝুড়িতে পেঁয়াজ এবং আলু রাখি।

কেন একসাথে রাখা উচিত নয়?
পেঁয়াজ ইথিলিন গ্যাস উৎপাদন এবং নির্গত করে, যা ফল কিংবা সবজিকে দ্রুত পাকতে সাহায্য করে। তাই পেঁয়াজের সঙ্গে আলু রাখলে তা আরও দ্রুত পচতে এবং নষ্ট হতে পারে। এই গ্যাস আলুর অঙ্কুরোদগমকেও দ্রুত করতে পারে। আলুর অংকুর গ্লাইকোয়ালকালয়েডের উচ্চ ঘনত্বের কারণে বিষাক্ত হিসাবে বিবেচিত হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়াও,পেঁয়াজ এবং আলু উভয়েই আর্দ্রতা ছেড়ে দেয়, যা এগুলোকে দ্রুত শুষ্ক করে তুলতে পারে। শুষ্ক এবং শীতল, ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় এগুলো আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা ভালো।

কীভাবে সংরক্ষণ করা উচিত?
আলু তাক কিংবা মিটসেফে সংরক্ষণ করতে হবে। এই জায়গাগুলো অন্ধকার, শীতল এবং শুকনো এবং এগুলো আলু সংরক্ষণ করার জন্য উপযুক্ত। এগুলো ঘরের তাপমাত্রার চেয়ে কম তবে রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা ভালো। এই জায়গাগুলো গরমে বাড়ির বাকি অংশের চেয়ে শীতল হয় তাই এগুলো সংরক্ষণের জন্য সঠিক জায়গা। অংকুরিত আলুর অংকুরগুলো কেটে ফেলে দিলে এরপর তা খাওয়া নিরাপদ।

পেঁয়াজ বায়ুচলাচল করে এমন কোনো উঁচু স্থানে রাখতে হবে। কাগজের ব্যাগ বা তারের ঝুড়িতেও রাখতে পারেন। পেঁয়াজ কিংবা আলু কখনোই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত নয় কারণ ঠান্ডা তাপমাত্রা এগুলো নরম করে দেবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খাবার নিরাপদ রাখার ৫ উপায়

আজ ৭ জুন। নিরাপদ খাদ্য দিবস। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য হলো, “নিরাপদ খাদ্য, প্রত্যেকের অংশগ্রহণ”। অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য শৃঙ্ক্ষলের সাথে সংযুক্ত সবার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ জরুরি। খাদ্য শৃঙ্খলসংশ্লিষ্ট যে কেউ খাদ্যকে অনিরাপদ করতে পারে। খাদ্য দিবসে খাদ্য খাদ্য নিরাপদ রাখার চাবিকাঠিগুলো কী কী সেগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক খাদ্য নিরাপদ রাখার ৫টি উপায় সম্পর্কে। জানাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ বিল্লাল হোসেন-

পরিষ্কার রাখুন
* খাবার তৈরির পূর্বে ও খাবার তৈরির সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন।
* টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধৌত করুন।
* খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও রান্নাঘর নিয়মিত ধৌত করুন।
* বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় থেকে রান্নাঘর সুরক্ষিত রাখুন।

কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন
* কাঁচামাংস ও মাছ অন্যান্য খাবার থেকে আলাদা রাখুন।
* কাঁচামাছ সবজি কাটার জন্য আলাদা ছুরি বা চাকু ব্যবহার করুন
* কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা পাত্রে সংরক্ষণ করুন

সঠিক তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে খাবার রান্না করুন
* বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিম সম্পূর্ণরুপে সিদ্ধ করে রান্না করুন।
* ৭০ ডিগ্রি সেন্টি গ্রেড তাপ মাত্রায় খাবার রান্না করুন।
* বাসি খাবার পুনরায় খাওয়ার আগে ভাল করে তাপ দিয়ে নিন।

নিরাপদ তাপমাত্রায় খাবার রাখুন (৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে এবং ৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের উপরে)
* রান্না খাবার কক্ষ তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না।
* রেফ্রিজারেটরে খাবার সংরক্ষণের সময় ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার নিচে সংরক্ষণ করুন।
* রান্না করা খাবার৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার উপরে সংরক্ষণ করুন।
* রেফ্রিজারেটরে বেশি সময় ধরে খাবার সংরক্ষণ করবেননা।

নিরাপদ পানি ও নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার করুন
* নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন।
* রান্নায় নিরাপদ ও সতেজ খাবার ব্যবহার করুন।
* কাঁচা ফলমূল ও সবজি খাওয়ার আগে অবশ্যই ধুয়ে নিন।
*মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আসুন নিরাপদ খাবার খাই, সুস্থ্য থাকি। স্বাস্থ্যবান জাতি গড়তে সহায়তা করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

প্রতিদিন দই খেলে কী হয়?

পৃথিবীজুড়ে অস্থিরতা, উদ্বিগ্নতা। মন ভালো নেই কারও। মন খারাপের জন্য তাই এই সময়ে অন্যকিছুর দরকারও নেই। ভাবছেন, দইয়ের সঙ্গে মন খারাপের কী সম্পর্ক? তাহলে শুনুন, চকোলেটের মতো দই খেলেও মন ভালো হয়।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মন খারাপ কাটাতে একবাটি দই বেশ কার্যকরী। মন খারাপের সময় একবাটি দই খেয়ে নিলেই দেখবেন মন খারাপ দূর হতে শুরু করেছে। মনের ভেতরে থাকা নানারকম দুঃখ তো দূর হবেই, সেইসঙ্গে মস্তিষ্কে বেশ কিছু রাসায়নিকের ক্ষরণের ফলে নিমেষে মন ভালো হয়ে যাবে।

যদি রাতের বেলা মন খারাপ হয়? অনেকে মনে করেন, রাতে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। সত্যি কি তাই? সাধারণত রাতের বেলা দই খেলে শরীরের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।

যাদের একটুতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত রয়েছে, তাদের সন্ধ্যার পর দই না খাওয়াই ভালো। কারণ দই খেলে শরীরে মিউকাস জমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সর্দি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু রাতে দই খেলে শরীরের খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

দিনের বেলা খালি দই খাওয়া চলতে পারে, কিন্তু যদি রাতে দই খাওয়ার ইচ্ছে জাগে, তবে দইয়ের সঙ্গে অল্প চিনি বা গোলমরিচ মিশিয়ে তারপর খেতে হবে। এতে হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। ফলে গ্যাস্ট্রিকের ভয় কমবে।

গবেষকরা লক্ষ করে দেখেছেন, দইয়ে উপস্থিত ল্যাক্টোব্যাসিলাস, সহজ কথায় উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরে থাকা মাইক্রোবায়োমের চরিত্র বদলে দেয়। ফলে ডিপ্রেশন বা অবসাদ দূরে পালায়।

আমাদের ডিপ্রেশন বা মন খারাপ তখনই হয়, যখন মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এক্ষেত্রেও দই বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। মন খারাপ করা হরমোনকে আক্রমণ করতে ‘ফিল গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে মন খারাপ কমতে শুরু করে।

বেশ কিছু গবষণায় দেখা গেছে, পাকস্থলিতে উপস্থিত মাইক্রোবায়োম মানসিক স্বাস্থ্যে ভালো-মন্দের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মন বা মস্তিষ্কের সম্পর্ক ভালো রাখতে প্রতিদিন একবাটি দই থাকুক খাবারের তালিকায়।

মন খারাপের সময় শরীরে ল্যাক্টোব্যাসিলাসের পরিমাণ কমে যায়। ফলে কাইনুরেনাইন নামে একটি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা স্ট্রেস লেভেলকে নিমেষে বাড়িয়ে দেয়। এই সময় যদি কোনোভাবে শরীরে ল্যাক্টোব্যাসিলাসের মাত্রা বাড়ানো যায়, তাহলেই স্ট্রেস তো কমেই, সঙ্গে উৎকণ্ঠাও কমতে শুরু করে। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করবে দই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com