আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

পানিফল : দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন
পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

পানিতে জন্মে বলে পানিফল। প্রায় ৩ হাজার বছর আগে থেকেই চীন দেশে পানিফলের চাষ হয়ে আসছে বলে ধারণা করা হয়। বিগত কয়েক দশক থেকে আমাদের দেশেও পানিফলের চাষ হয়ে আসছে বিচ্ছিন্নভাবে কারও কারও ব্যক্তিগত আগ্রহে। যদিও পানিফল নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা বা সুষ্ঠু পরিকল্পনা এখনো হয়নি।

বর্তমানে সাতক্ষীরার দেবহাটা, নওগাঁ পানিফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। এ ফলের গাছ হয় পানিতে। স্থির বা ধীর প্রবাহমান স্রোতের পানিতে পানিফল জন্মে। ফল দেখতে অনেকটা সিঙ্গারার মতো বলে সাতক্ষীরার লোকজন এক ডাকে ‘সেঙ্গারা’ ফল নামে। এ দেশের কিছু জায়গায় পানিফল সিঙ্গারা ফল নামেই পরিচিতি।

পরিচয়
এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। ইংরেজি নাম Water chestnut, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Trapa bispinosa, পরিবার- Onagraceae। এটি ইংরেজিতে Water chestnut হলেও স্থানভেদে Water caltrop, Buffalo nut, Devil Pod- এসব নামে পরিচিত। প্রজাতির নাম বাইস্পাইনোসা মানে দুটি কাঁটা থেকেই বোঝা যায় যে, ফলে দুটি কাঁটা বর্ষজীবী জলজ ও গাছ।

সাধারণত চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ফিলিপাইন, আফ্রিকা- এসব দেশে পানিফল আবাদ হয়। এটি যদিও অনেকে পানির বাদাম বলে কিন্তু আসলে বাদামের কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই এতে। এটি পুরোপুরিভাবে পানীয় ফল। কাঁচা অবস্থায় এ ফল খাওয়া যায়। আবার সিদ্ধ করে, রান্না করে কিংবা প্রক্রিয়াজাত করেও খাওয়া যায়।

চীনে বিভিন্ন সবজির সাথে মিশিয়ে এ সবজি রান্না করা হয়। চীনের খাদ্যতালিকায় পানিফল বেশ জনপ্রিয় এবং আবশ্যকীয়। চীনারা পানিফলকে শুকিয়ে আটা তৈরি করে। সে আটা দিয়ে তারা পিঠা, কেক, বিস্কুট তৈরি করে এবং বাজারে বিক্রি করে। তারা পানিফলকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও পানিফল গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের অতিপরিচিত পানিফলটি শুধু গ্রামেই নয়, শহরের ফুটপাতের ফলের দোকানে স্থান করে নিয়েছে। তবে কালচে সবুজ রঙের এ ফলটি এখনো শহরের বড় বড় ফলের দোকানে স্থান করে নিতে পারেনি।

পুষ্টি ও ভেষজগুণ
পানিফল পুষ্টিতে ভরপুর। প্রায় ৯০% কার্বোহাইড্রেড, ৬০% শর্করা আছে। তাছাড়া বেশ ভালো পরিমাণ আঁশ, রাইবোফ্লেবিন, ভিটামিন-বি, পটাসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আমিষ, ভিটামিন আছে। পুষ্টিমানের বিবেচনায় পানিফলে খাদ্যশক্তি আছে ৬৫ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৮৪.৯ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.৬ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গাম, চর্বি ০.৯ গ্রাম, শর্করা ১১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি১ ০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি২ ০.০৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ১৫ মিলিগ্রাম। পানিফলের শুধু খাদ্যগুণই না, রয়েছে ওষুধি গুণও।

পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগ কমে যায়। উদরাময় ও তলপেটে ব্যথায় পানিফল খুবই উপকারী। বিছাপোকা বা অন্যান্য পোকায় কামড় দিলে যদি জ্বালাপোড়া হয়; তবে ক্ষতস্থানে কাঁচা পানিফল পিষে বা বেটে লাগালে দ্রুত ব্যথা দূর হয়। কাঁচা পানিফল বলকারক, দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। পানিফলে শর্করা ও প্রোটিন আছে যথেষ্ট। শাঁস শুকিয়ে রেখে খাওয়া যায়। বিছা বা পোকার কামড়ে কাঁচা পানিফল বেটে সেখানে লাগালে দ্রুত ব্যথা দূর হয়।

বোটানি
পানিফলের বেশ কয়েকটি প্রজাতি আছে। ফল থেকে বংশবিস্তার হয়। পানিফলের গাছ ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নিচে মাটিতে এর শিকড় থাকে এবং পানির উপরে পাতাগুলো ভাসতে থাকে। মূলকাণ্ডের সাথে গাঢ় সবুজ বা লালচে সবুজ ত্রিভূজাকৃতি মোটা ও নরম পাতাগুলো গোলাকারভাবে পানির উপর ভাসে। পাতা ৮ সেন্টিমিটর লম্বা ও পাতার কিনারা খাঁজকাটা, প্রায় ৬ সেন্টিমিটার চওড়া। পাতার বোঁটা পশমযুক্ত। পত্রফলক বেশ মাংসল পুরু তেল তেলে।

পানিফলের ফুল ক্ষুদ্রাকার ও সাদা রঙের উভলিঙ্গ ফুল হয়। ফল দেখতে সিঙ্গাড়ার মতো তিন কোণাকার। দু’পাশে শক্ত দুটি কাঁটা  থাকে। তবে ফল ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, পানিফল দেখতে যেন অবিকল গরুর মাথার মতো।  দুপাশে শিঙের মতো দুটি কাঁটা ফলের উপর চোখ নাক মুখ এর আবয়ব অত্যন্ত স্পষ্ট। ফলের রঙ নীলাভ সবুজ বা কালচে সবুজ। পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিণ্ডাকার বা ত্রিভূজাকৃতির নারম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ মজা। রসাল ও মিষ্টি মিষ্টি ভাব। গাছের শিকড় থাকে প্যাক বা কাদার মধ্যে, কাণ্ড থাকে জলে ডুবে, পাতা ফুল ও ফল ভাসে পানির উপরে।

পাতা দু’টি স্তরে গোলাপের পাপড়ির মতো চক্রাকারে বিপরীতমুখীভাবে কাণ্ডের উপর সাজানো থাকে। পাতা অনেকটা কচুরিপানার পাতার মতো দেখতে, তবে ছোট ও পুরু, গাঢ় সবুজ। পাতায় শিরা তেমন চোখে পড়ে না মাংসল ভাবের জন্য। কাণ্ড নলাকার দড়ির মতো, পেন্সিলের মতো মোটা হয়। গাছ ৫ মিটার গভীর পর্যন্ত পানিতে বেঁচে থাকতে পারে। পানিফল উদ্ভিদকে অনেক সময় জলজ আগাছা হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ফলের ৪ পাপড়ির ছোট ছোট ফুলগুলো খুবই মনোমুগ্ধকর। আগাম লাগালে প্রতি গাছে ১০-১২টি শাখা হয়। আর দেরিতে লাগালে প্রতি গাছে ৬-৭টি শাখা হয়। প্রতি শাখায় ৬-৭টি ফল আসে। তবে অভিজ্ঞতায় বলে পানিফলের গাত্রবৃদ্ধি বা বাড়বাড়তি ফুল আসার আগ পর্যন্ত চলতে থাকে। দেরিতে আসা শাখার ফল একটু ছোট এবং দুর্বল হয়।

উৎপাদন মৌসুম
জুন মাসে বৃষ্টি হলে চারা লাগানো হয়। তবে পানির ব্যবস্থা থাকলে অনেকে মে মাসেও চারা লাগান। বাংলা আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত চারা লাগানো যায়। মৌসুম শেষে পরিপক্ক ফল কোন পুকুরে, পানিযুক্ত স্থানে, কিংবা কাদা পানিযুক্ত পাত্রে রেখে দেয়া হয়। ক’মাস পর ফল থেকে চারা গজায়। সে চারা পরবর্তী মৌসুমে মূল জমিতে লাগানো হয়। চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৬৫ দিন পর ফুল আসে মানে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে।

ফুল আসার ১৫-২০ দিন পর ফল তোলার মতো পরিপক্ক হয়। ফলগুলো ১০-১২ বছর পর্যন্ত অঙ্কুরোদগম সম্পন্ন থাকে। অবশ্য ২ বছরের মধ্যে অঙ্কুরোদগম হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পানিফল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

আবাদ কৌশল
মোট জীবনকালের ৭ থেকে ৮ মাস মেয়াদি এ ফলটির পরিপক্ক বীজ রোপণ করতে হয় জ্যৈষ্ঠ মাসে। অল্প খরচে পানিতেই এ ফলের চাষ করা যায়। ১ থেকে দেড় ফুট পানি থাকাকালীন পুকুর বা বিলে কৃষক পানি ফলের চারা রোপণ করেন। এক চারা থেকে আরেক চারা দূরত্ব ১ থেকে দেড় হাত। লাগানো বা রোপণের সময়ের ওপর দূরত্ব কম বেশি করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানিফল জমির যেটুকু থেকে চারা তৈরি করা হবে সেটুকু পানিফল গাছ না তুলে রেখে দেয়া হয়। পরে পরিপক্ক ফল গাছ থেকে ফল ঝরে মাটিতে পড়ে। ওখান থেকে চারা হয়। নতুন একটি চারা থেকে অনেক চারা হয়। মে-জুন মাসে বৃষ্টি শুরু হলে চারা লাগানো হয়।

ফুল আসে লাগানোর ৬০-৬৫ দিন পরে। ফুল আসার ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল তোলার মতো পরিপক্ক হয়। চারা লাগানোর আগে শুকনা মাটিকে বা পানিযুক্ত মাটিতে এমওপি, ডিএপি, টিএসপি, জিপসাম সার দেয়া হয়। তবে সারের মাত্রা সব জায়গায় এক রকম না। কেননা কৃষক নিজেদের বুদ্ধি আর বিবেচনায় সারের মাত্রা নির্ধারণ করেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের সহায়তা নিয়ে সারের মাত্রা নির্ধারণ করেন। কেউ কেউ জৈবসারও ব্যবহার করেন। ফল চাষ শুরু হয় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং ফল সংগ্রহ করা হয় অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে। ফল কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ক হলে কালো রং ধারণ করে।   

ময়লা কলুষিত পানি পরিশোধের ক্ষমতা রয়েছে পানিফল গাছের। সে কারণে অনেকে নোংরা স্বল্প গভীর জলাশয় যেখানে মাছ চাষ করা যায় না এমন পরিত্যক্ত জায়গায় পানিফলের গাছ লাগিয়ে পানি পরিষ্কার করে পরের বছর তাতে মাছের চাষ করেন। পানি ফলের আদি বাসস্থান সম্ভবত এ উপমহাদেশে। কেউ কেউ মনে করেন আদি নিবাস ভারতবর্ষ। উত্তর আমেরিকাতে ১৮৭৪ সালে পানিফল প্রবর্তন ও চাষ শুরু করা হয় বলে জানা গেছে। এ দেশের নিচু এলাকার জলাশয়গুলোতে  জন্মে থাকে।

বীজ থেকে পানিফলের গাছ জন্মে। সাধারণত পাকা ফলের বীজ প্রথম দু’বছরের মধ্যেই গজিয়ে যায়। পানিফলে সাধারণত তেমন কোনো রোগ পোকা দেখা যায় না। তবে কোন কোন সময় পানিবাহিত রোগ বা পাতা খাদক পোকা সমস্যা সৃষ্টি করে, আবাদ উৎপাদনের কিছুটা ক্ষতি করে। সে ক্ষেত্রে কৃষক কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেন এবং সমস্যা উৎরে যান পানিফলকে বালাইয়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।

পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন
পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

আয়-ব্যয়
পানিফল বর্ষজীবী ফসল। মোটামুটি আবাদের ৪-৫ মাস থেকেই ফল তোলা শুরু হয়। চলে ১ বছর পর্যন্ত। পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফল চাষ হয়। প্রতি বিঘায় ২ থেকে আড়াই মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। সে হিসেবে প্রতি হেক্টরে ১৮ থেকে ২০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন হয়। জলাশয়ে পানিফলের চাষাবাদ প্রতিবিঘায় খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘা থেকে আয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সাতক্ষীরার একজন কৃষক ১২বিঘা জলাশয় থেকে প্রায় ৫শ’ মণ পানিফল বিক্রি করবেন। বর্তমানে প্রতিমণ পাইকারি পানিফলের মূল্য ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মানে প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকায়। তবে শুরুতে এ ফল ১ হাজার ২শ’ টাকা মণ হিসেবে পাইকারি বিক্রি হয়, যা খুচরা বাজারে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

প্রাপ্তিস্থান
দেশের সব জেলায় পানিফলের চাষাবাদ হয় না। তাই মানুষ এটি কম চেনে। কিন্তু সম্প্রতি সাতক্ষীরা থেকে এই ফল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। সুস্বাদু এ ফলটি এখন জেলার কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে। এ ফল চাষে অনেক বেকার শ্রমিকেরও কর্মস্থান হয়েছে। অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষক লাভবান হচ্ছে, অপরদিকে বেকারত্বও দূর হচ্ছে। সবচেয়ে বড়কথা অল্প পুঁজিতে কম দামে বেশি ফলন লাভ হয় এমন ফসল খুব কম আছে। সাতক্ষীরাসহ বেশ কিছু জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পানিফল। লাভ বেশি হওয়ায় পানিফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের চাষিরা।

সিঙ্গারা ফল
অনেক আবার পানিফলের সাথে সিঙ্গারা ফলকে গুলিয়ে ফেলেন। সেজন্য একই সাথে সিঙ্গারা ফলের ও কিছু বর্ণনা দিয়ে দিলাম। সিঙ্গাড়া ফল খুব শক্ত, বাদামি রঙের শক্ত সে খোসার মধ্যে থাকে নাট বা বাদামের মতো শাঁস। দা দিয়ে জোর করে কাটতে হয়। সিঙ্গাড়ার মতো গড়ন বলে এ ফলের নাম সিঙ্গাড়া ফল। তবে এটিও এক ধরনের পানিফল। সিঙ্গাড়া ফলের শাঁস ও খোসা শক্ত, কাঠের মতো, কাঁটা থাকে চারটি। কাঁটাগুলো সরু, শক্ত বেশ তীক্ষ্ন। সিঙ্গাড়া ফলের গাছ ভাসমান বর্ষজীবী জলজ প্রকৃতির। পাতা ত্রিভূজাকৃতির, গাঢ় সবুজ।

শিকড় ও কন্দ থাকে প্যাক বা কাদার মধ্যে, কাণ্ড থাকে পানিতে আর পাতা, ফুল ও ফল পানির উপর ভেসে থাকে। ফলের আকার অনেকটা ত্রিভূজাকার, প্রিজমের মতো, শক্ত। কেটে ভেতরের সাদা শাঁস খাওয়া যায়। শাঁস স্বাদে পানসে মিষ্টি, কিন্তু চিবিয়ে খেতে মজা লাগে। কোথাও কোথাও পাকা ফলের শাঁস আলুর মতো রান্না করে খাওয়ারও প্রচলন আছে।

এমনকি শাঁস শুকিয়ে গুঁড়া করে রেখে পরে খাওয়া যায়। কাঁচা ফল প্রস্রাব ও রুচি বৃদ্ধিকারক, বলবর্ধক। সিঙ্গাড়া ফলের দেখা মিলেছে পাবনার বিল কুরারিয়ায়। সুনামগঞ্জের হাওরেও আছে।

পানিফলটি দেশব্যাপী খুব বেশি পরিচিত নয়। অনেকে হয়তো এখনো চিনেনই না। পানিফল পুষ্টিসমৃদ্ধ, ভেষজগুণসম্পন্ন সহজ সরল কৌশলে উৎপাদিত দামি ফল। আবাদের খরচ নেই বললেই চলে। লাভ হয় অনেক বেশি। সবচেযে বড়কথা যেসব জমিতে অন্যান্য ফসল আবাদ করা যায় না; সেখানে অনায়াসে পানিফল আবাদ করা যায়।

পতিত জমি আবাদের আওতায় এনে লাভবান হওয়া যায়। সেক্ষেত্রে পানিফলটি আমাদের কৃষি উন্নয়ন সমৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। তবে এক্ষেত্রে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবহার এসবের ওপর ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার।

সার ব্যবস্থাপনা, বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ পরামর্শ ও অনুমোদন দরকার। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর বিনিয়োগে পানিফল দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।

ফল

পুষ্টিগুণে ভরা দেশি ফল ‘অড়বড়ই’

টক স্বাদের ফলের মধ্যে অন্যতম অড়বড়ই। দেখতে আমলকীর মতো তবে ঢেউ খেলানো। রং হালকা হলুদ। ফলটির ত্বক মসৃণ। প্রচুর ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফল। আমাদের দেশে এলাকা ভিত্তিতে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে— যেমন- নলতা, লেবইর, ফরফরি, নইল, নোয়েল, রয়েল, আলবরই, অরবরি ইত্যাদি। পাকা অড়বড়ই ঝাল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ মজা লাগে! এছাড়া এটা দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়।

অড়বড়ই এর ইংরেজি নাম- Otaheite gooseberry, Malay gooseberry, Tahitian gooseberry, country gooseberry, star gooseberry, West India gooseberry ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus acidus, যা `Phyllanthaceae` পরিবারভুক্ত।

বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে একে নলতা, লেবইর, ফরফরি, নইল, নোয়েল, রয়েল, আলবরই, অরবরি ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। এর আদি নিবাস কোথায় তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় মাদাগাস্কারে এর উৎপত্তি। অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানী এটাও বলেন যে এর আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া।

টক স্বাদের পাকা অড়বড়ই এর ভর্তা ভীষণ মজা। এছাড়া অড়বড়ই দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। অনেকে এটা দিয়ে চমৎকার টক রান্না করেন। অড়বড়ইয়ের রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ফলটির রয়েছে অনেক ঔষধি গুণও।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অড়বড়ইয়ে রয়েছে- জলীয় অংশ ৯১.৯ গ্রাম, আমিষ ০.১৫৫ গ্রাম, চর্বি ০.৫২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭.৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.২৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১৯ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২৫ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০১৩ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২৯২ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ৪.৬ মিলিগ্রাম।

অড়বড়ই গাছের কচিপাতা ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে অড়বড়ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অড়বড়ইয়ের রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়। মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই বিনা দ্বিধায় খেতে পারেন এই চমৎকার ফলটি।
এছাড়াও অড়বড়ইয়ের রয়েছে নানা ঔষধি গুণও! যেমন –

♦ লিভারের অসুখের টনিক বানানো হয় এর বীজ দিয়ে।

♦ পেটের অসুখ ও কৃমিনাশক হিসেবে এর বীজ ব্যবহার করা হয়।

♦ অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে অড়বড়ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

♦ অড়বড়ইয়ের রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়।

♦মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আধুনিক উপায়ে কলা চাষ

কলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল যা সারা বছর পাওয়া যায়। কলাকে প্রাচীন সাহিত্যে কদলি বলা হতো।
কলাগাছ, কলাপাতা, কলাগাছের শিকড় ও কলা সবই উপকারী। কলাগাছ ও কলাপাতা শুধুমাত্র পশু খাদ্য নয়। এদের আছে আশ্চার্যজনক ভেষজ গুণ। রোগ নিরাময়ে অদ্বিতীয়।

কলার পুষ্টিগুণ প্রচুর। কলা উপাদেয় খাদ্য। কাঁচা পাকা দুই অবস্থায়ই খাওয়া যায়। কলায় রয়েছে জলীয় অংশ ৭০ গ্রাম, আঁশ ০.৫ গ্রাম, খাদ্য শক্তি (কিলোক্যালরি) ১০৯, আমিষ ০.৭ গ্রাম, চর্বি ০.৮ গ্রাম, শর্করা ২৫.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১.০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২৪ মিলিগ্রাম। নারিকেল ছাড়া আর কোনো খাদ্যেই কলার মতো খাদ্যশক্তি নেই। তাই যে কোনো সময় পরিশ্রান্তে অথবা শক্তিক্ষয়জনিত অবস্থায় কলা আহার করলে শরীর পুনরায় কর্মক্ষম হয়ে উঠবে। নারিকেলে ৩৫.৫৭ গ্রাম চর্বি থাকে। যদিও নারিকেলের শর্করা মাত্র ১০.২২ গ্রাম। নারিকেলে খাদ্য শক্তি ৩৭৬ কিলোক্যালরি। যা প্রচলিত ফলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দৈনিক খাদ্য তালিকায় সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ৬০ গ্রাম ফলাদি থাকা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে খাবারে আপনার পছন্দের যে কোনো কলা থাকতে পারে।
কলা চাষ : বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যেসব জাতের আবাদ হচ্ছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হচ্ছে বারিকলা-১ ও বারিকলা-২ (আনাজিকলা), অমৃতসাগর, সবরি, চম্পা, কবরি, মেহেরসাগর, বীচিকলা অন্যতম।

মাটি : পর্যাপ্ত রোদযুক্ত ও পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত উঁচু জমি কলা চাষের জন্য উপযুক্ত। উর্বর দো-আঁশ মাটি কলা চাষের জন্য উত্তম। চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল ও আগাছামুক্ত করে নিতে হবে।

চারা রোপণ : কলার চারা বছরে ৩ সময়ে রোপণ করা যায়। ১ম রোপণ কাল : আশ্বিন-কার্তিক সবচেয়ে ভালো সময়। ২য় রোপণ কাল : মাঘ-ফাল্গুন ভালো সময়। ৩য় রোপণ কাল : চৈত্র-বৈশাখ মোটামুটি ভালো সময়।

চারার দূরত্ব : সারি থেকে সারির দূরত্ব ২ মিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ২ মিটার।
গর্ত তৈরি : চারা রোপণের মাসখানেক আগেই গর্ত খনন করতে হবে। গর্তের আকার হবে ৬০ সেমি. চওড়া ও ৬০ সেমি. গভীর। গর্ত তৈরি হয়ে গেলে গোবর ও টিএসপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরে রাখতে হবে।

চারা রোপণ : রোপণের জন্য অসি তেউড় উত্তম। অসি তেউরের পাতা সরু, সুঁচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো, গুড়ি বড় ও শক্তিশালী এবং কা- ক্রমশ গোড়া থেকে ওপরের দিকে সরু হয়। তিন মাস বয়স্ক সুস্থ সবল তেউড় রোগমুক্ত গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
সার ও সার প্রয়োগ পদ্ধতি

অর্ধেক গোবর জমি তৈরির সময় এবং অবশিষ্ট অর্ধেক গর্তে দিতে হবে। অর্ধেক টিএসপি একই সঙ্গে গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের দেড় থেকে দুই মাস পর ৪ ভাগের ১ ভাগ ইউরিয়া, অর্ধেক এমপি ও বাকি টিএসপি জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এর দুই থেকে আড়াই মাস পর গাছ প্রতি বাকি অর্ধেক এমপি ও অর্ধেক ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। মোচা বের হওয়ার সময় অবশিষ্ট ৪ ভাগের ১ ভাগ ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।

কলা গাছের পরিচর্যা : চারা রোপণের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে তখনই সেচ দেয়া উচিত। এছাড়া শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেয়া দরকার। বর্ষার সময় কলা বাগানে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য নালা থাকা আব্যশক। মোচা আসার পর গাছপ্রতি মাত্র একটি তেউড় বাড়তে দেয়া ভালো।

রোগ ও প্রতিকার : কলা গাছের প্রধানতম রোগগুলো হচ্ছে পানামা, বানচিটপ ভাইরাস, সিগাটোকা ও কলার দাগ রোগ।

পানামা রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছের তেউড় হিসেবে চারা ব্যবহার করা যাবে না।
বানচিটপ ভাইরাস রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। গাছ উঠানো আগে জীবাণু বহনকারী ‘জাব পোকা’ ও ‘থ্রিপস’ কীটনাশক ওষুধ দ্বারা দমন করতে হবে। সুস্থ গাছেও কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে হবে।

সিগাটোকা রোগ আক্রান্ত গাছের পাতা পুড়ে ফলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি লিটার টিল্ট ২৫০ ইসি ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর গাছে ছিটাতে হবে।

বিটল পোকার আক্রমণে কলার গায়ে বসন্ত রোগের দাগের মতো দাগ হতে দেখলে কলার মোচা বের হওয়ার সময় ছিদ্রবিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ দিয়ে মোড়ে দিতে হবে। এছাড়াও অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়। যে কোনো ধরনের রোগের প্রতিকারের জন্য রোগ আক্রান্ত মাঠে বার বার কলা চাষ করা যাবে না।
ফসল সংগ্রহ : কলার চারা রোপণের ১১-১৫ মাসের মধ্যেই সাধারণত সব জাতের কলা পাকার উপযুক্ত হয়। প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ টন কলার ফলন পাওয়া যাবে।

কলা ও কলা পাতার ভেষজ গুণ
ক. রোগ নিরাময়ে কলার ব্যবহার
১. শুষ্ক কাশিতে : একটি পাকা কলা চটকে অল্প পানিতে মিশিয়ে হালকা গরম করে সেটাকে ছেঁকে নিয়ে সেই পানিটা সকাল ও বিকালে কয়েক দিন খেলে উপশম হবে। তবে প্রতিদিন নতুন করে তৈরি করতে হবে।
২. সন্ধিযুক্ত গলক্ষতে : গলায় ব্যথা, লাল দেখায়, কর্ণমূল পর্যন্ত ব্যথা, মনে হয় যেন গলায় ঘা হয়েছে, গলার স্বর ভাঙা ভাঙা; এ ক্ষেত্রে একটা পাকা কলা ১ কাপ পানি দিয়ে চটকে গরম করে ছেঁটে নিয়ে সকালে এবং নতুন করে তৈরি করে বিকালে খেতে হবে। মাসখানিক খেলেই উপশম হবে।

৩. কৃমিতে : ১ চা-চামচ কলাগাছের শিকড়ের রস সকালে খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক ৩-৪ চা-চামচ, কিশোর বয়স্কদের ২ চা-চামচ আর শিশুদের ১ চা-চামচ খাওয়াতে হবে।
৪. প্রদর রোগে : ১টা কাঁচাকলা চাকা চাকা করে কেটে রাত্রে ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খালিপেটে সেই পানি খেলে মাসখানিকের মধ্যে প্রদর রোগ সেরে যাবে।
৫. ডায়রিয়াতে : কাঁচাকলা দুই তিনটা খোসাসহ দুই-টুকরো করে কেটে অল্প পানিকে সিদ্ধ করে কলার ভর্তা ৪-৫ বার খেলে দাস্ত বা বেশি পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি খাবার স্যালাইনও চলবে।
৬. প্রসূতির কাঁচা নাড়ি শুকাতে : প্রসবের পর শরীরকে ঝরঝরে করার জন্য কাঁচা কলা পুড়ে ভর্তা করে ভাত খেতে দিতে হবে।
খ. কলাপাতার ব্যবহার

কলাগাছের সবুজ পাতার রস, মোচা, থোড় সবই প্রয়োজনীয়। সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, কোষ্ঠবদ্ধতা, আমাশয়, রক্তদুষ্টি, অম্লগ্যাস, উচ্চরক্তচাপ, লিভারের দোষ হলে কলাপাতার রস উপকারী। ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে কলাপাতার সাহায্যে বহু রোগের চিকিৎসা করা হয়। ফরাসি ডাক্তাররা শোথ, যক্ষ্মা;, আন্ত্রিক, আমাশয় ও অতিসারে কলাপাতার রস খেতে বলেন।
না-কচি, না-শক্ত বিবর্ণ পাতা অর্থাৎ সবুজ পাতা বেটে বা থেঁথলে ছেঁকে সকালের দিকে আধা কাপ খেতে হবে। নুন, চিনি ইত্যাদি মিশিয়ে খাওয়া চলবে না। কলাপতায় থাকে ক্লোরোফিল। ক্লোরোফিল পেটে গেলে অন্ত্রের ঘা, লিউকোমিয়া, চর্মরোগ হয় না। কলাপাতার সবুজ রস রক্ত পরিষ্কার করে।

শরীরের কোথাও ক্ষত, চর্মরোগ হলে কলাপাতার রস ঘষে লাগালে উপকার হয়। ব্রঙ্কাইটিস, নেফ্রাইটিস, রক্তক্ষরণ, জমা সর্দিতে কলাপাতার রস খুবই কার্যকরী। প্লুরিশি, কাশি, ক্ষয়রোগ ও থুথুর সঙ্গে রক্ত পড়লে সবুজ কলাপাতার রস প্রতিদিন ভোরে আধাকাপ পরিমাণ খেলে ভীষণ উপকার হবে। কচি কলাপাতা বেটে প্রলেপ দিলে কীট দংশন, হুল ফোটা, কাটায় উপকার হবে।

সর্বপ্রকার দাঁতের ব্যথায় ‘প্ল্যান্টাগো’ (যা কলাপতা থেকে তৈরি হয়) হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা সুনামের সঙ্গে ব্যবহার করে আসছেন। প্যান্টাগোর মাদার তুলার দ্বারা দাঁতের গোড়ায় বাহ্যিক ব্যবহারে দাঁত ব্যথা আরোগ্য হয়। দন্তশূল, কর্ণশূল, কাটা, পোড়া, আঘাতাদি, সর্পদংশন, ইরিসিপেলাস ইত্যাদি নানাবিধ রোগে প্যান্টাগো সার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়। গলগ-, ফুলে উঠা, জ্বর, শিরপীড়া সারাতে প্যান্টাগো ব্যবহৃত হয়।
কানের ব্যথায় : কলাগাছের মাঝের গোল অর্থাৎ খুলে যায়নি, সেই পাতাকে থেঁতো করতে হবে। রস নিংড়ে নিয়ে একটু গরম করতে হবে। ওই রস ২ ফোঁটা একবার কানে দিলেই বেদনা কমে যাবে। প্রয়োজনে আবার দিতে হবে।

সাবধানতা : কাঁচাকলা উপাদেয় ও সুস্বাদু তরকারি হলেও তরকারিতে খেলে কোষ্টকাঠিন্য দেখা দিতে পারে এবং পেটে বায়ু জমতে পারে। মোচা ও থোড়ের তরকারি সবসময় খেলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হতে পারে। কারণ এদের মধ্যে অক্সালিড এসিড বিদ্যমান। পাকা কলা বেলা ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে খাওয়া উচিত। যখন তখন পাকা কলা খেলে ক্ষতি হতে পারে। কলা ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে, গিলে খেতে নেই। পাকাকলা মুখের লালাতেই হজম হয়।

সারের নাম প্রতি গাছে সারের পরিমাণ
গোবর-আবর্জনা সার ১৫-২০ কেজি
টিএসপি ২৫০-৪০০ গ্রাম
এমপি ২৫০-৩০০ গ্রাম
ইউরিয়া ৫০০-৬৫০ গ্রাম

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেয়ারা

পেয়ারা হচ্ছে এমন এক ফল যা সহজলভ্য এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ফাইবার, যা শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে দেখে নেওয়া যাক পেয়ারা স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে-

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক পেয়ারা। তার সঙ্গে কমায় ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রাও। যার ফলে হ্রাস পায় হৃদরোগে ঝুঁকি এবং সুস্থ থাকে হার্ট।ঋতুস্রাবের সময় হওয়া একাধিক শারীরিক ব্যথা ও সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সহায়ক পেয়ারা।

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাকেও দূর করে দেয় এই ফল। তার সঙ্গে হজমে সহায়তা করে পেয়ারা।

পেয়ারার মধ্যে বেশি পরিমাণ ফাইবার এবং কম পরিমাণ ক্যালোরি থাকায় ওজন কমে দ্রুত।

পেয়ারার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সারের কোষকে বৃদ্ধি হতে দেয় না এবং শরীরে গড়ে তোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

যেহেতু পেয়ারার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন, সুতরাং খুব স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ক্ষেত্রেও সহায়ক এই ফল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ব্রণ সমস্যা রোধে কলার খোসা

কমবেশি অনেকেরেই ব্রণ হয়ে থাকে। কারও মাস্কের কারণে ব্রণ বাড়ছে।কারও বা বাড়ছে ধুলা-ময়লায় বেরিয়ে। কারণ যা-ই হোক, সমাধান তো খুঁজতেই হবে।

কেউ কেউ ওষুধ কিংবা ক্রিম লাগিয়ে নানা ধরনের চেষ্টা করছেন সমস্যা সমধানে। তবে আরও একটি কাজ করা যেতে পারে। তার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজ উপায়ে কমিয়ে ফেলতে পারেন ব্রণের সমস্যা।

কলা খেয়ে খোসা ফেলে দেন তো? এবার থেকে আর ফেলবেন না। ওই খোসাতে আছে নানা ধরনের পুষ্টির উপাদান, যা ত্বকের যত্ন নেবে।

রোজ ত্বকে কলার খোসার সাদা অংশটি ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই কাজ করুন। তার পর মিনিট ১৫ সেভাবেই রেখে দিন। মুখ কিছুটা শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কলার খোসায় আছে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, মিনারেল এবং ফাইবার। তা ত্বকের প্রদাহ কমায়। তার প্রভাবেই কমবে ব্রণ। এরই পাশাপাশি, কলার খোসা ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াবে। কমাবে বলিরেখা পড়ার আশঙ্কাও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

জিআই স্বীকৃতি পেল রাজশাহীর আম

লেখক

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে ‘রাজশাহীর ফজলি আম’।

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্ক তাদের ‘দ্য জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিকেশনের’ (জিআই) ১০ নম্বর জার্নালে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্বীকৃতি মিলেছে। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল কেন্দ্র। 

আলীম উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘ফজলি আমের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে রাজশাহীর নামটি জড়িয়ে গেল। তবে এই স্বীকৃতি আসতে কম কষ্ট করতে হয়নি আমাদের! ফজলি আমের ইতিহাস,পণ্যটির সঙ্গে স্থানিক ও কালিক যোগাযোগের আদ্যোপান্ত, ডিএনএ সিকোয়েন্স আমাদের পাঠাতে হয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকাতেও কিন্তু ফজলি আম হয়। রাজশাহীর ৯টি উপজেলাতেই ফজলি আমের চাষ হয়। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার ফজলি আম খুবই পরিচিত।’ 

বাংলাদেশের মোট নয়টি পণ্য এপর্যন্ত জিআই সনদ পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইলিশ মাছ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাতি আম, দিনাজপুরের কাটারিভোগ ও বাংলাদেশি কালিজিরা, জামদানি, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি এবং নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদা মাটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com