আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

দামের চাপ সামলাতে কাঁচাবাজারেই লাগাম

■ ভারতে পেঁয়াজের দাম ৩৩% বেড়েছে। বাড়তি দেশেও।

■ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, টনপ্রতি ১০০ ডলার করে বেড়েছে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম।

■ বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেড়েছে।

করোনাকালে আয় কমেছে। সঙ্গে ভবিষ্যৎও সুনিশ্চিত নয়। তাই হাত খুলে বাজার করার সুযোগ আর নেই। এর মধ্যে সবজির বাজারের যা অবস্থা, তাতে পকেটে টান পড়ার জোগাড়।

কাঁচাবাজারে এখন মোটামুটি ২০ পদের সবজি বিক্রি হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩টির কেজিপ্রতি দর ৫০ টাকার নিচে। এগুলো হলো কাঁচা পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও আলু। বাকিগুলো কিনতে লাগবে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত। ওই তিনটি সবজি যে সস্তা, তা–ও বলা যাবে না।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন, যা সাধারণত ২৫ টাকার আশপাশে থাকে। কাঁচা পেঁপের কেজি ৪০ টাকা, যেটা মানুষ ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজির মধ্যে কিনতে অভ্যস্ত।

আর আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেল। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এই দর গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

জাকির হোসেন বললেন, দাম বেশি বলে ক্রেতাও কম। তাঁর পরিচিত ক্রেতাদের অনেকেই এখন কম পরিমাণে সবজি কেনেন। কেউ কেউ পরিবারসহ গ্রামেও চলে গেছেন।

মানুষ কম কিনলেও মূল্যস্ফীতি কিন্তু বাড়ছে। সাধারণত চাহিদা কমলে পণ্যের দাম পড়তির দিকে থাকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশের বেশি।

যা–ই হোক, এখনকার সবজি বাজারকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। ‘ভিআইপি’ শ্রেণিতে রয়েছে বেগুন, করলা ও টমেটো। দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এর পরে ৬০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। পটোল, কচুমুখি, লতি, হাইব্রিড শসা ইত্যাদি ৫০ টাকা প্রতি কেজি। কাঁচামরিচের দাম খুব চড়া। আড়াই শ গ্রাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

দু-একটি দোকানে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম দেখা গেল। দাম খুব চড়া। প্রতিটি ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা ও শিমের কেজি ১৮০ টাকা চাইছিলেন বিক্রেতারা। আর ক্রেতারা দাম শুনে অন্য দিকে হাঁটা দিচ্ছিলেন।

সবজির চড়া দাম মাসখানেকের বেশি সময় ধরে। কারণ বন্যা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ মাস দু-এক ধরেই কম। তাই দাম নাগালে আসছে না। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা নতুন সবজির চারা আবাদ করবেন। দাম কমতে আরও দুই মাস লাগতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, বর্ষা মৌসুমে সবজি উৎপাদন শীতের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ৪৫ লাখ টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে শীতে হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে বর্ষায় উৎপাদিত হয়েছে ২০ লাখ টনের কিছু কম। বিবিএস ৪২ ধরনের শাকসবজির উৎপাদনের হিসাব রাখে।

শুধু সবজি নয়, বাজারে এখন চাল, ডাল, ডিম, গরুর মাংস ও আদার দাম চড়া। গত দুই সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজের দাম। এত দিন সস্তায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়তি। ফলে মানুষের স্বস্তি নেই।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহমেদ। বাজার নিয়ে আলাপকালে অবসরপ্রাপ্ত ওই সরকারি কর্মচারী বললেন, তাঁর পরিবার চলে বাসা ভাড়ার টাকা দিয়ে। করোনার মধ্যে একটি পরিবার গ্রামে চলে গেছে। বাসাটি ভাড়া হয়নি। দুটিতে ভাড়া কমিয়েছেন দুই হাজার টাকা করে।

মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, অন্যান্য খরচ কমানোর সুযোগ নেই। তাই বাজার খরচই কমাতে হয়েছে। আগে যে সবজি তিনি এক কেজির কমে কিনতেন না, সেটা কেনেন আধা কেজি করে। আর বেশি দামিগুলো কেনেনই না।

সকালে বাজারদর দেখা শুরু করেছিলাম মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরের মফিজুর রহমানের দোকান থেকে। তিনি জানালেন, ফার্মের বাদামি ডিমের হালিপ্রতি দাম ৩৮ টাকা। একটি নিলে ১০ টাকা। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সরু মিনিকেট চালের কেজিপ্রতি দর ৬০ টাকা। আর মাঝারি বিআর আটাশ চাল ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

সেখানে থেকে মিরপুর-১ নম্বর সেকশন, মাজার রোড, কল্যাণপুর হয়ে টাউন হল মার্কেট ঘুরে কারওয়ান বাজারে গিয়ে চড়া দামের চিত্রই দেখা গেল। যেমন ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি দুই সপ্তাহ আগেও ২৫ থেকে ৩০ টাকা ছিল। এখন সেটা ৪০ টাকায় উঠেছে। আর দেশি পেঁয়াজ জাতভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। চীনা রসুন দুই রকম। ভালোটির কেজি ১২০ টাকা, সাধারণটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। অবশ্য এক কেজি চীনা আদা কিনতে মোটামুটি দুই কেজি রসুনের সমান দাম দিতে হবে। খুচরা বাজারে চীনা আদা প্রতি কেজি ২২০ টাকা এবং মিয়ানমার ও ভারতের আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারেও দাম বাড়তি

কারওয়ান বাজারের মসলাজাতীয় পণ্য বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও বাড়তি।

ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইনে ৩০ আগস্টের এক প্রতিবেদন বলছে, ভারতের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ে পেঁয়াজের পাইকারি দর ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক গত বুধবার বৈশ্বিক পণ্য বাজার পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, তিন মাসে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার করে বেড়েছে। বাড়তি চিনির দামও। মানুষের জন্য তেমন কোনো সুখবরও নেই।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, করোনার মধ্যে বন্যা এল। এখন জিনিসপত্রের দাম চড়া। এটা মানুষের জন্য যুগল ধাক্কা। তিনি আরও বলেন, মানুষের কষ্টের মাত্রা বাড়ছে। এ সময় গা–ছাড়া ভাব দেখানোর সুযোগ নেই। মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

এগ্রোবিজ

বাজারে আলু খুঁজছে প্রশাসন

আড়ত থেকে খুচরা বাজার—কুষ্টিয়ার বাজারে আলু পাওয়া যেন কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আলুর সংকট। হিমাগারে আলু থাকলেও সেখানে দাম বেশি। তাই আড়তদারেরা সেখান থেকে কিনছেন না। আবার আড়তে না থাকায় খুচরা বাজারেও মিলছে না হঠাৎ করে দামি পণ্যে পরিণত হওয়া এই সবজি।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে অন্তত ১১টি সবজি আড়তে আলু কেনাবেচা হয়ে থাকে। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে আড়তে দুই ট্রাক আলু নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা। সোমবার সকালে সবগুলো আড়ত মিলে মাত্র ৩০০ বস্তা আলু ছিল। এক ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে যায়। এই আড়তে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টন আলুর চাহিদা। আলুর বাজারে এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে, তা বলতে পারছেন না কেউ।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কদিন ধরে আলুর দাম বেড়েছে সেটা জানা আছে। কিন্তু আজই জানতে পারলাম আলুর সংকট। আলু কোথায় আছে, খুঁজে বের করা হচ্ছে। প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রি করা হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’

এদিকে সকাল থেকে আলুর সন্ধানে মাঠে নামে প্রশাসনের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান ও জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তাঁরা কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত, খুচরা বিক্রেতা, বড় বাজার ও কুষ্টিয়া বিআইডিসি হাট ঘুরে দেখেন।

তাঁরা দুজনেই বলেন, আড়তগুলো ফাঁকা। কোথাও কোনো আলু নেই। আলুর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। যদি জেলার কোথাও মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়, সেখানে অভিযান চালানো হবে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো।

রবিউল ইসলাম, বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা

সোমবার সকাল ৯টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আলুর দাম চড়া। জরিমানা দেওয়ার ভয়ে আলু কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। পৌর বাজারের নূর ভান্ডার, সোহাগ ভান্ডার, রুপালী ভান্ডার, মিলন ভান্ডার, মোল্লা ভান্ডার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো আলু নেই।

জানতে চাইলে আড়তে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় সেখান থেকে কোনো আলু কিনছেন না ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আড়তেও আলু নেই।

খুচরাতে ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা প্রতি কেজি আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গত শনিবার থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করে সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর থেকেই আড়তে আলু আসা বন্ধ হয়ে যায়।

বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন, শনিবার দুটি ট্রাকে ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে উত্তরবঙ্গে ফেরত গেছেন। তাঁরা এখানে আসার পর বেশি দামে আড়তদারেরা আলু কিনতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা চলে যান। তাঁদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আড়ত থেকে সরে গেল আলু!

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দরে বিক্রি না করতে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত থেকে আলু সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়নি। এতে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।

আজ রোববার এখানকার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ, বেগুন, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজিও ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতাদের মাথায় হাত পড়েছে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, বাজার তদারক কর্মকর্তা

গত বুধবার তিন পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কেজিপ্রতি খুচরায় ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগারে ২৩ টাকা করে আলু বিক্রি করতে বলা হয়। এরপর গত শনিবার কুষ্টিয়া পৌর বাজারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করেন। তিনি সরকারনির্ধারিত দামে আলু বিক্রির কড়া হুঁশিয়ারি দেন। আজ সকাল থেকে সেটা বাস্তবায়নের কথা।

আজ সকাল নয়টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। জানা গেল, প্রতিদিন এ বাজারে অন্তত ৩০ টন আলু কেনাবেচা হয়। সেখানে আজ মাত্র ৫ টন আলু রয়েছে। সেগুলো ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাজারের নূর ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে কোনো আলু নেই। সেখানে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু আনছেন না। হিমাগারেই ৩১ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সরকার যদি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) থেকে আলু সরবরাহ করে, তাহলে ভালো হয়।বিজ্ঞাপন

আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

ইনসান আলী, আলুর খুচরা বিক্রেতা

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গতকাল সকালে ম্যাজিস্ট্রেট কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিকেলে আড়ত থেকে তিনটি ট্রাকে করে আলু সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর যে পরিমাণ আলু রয়ে যায়, সেগুলো আড়তে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা সেই আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, অনেক আড়তদার বিক্রি করা আলুর মেমো দিতে রাজি হননি। এ জন্য খুচরা বিক্রেতারা অনেকে আলু কেনেননি। অনেকে জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি করেননি।

খুচরা বিক্রেতা ইনসান আলী বলেন, আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

জানতে চাইলে বাজার তদারক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়াল সরকার

কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে আলুর দাম নির্ধারণ করল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলুর দাম খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

নতুন দর অনুযায়ী, হিমাগারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হবে ২৭ টাকা দরে। পাইকারি এ আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করবেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও এই দাম কোথাও কার্যকর হয়নি।

বাজারে ব্যাপকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর দর নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়।

যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭ অক্টোবর দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আলু কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় ঢাকার বাজারে। দাম নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর গত দুই দিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করা হয়নি।

আজ বিকেলে দাম নির্ধারণ নিয়ে সভার পর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিজ্ঞপ্তিতে আলুর নতুন দাম কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ সভাপতিত্ব করেন। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

২৫ টাকায় আলু বেচবে টিসিবি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ক্রেতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে আলু সরবরাহের জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেলের মাধ্যমে সবজিটি বিক্রি করা হবে। টিসিবি প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকায় বিক্রি করবে।


সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ রোববার কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, আলুর পাইকারি বিক্রেতা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে সরকার–নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই। প্রচুর আলু আবাদ হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদ কিছুটা ক্ষতি হওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকার–নির্ধারিত মূল্যের বেশি আলুর দাম হওয়ার কোনো কারণ নেই।


প্রসঙ্গত, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।


গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোস্তাক হোসেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আল-বেরুনি প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাপাসিয়ার বাজার থেকে আলু উধাও

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসন সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর পর থেকে বাজারগুলোতে আলু পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার সকালেও কাঁচা বাজার ছিল আলুশূন্য। এ পরিস্থিতিতে আড়তদারদের ডেকেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সকালে কাপাসিয়া উপজেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা সবজি বিক্রেতাদের দোকানে অন্যান্য সবজি থাকলেও আলু নেই।

কাঁচা সবজি বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই আলু বিক্রি করছেন না এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। কাপাসিয়া এলাকার তপন বিশ্বাস নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর শুক্রবার বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়। তখন বাজারে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন বিক্রেতারা। কিন্তু পর্যবেক্ষণ দল চলে যাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে বিক্রেতারা আর আলু বিক্রি করছেন না। এমনকি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ কাপাসিয়া উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে ক্রেতারা আলু কিনতে পারেননি।

মোবারক হোসেন নামের এক ক্রেতা আলু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে কোনো দোকানেই আলু বিক্রি করা হচ্ছে না। এতে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে দুজন কাঁচা সবজি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের কাছে থাকা সব আলু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন অনেক বেশি দামে পাইকারি কিনে আনতে হয়। বেশি দামে কিনে কম দামে তাঁরা আলু বিক্রি করতে চান না। উপজেলা প্রশাসন থেকে বেঁধে দেওয়া ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করলে পাইকারি ক্রয়মূল্য থেকে আরও ১৫ টাকা গচ্চা দিতে হয়।

তবে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বলেছেন, পর্যাপ্ত আলু থাকার পরও ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন না বলে তাঁদের ধারণা। সরকার নির্ধারিত টাকায় বিক্রি করলে লাভ কম হওয়ায় তারা এমনটা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা প্রথম আলোকে বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। বাজারে আলুর কৃত্রিম সংকট থাকলে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। জেলা বাজার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার আড়তদারদের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ডাকা হয়েছে। সেখানে ডিসি মহোদয়ের উপস্থিতিতে সভা হবে। তখন হয়তো একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com