আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন

তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন
তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন

তৈকর আসাম এবং বাংলাদেশের একটি আদি ফল। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। ফলটি স্কার্ভি রোগ নিরাময়ে কাজ করে। এ ফল থেকে আচার, জ্যাম, জেলি তৈরি করা যায়। আসুন জেনে নেই তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন।

মাটি
বেলে দো-আঁশ থেকে পলি দো-আঁশ মাটি তৈকর চাষের জন্য উপযুক্ত। সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের নিকাশযুক্ত অম্লীয় মাটি তৈকর উৎপাদনের জন্য সর্বোত্তম।

সময়
চারা বা গুটি-কলম সাধারণত মধ্য-জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য-ভাদ্র মাসের মধ্যে রোপণ করতে হয়।

তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন
তৈকর চাষের নিয়ম-কানুন

সার
তৈকর চাষের জন্য ১ কেজি ইউরিয়া, ১ কেজি টিএসপি, ১ কেজি এমপি এবং ২০ কেজি পচা গোবর প্রয়োগ করতে হবে। ফল সংগ্রহের পর ২ বারে বর্ষার আগে ও পরে সার প্রয়োগ করতে হবে।

চারা
হেক্টরপ্রতি ২৭৮টি চারা বা গুটি রোপণ করা যাবে।

দূরত্ব
রোপণের সময় অবশ্যই ৬*৬ মিটার দূরত্ব রাখতে হবে।

ফল সংগ্রহ
বছরে সাধারণত দু’বার ফল সংগ্রহ করা যায়। পরিপক্ক অবস্থায় ফলের রং হলদে হয়।

এগ্রোবিজ

কৃষি সরঞ্জাম ও সার আমদানিতে সময় বাড়লো

কৃষি সরঞ্জাম ও সার আমদানিতে অতিরিক্ত আরও ১৮০ দিন সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ঋণপত্র খোলার পর পণ্যগুলো আনতে মোট ১৮০ দিন সময় পেতেন গ্রাহক। কিন্তু করোনার প্রভাব মোকাবিলায় এই সময় বাড়িয়ে ৩৬০ দিন করা হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, কৃষি সরঞ্জাম ও রাসায়নিক সার আমদানির ক্ষেত্রে মোট ৩৬০ দিন সময় পাবেন, সকল অথরাইজড ডিলার। করোনা পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত সময়ের দাবি। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষি উৎপাদন ও বিপণন অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ

করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ও বিপণন অব্যাহত রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এগুলো বাস্তবায়নে বাস্তবায়ন ও পালন করতে অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

দপ্তর-সংস্থাসমূহকে দেওয়া নির্দেশনা গুলো হলো:
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালন করে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। বসতবাড়ির আঙিনাসহ সকল পতিত জমিতে শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য ফসলের চাষ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

২. সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়েও জরুরি পণ্য বিবেচনায় সার, বালাইনাশক, বীজ, সেচযন্ত্রসহ সকল কৃষিযন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টর, রিপার প্রভৃতি),খুচরা যন্ত্রাংশ, সেচযন্ত্রসহ কৃষিযন্ত্রে ব্যবহৃত জ্বালানি (ডিজেল), কৃষিপণ্য আমদানি, বন্দরে খালাসকরণ, দেশের অভ্যন্তরে সর্বত্র পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

৩. ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ ‘সেচ ভবন’ প্রাঙ্গণে কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত নিরাপদ সবজি সরাসরি বিক্রয়ের জন্য স্থাপিত প্রতি শুক্র ও শনিবারের ‘কৃষকের বাজার’-এ আসা কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট কৃষকদের চলাচল অব্যাহত থাকবে।

৪. সকল কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি চলাচল এবং এ সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিদের চলাচল অব্যাহত থাকবে।

৫. আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবাদের লক্ষ্যমাত্র অর্জন নিশ্চিতকরণে সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি, রোপন, সেচসহ অনান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্নকরণ।

৬. কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর দপ্তর-সংস্থা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিজ কর্মস্থলে অবস্থান। কারোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে নিজের এবং কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়ে সময়ে সরকারের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা।

পাশাপাশি, ত্রাণসামগ্রিতে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

রামিন’স ফার্ম: সিডনির বুকে একখণ্ড সবুজ বাংলাদেশ

শৈশবের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমি বেড়ে উঠেছিলাম এমন একটি গ্রামে, যেখানে বিদ্যুৎ বা টেলিভিশন ছিলো না। তাই প্রত্যেকটা দিন ছিল প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। প্রত্যেক দিন সকালে উঠেই বাড়ির বড়দের সাথে ক্ষেতে চলে যেতাম। তারপর সারাদিন ক্ষেতে কাটিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে আসতাম।

মাটির প্রকার অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেতে বিভিন্ন রকমের সবজি আবাদ করা হতো। কোনটাতে উচ্ছে বা পটল বা মরিচ আবার কোনটাতে বাঙ্গি বা তরমুজ বা ধুন্দল। প্রত্যেকটা ক্ষেতই ছিল আলাদাভাবে সুন্দর। বীজ থেকে ছোট গাছ তারপর একসময় ফুল সেখান থেকে ফল। বাংগির ক্ষেতে বাংগি পাকা শুরু করলে অনেক দূর থেকেও সেই ঘ্রাণ পাওয়া যেতো। আর পটলের গাছ হতো পটলের শাখা থেকে। সেটা হাট থেকে কিনে নিয়ে এসে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে মাটিতে লাগানো হতো।

এই প্রত্যেকটা ব্যাপারই ছিলো আমাদের সাদামাটা শৈশবে উত্তেজনার উপকরণ। আর মাঝেমধ্যে আমি নিজে ক্ষেত পাহারা দেওয়া লোকেদের সাথে কুড়ের মধ্যে থাকার বায়না ধরতাম। সেটা ছিল একটা অন্যন্য অভিজ্ঞতা। কুড়ের মধ্যে শুয়ে রুপ কথার গল্প শুনতে শুনতে আর তারা গুণতে গুণতে একসময় গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতাম। এরপর একসময় শহরতলিতে বসবাস শুরু করলেও সেইসব স্মৃতি মস্তিষ্ক খুব সযতনে তুলে রেখেছিলো।

তাই যখন নিজে সন্তানের পিতা হলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই মাথার মধ্যে এমন একটা চিন্তা কাজ করছিলো যে, ওদেরকেও আমার শৈশবের কিঞ্চিৎ হলে সেই ছোঁয়া দিয়ে বড় করবো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে এই ক্ষেত আমি কোথায় পাবো।

আমি যে ক্ষেতের সন্ধান করছি এটা আমার পরিচিত সবাই জানতো। এমনই একজন পরিচিত মানুষ রামিন ফার্মের সন্ধান দিলেন। গিন্নিকে বলার সাথে সাথেই উনি রাজি হয়ে গেলেন। বললেন ভালোই হবে কিছু তরতাজা শাক সবজি কিনে আনা যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। এক শনিবার সকালে তাহিয়া আর রায়ানকে নিয়ে রামিন’স ফার্মে হাজির হলাম। তাহিয়া আর রায়ান খোলা জায়গা পেলেই খুশি হয় তার ওপর এখানে ভাগ ভাগ করে বিভিন্ন প্লটের মধ্যে বিভিন্ন শস্য দেখে খুশিতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলো। আমি পরিচিত হলাম রামিন’স ফার্মের স্বত্তাধীকারি হারুন ভাইয়ের সাথে।

হারুন ভাইয়ের মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগে থাকে ঠিক যেমন বাংলাদেশের কৃষকের মুখে হাসি লেগে থাকে সুখে দুঃখে সারাক্ষণ। হারুন ভাই বাংলাদেশের টাংগাইলের মানুষ। অস্ট্রেলিয়া এসে ইউনিভার্সিটি অব ওলোংগং থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স মাস্টার্স করে পেইন্টার হিসেবে কাজ করেন। শখের বসে ২০১৬ সালে উনি এবং দু’জন বন্ধু মিলে সাড়ে চার একর জমির উপর ফার্মটা শুরু করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার খুবই কম মাটি চাষাবাদের উপযোগী বেশিরভাগ মাটিই পাথুরে।

শুরু করার পর একটা বছর তখন পেরিয়ে গেছে কিন্তু লাভের কোন প্রকার দেখা নেই। উল্টো ঘরের থেকে পয়সা খরচ করে ফার্মের দেখাশোনা করতে হয়। তাই সংগত কারণেই উনার সাথের সবাই ফার্মের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। কিন্তু হারুন ভাই লেগে থাকলেন। কারণ, উনি ফার্মের সময়টা খুবই উপভোগ করেন। তাই ভাবির কষ্ট হলেও হারুন ভাইয়ের এই ব্যাপারটা মেনে নিলেন। অস্ট্রেলিয়াতে সাপ্তাহিক দিনগুলোতে মানুষ এতই ব্যস্ত থাকে যে, নিশ্বাস ফেলার সময় থাকে না। তাই সবাই সপ্তাহান্তের দিনগুলো পরিবার ও বাচ্চাদের সাথে কাটায়। কিন্তু হারুন ভাই সেটা না করে সেই সাত সকালে ক্ষেতে এসে হাজির হোন। ভাবি দুই বাচ্চা নিয়ে হিমসিম খাওয়া শুরু করলেন তার উপর তখন উনার গর্ভে বেড়ে উঠছে উনাদের তৃতীয় সন্তান। তবুও ভাবি দাঁতে দাঁত চেপে হারুন ভাইয়ের সমস্ত পাগলামি মেনে নিয়েছিলেন। হারুন ভাই সেই সকালে অবার্ন থেকে লেপিংটনে ফার্মের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

অবার্ন থেকে লেপিংটনে যেতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ড্রাইভ করতে হয় তবুও উনি হার মানার পাত্র নন। ইতোমধ্যেই উনি পাশে পেয়েছেন আরও কিছু বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যেমন একবার দেশে উনার বাবা অসুস্থ হলে উনাকে বেশ কিছুদিনের জন্য দেশে যেতে হয়েছিল, তখন তারা ক্ষেতে পানি দেয়ার কাজটা করে দিয়েছিল।

তাহিয়াও খুশি হয় কারণ সে আমার সাথে মাঝেমধ্যে ক্ষেতে নামে লাল শাক, পুঁই শাক তুলতে। আমি কেটে দেই আর ও সেটা ওর হাতে ধরা পলিথিনে রাখে। এছাড়াও আমি গ্রামের ছেলে বলে ক্ষেতের মধ্যে আগাছা হিসেবে হওয়া আরো কিছু শাক আবিষ্কার করেছি। যেমন বৈথার শাক, নোনতা শাক ইত্যাদি।

রামিন’স ফার্ম নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। শনিবার এলেই তাহিয়া জিজ্ঞেস করতে থাকে আমরা আজ রামিন’স ফার্মে যাবো কিনা। এর অন্যতম কারণ, রামিন’স ফার্ম সাধারণত শনিবার সকালের সময়টা খোলা থাকে। আপনিও যদি তরতাজা সবজি একেবারে ক্ষেত থেকে সঠিক দামে পেতে চান তাহলে চলে যান লেপিংটনের রামিন’স ফার্মে। রামিন’স ফার্মে যেয়ে আমি বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচত হয়েছি যারা আমাদের মা-বাবার বয়সী। উনারা এসেই ক্ষেতের মধ্যে বসে পড়েন ধুলো ময়লার পরোয়া না করে। দৃশ্যটার মধ্যে এমন একটা অকৃত্রিমতা আছে যে আমি আর চোখ ফেরাতে পারি না।

তবে রামিন’স ফার্মে গেলে ক্ষেতে ঢোকার আগে হারুন ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে নেয়া ভালো কারণ ক্ষেতের মধ্যে আমি বিছুটি গাছ দেখেছি যেটা আপনার গায়ে লাগলে ভয়ংকর চুলকানি শুরু হবে। আর হারুন ভাই বললেন উনি একদিন একটা বড় সাপও দেখেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লটারির মাধ্যমে বোরোধান সংগ্রহের কৃষক নির্বাচন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার তার নিজ কার্যালয়ে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বচনের নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় ,চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে ঘাটাইলের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩৪টি ব্লকের মোট চার হাজার ২০০ জন কৃষকের তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে এক হাজার ৮ শত ২০ জন কৃষক নির্বাচন করা হয়।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) মুহাম্মদ খোরশেদ আলম মাসুদ বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামীকাল রোববার বোরধান সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

এক কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন এবং সর্বনিম্ন ১ মেট্রিক টন ধান দিতে পারবে।

লটারির কার্যক্রম পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোছা: ফারজানা ইয়াসমিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকির হোসেন খান, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এবং ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পরিকল্পনায় ধান-চাল আমদানি

লেখক

পরিকল্পনায় ধান-চাল আমদানি
পরিকল্পনায় ধান-চাল আমদানি

সরকারি দরের চেয়ে খোলা বাজারে দাম বেশি; তাই কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছেন না। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম জোরদার করার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের একাধিকবার নির্দেশনাও দিয়েছে সরকার। এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে চাল আমদানির পরিকল্পনা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত দুই মাসে সারাদেশে মাত্র ৫১ হাজার টন ধান এবং দুই লাখ ২৫ হাজার টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ টন ধান এবং সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের। গত বছর যে দরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বোরো ধান ও চাল কিনেছিল সরকার এবারও সেই দরেই কিনছে। গত বছরের তুলনায় করোনা সংকটের কারণে এবার কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে খোলা বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় সরকারি গুদামে ধান-চাল বিক্রি করছেন না কৃষক। চলতি বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে সাড়ে ১১ লাখ টন চাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এবারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বছরও একই দরে ধান-চাল কেনা হয়েছিল। এমনকি গমের দামও এবার একই রাখা হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও ২৮ টাকা কেজি দরেই গম সংগ্রহ করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২৪ জুনের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে সারাদেশে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৫১ হাজার টন। আর চাল (সিদ্ধ) সংগ্রহ হয়েছে দুই লাখ এক হাজার ৮৮৫ এবং আতপ চাল ২৩ হাজার ৮৫০ টন। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাদ্যমন্ত্রী একাধিকবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগ্রহের গতি বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব লায়েক আলী সমকালকে বলেন, ২৬ টাকায় ধান কিনে ৩৬ টাকায় চাল বিক্রি করতে পারছি না। এতে প্রতি কেজি চালে চার থেকে পাঁচ টাকা লোকসান হচ্ছে। সরকারকে এভাবে চাল দিতে গেলে মিল বিক্রি করে দিতে হবে। তাই জেল-জরিমানা দিলেও সরকারের কাছে এ দামে চাল দিতে পারব না। তিনি জানান, এ সমস্যার সমাধানের জন্য যেসব মিল মালিক পুরো চাল সরকারকে দেবে তাদের প্রতি কেজিতে চার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, বোরো সংগ্রহের গতি বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। ধান-চালের দাম কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমেও একই দাম ছিল। তখন তারা দিতে পেরেছেন- এখন কেন পারবেন না। এ ছাড়া চালকল মালিকদের সঙ্গে যখন চুক্তি করা হয় তখন তারা কিছুই বলেননি। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যখন রেজুলেশন হয়ে আসে তখনও তারা দাম বাড়নোর দাবি করেননি। এখন দুই মাস পর যখন আড়াই লাখ টন চাল কেনা হয়ে গেছে তখন তারা দাম বৃদ্ধির দাবি করছেন। এ দাবি অযৌক্তিক। এখন সরকার চালের দাম দুই টাকা বাড়ালে বাজারে দশ টাকা বেড়ে যাবে। তখন চালের বাজার সামাল দেওয়া কঠিন হবে। চালকল মালিকরা যদি সিন্ডিকেট করে তাহলে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চাল আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মিল মালিকরা চুক্তি অনুযায়ী চাল না দেওয়ায় ২০১৭ সালের মতো বিদেশ থেকে চাল সংগ্রহের চিন্তা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, কৃষকরা এবার ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন। খোলা বাজারেও ধানের দাম বেশি। আর সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো- কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং চালের দাম সহনীয় রাখা।

ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাস সমকালকে বলেন, কৃষক এবার খোলা বাজারেই ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলে সরকারের কাছে চাল বিক্রি করছেন না। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। একই সঙ্গে আবহাওয়াও প্রতিকূল থাকায় শ্রমিক পাওয়া যায়নি। তাই ধান ও চাল সংগ্রহ কম হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবার বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার টন। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৩৭৭ টন। সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার টন। শেষ পর্যন্ত পুরো চালই সংগ্রহ করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেহেতু মিল মালিকরা চুক্তি করেছেন তাই তারা সরকারকে চাল দিতে বাধ্য। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা যাবে না। দশজনের বেশি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি-ফুড) ধান-চাল সংগ্রহের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সমকালকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এবং সরকারি গুদামে মজুদ কমে গেলে ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের বাজার অস্থির করে তুলতে পারেন। ২০১৭ সালে খাদ্য মজুদ মাত্র দেড় লাখ টনে নেমে এসেছিল।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ জুন পর্যন্ত সরকারের গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১২ লাখ টন। গত বছর এই সময়ে মজুদ ছিল প্রায় ১৬ লাখ টন। প্রতিবছর জুন মাসে বোরো সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি হয়। অতীতের তুলনায় এবার সবচেয়ে কম হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও জুলাই-আগস্ট বর্ষাকাল হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

হাওরের উপজেলা মিঠামইনের চারিগ্রামের কৃষক জিয়ারুল মিয়া ও ইটনার মোশারফ হোসেন সমকালকে জানান, সরকারের গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা থাকতে হয়। প্রতি মণে দাম পাওয়া যায় ১০৪০ টাকা। এ ছাড়া সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে নানা ধরনের ভোগান্তিও হয়। অথচ খোলা বাজারে ধান বিক্রি করতে নির্দিষ্ট কোনো আর্দ্রতা লাগে না। প্রতি মণের দাম পাওয়া যায় ৯৮০ টাকা থেকে ১০৫০ টাকা পর্যন্ত।

জানা যায়, ধান-চালের সংগ্রহ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনলাইন বৈঠক করছেন খাদ্যমন্ত্রী ও সচিব। বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। কর্মকর্তারা চেষ্টা করলেও কৃষক সরকারের গুদামে ধান বিক্রি করছেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com