আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

অস্ট্রেলিয়ার দাবানল: ধ্বংসস্তুপের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে নতুন প্রান

ছাই ভেদ করে গজিয়ে উঠছে ঘাস ও গাছের চারা
ছাই ভেদ করে গজিয়ে উঠছে ঘাস ও গাছের চারা

নজিরবিহীন দাবানলে কয়েক মাস ধরে ছারখার হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল। কমপক্ষে পঞ্চাশ কোটি বন্যপ্রাণী মারা গেছে। কত গাছ আর কত কীট পতঙ্গ পুড়েছে তার কোন হিসেব নেই।

প্রায় সাড়ে ছয় মিলিয়ন হেক্টর ভূমি পুড়েছে। এক হেক্টর মোটামুটি একটা ফুটবল খেলার মাঠের মতো। কিন্তু কিছু এলাকায় ছাই ভেদ করে প্রাণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অল্প অল্প করে গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে ঘাস ও গাছের চারা।

আলোকচিত্রশিল্পী মারি লোয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঞ্চলের কাছে সমুদ্র তীরবর্তী কুলনারা এলাকায় গিয়ে তুলে এনেছেন তার ছবি।

এসব এলাকায় মাটির উপর জমে থাকা আগুনের ছাইয়ের উপর হেঁটে হেঁটে সবুজ ঘাস এবং পুড়ে যাওয়া গাছের গুড়িতে কেবল গজিয়ে ওঠা গোলাপি রঙের কুঁড়ি দেখতে পেয়েছেন।

৭১ বছর বয়সী এই আলোকচিত্রি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার তোলা ছবি পোষ্ট করার পর তা হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মাঝেই মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে এই খবর।

কিছু গাছে নতুন পাতা গজাতে শুরু করেছে
কিছু গাছে নতুন পাতা গজাতে শুরু করেছে

এটাই কী প্রকৃতির পুনর্জন্ম?

শখের বসে ছবি তোলেন অবসরে যাওয়া একজন সাবেক যানবাহন প্রকৌশলী। মি. লোয়ে মূলত গিয়েছিলেন আগুনে ছারখার হয়ে যাওয়া প্রকৃতির ছবি তুলতে। কুলনারার সড়ক ধরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ঢুরাগ জাতীয় উদ্যানে থেমেছিলেন।

তিনি বলছিলেন, “এক ধরনের অতিপ্রাকৃত নীরবতার মধ্যে দিয়ে পুড়ে যাওয়া গাছের গুঁড়িগুলোর পাশ দিয়ে যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন আমার পায়ের প্রতিটি ধাপের সাথে সাথে মাটি থেকে বাতাসে ছাই উড়ে যাচ্ছিল। ভয়াবহ আগুনই পারে এমন বিধ্বংসী ছাপ রেখে যেতে।”

নতুন করে ঘাস আর কুঁড়ি গজাতে দেখে তিনি যেন আশা ফিরে পেলেন। তিনি বলছিলেন, “এই পুনর্জীবনের চিহ্নই আমরা কামনা করছিলাম। একটি বনের পুনর্জন্মের মুহূর্তের সাক্ষী আমি।”

প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরব্যাপী এই ঢুরাগ জাতীয় উদ্যানে রয়েছে এমন কিছু প্রজাতির গাছপালা যা শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই জন্মায়।

শেফিল্ডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক ড. কিম্বার্লি সিম্পসন ব্যাখ্যা করছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতি কোটি কোটি বছর ধরে এমন দাবানল মোকাবেলা করেছে।

প্রকৃতির বেঁচে থাকার অভিনব পদ্ধতি, গাছের গুড়ির গভীরে লুকিয়ে থাকা কুঁড়ি
প্রকৃতির বেঁচে থাকার অভিনব পদ্ধতি, গাছের গুড়ির গভীরে লুকিয়ে থাকা কুঁড়ি

তাই তাদের বিবর্তনের মাধ্যমে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হয়েছে।

ড. সিম্পসন বলছেন, পুড়ে যাওয়া গাছ প্রতিকূলতা থেকে দুভাবে অভিযোজনের চেষ্টা করে। একটি হল অঙ্কুরিত হওয়ার মাধ্যমে, যা ছবিগুলোতে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

ইউক্যালিপটাস সহ অস্ট্রেলিয়ার কিছু প্রজাতির গাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তাদের গুঁড়ির গভীরে কুঁড়ি লুক্কায়িত থাকে।

এটি একধরনের বেঁচে থাকার পদ্ধতি যাতে গাছের গুঁড়ির বাইরের অংশ পুড়ে গেলেও সেই কুঁড়ি বেঁচে যায়।

ঘাস ও অনেক প্রজাতির ঝোপঝাড় শিকড় থাকে মাটির অনেক নিচে লুকানো। আগুন নিভে গেলে তাই তাদের পক্ষে দ্রুত কুঁড়ি গজানো সম্ভব হয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, আগুন প্রতিরোধী বীজের মাধ্যমে। অনেক গাছে বীজের এই ক্ষমতা রয়েছে।

আর ছাই থেকে তারা প্রচুর পরিমাণে গাছের জন্য উপযোগী পুষ্টি উপাদান পায়। সে কারণে পুড়ে যাওয়া এলাকা দ্রুত আবার সবুজ হয়ে উঠতে পারে।

তবে অঙ্কুরিত হতে এই বীজগুলোর এখন বৃষ্টি দরকার হবে। কিন্তু দাবানল শুরুর পর থেকে কুলনারা অঞ্চলে কোন বৃষ্টি হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে কমপক্ষে পঞ্চাশ কোটি বন্যপ্রাণী মারা গেছে
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে কমপক্ষে পঞ্চাশ কোটি বন্যপ্রাণী মারা গেছে

দাবানলে আক্রান্ত অস্ট্রেলিয়ার সব অঞ্চলে কী এটি ঘটবে?

আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর কিছু গাছ দ্রুত প্রাণ পেলেও অনেক গাছের অনেক সময় লেগে যায়। তবে অস্ট্রেলিয়ার যে ধরনের বিধ্বংসী দাবানল এবার হয়েছে তাতে যেসব গাছ বিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করেছে তাদেরও টিকে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বলছিলেন ড. সিম্পসন।

তিনি বলছেন, আগুন যে তাপমাত্রায় পৌঁছেছে আর সেই সাথে চলমান খরার কারণে বহু উদ্ভিদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি মনে করছেন, “বিভিন্ন প্রজাতির প্রতিরোধী ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারে বিষয়টি। হয়ত এ কারণে আমরা কিছু প্রজাতির বিলুপ্তি দেখতে পারি।”

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার রেইনফরেস্টের উপর প্রভাব পড়তে পারে কারণ এধরনের বনাঞ্চলে আগুনে অভিজ্ঞতা নেই। তাই তাদের আগুন প্রতিরোধী ক্ষমতাও কম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মাহমুদুল ইসলাম মামুন। সবুজ প্রকৃতি গড়ার স্বপ্ন দেখা এ তরুণ কষ্টার্জিত টাকায় গাছ কিনে বিতরণ করে আসছেন দীর্ঘ ৭ বছর ধরে। এছাড়া পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো করে বই পড়ে শোনান। এ জন্য গড়ে তুলেছেন সান্ধ্য পাঠশালা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস কে দোয়েল-

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর গ্রামের সন্তান মামুন। বাবা আজহারুল ইসলাম পঞ্চগড় চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা মাহমুদা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে মামুন ছোট। তিনি রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র জীবন শেষে চাকরি না করে হয়েছেন বই ও গাছের ফেরিওয়ালা। তিনি মনে করেন, উচ্চশিক্ষা নিলেই যে চাকরি করতে হবে, তা নয়। শিক্ষিত মানেই আলোর প্রদীপ। সে আলোর প্রদীপ ছড়াতেই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারের স্কুলপড়ুয়ারা মামুনের কাছে পড়ালেখা শেখে বিনামূল্যে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেখানোর পাশাপাশি সবুজ প্রকৃতি গড়ার পদ্ধতিও শেখান। গাছ উপহার দেন সবাইকে। এ স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মাঝে গাছ বিতরণ করে আসছেন মামুন।

নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামে কয়েক হাজার গাছ লাগান মামুন। এছাড়া ঢাকা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও যখন যে শহরে যান, সে শহরেই গাছ লাগান। বই নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির কাছে গিয়েও সাহিত্যপাঠ আবশ্যক করার অনুরোধ করেন তিনি।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

শুধু গাছপাগলই নন, শিশু কিশোর ও তরুণদের বইও উপহার দেন তিনি। নিজেও লিখেছেন উপন্যাস। ২০১৪ সালে একুশে বইমেলায় জননী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘লাল ফিতায় অমিয়’ নামে একটি উপন্যাস। শিশু-কিশোরদের গল্প, উপন্যাস, রম্য, সায়েন্স ফিকশনসহ নানা রকম বই উপহার দেন।

নিজের টাকায় গাছের চারা ও বই বিতরণ করতে মামুন টাকা পান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, ‘এসব কাজের জন্য আমি বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলেছি। ডিম ও বাচ্চা বিক্রির টাকা দিয়ে গাছের চারা ও বই কিনি। পারিবারিক চা-বাগানেও কাজ করি। আমার এ কাজে উৎসাহ দিতে বাবা-মা সহযোগিতা করেন।’

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে মামুনের অনন্য উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও গাছ উপহার দিতে চান মামুন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছেন। ফুল, ফলদ ও বনজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশবরেণ্য সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে গাছের চারা ও বই উপহার দিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াতসহ সামাজিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতেও বই ও গাছের চারা উপহার দিচ্ছেন।

মামুনের এ কাজ সম্পর্কে মা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নিজের কাজের পাশাপাশি মানুষের উপকার করছে সে। পরোপকারী এমন ছেলেকে নিয়ে সত্যিই আমি গর্বিত। টাকা ছাড়া নাকি স্বপ্ন দেখা যায় না। কিন্তু আমার ছেলেটা তেমন টাকা ছাড়াই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে গাছ। গাছের অভাবে ধ্বংসের মুখে পৃথিবী। আর সেটা রোধ করতেই এবার গাছের জরুরি সেবায় চালু হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। বিশ্বে গাছের সংখ্যা বাড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য। তাই সম্প্রতি ‘বিশ্ব জীববৈচিত্র দিবস’ উপলক্ষে ভারতের চেন্নাইয়ে শুরু হয়েছে ‘গাছের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা’!

জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক গাছ উপড়ে যায়। আবার নির্মাণ কাজের জন্য গাছ কেটে ফেলা হয়। অ্যাম্বুলেন্স সেগুলোকে তুলে নিয়ে নতুন করে মাটিতে পোঁতার ব্যবস্থা করে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে উড়িষ্যাসহ দাক্ষিণাত্যের পূর্ব উপকূলে কয়েক লাখ বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলোকে তুলে নিয়ে নতুন কোন জায়গায় লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

সূত্র জানায়, ধারণাটি প্রথম আসে পরিবেশ নেতা আবদুল গনির মাথায়। ভারতের ‘গ্রিন ম্যান অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত গনি এ পর্যন্ত ৪০ লাখ গাছ লাগিয়েছেন। আরও অনেক সামাজিক আন্দোলনে তার নাম সামনে এসেছে বারবার। একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে তিনি এ প্রস্তাব দিলে কাজ শুরু হয়।

আবদুল গনি জানান, উপড়ে যাওয়া গাছ অন্য জায়গায় লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গাছের বীজ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে অ্যাম্বুলেন্সটি। শহরের মানুষের মধ্যে গাছ লাগানো বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। কোন গাছ মারা গেলে অংশগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবে। অ্যাম্বুলেন্সেই থাকবে দক্ষ মালি ও গাছকর্মীরা। তাদের সঙ্গে থাকবে বাগান করার বিভিন্ন জিনিসপত্র, সার, পানি, ঝারি, খুরপি ইত্যাদি।

এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!
এবার গাছের জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স!

এ কাজে সহায়তা দেওয়া বেসরকারি সংস্থা সাগার কর্মকর্তা সুরেশকুমার যাদব বলেন, ‘কোন গাছ যাতে প্রাকৃতিক বা মানুষের কারণে মরে না যায়। তাই সেগুলোকে রক্ষা করার এ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য যন্ত্রপাতি বা ওষুধপত্র যা দরকার, সে সবই আমরা রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের হেল্পলাইনে ফোন করামাত্র আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছে যাব। বিনামূল্যে গাছটিকে সরিয়ে আনব। যত্ন করে তাদের সরিয়ে অন্যত্র বসাব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল
মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

মরুর ন্যায় ধু-ধু বালুর মাঠ আর একটি একাডেমিক ভবন ছাড়া দৃশ্যমান কিছুই ছিল না। ছিল না তেমন কোন সতেজ প্রাণের সঞ্চার। গ্রীষ্মের প্রখরতায় ঝাঁঝিয়ে থাকতো ক্যাম্পাসের নিস্পৃহ বালুময় ৫৫ একর। আর সেটিই এখন দেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ সংগ্রহশালা।

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল
মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) পরিস্থিতি ছিল মরুময়। তবে এ দৃশ্যের দ্রুত পরিবর্তন আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের একান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায়।

কয়েক বছরের ব্যবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই নিস্পৃহ রূপ বদলে গেছে। মরুখ্যাত ক্যাম্পাস এখন সবুজে ভরা। পরিবেশও শীতল। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ সংগ্রহশালা।

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল
মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন। যোগদানের প্রথম দিনে তিনি বলেছিলেন, এ মরুময় ক্যাম্পাসকে তিনি সবুজের ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা সেটি করেছেন।

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল
মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, ওষুধি ও বনজ বৃক্ষ। সবুজের কার্পেটে ঢাকা এ ক্যাম্পাস এখন অযুত বৃক্ষরাজীর মেলা। প্রাণ ভরে যায় এর নৈসর্গিক পরিবেশ দেখলেই।

মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল
মরুময় ক্যাম্পাস এখন সবুজ-শ্যামল

এছাড়া বশেমুরবিপ্রবি আসন সংখ্যায় দেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি বালু ভরাটকৃত ৫৫ একর জমির উপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। যা এখন দেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ সংগ্রহশালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি

২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি
২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি

চারিদিকে ছিল শুষ্ক খাঁ খাঁ জমি। ধীরে ধীরে সেই জমি ভরে উঠল সবুজে। হয়ে উঠল আস্ত জঙ্গল। গল্পের মতো শোনালেও বাস্তবেই ঘটেছে এরকম এক ঘটনা। ব্রাজিলের বুকেই ইনস্টিট্যুটো টেরা নামের জায়গায় এক ব্রাজিলিয়ান দম্পতির চেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ অরণ্য; যা আজ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর ঠিকানা।

ব্রাজিলিয়ান দম্পতি চিত্রসাংবাদিক সেবাস্তিয়াও সালগাদো এবং তার স্ত্রী লেলেয়া ডেলুইজ ওয়ানিক সালগাদোর দীর্ঘ ২০ বছরের চেষ্টায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া জঙ্গল প্রতিস্থাপনের গল্পটি আপনাকেও অনুপ্রাণিত করবে।

২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি
২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি

বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান এই চিত্রসাংবাদিক ছোটবেলায় অরণ্যের কাছাকাছি অঞ্চলে থাকলেও পরে কাজের সূত্রে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পাড়ি দেন। বহু বছর পর পরে দেশে ফিরে বন্যপ্রাণী ভরা অরণ্যের জায়গায় শুকনো জমি দেখে হতাশ হন।

কিন্তু কী করে ঘন সবুজ বন একেবারে হারিয়ে গেল? সেবাস্তিয়াও জানান, এর জন্য অনেকটাই দায়ী তাদের পরিবার। পারিবারিক ও আর্থিক কারণে এলাকার বেশির ভাগ গাছ কেটে ফেলেন তার বাবা। সেই ‘পাপ’ ঢাকতে মনস্থির করেন সস্ত্রীক সেবাস্তিয়াও। এ ভাবেই শুরু হয় এই দম্পতির বন প্রতিস্থাপনের আশ্চর্য যাত্রা।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেবাস্তিয়াও বলেন, ‘জমিটির সব কিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ০.৫ শতাংশ জমিতে গাছ ছিল। এরপর আমি ও আমার স্ত্রী মিলে এই বনের একটি প্রতিলিপি কল্পনা করে কাজ শুরু করলে ধীর ধীরে কীটপতঙ্গ, পাখি, মাছ ফিরে আসতে শুরু করে।’

২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি
২০ বছরে ২০ লাখ গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে অরণ্য বানালেন এই দম্পতি

এই দম্পতি ‘ইনস্টিট্যুটো টেরা’ নামের একটি ছোট সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার মাধ্যমে তারা প্রায় চার লাখ গাছ রোপণ করেন।

সেবাস্তিয়াও বলেন, ‘পরিবেশকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে বনের পুনরুত্থান করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এই বন্য পরিবেশ, যেখানে বন্য পশুরা আবার ফিরে আসতে পারে তা গড়ে তুলতে সাধারণ গাছের পাশাপাশি, বন্য উদ্ভিদের বীজ রোপণ করাও প্রয়োজন।’

গত ২০ বছর ধরে সেবাস্তিয়াও এবং তার স্ত্রী লেলেয়া ডেলুইজ এই জায়গাটির যত্ন নেন। এখন এই জঙ্গলে ১৭২ প্রজাতির পাখি, ৩৩ রকমের স্তন্যপায়ী, ২৯৩ প্রজাতির গাছপালা এবং ১৫টি প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। সেবাস্তিয়াও এবং তার স্ত্রী লেলেয়া ডেলুইজ এই জায়গাটির যত্ন নেন। আনন্দবাজার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইরান

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

মুসলিম উম্মাহর স্মৃতি বিজড়িত স্থান ইরাকের নাজাফ ও কারবালা। কারবালায় শাহাদাত বরণ করেন ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু। প্রত্যেক বছর ইরাকের নাজাফ থেকে কারবালার পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন অনেক শিয়া-সুন্নি মুসলমান ও দর্শনার্থীরা। নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথ আরামে ভ্রমণ করার জন্য রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানোর ব্যয় বহুল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মোহাম্মাদী দরবার।

পাকিস্তানের করাচিতে বসবাসরত সাবেক শিল্পপতি ব্যবসায়ী মোহাম্মদী দরবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইমাম হুসাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহির স্মৃতির স্মরণে অনেক শিয়া-সুন্নি মুসলমান নাজাফ থেকে কারবালার পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

তিনি জানান, ‘আমার স্ত্রী ও নাতনি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথের এ যাত্রায় অংশগ্রহণ করে। যাত্রাপথে মরুভূমি উষ্ণ বায়ু ও রোদের তাপে তাদের মখু ঝলসে যায়। তাদের দেখেই বুঝতে পারি যে এ পথে যে বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কতটা উষ্ণ।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী গাছ লাগানো ব্যবস্থা করবো।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

কেননা এ পথে প্রত্যেক বছর লাখ লাখ শিয়া-সুন্নি জিয়ারতকারী নাজাফ থেকে কারাবালায় পায়ে হেঁটে যায়। দীর্ঘ এ পথের দুই পাশে তেমন কোনো ছায়াদানকারী গাছ নেই বললেই চলে।

তার আত্মীয়-স্বজনকে দেখেই তার এ বিষয়টি নজরে আসে। তা থেকেই তিনি দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথে ছায়াদানকারী গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যাতে অন্ততঃ দর্শনার্থীদের গরমের কষ্ট দূর হয়।

নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি ইরাক সফর করেন। ইতিমধ্যে তিনি এ অঞ্চলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ লাগানোর অনুমতিও পেয়েছেন।

ব্যবসায়ী মোহাম্মাদি দরবার এ দীর্ঘ পথে শুধু গাছ লাগিয়ে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করবেন না, বরং তা রক্ষণাবেক্ষণেরও দায়িত্ব নেবেন তিনি। যাতে গাছগুলো বেঁচে থাকে।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

ইতিমধ্যে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে নাজাফে কিছু চারা রোপন করেছেন এবং এগুলোর পরিচর্যাও গ্রহণ করেছেন। নাজাফের বাগানে ও রাস্তার পাশে চারাগুলো সুন্দরভাবেই বেড়ে ওঠছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রথম চালানে ৮ প্রজাতির ৯ হাজার ৮০০ চারা পাঠানো হয়। এসব চারা গাছের কোনো কোনোটির বয় প্রায় ৮ মাস। ইরাকের অভ্যন্তরীন চলমান পরিস্থিতির জন্য গাছের প্রথম চালান পাঠাতে প্রায় একমাস দেরি হয়।

উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের করাচি থেকে এসব চারা ইরান হয়ে সড়ক পথে ইরাক নেয়া হবে। পুরো শীতকাল ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি নার্সারিতে রাখা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে চারা রোপনের কাজ। গাছের চারাগুলোর সঙ্গে ১২ জনের একটি প্রশিক্ষিত কর্মীদলও পাঠানো হয়েছে ইরাকে। যারা চারা গাছগুলো দেখাশোনা করবে।

কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার
কারবালার ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় গাছ লাগাবে মোহাম্মাদি দরবার

নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে চারা গাছ রোপনে প্রায় ৩ বছর সময় লাগবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপী বা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হবে।

তবে এ প্রকল্প গ্রহণকারী ৮৫ বছরের ব্যবসায়ী মোহাম্মাদি দরবার জানান, ‘রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী গাছের সুন্দর দৃশ্য আমি দেখে যেতে পারবো কিনা তা অনিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা তাকে এ বিশাল কাজ হাতে নেয়ার সৌভাগ্য দান করায় তিনি আল্লাহ পাকের লাখো শোকরিয়া আদায় করেন।’

তিনি আরও জানান, ‘ প্রকৃতি ও মানুষের উপকারে গাছ লাগানোর মহতি কাজে নিজেকে শামিল করার চেয়ে ভালো কাজ আর কি হতে পারে!’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com