আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

থাই লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী মামুনুর

থাই জাতের লেবুর বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী মামুনুর রশীদ। করোনাকালীন সময়ে ব্যাপক চাহিদা, ফলনও বেশি এবং ভালো দাম পাওয়ায় থাই জাতের লেবু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। লেবু চাষের পাশাপাশি এখন কলম চারাও বিক্রি করছেন মামুনুর। 

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে মাস্টার্স পাশ করে চাকরির পিছনে না ছুটে আম-লিচুর বাগান করেন মামুনুর রশীদ। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে আম-লিচু বাদ দিয়ে এ থাই লেবু চাষ শুরু করেন। সারাবছর লেবুর ভালো চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে তার মুখে। তার সাফল্য দেখে অনেকেই লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেপারিটোলা গ্রামের মামুনুর রশীদ সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ৫৫০টি থাই এবং ১ হাজার ১৫০টি দেশীয় জাতের লেবুর চারা লাগিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে তার বাগানে লেবুর ফলন শুরু হওয়ায় বিক্রিও করছেন। চাহিদা থাকায় এরই মধ্যে গাছের কলম তৈরি করে বিক্রিও শুরু করেছেন।

মামুনুর রশীদ বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে মাস্টার্স শেষ করে বাড়িতে আসি। এরপরে চাকরির পেছনে না ছুটে ৭ বিঘা জমিতে গড়া পারিবারিক আম-লিচুর বাগানসহ চাষে ঝুঁকে পড়ি। কিন্তু আম-লিচুর বাগানে পরিশ্রম ও ব্যয়ের তুলনায় টাকা আসতো না। বছরে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হতো। এজন্য বিকল্প চিন্তা করি। এরপরে বাগানে ১০০টির মতো লেবু গাছ লাগাই। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ব্যক্তির লেবু চাষের সাফল্য দেখে লেবুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। খোঁজ করে দেখি সারাবছর লেবু ধরবে এবং প্রতিদিন লেবু যেন ৩-৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা যায়। খোঁজাখুঁজির পর যশোরের বেনাপোল থেকে সেই জাতের লেবুর খোঁজ পাই এবং চারা সংগ্রহ করি। পাঁচ বছর আগে ২০ বছর বয়সী আম-লিচুর গাছগুলো কেটে সেখানে লেবুর বাগান করি। অনেকে আমাকে পাগল বলে ভর্ৎসনা করছিলেন। এখন আমার লেবুর বাগানে ফলন এবং লাভ দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। বর্তমানে এ বাগান থেকে উৎপাদিত লেবু বিক্রি করে বছরে ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেছি। পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকার কলম চারা বিক্রি করেছি। বর্তমানে প্রতিটি লেবু পাইকারি ৩ টাকা ও কলম চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

প্রতিবছর ৩-৪ লাখ টাকার কলম চারা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন মামুনুর। 

বাগানে কর্মরত শ্রমিক জাহিদ ও চঞ্চল বলেন, আমরা সাধারণত পড়ালেখার পাশাপাশি যে অবসর সময় থাকে সে সময়টুকু মামুন ভাইয়ের লেবুর বাগানে কাজ করে থাকি। আমাদের মতো এখানে ১৫-২০ জন ছাত্র কাজ করে। পড়ালেখার পাশাপাশি একটা বাড়তি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের অনেকটা সুবিধা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুরে  অনেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবু চাষ করছেন। একইসঙ্গে লেবুর চারা তৈরি করে তা বিক্রি করছেন, সেখান থেকেও ভালো আয় করছেন তারা। লেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করে আসছি যাতে উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হয়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

নারিকেলে চাঙ্গা লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা উপকূলে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানকার ভূমিতে সয়াবিন, ধান ও সুপারির পাশাপাশি প্রচুর নারিকেল উৎপাদন হয়। এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে নারিকলের চাষ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় জীবনযাত্রার মানে গতি এনেছে। কর্মসংস্থানসহ জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখছে এ নারিকেল।

উন্নয়ন হয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এতে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

লক্ষ্মীপুরের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অর্থকারী ফসলের গাছ নেই। বাগানে সারি সারি গাছ ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা বসতঘরের আশেপাশে-পুকুরপাড়ে দেশীয় জাতের নারিকেল গাছ দেখা যায়। সারা বছর ধরে ওইসব গাছ থেকে নারিকেল সংগ্রহ করা হয়।

উৎপাদিত নারিকেল পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরিতে নারিকেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া তেল উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নারিকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষি নির্ভর জনপদে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জমির ফসল ও বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত নারিকেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন অসংখ্য পরিবার আছে যাদের বাড়ির ১৫/২০টি নারিকেল গাছ তাদের সংসার খরচ চালাতে সহায়তা করছে। অপরদিকে, যাদের নারিকেলের বাগান তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

চলতি বছরও এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নারিকেল কেনা-বেচায় এখন সরগরম লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজার। রাস্তার মোড়ে বসেও নারিকেল কেনা-বেচা করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারিকেল কিনেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে লক্ষ্মীপুর থেকে নারিকেল কিনছেন। ওইসব নারিকেল নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে লাখ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলার হাট-বাজারে সাপ্তাহিক দুইদিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রির জন্য নারিকেল উঠানো হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন নারিকেল বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদাই কিনে বাড়ি ফিরেন।

নারিকেলের প্রধান মোকামগুলা হলো- সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জ শহর, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার উল্লাহ বলেন, তার বাড়িতে ১৫টি নারিকেল গাছ আছে। প্রতিহাটে তিনি নারিকেল বিক্রি করতে পারেন। এভাবে সারা বছর নারিকেল বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

কমলনগর উপজেলার নারিকেল ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় নারিকেল ব্যবসা লাভজনক। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন। এতে তিনি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক কল কারখানা গড়ে না উঠায় ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০, রায়পুরে ৩৭০, রামগঞ্জে ৫২০, রামগতিতে ১৬০ ও কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। জেলায় এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার দাম প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নারিকেল উৎপাদের জন্য লক্ষ্মীপুরের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়। ভালা ফলন পেতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল

নওগাঁ: আষাঢ়ের বৃষ্টিতে যেনো স্নান করছিল আমের মুকুলগুলো। আবার সেই গাছের অন্যদিকে চলতি মৌসুমের আমও ধরে আছে বেশকয়েকটি। গাছের একদিকে ঝুলছে আম অন্যদিকে মুকুল। এমন দুর্লভ দৃশ্যের দেখা মিলেছে নওগাঁ পুলিশ সুপারের বাসভবন চত্বরে।

মুলত এ আম গাছের নাম কেউই জানে না। তবে আঞ্চলিকভাবে একে বারোমাসি আম গাছ বলে চিনে সবাই।

একেকটি আমের ওজন আড়াই থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।  

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বছরের দু’বার গাছটি থেকে আম সংগ্রহ করেন তিনি। আমগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর খেতেও বেশ মিষ্টি। তবে বছরের প্রথমবার গাছটিতে যে পরিমাণ আম পাওয়া যায়, সেই তুলনায় দ্বিতীয়বার ফলন কিছুটা কম হয়।  
গাছের একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল।  ছবি: বাংলানিউজ


নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিদ কুমার বাংলানিউজকে জানান, বারোমাস আম পাওয়া যায় বাংলাদেশে এধরনের আম গাছের সংখ্যা খুব কম। তবে প্রথম মুকুলে যে পরিমাণ আমের ফলন হয়, পরের মুকুলে আর সেই পরিমাণ ফলন হয় না। তবে এই আম গাছগুলো নিয়ে রাজশাহী আম গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা চলছে। তারা গবেষণা করছেন কীভাবে বছরের দু’বার সমান পরিমাণ আম ফলানো যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সুবিধা পেলে আখ চাষে ফিরতে চায় কৃষক

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আখ অন্যতম। এক সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হতো চিনি তৈরির এ কাঁচামাল। এরই সুবাদে কুষ্টিয়ায় চিনিকল স্থাপন করা হয়। প্রথম দিকে কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আখ চাষ করলেও এখন আর তাদের আখ চাষ করতে দেখা যায় না। 

আখের অভাবে প্রায় বন্ধ কুষ্টিয়ার চিনিকল। বর্তমানে আখের জমিতে চাষ হচ্ছে বিষ বৃক্ষ তামাক।

তামাক চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও নানা সুবিধার কারণে কৃষক ঝুঁকে যাচ্ছে তামাক চাষে। তবে আখ চাষে সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষকরা আবারো তাদের জমিতে আখ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।  

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তামাক চাষি দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমার যে জমিতে আখ চাষ করতাম সেখানে এখন তামাকের চাষ করি। মিলের দালাল আর কর্মকর্তাদের অত্যাচারের জন্য আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। মিলে আখ দিতে অসুবিধা, ঠিকমতো ওজন দিত না, ফুরজি (মিলে আখ দেওয়ার ট্রিপ) পাওয়া যেত না, একজনের টাকা আরেকজন তুলে নিত, কৃষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো।

এছাড়া আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল তাই এর চাষ কমে যাচ্ছে। তবে চিনি কল যদি আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে আমরা আবার তামাকের পরিবর্তে আখের চাষ করবো।  

আখ চাষি দিলীপ কুমার বাংলানিউজকে বলেন, মিল সংশ্লিষ্টরা আমাদের আখ নিতে চায় না। তারা তাদের দালালদের কাছ থেকে আখ নেয়। আমরা মিলে আখ দিয়ে ঠিকমতো টাকাও পাই না। মিল কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের আখ কেনার এবং ঠিকমতো টাকা দেওয়ার নিশ্চিয়তা দেয় তাহলে আমরা আবার আখ চাষ শুরু করবো।  

আখ চাষি খেপা আলী বাংলানিউজকে জানান, তামাকের চাইতে আখে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম। তবে তামাক চাষে কোম্পানি লোন দেয়, সহজেই তামাক কিনে নিয়ে যায় এবং টাকা পরিশোধ করে। তাই তামাকের ওপরে কৃষকদের বেশি ঝোঁক। যদি আখ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে আখ চাষ করতে আগ্রহী হবে কৃষকরা।  

কুষ্টিয়া চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চিনির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসএমএস এর মাধ্যমে সরাসরি চাষির কাছ থেকে আখ ক্রয় এবং শিউর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি চাষিরা আবারো আখ চাষে উৎসাহিত হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দুই প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবনে অভাবনীয় সাফল্য

রাজশাহী: শুরুটা হয়েছিল নয় বছর আগে। এক জাপানি বন্ধুর পরামর্শে সেদেশে উৎপাদিত ‘রাগবি’ ও ‘মাস্কমেলন’ নামের বিশেষ প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গির বীজ এনে এখানে চাষের উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর হোসেন।

নয় বছর ধরে বেশ কয়েকবার তিনি জাপানি বাঙ্গির পরীক্ষামূলকভাবে চাষও করেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছরের নিরলস গবেষণার পর তিনি মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাদে অতুলনীয় এ বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটি খরমুজ, ফুটি, কাঁকুড় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে কুমড়াগোত্রীয় গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি একে তো স্বাদেও মিষ্টি নয়, আবার পরিপক্ব হলেই ফেটে যায়। মিষ্টি না হওয়ায় সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন। তার উদ্ভাবিত এই সোনালি বাঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চিনির মতো মিষ্টি আর ফেটে না যাওয়া।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দেশীয় প্রজাতির বাঙ্গির সঙ্গে দু’টি জাপানি প্রজাতির বাঙ্গির জীবন সন্নিবেশনের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবিত হয়েছে। জাপানি ‘রাগবি’ প্রজাতির সঙ্গে দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোনালি বাঙ্গি’। এছাড়া, জাপানি ‘মাস্কমেলন’ প্রজাতির সঙ্গেও দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে তিনি আরও একটি প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। তবে এই প্রজাতির বাঙ্গির এখনও নামকরণ করা হয়নি।

পাকা মিষ্টি বাঙ্গির গায়ের রং সোনালি হওয়ায় তিনি উদ্ভাবিত বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’। প্রথম অবস্থায় ফলটি হয় গাঢ় সবুজ রঙের। আকৃতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ছোট অবস্থায় দেখতে মাল্টা বা কমলার মতো এবং পরিপূর্ণ বাঙ্গিগুলো দেখতে একটি ছোট আকারের মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিটি বাঙ্গিই আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি হয়।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অধ্যাপক মনজুর কাদেরের গবেষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সোনালি বাঙ্গির চারা রোপণ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাছে সোনালি বাঙ্গি ঝুলে আছে। বাঙ্গিগুলো আকার বড় আকারের কমলার মতো।

তিন শতক জায়গায় এই সোনালি বাঙ্গির চাষ করছেন অধ্যাপক মনজুর।

চাষ পদ্ধতির বিষয়ে অধ্যাপক মনজুর কাদের বলেন, ‘সোনালি বাঙ্গির’ চাষ পদ্ধতি ভিন্ন। এ বাঙ্গি মাটিতে চাষ করা যাবে না। মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় মাচা করে ফলটি চাষ করতে হয়। চাষের জন্য আলাদা কোনো মাটির প্রয়োজন নেই। সাধারণ বাঙ্গিগুলো যে মাটিতে চাষ করা হয় এ বাঙ্গিও সেই মাটিতে চাষ করা যাবে। চাষের খরচ সাধারণ বাঙ্গির তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

সোনালি বাঙ্গি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মনজুর হোসেন।  

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, বাঙ্গি যে কতটা মিষ্টি হতে পারে সেটা অনেকে কল্পনা করতে পারেনি। জাপানি কাতো কেউকির পরামর্শে কাজ শুরু করেছিলাম। দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে মিষ্টি জাতের এই বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষে স্বপ্ন পূরণ সফিউল্লাহর

চাঁদপুরে ড্রাগন চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার নামের এক কৃষক। মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করে মাসে আয় করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ কারণে তিনি ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৩০ শতাংশ জমিতে ২০১৯ সালে ড্রাগন আবাদ শুরু করেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের প্রবাসফেরত সফিউল্লাহ হাওলাদার। মাত্র আট মাসের মধ্যেই তিনি প্রথম ফলন পান।

এরপর থেকে প্রতি মাসে যে ফলন পাচ্ছেন তাতে লাভ হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়াতে চান তিনি।

ড্রাগন চাষি সফিউল্লাহ ৪০০ চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ড্রাগন গাছ ২ হাজার। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। এর জাত তিনটি, বারি-১ এবং বারি-২, বারি-৩। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

অপরদিকে তার দেখাদেখি ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন।

সফিউল্লাহ হাওলাদার প্রবাসী হওয়ায় ড্রাগন বাগানের দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। তার হাত ধরেই ড্রাগন চাষে এতটা সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার। চাষের বিষয়ে আয়েশা বেগম বলেন, ড্রাগন বাগান তৈরি করতে আমার বেশকিছু রেডি ফিলার এবং চারাগাছের প্রয়োজন হয়। যাতে মোট এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

এই ফলের বাগানের আরেকটা দিক হলো ড্রাগন গাছ উপরে থাকায় এবং এর কোন পাতা না থাকায় নিচের অংশে অন্যান্য সবজির চাষও করা যায়, যা অত্যন্ত লাভজনক। আমার এই বাগান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে। এ বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্বসহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরদার জানান, চাঁদপুরের একমাত্র ড্রাগন চাষি হিসেবে কৃষক সফিউল্লাহকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com