আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম। আগাম ফসল পেতে হলে জানুয়ারি মাসে বীজ বুনে শীতের হাত থেকে কচি চারা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য পলি টানেল ব্যবহার করা যায়।

সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।

এগ্রোবিজ

নওগাঁয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের মাদারমোল্লা বাজারের চাল ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের গুদাম থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। খলিলুর রহমানের বাড়ি চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ইলশাবাড়ি গ্রামে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার চণ্ডীপুর ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু হয়। গতকালও কার্ডধারীরা ডিলার রুহুল আমিনের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করেন।

মাদারমোল্লা বাজারের চালের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারী লোকজনের কাছ থেকে চাল কিনে মজুত করছেন, এমন সংবাদ পান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হোসেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর্জা ইমাম উদ্দিনকে জানালে ইউএনও পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অভিযান চালান। এ সময় ব্যবসায়ী খলিলুর ও তাঁর কর্মচারীদের না পেয়ে গুদামের তালা ভেঙে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা ৪০টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাল ছিল। ওই হিসেবে ১ হাজার ২০০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চণ্ডীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের কাছে চাল বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে খলিলুর চালগুলো নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

ইউএনও মীর্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, ওই গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উদ্ধারের পর গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ভোক্তার ব্যবহারের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করছে। এ চাল বেচাকেনা অপরাধ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া ৪০টি বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা আছে। এ চাল মজুতের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো ডিলার সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার গেলে তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীত সামনে রেখে নাটোরে কুমড়াবড়ি বানানোর ধুম

নাটোর অঞ্চলের মুখরোচক খাবারের মধ্যে ‘কুমড়াবড়ি’ অন্যতম। খালবিলের দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে কুমড়াবড়ির তরকারি রান্না এখানকার ঐতিহ্য। তবে শীতের সময়টাতেই কুমড়াবড়ি খাওয়ার প্রচলন বেশি দেখা যায়। আর তাই শীতে বাজারে এর চাহিদাও যায় বেড়ে। শীত সামনে রেখে নাটোরের চলনবিল ও হালতিবিল পারের ঘরে ঘরে কুমড়াবড়ি বানানোর ধুম পড়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার বেচাকেনা কেমন হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কুমড়াবড়ি তৈরি ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলনবিল ও হালতিবিল অধ্যুষিত উপজেলা নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গা। সিংড়ার কলম ও নলডাঙ্গার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের শত শত পরিবার কুমড়াবড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত অনেক কাল ধরে। তবে আগে নিজেদের খাওয়ার জন্য বাড়ির বউরা কুমড়াবড়ি তৈরি করলেও শীতে অভাবে পড়া পরিবারগুলো ঘরে অন্নসংস্থানের জন্য হাটবাজারে কুমড়াবড়ি বিক্রির পথ ধরে। ক্রমে এটি পরিবারের বাড়তি উপার্জনের পথ হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ফলে এখন দুই উপজেলার কয়েক শ পরিবারের বানানো কুমড়াবড়ি নাটোর ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কুমড়াবড়ি তৈরি হয় মূলত চালকুমড়া বা জালিকুমড়ার সঙ্গে ডালবাটা মিশিয়ে। স্বাদ বাড়ানোর জন্য কেউ কেউ কালিজিরা বা সামান্য মসলা মিশিয়ে কুমড়াবড়ি তৈরি করেন। ডাল-কুমড়ার মিশ্রণ হাতে গোল গোল বল বা বড়ির আকৃতি করে বাঁশের বানা, কুলা–চালুন বা বড় থালায় বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুকানো হয় রোদে। বড়ি রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত হতে ৮-১০ দিন লেগে যায়। সবজি ও মাছ রান্নায় অনুষঙ্গ হিসেবে এই কুমড়াবড়ির ব্যবহার বাঙালির ঘরে জনপ্রিয়। এতে তরকারির স্বাদও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে হালতিবিলপারের ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ঝুপদুয়ার গ্রামে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কুমড়াবড়ি তৈরির যেন মহোৎসব লেগেছে। বাড়ির নারী সদস্যরা তো বটেই, পুরুষেরাও অন্য কাজে না গিয়ে কুমড়াবড়ি তৈরির পেছনে সময় দিচ্ছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামটিতে ৪০ ঘর লোকের বাস। এদের মধ্যে ৩৮টি পরিবারই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোই অনেক কাল ধরে কুমড়াবড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। তাদের বানানো কুমড়াবড়ি স্বাদেও অতুলনীয়।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নারীদের ব্যস্ততা লক্ষ করার মতো। রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখা মাষকলাইয়ের ডাল সূর্যোদয়ের আগেই শিলপাটায় বাটতে শুরু করেছেন তাঁরা। সেই ডালের সঙ্গে পরিপক্ব চালকুমড়ার শাঁস আবার বেটে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ডাল-কুমড়ার মিশ্রণ সবশেষে বাঁশের বানা বা খলসুনের গায়ে ছোট ছোট বড়ির আকৃতি করে বসিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো শুকাতে দিচ্ছেন রোদে।

ঝুপদুয়ার গ্রামের কুমড়াবড়ি ব্যবসায়ী শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক জানান, একসময় বিলে মাছ মেরে তাঁদের সংসার চলত। তবে শীতে পানি শুকিয়ে গেলে দুমুঠো খাবারও মিলত না। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির নারীরা কুমড়াবড়ি তৈরি করে বিক্রি করতে শুরু করেন। বাজারে-দোকানে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁদের তৈরি কুমড়াবড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড়ির চাহিদা আসে। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবারের পুরুষেরাও বড়ি তৈরিতে যুক্ত হন। এখন গ্রামের ৩৮টি হিন্দু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসই কুমড়াবড়ি। ব্যাপক চাহিদা থাকায় তাঁদের বেচাকেনাও ভালোই হয়। বাড়তি উপার্জনে সবার সংসারে অভাব ঘুচতে শুরু করেছে।

শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে হাটবাজার বন্ধ থাকায় বেচাবিক্রি কম হয়েছে, তাই অভাব-অনটনও বেড়ে গেছে। শীত আসছে, বড়ির চাহিদা বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে গত কয়েক মাসের লোকসান পোষানো যাবে। তা যদি না হয়, তাহলে বিকল্প আয় কী হবে, তা ভেবে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, এ খবর পেয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।

শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে হাটবাজার বন্ধ থাকায় বেচাবিক্রি কম হয়েছে, তাই অভাব-অনটনও বেড়ে গেছে। শীত আসছে, বড়ির চাহিদা বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে গত কয়েক মাসের লোকসান পোষানো যাবে। তা যদি না হয়, তাহলে বিকল্প আয় কী হবে, তা ভেবে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, এ খবর পেয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।

একই গ্রামের কুমড়াবড়ির পুরোনো ব্যবসায়ী নীরেন চন্দ্র বলেন, যদিও শীতেই কুমড়াবড়ির চাহিদা বেশি থাকে, তবে শহরের লোকজন সারা বছরই পাতে কুমড়াবড়ি খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাই মুদিদোকানিরা সারা বছরই তাঁদের কাছ থেকে কুমড়াবড়ির অর্ডার দিয়ে রাখেন। যে সময় কুমড়া থাকে না, সে সময় তাঁরা কুমড়ার পরিবর্তে কাঁচা পেঁপে ব্যবহার করেন।

গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কুমড়াবড়ি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রহ্মপুর গ্রামের সাবিত্রী দেবী বলেন, ‘কুমড়াবড়ি দিয়ে নানা পদের রান্না হয়। যেমন শুধু বড়ির ঝোলও করা যায়, আবার বড়ি ও সবজি দিয়ে পুড়পুড়ি বা ঘণ্ট রান্নাও সুস্বাদু হয়। তবে কাদাপানির দেশীয় মাছ, যেমন ট্যাংরা, শোল, টাকি, গুচি, বাইন ও বোয়াল মাছ দিয়ে কুমড়াবড়ি রান্না করলে লোকের জিহ্বায় জল চলে আসে।’

নলডাঙ্গার পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বি জানান, কুমড়াবড়ি মূলত একটা প্রক্রিয়াজাত সবজি। সবার কাছেই এটা জনপ্রিয়। এর উৎপাদন ঘিরে চলনবিল ও হালতিবিল এলাকায় একটা পেশাজীবী শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এখানকার কুমড়াবড়ি দেশের বাইরেও যাচ্ছে। তাই এর অর্থনৈতিক অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।

সিংড়ার কলম এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, কুমড়াবড়ির দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা করা যায় এবং এর তরকারি সুস্বাদু হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা সর্বজনীন হয়ে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলি দিয়ে আসা ভারতীয় পেঁয়াজের অধিকাংশই পচা

রপ্তানি জটিলতার কারণে সীমান্তে লোড অবস্থায় থাকা পেঁয়াজগুলো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হলেও অধিকাংশ পেঁয়াজই পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার আমদানি করা পেঁয়াজগুলো পাঁচ দিন ধরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকে পড়ে ছিল হিলি বন্দরে। অতিরিক্ত গরমে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা বিপাকে পড়েছেন। তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

এদিকে বন্দরের মোকামে একটু ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র ১৩ সেপ্টেম্বর এলসি করা পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেয়। ফলে গতকাল শনিবার সীমান্তে আটকে থাকা ১১টি ট্রাকে ২৪৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আমদানি করা হয়। তবে সীমান্তে আটকে থাকা ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে আজ রোববার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি

হারুন উর রশিদ আরও জানান, শনিবার যেসব পেঁয়াজ এসেছে তার অধিকাংশই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বন্দরের ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সীমান্তে ২৫০-৩০০ পেঁয়াজ বোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

‘পিঁয়াজের খ্যাপে’ যাবে দেশি পেঁয়াজ

টাঙ্গাইলে ‘পিঁয়াজের খ্যাপ’ বলে একটা কথা আছে। এটা সেই অগস্ত্যযাত্রা। কেউ কোথাও গিয়ে আর ফিরছে না বা তার অপেক্ষায় থেকে থেকে কেউ পেরেশান, তখন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলবে যে ‘পিঁয়াজের খ্যাপে গেছে’। কথাটার মধ্যে ব্যঙ্গ, উষ্মা ও ক্ষোভ আছে, যা পেঁয়াজের ঝাঁজের সঙ্গে মেলে।

পেঁয়াজ জিনিসটাই অবশ্য অন্য রকম। একটা দেশি পেঁয়াজ এমনি কাঁচা খেতে গেলে কড়া ঝাঁজে কম্ম কাবার। মুড়ি বা চানাচুরের সঙ্গে কাঁচা মরিচ-তেল দিয়ে মাখিয়ে খেলে তোফা!

খাবারের স্বাদবর্ধক হিসেবে কাঁচা পেঁয়াজ এভাবেই দুনিয়াজুড়ে দেদার খাওয়া হচ্ছে। বৈশাখে যে পান্তা-ইলিশ বলে নাচি, সেখানে আস্ত দু-একটা কাঁচা পেঁয়াজ না হলে জমে?

কাবাব, মোসাল্লাম, ভাজা মাছ, শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, কচুরি—সব খাবারে সমাদৃত পেঁয়াজ। পশ্চিমের পিৎজা-বার্গারই বলি, বাঙালির ভাজি-ভর্তার কথাই তুলি, পেঁয়াজ এখানে রাজযোটক। তাই চেটেপুটে খাওয়া ভেতো জীবনে পেঁয়াজ অবিচ্ছেদ্য।

শৈশবে দেখেছি, শীতের সময় বাড়ির মস্ত আঙিনার এক পাশে বাড়ির স্থায়ী গোমস্তাকে দিয়ে মা সারবেঁধে কিছু পেঁয়াজ রোপণ করাতেন। গোমস্তা কপাকপ কোদাল চালিয়ে অনায়াসে কাজটা সেরে ফেলত। কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে মাটি ফুঁড়ে উদয় হতো সবুজ সতেজ সরু পাতা। সকালে শিশিরভেজা পেঁয়াজপাতায় যে সজীবতা, তা দেখার মতো। সকাল আটটা-নটার দিকে এই পেঁয়াজপাতা তুলে মা তাওয়ায় টেলে নেওয়া মরিচ আর সর্ষের তেল ডলে একটা ভর্তা বানাতেন, যার নাম ‘মরিচডলা’। সেটা একটা ‘ডলা’ বটে! দেশি পেঁয়াজপাতার টাটকা ঝাঁজ, শুকনো মরিচ আর খাঁটি সর্ষের তেলের মিশেল সৌরভে সারা উঠান ম-ম। রাতের রেখে দেওয়া কড়কড়ে ভাত আর সেদ্ধ ডিম বা টাকি মাছের ভর্তার সঙ্গে যোগ হতো এই মরিচডলা। মিঠে রোদে বসে একটা জম্পেশ খাওয়া হয়ে যেত। ভাতে আঁত লাগিয়ে থাকা বাঙালির জলোজীবনে এটা অমৃত। মাছ-মাংস-ডিমের ভুনা, দোপিঁয়াজি, ঝোল ঝোল কারি, কোনোটাই কি পেঁয়াজ ছাড়া চলে? সৈয়দ মুজতবা আলীর সুলিখিত ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে ‘পেঁয়াজ-ঘিয়ের ঘন ক্বাথে সের খানেক দুম্বার মাংস’ পড়ে কার না জিবে জল আসে?

এভাবে পেঁয়াজ চিবোতে চিবোতে বড় হওয়া ভেতোরা কখন যে পেঁয়াজের কন্দে মনপ্রাণ সমর্পণ করে বসে, তা সে নিজেও টের পায় না। খাদ্যের সীমানা ছাড়িয়ে পেঁয়াজ তখন স্বাস্থ্যের আঙিনায় ঢুকে পড়ে। পেঁয়াজে ক্যালরি খুবই কম। ১০০ গ্রামে মাত্র ৪০ গ্রাম। পেঁয়াজে আছে ক্রোমিয়ামের সমৃদ্ধ মজুত। এই খনিজ উপাদান রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য পেঁয়াজ তাই উপকারী। এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কাজ দেয়। গলাব্যথার উপশমে গরম পানির সঙ্গে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে দেখেছি। মাথার চুলের গোড়া শক্ত করার জন্য পেঁয়াজের রস লাগানোর প্রচলন রয়েছে। কথিত আছে, রোমান সম্রাট নিরো শরীর ঠান্ডা রাখতে পেঁয়াজের রস গায়ে মাখতেন। ইতিহাসে আরও রয়েছে পণ্য বিনিময়ে পেঁয়াজের ব্যবহারের কথা। পেঁয়াজের বিনিময়ে প্লাস্টিক আর লোহার পুরোনো জিনিস নেওয়ার প্রচলন এ যুগেও আছে। মধ্যযুগে মিসরের রাজা-বাদশাহরা পেঁয়াজের মালা ব্যবহার করতেন। গ্রামাঞ্চলে সর্দি-কাশিতে পেঁয়াজ আর সর্ষের তেলের ব্যবহারও লক্ষণীয়।

পেঁয়াজের এই কাসুন্দি ঘাঁটার প্রয়োজনটা পড়েছে এমন এক সময়, দেশজুড়ে যখন দেশি পেঁয়াজের বড়ই আক্রা। নগর বা গ্রামীণ জীবনে ঘরকন্নার নিত্য অনুষঙ্গ হিসেবে এই গোল্লা বস্তুটি এতই জীবনঘনিষ্ঠ যে এর দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকার বেশি মেনে নেওয়া যায় না। তবু দেড়-দুই বছর ধরে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু পেঁয়াজের দাম বেয়াড়া স্পিন বলের মতো কেজিতে শতেক টাকার ঘূর্ণি তুললে গায়ে লাগে বৈকি। দামটা আবার সুতায় বাঁধা লারেলাপ্পা চাকতির মতো ওঠানামা করে। সে ওঠানামায় নুন আনতে পান্তা ফুরানো মানুষের অবস্থা জেরবার।

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় পেঁয়াজের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং চাহিদা ও প্রাপ্তিতে সংকটের কারণে ঘাটতি পূরণ হয় আমদানিতে। মাঝে ফায়দা লোটেন মজুতদারেরা। এ নিয়ে হইচই যতই হোক, কোপটা পড়ে সাধারণের ঘাড়েই। পরিস্থিতি দাঁড়ায় লেজেগোবরে। কার গোয়ালে কে দেবে ধোঁয়া? শেষে যাও, অন্য দেশে গিয়ে ধরনা দাও।

মূল ভরসা প্রতিবেশী। সেখানেও ফ্যাঁকড়া। কদিন আগে ভারত ফট করে বলে দিল পেঁয়াজ দেবে না। অমনি রাতারাতি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি শতের ঘরে। গত বছর এই সেপ্টেম্বরেই পেঁয়াজ ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে।

তাই কেউ কেউ ভাবলেন যে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর আগেই শত টাকার কিছু পেঁয়াজ ঘরে তুলে রাখা যাক। কাঁচাবাজারের ফর্দ কাটছাঁট করে পাঁচ-দশ কেজি ঘরে তুলে রাখলেন। কিন্তু শিগগিরই ভারত মত পাল্টে আবার রপ্তানিতে ফিরে এল। শাঁ করে পেঁয়াজ নেমে এল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। এখন তো আরও কম। অনলাইনে টিসিবির পেঁয়াজ ৩৬ টাকা কেজিতে বিকোচ্ছে। যাঁরা পেঁয়াজ কিনে রেখেছেন, তাঁদের উশুলে ত্রিশূল।

পেঁয়াজ এখন আসছে টনকে টন। মিয়ানমার থেকে এর মধ্যে পেঁয়াজ এসেছে। হিলি, ভোমরা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আসছে ট্রাককে ট্রাক। শিগগিরই নানা রূপে নানা রকম হাজার হাজার টন পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যাবে বাজার। গত বছর এই সময় মিসর ও তুরস্ক থেকে আসা ঢাউস সাইজের পেঁয়াজ কাঁচাবাজারের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। একটা-দুটোতে এক কেজি হয়, এমন পেঁয়াজ মানুষ কিনছেও। কিন্তু এসব পেঁয়াজ সালাদ হিসেবে খেতে যতটা মজা, রান্নার উপকরণ হিসেবে তেমন উপাদেয় নয়। মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ, গন্ধই নেই! আর সেই দেশি ঝাঁজ কোথায়?

পণ্যের দুষ্প্রাপ্যতা মানুষকে বিকল্প খুঁজতে শেখায়। একটা হারিয়ে গেলে আরেকটায় অভিযোজিত হয় মানুষ। দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন যত ব্যাহত হবে, চাহিদায় তত সংকট তৈরি হবে। ঘাটতি পূরণে বাড়বে আমদানিনির্ভরতা। তখন দেশে চাষাবাদে কদর বাড়বে প্রতিকূলতায় অধিক টেকসই এবং উচ্চ ফলনশীল উন্নত জাতের পেঁয়াজের। কোণঠাসা হবে দেশি। আমাদের এই চামড়া আবার মা-মাটির মতো সর্বংসহা, তাই সবই একসময় গা সওয়া হয়ে যাবে। দেশি পেঁয়াজ তখন হয়তো নিজেই চলে যাবে তথাকথিত সেই ‘পিঁয়াজের খ্যাপে’।

অনেকেরই হয়তো মনে আছে সেই স্মৃতি, যখন নব্বইয়ের দশকের একটা সময় দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ে মাছের মড়ক লেগেছিল। মাথায় একধরনের ঘা নিয়ে মরে যাচ্ছিল মাছগুলো। একপর্যায়ে দেখা দিয়েছিল মাছের তীব্র সংকট। পানিতে ভরো ভরো নদীতে মাছ নেই। টইটম্বুর বিলে নেই মীনের খলবল।

সে সময় বিদেশ থেকে নধর দেহ নিয়ে প্রমাণ সাইজের কই-মাগুর আসতে শুরু করে। সেগুলোর উৎপাদনে ঝাঁপিয়ে পড়েন মৎস্যচাষিরা। এসব মাছ পুকুর-জলাশয়ে থাকা নিরীহ দেশি মাছের ভুষ্টিনাশ করে ছাড়ে। সেই খাঁটি দেশি মাছের আকাল কিন্তু এখনো আছে। বাজারে হৃষ্টপুষ্ট পাঙাশ, পাবদা-বেলের অভাব নেই। শুধু খাঁটি দেশি মাছের অভাব। দেশি মুরগায়ও তাই। কোনটা দেশি আর কোনটা যে সংকর, বোঝা দায়। বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেমনি দেশি পেঁয়াজও চুপিসারে আমাদের টা টা জানাতে পারে।

তখন দেশি পেঁয়াজের স্বাদে তুষ্ট কিছু মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে নাক টেনে চেষ্টা করবে পুরোনো সেই ঝাঁজে মজে থাকতে। তবে তা কেবলই হবে স্বপ্নবিলাস। সে সময় সুপারশপ বা কোনো অনলাইন শপিংয়ে হয়তো আমন্ত্রণ থাকবে দেশি পেঁয়াজ কেনার; এখন যেমন কিছু অনলাইন শপিংয়ে বিলুপ্ত ঢেঁকিছাঁটা চাল কেনার বিজ্ঞাপন থাকে।

পেঁয়াজ নিয়ে একটি ধাঁধা আছে—বাজার থেকে এলেন সাহেব কোট-প্যান্ট পরে, কোট-প্যান্ট খুলতে গেলে চোখ জ্বালা করে। এই ধাঁধা বদলে যাবে তখন। দেশি পেঁয়াজের সমঝদার মানুষ আওড়াবে—বিদেশ থেকে এলেন সাহেব কোট-প্যান্ট পরে, কোট-প্যান্ট খুলতে গেলে বুকটা চচ্চড় করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অনলাইনে টিসিবির পেঁয়াজ কেনায় ধুম, ক্রেতা বেশি ধানমন্ডি–গুলশান ও মিরপুরে

অনলাইনে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরুর পর কেনার ধুম পড়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান আজ দুপুর ১২টার পর থেকে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। এরপরই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। টিসিবি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সুপারশপ স্বপ্ন অনলাইন ও চালডাল ডটকমকে দেড় হাজার কেজি করে পেঁয়াজ বরাদ্দ দেয়। আজ দুপুর ১২টা থেকে স্বপ্ন ও সাড়ে ১২টা থেকে চালডাল তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে।

বেলা তিনটার সময় স্বপ্নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির হাসান প্রথম আলোকে জানান, দুই ঘণ্টায় তাঁরা ৪৫০ কেজি পেঁয়াজের ফরমাশ বা অর্ডার পেয়েছেন। ধানমন্ডি, গুলশান ও বনশ্রী এলাকা থেকে ফরমাশ বেশি আসছে। অভিজাত এলাকায় কেন বেশি চাহিদা, তার দুটি কারণ তুলে ধরেন সাব্বির হাসান। তিনি বলেন, ওই সব এলাকায় মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় বেশি অভ্যস্ত। আরেকটি বিষয় হলো, মানুষ এখন পণ্যের দাম নিয়ে ব্যাপক সচেতন।

আরেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকম বেলা তিনটায় জানিয়েছে, চাহিদা এত বেশি যে তারা আর বেশি সময় অর্ডার নিতে পারবে না। চালডালের হেড অব গ্রোথ ওমর শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১২টার দিকে বিক্রি শুরু করেছি। কোনো প্রচার চালাইনি। তারপরও পেঁয়াজ প্রায় শেষের দিকে।’ তিনি বলেন, মিরপুর, মিরপুর ডিওএইচএস, রাজারবাগ ও উত্তরা থেকে তাঁরা অর্ডার বেশি পাচ্ছেন।

অনলাইনে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন গ্রাহক একবারে তিন কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। সরবরাহ বা ডেলিভারি চার্জ বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নিচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল রোববার এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে টিসিবির পেঁয়াজ অনলাইনে বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেকেই সামাজিক কারণ ও সময়ের অভাবে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে পারেন না। এ ছাড়া টিসিবির ট্রাকসংখ্যা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত। তাই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

অনলাইনে বিক্রির সঙ্গে পাঁচটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে। পরে আরও যোগ হবে। আপাতত এ সেবা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমিত থাকবে। আজ টিসিবির মুখপাত্র হ‌ুমায়ূন কবির প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুটি প্রতিষ্ঠান দেড় হাজার কেজি করে পেঁয়াজ নিয়েছে।

ঢাকায় এখন ৪০টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি। প্রতি কেজির দর ৩০ টাকা। সাধারণত একজন ক্রেতা দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারেন। তবে চাপ বেশি থাকলে এক কেজি করে দেওয়া হয়। সারা দেশে ২৭৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। অনলাইনে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ক্রেতারা কেনাকাটা করেন বলে দাম কেজিতে ৬ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

ভারত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর দেশে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়ায়। অবশ্য কয়েক দিন ধরে দাম পড়তি। ঢাকায় এখন দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে ক্রেতা খুব কম। চাহিদা নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com