আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

দিনাজপুরে বারোমাসি তরমুজ ও সবজি চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে বছরব্যাপী বিষমুক্ত ও নিরাপদ বারোমাসি তরমুজ ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের আদিবাসী অনেক নারী। তাদের এসব তরমুজ ও সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় স্থানীয়দের অনেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। 

চলতি বছরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়নে ১০০ জন আদিবাসী নারী কৃষক ১ হেক্টর জমিতে তৃপ্তি ও মধুমালা জাতের বারোমাসি তরমুজ এবং ৩ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ঘোড়াঘাট এপির বাস্তবায়নে ইনোভেশন প্রকল্পের আওতায় ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের প্রযুক্তিগত কারিগরি সহযোগিতায় আদিবাসী নারীরা এসব ফসল ও তরমুজ চাষ করেন।ক্ষেতের প্রদর্শনীগুলোতে দেখা যায়, মাটিতে মালচিং পেপারের নিচে রোপণ করা বীজ থেকে চারা উঠে দু’পাশে দেওয়া বাঁশের তৈরি মাচার উপরে বড় হয়েছে গাছ। গাছে ঝুলছে তৃপ্তি ও মধুমালা জাতের তরমুজ। তরমুজগুলো যাতে ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে এক প্রকার নেটের ব্যাগ। মধুমালা জাতের তরমুজ হয় এক থেকে দেড় কেজি আর তৃপ্তি জাতের তরমুজ দুই থেকে তিন কেজি। বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ টাকা দরে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। এসব তরমুজ অসময়ে পাওয়ার ফলে দামও বেশি পাওয়া যায়।

পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন কৌশল যেমন-ফাঁদ পদ্ধতি ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই প্রদর্শনীগুলোতে উৎপাদন করছে বারোমাসি তরমুজ ও বিভিন্ন জাতের বেগুন, পটল, লাউ, ঝিঙা ও শসাসহ নানা রকমের সবজি। কৃষকরা নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ব্যবহার করছেন ফেরোমন ফাঁদ, নিম পাতা ও বিষ কাটালের রস।

ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপির শীধলগ্রামের কৃষাণী সুচিত্রা মাহাতো বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সবজি ও তরমুজের চাষ করেছি। বিষমুক্ত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় এই তরমুজ চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছি। ওয়াল্ড ভিশন বীজ, কাগজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেন। 

ঘোড়াঘাট ওয়ার্ল্ড ভিশনের ম্যানেজার রোলেন্ড গোমেজ বলেন, এই এলাকায় শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য পায় এবং কৃষকেরা যাতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয় সেই লক্ষ্যে নারীদের নেতৃত্বে ইনোভেশন প্রকল্পের আওতায় তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. এখলাছ হোসেন সরকার বলেন, প্রান্তিক আদিবাসী নারী কৃষকরা তাদের বসত ভিটার ছোট জায়গায় বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল ও বারোমাসি তরমুজ চাষ করে আর্থিকভাবে বাড়তি আয় করতে পারে সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ ও সকল ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

৫,০০০ একর জমিতে আমন চাষ অনিশ্চিত

৫,০০০ একর জমিতে আমন চাষ অনিশ্চিত

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন জাত

ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)। ইতিমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ড জাতটি অনুমোদন দিয়েছে। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’। আগামী বছর থেকে চাষের জন্য এই জাতের গমবীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

ডব্লিউএমআরআইয়ের গম গবেষকেরা বলছেন, জাতীয় বীজ বোর্ড এ পর্যন্ত গমের ‘ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী’ দুটি জাতের অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী গমের একটি জাত উদ্ভাবন করে। ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত হিসেবে ‘বারি গম-৩৩’ নামে জাতটিকে অনুমোদন দেয়। এই জাত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। আর নতুন উদ্ভাবিত ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি ৯৯ দশমিক ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী।বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় বীজ বোর্ডেরও সদস্য। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে জাতটি কৃষক পর্যায়ে আসবে।

বিডব্লিউএমআরআইয়ের গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) চারটি জাতের সঙ্গে সংকরায়ণের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল গমের এই জাত পাওয়া গেছে। এটি গমের ব্লাস্ট রোগ, পাতার দাগ রোগ ও মরিচা রোগপ্রতিরোধী এবং তাপসহিষ্ণু। জাতটি প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল। এর জীবনকাল ১০৮-১১৪ দিন। জাতটির গাছ শক্ত, শিষ লম্বা এবং প্রতি শিষে দানার সংখ্যা ৪৮-৫৪টি। দানার আকার মাঝারি, রং সাদা চকচকে এবং হাজার দানার ওজন ৪২-৪৬ গ্রাম। গাছের রং গাঢ় সবুজ। উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ফলন চার থেকে পাঁচ মেট্রিক টন।বিজ্ঞাপন

জাতটি ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্যম মাত্রার তাপ সহনশীল হওয়ায় এটি ৫ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বপন করলে অন্য জাতের তুলনায় বেশি ফলন পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে জাতটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। রবি মৌসুমে দেশের ১৩টি স্থানে জাতটির মাঠপর্যায়ে গবেষণা হয়। গমের এ জাতের চূড়ান্ত মাঠ পরীক্ষা হয় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা হয় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় দিনাজপুর এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি গাজীপুরে। এরপর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’ নামে গমের এই জাতকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

* গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় ‘ডব্লিউএমআরআই গম-৩’ নামের এই জাতকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। * এ বছর ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসিকে ব্রিডার সিড দেওয়া হবে। আবাদের জন্য আগামী বছর বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলায় গমে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ৭টি জেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গম এ রোগের আক্রমণের শিকার হয়। এতে গমের উৎপাদন এক–তৃতীয়াংশ কমে যায়। কৃষকেরা মূলত বারি গম-২৬ জাতটি বেশি পরিমাণে চাষ করেন। ওই জাতের গমে ব্লাস্ট ব্যাপক আকারে আক্রমণ করে।

কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। গমের শিষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকলে এ রোগের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। প্রধানত গমের শিষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শিষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পড়ে। আক্রান্ত স্থানের ওপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শিষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শিষের দানা অপুষ্ট হয় ও কুঁচকে যায়। দানা ধূসর বর্ণের হয়ে যায়। গমের পাতায়ও এ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাতায় চোখের মতো ধূসর বর্ণের ছোট ছোট দাগ পড়ে।

যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬ সালে প্রথম দেখা দেওয়ার সময় গমের ব্লাস্ট রোগটি আমাদের দেশে ছিল একেবারেই নতুন। গমে এই রোগ দেখা দেওয়ার পর গবেষণা শুরু হয়। এরপর বারি গম-৩৩ নামে নতুন ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গমের ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী ডব্লিউএমআরআই গম-৩ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট দিনাজপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম বলেন, নতুন উদ্ভাবিত জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড ‘ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী’ জাত হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এ বছর ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসিকে ব্রিডার সিড দেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ

লেখক

চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় ১লাখ ৬৬হাজার ৩শ’৩৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।আবাদকৃত জমিতে ২০লাখ ৮৫হাজার ৯১০ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবছর বেশি জমিতে কৃষকরা পাটের আবাদ করেছেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলা হচ্ছে-যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ।


যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় মোট ১লাখ ৬৬হাজার ৩শ’৩৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।এর মধ্যে যশোর জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২৬হাজার ১শ’২৫হেক্টর জমিতে,ঝিনাইদহ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২২হাজার ৮শ’৬০ হেক্টর জমিতে, মাগুরা জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩৫হাজার ৮শ’২০ হেক্টর জমিতে, কুষ্টিয়া জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৪০হাজার ৯শ’৬৬ হেক্টর জমিতে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২০হাজার ৫শ’২৭ হেক্টর জমিতে এবং মেহেরপুর জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২০হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,যশোর সদর উপজেলার, বাঘারপাড়া উপজেলার,ঝিকরগাছা উপজেলার,চৌগাছা উপজেলার এবং মাগুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠের পর মাঠ জুড়ে পাটের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।


যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন জানান,কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পাট চাষেিদর উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক পাট চাষে সহজশর্তে কৃষকদের লোন প্রদান করছে। গত কয়েক বছর যাবত পাটের দাম ভালো থাকায় এ অঞ্চলের জেলাগুলোতে পাটের আবাদ দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

লেখক

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে ৬৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে রোপা আমনের চারার জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে ৬৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৬৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের রয়েছে এক হাজার ৭০০ হেক্টর।

এতে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ মেট্রিক টন চাল। চলতি আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোন সমস্যা হবেনা। চলতি জুলাই দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে আমনের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি।
কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে জেলায় এবার বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে জেলায় শতভাগ বোরো ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। কৃষকরা বর্তমানে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

নড়াইলে বাড়ির আঙিনাতে মিশ্র ফলবাগান করে লাখোপতি কৃষক বাবুল হোসেন

লেখক

বাড়ির আঙিনাতে মিশ্র ফলবাগান করে লাখোপতি হয়েছেন নড়াইলের এক কৃষক। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নার্সারি ও সবজি ক্ষেত। মিশ্র এ ফলবাগানে রয়েছে হরেক রকম ফলমূল। কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতের ফল এবং শাক-সবজি বাজারজাত করছেন কৃষক বাবুল হোসেন (৪৮)। তার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর এলাকায়। খরচ বাদে বছরে আয় করেন লক্ষাধিক টাকা। বসত বাড়ির আঙিনাসহ পাশের এক একর জমিতে ব্যতিক্রমী এ বাগানটি ২০১০ সালে গড়ে তোলেন তিনি। বাবুল হোসেনের এ ব্যতিক্রমী বাগান দেখে অনুপ্রাণিত এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাবুল হোসেনের মিশ্র ফল বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, কমলা লেবু, আনারস, ড্রাগন, ডালিম, আম, পেয়ারা, আমড়া, কলা, পেঁপেসহ হরেক রকম দেশি-বিদেশি ফলমূল। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজিসহ নার্সারি ক্ষেত রয়েছে। এছাড়া রয়েছে দুর্লভ ট্যাং ও স্ট্রবেরি ফলের চাষাবাদ।


বাবুল হোসেন বাসসকে জানান, প্রথমদিকে বসতবাড়ির আঙিনায় ৬০ শতক জমিতে নার্সারির আবাদ শুরু করেন তিনি। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দুই বছর পর ২০১০ নার্সারির মধ্যেই শুরু করেন মিশ্র ফলবাগান। এদিকে প্রায় আট মাস আগে আরো ৪০ শতক জমিতে আরেকটি মিশ্র ফলবাগান শুরু করেন তিনি। মোট এক একর জমিতে ১৩০ প্রজাতির ফলজ ও নার্সারির চারা রয়েছে এখানে। বাগান পরিচর্যায় তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নার্সারিসহ মিশ্র ফলবাগানের পরিধি আরো বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল হোসেন।


এদিকে, বাবুল হোসেনের ব্যতিক্রমী ফলবাগান দেখে অনুপ্রাণিত এলাকাবাসী। কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের শুড়িগাতী গ্রামের খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাবুল হোসেনের ব্যতিক্রমী বাগানে হরেক রকম ফল রয়েছে। পাশাপাশি নার্সারি রয়েছে। তার বাগান দেখে অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের বসতবাড়ির আশেপাশে এমন একটি বাগান করার শখ হয়েছে।
কালিয়া পৌরসভার মেয়র ওয়াহিদুজ্জামান হীরা বলেন, পৌর এলাকায় বাবুল হোসেনের ব্যতিক্রমী ফলবাগান ও নার্সারি মুগ্ধ করবে সবাইকে। পতিত জমি বা বসতবাড়ির আশেপাশে যাদের বাগান করার সুযোগ রয়েছে, তাদের উচিত এ ধরণের মিশ্র ফলবাগান গড়ে তোলা। তাহলে পারিবারিক ভাবে যেমন দেশি-বিদেশি ফলের চাহিদা পূরণ হবে, তেমনি আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন তারা।
কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, বসতবাড়ির আঙিনায় বাবুল হোসেনের মিশ্র ফলবাগানটি যেমন ব্যতিক্রম, তেমনি তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। ব্যতিক্রমী এ বাগান দেখে অনুপ্রাণিত অন্যরাও। তার বাগানের পরিধি ও সমৃদ্ধি অর্জনে আমাদের সুদৃষ্টি রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com