আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

দৃষ্টি হেফাজতের গুরুত্ব অপরিসীম

দয়াময় আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি; যা স্বচ্ছন্দময় জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য। দৃষ্টিহীন মানুষই উপলব্ধি করতে পারে দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজনীয়তা। মহামূল্যবান এ নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারের প্রতি আল্লাহ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। 

এ ব্যাপারে আল্লাহ আল কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘(হে নবী)! আপনি ইমানদার পুরুষদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্রতা। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত। আর আপনি ইমানদার নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে। তারা যেন সাধারণ প্রকাশমান (অঙ্গ) ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে।’ সুরা নুর, আয়াত ৩০-৩১। উপরোক্ত আয়াতে দৃষ্টি সংযত ও যৌনাঙ্গ হেফাজতের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কেননা দৃষ্টির মাধ্যমেই ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপকর্মের সূচনা হয়, আর এর পরিসমাপ্তি বা পূর্ণতা পায় যৌনাঙ্গের মাধ্যমে। উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে ইবনে কাসিরে আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) মুসলিম থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। 

হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ বাজালি (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর ওপর দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিলেন।’ 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন তিন ধরনের চোখ ছাড়া সব চোখ কাঁদবে- ১. যে চোখ হারাম বস্তু দেখা থেকে বিরত থাকে। ২. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় জাগ্রত থাকে। ৩. যে চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে অশ্রু নির্গত হয়; যদিও তা মাছির মাথা পরিমাণ হয়।’ দুররে মানসুর। 

হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মুসলমানের দৃষ্টি যদি রমণীর সৌন্দর্যের প্রতি পড়ে এবং সে আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় তাহলে সে ইমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে।’ মুসনাদে আহমাদ। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহর বাণী- দৃষ্টি হলো শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহ থেকে একটি তীর, যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে তা হেফাজত করবে আমি তাকে এমন ইমান দান করব যার মিষ্টতা সে নিজের হৃদয়ে অনুভব করতে পারবে।’ তাবারানি। 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলে আকরাম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘চোখের জিনা হলো দেখা। জিবের জিনা বলা। কানের জিনা হলো শোনা। হাতের জিনা ধরা। পায়ের জিনা হাঁটা। অন্তর কামনা বা লালসা সৃষ্টি করে, আর যৌনাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’ বুখারি, মুসলিম।

আত্মশুদ্ধি অর্জন, চরিত্র গঠন ও মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে দৃষ্টি হেফাজতের গুরুত্ব অপরিসীম। পক্ষান্তরে ইভ টিজিং, ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মতো অপরাধের প্রথম ধাপ হলো কুদৃষ্টি। অতএব দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া গুনাহ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। 

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, ‘মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের চোখ হারাম বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত থেকে বিরত রাখতে না পারবে ততক্ষণ সে পাপ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে না।’

ইসলাম

ব্যস্ত জীবনে কোরআনচর্চার সাত উপায়

ইসলামি ডেস্ক: ইসলামী শরিয়তের বিধান পালনের জন্য কোরআন শেখা ফরজ। যেভাবে বিশুদ্ধ নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। তাই তিলাওয়াত শুদ্ধভাবে করা ফরজ। ইবাদতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—কোরআনের এমন জ্ঞানের ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো, তা অর্জন করা ফরজে কেফায়া। যদি উম্মতের একটি বিশেষ দল কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে তাহলে অন্যরা পাপমুক্ত থাকবে। আর কেউ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। তবে প্রতিটি মুমিনের উচিত কোরআনচর্চায় আগ্রহী হওয়া। আল্লামা জারকাশি (রহ.) বলেন, ‘যার যথাযথ জ্ঞান, বোধ, আল্লাহভীতি ও গবেষণা নেই সে কোরআনের কোনো স্বাদ পাবে না।’ (আল বোরহান : ২/১৭১)

ব্যস্ত জীবনে কোরআনচর্চার উপায়

আধুনিক জীবনব্যবস্থায় মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যস্ত। ফলে বহু মানুষের কোরআন তিলাওয়াত ও কোরআনের জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা থাকলেও তারা তা অর্জন করতে পারে না। নিম্নে ব্যস্ততার মধ্যেও কিভাবে কোরআনচর্চা করা যায় সে বিষয়টি তুলে ধরা হলো—

১. চলতি পথে কোরআন পাঠ : প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় আমাদের প্রচুর পরিমাণ সময় নষ্ট হয়। বিশেষত, শহরের যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। এ সময় ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় না করে কোরআন, কোরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা পাঠ করা যায়। আধুনিক মোবাইল ফোনে ব্যবহার-উপযোগী অসংখ্য কোরআনভিত্তিক গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

২. চলতি পথে কোরআন শ্রবণ : কোরআন দেখে পাঠ করতে ইচ্ছা না করলে চলাচলের পথে কোরআন তিলাওয়াতও শোনা যেতে পারে। শায়খ হুজায়ফি, শায়খ সুদাইসি, শায়খ মিশয়ারির মতো আরব বিশ্বের খ্যাতিমান কারিদের তিলাওয়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি বহু কারির তিলাওয়াত অনলাইনে পাওয়া যায়। আরবের বিখ্যাত কারিদের তিলাওয়াতের অ্যাপসও গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

৩. পাঁচ ওয়াক্তে ২৫ মিনিট : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে বা পরে যদি পাঁচ মিনিট করে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তাহলে দৈনিক পাঁচ থেকে আট পৃষ্ঠা কোরআন তিলাওয়াত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনেও কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। এমনও হতে পারে যে তিন ওয়াক্ত নামাজের পর তিলাওয়াত করা হলো এবং বাকি দুই ওয়াক্তের এক ওয়াক্তে ৫-১০টি আয়াতের অর্থ এবং অপর ওয়াক্তে ১-৩টি আয়াতের ব্যাখ্যা পাঠ করা হলো।

৪. খাবার টেবিলে আলোচনা : দুপুরে বা রাতে যখন খাবার টেবিলে বা দস্তরখানে পরিবারের সদস্যরা তুলনামূলক বেশি উপস্থিত থাকে, তখন কোরআনের বিভিন্ন আয়াত, আয়াতের বিধান, আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত ও আয়াতের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলেমরা বলেন, খাওয়ার সময় একদম চুপ থাকার চেয়ে দ্বিনি বিষয়ে আলোচনা করা উত্তম। এ ক্ষেত্রে বড়দের আলোচনা ছোটরা শুনতে পারে, আবার ছোটদের আলোচনা বড়রাও শুনতে পারেন।

৫. ঘুমের আগে ১০ মিনিট : ঘুমের সময় অজু করে ঘুমানো মুস্তাহাব। বিশুদ্ধ হাদিসে ঘুমানোর আগে ইখলাস, ফালাক, নাস, মুলক ইত্যাদি সুরা পাঠ করার কথা এসেছে। তবে যাঁরা সারা দিন কোরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পান না, তাঁরা রাতে ঘুমানোর আগে উল্লিখিত সুরার সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট অন্যান্য সুরাও তিলাওয়াত করে নিতে পারেন।

৬. নামাজে তিলাওয়াত : যাঁরা কোরআনের হাফেজ কিন্তু নিয়মিত তিলাওয়াতের সুযোগ হয় না, তাঁরা পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ ও সুন্নত নামাজে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত করতে পারেন। যাঁরা হাফেজ নন; কিন্তু কোরআনের বিভিন্ন অংশ মুখস্থ করেছেন, তাঁরাও তা ঠিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে নামাজে তিলাওয়াত করতে পারেন।

৭. কর্মস্থলে কোরআন শরিফ : কখনো কখনো কর্মস্থলে অল্প সময়ের জন্য হলেও অবসর মেলে। তখন করার মতো ঠিক কোনো কাজ থাকে না। টুকরা টুকরা এসব অবসরেও কোরআনচর্চা করা যেতে পারে। এ জন্য কর্মস্থলেও একটি কোরআন শরিফ বা তার ব্যাখ্যা গ্রন্থ রাখা যেতে পারে।

কোরআনচর্চার পুরস্কার

যারা শত ব্যস্ততার মধ্যে কোরআন আকড়ে ধরে রাখবে এবং তা চর্চা করবে আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে তাদের আলোর পথ দেখাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর (কোরআন) দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ১৬)

এ ছাড়া কোরআনচর্চায় মুমিনের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার ধর্মীয় জীবনের উন্নতি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখনই কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল? যারা মুমিন এটা তাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারাই আনন্দিত হয়।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১২৪)

আল্লাহ সবাইকে কোরআনচর্চায় মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মুসলিম আইনে মা সন্তানের আইনগত অভিভাবক নন, হেফাজতকারী

দিলরুবা শরমিন, ফেসবুক থেকে, মুসলিম আইনে মা সন্তানের আইনগত অভিভাবক নন; আইনগত অভিভাবক বাবা। মা শুধু জিম্মাদার বা হেফাজতকারী।“মা কিন্তু গার্ডিয়ান না, মাকে অভিভাবক হিসেবে ধরা হয় না, মা হচ্ছে বাচ্চার কাস্টোডিয়ান বা হেফাজতকারী।” “ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে যে সাত বছর সে মায়ের কাছে থাকবে তখন সে বাবার সাথে

দেখা-সাক্ষাত করতে পারবে।মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত সে মায়ের হেফাজতে থাকবে। এসময় বাবা তার সাথে দেখা করতে পারবেন।এই সময়ের পর সন্তানদের তার বাবা চাইলে নিয়ে যেতে পারে।তবে নির্দিষ্ট বয়সের পরও সন্তানের জিম্মাদারি যদি কোন মা রাখতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে আদালতে আবেদন করতে হবে।” অনেক সময় দেখা যায় যে, তালাক হলেও যদি বাবা-মায়ের মধ্যে তেমন সমস্যা বা বিতর্ক না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে সন্তানদেরকে যৌথ হেফাজতে দেয়া হয়। অর্থাৎ বাবা কিংবা মা দুজনেই চাইলে সন্তানদের রাখতে পারেন।”“সেক্ষেত্রে হয়তো মায়ের কাছে চার দিন আর বাবার কাছে তিন দিন বা তাদের সুবিধা মতো থাকতে পারে।”তবে জিম্মাদারি বা হেফাজত নিয়ে যদি বিতর্ক তৈরি হয় তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর অর্থাৎ ছেলে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাত বছর আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও যদি মা নিজের হেফাজতে রাখতে চান, তখন তাকে আলাদাভাবে আদালতে আবেদন করতে হবে।এ ধরনের আবেদনের পর আদালত যে বিষয়টি বিবেচনায় নেয় সেটি হচ্ছে, সন্তানের কল্যাণের জন্য যেটা সবচেয়ে ভাল, সেটিই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আদালত।আদালত সাধারণত চায় যে, হেফাজতের ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনেই থাকুক। তবে ধরে নেয়া হয় যে, মায়ের কাছেই সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ভাল থাকবে।তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মা যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল না হয়, বা তার যদি আয় না থাকে তাহলে সেটি মামলাকে দুর্বল করে তোলে।“কোর্ট এখানে অনেক কিছুকে

বিবেচনায় নেয়। যেমন ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি সেটা বাবা-মা যার কাছেই থাকুক না কেন, এছাড়া অন্যান্য বিষয় যেমন ড্রাগ ইস্যুও বিবেচনায় নেয়া হয়,”বাবা-মায়ের মধ্যে যদি কারো বিরুদ্ধে গুরুতর কোন অভিযোগ থাকে যেমন মাদকাসক্ত হওয়া কিংবা অপরাধমূলক কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ, তাহলে আদালত কখনোই তার কাছে সন্তানের জিম্মাদারি দিতে চায় না।“যার কাছে থাকলে সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ হবে তার কাছে থাকারই অনুমোদন দেয় আদালত।”তবে সন্তান বাবা কিংবা মা- যার সাথেই থাকুক না কেন, অপরপক্ষকে সন্তানের সাথে দেখা করা ও সময় কাটানোর অনুমোদন দেয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে। তবে এক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে মারাত্মক কোন অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।গুরুতর অভিযোগ না থাকলে সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিন দেখা করতে পারে।তবে দেখা করার অনুমোদন থাকলেও যদি বাবা কিংবা মাকে দেখা করতে না দেয়া হয় তাহলে যাকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না সে আবার বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

স্বামীর নাম ধরে ডাকা কি জায়েজ?

নিউজ ডেস্ক: স্বামীর নাম ধরে ডাকা যাবে কি না—বিষয়টি নির্ভর করে দেশীয় সংস্কৃতি ও রেওয়াজের ওপর। বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে সাধারণত স্বামীর নাম ধরে ডাকাকে অসম্মানজনক ও বেয়াদবি মনে করা হয়, যদিও আরব দেশে স্বামীর নাম ধরে ডাকার প্রচলন ছিল। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, রেওয়াজ থাকলে এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় স্বামীর নাম উচ্চারণ করা যাবে।

স্ত্রী স্বামীকে যেভাবে ডাকবে

স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে সম্মানসূচক নাম ব্যবহার করে ডাকবে। বিশেষ করে স্ত্রী তার স্বামীকে সম্মান প্রদর্শন করবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই এ সম্পর্কে ফাতাওয়া শামিতে বর্ণিত আছে, ছেলে কর্তৃক তার বাবাকে এবং স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে নাম ধরে ডাকা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) ওই বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বরং এমন শব্দের মাধ্যমে ডাকা উচিত—যেটা সম্মান বোঝাবে। যেমন—হে আমার সর্দার, অমুকের বাবা ইত্যাদি অথবা সম্মানসূচক পেশার সঙ্গে সংযুক্ত করে ডাকবে। যেমন—ইমাম সাহেব, ডাক্তার সাহেব ইত্যাদি)। কেননা বাবা ও স্বামী—তাদের উভয়ের হক একটু বেশি। (রাদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার : ০৬/৪১৮)

স্বামীর নাম ধরে ডাকা কি জায়েজ?

স্বামী-স্ত্রী যদি সমবয়সী হয় কিংবা বন্ধুসুলভ হয় এবং স্বামী যদি তার নাম ধরে ডাকলে মনে কষ্ট না পায়, তাহলে নাম ধরে ডাকলে কোনো সমস্যা নেই। কেননা ইসলামে এর নজির আছে। ইবরাহিম (আ.) যখন তাঁর স্ত্রী হাজেরা এবং শিশুপুত্র ইসমাঈলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে তাঁর স্ত্রী তাঁকে এভাবে ডাকেন—হে ইবরাহিম! পুরো ঘটনা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে আছে—ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী (সারার) মধ্যে যা হওয়ার তা হয়ে গেল, তখন ইবরাহিম (আ.) (শিশুপুত্র) ইসমাঈল ও তাঁর মাকে নিয়ে বের হলেন। তাঁদের সঙ্গে একটি থলে ছিল, যাতে পানি ছিল। ইসমাঈল (আ.)-এর মা মশক থেকে পানি পান করতেন। ফলে শিশুর জন্য তাঁর স্তনে দুধ বাড়তে থাকে। অবশেষে ইবরাহিম (আ.) মক্কায় পৌঁছে হাজেরাকে একটি বিরাট গাছের নিচে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। অতঃপর ইবরাহিম (আ.) নিজ পরিবারের (সারার) কাছে ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল (আ.)-এর মা কিছু দূর পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করেন। অবশেষে যখন কাদা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি পেছন থেকে ডেকে বলেন, হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? ইবরাহিম (আ.) বলেন, আল্লাহর কাছে। হাজেরা (আ.) বলেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৬৫)

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে স্বামীর নাম ধরে ডাকার প্রচলন আছে। সুতরাং এ বিষয়ে সামাজিক নিয়ম-নীতি, সম্মান ও ভদ্রতার প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জুমার দিন যে সুরা পড়লে আল্লাহর বিশেষ রহমত অবতীর্ণ হয়

জুমাবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতর দিন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের অনেক আমল বর্ণিত হয়েছে। সুরা কাহাফ তেলাওয়াত এই দিনের অন্যতম আমল। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো। 

আল্লাহর প্রশান্তি লাভ : বারা বিন আজেব (রা.) বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি (নামাজে) সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিল। তখন বাড়ির একটি চতুষ্পদ জন্তু লাফাতে শুরু করে। অতঃপর সে সালাম বলল।  তখন কুয়াশা বা একখণ্ড মেঘ তাকে আবৃত করে রাখে। বারা বিন আজিব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে সে বিষয়টি তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি তাকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘হে অমুক, তুমি সুরাটি তেলাওয়াত করো। কারণ এটি আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি, যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩৬১৪; সহিহ মুসলিম : ৭৯৫)।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা : আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৮০৯)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, ৪৪৬/৬)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের ১০ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২৮৮৬)

সুরা পাঠে চারিদিকে নুর : মুআজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের শুরু ও শেষ তেলাওয়াত করবে তার পায়ের নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত নুর প্রজ্বলিত হবে। আর যে ব্যক্তি পুরো সুরা তেলাওয়াত করবে, তার জন্য আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত নুর প্রজ্বলিত হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, ৪৩৯/৩)

দুই সপ্তাহের গুনাহ মাফ : ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত নূর প্রজ্বলিত হবে এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য উজ্জ্বল হবে। আর দুই জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৯৮)

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নুর প্রজ্বলিত হবে। (সুনানে দারেমি, হাদিস নম্বর : ৩৪০৭)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে ৫ ব্যক্তির আখিরাতে কোনো ভয় নেই

ইসলামি ডেস্ক: মৃত্যু সবার জন্য অনিবার্য সত্য। কোনো ভাবেই মৃত্যুকে অস্বীকার করার বা পালিয়ে থাকার সুযোগ নেই। তাই মৃত্যু যেমন অমোঘ-অপরিবর্তনীয়— পরকালও তেমন সন্দেহাতীত। কিন্তু পরকাল নিয়ে কি আমাদের চিন্তা আছে? কীভাবে পরকাশে নিশ্চিন্ত ও সুখে থাকা যায়, সে ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা চলছে?

কোরআনের বর্ণনায় ০৫ শ্রেণির মানুষ এমন আছে, পরকালে তাদের কোনো ধরনের ভয়-শঙ্কা থাকবে না। কোনো রকম চিন্তা-দুর্ভাবনা তাদের গ্রাস করবে না

পরকালে ভয় না থাকার অর্থ হলো- হিসাব-নিকাশের পর যখন তাদের যথাযথ মর্যাদায় জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তখন সব ধরনের ভয় ও আশঙ্কা থেকে তারা মুক্ত থাকবে। কোনো রকম কষ্ট-দুর্দশা তাদের অস্থির করে তুলবে না। সামান্য পরিমাণ বেদনাও তাদের ব্যথিত করবে না। কেননা জান্নাত চিরসুখের ঠিকানা, চিরস্থায়ী আনন্দ-নিবাস। আর এটাও সত্য যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যারা জান্নাতে যাবে, তাদের সবাইও অনন্ত সুখ ভোগ করবে।

যে পাঁচ ধরনের মানুষের পরকালে কোনো রূপ ভয় থাকবে না, তারা হলেন-

এক. আখিরাতে বিশ্বাসী

যারা আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী, পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘…যারা আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৬২)

দুই. নামাজ প্রতিষ্ঠা

যারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয় পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তাদের প্রতিফল তাদের রবের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৭)

তিন. ইসলাম অনুশাসন পালনকারী

যারা আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই। জীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে জীবন যাপন করে পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয়, তার প্রতিফল তার রবের কাছে আছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১১২)

চার. সৎপথের অনুসারী

সৎপথের অনুসারীদের কোনো ভয় নেই। বলা হয়েছে, ‘…যারা আমার সৎপথের নিদর্শন অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৮)

পাঁচ. আল্লাহভীরু ব্যক্তি

আল্লাহর ভয় যাদের অন্তরে আছে, তাদের কোনো ভয় নেই। মুত্তাকি ও খোদাভীরুর পরকালে কোনো ভয় নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয় তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com