আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থগুলো বলছে। তাই দুর্ভিক্ষের মহামারি যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। 

এজন্য নিজে উদ্যেক্তা হয়ে যে যতটুকু পারেন চাষাবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন একখণ্ড জমি ফেলে না রাখে। খাদ্য একমাত্র সমাধান, কৃষিই একমাত্র বাঁচাতে পারে।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেন কোনো খাদ্য সমস্যা না হয় এজন্য ধান কাটার পর আমরা কোনো ফসল ফলাতে পারি সেটা দেখতে হবে। কেউ যেন একখণ্ড জমিও ফেলে না রাখে। তরকারি ফলমূল যা হোক উৎপাদন করা ও বাড়ির আঙিনায় যেখানেই পারেন চাষ করবেন। এজন্য করোনা মহামারির পর যে দুর্ভিক্ষের মহামারি দেখা দেবে তা যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি বলেন, এখন সবাই ঘরে বসে আছি, কাজেই একটু বাগান করা ও গাছ লাগাতে পারেন সবাই। আর রোদে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, এজন্য এটা স্বাস্থ্য রক্ষাও করবে। শুধু এখানে না অন্য দেশেও খাদ্য চাহিদা থাকলে আমরা যেন সরবরাহ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, এজন্য একমাত্র খাদ্য মানুষকে বাঁচাতে পারবে। খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা পোল্ট্রি-ডায়েরির ব্যবসা করেন, তারা এখন এসব বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য কম দামে বিক্রি করুন, ফেলে না দিয়ে দান করুন।

কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তোলার আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখন কিছু কিছু ফসল উঠছে, এরপর ফসল লাগাতে হবে। কিছু কিছু জীবন যাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন, সেটাই আমরা অনুরোধ করব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

করোনা পরবর্তী খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ভাবনা ও করণীয়

করোনা পরবর্তী খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ভাবনা ও করণীয়
ড. মো. মনিরুল ইসলাম

বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষির উপখাতসমূহ যথা শস্য বা ফসল উপখাত, প্রাণিসম্পদ উপখাত, মৎস্য সম্পদ উপখাত ও বনজসম্পদ উপখাত প্রত্যেকটিরই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ, কৃষিবিজ্ঞানীদের নব নব প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ও বেসরকারি খাতের কৃষিতে বিনিয়োগ সামগ্রিক কৃষির সফলতার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ এখন দানাদার খাদশস্য উৎপাদনে স্বয়ম্বর। তাছাড়া ইতোমধ্যে ধান উৎপাদনে এক ধাপ এগিয়ে বিশ্বে তৃতীয় উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তবে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা-বন্যা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস কৃষি উৎপাদনে বড় অন্তরায়।

উপরন্তু এ বছর বিশ্বব্যাপী করোনার আঘাত দেশের কৃষির জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনের চ্যালেঞ্জ হলো নির্বিঘ্ন খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পণ্যের নায্যমূল্য ও পাশাপাশি সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ। কোভিড-১৯ বা করোনার কারণে লকডাউন ঘোষণা করায় খাদ্য উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটলেও পরিবহন সমস্যাও ক্রেতার অভাব উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে পোল্ট্রি, দুধ, ফল-শাক-সবজি প্রতিটি পণ্য পরিবহনের জটিলতায় বাজারজাতকরণ সমস্যা, ক্রেতাশূন্য বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাসের কারণে উৎপাদিত ফসল কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকারের তাৎক্ষণিক বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে কৃষিখাতে প্রণোদনা ও সুযোগ্য কৃষিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে তদারকি ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

বোরো ধানের বাম্পার ফলন, সঠিক সময়ে ধানকাটা সম্পন্ন করার ফলে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা অনেকটাই সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু তার বিপরীতে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্থকরী মৌসুমি ফল আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি (ক্ষেত্রবিশেষে ১০-৭০ ভাগ) হয়ে গেল। ফলে এতে এককভাবে চাষিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সরকারের অগ্রাধিকার এজেন্ডা ও চ্যালেঞ্জ।

জীবনধারণের জন্য যেমন খাদ্য অত্যাবশ্যক, আবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ, পুষ্টিমান সম্পন্ন ও সুষম খাবার গ্রহণ প্রয়োজন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এ বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পুষ্টিহীন জাতি মেধাশূন্য আর মেধাশূন্য জাতি যেকোনো দেশের জন্য বিরাট বোঝা। তাই ১৯৭৩ সানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের পুষ্টিমান উন্নয়নে বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউট্রিশন কাউন্সিল (বিএনএনসি) গঠন করেছিলেন। মাঝপথে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী তা আবার পুনরুজ্জীবিত করেন।

আমরা সকলেই জানি খাদ্যের প্রয়োজনীতা অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্যকে সাধারণত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে ১). শক্তিদায়ক খাবার, যেমন শর্করা বা কর্বোহাইড্রেট; যা আমরা ভাত, গম, ভুট্টা, আলু ইত্যাদি হতে পাই; ২). শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক খাবার, যেমন প্রোটিন বা আমিষ, যা আমরা ছোট মাছ, বড় মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি হতে পাই ও ৩). রোগ-প্রতিরোধকারী খাবার, যেমন ভিটামিন ও মিনারেল, যা আমরা একমাত্র শাক-সবজি ও ফলমূল হতে পেয়ে থাকি।

সে প্রেক্ষিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পুষ্টি ইউনিট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ‘ফুড প্লেট’ তৈরি করেছে যা অব্যাহতভাবে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) ও ডায়েটারি গাইডলাইনস অব বাংলাদেশের সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০ গ্রাম শাক, ২০০ গ্রাম অন্যান্য সবজি ও ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। অথচ এখনও গড়ে দেশের মানুষ প্রতিদিন মাত্র ১২৫ গ্রাম সবজি ও প্রায় ৮০ গ্রাম ফল খেয়ে থাকে (এফএও স্ট্যাট, ২০১২)। অথচ কর্মক্ষম ও সুস্থভাবে বাঁচার জন্য ফল ও সবজি প্রাত্যহিক খাবার তালিকায় অপরিহার্য। কেননা ফল ও শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি, অত্যাবশকীয় ভিটামিন, মিনারেল, ডায়েটারি ফাইবার, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও কিছুু পরিমাণ শর্করা বিদ্যমান।

তাছাড়া প্রতিদিন পরিমাণমতো শাক-সবজি ও ফল খাওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ যেমন: ক্যান্সার, হার্ট ডিজিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব কমায়। শাক-সবজি হতে প্রাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বৃদ্ধি করে, ফলে পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত ফল ও শাক-সবজি খেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যেমনই বছরে সুস্থ দিনের সংখ্যা বেড়ে যায়, তেমনি বাড়ে বাৎসরিক আয়।

বলা অত্যাবশ্যক যে পটাশিয়াম মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে; আঁশ শরীরের কোলেস্টেরলসহ অন্যান্য দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বের করে আনতে সহায়তা করে ও রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফল শরীরের লোহিত রক্তকণিকা (হিমোগ্লোবিন) তৈরি করে এবং শিশুদের জন্মগত ত্রুটি রোধ করে। ভিটামিন চোখের জ্যোতি ও মসৃণ ত্বকের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ও কার্যকর। ভিটামিন ই বার্ধক্য রোধে, ভিটামিন সি শরীরের রক্তপাত রোধ, স্বাস্থ্যকর দাঁতের মাড়ি ও শরীরে অয়রন শোষণে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পাশাপাশি দেশের সার্বিক পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটলেও বিরাট জনগোষ্ঠী এখনও অপুষ্টির শিকার। যা করোনা পরবর্তীতে আরও ব্যাপকতা লাভ করতে পারে। অপুষ্টিজনিত সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তস্বল্পতা; যা মূলত আয়রনজনিত ঘাটতিকেই বুঝায়। প্রয়োজনীয় ও পরিমাণমতো খাবার, বিশেষ করে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের স্বল্পতায় শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়েরা বেশি আক্রান্ত।

তাই করোনা পরবর্তী পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কিছু পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, অন্যান্য যত কারণই থাকুক না কেন? কোভিড প্রতিরোধে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের বেশি তাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভানা বেশ কম এবং অথবা কেউ আক্রান্ত হলেও তা জটিল আকার ধারণ করেনি বা করে না। বিগত দশকে মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি পেশাগত কর্মব্যস্ততার ফলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন গঠেছে।

অনেকেরই ধারণা দামি খাবার ছাড়া পুষ্টি পাওয়া যায় না, যা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের দেশের কৃষি খুবই বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি নানা জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত ফল-সবজি কোনো না কোনো ধরনের পুষ্টির আধার। বিশ্বের প্রায় ৮০ ভাগ খাবার এখন প্রক্রিয়াজাত, যা খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে এটা ঠিক প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাভাবিক কারণেই পুরোপুরি বাদ দেয়াও অসম্ভব। তবে পরিমিত খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হলো, বর্তমানে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ছেলেমেয়ে ফল-সবজি খেতে চায় না বা খেতে অনীহা, এমনকি মাছও অনেকেরই অপছন্দ। সারাবিশ্বে ফাস্ট ফুড খাওয়ার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, উচ্চরক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগগুলো হু হু করে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

অপরদিকে অধিকতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাসের ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়াও এলার্জির মতো অসুখে ভোগা মানুষের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। সে জন্য সুষম ও পুষ্টিকর তথা বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সে জন্য পরিবার পর্যায়ে, স্কুল-কলেজ, বিশ্বদ্যিালয়, মাদরাসা, এতিমখানা, মসজিদ-মন্দিরে পুষ্টিকর খাবার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নিমিত্ত ব্যাপক কার্যকর কর্মসূচি বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের ও কর্মহীন মানুষদের কোভিড-১৯ পরবর্তী পুষ্টির বিষয়টি সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। নতুবা কর্মশক্তির ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে তাই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকার খাবার তালিকা বা মেন্যু নির্ধারণ করে প্রচার প্রচারণা চালানোসহ সচেতন করতে হবে। করোনা পরবর্তী নিম্ন আয়ের লোকদের আপদকালীন বা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পুষ্টি সুরক্ষায় ও কর্মক্ষম রাখতে দামে সস্তা, সহজলভ্য অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর- এ ধরনের খাবার আমলে বা নির্বাচনে পরামর্শ প্রদান করতে হবে, যা থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে। যেমন-

মেন্যু-১
পান্তা ভাত, ডাল ভর্তা, ডিম ভর্তা;
মেনু- ২
পান্তা ভাত, মিষ্টি আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা (সঙ্গে টুকরো লেবু রাখতে পারলে ভালো, এতে আয়রন শোষণ ভালো হবে)।

এগুলো সস্তা, সহজলভ্য অথচ পুষ্টিসমৃদ্ধ (প্রয়োজনীয় শর্করাসহ পান্তা ভাত হতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম পাওয়া যাবে এবং পান্তা ভাত হচ্ছে বি ভিটামিনের আধার (ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, বি৯ ও বি১২ উল্লেখযোগ্য)। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে চালের প্রকারভেদে সাধারণ ভাতের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫৫.৮৩% আয়রন এবং ৪৯২% ক্যালসিয়াম বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া ভর্তায় ব্যবহৃত তেল, ডিম, পেঁয়াজ হতে প্রয়োজনীয় চর্বি, ফাইবার, ফলেট, জিংক, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-এ, বি-২ সহ অন্যান্য অণু পুষ্টি কণা মিলবে। ডাল হতে প্রয়োজনীয় প্রোটিনও মিলবে। এমনকি আপদকালীন শাক-সবজি পাতে যোগ না করতে পারলেও প্রায় বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পরিমাণ শর্করা, প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ অণুপুষ্টি উপাদানসমূহ উল্লিখিত মেন্যু হতে পাওয়া যাবে। তাই দামি খাবার নয় প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য খাদ্য নির্বাচনে সর্তকতা জরুরি।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই ঘোষণা দিয়েছেন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না। ঠিক তেমনিভাবে খাদ্য অপচয় ও পুষ্টি অপচয় রোধ করতে ভোক্তা সাধারণেরও কৌশলী বা সচেতনতা জরুরি। আমরা যা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি যেন সর্বোচ্চ পুষ্টির ব্যবহার হয়, সে জন্য সচেষ্ট হতে হবে। অনেকেরই জানা নেই অনেক ফল-সবজির খোসাতে বেশি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। সে জন্য যেসব ফল-সবজি খোসাসহ খাওয়া যায় তা খোসা না ফেলে খেতে হবে। বিভিন্ন ফল-সবজি যেমন আপেল, কলা, শসা, বেগুন, লাউ, কুমড়া, আলু পুষ্টিতে ভরপুর; তেমনি এসব স্বাস্থ্যকর ফল বা সবজির খোসাও অনেক উপকারী। এখন দেখে নেয়া যাক উল্লেখযোগ্য ফল-সবজির খোসার পুষ্টি গুণাগুণ।

আপেলের খোসার গুণাগুণ
আপেলের অভ্যন্তরাংশের চেয়ে আপেলের খোসায় বা ছালে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। ফাইবার বা আঁশ দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, এতে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে ও ক্যালরিও কম খাওয়া হয়। তাছাড়া ফাইবার হাড়, যকৃত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে (কৃষি বিভাগ, ইউএসএ)। এছাড়া ও আপেলের খোসায় কুয়েরসেটিন নামের একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আপেলের খোসায় থাকে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনল যেমন- পেকটিন। এই পেকটিন হলো এক ধরনের ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে পেকটিন রক্তে সুগার আর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। আপেলের খোসায় ভিটামিন এ, সি এবং কে রয়েছে। তাছাড়া পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের মতো অপরিহার্য খনিজও রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

শসার খোসা
শসার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, পটাসিয়াম আর ভিটামিন কে। তাই শসার খোসা ফেলে না দিয়ে খোসাসহ খাওয়া বেশি উপকারী।

লাউ বা কুমড়ার খোসা
লাউয়ের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, যা ত্বককে সতেজ রাখে। বাড়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতাও। লাউয়ের খোসা আলাদা করে ভাজি হিসেবেও খাওয়া যায়।

বেগুনের খোসা
বেগুনের খোসায় রয়েছে ‘নাসুনিন’ নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা অ্যান্টি-এজিংয়ে সহায়ক। এছাড়াও বেগুনের খোসা ত্বককে সতেজ রেখে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কলার খোসা
কলার খোসায় রয়েছে লুটেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। কলার খোসায় থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর এই সেরোটনিন মন মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

তরমুজের খোসা
রসাল তরমুজের পুরু ও শক্ত খোসায় ‘এল সাইট্রোলিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড আছে। এই অ্যামাইনো এসিড শরীর চর্চা ও খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়াতে এবং বিশেষত মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে বা এর নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে। রক্ত থেকে নাইট্রোজেন দূর করতেও সহায়তা করে এই ’সাইট্রোলিন’ (যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসডিএ’ কৃষি গবেষণা সংস্থা ২০০৩)।

আলুর খোসার গুণাগুণ
আলু এমন একটি সবজি যেকোনো তরকারিতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আলুর খোসা ফেলে দেই। কিন্তু অনেকের ধারণা নেই যে আলুর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আর পটাসিয়াম। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি, সি এবং প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। তাই সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে আলু খেতে হবে খোসাসহ।

প্রথম উপকারিতা : আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং মিনারেল রয়েছে। যা শরীরের রাসায়ানিক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। পটাশিয়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। এক একটি আলুর খোসা থেকে আমরা ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পেতে পারি। যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় উপকারিতা : মানুষের প্রতিদিন অত্যন্ত পক্ষে ১৬ মিলিগ্রাম করে নিয়াসিন শরীরের জন্য প্রয়োজন। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এই নিয়াসিন সহজেই পাওয়া যেতে পারে আলুর খোসা থেকে। নিয়াসিন শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তৃতীয় উপকারিতা : আলু থেকে আমরা প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং কার্বোহাইড্রেট পাই। তেমনি আলুর খোসাতেও এসব উপাদান থাকে। তাই আলুর খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়া হয়, তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমাণ পাওয়া যাবে। এতে শরীর আরও শক্তিশালী ও রোগপ্রতিরোধী হয়ে উঠবে।

চতুর্থ উপকারিতা : আয়রন হলো শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আয়রণ দেহের রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীকে সক্রিয় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক দিন ৩-৫টি খোসাসহ আলু খেলে শরীরে ৪ মিলিগ্রাম লোহা বা আয়রন জোগান দেবে।

পঞ্চম উপকারিতা : যাদের হজমশক্তি দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আলুর খোসা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। কারণ আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণ ফাইবার আছে। ফাইবার শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। আলুর খোসা গুরুপাক খাবারও সহজে হজম করতে সাহায্য করে।

ষষ্ঠ উপকারিতা : আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার ফলে হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজ শুষে নেয়। এতে আলুর খোসা শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত করতে সাহায্য করে। যদিও ডায়াবেটিস রোগীদের আলু খেতে নিষেধ; তবে আলু যদি খোসাসমেত সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে রান্না করা হয় বা খাওয়া হয় তাতে খুব একটা ক্ষতি হয় না।

ফল ও পুষ্টি : রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

অন্যদিকে কোনো গবেষণালব্ধ ফলাফল বা বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত ব্যতিরেকে কিছু গণমাধ্যম ও এক শ্রেণির সংগঠন বা ব্যক্তি কর্তৃক দুধ, মৌসুমি ফল, শাক-সবজিসহ মাছে ফরমালিন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রচারণার ফলে কিছু মানুষ শুধু ফল খাওয়াই ছেড়ে দেয়নি, চাষপর্যায়ে আর্থিক ক্ষতিসহ রফতানি বাণিজ্যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং হচ্ছে। সে জন্য জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানোনো যাচ্ছে, আপনারা নির্ভয়ে ফল খান, দেশি-বিদেশি ফল (যেমন : আম, কলা, আনারস, লিচু, আপেল, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি) সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না।

তাছাড়া কীটনাশক নিয়েও ভ্রান্ত ধারণা আছে, আধুনিক কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহার ব্যতিরেকে চাষাবাদ কল্পনাতীত। কীটনাশকের শুধু ক্ষতিকর দিক নিয়েই বেশি আলোচনা করি, মনে রাখা দরকার কীটনাশক কিন্তু ফসলের অনেক ধরনের ক্ষতিকর ফাঙ্গাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বিনষ্ট করে খাদ্য নিরাপদ করার মাধ্যমে আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই নীরোগ ও সুস্থ থাকতে রোগ-প্রতিরোধ খাবার হিসেবে ফলমূল, শাক-সবজির কোনো বিকল্প নেই।

আমে রাসায়নিকের ব্যবহার

প্রতিটি আমের পরিপক্কতার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিশ্ব জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তনশীল; তাই বছরভিত্তিক জলবায়ুর এ রূপ আচরণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে/প্রভাবে উপরে উল্লিখিত পরিপক্কতার সময় ২-৫ দিন আগে বা পরে হতে পারে। উল্লেখ্য যে আম একটি ক্লাইমেকট্রিক ফল অর্থাৎ গাছ থেকে আহরণ/পাড়ার পরও পাকে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব আম গাছে পাকে এগুলোর চেয়ে পূর্ণ পরিপক্কতা লাভকারী আম যদি ৫-৭ দিন পূর্বে গাছ থেকে আহরণ করা হয় অপেক্ষাকৃত সেসব আম গাছে পাকা আমের চেয়ে অধিক মিষ্ট হয়, সাথে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকিও নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ভারত, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, সেনেগাল, ইয়েমেন, মরক্কো প্রভৃতি দেশ বিভিন্ন ফল পাকাতে ইথোফেন ব্যবহার করে থাকে। তবে তারা ইথিলিন বা রাইপেনিং চেম্বার ব্যবহার করে থাকে। আমাদের দেশেও ইথিলিন চেম্বার স্থাপন অতীব জরুরি ও সময়ের দাবি।

বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রেও পরিপূর্ণ পাকা আম শিপমেন্ট করা প্রায় অসম্ভব। তবে বেশি অপরিপক্ক আম আহরণ করে বাজারজাত করা হলে জরিমানা করা যুক্তিযুক্ত; কিন্তু আম ধ্বংস করা কোনোক্রমেই ঠিক নয়। কেননা অনেকে ক্ষেত্রেই পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আম অধিকতর পুষ্টিসমৃদ্ধ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপদ আসবেই, হয়তো একেক সময় এক রূপে বা নানারূপে। দুর্যোগ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াই হলো সফলতা বা কৃতিত্ব। যেমন- আম ঝড়ে পড়বেই, কিন্তু এসব মোকাবিলায় যাতে কিছুটা হলে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কাটানো যায় সে জন্য কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যেমন ফল বা আম উৎপাদন এলাকার চাষিসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়মিত প্রত্রিয়াজাতকরণ (যেমন: আচার, আমসত্ব, ম্যাংগোবার, মোরোব্বা তৈরি ইত্যাদি) বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া বিজ্ঞানীদের এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার

ইথোফেন যেমন ইথিলিন গ্যাস নির্গমন করে, কার্বাইড তেমনি অ্যাসিটিলিন গ্যাস নির্গমন করে এবং একইভাবে ফল পাকায়। তবে কার্বাইড মূলত নিষিদ্ধ একটি রাসায়নিক। শিল্প-কারখানায় ব্যবহারের জন্য সীমিত আকারে কার্বাইড আমদানি করা হয়। অ্যানালাইটিক্যাল বা ল্যাবেরটরি গ্রেড কার্বাইডের উচ্চমূল্যের কারণে চোরাইপথে আসা ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কার্বাইড আমে ব্যবহার করা হয় এবং এতে সামান্য পরিমাণ ভারী ধাতু আর্সেনিক ও কিছু ফসফরাস থাকে। যেহেতু আর্সেনিক দেহের জন্য ক্ষতিকর বলে গণ্য করা হয় সে জন্য মৌসুমের পূর্বে বাজারজাতকৃত আম ক্রয় করা অনুচিত। মার্চ-এপ্রিল সময়ে যে সমস্ত আম পাওয়া যায় তার শতভাগ কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয়। সে জন্য রাসায়নিকমুক্ত (কার্বাইডমুক্ত) পাকা আম খেতে ২৫ মের পূর্বে ক্রয় পরিহার করতে হবে এবং সরকার কর্তৃক মার্চ-এপ্রিল মাসে কোনো প্রকার আম যেন আমদানি না হয় সে জন্য এই দুই মাস এলসি বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম খেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুখে ঘা ও ঠোট ফুলে যাওয়া, শরীরে চুলকানি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কে পানিজমাজনিত প্রদাহ, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মহিলাদের বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফলে ফরমালিনের ব্যবহার

প্রকৃতপক্ষে, ফরমালিন হচ্ছে অতি উদ্বায়ী ও অতি দ্রবণীয় একটি বর্ণহীন ও ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত রাসায়নিক। ফলমূল শাক-সবজি হচ্ছে ফাইবার অর্থাৎ আঁশজাতীয় খাবার, তাই ফরমালিন ফল সংরক্ষণ বা পাকাতে কোনো ভূমিকা রাখে না। ফল-সবজিতে খুবই সামান্য প্রোটিন থাকায় ফরমালিন প্রয়োগ করা হলে কোনো বন্ডিং সৃষ্টি করে না, তা উবে চলে যায়। তাছাড়া ফলমূলে প্রাকৃতিকভাবেই নির্দিষ্ট মাত্রায় ফরমালিন (৩-৬০ মিলিগ্রাম/কেজি) বিদ্যমান থাকে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির মতে, একজন মানুষ দৈনিক ১০০ পিপিএম পর্যন্ত ফরমালিন কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই গ্রহণ করতে পারে। অপরদিকে বহুল ব্যবহৃত জেড-৩০০ ফরমালডিহাইড মিটার-টি ছিল প্রকৃতপক্ষে বাতাসে ফরমালডিহাইড পরিমাপক। যদিও ক্রটিপূর্ণ বা অনুপযুক্ত মিটারের মাধ্যমে ফরমালিন পরীক্ষা করে সে সময় হাজার হাজার টন আমসহ অন্যান্য ফল ধ্বংস করা হয়েছিল।

ফল পাকানো এবং সংরক্ষণে ইথোফেনের ব্যবহার

ইথোফেন বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। তবে যে নামেই পাওয়া যাক না কেন এর মূল উপাদান হচ্ছে ২-ক্লোরো ইথাইল ফসফনিক এসিড। তবে আমাদের দেশে রাইপেনিং চেম্বার বা ইথিলিন চেম্বার না থাকায় ফলে পাকাতে উক্ত রাসায়নিক ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা স্প্রে করে ব্যবহার করা হয়। ফলে দেখা যায় যে এক্ষেত্রে সমভাবে টমেটো, কলা, পেঁপে বা আম একই রং ধারণ করে না। অন্যদিকে উন্নত বিশ্বে রাইপেনিং চেম্বার ব্যবহার করে ইথোপেন গ্যাস আকারে ব্যবহারের ফলে সেসব ফল পুরোপুরি একই রংয়ের বা জমজ ভাইবোনের মতো দেখতে মনে হয়। তবে পাকানোর পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকলেও এতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।

ইথোফেন একটি বিশ্ব সমাদৃত ও বহুল ব্যবহৃত অত্যন্ত নিরাপদ রাসায়নিক যা ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বিদ্যমান থাকে। সে জন্য, ফল পরিপক্কতা লাভের সময়ে বিভিন্ন ফলে সামান্য পরিমাণ ইথোফেন গ্যাস তৈরি হয়; ফলশ্রুতিতে ফলের অভ্যন্তরে বিদ্যমান অনেকগুলো জিন তড়িৎ সচল হয়। তখন ফলের রং পরিবর্তন, মিষ্টতা ও গঠনবিন্যাসে পরিবর্তন আসে এবং ফল পাকতে শুরু করে। কৃষকের মাঠ হতে সংগ্রহকৃত নমুনা, বাজারজাত পর্যায়ের নমুনা ও গবেষণাগারে বিভিন্ন মাত্রায় ইথোফেন (২৫০-১০০০০ পিপিএম) সরাসরি স্প্রে করার পর সকল পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ইথোফেন প্রয়োগের অব্যাহতি পর হতেই প্রয়োগকৃত ফলের দেহ থেকে তা দ্রুত বের হয়ে যায় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা কোডেক্স এলিমেন্টারি কমিশন (এফএও/ডব্লিউএইচও) কর্তৃক মানবদেহের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহনীয় মাত্রার (এমআরএল২ পিপিএম) বেশ নিচে চলে আসে।

আরও উল্লেখ্য যে, শুধু মানবদেহের জন্য নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ছাড়াও এর মাত্রার ওপরেও ইথোফেনের ক্ষতিকর প্রভাব নির্ভর করে। কোডেক্স/এফএসএসএআইয়ের সুপারিশ মোতাবেক একজন মানুষ কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়া তার প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের বিপরীতে প্রতিদিন ০.০৫ পিপিএম গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ যদি একজন মানুষের ওজন ৬০ কেজি হয় তাহলে সে সর্বোচ্চ (৬০*০.০৫) ৩ পিপিএম ইথোফেন প্রতিদিন গ্রহণ করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি কোনো ফলে প্রতি কেজিতে ০.৫০ পিপিএম ইথোফেন অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিকে ন্যূনতম দৈনিক ৬ কেজি ফল খেতে হবে।

আমদানিকৃত আপেল

অন্যান্য ফলের ন্যায় আপেলেও ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। তবে আমদানিকৃত আপেল দীর্ঘদিন সতেজ রাখার জন্য সাধারণত ফুডগ্রেড বা ইডিব্ল (তরল ও কঠিন) প্যারাফিন প্রয়োগ করা হয়। কঠিন বা তরল প্যারাফিন যেকোনো মাত্রায় খাদ্যের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করলেও তা কোনো ক্ষতিকর বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বা হজম প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয় না, ফলে এটি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত অবস্থায় পুনরায় শরীর হতে বেরিয়ে যায়। সুতরাং এসব মোমযুক্ত/প্যারাফিনযুক্ত আমদানিকৃত আপেল ভক্ষণ নিরাপদ। আরও উল্লেখ্য যে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নব নব উদ্ভাবনের মাধ্যমে শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পণ্যের মান বৃদ্ধি ও পচনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য নব নব বিভিন্ন প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করে চলেছে। বর্তমানে প্যারাফিন ওয়াক্সের পাশাপাশি কৃষিজ উপজাত যেমন ফলমূলের খোসা, কাণ্ড, পাতা, গাছের প্রাকৃতিক নির্যাস ব্যবহার করে অত্যন্ত পাতলা অবরণ সমৃদ্ধ ফিল্ম তৈরি করে আপেলসহ অন্যন্য ফলের গায়ে ওয়াক্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের ওয়াক্স একদিকে যেমন ফলকে সতেজ রাখতে সাহায্য করছে তেমনি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করছে।

হর্টিকালচার ক্রপস তথা ফল-সবজিতে ক্ষেত্রভেদে ৪০-৯৮ ভাগ পানি বিদ্যমান থাকে। তাই ব্যাপকভাবে যাতে ওজন হ্রাস না হয়, সে জন্য ওয়াক্স ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য যে প্রকার/জাত ভেদে ‘হর্টিকালচার ক্রপ’ এর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫-১০ গ্রাম ওজন কমে। তাছাড়া চকচকে-তকতকে ভাব বজায়, ফাঙ্গাস/ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণকালীন সংবেদনশীলতা রোধ, আর্দ্রতার অপচয় রোধ ও অন্যান্য বাহ্যিক আঘাত রোধসহ রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুরোধ করার জন্য ইডিব্ল প্যারাফিন ওয়াক্স বা ইডিপিল ব্যবহার করা হয়। আপেলে ব্যবহৃত ওয়াক্স একটি খাওয়ার যোগ্য মোম, এতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।

বাজারে প্রাপ্ত আঙ্গুর

বাজারে প্রাপ্ত আমদানিকৃত আঙ্গুর নিয়েও মানুষের মাঝে অস্থিরতা বিরাজমান। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আধুনিক কৃষি ও কৃষিপণ্য কীটনাশক ও প্রিজারভেটিভস ব্যবহার ছাড়া উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব। মানুষ জ্বর-সর্দি-কাশি বা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে যেমনি ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়; তেমনি ফসলের পোকামাকড় দমন, ছত্রাকের আক্রমণরোধ ও নির্দিষ্ট সময়ান্তে সতেজ রাখার জন্য প্রিজারভেটিভস প্রয়োজন। আঙ্গুরে মূলত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়; এর কার্যক্ষমতা বেশি সময় থাকে না, খাওয়ার পূর্বে ভালোভাবে ধুয়ে নিলে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকে না। তাছাড়া শিপমেন্টের পূর্বে সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহারে বাষ্পশোধন করা হয় ও পরিবহনের সময় কার্টনে সালফার ডাই অক্সাইড প্যাড ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই আঙ্গুরের গায়ে বা ত্বকের বাইরের অংশে সাদা পাউডার জাতীয় পদার্থ দেখে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করে অজানা অস্বস্তিতে ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে আঙ্গুরের গায়ে সাদা পাউডার জাতীয় যে পদার্থ দেখা যায়, তা একেবারেই প্রাকৃতিক এবং তা ‘ওল্ড ডাস্ট’, ‘ব্লুম বা ব্লাস’, এসিডোফাইলাস (ব্যাকট্রেরিয়াম) নামে পরিচিত, যা একটি প্রাকৃতিক প্রলেপ।এটা আর্দ্রতা রোধসহ আঙ্গুরকে পচন ও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া মদ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে ফারমেন্টশেনে সহায়তা করে। এ ধরনের ব্লাম পাম জাতীয় ফলেও দেখা যায়।

সবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার

একদিকে আমাদের দেশে দিনদিন কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, অপরদিকে জনসংখ্যার চাপ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বহুমাত্রায় বেড়েছে শাক-সবজির চাহিদা। আবার চাহিদা বৃদ্ধির সাথে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে শাক-সবজির ফলন বাড়াতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে নানাবিধ কীটনাশক। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার একদিকে পরিবেশের অনেক প্রয়োজনীয় কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে, ঠিক তেমনি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মানুষের দেহে প্রবেশের মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন ক্ষতিসাধন করছে বলে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত বালাইনাশকের বিষক্রিয়া বিষয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফসলে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন কীটনাশক/বালাইনাশক/ছত্রাকনাশক সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। দেখা গেছে যে, সবজি ভালোভাবে ধৌত করলেও গড়ে ১০০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রান্না করা হলে ২/১টি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ কীটনাশকের মাত্রা সহনীয় মাত্রার মধ্যে চলে আসে বা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সম্পূর্ণভাবে দূরীভূত হয়। তবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বা গ্রহণের পূর্বে ভোক্তাদের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন-

১. বেশিরভাগ কীটনাশক পানিতে দ্রবণীয়, তাই রান্নার পূর্বে চলমান বা প্রবাহমান পানিতে এবং অথবা পানি কয়েকবার অদল-বদল করে শাক-সবজি ধৌত করে নিতে হবে;
২. যে সমস্ত ফল/সবজি ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত তা ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে বা বা ফেলে দিতে হবে; তাছাড়া রাসায়নিকের তীব্রতা রোধে পাতাজাতীয় সবজির বাইরের পাতা ফেলে দিতে হবে। যেমন: বাঁধাকপি, লেটুস ইত্যাদি;
৩. অধিকতর সতর্কতাস্বরূপ বাজার বা বাগান হতে সংগ্রহকৃত যেকোনো সবজি বা ফসল ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহণের পূর্বে সম্ভব হলে বাজার হতে ফল/সবজি ক্রয়ের পর ১-২ দিন সাধারণ তাপমাত্রায় খোলা জায়গায় রেখে দিয়ে অতঃপর খেতে হবে।
৪. বেশিরভাগ কীটনাশক জটিল যৌগের সংমিশ্রণ, ফলে উচ্চতাপে স্থায়ী হয় না; সে জন্য কীটনাশক ঝুঁকি এড়াতে ১০০০ সেন্টিগ্রেড বা এর উপরের তাপমাত্রায় রান্না করা নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ কথা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অতীতে যেমনি প্রতিটি দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই এবারও নিঃসন্দেহে বলা যায়, কৃষিপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ও সময়ের সাহসীযোদ্ধা সুযোগ্য কৃষিমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কৃষি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। ইতোমধ্যে কৃষিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক তদারকি ও সময়মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে হাওরের ধানকাটাসহ অন্যান্য বিষয় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে। আশা করা যায়, সময়মতো সার, বীজ ও প্রণোদনা যথাসময়ে যথাযথভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো গেলে দেশের কৃষি ও কৃষক আবার ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের অর্থনীতিসহ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কত রকম চা

করোনার এ সময়টা লেবু চা, মসলা চাসহ নানা রকম চা পানের পরামর্শ আমরা পাচ্ছি। এক কাপ চা যে নিমেষেই সতেজ করে দিতে পারে, তা তো কমবেশি জানাই। কয়েক রকম সুস্বাদু চায়ের রেসিপি দিয়েছেন ফারাহ্ সুবর্ণা

তুলসী ও মধুর চা
তুলসী ও মধুর চা

তুলসী ও মধুর চা

উপকরণ: চা পাতা ১ চা-চামচ অথবা টি ব্যাগ প্রতি কাপে ১টা করে, তুলসী পাতা ১০–১২টা, লেবুর রস স্বাদমতো, মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। চা পাতা দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। স্বাদমতো লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা
কালোজিরা ও গোলমরিচের চা

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা ২ চা-চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, আস্ত গোলমরিচ আধা চা-চামচ, আদাকুচি এক চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পানি ফুটিয়ে চা, কালোজিরা, আস্ত গোলমরিচ আর আদাকুচি দিয়ে ৫/৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাপের ওপরে ছাঁকনি রেখে তাতে চা পাতা দিয়ে তার ওপরে ফুটন্ত কালোজিরা, গোলমরিচ ও আদা জ্বাল দেওয়া পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ছেঁকে নিয়ে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই পান করুন।

মাল্টা ও মরিচের চা
মাল্টা ও মরিচের চা

মাল্টা ও মরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, মাল্টা ১টি, কাঁচা মরিচ ১টি, চিনি বা চিনির বিকল্প স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে স্বাদমতো চিনি (কিংবা চিনির বিকল্প), মাল্টার রস ও পাতলা গোল করে কাটা মাল্টা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে চিনি ও মাল্টার রস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিয়ে শুধু মাল্টা চা-ও তৈরি করা যেতে পারে।

লবঙ্গ চা
লবঙ্গ চা

লবঙ্গ চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, লবঙ্গ ১৫টি, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৭০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে লবঙ্গ দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর চা পাতা দিয়ে আরও ৭–৮ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে বা মগে নিয়ে স্বাদমতো চিনি বা মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করতে হবে।

গুড়ের চা
গুড়ের চা

গুড়ের চা

উপকরণ: চা পাতা ৩ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, খেজুরের গুড় স্বাদমতো, আস্ত এলাচি ৩টি ও পানি ৭৫০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি হালকা গরম করে তাতে দুধ গুলিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাচিও দিয়ে দিন। দুধ ভালোমতো ফুটে উঠে একটু ঘন হলে চা পাতা দিয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। চায়ের সুন্দর রং আর সুঘ্রাণ বের হলে তাতে স্বাদমতো পাতলা করে কোরানো গুড় বা বাসায় ঝোলা গুড় মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরম চা এখন চাই

করোনাভাইরাসের এই সময়ে গরম চা পান কাজে দেবে, এমন বলা হচ্ছে। চায়ের নিজস্ব ভেষজগুণ রয়েছে। সঙ্গে লেবু, আদা বা লবঙ্গের মতো নানা উপাদান জুড়ে দিলে তো কথাই নেই। এখন সুস্থতার জন্য জরুরি চা পান। চা নিয়ে এবারের আয়োজন। সঙ্গে থাকছে কয়েক রকম চা তৈরির প্রণালি।

করোনার এই সময়ে নিয়মিত গরম চা পান করলে উপকার মিলবে। নকশার ফটোশুটে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া খাচ্ছেন ভেষজ চা। ছবি: কবির হোসেন
করোনার এই সময়ে নিয়মিত গরম চা পান করলে উপকার মিলবে। নকশার ফটোশুটে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া খাচ্ছেন ভেষজ চা। ছবি: কবির হোসেন

করোনাভাইরাস কাবু করে ফেলেছে পুরো বিশ্বকে। অথচ সেই ভাইরাসের বেশ খানিকটা দুর্বলতা কিনা সামান্য গরম পানিতে! করোনাভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে চা বা গরম পানি বেশ কার্যকর।

পৃথিবীর দুই শতাধিক দেশ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯ ফ্লু) সংক্রমণে এখন পর্যুদস্ত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো এর কোনো প্রতিষেধক কার্যকরভাবে উদ্ভাবন করতে পারেনি। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিজ্ঞান আয়ুর্বেদে বিভিন্ন রকমের ফ্লু বা শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় পদ্ধতির উল্লেখ করা আছে। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে আয়ুর্বেদ বা ভেষজ উপাদান বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন অনেক চিকিৎসক। এরই মধ্যে চীন, ভারত ও শ্রীলঙ্কা ভেষজ উপাদান ব্যবহার ও নির্দেশনা অনুসরণ করে করোনা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে। ভালো ফলাফলও পেয়েছে তারা।

বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়ুর্বেদ অ্যান্ড ন্যাচারোপ্যাথি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পরামর্শ দিচ্ছে সারা দিন উষ্ণ গরম পানি পান করার। পাশাপাশি তুলসী, দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ মিশ্রিত ভেষজ চা প্রতিদিন কয়েকবার পান করার কথাও তারা বলছে। এতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সহজ হতে পারে।

আপনার পছন্দ কোন চা

অনেকেরই অভ্যাস সকালে ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে চা পান করার। বাড়িতে সকালের নাশতা বা বিকেলের আড্ডাতেও চা হয়ে উঠেছে বাঙালির আপ্যায়নের বিশেষ একটি উপকরণ। অফিসে কিংবা ক্লাসের ফাঁকে চা তো পান করতেই হয়।

এখন তো বাজারে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায়। তবে আপনি যে চা-ই খান না কেন, তা একটি উদ্ভিদ থেকেই আসে, যার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সাইনেসিস। বিশ্বে হাজারো ধরনের চা পাওয়া যায়। কোন স্থানে জন্মাচ্ছে, বছরের কোন সময়টাতে তোলা হচ্ছে আর প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতিগত ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে সেই চা কেমন হবে। প্রতিটি এলাকার চায়ের আছে তার নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ। স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও একেক ধরনের হয়ে থাকে।

চায়ে রয়েছে অনেক বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। শুধু তা-ই নয়, চা রক্ত জমাট বাঁধতেও বাধা দেয়। লোহা শোষণের মাত্রা কমায় এই চা। এ ছাড়া চায়ে পটাশিয়াম ও জিংক তো আছেই। এখানে বলা হচ্ছে, বেশ কয়েক ধরনের চায়ের কথা। বিশ্বজুড়ে এগুলো খুবই জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর চা হিসেবে বিবেচিত।

হোয়াইট টি
হোয়াইট টি

হোয়াইট টি

এটাকে সবচেয়ে খাঁটি চা বলা হয়। অন্য সব চায়ের থেকে সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সাদা চায়ের রং একেবারে হালকা এবং গন্ধও অনেক কম। মূলত এই চায়ের প্রাকৃতিক গন্ধ, স্বাদ ও মিষ্টতা উপভোগ করা হয়।

হারবাল টি
হারবাল টি

হারবাল টি

এটা একমাত্র চা, যেখানে ক্যামেলিয়া পরিবারের উদ্ভিদের কোনো পাতা থাকে না। এই ধরনের চা আবার তিন রকমের হয়—রুইবস টি, মেট টি ও ভেষজ উপাদানের মিশ্রণ। তৃতীয়টাতে খাঁটি ভেষজ উপাদান, ফুল ও ফলের মিশ্রণ থাকে।

ওলং টি
ওলং টি

ওলং টি

এর উচ্চারণটা আসলে উ লং টি। চীনের রেস্তোরাঁগুলোতে বেশি চলে এই চা। গোটা চীনে দারুণ জনপ্রিয়। এই চা অর্ধেক গাজন করেই প্রস্তুত করা হয়। অর্থাৎ, প্রস্তুত প্রণালির ভিত্তিতে কালো চা আর সবুজ চায়ের মাঝখানে এর অবস্থান। সবুজ চায়ের মতো এর আছে বহুমুখী গুণ। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ওলং চায়ের লিকার পান করলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ওলং চা বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তবে কিছুটা অপ্রতুল, দামও একটু বেশি।

ব্লুমিং টি
ব্লুমিং টি

ব্লুমিং টি

ব্লুমিং টি নামে এক ধরনের চা। অনেকে এটিকে ফুটন্ত ফুলের চা–ও বলে থাকে। আসলে এই চা বানানোর সময় ফুল যেন ফুটে যায়। এতে অনেক সময়ই নানা ধরনের ফ্লেভার জুড়ে দেওয়া হয়। অনেকে রোমান্টিক চা বলে থাকেন ব্লুমিং টিকে।

ব্ল্যাক টি
ব্ল্যাক টি

ব্ল্যাক টি

বেশির ভাগ মানুষ এই চা পান করে। ফুটন্ত পানিতে চা–পাতা দিয়ে কড়া করে বানানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কালো চা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া এই চা নিয়মিত পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে তা হতে হবে দুধ ছাড়া।

গ্রিন টি
গ্রিন টি

গ্রিন টি

বাংলাদেশের শহুরে জীবনে অভ্যস্ত অনেকেই এখন গ্রিন টিতে ঝুঁকছে। এটিও বেশ জনপ্রিয়। তাই বাজারে গ্রিন টি সহজলভ্য। গ্রিন টি ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি সুন্দর স্বাস্থ্য গঠনেও সাহায্য করে। তা ছাড়া এই চায়ে বিদ্যমান অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিশেষভাবে ত্বক ও খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এর পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয় রোধ, মাড়ি মজবুত করা এর নিয়মিত কাজেরই একটি। শুধু তা-ই নয়, এই চা নিয়মিত পান করলে শরীরের মেদ কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে পারে না।

গরম চায়ে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস ভালো থাকতে সাহায্য করবে
গরম চায়ে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস ভালো থাকতে সাহায্য করবে

তবে যে চা আপনার পছন্দের হোক না কেন, এখন সেটা পান করা আরও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। কারণ, নিয়মিত গরম চা পান নতুন ভাইরাস করোনা থেকে আপনাকে অনেকাংশে সুরক্ষা দেবে। আর চায়ের সঙ্গে আমাদের তো আদা বা দারুচিনি মেশানোর অভ্যাস আছেই। সেটাও কাজে দেবে এই সময়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রাজশাহীর পরিচিত রান্না

মেহেরুন নেসার বাড়ি রাজশাহী, থাকেন ঢাকায়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে রান্নার অনুষ্ঠান করেন, লিখেছেন রান্নার একটি বইও।রাজশাহী অঞ্চলের জনপ্রিয় কয়েকটি খাবারের রেসিপি দিয়েছেন তিনি।

কাটোয়া ডাঁটার চচ্চড়ি
কাটোয়া ডাঁটার চচ্চড়ি

কাটোয়া ডাঁটার চচ্চড়ি

উপকরণ: কাটোয়া ডাঁটা (দেখতে সাধারণ ডাঁটার মতো, তবে এর স্বাদ মিষ্টি) ৪০০ গ্রাম, ঝিঙা ৩০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, আদাবাটা ২ চা–চামচ, রসুনবাটা ১ চা–চামচ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া ১ চা–চামচ করে, ধনেগুঁড়া ১ চা–চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ২ টেবিল চামচ ও কাঁচামরিচ ৬টি।

প্রণালি: ডাঁটা ও ঝিঙা ২ ইঞ্চি করে কেটে ছিলে নিন। চুলায় একটি পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে এলে ডাঁটা ও ঝিঙ্গা দিয়ে আবার কষিয়ে নিয়ে স্বাদমতো লবণ ও ১ কাপ পানি দিয়ে দিন। পানি শুকিয়ে এলে চুলার আঁচ কমিয়ে কাঁচা মরিচ ছেড়ে দিন। একটু একটু মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

কালাই রুটি ও ভর্তা
কালাই রুটি ও ভর্তা

কালাই রুটি ও ভর্তা

রুটির উপকরণ: কালাইয়ের আটা ১ কাপ, লবণ সামান্য ও পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি: কালাইয়ের আটা, লবণ ও পানি দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর আটা ভালো করে বেলে রুটি তৈরি করে নিন। এবার গরম তাওয়াতে ১ চা–চামচ তেল দিয়ে রুটির দুই পিঠ ছেঁকে নিন।

ভর্তার উপকরণ: পোড়া বেগুন আধা কাপ, পানি ঝরানো টক দই ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ, ধনেপাতাকুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, টালা জিরার গুঁড়া ১ চা–চামচের চার ভাগের এক ভাগ, কাঁচা মরিচকুচি ৪টি, লবণ স্বাদমতো, চিনি ১ চা–চামচ।

প্রণালি: উপকরণ সব একসঙ্গে মাখিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে দই বেগুন ভর্তা।

রাজশাহীর পরিচিত রান্না

মাছের ঝোলে কালাই বড়ি
মাছের ঝোলে কালাই বড়ি

মাছের ঝোলে কালাই বড়ি

উপকরণ: রুই মাছ ৬ টুকরা, আলু ২টি, বেগুন আধা কাপ, কালাই ডালের বড়ি ৬টি, পেঁয়াজবাটা সিকি কাপ, হলুদ, মরিচ, জিরা ও ধনেগুঁড়া ১ চা–চামচ করে, আদাবাটা আধা টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ চা–চামচ, কাঁচা মরিচ ৭টি, লবণ স্বাদমতো, তেল সিকি কাপ ও ধনেপাতাকুচি সামান্য।

প্রণালি: মাছ লবণ দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। বড়ি শুকনা কড়াইয়ে সামান্য ভেজে ফুটন্ত পানিতে ধুয়ে নিন। আরেকটি কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ, আদা, রসুনবাটা ও হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনেগুঁড়া দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এবার মাছ, আলু ও সামান্য পানি দিয়ে আবারও কষাতে থাকুন। কষানো হয়ে এলে ২ কাপ পানি ও বেগুন দিয়ে অপেক্ষা করুন। ঝোল ফুটে উঠলে বড়ি দিয়ে নেড়ে অল্প আঁচে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা দিয়ে একটু নেড়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে বড়ি দিয়ে মাছের ঝোল।

আম শোল
আম শোল

আম শোল

উপকরণ: শোল মাছের টুকরা ৬টি, কাঁচা আমের টুকরা ২টি, হলুদগুঁড়া আধা চা–চামচ, মরিচ, ধনে ও জিরার গুঁড়া ১ চা–চামচ করে, আদাবাটা আধা টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ, লবণ স্বাদমতো, মেথিগুঁড়া আধা চা–চামচ, চিনি ১ চা–চামচ, সরিষার তেল ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ।

প্রণালি: মাছ ধুঁয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ ও হলুদ মেখে ভেজে নিন। এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরাগুঁড়া ও সামন্য পানি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এরপর আম দিয়ে আবার কষিয়ে নিয়ে এক কাপ পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে ভাজা মাছ, লবণ, চিনি ও মেথিগুঁড়া দিয়ে নেড়ে ৫ মিনিট দমে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে আম শোল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বেকিংয়ের মজার কয়েক পদ

বেকিং করে বাড়িতে সহজেই বানাতে পারেন মজার নানা পদ। সময়ও কাটবে, খাবারও হবে স্বাস্থ্যকর। রেসিপি দিয়েছেন জেবুন্নেসা বেগম

আমের ক্রিম ব্রোলে
আমের ক্রিম ব্রোলে

আমের ক্রিম ব্রোলে

উপকরণ: পাকা আমের ক্বাথ বা পাল্প আধা কাপ, ডিম ৩টা, কুকিং ক্রিম আধা কাপ, চিনি ৩ টেবিল চামচ ও  আইসিং সুগার ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ২ টেবিল চামচ চিনি আধা কাপ আমের পাল্পের সঙ্গে মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ডিম ফেটে এর সঙ্গে কুকিং ক্রিম মেশান। আমের পাল্প মিশিয়ে ছোট ছোট ব্রোলের বাটিতে ঢেলে নিন। ওভেনের পাত্রে পানি দিয়ে এর ওপর বাটিগুলো রাখুন। প্রি–হিট ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে ১৫ মিনিট বেক করুন। এবার ওভেন থেকে বের করে এর ওপর আইসিং সুগার ছড়িযে দিন। ব্লো টর্চ দিয়ে চিনি বাদামি রং করে নিন। আইসিং সুগার না থাকলে চিনি গুড়া করে দিতে পারেন। ব্লো টর্চ যদি না থাকে ওভেনের ওপরে হিট দিয়ে ব্রোলের ওপর আইসিং সুগার দিয়ে ৫ মিনিট বেকড করে নিবেন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করবেন। ওপরের অংশটা ক্রাঞ্চি কেরামেল আর ভেতরটা নরম পুডিংয়ের মতো হবে।

লেবুর কেক
লেবুর কেক

লেবুর কেক

উপকরণ: ময়দা ১ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, বেকিং সোডা ১ চা-চামচ, ডিম ৩টা, আইসিং সুগার পৌনে ১ কাপ, মাখন সিকি কাপ, লেবুর রস দেড় চা-চামচ, লেমন ইমালশান ১ চা-চামচ, লেমন জেস্ট (লেবুর ওপরের সবুজ অংশ কুচি) আধা চা-চামচ, লেমন খাবার রং আধা চা-চামচ, সাজানোর জন্য হুইপড মিল্ক ১ কাপ, আইসিং সুগার পৌনে ১ কাপ, জেলোটিন ১ টেবিল চামচ, লেমন জেলি রং কয়েক ফোটা, লেবুর টুকরা ও লেবুর খোসা ইচ্ছামতো।

প্রণালি: ময়দা, বেকিং পাউডার ও বেকিং সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে ঢেলে রাখুন, ৩টা ডিমের সাদা অংশ ফোম করে আইসিং সুগার দিয়ে বিট করতে থাকুন।

এগ বিটার না থাকলে হুইপ বা চামচ দিয়ে ফেটিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সময় বেশি লাগবে। আইসিং সুগার মিশে গেলে ৩টা কুসুম দিয়ে আবার ফেটিয়ে নিন। এবার মাখন, লেবুর খোসা, খাবার রং, লেমন ইমালশান দিয়ে বিট করুন। মাখন না থাকলে সমপরিমাণ তেল ব্যবহার করতে পারবেন। ময়দার মিশ্রণ অল্প অল্প করে মেশান।

কেক মোল্ডে পেপার বসিয়ে তেল বা মাখন ব্রাশ করে মিশ্রণ ঢেলে দিন। ১৬০ ডিগ্রিতে ৩০ মিনিট বেক করুন। হুইপড ক্রিম বিট করে আইসিং সুগার দিয়ে আবার বিট করুন। গরম পানিতে জেলোটিন গলিয়ে ঠাণ্ডা হলে এর সঙ্গে বিট করে ক্রিম তৈরি করে নিন, কেক তৈরি হয়ে গেলে ৩ অথবা ৪টা স্তরে কেটে নিন। প্রতিটি স্তরের কেকে চিনির সিরা বা সিরাপ ব্রাশ করে নিন ( চিনি ২ টেবিল চামচ, পানি ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ দিয়ে সিরা তৈরি করতে হয়)। প্রতিটি স্তরে ক্রিম লাগিয়ে ওপরে চারপাশ ক্রিম দিয়ে ঢেকে দিন। ক্রিমের সঙ্গে সামান্য লেমন জেলি রং মিশিয়ে ওপরে সাজাতে পারেন। লেবুর পাতলা টুকরা বা খোসা দিয়ে আপনার পছন্দমতো সাজিয়ে নিতে পারেন।

পাউরুটি
পাউরুটি

পাউরুটি

উপকরণ: ময়দা ২ কাপ, ইস্ট ২ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, ডিম ১টা (সাদা অংশ), তরল দুধ আধা কাপ, মাখন বা তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ ও পানি পরিমানমতো।

প্রণালি: ইস্ট ১ টেবিল চামচ কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। চিনি, ফেটানো ডিমের অর্ধেক অংশ, মাখন অথবা তেল এবং ভিজিয়ে রাখা ইস্ট ফুলে উঠলে ময়দায় দিয়ে দিন। সবশেষে পরিমানমতো লবণ দিয়ে মাখুন। সামান্য পানি মিশিয়ে রুটির ডোয়ের মতো তৈরি করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট খুব ভালোভাবে মথতে হবে। চুইংগামের মতো টেনে যখন দেখবেন লম্বা হচ্ছে, তবে ছিড়ে আসছে না, তখন বুঝবেন ডো ভালোভাবে তৈরি হয়ে গেছে। এখন একটা গরম জায়গায় ঢেকে রাখুন।

১ ঘণ্টা পর যখন দেখবেন ময়দার ডো ভালোভাবে ফুলে উঠেছে, তখন বড় করে একটা রুটি বেলে নিন। এবার রুটিটাকে রোল করে ভাজ করে পাউরুটির ডাইসে দিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। কিছুটা ফুলে উঠলে প্রি–হিট ওভেনে ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিট বেকড করুন। ওভেন থেকে বের করে আরও ১০ মিনিট ঢাকনা বন্ধ রাখবেন। এবার ডাইস থেকে পাউরুটি বের করে কেটে পরিবেশন করুন।

চিকেন কাপ বান
চিকেন কাপ বান

চিকেন কাপ বান

উপকরণ: বানের জন্য: ময়দা ২ কাপ, চিনি ১ টেবিল চামচ, ইস্ট ২ চা-চামচ, গুড়া দুধ ১ টেবিল চামচ, ফেটানো ডিম অর্ধেক, লবণ আধা চা-চামচ, মাখন ১ টেবিল চামচ, মাখন ১ টেবিল চামচ, পানি পরিমানমতো।

পুরের জন্য: মুরগির মাংস ২ কাপ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচকুচি ২ টেবিল চামচ, সাদা গোল মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, তেল ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, ময়দা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা আধা চা-চামচ ও গুড়া দুধ ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ময়দার সঙ্গে চিনি, ইস্ট, গুঁড়া দুধ, ফেটানো ডিমের অর্ধেক, লবণ ও পরিমানমতো পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। সবশেষে মাখন দিয়ে আরও একটু মথে একটা বাটিতে ডো রেখে ঢেকে দিন। গরম জায়গায় রেখে ডো ফুলে উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

মুরগির বুকের মাংস অথবা হাড় ছাড়া মুরগির মাংস সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ মাংস ছোট ছোট টুকরা করে নিন। প্যানে অল্প তেল দিয়ে আদাবাটা, মুরগির মাংস, পেঁয়াজ কয়েক মিনিট ভাজুন। বাকি উপকরণ দিয়ে ২ মিনিট ভেজে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।

ময়দার ডো ফুলে গেলে ছোট ছোট রুটি বেলে নিন। কাপের মোল্ডে তেল ব্রাশ করে রুটি দিয়ে ভেতরে চিকেনের পুর দিয়ে ওপরে আরেকটি ছোট রুটি দিয়ে সামান্য পানি লাগিয়ে আটকে দিন। ওপরে ডিমের কুসুম অথবা দুধ ব্রাশ করে দিন। ১৮০ ডিগ্রি প্রি–হিট ওভেনে ২০ মিনিট বেক করুন। অনেক ওভেনে সময় বেশি লাগে। সেক্ষেত্রে আরও ৫ মিনিট বাড়িয়ে নিবেন। ওভেন থেকে বের করে ওপরে সামান্য মাখন ব্রাশ করে নিবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com