আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

পানিফল : দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন
পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

পানিতে জন্মে বলে পানিফল। প্রায় ৩ হাজার বছর আগে থেকেই চীন দেশে পানিফলের চাষ হয়ে আসছে বলে ধারণা করা হয়। বিগত কয়েক দশক থেকে আমাদের দেশেও পানিফলের চাষ হয়ে আসছে বিচ্ছিন্নভাবে কারও কারও ব্যক্তিগত আগ্রহে। যদিও পানিফল নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা বা সুষ্ঠু পরিকল্পনা এখনো হয়নি।

বর্তমানে সাতক্ষীরার দেবহাটা, নওগাঁ পানিফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। এ ফলের গাছ হয় পানিতে। স্থির বা ধীর প্রবাহমান স্রোতের পানিতে পানিফল জন্মে। ফল দেখতে অনেকটা সিঙ্গারার মতো বলে সাতক্ষীরার লোকজন এক ডাকে ‘সেঙ্গারা’ ফল নামে। এ দেশের কিছু জায়গায় পানিফল সিঙ্গারা ফল নামেই পরিচিতি।

পরিচয়
এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। ইংরেজি নাম Water chestnut, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Trapa bispinosa, পরিবার- Onagraceae। এটি ইংরেজিতে Water chestnut হলেও স্থানভেদে Water caltrop, Buffalo nut, Devil Pod- এসব নামে পরিচিত। প্রজাতির নাম বাইস্পাইনোসা মানে দুটি কাঁটা থেকেই বোঝা যায় যে, ফলে দুটি কাঁটা বর্ষজীবী জলজ ও গাছ।

সাধারণত চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ফিলিপাইন, আফ্রিকা- এসব দেশে পানিফল আবাদ হয়। এটি যদিও অনেকে পানির বাদাম বলে কিন্তু আসলে বাদামের কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই এতে। এটি পুরোপুরিভাবে পানীয় ফল। কাঁচা অবস্থায় এ ফল খাওয়া যায়। আবার সিদ্ধ করে, রান্না করে কিংবা প্রক্রিয়াজাত করেও খাওয়া যায়।

চীনে বিভিন্ন সবজির সাথে মিশিয়ে এ সবজি রান্না করা হয়। চীনের খাদ্যতালিকায় পানিফল বেশ জনপ্রিয় এবং আবশ্যকীয়। চীনারা পানিফলকে শুকিয়ে আটা তৈরি করে। সে আটা দিয়ে তারা পিঠা, কেক, বিস্কুট তৈরি করে এবং বাজারে বিক্রি করে। তারা পানিফলকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও পানিফল গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের অতিপরিচিত পানিফলটি শুধু গ্রামেই নয়, শহরের ফুটপাতের ফলের দোকানে স্থান করে নিয়েছে। তবে কালচে সবুজ রঙের এ ফলটি এখনো শহরের বড় বড় ফলের দোকানে স্থান করে নিতে পারেনি।

পুষ্টি ও ভেষজগুণ
পানিফল পুষ্টিতে ভরপুর। প্রায় ৯০% কার্বোহাইড্রেড, ৬০% শর্করা আছে। তাছাড়া বেশ ভালো পরিমাণ আঁশ, রাইবোফ্লেবিন, ভিটামিন-বি, পটাসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আমিষ, ভিটামিন আছে। পুষ্টিমানের বিবেচনায় পানিফলে খাদ্যশক্তি আছে ৬৫ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৮৪.৯ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.৬ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গাম, চর্বি ০.৯ গ্রাম, শর্করা ১১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি১ ০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি২ ০.০৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ১৫ মিলিগ্রাম। পানিফলের শুধু খাদ্যগুণই না, রয়েছে ওষুধি গুণও।

পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগ কমে যায়। উদরাময় ও তলপেটে ব্যথায় পানিফল খুবই উপকারী। বিছাপোকা বা অন্যান্য পোকায় কামড় দিলে যদি জ্বালাপোড়া হয়; তবে ক্ষতস্থানে কাঁচা পানিফল পিষে বা বেটে লাগালে দ্রুত ব্যথা দূর হয়। কাঁচা পানিফল বলকারক, দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। পানিফলে শর্করা ও প্রোটিন আছে যথেষ্ট। শাঁস শুকিয়ে রেখে খাওয়া যায়। বিছা বা পোকার কামড়ে কাঁচা পানিফল বেটে সেখানে লাগালে দ্রুত ব্যথা দূর হয়।

বোটানি
পানিফলের বেশ কয়েকটি প্রজাতি আছে। ফল থেকে বংশবিস্তার হয়। পানিফলের গাছ ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নিচে মাটিতে এর শিকড় থাকে এবং পানির উপরে পাতাগুলো ভাসতে থাকে। মূলকাণ্ডের সাথে গাঢ় সবুজ বা লালচে সবুজ ত্রিভূজাকৃতি মোটা ও নরম পাতাগুলো গোলাকারভাবে পানির উপর ভাসে। পাতা ৮ সেন্টিমিটর লম্বা ও পাতার কিনারা খাঁজকাটা, প্রায় ৬ সেন্টিমিটার চওড়া। পাতার বোঁটা পশমযুক্ত। পত্রফলক বেশ মাংসল পুরু তেল তেলে।

পানিফলের ফুল ক্ষুদ্রাকার ও সাদা রঙের উভলিঙ্গ ফুল হয়। ফল দেখতে সিঙ্গাড়ার মতো তিন কোণাকার। দু’পাশে শক্ত দুটি কাঁটা  থাকে। তবে ফল ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, পানিফল দেখতে যেন অবিকল গরুর মাথার মতো।  দুপাশে শিঙের মতো দুটি কাঁটা ফলের উপর চোখ নাক মুখ এর আবয়ব অত্যন্ত স্পষ্ট। ফলের রঙ নীলাভ সবুজ বা কালচে সবুজ। পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিণ্ডাকার বা ত্রিভূজাকৃতির নারম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ মজা। রসাল ও মিষ্টি মিষ্টি ভাব। গাছের শিকড় থাকে প্যাক বা কাদার মধ্যে, কাণ্ড থাকে জলে ডুবে, পাতা ফুল ও ফল ভাসে পানির উপরে।

পাতা দু’টি স্তরে গোলাপের পাপড়ির মতো চক্রাকারে বিপরীতমুখীভাবে কাণ্ডের উপর সাজানো থাকে। পাতা অনেকটা কচুরিপানার পাতার মতো দেখতে, তবে ছোট ও পুরু, গাঢ় সবুজ। পাতায় শিরা তেমন চোখে পড়ে না মাংসল ভাবের জন্য। কাণ্ড নলাকার দড়ির মতো, পেন্সিলের মতো মোটা হয়। গাছ ৫ মিটার গভীর পর্যন্ত পানিতে বেঁচে থাকতে পারে। পানিফল উদ্ভিদকে অনেক সময় জলজ আগাছা হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ফলের ৪ পাপড়ির ছোট ছোট ফুলগুলো খুবই মনোমুগ্ধকর। আগাম লাগালে প্রতি গাছে ১০-১২টি শাখা হয়। আর দেরিতে লাগালে প্রতি গাছে ৬-৭টি শাখা হয়। প্রতি শাখায় ৬-৭টি ফল আসে। তবে অভিজ্ঞতায় বলে পানিফলের গাত্রবৃদ্ধি বা বাড়বাড়তি ফুল আসার আগ পর্যন্ত চলতে থাকে। দেরিতে আসা শাখার ফল একটু ছোট এবং দুর্বল হয়।

উৎপাদন মৌসুম
জুন মাসে বৃষ্টি হলে চারা লাগানো হয়। তবে পানির ব্যবস্থা থাকলে অনেকে মে মাসেও চারা লাগান। বাংলা আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত চারা লাগানো যায়। মৌসুম শেষে পরিপক্ক ফল কোন পুকুরে, পানিযুক্ত স্থানে, কিংবা কাদা পানিযুক্ত পাত্রে রেখে দেয়া হয়। ক’মাস পর ফল থেকে চারা গজায়। সে চারা পরবর্তী মৌসুমে মূল জমিতে লাগানো হয়। চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৬৫ দিন পর ফুল আসে মানে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে।

ফুল আসার ১৫-২০ দিন পর ফল তোলার মতো পরিপক্ক হয়। ফলগুলো ১০-১২ বছর পর্যন্ত অঙ্কুরোদগম সম্পন্ন থাকে। অবশ্য ২ বছরের মধ্যে অঙ্কুরোদগম হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পানিফল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

আবাদ কৌশল
মোট জীবনকালের ৭ থেকে ৮ মাস মেয়াদি এ ফলটির পরিপক্ক বীজ রোপণ করতে হয় জ্যৈষ্ঠ মাসে। অল্প খরচে পানিতেই এ ফলের চাষ করা যায়। ১ থেকে দেড় ফুট পানি থাকাকালীন পুকুর বা বিলে কৃষক পানি ফলের চারা রোপণ করেন। এক চারা থেকে আরেক চারা দূরত্ব ১ থেকে দেড় হাত। লাগানো বা রোপণের সময়ের ওপর দূরত্ব কম বেশি করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানিফল জমির যেটুকু থেকে চারা তৈরি করা হবে সেটুকু পানিফল গাছ না তুলে রেখে দেয়া হয়। পরে পরিপক্ক ফল গাছ থেকে ফল ঝরে মাটিতে পড়ে। ওখান থেকে চারা হয়। নতুন একটি চারা থেকে অনেক চারা হয়। মে-জুন মাসে বৃষ্টি শুরু হলে চারা লাগানো হয়।

ফুল আসে লাগানোর ৬০-৬৫ দিন পরে। ফুল আসার ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল তোলার মতো পরিপক্ক হয়। চারা লাগানোর আগে শুকনা মাটিকে বা পানিযুক্ত মাটিতে এমওপি, ডিএপি, টিএসপি, জিপসাম সার দেয়া হয়। তবে সারের মাত্রা সব জায়গায় এক রকম না। কেননা কৃষক নিজেদের বুদ্ধি আর বিবেচনায় সারের মাত্রা নির্ধারণ করেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের সহায়তা নিয়ে সারের মাত্রা নির্ধারণ করেন। কেউ কেউ জৈবসারও ব্যবহার করেন। ফল চাষ শুরু হয় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং ফল সংগ্রহ করা হয় অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে। ফল কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ক হলে কালো রং ধারণ করে।   

ময়লা কলুষিত পানি পরিশোধের ক্ষমতা রয়েছে পানিফল গাছের। সে কারণে অনেকে নোংরা স্বল্প গভীর জলাশয় যেখানে মাছ চাষ করা যায় না এমন পরিত্যক্ত জায়গায় পানিফলের গাছ লাগিয়ে পানি পরিষ্কার করে পরের বছর তাতে মাছের চাষ করেন। পানি ফলের আদি বাসস্থান সম্ভবত এ উপমহাদেশে। কেউ কেউ মনে করেন আদি নিবাস ভারতবর্ষ। উত্তর আমেরিকাতে ১৮৭৪ সালে পানিফল প্রবর্তন ও চাষ শুরু করা হয় বলে জানা গেছে। এ দেশের নিচু এলাকার জলাশয়গুলোতে  জন্মে থাকে।

বীজ থেকে পানিফলের গাছ জন্মে। সাধারণত পাকা ফলের বীজ প্রথম দু’বছরের মধ্যেই গজিয়ে যায়। পানিফলে সাধারণত তেমন কোনো রোগ পোকা দেখা যায় না। তবে কোন কোন সময় পানিবাহিত রোগ বা পাতা খাদক পোকা সমস্যা সৃষ্টি করে, আবাদ উৎপাদনের কিছুটা ক্ষতি করে। সে ক্ষেত্রে কৃষক কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেন এবং সমস্যা উৎরে যান পানিফলকে বালাইয়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।

পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন
পানিফল দেশি ফলের নতুন সেনসেশন

আয়-ব্যয়
পানিফল বর্ষজীবী ফসল। মোটামুটি আবাদের ৪-৫ মাস থেকেই ফল তোলা শুরু হয়। চলে ১ বছর পর্যন্ত। পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফল চাষ হয়। প্রতি বিঘায় ২ থেকে আড়াই মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। সে হিসেবে প্রতি হেক্টরে ১৮ থেকে ২০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন হয়। জলাশয়ে পানিফলের চাষাবাদ প্রতিবিঘায় খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘা থেকে আয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সাতক্ষীরার একজন কৃষক ১২বিঘা জলাশয় থেকে প্রায় ৫শ’ মণ পানিফল বিক্রি করবেন। বর্তমানে প্রতিমণ পাইকারি পানিফলের মূল্য ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মানে প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকায়। তবে শুরুতে এ ফল ১ হাজার ২শ’ টাকা মণ হিসেবে পাইকারি বিক্রি হয়, যা খুচরা বাজারে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

প্রাপ্তিস্থান
দেশের সব জেলায় পানিফলের চাষাবাদ হয় না। তাই মানুষ এটি কম চেনে। কিন্তু সম্প্রতি সাতক্ষীরা থেকে এই ফল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। সুস্বাদু এ ফলটি এখন জেলার কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে। এ ফল চাষে অনেক বেকার শ্রমিকেরও কর্মস্থান হয়েছে। অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষক লাভবান হচ্ছে, অপরদিকে বেকারত্বও দূর হচ্ছে। সবচেয়ে বড়কথা অল্প পুঁজিতে কম দামে বেশি ফলন লাভ হয় এমন ফসল খুব কম আছে। সাতক্ষীরাসহ বেশ কিছু জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পানিফল। লাভ বেশি হওয়ায় পানিফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের চাষিরা।

সিঙ্গারা ফল
অনেক আবার পানিফলের সাথে সিঙ্গারা ফলকে গুলিয়ে ফেলেন। সেজন্য একই সাথে সিঙ্গারা ফলের ও কিছু বর্ণনা দিয়ে দিলাম। সিঙ্গাড়া ফল খুব শক্ত, বাদামি রঙের শক্ত সে খোসার মধ্যে থাকে নাট বা বাদামের মতো শাঁস। দা দিয়ে জোর করে কাটতে হয়। সিঙ্গাড়ার মতো গড়ন বলে এ ফলের নাম সিঙ্গাড়া ফল। তবে এটিও এক ধরনের পানিফল। সিঙ্গাড়া ফলের শাঁস ও খোসা শক্ত, কাঠের মতো, কাঁটা থাকে চারটি। কাঁটাগুলো সরু, শক্ত বেশ তীক্ষ্ন। সিঙ্গাড়া ফলের গাছ ভাসমান বর্ষজীবী জলজ প্রকৃতির। পাতা ত্রিভূজাকৃতির, গাঢ় সবুজ।

শিকড় ও কন্দ থাকে প্যাক বা কাদার মধ্যে, কাণ্ড থাকে পানিতে আর পাতা, ফুল ও ফল পানির উপর ভেসে থাকে। ফলের আকার অনেকটা ত্রিভূজাকার, প্রিজমের মতো, শক্ত। কেটে ভেতরের সাদা শাঁস খাওয়া যায়। শাঁস স্বাদে পানসে মিষ্টি, কিন্তু চিবিয়ে খেতে মজা লাগে। কোথাও কোথাও পাকা ফলের শাঁস আলুর মতো রান্না করে খাওয়ারও প্রচলন আছে।

এমনকি শাঁস শুকিয়ে গুঁড়া করে রেখে পরে খাওয়া যায়। কাঁচা ফল প্রস্রাব ও রুচি বৃদ্ধিকারক, বলবর্ধক। সিঙ্গাড়া ফলের দেখা মিলেছে পাবনার বিল কুরারিয়ায়। সুনামগঞ্জের হাওরেও আছে।

পানিফলটি দেশব্যাপী খুব বেশি পরিচিত নয়। অনেকে হয়তো এখনো চিনেনই না। পানিফল পুষ্টিসমৃদ্ধ, ভেষজগুণসম্পন্ন সহজ সরল কৌশলে উৎপাদিত দামি ফল। আবাদের খরচ নেই বললেই চলে। লাভ হয় অনেক বেশি। সবচেযে বড়কথা যেসব জমিতে অন্যান্য ফসল আবাদ করা যায় না; সেখানে অনায়াসে পানিফল আবাদ করা যায়।

পতিত জমি আবাদের আওতায় এনে লাভবান হওয়া যায়। সেক্ষেত্রে পানিফলটি আমাদের কৃষি উন্নয়ন সমৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। তবে এক্ষেত্রে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবহার এসবের ওপর ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার।

সার ব্যবস্থাপনা, বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ পরামর্শ ও অনুমোদন দরকার। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর বিনিয়োগে পানিফল দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা
চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আবু তালেব নামের এক চাষির ১২০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে উপজেলার কুটুরিপাড়া দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এতে চাষির ৭০-৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার ওই গ্রামের মৃত আবু তাহের সরদারের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার বলেন, লেখাপড়া শেষ করে কোনো চাকরি না পেয়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কুটুরিপাড়া মাঠে ১০ শতক জমিতে ১২০টি কলাগাছ লাগাই। প্রতিটি কলাগাছে বড় বড় সাইজের কলা ধরেছে। কলাগুলো বাজারে বিক্রি করলে ৭০-৮০ হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু শনিবার রাতে বাগানের ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। বাকি ৪০টি গাছের কলা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায় তারা।

আবু তালেব আরও বলেন, আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কারা এমন কাজ করেছে আমি জানি না। আমার এতদিনের স্বপ্ন শেষ করে দিল তারা। এসব কথা বলে কেঁদে ফেলেন আবু তালেব।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার আরব খেজুরের পরিকল্পিত বাগান

ভালুকার মোতালেবের পর এবার আরো পরিকল্পিতভাবে আরব খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন গাজীপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম আলিমপাড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বাদল। তার প্রত্যাশা অল্পদিনেই বাংলাদেশকে আরব খেজুরে স্বয়ংসম্পুর্ণ করে তোলা।

লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন ব্যবসায় থেকে অবশেষে আবার কৃষিতে ফিরেছে তরুণ উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বাদল। বাড়ি সংলগ্ন ২০ বিঘা জমিতে ১৬ জাতের আরব খেজুর নিয়ে তার ব্যতিক্রমী কৃষি অভিযান পৌঁছে গেছে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।

বাগান নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খেজুর বাগান গড়তে আগ্রহীদের জন্য বাদল গড়ে তুলেছে নার্সারি।

এমনকি চার বছরের ফলবান ও বহনযোগ্য গাছও রয়েছে নার্সারিতে। লটকন আর কাঁঠাল বাগানের বেষ্টনীর ভেতর শোভা পাচ্ছে বাদলের আরব খেজুরের সুসজ্জিত রাজ্য। এই পথে দীর্ঘযাত্রার স্বপ্নও দেখেছে সে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পিরোজপুরের পেয়ারার হাট

পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ এলাকাই নদীবেষ্টিত। এই নদীই জেলার নেছারবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলাকে বিভিন্ন দিক থেকে পরিচিত করেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা চাষ। এখানে খালে বসে পেয়ারার হাট।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী নাছির

পিরোজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চার একরের অধিক জমিতে পেঁপে আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত নিয়ে এবারের অ্যালবাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে
পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

পোল্ট্রি ফার্ম ও ফলদ বাগানে সফল মো. আব্দুল খালেক ‘রেডলেডি’ পেঁপে চাষেও সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। ৪ বছর আগে মাটিরাঙ্গার রসুলপুর গ্রামে ২০ একর জমিতে ‘এসবি ফার্ম’ নামে একটি কৃষি খামার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পোল্ট্রি ফার্ম দিয়ে শুরু করা ‘এসবি ফার্ম’ ইতোমধ্যে কৃষিবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২ বছর আগে নিজের অব্যবহৃত পাহাড়ি টিলা ভূমিতে পাঁচশ’ চারা রোপণের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে চাষ শুরু করেন আব্দুল খালেক। পরে ব্র্যাক ও ঢাকা বীজঘর থেকে সংগৃহীত বীজ থেকে উৎপাদিত আরো ২ হাজার রেডলেডি জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তার বাগানে ২ হাজারেরও বেশি গাছ থেকে ফল পাওয়া যাচ্ছে। যা থেকে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে
পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

মো. আব্দুল খালেক মনে করেন, সঠিকভাবে বাজারজাত করা গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে। ইতোমধ্যে তাকে অনুসরণ করে সারোয়ার আলম ও মো. নাছির উদ্দিনসহ একাধিক কৃষক পাহাড়ি টিলায় রেডলেডি পেঁপে চাষ শুরু করেছেন।

‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক- এমনটি জানিয়ে মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘পাহাড়ে পেঁপে বিপণন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত। বিশেষ করে সমতল অঞ্চলে বাজারজাত করা গেলে স্থানীয় কৃষক পেঁপে চাষে আগ্রহী হবে। ভবিষ্যতে এ জাতের পেঁপে চাষ বাড়ানো হবে।’

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে
পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

এসবি ফার্ম ঘুরে দেখা গেছে, পোল্ট্রি ফার্মের পাশেই অব্যবহৃত পাহাড়ি টিলায় সবুজে মোড়ানো ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে বাগান। সারি সারি পেঁপে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের পেঁপে। সেখানেই কথা হয় ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক মো. রাশেদুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, বাগানে পেঁপে গাছের চারা রোপণের সময় সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হলেও এখন সম্পূর্ণ জৈব সারই ব্যবহার হয়ে থাকে। নিয়মিত চারজন শ্রমিকসহ বাগানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে গড়ে দশজন শ্রমিক কাজ করে।

জানা যায়, তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির এ পেঁপে চারা রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ৭-৯ মাসের মধ্যে প্রথম ফল পাওয়া যায়। লাল-সবুজ রঙের প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় দেড়-দুই কেজি। খেতে সুমিষ্ট এ পেঁপে সুগন্ধিযুক্ত। কাঁচা ও পাকা উভয় প্রক্রিয়াতেই বাজারজাত করা যায়। পাকা পেঁপে খুব সহজে নষ্ট হয় না বলে বাজারজাত করা সহজ। এ জাতের পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস রোগ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে গাছের আয়ুষ্কাল ২ বছরের বেশি।

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে
পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

পাহাড়ের ঢালুতে চাষাবাদ সহনীয় জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘পাহাড়ের মাটির উর্বরতা ও অনুকূল আবহাওয়া রেডলেডি জাতের পেঁপে চাষের জন্য সহায়ক। শুধু ছত্রাকের আক্রমণ ছাড়া অন্য কোন রোগ হয় না।’

পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে
পাহাড়ের অর্থনীতি বদলে দেবে ‘রেডলেডি’ পেঁপে

পাহাড়ের ঢালু অংশে এ জাতের পেঁপে সম্ভাবনাময় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত বাগান সৃষ্টিসহ সঠিক পরিচর্যা করা গেলে এ জাতের পেঁপে পাহাড়ে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com