আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

তরুণ বিজ্ঞানীর অটো ড্রেন ক্লিনার বাঁচাবে সময়-টাকা

নগরায়ণের এই সময়ে শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা প্রধান কাজ। একদিকে কোটি মানুষের শহরে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে হিমশিম খেতে হয়, অন্যদিকে বাসিন্দাদের অসদিচ্ছা আর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অক্ষমতায় বন্ধ হয়ে যায় ড্রেন। এতে স্থবির হয়ে পড়ে পয়োনিষ্কাশন প্রণালী, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

এসব অবস্থা থেকে বাঁচতে ‘অটো ড্রেন ক্লিনার’ উদ্ভাবন করেছেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মধ্যম পাংশা গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক ওবায়েদুল ইসলাম।

তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রেন পরিষ্কার হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ড্রেনের ময়লা ও পানি আলাদা হয়ে পানি চলে যাবে নদী বা খালে। এছাড়াও মানব সৃষ্ট আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে জমা হবে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, অটো ড্রেন ক্লিনার পদ্ধতিতে শহরের ড্রেন পরিষ্কার করতে একজন জনবলেরও দরকার হবে না। আর পুরো প্রকল্পটি চলবে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

ওবায়েদুল ইসলাম বলেন, অটো ড্রেন ক্লিনার হচ্ছে একটি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার মডেল প্রযুক্তি। এটি বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন হলে নগর কর্তৃপক্ষ পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ব্যয় কমবে। লোকবলের দরকার হবে না। সেই শ্রমশক্তি অন্যত্র ব্যবহার করে সমৃদ্ধি আনতে পারবে। পাশাপাশি সময় মতো প্রতিদিন ড্রেন পরিস্কার হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

অটো ড্রেন ক্লিনার হচ্ছে সেন্সর নির্ভর এবং মাইক্রো প্রসেসর নিয়ন্ত্রিত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতির সেন্সরের কাজ ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার স্তর শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই স্তর ভেঙে দিয়ে প্রেসার পাম্পের মাধ্যমে পানির গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত দূরত্বে ময়লা-আবর্জনা পৌঁছে দেয়া। ওবায়েদুল ইসলাম

ওবায়েদুল ইসলামসর্বশেষ সেন্সরটি থাকবে ড্রেনের ‘বর্হিগমন’ পয়েন্টে। সেখানে ড্রেনের পানি নদী/খালে নির্গমন না হয়ে যদি উল্টো প্রবেশ করে তাহলে বর্হিগমন পয়েন্টের সেন্সর সক্রিয় হয়ে নদী বা খালের পানির স্তর ড্রেনের পানির স্তরের নিচে না নেমে আসা অবধি পুরো প্রক্রিয়াটি নিষ্ক্রিয় করে রাখবে।

তরুণ এই উদ্ভাবক উদাহরণ টেনে বলেন, শহরের ময়লা-আবর্জনা ড্রেনের নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে ফেলা হলে ড্রেনের পানির স্বাভাবিক গতির সঙ্গে মিশে একটি নির্ধারিত দূরত্বে গিয়ে জমাট বাঁধতে থাকবে। আমি আগেই বলেছি, ড্রেনটির পরিমাপের ওপর নির্ভর করে চার স্তরে চারটি সেন্সর স্থাপন করতে হবে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা যদি প্রথম স্তর পর্যন্ত জমাট বাধে তাহলে সেন্সরের সিগন্যালের মাধ্যমে প্রথমে প্রেসার পাম্পটি চালু হয়ে ময়লা-আবর্জনার জমাট বাধা অংশের ওপর প্রবল গতিতে পানি ছুড়ে তা ভেঙে দেবে।

ড্রেনের স্বাভাবিক পানি ও প্রেসার পাম্পের ছোড়া পানি মিলে ময়লা-আবর্জনা নির্গমন মুখের দিকে স্রোতে ভেসে যাবে। পানি প্রবাহের গতি কমে গিয়ে যেখানে দ্বিতীয় স্তর গড়ে তুলবে সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় সেন্সরের সিগন্যালে প্রেসার পাম্প চালু হয়ে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে দিবে। এভাবে ড্রেনের বর্হিগমন পয়েন্ট পর্যন্ত ময়লা আবর্জনা পানি প্রবাহের মাধ্যমে পৌঁছে দিবে সেন্সর ও প্রেসার পাম্প।

বর্হিগমনে বিশেষ পদ্ধতিতে ‘ছাকনি’ স্থাপন করা থাকবে যেন ময়লা-আবর্জনা আটকে থাকবে আর পানি নদী/খালে পতিত হবে।

ওবায়েদুল ইসলাম বলেন, প্রেসার পাম্প ও সেন্সর চালু রাখতে বিদ্যুৎ কোথায় পাবো? এর সহজ উত্তর হচ্ছে পুরো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে অবশ্যই সৌর প্যানেল স্থাপন করতে হবে। এছাড়া প্রেসার পাম্পের জন্য পানি সরবারহ করতে হবে নদী অথবা খালের তলদেশ থেকে পাইপের মাধ্যমে সমান গভীরতার কূপে পানি নিয়ে। তার মতে, একটি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হলে সেই শহরটি দিনে দিনে বসবাসের উপযোগীতা হারায়। বিশ্বায়নের যুগে মানুষের ব্যস্ততা ও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে শ্রমিক দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করা অগ্রসরমান কোনো প্রক্রিয়া নয় বরং শহরের আয়ুষ্কাল কমিয়ে দিচ্ছে।

লেখাপড়ার সুবাদে খুলনা শহরে আমি দীর্ঘদিন থেকেছি। সেখানে দেখেছি নগর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করান। শ্রমিকরা ড্রেনের ময়লা তুলে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের সামনে সুবিধামতো স্থানে সড়কের ওপরেই রাখেন। এতে করে প্রচুর রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে শহরে। এইসব নোংরা আবর্জনায় যেসব মাছি বসে সেগুলো উড়ে গিয়ে যে কারো খাবারের প্লেটে বসে রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। নগর কর্তৃপক্ষ ভালো কাজ করলেও সেকেলে পদ্ধতিতে নগর পরিষ্কার করায় নগরবাসীর উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।

তিনি বলেন, বছরখানেক আগে একদিন দেখি ড্রেনের ময়লা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তুলে শহরের রাস্তায় উন্মুক্ত স্থানে রেখে যাচ্ছেন। সেই পথ দিয়ে রিকশায় করে এক যাত্রী যাচ্ছিলেন। তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পড়ে গেলেন ময়লা-আবর্জনার মধ্যে। তখনই মাথায় চিন্তা এলো একটি শহরের প্রাণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায়। এরপরই মূলত পযার্য়ক্রমে অটো ড্রেন ক্লিনার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করি।

করোনা আমার জন্য এক ধরনের ভালো সময় কারণ, এই সময়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একাডেমিক লেখাপড়ার চাপ ছিল না। দিনে দিনে অটো ড্রেন ক্লিনার নিয়ে চিন্তার ও কাজের সময় পেয়েছি।

ওবায়েদুল ইসলাম বলেন, আমার আসলে পিতার পরিচয় নেই এবং নিজের কোনো বাড়ি নেই, থাকি মামার বাড়িতে। আমার জন্মের পর মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আমার মা আমাকে নিয়ে এসে ওঠেন মামার বাড়ি। আমার লেখাপড়া সবকিছুর ভরণ-পোষণ দিয়েছেন মামা। তিনি অটো ড্রেন ক্লিনার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সমস্ত সাহস ও অর্থ দিয়েছেন।ওবায়েদুল ইসলাম

ওবায়েদুল ইসলামওবায়েদুল বলেন, গত এক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে অটো ড্রেন ক্লিনার প্রযুক্তি ডেভেলপের জন্য কাজ করছি। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

আমি বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি বিভাগের জেনারেল মেকানিক্স ট্রেড থেকে এসএসসি ভোকেশনাল এবং খুলনার ম্যানগ্রোভ ইন্সটিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। 

ওবায়েদুল ইসলামের মামা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল জলিল শরীফ বলেন, আমার ভাগ্নে অনেক পরিশ্রম ও গবেষণা করে এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। আমি মনে করি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে শহর পরিষ্কার রাখতে জনবলের দরকার হবে না, অর্থ বাঁচবে এবং পরিচ্ছন্ন থাকবে শহর। তিনি ওবায়েদুল ইসলামের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য নগর কর্তৃপক্ষকে বিবেচনার আহ্বান জানান।

ওবায়েদুল ইসলামের মা ছালেহা বেগম বলেন, আমার একটিমাত্র ছেলে। খুব পরিশ্রম করে লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমার ইচ্ছা, ছেলে যেন দেশবাসীর সেবা করতে পারে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে। সরকারের কাছে তিনি সাহায্যের আবেদন করে বলেন, তার ছেলের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি উপযুক্ত কিনা তা বিবেচনা করে দেখুন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

করোনায় আবারও মৃত্যু-শনাক্ত বেড়েছে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আবারও মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ হাজার ৫৯৮ জন। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯২৮ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৬ জন।

বুধবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে আটটায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিশ্বজুড়ে করোনায় ৬ হাজার ৮৩৪ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ৭ হাজার ২৫২ জন। সেই হিসেবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ হাজার ৭৬৪ মৃত্যু এবং সাড়ে ৭৭ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত মোট ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫ হাজার ৩৯৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারা গেছেন ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫ জন। আর এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯১৮ জন।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবার ওপরে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫ জনের। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭১৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ৭০১ জন।

jagonews24

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৯৬ লাখ ৩২ হাজার ২৬১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬০১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৩৪ জন।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ১৬৪ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৫৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৬ জন।

jagonews24

তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, পঞ্চম স্থানে তুরস্ক, ষষ্ঠ স্থানে রাশিয়া, সপ্তম যুক্তরাজ্য, অষ্টম ইতালি, নবম আর্জেন্টিনা এবং দশম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩২তম। দেশে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারা গেছেন ১৩ হাজার ২২২ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৩ জন।

jagonews24

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

মক্কা-মদিনায় কুরবানি করার সুবর্ণ সুযোগ!

হারামাইন উইথ কুরবানি’ শিরোনামে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় কুরবানি করার সুর্বণ সুযোগ নিয়ে এসেছে qurbani.haramain.com কুরবানি ডট হারামাইন ডটকম। মক্কা-মদিনায় না গিয়েও এ সংস্থার সাহায্যে সহজে কুরবানি সম্পাদনের সুযোগ পাচ্ছেন মুসলিম উম্মাহ। দীর্ঘ ১১ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ওয়েবসাইটে কুরবানির যাবতীয় নিয়ম-কানুন তুলে ধরেছে।

মুসলিম বিশ্বের যেসব লোক নিজ নিজ দেশে অবস্থান করে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় পশু কুরবানি করাতে চায়, তাদের জন্য এ সংস্থাটি একদল দক্ষ কর্মীর তত্ত্বাবধানে কুরবানির যাবতীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পাদন করে থাকেন।

২০২১ সাল তথা ১৪৪২ হিজরি কুরবানি কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। ৩ ক্যাটাগরিতে কুরবানি সুযোগ দিচ্ছে এ সংস্থা। কুরবানি দাতা চাহিদামতো ক্যাটাগরিতে ২৫৯ ইউএস ডলার খরচে কুরবানি সম্পন্ন করতে পরবেন।

মক্কা-মদিনায় কুরবানি সম্পাদন করাতে চাইলে qurbani.haramain.com-এর মাধ্যমে কুরবানি সম্পাদন করতে পারবেন।

jagonews24

উল্লেখ্য পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক কুরবানির স্থান মিনা প্রান্তরে অনেকেরই কুরবানি সম্পাদন করার স্বপ্ন থাকে। সে স্বপ্ন পূরণে এ সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। কুরবানির জন্য বুকিং দেওয়ার সময় কুরবানি থেকে শুরু করে কুরবানি সম্পন্ন হওয়া এবং কুরবানির গোশত বণ্টনসহ কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করার যাবতীয় সুযোগ রয়েছে।

আত্মত্যাগের অনন্য ইবাদত কুরবানির বিধান সর্বপ্রথম পবিত্র নগরী মক্কার মিনা প্রান্তরেই বাস্তবায়ন করেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি নিজ ছেলে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার এ নির্দেশ পালন করেন। আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আত্মত্যাগের বিধান বাস্তবায়নে এ কুরবানি কবুল করেন।

মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর হজের মাস জিলহজের ১০ তারিখ আল্লাহর জন্য পশু জবাইয়ের মাধ্যমে এ কুরবানি সম্পাদন করেন।

মুসলিম উম্মাহর সেই আবেগ ও দরদ থেকেই কুরবানির শহর ‘মিনা’ প্রান্তর তথা মক্কা এবং পবিত্র নগরী মদিনায় কুরবানি সম্পন্ন করার স্বপ্ন পূরণ করে যাচ্ছে qurbani.haramain.com সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ফি গ্রহণের মাধ্যমে এ কুরবানি সম্পন্ন করার পর পশুর গোশত স্থানীয় ও বিশ্বের অনেক গরিব-অসহায় ও দারিদ্র প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোতে একযোগে বিপর্যয়

বিশ্বের প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যমসহ গুরুত্বপূর্ণ একঝাঁক ওয়েবসাইটে হঠাৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে প্রায় সারাবিশ্বেই এসব ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট অ্যাপে সমস্যা দেখা দেয়।

হঠাৎ করে ‘ডাউন’ হয়ে যাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, সিএনএন, ব্লুমবার্গ নিউজ প্রভৃতি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

ফ্রান্সের লে মন্দ সংবাদপত্র জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে ‘এরর’ দেখাচ্ছিল।

গণমাধ্যম ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম খুচরাপণ্য বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনের ওয়েবসাইটেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের আরও কয়েকটি গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটেও এদিন লোডিংয়ে ঝামেলা হয়েছে।

বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েবসাইটে সাময়িকভাবে ঢোকা যাচ্ছিল না।

‘ডাউন’ ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রধান ওয়েবসাইটও। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে ‘এরর মেসেজ’।

অবশ্য এগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ফের সক্রিয় হয়েছে। এর আগে সেখানে ঢুকতে গেলেই ‘এরর ৫০৩ সার্ভিস আনঅ্যাভেইলঅ্যাবল’-এর মতো বার্তা দেখা যাচ্ছিল।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এসব ওয়েবসাইটে একযোগে সমস্যা দেখা দেয়ার কারণ কী তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

বিশ্বব্যাপী সঠিক বিতরণ না হলে নষ্ট হবে টিকা: ইউনিসেফ

ধনী দেশগুলো যদি টিকার সঠিক বিতরণ না করে তাহলে কয়েক মিলিয়ন ডোজ টিকা নষ্ট হবে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল সংস্থা ইউনিসেফ। দাতব্য স্থাংস্থাটি বলছে, জনসংখ্যার বিচারে ভ্যাকসিনের বণ্টন খুবই জরুরি। ধনী দেশগুলো নিজেদের চাহিদার তুলনায় বহুগুণ ভ্যাকসিন মজুত করে রেখেছে। ফলে তুলনামূলক গরিব দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন পাচ্ছে না।

এছাড়া ধনী দেশগুলো টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আগাম টিকা চেয়ে রেখেছে। যুক্তরাজ্যসহ আরও কিছু দেশ টিকা বিতরণের যে প্রতিজ্ঞা করে রেখেছে তা এখনই পালন করা উচিত। কারণ বহু গরিব দেশে টিকার সঙ্কট রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যসহ জি ৭ ভুক্ত দেশগুলোকে আগামী আগস্টের মধ্যে ২০ শতাংশ টিকা গরিব দেশগুলোতে বিতরণের তাগিদ দেন কয়েকজন বিশ্ব তারকা। বিলি আইলিশ, ডেভিড বেকহাম ও প্রিয়াংকা চোপড়াসহ বেশ কয়েকজন সুপার স্টার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই আহ্বান জানানো হয়। চিঠিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন, অ্যান্ডি মারে, অলিভিয়া কোলম্যান, কেটি পেরি, ওরলান্ডো ব্লুমের মতো তারকারা।

jagonews24

চিঠিতে তারকারা উল্লেখ করেছেন, ইউনিসেফ গরিব দেশগুলোর জন্য টিকা সরবরাহ করছে। এখনও ১৯০ মিলিয়ন টিকার সঙ্কট রয়েছে। ধনী দেশগুলোকে এ টিকা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। ডেভিড বেকহাম বলেন, পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে যদি মহামারি থেকে যায় তাহলে পুরো পৃথিবী মহামারিমুক্ত হয়েছে তা বলা যাবে না।

ইউনিসেফের ভ্যাকসিন বিষয়ক প্রধান লিলি চাপরানি বলেন, এখন ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনার সময় এসেছে। তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ তথা অঞ্চলের কথাও ভাবতে হবে।

ইউনিসেফের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, গরিব দেশগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে এখনই। সেখানে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়াতে হবে। দেশগুলোতে টিকার প্রচুর সঙ্কট রয়েছে। এখনও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী আছেন যাদের টিকার আওতায় আনা যায়নি।

যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই ৪শ মিলিয়ন ডোজ টিকার মজুত রেখেছে। যদিও দেশটির বেশিরভাগ মানুষই টিকা গ্রহণ করেছেন। তাই দেশটির উচিত মজুদ করা টিকাগুলো বিতরণ করা। করোনাভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বেশ কয়েকবার রূপ বদল করে আরও প্রাণঘাতি হয়ে উঠেছে এই ভাইরাস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা হলে কখন উপুর করে শোয়াতে হবে

করোনা হলেও মানুষ খুব বেশি হাসপাতালে যাওয়ার চিন্তা করছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতেই চলছে করোনা রোগীর চিকিৎসা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, করোনাভাইরাস যেহেতু শ্বাসনালীর মাধমে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে থাকে, তাই শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়ে থাকে। যখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে সমস্যা হয়, তখন রোগীকে উপুড় করে শোয়ানো হলে কষ্ট কিছুটা কমে।  

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্বাসকষ্টের সমস্যা তীব্র হলে এভাবে শোয়ানো হয় রোগীকে।  কারণ উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় ফুসফুসের অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। করোনা আক্রান্ত রোগীর ফুসফুসে সংক্রমণ হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের কাজটাও সঠিকভাবে হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই রোগীকে উপুড় করে শোয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  

এছাড়াও উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়ে ও ইনফেকশনের প্রবণতাও কমে।

মনে রাখতে হবে করোনা আক্রান্ত রোগীকে উপুড় করে শোয়াতে সমস্যা হলে ডান বা বাঁ পাশে কাত করে শোয়াতে হবে। কখনোই চিত করে শোয়ানো যাবে না।  

তবে ঘুমানোর সময় একটানা উপুড় করে শোয়ানো ঠিক না। জেগে থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সময় এভাবে শোয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com