আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

দুষ্প্রাপ্য মাছ ‘বাচা’

বর্তমানে বাংলাদেশে মহাসংকটাপন্ন এবং বিলুপ্তপ্রায় মাছ বাচা। আমাদের দেশে স্বাদু পানি বা মিঠাপানির মাছ রয়েছে প্রায় ২৯৬ প্রজাতির। শিং-মাগুর-কই, চেলা-ঢ্যালা-মলা, পুঁটি-খলিশা-টাকিসহ দেশীয় আনুমানিক ২৬০ প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোতে এখনো বিচরণ করছে বা এগুলোর চাষাবাদ চলছে। দেশীয় এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি বিপন্ন অবস্থায়, কোনো কোনো প্রজাতি সংকটাপন্ন অবস্থায় আর কিছু প্রজাতি রয়েছে একেবারে মহাবিপন্ন অবস্থায়। বিগত ৩০–৪০ বছরের মধ্যে চন্দনবাউশ, নান্দিল, অ্যালং, বাইটক্যা ইত্যাদি অতি উৎকৃষ্ট স্বাদের মাছগুলো বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেছে।

পরিচিতি
বাচা মিঠা পানির মাছ। এ মাছ সিপ্রিনিফরমিস বা সিলুরিফরমিস বর্গের অন্তর্ভুক্ত। একই বর্গের অন্যান্য মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাজলি, ঘাউরা, বাতাসি, শিলং ইত্যাদি।

বাচা মাছের মাথা এবং শরীর চাপা। থুতনির আগা ছুঁচালো। ওপরের চোয়াল সামান্য লম্বা, মুখের চিড় গভীর এবং চোখের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। দাঁত তীক্ষ্ণ এবং ধারালো। আঁশযুক্ত দাড়ি মোট ৪ জোড়া। দণ্ডযুক্ত পিঠের পাখনাটি ছোট। পিঠের কাটার পেছন দিকটি রাতের দাঁতের মতো। বুকের পাখনা শ্রেণি পাখনার কাছাকাছি। শ্রেণি পাখনা ছোট। লেজের পাখনা গভীরভাবে বিভক্ত। পিঠ ঈষৎ ধূসর হলেও মাছটির রং রুপালি। বুকের পাখনা ও লেজের পাখনার কিনারা কালো। মাছটি লম্বায় ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।

বাচা মাছের আবাস সাধারণত নদীতে। স্রোতময় নদীর পানিতে এরা ঝাঁক বেঁধে চলাফেরা করে। মাছটি ভ্রমণপ্রিয়। মাছটি নদী থেকে প্লাবনভূমি এবং প্লাবনভূমি থেকে নদীতে বেশি আনাগোনা করতে ভালোবাসে। পানির উপরিতলেই বেশি থাকে। এরা বর্ষাকালে নদীতে প্রজনন করে। রাত্রিকালে সাধারণত খাদ্য গ্রহণ বেশি করে থাকে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে পতঙ্গ, ছোট মাছ, শামুক ও শেওলা। বাংলাদেশের নদ–নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদে এই মাছটি বেশি দেখা যায়। কাপ্তাই হ্রদে একসময় প্রচুর পরিমাণে বাচা মাছ ছিল। বর্তমানে সেখানে প্রায় বিলুপ্তির পর্যায়ে।

আরেক জাতের বাচা রয়েছে যেটি স্থানীয়ভাবে ‘মুরি বাচা’ নামে পরিচিত। এটি অনেকটা খাটো আকারের হয়ে থাকে।

বাচা গোত্রের আর একটি মাছ ঘাউরা
বাচা গোত্রের আর একটি মাছ ঘাউরা

পুষ্টিমান
বাচা মাছের পুষ্টিমান উল্লেখ করার মতো। ১০০ গ্রাম বাচা মাছে জলীয় অংশ রয়েছে ৬৮.৮ গ্রাম, আমিষের অংশ রয়েছে ১৮.১ গ্রাম, চর্বি রয়েছে ৫.৬ গ্রাম, শর্করা ৬.১ গ্রাম, খনিজ পদার্থের পরিমাণ ১.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম রয়েছে ৫২০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালরি বা খাদ্যশক্তি ১৪৭ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিনের পরিমাণ ১৩.০ মিলিগ্রাম।

মৌসুম ও মোকাম
অভিজাত শ্রেণির মাছ বাচা। বর্ষাকাল হচ্ছে বাচা মাছের প্রধান মৌসুম। পুরো শীতকালেও পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও মেঘনা নদ–নদীর কাছের বাজারগুলোতে বাচা মাছের আমদানি হয়ে থাকে। বাচা মাছের বড় মোকামগুলোর মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, সিরাজগঞ্জ বাজার, ভৈরব বাজার, চাঁদপুর বাজার, অষ্টগ্রাম, কুলিয়ারচর, গোয়ালন্দ ঘাট, মাওয়া ঘাট ইত্যাদি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ করে ভৈরব বাজারের বিশাল মাছের আড়ত থেকে বাচা মাছের বড় চালান ঢাকার মাছের বাজারগুলোতে আসে।

বাচা গোত্রের অন্যান্য মাছ
বাচা কিংবা মুরি বাচা মাছের মতো আকৃতির আরেকটি মাছ রয়েছে, যার নাম শিলং। এর স্থানীয় নাম সিলোন্দা, ধাইন, ঢাইং, সিলোং ইত্যাদি। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম সিলোনিয়া সিলোডিয়া এবং ইংরেজি নাম সিলোনিয়া ভাচা। এ মাছটি আকারে অনেক বড় হয়। কোনো কোনো মাছ লম্বায় ১.৮০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। শিলং মাছের ঠোঁট লাল হয়ে থাকে। গাত্র বর্ণ রুপালি। শিলং মাছের চোয়াল লম্বা।

বাচা, মুরি বাচা ও শিলং মাছের মতোই প্রায় দেখতে ঘাউরা মাছ (ক্লাপিজমা গারুয়া)। তবে বাচা, মুরি বাচা এবং শিলং মাছের মুখ লম্বাটে কিন্তু ঘাউরা মাছের মুখ অনেকটা চওড়া ও গোলাকার। অনেক সময় বাচা, শিলং ও ঘাউরা মাছের পার্থক্য করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। ঘাউরা মাছের রং এবং আকৃতি বাচা মাছের মতোই। ঘাউরা মাছের পিঠে ডানা রয়েছে মাত্র একটি। বাচা ও শিলং মাছের দ্বিতীয় ডানাটি পুচ্ছ পাখনার প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যায়। ঘাউরা মাছের পিঠের একমাত্র ডানাটি মাথার প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যায়। ঘাউরার মুখ অনেকটা মোটা। বাচা, মুরি বাচা, শিলং ও ঘাউরা এই মাছগুলো কিন্তু প্রায় একই স্বাদের। চলনবিল অঞ্চলের গাঙ ঘাউরা স্বাদে অতুলনীয়। মাছগুলো কাটাবহুল নয় বলে খেতে বেশ নিরাপদ। তবে ঘাউরা মাছের খাদ্যতালিকায় নোংরা জাতীয় বস্তু থাকায় সাধারণভাবে এর কদর খুব একটা নেই।

বাচা গোত্রের শিলং মাছ
বাচা গোত্রের শিলং মাছ

বাচা মাছের জীবনযাত্রা
প্রখ্যাত মৎস্য বিজ্ঞানী এফ হ্যামিলটন (১৮২২) রচিত ‘অন অ্যাকাউন্ট অব দ্য ফিশেস ফাউন্ড অন দ্য রিভার গ্যাঞ্জেজ অ্যান্ড ইটস ব্র্যান্সেস’ নামক আকর গ্রন্থে বাচা এবং মুরি বাচা মাছ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। বাচা মাছ বাংলাদেশের প্রায় সব নদীগুলোতে দেখা গেলেও মূলত এটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও যমুনা নদ–নদীতে বেশি দেখা যায়। যমুনা ও পদ্মা নদীতে বর্ষার শুরুতে নতুন পানিতে মা মাছ ডিম দেয়। আবার অনেক সময় মা মাছ ডিম দেওয়ার জন্য চলনবিলসহ বাংলাদেশের হাওর, বাঁওড় এবং উল্লিখিত নদীগুলোর কাছাকাছি যে বিলগুলো রয়েছে, সেগুলোতে চলে যায়। একটা সময় ছিল যখন বড়াল এবং হুড়াসাগর নদীর নাব্যতা ছিল। সে সময় বাচা মাছসহ শত শত প্রজাতির মিঠা পানির মা মাছ কিংবা রেণু মাছ বড়াল, আত্রাই, নারদ, হুড়াসাগর ইত্যাদি নদীর মাধ্যমে চলনবিলে প্রবেশ করত। চলনবিলে রয়েছে এ জাতীয় মাছের বিশাল খাদ্যের ভান্ডার। সেখানে মাছগুলো বৃদ্ধি পেত। বর্ষার শেষে মাছগুলো মূল নদীতে ফিরে যেত। বর্ষাকালে কিংবা বর্ষার শেষে বিশাল চলনবিল অঞ্চলে অবস্থিত আত্রাই, নলডাঙ্গা, সিংড়া, গুরুদাসপুর, তাড়াশ, চাটমোহর, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর এবং সাঁথিয়া থানার হাটবাজারে বাচা মাছের আমদানি ছিল দেখার মতো। ইদানীং তেমনটা আর নেই। হুড়াসাগর সেই কোন কালে ভরাট হয়ে গেছে। বড়ালে ভরা বর্ষাতেও পদ্মা থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে পানির প্রবাহ দেখা করা যায় না। যমুনা থেকে মে–জুন মাসে পানি বাঘাবাড়ী হয়ে চলনবিলে প্রবেশ করে। প্রায় একই সময়ে আত্রাই নদে দিয়ে পানি চলন বিলে আসতে থাকে। বড়াল হয়ে নন্দকুজার মাধ্যমে পদ্মার পানি চলনবিলে প্রবেশ করতে শুরু করে জুলাই মাস থেকে। এ সময় বাচা মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে পানিতে খেলে বেড়ায়। এরা নদী থেকে প্লাবনভূমি এবং প্লাবনভূমি থেকে নদীতে ভ্রমণ করে। বিশাল চলনবিল এবং এর পাশের জনপদগুলোর বিরাট একটি অংশ হচ্ছে পদ্মা, যমুনা ও আত্রাই নদের প্লাবনভূমি। বিগত দেড় যুগ থেকে নদীতে পানিই নেই, তাই প্লাবনও নেই। নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় ফসলের খেতে কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি কারণে মাছের আবাস নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেক দেশীয় মাছের মতো বাচা মাছও বিলুপ্তির পথে।

বাচা মাছের মতো বিলুপ্তপ্রায় অতুলনীয় স্বাদের মাছের প্রজাতি রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে হতে হবে সচেতন। শুধু নির্দিষ্ট বিভাগের লোকজনের ওপর এর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে দেশের সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে আমরা ভাবতে পারি না। এই দুর্লভ এবং দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির মাছগুলো আমাদের অমূল্য সম্পদ এবং ঐতিহ্য। আমাদের অবহেলার কারণে বেশ কিছু স্বাদু পানির মাছকে আমরা চিরদিনের জন্য হারিয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে শুধু গল্পের মাধ্যমে বিলুপ্ত মাছের কথা জানাচ্ছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা আর বিলুপ্ত মাছের কাহিনি শোনাতে চাই না।

বাংলাদেশ

জানুন চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি মাছ চাষের কৌশল

বাগদা চিংড়ি (Prawn) দশপদবিশিষ্ট চিংড়ি গোত্রীয় প্রাণী। পৃথিবীতে ৭ ধরনের পরিবারের ৫৪০ প্রজাতির বাগদা চিংড়ি রয়েছে। এ ধরনের চিংড়ি সর্বোচ্চ ৩৩০ মিলিমিটার বা ১৩ ইঞ্চি এবং ওজনে ৪৫০ গ্রাম বা ১ পাউন্ড হয়ে থাকে। আদর্শ রন্ধনপ্রণালী অনুসরণ করে মনুষ্য খাবার উপযোগী দামী অর্থকরী প্রাণী হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। চিংড়ি তার আবাসস্থলরূপে উন্মুক্ত মৎস্যক্ষেত্রে বিচরণ করে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য এ চিংড়ি খামারেও উৎপাদন করা হয়।

বাগদা চিংড়ি আমাদের দেশে একটি পরিচিত মাছ । এটি খেতে যেমন সুস্বাদু এবং এটি দেখতেও সুন্দর । বর্তমানে  চিংড়ি রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে ।  বাগদা চিংড়ি দশপদ বিশিষ্ট চিংড়ি গোত্রীয় প্রাণী । আমাদের দেশে ছোট বড় প্রায় সকলেরই প্রিয় এই মাছ । আপনি ইচ্ছা করলে চৌবাচ্চায় এই বাগদা চিংড়ির চাষ করতে পারেন ।

আসুন জেনে নেই কিভাবে বাড়িতে বাগদা চিংড়ি (Shrimp farming) চাষ করতে হবে । 

চৌবাচ্চা বাছাই –

ক) বাড়িতে বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনি মাঝারি সাইজের চৌবাচ্চা ব্যবহার করতে পারেন । 

খ) তবে খেয়াল রাখবেন যেন চৌবাচ্চাটি গভীর হয় । 

সঠিক সময়/মৌসুম –

ক) বছররের যেকোন সময়েই আপনি বাগদা চিংড়ি চাষ করতে পারেন । 

খ) তবে খেয়াল রাখবেন যে বাগদা চিংড়ি পোনা ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সকাল অথবা সন্ধ্যা এই দুই সময়ের যেকোন একটি নির্বাচন করতে হবে । 

গ) কারণ এসময় তাপমাত্রা সহনীয় অবস্থায় থাকে । তা না হলে মাছ মরে যেতে পারে ।

 পোনা ছাড়া ও তার পরিচর্যা-

ক) বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে পোনা সংগ্রহ করতে হবে । 

খ) এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোন নার্সারী হতে পোনা আহরন করতে পারেন । 

গ) এছাড়াও আপনি প্রাকৃতিক ভাবে নদী থেকে বাগদা চিংড়ি পোনা আহরণ করতে পারেন । 

চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল-

ক) বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম অবলম্বন করতে হবে । 

খ) বাড়িতে চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষ করার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে বাগদা চিংড়ির পোনাকে পলিব্যাগ সহ কিছুক্ষণ চৌবাচ্চার পানিতে চুবিয়ে রাখতে হবে । 

গ) এরপর ব্যাগের পানি ও পাত্রের পানির তাপমাত্রা একই মাত্রায় আনতে হবে । তারপর ব্যাগের মুখ খুলে পাত্রের পানি অল্প অল্প করে ব্যাগে দিতে হবে এবং ব্যাগের পানি অল্প অল্প করে পাত্রে ফেলতে হবে । 

ঘ) ৪০-৫০ মিনিট সময় ধরে এরূপভাবে পোনাকে পাত্রের পানির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে ।

খাবারের পরিমাণ ও  খাবার প্রয়োগ-

ক) বাগদা চিংড়ি চাষে আপনাকে নিয়মিত উপযুক্ত খাবার প্রয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত সুযোগ বা পরিবেশে খাদ্য ব্যবহার না হলে তা বাগদা চিংড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

খ) মাছ স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে শেওলা খেয়ে থাকে। তবে আপনি শামুক, ঝিনুক, কেঁচো, স্কুইড, কাঁকড়া,  মাংস, ইত্যাদি দিতে পারেন। 

ঘ) এছাড়াও চাল, ডাল, গম, ভূট্টা ইত্যাদি দানাদার উদ্ভিজ্জ খাদ্য চিংড়িকে দেওয়া যায়। 

রোগ বালাই ও তার প্রতিকার –

ক) বাগদা চিংড়ির বেশকিছু রোগ বালাই হয়ে থাকে। মনে রাখবেন চিংড়ির জীবন চক্রে এক বা একাধিক অস্বাভাবিক অবস্থা যা চিংড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে বা অবস্থাভেদে চিংড়ি মারা যায়। 

খ) এছাড়াও চিংড়ি চাষে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী, ইত্যাদি দ্বারা আক্রমণ হতে পারে। তাই নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।

বাগদা চিংড়ির চাষে সার প্রয়োগ –

ক) বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়মে সার দিতে হবে। 

খ) তা নাহলে বাগদা চিংড়ির বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকে। তাই মাঝেমধ্যে সার দিতে হবে। 

পরিচর্যা –

ক) বাড়িতে চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষ করতে হলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে চৌবাচ্চাটির তলদেশ সার্বক্ষণিক পরিস্কার রাখতে হবে। 

খ) অন্যান্য জলজ প্রাণী নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। অসুস্থ চিংড়ি খাদ্য গ্রহন করে না। তাই অসুস্থ চিংড়িকে আলাদা করতে হবে। 

গ) নিয়মিত পানিতে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। প্রয়োজনে পানি বদল করে দিতে হবে।  

বাগদা চিংড়ির খাদ্য গুণাগুণ-

ক) বাগদা চিংড়ির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টিগুন বিদ্যমান। 

খ) এছাড়াও চিংড়িতে অনেক ধরণের খাদ্য গুন রয়েছে। এটি খেতে অনাক সুস্বাদু। 

কখন বাগদা চিংড়ি মাছ সংগ্রহ করবেন

বাগদা চিংড়ি মাছ যখন উপযুক্ত বয়স হবে এবং বড় হবে তখন চিংড়ি মাছ সংগ্রহ করতে হবে।

মাছ সংগ্রহ-

বাড়িতে চৌবাচ্চায় আপনি সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করলে বেশকিছু বাগদা চিংড়ি পেতে পারেন যা আপনার পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আপনি বাজারে বিক্রিও করতে পারেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কীভাবে খাদ্য প্রয়োগ করলে মাছের বৃদ্ধি বাড়বে, জেনে নিন কম খরচে মাছ পালনের পদ্ধতি

বাণিজ্যিক ভাবে মাছচাষ (Fish farming) গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। আর মাছ চাষের ৬০-৮০% খরচ ব্যয় করতে হয় মাছের খাদ্যের ওপর। তাই খাদ্যের এফসিআর ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণার প্রয়োজন। আধুনিক মাছ চাষে মাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সম্পূরক খাদ্য। আর এই মাছের খাবারের আধুনিক প্রযুক্তি হল ভাসা খাবার। এই খাদ্য জলে ভেসে থাকতে পারে, ফলে মাছের খেতে সুবিধা হয়। কিন্তু সাধারন মাছ চাষিদের এই খাবার প্রয়োগ সম্পর্কে সম্যক ধারনা তেমন নেই। তাই মাছের ভাসমান খাদ্য প্রয়োগ সম্পর্কে মৎস্য দপ্তরের সরকারী নির্দেশিকা ধরে আলোচনা করা হল।  

মাছ চাষে এফ সি আর হল খাদ্য রূপান্তর হার, অর্থাৎ ১ কেজি মাছ উৎপাদন করতে কত কেজি খাদ্যের প্রয়োজন হয় তার অনুপাতকেই খাদ্যে এফ সি আর মান বলা হয়। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, এক কেজি মাছ উৎপাদন করতে যদি ১.৫ কেজি খাদ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে উক্ত তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাছের এফসিআর হবে ১: ১.৫। খাদ্যের এফসিআর মান জানলে এক কেজি মাছের উৎপাদন খরচ কত তা অতি সহজেই অনুমান করা যায়।

পুকুরে মাছের দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয় গুলির উপর নজর রাখতে হবে –

  • পুকুরে মাছের চারা ছাড়ার সংখ্যা, মাছের বাঁচার হারের ওপর নির্ভর করে মাছের খাবার দিতে হবে।
  • প্রতি ১৫ দিন অন্তর মাছের গড় ওজন নিয়ে প্রতিদিনের গড় বৃদ্ধির হার নির্ণয় করে খাদ্য তালিকা অনুযায়ী মাছের জন্য প্রতিদিন কত খাদ্য দরকার তা নির্দ্ধারন করতে হবে।
  • জলের তাপমাত্রার ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। কারন তাপমাত্রার তারতম্য মাছের খাদ্য গ্রহণ  প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ২৮-৩২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা মাছ চাষের অনুকূল পরবেশ। তাপমাত্রা কমে গেলে মাছ খাদ্য কম করে। প্রতি ৭-১০ দিন অন্তর জলের স্বচ্ছতার উপর নজর রাখতে হবে। জলের স্বচ্ছতা ৩০-৪০ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকা দরকার। জলের স্বচ্ছতা খুব কমে গেলে এবং জলের রঙ ঘন সবুজ হলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কম হবে, ফলে মাছের খাদ্য গ্রহণ  প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। নিয়মিত জলের অক্সিজেন মাত্রার উপরও নজর রাখতে হবে।
  • নিয়মিত জলে চুন প্রয়োগ করে জলের পি এইচ মাছ চাষের অনুকূল রাখতে হবে।

কয়েকটি উদাহরন দিয়ে মাছের ঠিক কতখানি খাদ্য প্রয়োজন, তা খাদ্য তালিকা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা যাক – 

ধরা যাক, একটি পুকুরে ১০০০ টি ২৫ গ্রাম ওজনের চারা পোনা ছাড়া হয়েছে। তাহলে ২৫ গ্রাম মাছের জন্য প্রতিদিন ২ গ্রাম খাদ্য দরকার। তাহলে ১০০০ টি মাছের জন্য প্রতিদিন খাদ্য দরকার ১০০০ X ২ গ্রাম = ২০০০ গ্রাম বা ২ কেজি । পুকুরে মাছের জন্য  ২ খাদ্য দরকার। পুকুরে প্রতিদিন দুবার খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে । সকাল (৬.৩০ – ৭.৩০) ১ কেজি ও বিকেল (৩.৩০- ৪.৩০) ১ কেজি খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।

আবার পুকুরে ১০০০ টি ২৫ গ্রাম ওজনের চারা পোনা ছাড়ার ৬০ দিন পর প্রতি মাছের ওজন যদি ১৬০ গ্রাম হল এবং মাছের বাঁচার হার ৯০ শতাংশ হল (অর্থাৎ ৯০০ টি মাছ বেঁচে আছে ) তাহলে খাদ্য তালিকা অনুযায়ী একটি ১৬০ গ্রাম মাছের জন্য ৪ গ্রাম খাদ্য দরকার ।

তাহলে ৯০০ টি মাছের জন্য খাদ্য দরকারঃ ৯০০X ৮ গ্রাম = ৩৬০০ গ্রাম বা ৩ কেজি ৬০০ গ্রাম। তাহলে পুকুরে মাছের জন্য প্রতিদিন ৩কেজি ৬০০ গ্রাম খাদ্য দরকার। পুকুরে প্রতিদিন দুবার করে খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে। সকালে (৬.৩০-৭.৩০) ১ কেজি ৮০০ গ্রাম ও বিকেলে (৩.৩০-৪.৩০) ১ কেজি ৮০০ গ্রাম খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।

 খাদ্য ছড়ানোর পর মাছ চাষিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে মাছেরখাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে হবে।

যদি দেখা যায় খাদ্য প্রয়োগের ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে সমস্ত খাদ্য মাছ খেয়ে নিয়েছে, তবে বুঝতে হবে খাদ্যের পরিমাণ ঠিক আছে। যদি খাদ্য সম্পূর্ন না খেয়ে থাকে তবে পরবর্তী সময়ে (দুপুর বা বিকাল) খাদ্যের পরিমাণ কমাতে হবে।

অনুরূপভাবে পরবর্তী সময়েও (দুপুর বা বিকাল) দেখতে হবে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে সমস্ত খাদ্য মাছ খেয়ে নিয়েছে কি না ? যদি খাদ্য সম্পূর্ণ না খেয়ে থাকে তবে পরবর্তী সময়ে খাদ্যের পরিমাণ কমাতে হবে। আর যদি দেখা যায় খুব তাড়াতাড়ি মাছ খাদ্য খেয়ে নিয়েছে এবং খাদ্যের জন্য ঘোরাঘুরি করছে তাহলে পরবর্তী সময়ে খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য পুকুরে পাড় দিয়ে পুকুরের জলের চারিদিকে সমপরিমাণ হারে ছড়িয়ে দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, হাওয়ার প্রতিকূলতায় ভাসমান খাদ্য যেন পুকুরের কিনারায় চলে না আসে।

খাদ্য প্রয়োগের কয়েকদিনের মধ্যে যদি দেখা যায় কোন পুকুরে কোন একটি অঞ্চলে মাছ আনুপাতিক হারে বেশী আছে এবং খুব তাড়াতাড়ি খাদ্য খেয়ে নিচ্ছে তবে সেই অঞ্চলে একটু বেশী পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।

অনুরূপভাবে যদি দেখা যায়, কোন পুকুরের কোন একটি অঞ্চলে মাছ আনুপাতিক হারে কম আছে এবং খাদ্য ভেসে থাকছে অর্থাৎ ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে সমস্ত খাদ্য খাচ্ছেনা তাহলে সেই অঞ্চলে কম পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।

নৌকা বা ভেলা তৈরি করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য জলে সমপরিমাণ হারে ছড়িয়ে দিতে হবে। সর্বদা একটি বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে যে খাদ্য সব সময় নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে কারন মাছ কিছু দিনের মধ্যে ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলে খাদ্য খেতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

যেহেতু মাছ ভাসমান খাদ্য গ্রহনে অভ্যস্ত নয় তাই প্রথম কয়েকদিন মাছের এই খাদ্য গ্রহণ করতে কিছু বেশী সময় লাগবে। কয়েকদিন পরে মাছ এই খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং খুব তাড়াতাড়ি খাদ্য গ্রহণ  করতে পারবে। এই বিষয়টির দিকেও মাছ চাষিকে নজর রাখতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাড়ছে মিল্কফিশ চাষ, জেনে নিন এর সহজ চাষ পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে মাছের অন্যতম জনপ্রিয় জাত মিল্কফিশ। এটি তাজা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চিনিডে পরিবারে মিল্কফিশ একমাত্র প্রজাতি। মিল্কফিশ শুধুমাত্র সম্পূর্ণ লবণাক্ত জলে ডিম পাড়ে। যদি আপনি একটি পুকুরে মিল্কফিশ বাড়াতে চান তবে আপনাকে পুকুরের ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে পোনাদের ধরতে হবে।

জায়গা নির্বাচন(Site selection):

যে কোনও উন্নত ও কার্যকর ব্র্যাকিশ জলের মাছের খামারে মিল্কফিশ চাষ শুরু করা যেতে পারে। সর্বনিম্ন ০.৮ থেকে ১ মিটার জলের গভীরতা থাকতে হবে; ১০ থেকে ৩০ পিপিটি এর সর্বোত্তম লবণাক্ততা, ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা, সারা বছরে ৪.০ থেকে ৫.০ পিপিএমের জল পিএইচ মান ৭.৫ থেকে ৮.৫ ডিগ্রি অক্সিজেন (ডিও) সহ মানের জল প্রয়োজন | পুকুরের মাটি বেলে বা  কাদামাটি হতে হবে। বাজারে পৌঁছানোর জন্য মিল্কফিশ চাষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজনীয়।

মিল্কফিশের জন্য বীজ সংগ্রহ(Seed collection):

মিল্কফিশ পুকুর এবং সীমাবদ্ধ জলে প্রজনন করে না; হ্যাচারি প্রযুক্তির উন্নয়ন কঠিন ছিল। যদিও এই প্রজাতিতে প্ররোচিত প্রজনন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে, চূড়ান্ত বেঁচে থাকার হার কম হয়েছে এবং হ্যাচারি অপারেশনগুলি অর্থনৈতিক নয়। ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা এবং কর্ণাটক উপকূলে ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মিল্কফিশের বীজ দেখা যায়। শান্ত উপকূলীয় জলের প্রয়োজন যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৩  থেকে ২৫  ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লবণাক্ততা ১০ থেকে ৩২ পিপিটির মধ্যে পরিবর্তিত হয়।

জল সরবরাহ ও হ্যাচারি উৎপাদন(Water supply):

ফিশপন্ড সাইটের উপযুক্ততার জন্য জল সরবরাহ হ’ল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | সাধারণত, জল সরবরাহ একটি নদী, সমুদ্র, বা খাঁড়ি থেকে আসে। এটি অবশ্যই সারা বছর ধরে পুকুরের প্রয়োজনীয়তার গুণমান এবং পরিমাণ পূরণ করতে হবে। যদি জলের উৎস দূষিত হয় এবং আয়তন অপর্যাপ্ত হয় তবে মাছ চাষ করা ব্যৰ্থ হবে |

হ্যাচারি অপারেশনগুলি আধা-নিবিড় (কম মজুদ ঘনত্ব, ন্যূনতম জল বিনিময়, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, মিশ্র খাদ্যের সাথে খাওয়ানো) বা নিবিড় (উচ্চ স্টকিং ঘনত্ব, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, দৈনিক খাওয়ানো এবং জল বিনিময়) সিস্টেম ব্যবহার করে, যার গড় বেঁচে থাকার হার ৩০% (মজুদ করা সদ্য-ফুটে থাকা লার্ভা থেকে)। ডিম ছাড়ার পর, লার্ভা আদর্শভাবে ৫০/লিটারে হ্যাচারি ট্যাঙ্কে রাখা হয় (ফাইবারগ্লাস, কংক্রিট, ক্যানভাস, অথবা পলিপ্রোপিলিন-আচ্ছাদিত মাটির ট্যাঙ্ক) ক্লোরেলার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোটিফার খাওয়ানো হয় এবং পরবর্তীতে মোট চিংড়ি দিয়ে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ।

মাছ সংগ্রহ(Harvest):

পুকুরগুলি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করা বা পুরো নেট খাঁচার কাঠামো বন্ধ করে দেওয়া, সাইনিং বা কলমে গিলনেটের ব্যবহার)। এই পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ পাওয়া যায় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

রাতে বিক্রি হচ্ছে পায়রা ও বিষখালী নদীর ইলিশ

বরগুনায় পায়রা ও বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছোট বাজারে রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। স্থানীয় জেলদের শিকার করা এসব মাছ বিক্রির জন্য রাতে তারা বাজারে নিয়ে আসে।

সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর সরেজমিনে দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার পাশে এমন তাজা মাছ দেখে অনেকেই নিজেদের সাধ্যমত কিনে নিয়ে যায়। ইলিশগুলো বেশি বড়ও না। আবার জাটকাও না। প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৪০০ টাকা। নদ-নদীর এসব তাজা মাছ কেনার জন্য অনেকেই বিকেল থেকে অপেক্ষা করে। বড় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৫২০ টাকা।

মাছ কিনতে আসা আয়লা পতাকাটা ইউনিয়নের মহাসিন বাংলানিউজকে বলেন, সাগরের মাছের তুলনায় স্থানীয় বাজারের পায়রা ও বিষখালী নদীর মাছ সুস্বাদু। তাই একটু বেশি করে কিনছি। নদীতে তেমন মাছ নেই, যে পরিমাণ মাছ জেলেরা  শিকার করে তা নিয়ে বরগুনা বাজার পর্যন্ত গেলে তাদের লাভ হয় না। তাই মাছ ধরে সরাসরি পুরাকাটা ফেরিঘাটে বসেই বিক্রি করে।

এক মাছ বিক্রেতা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা জেলেদের কাছে থেকে মাছ সংগ্রহ করে সন্ধ্যার পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি। সাগরের মাছের তুলনায় আমাদের স্থানীয় বাজারের মাছ সতেজ হওয়ার কারণে ক্রেতার আগ্রহ বেশি থাকে। বিভিন্ন যায়গা থেকে লোকজন আসে এখানে। তাজা মাছের চাহিদা থাকায় ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। তবে নদীতে মাছ তুলনামূলক কম। এত অবরোধ- নিষেধাজ্ঞার পরেও ইলিশ পাইনা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বাংলানিউজকে বলেন, বরগুনার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে পায়রা একটি। তবে সব জায়গার মত পায়রায়ও ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। জেলেদের অসচেতনতার জন্য তেমন ইলিশের দেখা মিলছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ

আমাদের দেশের অধিকাংশ ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিছু টিকে আছে আমাদের মাছ চাষিদের কল্যাণে। আসুন ছবির মাধ্যমে আজ আমরা কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ দেখে নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com