আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

স্বাভাবিকের চেয়ে এবার বৃষ্টি হয়েছে অনেক কম। খাল-বিলেও পানি নেই। অনাবৃষ্টিতে তরমুজ গাছ কোথাও শুকিয়ে গেছে, কোথাও মরে গেছে, কিংবা ফল ছোট হয়েছে। পানির অভাবে এবার তরমুজের ফলন কমেছে। ফসল নষ্টের ফলে যে ঘাটতি হয়েছে, তার পুরো দায়ভার নিতে হয়েছে কৃষককে।

অনাবৃষ্টির প্রতিকূলতা কাটিয়ে যেসব ক্ষেতে তরমুজ হয়েছে, সেসব ক্ষেত আগেই কিনে নিয়েছেন ব্যাপারি বা ফড়িয়ারা। ফলে রমজানের শুরু থেকেই তরমুজের দাম বাড়ছে। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে এসে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে তরমুজ। ফসল নষ্ট হওয়ায় এবং ফড়িয়াদের কাছে আগেই ক্ষেত বিক্রি করে দেয়ায় তরমুজের বাড়তি দাম যেমন কৃষক পাচ্ছেন না, তেমনি দাম যে বাড়ছে; তাতেও তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তদার, ব্যাপারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। আলাপে জানা গেছে, তরমুজের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের কোনো হাত নেই। তারা বাড়তি দামের ভাগও পাচ্ছেন না।

তরমুজ বড় হতে শুরু করলে স্থানীয় ব্যাপারিরা তরমুজ ক্ষেত কিনে নেন। এখন তারা ক্ষেত থেকে সেই তরমুজ তুলে কারওয়ান বাজারে নিয়ে আসছেন। আড়তদাররা তরমুজ বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট কমিশন রাখছেন। আবার আড়ত থেকে কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। অর্থাৎ তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় ব্যাপারি, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা।

খুচরায় একটা ছোট আকৃতির তরমুজ কিনতেও গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা। আর একটা বড় আকৃতির তরমুজের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এমনকি সুপার শপগুলোতেও তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিটি তরমুজের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। তরমুজের এ দাম বৃদ্ধি ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারওয়ান বাজারের সোনার বাংলা বাণিজ্যালয় আড়তের মো. দুলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘বরিশাল মোকামের তরমুজ শেষ। এখন খুলনার তরমুজ। খুলনার বাজুড়ার তরমুজ আসছে। এবার তরমুজের দাম প্রচুর। আগের চেয়ে একশ’ গুণ বেশি। এবার তরমুজ কম হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে তরমুজ হয়নি। বৃষ্টি কমের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তরমুজ ছোটও হয়ে গেছে। এজন্য উৎপাদন কম, দাম বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকার পাইকারের কাছে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করি না, শ’ হিসেবে বিক্রি করি। ১০০ তরমুজ সর্বনিম্ন আট হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। তরমুজের ধরনের ওপর নির্ভর করে দাম।’

jagonews24কৃষকের কাছ থেকে কিনে ব্যাপারিরা বাজারে তরমুজ এনে আড়তদারদের দেন, তারা তা অন্য বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন, বিনিময়ে পান কমিশন 

কমিশনের বিষয়ে দুলাল বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে ব্যাপারিরা তরমুজ আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা তাদের বিক্রি করে দিই। এক লাখ টাকা বিক্রি করলে ১০ হাজার টাকা কমিশন আমাদের। বাকি টাকা তাদের দিয়ে দেই।’

কারওয়ান বাজারের রবরব ফার্মের ম্যানেজার মো. এরশাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের কাছে ব্যাপারিরা তরমুজ নিয়ে আসে। আমরা কমিশন কাটি। তারপর তরমুজ বিক্রি করে তাদের বিল আমরা দিয়ে দেই। ব্যাপারিদের কাছ থেকে আমরা ৫ শতাংশ করে রাখি। এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করে দিলে আমরা পাঁচ হাজার টাকা পাই।’

খুলনার দাকোপ থানার বাজুয়া ইউনিয়নের তরমুজের ব্যাপারি ননী গোপাল গোস্বামী। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) তিনি কারওয়ান বাজারের সোনার বাংলা বাণিজ্যালয় আড়তে তরমুজ নিয়ে এসেছেন।

ননী গোপাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি আগে থেকেই কৃষকের কাছ থেকে তরমুজ ক্ষেত কিনে রেখেছিলাম। যেমন আপনার এক বিঘা তরমুজ ক্ষেত আছে। আমি ফড়ি। গিয়ে বলছিলাম, কত বিক্রি করবেন? পরে বিষয়টি নিয়ে চুক্তিপত্র হয়। আমি চার বিঘা কিনেছি। সেখান থেকে তরমুজ তুলে আজকে নিয়ে আসছি। ক্ষেত থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস তরমুজ নিয়ে এসেছি। ওখান থেকে জৈষ্ঠ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আরও তরমুজ তোলা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যে তরমুজগুলো এনেছি, সেগুলো এখনো বিক্রি হয়নি। এখানকার (ঢাকার) বাজার অনুপাতে তরমুজ বিক্রি হবে। বাজার মোটামুটি ভালো দেখছি।’

jagonews24তরমুজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির পেছনে কৃষকের কোনোই হাত নেই

দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ননী দুলাল বলেন, ‘অনাবৃষ্টি হওয়ার কারণে প্রচুর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আবার ওইদিকে পানির অভাব। আমাদের ওখানে ছোট ছোট খাল। খালেও পানি নেই। এজন্য অনেক ক্ষেতই মাইর গেছে। যারা পানি দিতে পারেনি, গাছ মরে গেছে। শুকিয়ে গেছে কিংবা ফল ছোট হয়েছে। এসব কারণে তরমুজের দাম বেশি।’

কারওয়ান বাজারের গ্রিন ফুড এজেন্সিতে তরমুজ বিক্রি করতে আসা ব্যাপারি মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে আমি তরমুজের ক্ষেত কিনেছি। একটা আইডিয়ার ওপরে জমি কিনি। কেনা-বেচার ওপর লাভ-ঘাটতির হিসাব করা হয়। তবে এবার লাভ হবে আশা করি।’

এগ্রোবিজ

প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ যাচ্ছে বিদেশে

দেশের প্রথম স্থানীয় জাত হিসেবে সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ আম যাচ্ছে জার্মানিতে। সচরাচর হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম রপ্তানি হলেও এবারই প্রথম রপ্তানির তালিকায় উঠলো সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ আম।

মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে অন্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগে পাকায় এবং স্বাদে, গুণে ও মানে অনন্য হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই সাতক্ষীরার ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

গত মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে রপ্তানি বিঘ্নিত হলেও কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও সলিডারিডাড’র সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে আবারও রপ্তানি শুরু হয়েছে সাতক্ষীরার আম।

শনিবার (৮ মে) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরেলকাতা ইউনিয়নের পুটুনি এলাকার চাষি দাউদ মোল্লার বাগানের গোবিন্দভোগ আম পেড়ে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে চলতি মৌসুমে বিদেশে আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমে উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম, উত্তরণ’র সফল প্রকল্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন, সলিডারিডাড’র সাপ্লাই চেইন প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উত্তরণ’র সাপ্লাই চেইন অফিসার শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, অন্য জেলার তুলনায় ১৫-২০ দিন আগে সাতক্ষীরার আম পেকে যায়। তাই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে রপ্তানি বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পায় সাতক্ষীরার ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম। এ বছর থেকে এই তালিকায় গোবিন্দভোগ আম যুক্ত হলো। এছাড়া সারাদেশেও রয়েছে সাতক্ষীরার আমের বিপুল চাহিদা।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ১৩ হাজার ১০০ জন চাষি ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ করেন। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে অন্তত ৫০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হবে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের বাজারে।

আম চাষি ডাবলু বাংলানিউজকে জানান, আম রপ্তানির জন্য তারা মৌসুমের শুরু থেকেই বাগান পরিচর্চা শুরু করেছেন। ডাল ছাটা, ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আম উৎপাদন করা হয়েছে। এখন ন্যায্য মূল্যে পেলেই তারা খুশি।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বিদেশে আম রপ্তানির জন্য মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জৈব পদ্ধতিতে বাগান পরিচর্যা শুরু করেন চাষিরা। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা থেকে নিরাপদ ও বিষমুক্ত গোবিন্দভোগ আম হার্ভেস্টিং ও রপ্তানি শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে রপ্তানির লক্ষে জেলার কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ৩৫০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব চাষি পরিবেশ সম্মত উপায়ে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করেছেন। বাশার অ্যাগ্রো, ইসলাম গ্রুপ, গ্লোব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আর আর এন্টারপ্রাইজসহ ১৪টি কোম্পানির মাধ্যমে সাতক্ষীরার আম বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে অন্তত ৫০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার মুম্বাই, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগসহ আগামজাত আম ১ মে, হিমসাগর আম ২১ মে ও ল্যাংড়া আম ১ জুন থেকে হার্ভেস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেয়ে অন্তত ১৫ দিন আগে হার্ভেস্টিংয়ের সুবিধা থাকায় সাতক্ষীরার আম রপ্তানিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৩ লাখ ৬০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন

তিউনিসিয়া, বেলারুশ ও কাফকো থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন সার কিনতে তিনটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৬৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪২০ টাকা।

বুধবার (০৫ মে) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ক্রয় প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৭তম বৈঠকে অনুমোদনের জন্য ১৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। এর মধ্যে ৮ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ৮৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৪২ টাকা।

তিনি বলেন, বৈঠকে গণপূর্ত বিভাগের যে প্রকল্পগুলো ছিলো সেগুলো আমরা বিবেচনা করিনি, কারণ এখন সময় নেই। এই অর্থবছরে কাজগুলো শেষ করা যাবে না। অর্থবছরের সময় আছে মাত্র একমাস। চলতি মাস বাদ দিলে জুন মাস শুধু বাকি আছে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গণপূর্ত বিভাগের যেগুলো চলমান কাজ সেগুলো চলবে এবং বিদেশি অর্থায়নের কাজগুলো চলবে। এছাড়া নতুন যেসব প্রকল্প যেগুলো লম্বা সময় লাগে কাজ শেষ করতে এবং এক থেকে দেড়মাসের মধ্যে শেষ করা যাবে না সেগুলো পরে কাজ শুরু করতে হবে। আমরা ঠিক করেছি এখন থেকে আগামী জুন পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগের নতুন কোনো প্রকল্প আমরা অনুমোদন দেবে না। এটা আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি। এ জন্য আজকের বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রস্তাব জুনের পরে পুনরায় উত্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক তিউনিশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি টন সারের দাম ৫৬৮ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক বেলারুশ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতিটন সারের দাম ধরা হয়েছে ২৯২ দশমিক ৮৭ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে মোট ব্যয় হবে ৪৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ টাকা।

এছাড়া সরাসরি ক্রয়ের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি হলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া ক্রয়ের প্রস্তাব। প্রস্তাবটি বৈঠকে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রতিটন সারে দাম ধরা হয়েছে ৩৬২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ৯২ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

‘খাদ্যশস্য সংগ্রহে কৃষক যেন হয়রানির শিকার না হয়’

কোনো কৃষক যেন খাদ্যগুদামে ধান দিতে এসে ফেরত না যায় এবং কোনোভাবেই যেন হয়রানি না হয় সেজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে নতুন ফসল ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের সমস্যা হবে না।

খাদ্যশস্য সংগ্রহে ধানকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি গুদামের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খামালের উচ্চতা বাড়ানোসহ কিছু দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

মঙ্গলবার (৪ মে) মিন্টো রোডস্থ সরকারি বাসভবন থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ সংক্রান্ত অনলাইন মতবিনিময় সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  

ভিডিও কনফারেন্সে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা-মাড়াই, সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সাধন চন্দ্র মজুমদার।  

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে তাদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে ধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এবারের বোরো মৌসুমে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এবং ১১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল ক্রয় করা হবে। যা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো আমাদের দেশও একটা মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে, ভালো আচরণ করার মাধ্যমে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলমান বোরো সংগ্রহ শতভাগ সফল করতে হবে। বর্তমান সময়ে করোনার সঙ্গে আমরা যেমন যুদ্ধ করছি। তেমনি করোনা পরবর্তী খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করার জন্যেও আমাদের এখন থেকেই যুদ্ধ করতে হবে।

করোনা মোকাবিলা করে সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেজন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা ও করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মুখে মাস্ক পরার আহ্বান জানান তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, কোনোভাবেই পুরান চাল নেওয়া যাবে না। চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে সংগ্রহকৃত চাল এবারের বোরো ধানের চাল। পাশাপাশি বস্তার গায়ে স্টেনসিল ব্যবহার করার নির্দেশ দেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নাটোর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও মিল মালিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সরকার নির্ধারিত দামে জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ শুরু

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

বুধবার (০৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুর রব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত উসমান মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিমলা রায়। উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শংকর রায়, স্থানীয় কৃষক জুনাব আলী, আব্দুল মোহিদ প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অস্থিরতা বাড়তে পারে চালের বাজারে

লেখক

সরকারের সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী গুদামে সব সময় মজুদ থাকার কথা কমপক্ষে ১০ লাখ টন চাল। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মজুদ থাকা উচিত ১৫ লাখ টন। কিন্তু এখন সরকারের কাছে মজুদ আছে মাত্র দুই লাখ ৯৭ হাজার টন। সরকার আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। বেসরকারিভাবে সাড়ে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন হলেও এসেছে সাড়ে সাত লাখ টনেরও কম। আর সরকারিভাবে সাড়ে ১০ লাখ টন লক্ষ্য থাকলেও আমদানি করা হয়েছে মাত্র তিন লাখ ৮৩ হাজার টন। বিশাল এই ঘাটতির কারণে চালের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সেটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।
নতুন ধান উৎপাদন হওয়ার পরও চালের দাম কমেনি। বরং দিন দিন দাম বেড়ে চলেছে। গত এক বছরে দেশের খুচরা বাজারে চালের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এখন দেশের কৃষক ও মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার। সেটিও সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্নিষ্টদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, বেসরকারিভাবে আমদানি না করে সরকারকে নিজে আমদানি করতে হবে। কিন্তু সরকার নিজে যে পরিমাণ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাও আনতে পারেনি। সংগ্রহ ও আমদানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় বাজারে চালের দামে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কোনো কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে চালের বাজারে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা দেবে।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এক বছরে চালের মজুদ ১১ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে মজুদ কেন দুই লাখ টনে নামিয়ে আনা হলো, তার জবাব খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে।


গত ২৭ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে চাল আমদানির শুল্ক্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। এরপর ব্যবসায়ীরা ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৩ টন চাল আমদানির অনুমোদন নেন। কিন্তু আমদানির শেষ দিন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে চাল প্রবেশ করেছে সাত লাখ ৪৪ হাজার ৪৩০ টন। অনুমোদনের ৪৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বেসরকারি চাল আমদানিকারকরা অনুমতি নেওয়ার পরও প্রায় ৫২ ভাগ চাল আমদানি করেননি।


এ ছাড়া দুই লাখ ১০ হাজার ৭৬১ টন চালের এলসি খোলার পরও আমদানি করা হয়নি বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ছয় লাখ পাঁচ হাজার ৬৭২ টন চালের এলসি খোলেননি আমদানিকারকরা। ফলে আমদানির মাধ্যমে চালের ঘাটতি পূরণের সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পুরো চাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে এলসি খুলতে হবে। আর চাল আনার পর ২০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাটা আসলে অনেক কঠিন। আবার বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় আমদানি নিয়ে সংশয়ে পড়েন তারা। এ ছাড়া সীমান্তে ট্রাকে ও কাস্টমসে হয়রানির কারণে অনেকে এলসি খোলার পরও চাল দেশে আনতে পারেননি।


সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ী সাতক্ষীরার সি মজুমদার বলেন, এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ ভাগ, পরের ১০ দিনে ৫০ ভাগ চাল বাজারজাত করতে বলা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাটা অনেক কঠিন। আর এলসি করলেই চাল আমদানি করা যায় না। এরপর আরও অনেক কাজ থাকে। ট্রাকের সংকট, স্থলবন্দরে জট ইত্যাদি কারণে সময় বেশি লাগে। এদিকে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেটা বুঝতে চান না।
সি মজুমদার জানান, তার দুই লাখ টন চালের এলসি খোলা ছিল, এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন দেশে প্রবেশ করেছে। বাকি ৬০ হাজার আনতে পারেননি।
নওগাঁর চাল ব্যবসায়ী ও আমদানির অনুমতি পাওয়া নুরুল ইসলাম বলেন, আমদানির চাল এনে বিক্রি করা কঠিন। তাই ২০ হাজার টনের অনুমতি পেয়ে তিনি ১০ হাজার টন আমদানি করেছেন।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত বছর আগস্টেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু চার মাস পর গত জানুয়ারিতে সেই প্রক্রিয়া শুরু করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এরপর নানা জটিলতায় বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতেও বিলম্ব হয়েছে।


গত বোরো মৌসুমে সরকারের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আট লাখ টন। এর মধ্যে সংগ্রহ হয়েছিল মাত্র দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ টন। এর মধ্যে সংগ্রহ হয়েছিল ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৮৯০ টন। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দেড় লাখ টন। সংগ্রহ হয়েছিল ৯৯ হাজার ১২৩ টন। একইভাবে আমন মৌসুমেও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি সরকার। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার সাড়ে ছয় লাখ টন ধান কিনতে চায়। গত বছরের চেয়ে সাড়ে তিন লাখ টন কম। এ ছাড়া সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলায় এখনও শুরু হয়নি। আজ ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। শেষ হবে ৩১ আগস্ট।
গত দুই মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার একাধিকবার বলেছিলেন, চালকল মালিকরা যদি সিন্ডিকেট করে, তাহলে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে।


কিন্তু সেই আমদানির উদ্যোগ সফল হয়নি। এখন আবার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে সরকার। গত ৪ মে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের এবং ৫ মে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল ক্রয়ের গতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সাধন চন্দ্র মজুমদার।
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বদরুল হাসান সমকালকে বলেন, কভিডের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল কেনা অনেক কঠিন। প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব খাদ্য মজুদ রেখেছে। বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে মাসে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টন চাল আমদানি করা যায়। অথচ দেশে প্রতিদিন চালের চাহিদা ৮০ হাজার টন। তাই আমদানির চেয়ে সংগ্রহের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে দেশের বাজারে চালের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

তিনি বলেন, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি না করে উন্মুক্তভাবে সুযোগ দিয়ে মনিটরিং বাড়ালে অভিযান সফল হতো। প্রয়োজনীয় চাল আমদানি হলে বন্ধের নির্দেশ দিত সরকার।
তবে খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম সমকালকে বলেন, আমদানিকারকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে। এ জন্য তাদের চাপ দেওয়া যায় না। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ৩২০ আমদানিকারককে নির্দিষ্ট পরিমাণে চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। চাল আমদানির আর প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দুই কোটি ৫ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান-চাল সংগ্রহে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে শুল্ক্ক কমিয়ে আবার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারিভাবে ১৩ লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com