আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণ

মাছ বাঙালি জাতির সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অংশ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টিচাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪.৭৩ শতাংশ মৎস্য উপখাতের অবদান এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশের বেশি অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের মানুষ গড়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ বর্তমানে গ্রহণ করছে।

আর এই প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। এবার ২৮ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ শুরু হচ্ছে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক এটি পালন করা হবে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য উপখাতের অবদান অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়। বিগত ২০০৮ সালে মৎস্য উপখাতে গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.০ শতাংশ। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ৬ শতাংশ। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ আসে মৎস্য উপখাত থেকে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জিতব্য নির্দিষ্ট আটটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে মৎস্য উপখাতকে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দরিদ্রবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে মৎস্য উপখাতের, বিশেষ করে মাছচাষ সম্প্রসারণ ও মুক্ত জলাশয়ে মৎস্যস¤পদের জৈবিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দরিদ্রবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে বর্তমান বেকারসংখ্যা ২০২১ সালের মধ্যে ১.৫ কোটিতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বর্তমান দারিদ্র্যসীমার হার ২০ শতাংশ ও চরম দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মৎস্য উপখাত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ পানিসম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পুকুর-দিঘি, ডোবা-নালা, নদ-নদী, খাল-বিল ও বাঁওড়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে রয়েছে বিশাল হাওর এলাকা যা আমাদের মৎস্যসম্পদের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে ৩ দশমিক ০৫ লাখ হেক্টর আয়তনের প্রায় ১৩ লাখ পুকুর-দিঘি রয়েছে। দেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নদ-নদীর আয়তন প্রায় ১০ দশমিক ৩২ লাখ হেক্টর। এ ছাড়া রয়েছে ১ দশমিক ১৪ লাখ হেক্টর জলায়তনের প্রায় ১১ হাজার বিল, ৫ হাজার ৪৮৮ হেক্টর আয়তনের বাঁওড়, ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর কাপ্তাই হ্রদ, প্রায় ২.০০ লাখ হেক্টর সুন্দরবন খাড়ি অঞ্চল এবং ২৮ দশমিক ৩০ লাখ হেক্টরের বিশাল প্লাবনভূমি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দশকে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৫ গুণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মাছ নিয়ে তাদের ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২০’ শিরোনামে প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলেছে, স্বাদু পানির উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। দেশে উৎপাদিত মাছের ৭৫ শতাংশ এখন বাজারজাত করছেন মৎস্যচাষিরা। এ ছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ২৪ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে মাছ উৎপাদনে রের্কড সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে মাছের উৎপাদন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ লাখ ৮১ হাজার টন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গিয়ে দাঁড়াবে ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাছাড়া গবেষণার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ এখন চাষ করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া মাছ চাষ হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিভাবেও। এ ছাড়া মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এখন ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে রোল মডেল। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে; বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৮-২০০৯ সালে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ সালে ৫ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১২ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। এছাড়া গত ২০১৬ সালে ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইলিশের স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশের। এটা জাতির জন্য গৌরবের। বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ড ও বেকারত্ব নিরসনে মৎস্য খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে মাছ চাষ ও ব্যবসায় দুই কোটির কাছাকাছি মানুষ যুক্ত আছেন।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে মানুষের মাছ খাওয়া বেড়েছে ১২২ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বের সাতটি দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অর্ধেকের বেশি আসে মাছ থেকে। বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৫৮ শতাংশ আসে মাছ থেকে। আর বিশ্বে গড়ে প্রাণিজ আমিষের শতকরা ২০ শতাংশ আসে কেবল মাত্র মাছ থেকে। এদিকে গত ১০ বছরে দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ প্রায় শতভাগ বেড়েছে। ২০১০ সালের সর্বশেষ খানা জরিপে উঠে এসেছে- বছরে বাংলাদেশে একেকজন মানুষ প্রায় ১২ কেজি মাছ খেত। এখন সেটা ৩০ কেজিতে পৌঁছেছে। দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিডিপিতে কৃষির অবদান কমলেও মৎস্য উপখাতের অবদান কিছুটা বেড়েছে। মোট জিডিপিতে মৎস্য উপখাতের অবদান ২০১৬-১৭ সালে ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। তা কিছুটা কমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে গত অর্থবছরে মৎস্য উপখাতের অবদান কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে টাকার অংকে মৎস্য উপখাত থেকে জিডিপিতে যুক্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৭৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এই খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন মূলত আহরণ নির্ভর। উপকূলব্যাপী ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ তটরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ১ দশমিক ৬৬ লাখ বর্গ কি.মি. বিস্তৃত বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসম্পদে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছ রয়েছে। বর্তমানে বঙ্গোপসাগর হতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রল ফিশিং এবং আর্টিসেনাল মৎস্য আহরণের মাধ্যমে মোট ৪ দশমিক ৩৯ লাখ মে. টন মৎস্য আহরণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদের মতো সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৎস্যজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযানে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত প্রায় ২ দশমিক ৭০ লাখ মৎস্যজীবীর পরিবারের ন্যূনতম ১৩ দশমিক ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে উপকূলীয় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার শুভ সূচনা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘মাছ হবে এ দেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে মৎস্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ও পুষ্টি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হচ্ছে।

মৎস্য

পিরোজপুর বাজারে ৩ কেজি ওজনের ইলিশ

লেখক

পিরোজপুরের বাজারে তিন কেজি ওজনের ইলিশ মাছ উঠেছে। শনিবার পৌর শহরের বাজারে মাছ ব্যবসায়ী আমিনুল তিন কেজি ওজনের এ মাছটির দাম চেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী আমিনুর জানান, তিনি পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর থেকে ইলিশ মাছের লট কিনেছেন। সেই লটের মধ্যেই একটি তিন কেজি ওজনের মাছ পেয়েছেন। মাছটি বিক্রির জন্য প্রতি কেজি ১৮০০ টাকা হিসেবে দাম ধরেছেন ৫ হাজার ৪০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, এসব মাছ সাগরে ধরা হয়েছে।

বড় আকৃতি এবং বেশি ওজনের মাছটি দেখতে পৌর বাজারে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন

লেখক

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতের কোন এক সময় পৌরসভার নওয়ানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নাজমা বেগমের প্রায় দেড় বিঘা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।  পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।


নাজমা বেগম জানান, সপ্তাহ খানেক আগে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় জুয়া খেলার অপরাধে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ জেল হাজতে পাঠায়। তিনি বলেন, তারা মনে করেছে আমি থানায় খবর দেওয়ায় পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গেছে। এ কারণে জেল থেকে বের হয়ে ওই ব্যক্তিরা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

নাজমা বেগম আরও বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুকুরে পানির শব্দ পেয়ে জানালা খুলতেই এলাকার লিটন, শাহীন, নুর আলম, শফিকুল, মঞ্জুকে পুকুরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখি। তাদের আচরণ ছিল সন্দেহজনক।  সকালে ঘুম থেকে উঠে সারা পুকুরে মরা মাছ ভাসতে দেখি।

তিনি জানান, পুকুরে বিষ দেওয়ায় তার প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সাঁথিয়া থানার ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ইলিশ আসবে আগামী পূর্ণিমায়

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি, বর্ষা পেরিয়ে শরৎ এসেছে। সাধারণত বছরের এ সময়ে দেশের বাজারে ইলিশের জোগান বেড়ে যায়। এতে ব্যাপক হারে দাম কমে। আর ইলিশের জন্য ভোক্তাদের চাহিদাও থাকে বেশি। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন রকমের। যেমন গত বুধবার রাজধানীর অন্যতম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গুটিকয়েক বিক্রেতা অল্প কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন, ক্রেতাও খুব কম। মাঝেমধ্যে দু-একজন ক্রেতা এলেও চড়া দাম শুনেই চলে যান।

কারওয়ান বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এ ধরনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকার ওপরে। রাজধানীর অন্য বড় বাজারগুলোর মধ্যে মালিবাগ, শান্তিনগর ও তেজগাঁওয়ের কলমিলতা মার্কেটে বড় ইলিশের কেজি দেড় হাজার টাকার ওপরে। ১ কেজির নিচে, অর্থাৎ ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ৯০০ টাকা। খুচরা বাজারে সেই মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিজ্ঞাপন

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাজারে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ইলিশের দাম ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

মগবাজার এলাকার বাসিন্দা রীতা হালদার গত বুধবার সকালে কারওয়ান বাজারে পাইকারি দামে ইলিশ কিনতে এসেছিলেন। এই দোকানে, ওই দোকানে অনেকক্ষণ ঘোরাফেরা করলেও কাঙ্ক্ষিত দামে আর ইলিশ কেনা হয়নি তাঁর। অগত্যা অন্য মাছ কিনে বাসায় ফিরলেন। যাওয়ার সময় বললেন, ইলিশের দাম এক সপ্তাহ আগেও কিছুটা কম ছিল। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় আর প্রিয় মাছটি কেনা যাচ্ছে না।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাজারে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ইলিশের দাম ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সুমন ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, গত বছর এ সময়ে খুচরা পর্যায়ে ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর ১ কেজির কম ওজনের ইলিশের দাম ছিল ৬০০ টাকার মতো।বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু ঢাকার পাইকারি বাজারই নয়, দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশের বাজার (ল্যান্ডিং স্টেশন) চাঁদপুর বড় স্টেশনের মাছঘাটেও এবার ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি। বুধবার সেখানেও প্রতি মণ ইলিশ ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে ১ কেজি ইলিশের দাম পড়ে ১ হাজার ১৫০ টাকা।

জানতে চাইলে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত বছরের এ সময়ে চাঁদপুরে দৈনিক চার হাজার মণ ইলিশ ওঠে। কিন্তু এ বছর দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ মণের বেশি ইলিশ উঠছে না।

দেশে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ইলিশ উৎপাদিত হয়েছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

দেশে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ইলিশ উৎপাদিত হয়েছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন বেশি। এখন পর্যন্ত মাছের জোগান তুলনামূলক কম হলেও মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে, এবার ইলিশের উৎপাদন বিগত বছরগুলোর চেয়ে বেশি হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিস রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ মুহূর্তে ইলিশের উৎপাদন কম থাকার কারণ হচ্ছে এটি পূর্ণিমা ও অমাবস্যার মাঝামাঝি সময়। তাই এখন তুলনামূলক কম মাছ ধরা পড়ছে। তবে ২১ সেপ্টেম্বর একটি পূর্ণিমা রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, তখন ইলিশ আহরণ বাড়বে এবং বাজারেও দাম কমে আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে জলমহালে মাছ শিকার

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালটির ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে দেড় মাস ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এ ছাড়া জলমহালটির সীমানার বাইরেও স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পাঁচটি গ্রামের তিন শতাধিক জেলে পরিবার বিপাকে পড়েছে।

উপজেলার সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাসুদ মিয়ার নির্দেশে বেআইনিভাবে এ মাছ শিকার চলছে। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের জানিয়ারচর গ্রামের সামনে কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালটির অবস্থান। এটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। এর আয়তন ৬১ একর ৩৪ শতক। ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল) থেকে ৫ বছরের জন্য সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এই জলমহাল ইজারা পায়। এ জন্য তাদের বছরে ১২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সুখাইড় শাপলা সমিতি এ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি।

জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালে ইজারা মূল্যের একটি টাকাও এখনো ইজারাদার পরিশোধ করেনি। পাওনা পরিশোধের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলেন, ইজারা মূল্য পরিশোধ না করেই আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওই সমিতির লোকজন জলমহালটি নিয়ন্ত্রণে নেন। সমিতির লোকজন বাঁশ ও গাছের ডালপালা ভেঙে ফেলেন এবং তিনজন পাহারাদার নিয়োগ করেন। দেড় মাস ধরে সেখানে মাছ শিকার চলছে। আশপাশের রাজধরপুর, জানিয়ারচর, দেওলা, মহদীপুর ও কুড়ের পাড়—এই পাঁচ গ্রামের তিন শতাধিক জেলে এ জলমহালের ওপর নির্ভরশীল। এ জলমহালের সীমানার বাইরে মাছ শিকার করতে গেলেও ইজারাদারের লোকজন তাঁদের বাধা দিচ্ছেন।

মহদীপুর ও রাজধরপুর গ্রামের তিনজন জেলে বলেন, সমিতির সভাপতি মাসুদ মিয়ার লোকজন দেড় মাস ধরে খনা জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে জলমহালটি থেকে এই পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করিয়েছেন। এ ছাড়া জলমহালের নিয়োজিত পাহারাদারেরা তাঁদের জলমহালের সীমানার বাইরেও মাছ ধরতে দিচ্ছেন না।

জলমহালের ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। জলমহালের কোনো অংশ কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না।

মো. মুনতাসির হাসান, ইউএনও, ধরমপাশা

জেলেরা অভিযোগ করেন, জলমহালের কোনো অংশ বিক্রি করার নিয়ম না থাকলেও দুরগুল্লা (একটি বড় ডোবা) অংশটি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জানিয়ারচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা শিগগিরই এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, জলমহালটি যারা ইজারা পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে তিনি কাঞ্জার দুরগুল্লা অংশটি কিনেছেন। জলমহাল নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সমিতির লোকজন তাঁর টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাসুদ মিয়া বলেন, তাঁরা মাছ শিকার করছেন না। জলমহালের সীমানায় যাতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। সীমানার বাইরে কাউকে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আর তিনি কারও কাছে জলমহালটির কোনো অংশ বিক্রি করেননি। জলমহালটির খাজনা পরিশোধের জন্য তিনি দুটি চিঠি পেয়েছেন। কিন্তু সমিতির আর্থিক সমস্যা থাকায় জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না।বিজ্ঞাপন

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, জলমহালের ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। জলমহালের কোনো অংশ কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না। এটি জলমহালের নীতিমালা পরিপন্থী। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজন কুমার সিংহ বলেন, যেসব জলমহালের ইজারা মূল্য এখনো পরিশোধ করা হয়নি, সেগুলোর ইজারা বাতিল করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

নাটোরে লাখ টাকা হাঁকানো বাগাড়–বোয়াল ৫০ হাজারে বিক্রি

নাটোরের চালপট্টি হঠাৎ যেন হয়ে উঠল মাছের বাজার। গতকাল বুধবার রাতে শহরের চালপট্টিতে চারটি বড় মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দুজন। আর এতেই সেখানে মাছ কেনাবেচার ধুম পড়ে যায়। এর মধ্যে ছিল ৩০ কেজি ওজনের একটি বাগাড় ও ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ৩টি বোয়াল মাছ।বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা থেকে আসা মাছ বিক্রেতা মহির ব্যাপারী বাগাড় মাছটির দাম হাঁকেন ৪৮ হাজার টাকা। আর ৩টি বোয়ালের দাম হাঁকেন ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চারটি মাছের দাম লাখ টাকা। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ক্রেতাদের সাড়া পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক দামে মাছগুলো বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।

মহির ব্যাপারী জানান, গাইবান্ধায় যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছিল মাছগুলো। সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে মাছগুলো কিনে রাজশাহীতে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু বেহাল রাস্তার কারণে বগুড়া থেকে নাটোর আসতেই রাত হয়ে যায় তাঁদের। তাই মাঝপথে থেমে নাটোরের বাজারে মাছগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, চাল ব্যবসায়ীদের কাছে মাছগুলো বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু লাখ টাকার মাছ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাঁদের কিছুটা লোকসান হয়, তবে সব মাছ বিক্রি করতে পেরে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছেন।

এদিকে বোয়াল মাছের ক্রেতা মোক্তার আলী জানান, বাজারে হঠাৎ মানুষের ভিড় দেখে তিনিও মাছ দেখতে আসেন। বড় মাছের স্বাদ নিতে শখ করেই তিনি একটি বোয়াল মাছের কিছু অংশ কিনেছেন। দামেও অনেক সস্তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com