আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

দিগন্তজুড়ে হলুদ সমুদ্র

দৃষ্টিসীমায় কেবলই হলুদ সমুদ্র
দৃষ্টিসীমায় কেবলই হলুদ সমুদ্র

শীতের মৃদু বাতাসে হঠাৎ দুলে উঠছে সরিষা খেত। আর তাতেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ যা সবার মন কেড়ে নিচ্ছে

তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য টাঙ্গাইলের বিশেষ সুনাম রয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সরিষা গাছে ইতোমধ্যে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। তাই জেলা বিভিন্ন মাঠ কার্যত হলুদের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকেরাও অতিরিক্ত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাম বাংলার সবুজের ফাঁকে ফাঁকে কেবল হলুদের সমাহার। মাঠের চারদিক হলুদে হলুদে পরিপূর্ণ। হলুদ সরিষা খেতে কখনো চোখে পড়ছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক। শীতের মৃদু বাতাসে হঠাৎ দুলে উঠছে সরিষা খেত। আর তাতেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ যা সবার মন কেড়ে নিচ্ছে। 

এদিকে সরিষা খেতের এই শোভা আরও বাড়িয়ে তুলেছে অসংখ্য মৌমাছির দল। তারা কেবল ব্যস্ত গুনগুনিয়ে মধু আহরণে। গ্রামে মেঠোপথ ধরে সরিষা খেতের পাশ দিয়ে যাবার সময় এসব দৃশ্য দেখে সবারই চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। এই সৈন্দর্যকে চোখে দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকেরা সরিষা খেতে বেড়াতেও আসছেন। অনেকে আবার সরিষা ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে ক্যামেরা ও ভিডিও’র মাধ্যমে নিজের ছবিধারণ করছেন সরিষা ফুলের সাথে।

সরিষার মিষ্টি গন্ধে মৌমাত গ্রাম
সরিষার মিষ্টি গন্ধে মৌমাত গ্রাম

কৃষকেরা জানান, ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হবে। আমন ধান ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই শাক-সবজির পাশাপাশি সরিষার আবাদ করে থাকেন তারা। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হয়।

কৃষক সামাদ বলেন, এবার আমি প্রায় ২ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগায় খরচও কম হয়। সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল তৈরি করে না। এই সরিষা ভাঙিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরি হয়। যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় বারি ১৪, ১৭, বিনা ৯, টরি ৭, সম্পদ, মাঘী ইত্যাদি জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে। গত বছর ৩৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। 

প্রকৃতিপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন হলুদের টানে
প্রকৃতিপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন হলুদের টানে

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিধপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ২ হাজার হেক্টের জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার টাঙ্গাইল জেলায় সরিষার ভালো ফলন হবে। সরিষায় কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। সরিষা চাষে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অল্প খরচ করে ৭০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়।” 

তিনি আরও বলেন, “জেলায় এবার সরিষার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মৌ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মৌচাষিরা চাষিরা মৌ বক্স স্থাপন করেছে। এ সব বক্স থেকে দেড়শ’ টন মধু সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৌমাছি থাকার ফলে সরিষার ২০ ভাগ পরাগায়ন বেড়ে যাবে। এতে কৃষকেরা বাড়তি ফলনও পাবে। সরিষা চাষে উৎসাহ দিতে চলতি বছর ১১ হাজার কৃষককে প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির জন্য সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।”

ফসল

কুমিল্লায় বারোমাসি টমেটো চাষে শাওনের স্বপ্ন

লেখক

 জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাওন সরকার। ৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকার টমেটো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেত থেকে টমেটো তুলছেন শাওন। তিনি বাসসকে বলেন, গত ১৫ জুলাই ৩৫ শতাংশ জমিতে টমেটোর চারা রোপণ করেন। বর্তমানে পাকা টমেটো স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করছেন। খুচরা প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর পাইকারী প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। 


শাওন জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ বাবদ তাঁর দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, গাছে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও তিন লাখ টাকার মতো টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। শাওন আরোও জানান, কসমেটিক দোকান পরিচালনা করার পাশাপাশি তিনি এ টমেটো চাষ করেছেন। ভবিষ্যতে আরও ১০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে তাঁর টমেটো ক্ষেত দেখে যাচ্ছেন। অনেকে পর্রামশ নিচ্ছেন।


এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ বাসসকে বলে, শাওনকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ আমরা কৃষি সম্প্রাসারণ অফিস থেকে প্রথম থেকেই দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন বাজারে টমেটোর দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মেহেরপুরে কাদা জমিতে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য

লেখক

জমিতে সেচ দিয়ে কাদা তৈরি করে ধান লাগানোর মতো করেই মেহেরপুরের কৃষকরা পেঁয়াজের চাষ শুরু করেছে। কৃষকরা যুগ যুগ ধরে পেঁয়াজ চাষ করে আসছে শীত মৌসুমে শুকনো মাটিতে। মেহেরপুরের চাষিরা তাদের চাষের ধরণ বদলিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেতে আমন ধান আবাদের মতো কাদা তৈরি করে রোপণ করেছে পেঁয়াজের চারা। এ পদ্ধতিতে পেঁযাজের ফলন নিয়ে চিন্তিত হলেও হাল ছাড়েনি কৃষি বিভাগ ও উদ্যোমী চাষিরা। গত ৪ বছর ধরে জেলায় কাদা জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাদায় রোপণ করা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ফলনই নয়, নতুন পদ্ধতিতে চাষ করে বিঘাতে গড়ে ৫০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন অনেকেই। আগামীতে এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেঁয়াজ উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলায় এবার নতুন পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। বারি পেঁয়াজ-৫ সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছে চাষিরা। 
জেলার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহমেদ মাস্টার বলেন- মুজিবনগরে শীতকালে ব্যাপক পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে সেটি ভারতীয় বীজ থেকে উৎপন্ন ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজ। এ পেঁয়াজ বেশি দিন ঘরে রাখা যায় না। আবার সময় চাহিদা ও দাম না পাওয়ায় চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজের পরিবর্তে কয়েকজন কৃষক গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন ও ভােলা দামে বিক্রি করে ওই জমিতেই আবার শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ করছেন।  পেঁয়াজ আবাদের এ ধারায় দেশের পেঁয়াজ সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন অগ্রগামী এসব কৃষক। 
মেহেরপুর সদর উপজেলার শুভরাজপুর গ্রামের কৃষক ওহাব আলী জানান- তিনি ৫ বিঘা বারি পেঁয়াজ -৫ নতুন পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম। নভেম্বর থেকেই এ পেঁয়াজ উত্তোলন করা যাবে বলে তিনি জানান। ফলে চাষিরা সারা বছর পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে পেঁয়াজের ঘাটতি যেমন কমবে, তেমনি চাষিরাও সারা বছর ন্যায্য দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।


মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি গোলাম মোস্তফা জানান- ১৫বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি এবছর ২০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেয়াঁজের চাষ করেছেন। ৯৫ থেকে ১১০ দিনে এ পেঁয়াজ বিঘায় ১২০ থেকে ১৫০ মণ উৎপাদন হয়। গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ প্রতি বিঘায় চাষ করতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ জানান- জেলায় বিভিন্ন চাষিদের মাধ্যমে ২৫ হেক্টর জমিতে বারী পেঁয়াজ-৫ আবাদ করা হয়েছে। ভালো ফলন হবে এবং চাষিরা লাভবান হবে।


মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- নতুন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে মেহেরপুর জেলা কৃষিতে যুগান্তকারী এক পরিবর্তনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। লাভ ও ফলনে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। আগামীতে এ জেলায় আরও বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বিনা-১৭ ধানচাষে নওগাঁয় কৃষকের মুখে হাসি

নওগাঁয় বিনা-১৭ জাতের ধানচাষে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। নতুন জাতের এ ধানচাষে সার, পানি যেমন কম লাগছে তেমনি কাটাও যাচ্ছে বেশ আগেই। স্বল্পমেয়াদী জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে বিনা-১৭ জাতের ধান।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কাটার পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় কৃষকদের বিনা-১৭ জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মাঠ দিবসে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মাঠ দিবসে কৃষক ইব্রাহিম খলিলের জমির ২০ বর্গমিটার ধান কেটে ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম ধান পাওয়া যায়।

Naogaon-Paddy-Bina-Pic_04.jpg

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে এবার আমনের আবাদ হয়েছে। বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দায় ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলায় কমবেশি এ জাতটির চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রিন সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানচাষে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০টি দানা থাকে এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়। ধান কাটার পর একই জমিতে রবিশষ্য হিসেবে সরিষা, মসুর ডাল, আলু বা তিল চাষ করা যাবে। পরে ওই জমিতে বোরো ধান লাগানো যাবে।

Naogaon-Paddy-Bina-Pic_04.jpg

শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চার বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। এ জাতের ধানচাষে সেচ, সার, কীটনাশক খরচ অনেকটাই কম। একসঙ্গে রোপণ করার পর আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার মনে হচ্ছে, বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন এ জাতের গুণাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমির সঙ্গে ধান লাগিয়েও তার জমির ধান কাটা হচ্ছে। ফলনও ভালো হচ্ছে। আর আমার জমির ধান পাকতে এখনো ২০-২৫ দিন লাগবে। বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্পসময়ে পেকেছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপণ করা যাবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান নিজে লাগাবো এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবো।

Naogaon-Paddy-Bina-Pic_04.jpg

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু হওয়ায় ৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন হয়। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যায়। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধানচাষে এখন তিনটি ফসল চাষ করা সম্ভব। বিনা-১৭ ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষকরা রবিশষ্য চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। এ জাতের ধানচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

আলোচনা সভায় বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জেনে নিন আলু চাষের সহজ পদ্ধতি

আলু এক অত্যন্ত সহজলভ্য সবজি | পশ্চিমবঙ্গের অর্থকরী ফসলও (Cash Crop farming) বটে | প্রতি বছর এ দেশে আলুর উৎপাদন যে পরিমাণে হিমাগারে রাখা যায় তার চেয়েও বেশি। তার পরও খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার দিন দিন এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, বাজারে আলুর দাম কখনোই আর কম থাকছে না। সে জন্য প্রতি বছরই আলুর মৌসুম শুরুর আগে শুধু কৃষকরাই নয়, যারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত নন এমন অনেকেই আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ আলু চাষে স্বল্প সময়ে লাভ বেশি। অনেক সময় কৃষকবন্ধুরা আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাই আলু  চাষের বিশেষ কিছু তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন,

জমি নির্বাচন(Land):

বেলে বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে আলু ভালো হয়। সূর্যের আলো প্রচুর পড়ে এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি আলু চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমিতে জল সেচ দেওয়া ও জল নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্খা থাকাও প্রয়োজন। এ জন্য জমি সমতল করতে হয়।

জমি তৈরী:

আলু মাটির নিচের ফসল, তাই জমি গভীর চাষ দিতে হয়। জমি চাষ দেওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিন রোদে ফেলে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন পোকা, পোকার কিড়া ও পুত্তলী এবং রোগজীবাণু রোদের আলো ও তাপের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হয়। আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটি এমনভাবে  ঝুরঝুরে করতে হয় যেন মাটির মধ্যে বাতাস চলাচল ভালোভাবে করতে পারে, যাতে আলুর টিউবার গঠন কাজটি সহজ হয়। চাষের শেষে জমির সব আগাছা ও আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে দূরে কোথাও পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হয়।

মাটি শোধন:

মাটি শোধন করে নিলে আলুর ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আগের বছর ঢলে পড়া রোগ হয়নি বা রোগ হয়েছে এমন যেকোনো জমিতেই মাটি শোধন করে নিতে হয়। শেষ চাষের আগে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে চাষ দিয়ে সেচ দিতে হয়। ব্লিচিং পাউডার জমির মাটির সাথে মেশানোর পর জমিতে অবশ্যই জো অবস্খা থাকতে হয়। এভাবে ২৮ থেকে ৩০ দিন জমি ফেলে রাখতে হয়। এতে জমির মাটি শোধন হয় অর্থাৎ মাটির বিশেষ বিশেষ রোগ জীবাণু ধ্বংস হয় বা তাদের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

চাষের সময়:

আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ পর্যন্ত। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলুবীজ রোপণ করা যায়, তবে ফলনও আনুপাতিক হারে কমে যায়।

বীজ ব্যবস্থাপনা:

হিমাগারে সংরক্ষিত অনুমোদিত জাত যেমন- কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি শতকে ৬-৮ কেজি বীজের দরকার হবে। ২৫-৩০ গ্রাম ওজনের ছোট আলু বা বড় আলুর কমপক্ষে দুই চোখ বিশিষ্ট কাটা অংশই আলুর বীজের জন্য ভাল। কাটা অংশে ছাই লাগিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। রোপণের আগে এসব বীজ অনুমোদিত ছত্রাকনাশক (যেমন-ব্যাভিস্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫) দিয়ে শোধন করে নেয়া ভাল। ২০ ইঞ্চি দূরে সারি করে ১০ ইঞ্চি দূরে প্রতিটি বীজ আঙুলের চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। যদি মাটি কিছুটা শক্ত হয় তবে হাত লাঙল টেনে ১০ সেঃ মিঃ গভীর করে নালায় বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

আলু চাষে একর প্রতি ইউরিয়া ১১২ কেজি, টিএসপি ৭৫ কেজি, এমওপি ১১২ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, জিংক সালফেট ৫ কেজি এবং বোরণ সার ৪ কেজি ব্যবহার করতে হয়। অর্ধেক ইউরিয়া, অর্ধেক এমওপি ও সম্পূর্ণ টিএসপি এক সাথে মিশিয়ে বীজ আলু বপনের পাশে সারের নালায় দিতে হয়। বাকি সার রোপণের ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আর জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বোরণ সার শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। যেসব অঞ্চলের মাটিতে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি আছে সেসব অঞ্চলে ম্যাগনেশিয়াম সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মিষ্টি কুমড়ার বীজের যত উপকারিতা

আমাদের ডায়েট বা খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত খাবারে, দৈহিক চাহিদা মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব পুষ্টি উপাদান এর সমন্বয় করা। খাবারের কম্বিনেশন অর্থাৎ কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবার খেলে পুষ্টি সরবরাহ সঠিক হবে এবং কিভাবে খেলে তা আমাদের দেহের চাহিদা মিটিয়ে সঠিক পুষ্টি সরবরাহের পাশাপাশি দৈহিক সুস্থতা বজায় রাখবে, সেই দিকে যদি আমরা আলোকপাত করি, তাহলে বহুলাংশেই অনেক জটিল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিষ্টি কুমড়ার বিচি, যা আমরা প্রায়শই সবজির আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেই। ভুল শোনেননি, আসলেই নাশতা হিসেবে কুমড়ার বিচি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে নিতে পারেন। ১০০ গ্রাম কুমড়ার বিচি থেকে ৫৬০ ক্যালরি পাওয়া যায়, তার মানে ক্ষুধা মেটানোর কাজটা ভালোই পারে এ বস্তু। আর সামান্য এই খাবারে পুষ্টিও গিজগিজ করছে। প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানের ‘পাওয়ার হাউস’ মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে আছে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব খাদ্য উপাদান।
এখন আসি এই মিষ্টি কুমড়ার বিচি কেন এত উপকারী।

ভারতের ডি কে পাবলিশিং হাউসের একটি বই ‘হিলিং ফুডস’-এ বলা হয়েছে, কুমড়ার বিচি (বীজ) ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। বিচিগুলোতে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এই ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

ওজন কমানো, চুলের বৃদ্ধিসহ কুমড়োর বিচির নানা গুণ জেনে নেওয়া যাক—

১. ‘হৃদ্‌যন্ত্র’ ভালো রাখতে
কুমড়োর বিচিতে আছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় চর্বি, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সবই হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে আছে ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২. ভালো ঘুম
কুমড়োর বিচিতে আছে সেরোটোনিন। স্নায়ু নিয়ন্ত্রক এই রাসায়নিক বস্তুকে প্রকৃতির ঘুমের বড়ি বলা হয়। ট্রাইপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে গিয়ে সেরোটোনিনে রূপান্তরিত হয়, যা ঘুম নিশ্চিত করে। ঘুমানোর আগে মুঠভর্তি কুমড়োর বিচি এনে দেবে পুরো রাত্রির শান্তি।

৩. জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমায়
পেশির জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমানোর ক্ষমতা আছে কুমড়োর বিচির। এ ছাড়া বাতের ব্যথাও কমায় এটি। অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে এর তেলও ভালো কাজে দেয়।

৪. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
প্রচুর পরিমাণে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এটি।

৫. ভালো রাখে প্রোস্টেট
কুমড়োর বিচিতে আছে জিংক। যা পুরুষের উর্বরতা বাড়ায় ও প্রোস্টেটের সমস্যা প্রতিরোধ করে। এতে আছে ডিএইচইএ (ডাই-হাইড্রো এপি-অ্যান্ড্রোস্টেনেডিয়ন), যা প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

৬. ডায়াবেটিসেও উপকারী
শরীরে নিয়মিত ইনসুলিন সরবরাহ করে এবং ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ কমায়। এ ছাড়া হজমে সাহায্য করে এমন প্রোটিনও সরবরাহ করে কুমড়োর বিচি, ফলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭. ওজন কমাতে সাহায্য করে
ওজন কমাতেও সাহায্য করে কুমড়োর বিচি! ছোট্ট এই খাবারেই পেট পূর্ণ থাকে অনেকক্ষণ। আর আশজাতীয় খাবার বলে হজমেও সময় লাগে। ফলে ক্ষুধা পায় না, শুধু শুধু বাড়তি খাবার শরীরে ঢোকার সুযোগ পায় না।

৮. দীর্ঘ চুলের নিশ্চয়তা
এতে আছে কিউকুরবিটিন, এমন এক অ্যামিনো অ্যাসিড যা চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ভিটামিন সিও আছে কুমড়োর বিচিতে, যা চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়।

যেভাবে খাবেন কুমড়োর বিচি
১. কাঁচা খেতে পারেন কিংবা একটু টেলে নিয়েও খাওয়া যায়।
২. কুমড়োর বিচি দিয়ে কেক, স্যুপ ও সালাদ বানিয়েও খেয়ে নিতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com