আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

দারিদ্রতা কমাচ্ছে মাশরুম চাষ

 দারিদ্রতা কমাচ্ছে মাশরুম চাষ
দারিদ্রতা কমাচ্ছে মাশরুম চাষ

মধ্যবয়সী অমূল্য ধন চাকমা। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রাঙামাটি শহরের সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে। গ্রামের বাড়ি জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ি সদরে। মাশরুম চাষই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে অমূল্য ধন চাকমার জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মাশরুম চাষ। তিনি বলেন, বেকারত্বের অভিশাপ মোচন করতে তিনি এ পেশায় এসেছেন প্রায় ১৩ বছর আগে। ইতোমধ্যে এ পেশায় স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ঘরে বসেই তার মাসিক গড় আয় প্রায় লাখ টাকার উপরে। নিজ বাড়িতে মাশরুমের চাষ করেন তিনি। আর এতে সার্বক্ষণিক সহায়তা করেন তার সহধর্মিনী নীহারিকা চাকমা। পরিশ্রম একদম স্বল্প পরিসরের। পুঁজিও নেহাত কম। কিন্তু লাভ অধিক। স্বামী-স্ত্রী মিলে পারিবারিকভাবেই মাশরুম চাষ করেন অমূল্য ধন চাকমা ও নীহারিকা চাকমা। বাজারেও মাশরুম বিক্রি করতে যান দুজনেই।

অবশ্য ভাগ্য পরিবর্তনের গল্পটা এখন শুধুই অমূল্যের নয়। এই গল্পটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়েছে। মাশরুম রাঙামাটির অনেক লোকের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে। বলা যায়, মাশরুম চাষে নীরব বিপ্লব ঘটছে এই পার্বত্য জেলায়। স্বাবলম্বী হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতদরিদ্র ও বেকার মানুষ। এতে অভাব-অনটন দূর হয়ে তাদের পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

একই জায়গায় পাশাপাশি বসবাস করেন অমল কান্তি চাকমা। তিনি রাঙ্গামাটি সদরের কুতুকছড়ির একটি মৌজার প্রধান বা হেডম্যান। আরেক মাশরুম চাষি ননী জীবন চাকমা। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। অমূল্য ধন চাকমার সাফল্য দেখে তারাও ঝুঁকে পড়েন মাশরুম চাষে। এতে অভাবনীয় সাফল্য আসে তাদেরও। পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। বর্তমানে মাশরুম চাষে তাদের মাসিক গড় আয় প্রায় ৩০-৫০ হাজার টাকা।

তারা বলেন, মাশরুম চাষে তাদের প্রত্যেকের জীবনে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। মোচন হয়েছে বেকারত্বের অভিশাপ। দূর হয়েছে সংসারের অভাব-অনটন। আর বদলে যাচ্ছে ভাগ্যের চাকা। এক সময়ে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে দারুণ হিমশিম খেতে হতো। এমনকি বিক্রি করে দিতে হয়েছে ভিটে-বাড়ি পর্যন্ত। এখন মাশরুম চাষে দূর হয়েছে অভাবের অভিশাপ।

বসতবাড়ি ও আশপাশের আঙিনায় স্বল্প পুঁজিতে অতি সহজেই মাশরুম চাষ করা যায়। পরিশ্রমও একেবারেই কম। বর্তমানে রাঙ্গামাটিসহ পাহাড়ে মাশরুমের চাহিদা অনেক। কিন্তু এরপরও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। বীজের অভাবে ব্যাপকহারে মাশরুম চাষ করতে পারেন না চাষীরা। স্থানীয়ভাবে সরকারের কৃষি বিভাগের একটি মাশরুম উপকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সেখানে বীজ উৎপাদন হয় কম। অথচ মাশরুম চাষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থনৈতিক সাফল্যসহ আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হতে রাঙ্গামাটিসহ পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

স্পন সংগ্রহ করার পর ধানের খড় সিদ্ধ করে স্পনের বীজগুলো পলিথিনের প্যাকেটে ভরে মেঝেতে অথবা মাচায় শুকনা জায়গায় রেখে প্রতিস্থাপন করতে হয়। এরপর ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে। ওই সময় শুধু সকাল-বিকেল পানি ছিটাতে হয় মাশরুমের প্যাকেটগুলোতে। কয়েক দিন পর ফলন পরিপক্ক হলে মাশরুম তুলে বিক্রি করা যায়। প্রতি বীজ স্পনের দাম পড়ে প্রায় বিশ টাকা। প্রতি স্পন থেকে মাশরুম উৎপাদন হয় ৫-৬ কেজি।  বীজ স্পনসহ প্রতিটি প্যাকেটে সব মিলিয়ে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫০-৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি মাশরুম স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা।

প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চাহিদা অনুযায়ী বীজ সহজলভ্য হলে মাশরুম চাষ হতে পারে পার্বত্য এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যরকম চালিকা শক্তি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে মাশরুম চাষে নীরব বিপ্লব ঘটতে শুরু করেছে। গবেষক, চাষী ও কৃষিবিদরা এ সম্ভাবনার ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন সরকারের কৃষি বিভাগের রাঙ্গামাটি মাশরুম কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।  

রাঙ্গামাটি মাশরুম উপকেন্দ্রের সহকারী মাশরুম কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রাঙ্গামাটিতে মাশরুম চাষে ব্যাপক সফলতা আসায় এটি একটি জনপ্রিয় চাষাবাদ পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মাশরুমের চাহিদাও প্রচুর। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন আরো কম। সেজন্য মাশরুম চাষে এগিয়ে এসেছেন প্রচুর কর্মহীন মানুষ। আর এতে দ্রুত স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হচ্ছেন তারা।

বীজ উৎপাদন সঙ্কটের কথা স্বীকার করে এই মাশরুম কর্মকর্তা বলেন, চাহিদার তুলনায় আমরা চাষিদের মাঝে পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহ করতে পারি না। সরকারিভাবে বরাদ্দ কম পাওয়ায় ব্যাপকহারে মাশরুমের বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। রাঙ্গামাটির এই মাশরুম উপকেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে বীজ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে দৈনিক ৫০০ স্পনের। কিন্তু বরাদ্দের অপ্রতুলতার কারণে বর্তমানে উৎপাদন করা যাচ্ছে কেবল এক-দেড়শ বীজস্পন। বীজ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় তিন মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপকহারে মাশরুমের চাষ বেড়েছে। এর কারণ লাভ অধিক। স্বল্প পূঁজি আর স্বল্প পরিশ্রম। চাহিদাও অনেক। আমরা চাষিদের মাঝে প্রশিক্ষণসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি। আগ্রহী চাষিদের মাঝে বিনা সুদে ঋণ ব্যবস্থার জন্য প্রশিক্ষণ শেষে সনদ দেয়া হয়। চলতি বছর রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে বিনা সুদে ৫০ মাশরুম চাষিকে ঋণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের সনদ প্রদর্শনে যে কোনো ব্যাংক থেকেও চাষিদের মাঝে ঋণ বিতরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার চাষিকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে রাঙ্গামাটিতে।

এছাড়া ‘তবলছড়ি মাশরুম পল্লী’ নামে রাঙ্গামাটি শহরে একটি মাশরুম উৎপাদন ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। সেখানে ৩০ চাষি মাশরুম চাষে নিয়োজিত। চলতি বছর এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি মাশরুম উপকেন্দ্রে উৎপাদিত প্রায় ৫০ হাজারের অধিক মাশরুম বীজ স্পন বিক্রি করে বর্তমানে প্রায় সোয়া চার লাখ টাকা রাজস্ব জমা রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈকিতভাবে সাফল্য অর্জনে রাঙ্গামাটিতে মাশরুম চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় ও বৈপ্লবিক সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে।          

গবেষকরা জানান, মাশরুম একটি সুস্বাদু ও সাধারণ শাকসবজির মতই খাবার। মাশরুমে বিভিন্ন রোগের প্রচুর প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, এইডসসহ মারাত্মক রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা মাশরুমে আছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে শীতাগে, ইমুজি, সিমাজি, পিএসসি, এইচকে-৫১, পিও-২, বাটন, মিল্কী, স্ট্র, ঋষি, পপ, গোল্ডেন ওয়েস্টার, পিসিওয়াইএসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম চাষ হচ্ছে।

এগ্রোবিজ

কুমিল্লার কৃষকরা শীতের আগাম সবজি ভালো দাম পাচ্ছেন

লেখক

শীতের আগাম জাতের সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন কুমিল্লার চাষিরা। ফসলের কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। চাহিদা থাকায় ভোরেই সবজি কিনতে ভিড় করছেন পাইকাররা। কৃষকরা বলছেন, অতি বৃষ্টিতে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও ভালো দামে তা পুষিয়ে যাচ্ছে। সকালে বিস্তৃত মাঠে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আগাম জাতের সবজি শিমের ফোটা দৃষ্টি নন্দন ফুল। বিক্রির আশায় ভোরে ক্ষেত থেকে শিম তুলতে ব্যস্ততা বাড়ে রাশেদা দম্পত্তির। কুমিল্লা সদর উপজেলার বিবিরবাজার এলাকায় রাশেদার মতো অনেকেই ভালো দাম পাওয়ার আশায় চাষ করেন শীতের আগাম নানা জাতের সবজি। শিম, বেগুন, পটল, মিষ্টি লাউ, ফুলকপিসহ শীতের সব ধরনের সবজির মাঠ থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। অতি বৃষ্টিতে ফলন কিছুটা কম হলেও চড়াদামে ক্ষতি পুষিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন চাষিরা।


শিম চাষি তৈয়ব আলী বাসসকে জানান,  প্রতি সপ্তাহে বিঘা প্রতি ১-২ মণ শিম তোলা হয়। গত বছরে এর দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। এ বছর  ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষাবাদে কৃষকদের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।  আর ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে প্রান্তিক পর্যায়ে বিপণন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জনপ্রতনিধির।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে  বলেন, আগাম জাতের শীতের সবজি চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছে কৃষকরা। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক দিতে হবে না

অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। এতদিন ৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হতো। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আজ থেকে এটি কার্যকর হয়ে গেছে।

এ ছাড়া অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক কমানো হলো। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে কম হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। আজ আরেকটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন পেঁয়াজ ও চিনির ওপর শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছিল। পরে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলে শুল্ক-কর কমানোর জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গত সোমবার আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দাম উঠলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এনবিআর পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল। তখন শুল্ক প্রত্যাহারের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল মাস থেকে আবার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ পুনর্বহাল করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দেশে গত বছরের তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে

দেশে করোনাকালে গত বছরের তুলনায় খাদ্য উৎপাদনের ধারা আরও বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি টনের বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

একই সময়ে মোট চাল উৎপাদিত হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন, গম ১২ লাখ টন, ভুট্টা প্রায় ৫৭ লাখ টন, আলু ১ কোটি ৬ লাখ টন, শাকসবজি ১ কোটি ৯৭ লাখ টন, তেল জাতীয় ফসল ১২ লাখ টন ও ডালজাতীয় ফসল ৯ লাখ টন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে এক বছরেই কৃষি মন্ত্রণালয় ৭ লাখ টন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এ বছর মোট পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ৩৩ লাখ টন।ব

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাদ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামীকাল সকালে দিবসের প্রথম ভাগে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং ওই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারতে আরও ইলিশ পাঠালে বাংলাদেশে দাম ঠিক থাকতো: আনন্দবাজার

চলতি বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশের দাম দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝেমধ্যে কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও তা সহজলভ্য হয়নি কখনোই। বরং প্রতি কেজি ইলিশ দেড়-দুই হাজার টাকায় বিক্রির খবর শোনা গেছে হরহামেশা। অথচ কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা দাবি করেছে, ভারতে আরও বেশি রপ্তানি করলেই নাকি বাংলাদেশে ইলিশের উপযুক্ত দাম মিলতো!

এ বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে উৎপাদন তুলনামূলক কম ও দেশের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠাতে পেরেছেন রপ্তানিকারকরা। অনুমতিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এক কেজি ইলিশও পাঠাতে পারেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই নাখোশ ভারত। আর তার নমুনা মিলছে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনেই।l

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) পত্রিকাটি একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘Hilsha: আরও আরও দাও ইলিশ, ফের আর্জি’। শিরোনামের মতো গোটা প্রতিবেদনজুড়েই ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে নানা সাফাই গাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা আশ্বাস দিয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির। কিন্তু পৌঁছালো মাত্র ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, যা চার ভাগের এক ভাগও নয়। এটি ‘এপার বাংলার’ ইলিশপ্রেমীদের জন্য যথেষ্ট বড় ধাক্কা। তবে ঢাকা আবার সদয় হতে পারে, এমন আশায় রয়েছেন ‘দুই দেশের’ ইলিশ ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বাংলাদেশে গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ফের ইলিশ শিকার শুরু হবে। তখন আবারও পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন ভারতীয়রা।

আনন্দবাজারের দাবি, ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ নিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে কয়েক দফায় দেন-দরবার করেছেন পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী দুবাই থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা গেলে দেশের বাজারেও এর দাম ‘একটা জায়গায় থাকতো’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী। উদাহরণস্বরূপ রফিকুল ইসলাম নামে ‘ঢাকার এক ব্যবসায়ী’র ভাষ্য উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। বলা হয়েছে, রফিকুলের মতো ব্যবসায়ীরা পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পক্ষে।

jagonews24

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী দেশটিতে আরও ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এর জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তখনই অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয়রা।

গত ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশে ইলিশ রপ্তানির সময়সীমা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বরের আদেশে তা কমিয়ে ৩ অক্টোবর বলা হয়। কারণ ৪ অক্টোবর থেকে দেশে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়।

তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে চার হাজার টনের বেশি ইলিশ রপ্তানির শর্তে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আশা হাওয়ায় মেলাতে বসেছে। এত কম সময়ে এত ইলিশ আমদানি বা রপ্তানি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহম্মদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যা ইলিশ ঢোকার ঢুকুক। কিন্তু ২২ অক্টোবরের পরে ধাপে ধাপে যেন বাকি ইলিশও ঢুকতে দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারতে আরও ইলিশ পাঠালে বাংলাদেশে দাম ঠিক থাকতো: আনন্দবাজার

চলতি বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশের দাম দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝেমধ্যে কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও তা সহজলভ্য হয়নি কখনোই। বরং প্রতি কেজি ইলিশ দেড়-দুই হাজার টাকায় বিক্রির খবর শোনা গেছে হরহামেশা। অথচ কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা দাবি করেছে, ভারতে আরও বেশি রপ্তানি করলেই নাকি বাংলাদেশে ইলিশের উপযুক্ত দাম মিলতো!

এ বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে উৎপাদন তুলনামূলক কম ও দেশের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠাতে পেরেছেন রপ্তানিকারকরা। অনুমতিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এক কেজি ইলিশও পাঠাতে পারেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই নাখোশ ভারত। আর তার নমুনা মিলছে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনেই।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) পত্রিকাটি একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘Hilsha: আরও আরও দাও ইলিশ, ফের আর্জি’। শিরোনামের মতো গোটা প্রতিবেদনজুড়েই ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে নানা সাফাই গাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা আশ্বাস দিয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির। কিন্তু পৌঁছালো মাত্র ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, যা চার ভাগের এক ভাগও নয়। এটি ‘এপার বাংলার’ ইলিশপ্রেমীদের জন্য যথেষ্ট বড় ধাক্কা। তবে ঢাকা আবার সদয় হতে পারে, এমন আশায় রয়েছেন ‘দুই দেশের’ ইলিশ ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বাংলাদেশে গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ফের ইলিশ শিকার শুরু হবে। তখন আবারও পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন ভারতীয়রা।

আনন্দবাজারের দাবি, ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ নিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে কয়েক দফায় দেন-দরবার করেছেন পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী দুবাই থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা গেলে দেশের বাজারেও এর দাম ‘একটা জায়গায় থাকতো’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী। উদাহরণস্বরূপ রফিকুল ইসলাম নামে ‘ঢাকার এক ব্যবসায়ী’র ভাষ্য উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। বলা হয়েছে, রফিকুলের মতো ব্যবসায়ীরা পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পক্ষে।

jagonews24

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী দেশটিতে আরও ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এর জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তখনই অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয়রা।

গত ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশে ইলিশ রপ্তানির সময়সীমা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বরের আদেশে তা কমিয়ে ৩ অক্টোবর বলা হয়। কারণ ৪ অক্টোবর থেকে দেশে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়।

তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে চার হাজার টনের বেশি ইলিশ রপ্তানির শর্তে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আশা হাওয়ায় মেলাতে বসেছে। এত কম সময়ে এত ইলিশ আমদানি বা রপ্তানি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহম্মদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যা ইলিশ ঢোকার ঢুকুক। কিন্তু ২২ অক্টোবরের পরে ধাপে ধাপে যেন বাকি ইলিশও ঢুকতে দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com