আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

আগরতলা (ত্রিপুরা): ত্রিপুরা রাজ্যের বন্য হাতির সংখ্যার জরিপ এবং তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাস পুনরায় তৈরির লক্ষ্যে বন দফতর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হবে হাতি বিশেষজ্ঞ দল।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানালেন ত্রিপুরা সরকারের বন ও জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বনভূমিত ও পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জঙ্গলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে রয়েছে বন্য হাতিও। রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন পাহাড়ি এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস ও চাষবাস করছেন। এর ফলে বন্য হাতির প্রাকৃতিক বিচরণ ভূমি নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্যের খোঁজ করে প্রায়শই বন্য হাতি জনপদে চলে আসে এবং আক্রমণ চালায় বাড়ি-ঘরসহ ফসলের ক্ষেতে। ফলে হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রাজ্যের খোয়াই জেলার অন্তর্গত কল্যাণপুর ঘিলাতলী, চেবরী, মহারানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন জনপদে। মূলত ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার আঠারোমুড়া পাহাড় এবং তার আশেপাশের বনভূমিতে বন্য হাতিদের প্রাকৃতিক বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। কিন্তু এই সকল এলাকায় এখন জনবসতি গড়ে ওঠায় হাতিদের বিচরণসহ খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বন্য হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসে। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা চলছে।

বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকারের বন দফতর। কী করে হাতিদের প্রাকৃতিক আবাসকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা যায় এবং রাজ্যে বর্তমানে কতগুলো বন্য হাতি রয়েছে তা গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই প্রেক্ষিতে বন দফতর পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থান থেকে হাতি বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই রাজ্যের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন হাতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরকার কথা বলেছে বলেও জানান মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্য হাতির গণনাসহ কী করে আবার হাতিদের প্রাকৃতিক আবাস ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে কাজ শুরু হয়ে যেত। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে এই প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বহিঃরাজ্যের বিশেষজ্ঞের একটি দল রাজ্যে এসে হাতি গণনা এবং আবাস সংক্রান্ত জরিপ শুরু করবে। এবারে প্রথম ত্রিপুরা রাজ্যের হাতি জরিপের কাজ করা হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের এলিফ্যান্ট করিডর তথা বন্য হাতির অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক, যা আসাম হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করেছে। এলিফ্যান্ট করিডোরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় বন দফতর থেকে ইতোমধ্যে করিডোরের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ সতর্কতা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি

ডালিমের উন্নত জাতই হলো আনার বা বেদানা। ডালিম খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের জন্য উপযোগী বিধায় আমাদের দেশের  বসতবাটির আঙ্গিনায় ডালিমের চাষ দেখা যায়। আনার বা ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। ছাদ বাগানে  টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিমের তথা আনার বা বেদানার চাষ করা যায়।

ছাদে বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ ছাদে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার  বা রং করা ড্রাম অথবা টব জোগাড় করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে  আলগা করে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন আগের মতো একইভাবে রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা সেই টবে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় গাছের গোড়া মাটি থেকে কোনভাবে আলাদা হওয়া যাবে যাবে। চারা গাছটিকে সোজা করে সঠিকভাবে রোপণ করতে হবে। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে মাটি চেপে চেপে দিতে হবে। ফলে গাছের গোড়া দিয়ে পানি বেশি ঢুকতে পারবে না। একটি সোজা চিকন লাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা রোপণের শুরুর দিকে পানি অল্প দিলেই চলবে। পরে ধীরে ধীরে পানি দেওয়া বাড়াতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমতেও দেওয়া যাবে না। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো গাছে সেচ দিতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ ডালিম তথা আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈল পচা পানি দিতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।  এক বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্থে ২ ইঞ্চি এবং গভীরে ৬ ইঞ্চি শিকড়সহ  টব বা ড্রামের মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টব বা ড্রাম  ভরে দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে করাই উত্তম। ১০-১৫ দিন পর পর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।

গাছে সার প্রয়োগঃচারা লাগানোর পূর্বে গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার দিতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে দিতে হবে। গর্ত ভরাট করার ২০-২৫ দিন পর ডালিমের চারা রোপণ করতে হবে।

সারের নামসারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া১৫০ গ্রাম
টিএসপি১০০ গ্রাম
এমওপি১০০ গ্রাম
জিপসাম৭০ গ্রাম

১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরিউক্ত পরিমাণ সার  ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ( মে- জুন ) মাসে এবং ২য় বারে আশ্বিন-কার্তিক ( সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ) মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম চাষে আগাছা দমনঃডালিম গাছের গোড়ায় কোন প্রকার আগাছা যেন লেগে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কেননা ডালিমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ না হলে গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পানি সেচ  নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্‌কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে কখনই পানি জমে থাকবে না এবং গাছ বেশি শুকনো রাখা যাবে না। সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ প্রদান দিতে হবে।

ডালিম গাছের ডাল ছাটাইঃ ছাদের ডালিম তথা আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । ডালিম গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে। পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন। এছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেওয়া প্রয়োজন।

ডালিম গাছের শিকড় ছাঁটাইঃ ডালিম গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়ে থাকে। সাধারণত বসন্তে এবং বর্ষার সময় গাছে বেশি ফুল ধরে। বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা যায়, যার গুণগত মান খুবই ভালো হয়। তাই অসময়ে তথা বর্ষায় গাছে ফুল আসার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫ সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখাতে হবে। পরবর্তীতে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম গাছের বিশেষ পরিচর্যাঃডালিম গাছে সারা বছরই অল্প অল্প করে ফুল আসতে থাকে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে কিন্তু ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে ডালিম গাছে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল হয়। তবে এক্ষেত্রে এই ফলের গুণগত মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ ( অক্টোবর-নভেম্বর ) মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এই সময়ের ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হবে।  এই সময়ে গাছে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে ১-২ বার সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয়। পরবর্তীতে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহ করা যায়।

ডালিমের রোগবালাই ও প্রতিকারঃ

ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু পোকা হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুল ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। সেই ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে  শূঁককীট থেকে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ ( Secondary Infection ) হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।

প্রতিকারঃ

(ক) আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা  আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।

(খ) গাছে ফল ধরার পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা কাগজ দিয়ে ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

(গ) এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বারিল ( এসিকার্ব ) বা ফস্‌ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক ১২- ১৫ দিন পর পর গাছে ও ফলে স্প্রে করতে হবে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে দেখা যায়। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এই শূঁককীট লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ) গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।

রস শোষণকারী পোকাঃছাতরা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে বিবেচিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল ঝরে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুষে খায়। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকার দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত হয়, যা পাতায় লেগে থাকে। পরবর্তীতে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলের অংশ ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

প্রতিকারঃ

(ক) ছাতারা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম দিকে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডায়াজিনন দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

(খ) জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডাইমেথয়েট (টাফগর ) অথবা ০.৫ মিলি হারে ইমিডাক্লোপ্রিড ( ইমিটাফ, টিডো,টিডো প্লাস ) দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর গাছে দুই বার স্প্রে করতে হবে।

(গ) মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে ভার্টিমেক/ সানমেক্টিন এবং ২ গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফলের দাগ রোগঃ এই রোগ ছত্রাকজনিত কারণে হয়ে থাকে। ফল গাছ এ রেগে আক্রান্ত হলে  আক্রান্ত ফলের ওপর অনেক ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। এই দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয়। ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।

প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মেনকোজেব (ইণ্ডোফিল এম ৪৫/ ডিইথেন এম ৪৫) বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম( নোইন/ অটোস্টিন/এমকোজিম) ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফল পচা রোগঃছত্রাকজনিত এই রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দিয়ে ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এই রোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় এবংফলের উজ্জ্বলভাব নষ্ট  হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফল নরম হয়ে পচে যায়।

প্রতিকারঃ ফল পচা রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।

ফল ফেটে যাওয়াঃডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) ডালিম গাছে ফল ধরার পর থেকে গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।

(খ) মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড প্রতি গাছে ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

(গ) ফলের বৃদ্ধির সময় সলুবর বোরন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর  ফলে ও গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

(ঘ) তাছাড়া ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাতের ডালিমের চাষাবাদ করতে হবে।

ফল সংগ্রহঃ আনারের কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন দেওয়া শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়াতে হবে। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নেওয়ায় উত্তম। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারজাত করার সময় পরিবহনকালেও ফল সহজে নষ্ট হয় না।

ফলনঃডালিম গাছ  সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫ টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিতে পারে।

চারা প্রাপ্তির স্থানঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারসমুহ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে ডালিম বা আনারের চারা পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শত্রুতায় গেল শতাধিক গাছের প্রাণ!

গাছের সাথে শত্রুতা করে কে বা কারা দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের লীজকৃত একটি আম বাগানের শতাধিক গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলেছে। 

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বাড়েয়া গ্রামে মোঃ আইনুল হকের লীজকৃত একটি আম বাগানের প্রায় শতাধিক আম গাছ কেটে ফেলা হয়। জানা যায়, বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ আইনুল হকের বাড়েয়া মৌজার ১১৪ নং দাগের ৮৮ শতক জমি লীজ নিয়ে একই গ্রামের মোঃ শামিমুল আলম ২০১৬ সাল থেকে ১০ বছরের চুক্তিতে আম বাগান করেন।

সেখানে প্রায় ৩ শতাধিক আমরূপালি গাছ লাগানো হয়। প্রতিবছরের মত এবারও আম পাড়া হয়। এরই মধ্যে কে বা কাহারা উক্ত আম বাগানের প্রায় শতাধিক গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে যায়। 

এ ব্যাপারে ইশানিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও আম বাগানটি পরিদর্শন করেছি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

উমাশঙ্কর মণ্ডল: সুন্দরবনে গাছ লাগান যে মানুষ

পড়াশোনা করে স্কুলে পড়ানোর কাজ পেলেন। নিজের দেশগাঁয়ের মাটি ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেলেন, তবে তার মধ্যেই ভূগোলের জ্ঞান তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। তিনি বুঝেছেন, ‘প্রকৃতিকে বাঁচালে মানুষ বাঁচবে।’ কিন্তু সুন্দরবনে জীবন পাল্টায় না। একের পর এক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে সব তছনছ করে দেয়। 

প্রকৃতির ক্ষতি করলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে, এটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ উমাশঙ্কর মণ্ডল, এখন যাঁকে বনের বন্ধু, ‘ম্যানগ্রোভ ম্যান’ হিসেবে সবাই জানে। ভূগোলের শিক্ষক, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে একটি হাই স্কুলে পড়ান। কিন্তু মন পড়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে একটা গ্রামে, যেখানে তাঁর জন্ম, কর্ম।

কলকাতা থেকে শ’দেড়েক কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের সাতজেলিয়া দ্বীপ। সেখানকার চরঘেরি গ্রামেই মানুষের বসতি শেষ। তার পর নদী, জঙ্গল, বাঘের ডেরা পেরোলে বাংলাদেশের সুন্দরবন শুরু। ওই চরঘেরিতেই উমাশঙ্করের ভিটেবাড়ি।

পড়াশোনা করে স্কুলে পড়ানোর কাজ পেলেন। নিজের দেশগাঁয়ের মাটি ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেলেন, তবে তার মধ্যেই ভূগোলের জ্ঞান তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। তিনি বুঝেছেন, ‘প্রকৃতিকে বাঁচালে মানুষ বাঁচবে।’ কিন্তু সুন্দরবনে জীবন পাল্টায় না। একের পর এক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে সব তছনছ করে দেয়।

এরই মধ্যে এল প্রবল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। স্মরণকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। সেটা ছিল ২০০৯ সাল।

উমাশঙ্কর মণ্ডলের কথায়, “তখন আমি গ্রামে। আয়লার প্রকোপে নদীর জলে ছ-সাত ফুট উঁচু ঢেউ উঠছে। হঠাৎ দেখি একজনের বাড়ির ওপর জলের ঢেউ আছড়ে পড়ল আর বাড়িটাকে জমি থেকে যেন তুলে নিয়ে চলে গেল। কিন্তু দেখলাম, আশপাশে যেখানে ম্যানগ্রোভ ছিল, ঝড় আটকেছে। সেদিন ঠিক করলাম ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাতেই হবে।”

উমাশঙ্কর নিজের উদ্যোগে ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ শুরু করলেন। সঙ্গে স্ত্রী প্রণতি। স্কুল থাকলে মুর্শিদাবাদে, আর ছুটি পেলেই সুন্দরবনে। এর মধ্যে কিছু লোককে বুঝিয়ে গাছের চারা পোঁতার কাজে লাগানো গেল। মহিলাই বেশি। কিন্তু অভাবী মানুষগুলোকে তাঁদের পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু দেয়ার জন্য উমাশঙ্কর সাহায্য চাইলেন তাঁর বন্ধুদের কাছে, সহকর্মীদের কাছে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভূতপূর্ব সাড়াও পেলেন। এইভাবে ওঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দাঁড়িয়ে গেল।

উমাশঙ্কর জানালেন, ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ১২ বছরে সাড়ে ছয় লক্ষ ম্যানগ্রোভ লাগিয়েছেন তাঁরা। প্রথমদিকের ম্যানগ্রোভগুলো এখন অনেকটাই বড় হয়েছে, ঝড়ের মহড়া নেওয়ার ক্ষমতা হয়েছে। কিন্তু আরো দরকার। ইদানিং গাছের চারা লাগাতে গ্রামের লোকজন আসছেন, বিশেষ করে মেয়েরা। তাঁদের পরিশ্রমের বিনিময়ে নগদ টাকা নয়, কাউকে শাড়ি, কাউকে মশারি ও অন্যান্য জামাকাপড়, কিংবা স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হচ্ছে। ঝড়ের পরে খাবার দাবারও বিলি করা হচ্ছে। সবই ওই শুভানুধ্যায়ীদের দানের টাকা থেকে। এই সব কাজের সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।

উমাশঙ্কর জানালেন, সাতজেলিয়া দ্বীপের যে সব জায়গায় গাছপালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পশুপাখি, ছোট ছোট প্রাণীরা চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল , নতুন করে ম্যানগ্রোভের বন হওয়ার পর তারা আবার ফিরে এসেছে

উমাশঙ্কর মণ্ডল বললেন, আগামী ২৬শে জুলাই ইউনেস্কো ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস’। ওই দিন জনা পঞ্চাশেক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ওঁরা সুন্দরবন যাবেন। সাতজেলিয়া আর গোসাবা দ্বীপে সেদিন দশ হাজার ম্যানগ্রোভের চারা লাগানোর ইচ্ছে। মূলত বাইন গাছ, কাদামাটিতে লাগাতে সুবিধা, বাড়েও তাড়াতাড়ি।

এখন তো আপনার পরিচয় ‘ম্যানগ্রোভ ম্যান’ হিসেবে! শুনে একটু লাজুক স্বরে উমাশঙ্কর মণ্ডল বললেন, “এই নামটাকে আমি আমার সেবাকাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখি। স্বেচ্ছাসেবকদের বুকে যেমন ব্যাজ আঁটা থাকে, এও তেমনি। কাজে সুবিধা হয়, ভালও লাগে।” খুশির হাসি হাসলেন ‘ম্যানগ্রোভ ম্যান’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পাট ভেজানোর পানি নেই

ইসমাইল হোসেন: ভরা বর্ষা মৌসুমে পানি না থাকায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভেড়ামারা উপজেলার কৃষক-কিষানিরা। আষাঢ় মাস শেষ হতে চললেও খাল-বিল, পুকুর, ডোবা, নালা, জলাশয়গুলোতে বর্ষার পানি না আসায় পাটজাগ না দিতে পেরে কৃষক-কিষানিরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। সোনালি আঁশ পাট কেটে পানির আশায় খেতেই স্তুপ করে রেখেছেন অনেক কৃষক, এতে রৌদ্রতাপে অনেক পাট খেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

পাট কাটাসহ ফসল ঘরে ওঠানো নিয়ে মহাসংকটে সময় পার করছেন চাষিরা। পানি স্বল্পতা ও শ্রমিক সংকট আবার করোনাকালীন সময়ে লকডাউন সবকিছু মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, বিরূপ আবহাওয়া মধ্যেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অধিক পাট চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া বিরূপ হওয়ায় এবার অধিক পরিশ্রম ও সেচ দিয়ে পাট বাঁচাতে হয়েছিল তাদের।

সব কিছুর পর এবার বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু পানির অভাবে কৃষক পড়ছেন চরম বিপাকে। কেউ কেউ ভ্যান, নছিমন, ঠেলাগাড়িযোগে কাঁচাপাট নিয়ে ছুটছে পানির খোঁজে।

পাট চাষীদের লোকসানের সম্ভাবনা না থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাট চাষির সংখ্যা। এ বছর পাটের আবাদ বৃদ্ধি ও পাটের বাম্পার ফলন।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতের অভাবে জলাশয়গুলো ভরাট না হওয়ায় পাট জাগ দিতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। ফলন ভালো এবং বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও সময়মত পানির অভাবে পাট জাঁগ (পঁচানো) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভেড়ামারা উপজেলার পাট চাষিরা। এ দুশ্চিন্তায় কৃষকদের ঈদ তেমন ভালো হয়নি।

সরেজমিনে জানা যায়, এবার আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে পাটের জাগ দিতে পারছেন না উপজেলার কৃষক। বর্ষাকালে খাল-বিল, নদী-নালা বৃষ্টির পানিতে কানায়-কানায় ভরে যায়।কিন্ত এবার বর্ষা নামলেও তা যথেষ্ট না হওয়ায় এমন অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে পাটচাষিদের।

উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধীদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবার ভেড়ামারা উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর ৪৩১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এবার হয়েছে ৪৩৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪২৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪৩৬০ হেক্টর।পাট আবাদ এই উপজেলায় বুদ্ধি পেয়েছে ১১০ হেক্টর। কিন্তু ভারী বর্ষণ না থাকায় অনেক কৃষক পাট কাটতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকে পাট কেটেও জমিতে ছিটিয়ে বা স্তুপ করে রেখেছেন। কেউ কেউ শ্যালো মেশিন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করলেও তাতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নিশ্চিত লাভ জেনেও পানির অভাবে কৃষকের স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে। এমনিতেই পাট চাষে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। পঁচা পানিতে আঁশ এড়ানো শ্রমিকদের মজুরীও বেশি।

উপজেলার জগশ্বর গ্রামের পাটচাষী আব্দুর রাজ্জাক ও পরানখালী গ্রামের আমিরুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এবার বৃষ্টিপাত কম, পাট জাগ দিতে পারছিনা। তাছাড়া নদীতে পাট জাগ দিতে গেলে আনা নেওয়ার খরচ উঠবে না। আশপাশে শ্যালো মোটরের ব্যবস্থা না থাকায় সেচের পানিও পাচ্ছিনা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়েখুল ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহ আগে বৃষ্টিপাতে নদীসহ বিভিন্ন খালে পানি দেখাদেয়। ফলে কৃষকরা তাদের সোনালী আঁশ পাট কাটতে শুরু করেন। কিন্তু এরপর আর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরায় পানি শুকিয়ে যায়। ফলে পাটের বাম্পার ফলন হলেও পানি সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। তিনি আরো জানান এ বছর প্রাকৃতিক খরার কারণে ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেন না। তবে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কৃষক যাতে পাট পচাতে পারেন সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নীলফামারীর ডোমারে পানি সংকটে রোপা আপন নিয়ে দুঃচিন্তায় কৃষক

রতন কুমার: [২] অনাবৃষ্টি ও পানি স্বল্পতায় চলতি রোপা আমন চাষে দুঃচিন্তায় রয়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কৃষকগণ। সাধারনত বাংলা সনের মধ্য আষাঢ় ও শ্রাবণের মাঝামাঝি জমিতে আমন রোপা লাগানো হয়। প্রাকৃতিকভাবে আষাঢ়ের শুরুতেই ভারী বর্ষণে খাল বিল, নদী নালা বৃষ্টির পানিতেই থাকে টই টম্পুর।

[৩] চাষাবাদের জমিতে কৃষকরা তাদের ইচ্ছেমতো বর্ষা মৌসুমের চাষাবাদ করতো। ইহা ছিলো বর্ষা মৌসুমের চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু এবারে বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির বৈরীতায় কৃষকগণ হয়েছে দিশেহারা। জমিতে পানি নেই, রোপা লাগানো যাচ্ছে না। পাট কেটে জাগ দেওয়ার মতো খালে পানি নেই। সামান্য বৃষ্টির পানিতে সমতল এলাকায় রোপা লাগানো হলেও বর্তমানে রোপাক্ষেত শুকিয়ে গেছে। উচুঁ এলাকায় এখনো রোপা লাগানো সম্ভব হয়নি। পানি না থাকার কারনে, ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট। কিছু এলাকায় রোপা ক্ষেত বাচাঁতে সেচপাম্প দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে।

[৪] উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক মনোরঞ্জন রায় জানান, স্বল্প পানিতে রোপা আমন ধান লাগিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে ক্ষেতের পানি শুকিয়ে গেছে, তাই ক্ষেত বাচাঁতে এখন সেচপাম্প দিয়ে পানি দিচ্ছি।

[৫] বেতগাড়া এলাকার আদর্শ কৃষক রবিউল আলম ভুট্টো জানান, জমিতে পানি না থাকায় এখনো ৫ বিঘা জমিতে রোপা লাগানো সম্ভব হয়নি। অন্যের সেচ পাম্পের পানি প্রতি ঘন্টায় একশত টাকা দিয়ে ক্রয় করে আমন ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। কারন উৎপাদনের চেয়ে দ্বিগুন খরচ হবে। অপরদিকে পানির অভাবে দেড় বিঘা জমির পাট, ক্ষেতেই জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে।

[৬] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আনিছুজ্জামান বলেন, এবারে ১৮ হাজার ৮শত ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হবে। পানির অভাবে যে সব এলাকায় রোপা লাগানো সম্ভব হয়নি, সেইসব এলাকার কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় রোপা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবং খালে পানি ভরাট করে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com