আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

 ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের পাদদেশ শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্ম। চার ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। সদা হাস্যোজ্জ্বল ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে। শিক্ষাজীবনে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডপস’র সহায়তায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ- ৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। মেধার স্বাক্ষর রাখেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে।

ডপস’র মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়ে রাসেল মিয়া এখন দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। করোনার ছুটিতে ক্যাম্পাস থেকে বাড়িতে এসে কয়েকদিন ঘোরাফেরা করার পর চলে যান শেরপুর শহরে অবস্থিত ডপস’র অফিসে। শুরু করেন কলেজপড়ুয়া ডপস সদস্যদের ক্লাস নেয়া। এভাবেই কাটতে থাকে তার দিনগুলো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় লকডাউন ঘোষণা হলে পুনরায় তাকে ফিরে আসতে হয় বাড়িতে।

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

একদিকে ঘরে অসুস্থ বাবার ঔষধ কেনা ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে অর্থের চাহিদা, অন্যদিকে এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধকরণের চিন্তা। এসব চিন্তায় বসে থাকতে ভালো লাগে না তার। কী করা যায় পরিবারের জন্য, মানুষের জন্য এবং কীভাবে অবসর সময়কে কাজে লাগানো যায় সেটাই ভাবতে থাকেন। করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্বাভাবিক মেলামেশা সংকোচিত করে ফেলেন তিনি।

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

সময়কে কাজে লাগানোর চিন্তা করতেই মাথায় দারুণ এক বুদ্ধি আসে। মনস্থির করেন, পাহাড়ের ঢালে সবজি চাষ করবেন। ফোন দেন দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থা- ডপস’র প্রতিষ্ঠাতা সৈনিক শাহীন মিয়াকে। বলেন, ‘ভাই সবজি চাষ করতে চাই’। শাহীন মিয়া বললেন, ‘তোমাদের তো নিজস্ব কোনো জমি নাই। কোথায় চাষ করবা?’ রাসেল বললেন, ‘ভাই, পাহাড়ের ঢালে ফাঁকা জায়গা আছে অনেক। সেখানে চাষ করব।’ শাহীন মিয়া সায় দিলেন। শুরু হলো তার সবজি চাষের কাজ।

যে ছেলেটি সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় হলের রিডিংরুমে বই নিয়ে পড়াশোনা করতেন, সেই ছেলেটি এখন সাত সকালে উঠে কোমরে গামছা বেঁধে কাঁধে কোদাল নিয়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ছুটে চলেন উঁচু-নিচু পাহাড়ের ঢালে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে তার জমি প্রস্তুতকরণের কাজ। দিনশেষে ক্লান্তমনে বাড়ি ফিরে প্রায়ই ফোন করে কাজের অগ্রগতি জানান শাহীন মিয়াকে। চলতে থাকে তার নিরলস পরিশ্রম। বপন করেন বরবটি, কাকরোল, কুমড়া আর ঝিঙার বীজ। পাহাড়ের লাল মাটি ভেদ করে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে কঁচি সবুজ সতেজ অঙ্কুর। তা দেখে উল্লাসে মাতেন রাসেল মিয়া।

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

কৃষি প্রধান দেশে কৃষিকাজে নেমে প্রকৃতির সাথে মিশে অনেকটা ভুলেই গিয়েছিলেন, তিনি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। মা-মাটির টানে তিনি এখন ব্যস্ত সবজি বাগানের কাজে। গত কয়েকদিন আগে সবজি গাছে সবজি ধরেছে।

ঢাবিতে মেধাতালিকায় চান্স পাওয়ায় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো-তে ‘রাসেলের স্বপ্ন পূরণ হবে তো!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তার পরিবার ভূমিহীন কি-না যাচাই করতে তৎকালীন নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মান্নান সোহেল সরেজমিন পরিস্থিতি দেখতে রওনা হন তার বাড়ির দিকে। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ে ভূমিহীন রাসেলের ছাপড়াঘর দেখতে যেতে হলে পায়ে হাঁটার বিকল্প নেই। তাই রাস্তায় গাড়ি রেখে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সরু পথ ধরে পায়ে হেঁটে ছুটে যান তাদের বাড়িতে।

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

অন্যের জমিতে একচালা ছাপড়া ঘরে মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে বসবাস করা মেধাবী রাসেলের পরিবারের অবস্থা নিজের চোখে দেখে ইউএনও নিজেই কেঁদে বার বার রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো হয়ে জন্ম নেয়া রাসেলকে সাথে নিয়ে যান জেলা প্রশাসকের কাছে। সব শুনে জেলা প্রশাসক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ভর্তির ব্যাপারে পাঁচ হাজার টাকার সহযোগিতা করেন। পরিবারের করুণ অবস্থার কথা শুনে ভূমিহীন পরিবারটিকে পুনর্বাসনেরও আশ্বাস দেন। কিন্তু ওই আশ্বাস শুধু আশ্বাস-ই রয়ে গেল!

থেমে থাকার পাত্র তো নয় রাসেল। বর্তমানে টিউশনি, উপবৃত্তির টাকা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডপস’র সামান্য সহযোগিতায় চলে তার পড়ালেখা। সরকারিভাবে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রাসেল ও তার পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি এখনও। এখনও তারা সেই ছাপড়া ঘরে বসবাস করছে অন্যের জমিতে।

ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

করোনার এই অবসরকালে পাহাড়ের ঢালে ফাঁকা জায়গায় সবজির বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন রাসেল। গাছে ধরেছে বরবটি, কাকরোল, কুমড়া আর ঝিঙা। এঁকেবেঁকে বেড়ে উঠেছে পুঁইশাকের গাছ। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারজাত করা হবে রাসেলের নিজ হাতে লাগানো সবজিগুলো।

কথায় বলে ‘যে রাঁধতে জানে সে চুলও বাঁধতে জানে’। যার বাস্তব উদাহরণ রাসেল। শিক্ষাজীবনে মেধার স্বাক্ষর রেখে পড়াশোনা করছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবজি বাগান করে আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন এক মেধাবী।

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

    ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!
  • ঢাবির ভূমিহীন শিক্ষার্থীর সবজি চাষে সাফল্য!

বাংলাদেশ

ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন যেভাবে

কৃষিবিদ জিয়াউল হক

করলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। এখন সারা বছরই করলা চাষ হয়। করলা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী সবজি। এটাকে ভাজি করে অথবা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন-

মাটি তৈরি: করলা প্রায় সব মাটিতেই চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে চাষ করলে ফলন ভালো হয়। করলা চাষ করার জন্য প্রথমে দুই ভাগ দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২০-৩০ গ্রাম টিএসপি সার, ২০-৩০ গ্রাম পটাশ একত্রে মিশিয়ে ড্রামে ভরে পানিতে ভিজিয়ে সপ্তাহখানেক রেখে দিতে হয়। তারপর মাটি কিছুটা ওলটপালট করে বা ঝরঝরে করে আবার চার-পাঁচ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

বীজ বপন: করলার বীজ বপনের একদিন অথবা ২৪ ঘণ্টা আগে ড্রাম বা টবের মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ বপন করার পর মাটি হাত দিয়ে সমতল করে চেপে দিতে হবে।

সেচ: করলার বীজ বপন করার পর এতে নিয়মিত পানি দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, টবে বা গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে। তাহলে গাছের গোড়া পচে যাবে। সঠিক পরিমাপে পানি দিতে হবে।

পরিচর্যা: করলা গাছ বড় হলে অপ্রয়োজনীয় বা মরা লতাপাতা বেছে ফেলে দিতে হবে। টব বা ড্রামের মাটি হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে, তাহলে শেকড় বাড়বে। আগাছা জন্মালে তা উপড়ে ফেলতে হবে। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত কম হয়। গাছ একটু বড় হলে মাচা করে দিতে হবে। গাছে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

সঠিক পরিমাণ সার দিতে হবে। করলার বীজ থেকে চারা বেরোনোর পর মাঝে মধ্যে পানি দিতে হবে। চারার যত্ন নিতে হবে। করলা ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে। টবে জৈব সার দিতে হবে, যেন গাছ মাটি থেকে খাদ্য উৎপাদন করে বাড়তে পারে। প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায়।

রোগবালাই দমন: করলা গাছে মাছিপোকা, পামকিন বিটলসহ বিভিন্ন পোকা ও ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ, পাউডারি মিলডিউসহ বিভিন্ন বালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। গাছে রোগ বা পোকামাকড় আক্রমণ করলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেক্স ফেরোমন ও বিষটোপ ফাঁদের যৌথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফল সংগ্রহ: করলা ছোট অবস্থায়ও সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বড় হলেও সংগ্রহ করতে পারেন। তবে করলা কাঁচা থাকতেই সংগ্রহ করতে হবে। পাকা করলা তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় না। ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হবে।

গুণাগুণ: করলায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মানবদেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ দিয়ে থাকে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় ৯২.২ গ্রাম জলীয় অংশ, ২.৫ গ্রাম আমিষ, ৪.৩ গ্রাম শর্করা, ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরি থাকে।

উপকারিতা: নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। করলা খাওয়ার ফলে রক্তের সমস্যা, চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসাসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অতিবৃষ্টি-খরায় মরছে হোসেনের ‘সাধের লাউ’

মৌলভীবাজার: বৈরাগির সাধের লাউ অনেকেরই প্রিয় সবজি। নরম ও সুস্বাদু বলে শাক-সবজির মধ্যে লাউয়ের কদর ঢের। চাহিদার কথা মাথায় রেখে কৃষকরাও তাই এই সবজি উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। নিজে ক্ষেতে ফলিয়েছেন এই সবজিটি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় এর ফসল উৎপাদনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিবৃষ্টি আর তীব্র খরায় বৃত্তাকার সবুজ পাতাগুলো ফ্যাকাসে হয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে সাধের লাউয়ের স্বপ্ন। 

তবু থেমে নেই কৃষক। তারও গতি দুর্বার।

আপ্রাণ চেষ্টায় রত তার নিজ জমিতে নিজের হাতে লাগানো লাউ গাছগুলোকে শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখছেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যার সঙ্গে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে বাড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিগুণ দেখভালের।  

তার নিজের ১২০ শতাংশ জমির মধ্যে ২০ শতাংশে লাউচাষ করা এই কৃষকের নাম আবুল হোসেন।  

তিনি থাকেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায়। দুই বছর আগের এই কৃষিতে তিনি ছিলেন না। ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি পেশায় আবুল হোসেনকে অগ্নিউত্তাপ সহ্য করতে হতো দিন-দুপুরে। এই পেশা আর ভালো লাগছিল না তার। বাবার অনুপ্রেরণা আর স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় হোসেন ফিরে এলেন কৃষিতে। নিজের ধ্যান-ধারণা, সবজি বাছাইয়ের দূরদর্শিতা আর প্রচুর পরিশ্রম দিয়ে লাভ করলেন সফলতা।  

আবুল হোসেন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথিন্দ্র দেব বাংলানিউজকে বলেন, এই এলাকায় হোসেন একজন সফল কৃষক। একটি-দুটি সবজি লাগিয়ে তিনি বসে নেই। ক্রমাগত একটার পর একটা সবজি চাষ করে যাচ্ছেন তিনি। মাঝেমধ্যে কৃষিজাত পণ্যের প্রদর্শনী তার এখানে জায়গা করা হয়ে থাকে।

মনোরমভাবে ঝুলে আছে সাধের লাউ।  ছবি: বাংলানিউজস্থানীয় বাজারে যে মৌসুমী সবজিটার চাহিদা বেশি, সেই সবজিটাই সে সর্বপ্রথম উৎপাদন করে সরবরাহ করে। ফলে সেই সবজিটা প্রথম বাজার ধরা এবং মুনাফা পরিমাণও বেশি লাভ হয় বলে জানান রথিন্দ্র।  

লাউ চাষি আবুল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, লাউ এখন অফসিজনের (অমৌসুম) ফসল। শীতের সবজি। চাহিদা তাই বেশি। তারপরও প্রচুর ঝুঁকি নিয়ে চাষ করছি। এখন লাউ বাজারে গেলেই চাহিদা বেড়ে যায়। ২০ শতাংশ জায়গা আমি দুইশ চারা রোপন করেছি। ভালো ফলনও এসেছে; কিন্তু এই কয়দিনের অতিবৃষ্টি আর অতিরৌদ্রে লাউ গাছগুলো মারা যাচ্ছে। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে গিয়ে দেখি প্রায় ১০/১৫টা কচি লাউ শুকিয়ে গেছে।  

এই বৈরী আবহাওয়া চলমান থাকলে লাউয়ে আমাকে লোকসান গুণতে হবে। আর অবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে ভালো লাভ হবে বলেও জানান তিনি।  

তিনি আরও বলেন, আমি কিন্তু একটা সবজি লাগিয়ে সেই জমি ফেলে রাখি না; সে জমিতে স্থানীয়ভাবে চাহিদা রয়েছে এমন একটার পর সব সবজি চাষ করতেই থাকি। নিজেও করি এবং আরও দুই জন দৈনিক কামলা (শ্রমিক) আছে, তারাও তাদের নির্দিষ্ট সময় মতো করেন।    

অতিরোদ-বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে লাউক্ষেত।  ছবি: বাংলানিউজসোমবার (১৫ জুন) সকালে গিয়ে দেখা যায়, বিশালাকৃতির মাচার মধ্যে অপূর্ব নিয়ে ঝুলে আছে সাধের লাউ। বর্ণ তার হালকা সবুজাভ। একদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আরেক দিকে দৃষ্টি দিলে শুধুই ঝুলে থাকা লাউ। যে পাশটা সবচেয়ে বেশি রৌদ্রতাপ সহ্যমুখর সেখানেই কিছু লাউ গাছ শুকিয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদ! অর্থাৎ এ সাধের লাউগুলো অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর মুখে পতিত।  

লাউয়ের উৎপাদন খরচ উল্লেখ করে এ চাষি আরও বলেন, গোবর সার, পটাশ, টিএসপি, জিংক, জিপসাম, বোরন, মাল্টিপ্লেক্স, শিকড়প্লাসসহ চারপর্ব মিলে মোট প্রায় একশত কেজি সার দিয়েছি। এর খরচ প্রায় আট হাজার।  

আমার এই সবগুলো লাউ গাছই এখন উপযুক্ত। একদম ফলন্ত গাছ। এখনি গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে রান্না করে একদম টাটকা খেতে পারবেন লাউ। বাজারে এখন প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর দু’দিন পরেই বাজারে তুলবো বলেও জানান হোসেন।  
  
অতিবৃষ্টি এবং খরায় সফল ক্ষতি সম্পর্কে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথিন্দ্র দেব বাংলানিউজকে বলেন, কৃষকদের ক্ষেত্রে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কৃষিজাত নানান উপকরণ দিয়ে আমরা তাদের সবসময়ই সাহায্য করে থাকি।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কচুতে কৃষকের মুখে হাসি

কুষ্টিয়া: করোনা ভাইরাসের কারণে সবজি চাষিরা চিন্তিত থাকলেও আগাম জাতের কচু চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কুষ্টিয়ার কৃষকদের মুখে। এ বছর বর্ষার প্রকোপ বেশি থাকায় কচুর সেচ খরচও কম হয়েছে। যেখানে দুই দিনে একবার সেচ আর প্রতি সেচেই সার দিতে হয় সেখান এ বছর খরচও কম হয়েছে। রোগ ও পোকাও তুলনামূলক কম। প্রতি বিঘায় ১০০-১২০ মণ কচু পাচ্ছেন কৃষক। কৃষকরা স্থানীয় বাজারেই দর পাচ্ছেন কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা করে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি (২০২০-২১) খরিপ-১ মৌসুমে জেলায় এক হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৮০ হেক্টর, খোকসায় ৪০ হেক্টর, কুমারখালীতে ৭২ হেক্টর, মিরপুরে ১৭০ হেক্টর, ভেড়ামারায় ১৪৫ হেক্টর, দৌলতপুরে ৪০৭ হেক্টর।

গত বছরে আবাদ হয়েছিল ৭৫৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১৯ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। যার হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২৫ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন। এ বছর কচুর ফলন বেশ ভালো।  

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপর ইউনিয়নের কাতলামারী এলাকার কৃষক রাজা মিয়া। তিনি এ বছর ১০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের কচু চাষ করেছেন। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে।

রাজা মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, আমি ১০ কাঠা জমিতে কচু চাষ করেছি। এক কাঠা জমি থেকে আমি ৫-৬ মণ করে কচু পাচ্ছি। জমি থেকেই আমি ৫৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করে দিচ্ছি। প্রতিবার তো এমন দাম হয় না, এবার কচুর দাম খুবই ভালো। যদি এমন বাজার থাকে তাহলে কচুতে প্রচুর পয়সা হবে।

একই এলাকার কচু চাষি আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, কচুতে যতো সার দেওয়া হয় তা অন্য কোনো ফসলে আমরা দেয় না। তাছাড়া একদিন পরপর কচুর জমিতে সেচ দিতে হয়। হাতি পোষা আর কচু চাষ সমান। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির কারণে কচুতে বেশি সেচ লাগেনি। তারপরেও ভালোই সেচ দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে ৩/৪ দিনে একবার সেচ আর সার দিতে হচ্ছে।

আরেক চাষি আনোয়ারুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, পৌষ মাসের শুরুতে জমিতে বীজ রোপণ করেছি। মাঘ মাসে কচু বের হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চার মণ করে কচুর বীজ লাগে। মণপ্রতি বীজ তিন হাজার টাকা। এছাড়া জমি চাষ, সার দেওয়া, সেচ দেওয়া, কচুর গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া, নিড়ানী খরচ ভালোই হয়। দুই দিন পরপর সেচ না দিলে মাটি শুকিয়ে যায়। এতে কচু ভালো হয় না। আর প্রতিবার সেচ দেওয়ার পর সার দিতে হয়। এবার কচুর জমিতে সেচ কমই লেগেছে। কারণ বৃষ্টি হয় মাঝে মধ্যেই।

কুষ্টিয়ার সবচেয়ে কচু চাষ বেশি হওয়া দৌলতপুর উপজেলায়। দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার কৃষক সোহেল রানা বাংলানিউজকে জানান, আমি একবিঘা জমিতে কচুর চাষ করেছি। তবে একটু নাবী। এখন মাত্র গুটি গুটি হয়েছে। এক মাস পরে কচু তুলতে পারবো। আগাম জাতের কচুটায় লাভ বেশি। কারণ এ সময় দাম ভালো হয়।
কচুক্ষেত ।  ছবি: বাংলানিউজএছাড়া মাঠ থেকে কচু তুলে এনে বাড়িতে পরিষ্কার করেও টাকা পাচ্ছেন কৃষাণীরা। প্রতিমণ কচু পরিষ্কার করে দিলে তারা পায় ২৫-৩০ টাকা। একজন নারী ঘণ্টায় দেড়-দুই মণ কচু পরিষ্কার করে থাকেন।

জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী জিনারুল আলী বাংলানিউজকে জানান, কচুর বর্তমান বাজার দর পাইকারি ৪৫-৫০ টাকা কেজি। আমরা ৪০-৪৫ টাকা কেজি কিনছি। খুচরা পর্যায়ে বাজারে ৫০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বাংলানিউজকে জানান, এই অঞ্চলের মাটি কচু চাষের জন্য উপযোগী। আর কচু চাষ বেশ লাভজনক। আগাম কচু চাষ করলে, বাজার দর ভালো পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সবজি হিসেবে কচুর চাহিদা অনেক বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার প্রামানিক বাংলানিউজকে বলেন, কচু চাষ খুবই লাভজনক। কৃষকরা কচু চাষ করে বেশ ভালো লাভ করছেন। সেই সঙ্গে দিন দিন কচু চাষ এই অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে। মুখি কচুর পাশাপাশি লতিরাজ কচু চাষ করেও কৃষকরা কম সময়ে লাভবান হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পাটশাকের চাহিদা বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে

মাদারীপুর: পাটের আবাদ শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে। সোনালি আঁশ ফলনে মাদারীপুর জেলার চাষিদের মধ্যে আগ্রহও রয়েছে বেশ। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের জমিতে বড় হতে শুরু করেছে পাট গাছ। পরিণত হলে আঁশ ছাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশা পাট চাষিদের। তবে কোনো কোনো স্থানে শুধুমাত্র শাক হিসেবে বাজারে বিক্রির জন্যেও পাটের আবাদ করেন চাষিরা।  

এ সময়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে পাটশাকের চাহিদা রয়েছে বেশ। অন্যান্য শাকের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে গ্রামাঞ্চলেও পাটশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে শুধু শাকের জন্য বাড়ছে পাটের চাষও।

জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে পাটশাকের ব্যাপক চাহিদা থাকে। গ্রামের হাট বাজারগুলোতে একেক আঁটি (কতগুলো শাক একত্র করে বাঁধা) পাটশাক ৫ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি করেন চাষিরা।  

অনেক সব্জি চাষিও শুধু পাটশাক বিক্রির জন্য স্বল্প জায়গার মধ্যে পাটের আবাদ করেন এই মৌসুমে।  

তাছাড়া বাজারের সব্জি ব্যবসায়ীদের কাছেও পাইকারি দামে প্রতিদিন সকালে চাষিরা পাটশাক বিক্রি করে থাকেন।  

জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ও সূর্যনগর সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আলাপ হলে তারা জানান, শুধু শাক বিক্রির জন্য সাধারণত যে পাট চাষ হয় তা মৌসুম শুরুর কিছুটা আগে বপন করা হয়। দেখা গেছে মূল পাট চাষিরা যে সময় ক্ষেতে পাটের বীজ বপন করেন ঠিক সেই সময়ই বাজারে বিক্রির জন্য পাটশাক উপযোগী হয়। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পরিমাণ গাছ হলে অথবা তার চেয়ে কিছুটা ছোট থাকতেই বাজারে পাটশাক বিক্রি শুরু হয়।

তারা আরো জানান, মূলত শাক বিক্রির জন্য চাষ করা পাট ক্ষেতের তেমন যত্নের দরকার হয় না। স্বল্প পরিমাণ জমিতে এ পাট চাষ করা হয়। শাক বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোনো সব্জি লাগানো হয় ওই ক্ষেতে।

নিয়মিত পাটের আবাদ করেন এমন এক কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বাজারে পাট শাকের চাহিদা রয়েছে। আমরা যারা নিয়মিত পাটের আবাদ করি তারা শাক বিক্রি খুব একটা করি না। চারা কিছুটা বড় হলে ঘন গাছগুলো উঠিয়ে ফেলি (পাটের বাছ দেয়া)। তখন অনেক সময় বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়। মৌসুমের শুরুর দিকে ১০ টাকা আঁটি দামে বিক্রি হয় পাটশাক।

বাজারের নিয়মিত সব্জি বিক্রেতা সোবাহান মিয়া বলেন, এই সিজনে পাটশাক অনেক বিক্রি হয়। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারি কিনে বিক্রি করি। আগে খুব একটা বিক্রি হতো না। তবে কয়েক বছর ধরে চাহিদা বেড়েছে। অন্যান্য শাক-সব্জির মতোই পাটশাক প্রচুর বিক্রি করি।

অন্যান্য শাক-সব্জির পাশাপাশি পাটশাকও সুস্বাদু। এর পুষ্টি গুনাগুনও রয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু পাটশাক রান্না ছাড়াও ডালের সঙ্গে দিয়েও রান্না গ্রামাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় বলে জানান স্থানীয়রা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পতিত জমিতে সবজি-ফলের বাগান গড়ে তুলছেন গাংনীর নারীরা

মেহেরপুর: কলেজছাত্রী মিম, পিংকি, গৃহবধূ মিনুয়ারা, শিউলি খাতুনের মতো প্রায় ১৮০ জন নারী বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিতে গড়ে তুলেছেন নানা ধরনের সবজি ও ভিটামিনযুক্ত ফলের বাগান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়েই গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারীরা এ উদ্যোগ নিয়েছে।

কলেজছাত্রী মিম, পিংকি ও শিলা খাতুন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কিছু পতিত জমি থাকে।

টিউবওয়েলের পাশে বা বাড়ির ওঠানেই পড়ে থাকে সেসব জমি। জমিগুলো সব সময় অকেজো হয়েই পড়ে থাকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দেন এক ইঞ্চি জমিও যেনো পড়ে না থাকে। ওই ঘোষণা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা এলাকার কয়েকজন ছাত্রী ও সচেতন গৃহবধূ মিলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় নারী কৃষি ক্লাব গড়ে তুলি। আর এই কৃষি ক্লাবের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ১৮০ জন নারীকে উদ্বুদ্ধ করি। তারা সবাই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিগুলোতে জৈবিক দমন পদ্ধতিতে বিষমুক্ত নানা ধরনের রঙিন সবজি যেমন- লাউ, করলা, শসা, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, ভিটামিন-সি যুক্ত বাতাবি লেবু, কমলাসহ নানা ধরনের ফলের বাগান গড়ে তুলেছি।

গাংনী উপাজেলার কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এলাকার ১৮০ জন নারী প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে সবজি এবং ফলের বাগান গড়ে তুলেছে। আমাদের এই ৪০ হেক্টর জমি পড়ে থাকতো। নারীরা তাদের বসত বাড়ির আঙিনায় সবজি ও ফলের বাগান তৈরির ফলে জমিগুলো যেমন ব্যবহারের আওতায় এসেছে, তেমনি এসব পরিবারগুলো বিষমুক্ত সবজি ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল পাচ্ছে। এ প্রকল্পের কাজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে এক ইঞ্চি জমিও আর পতিত থাকবেনা বলে আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১২টার দিকে তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারী চাষিদের নিয়ে ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতি ইঞ্চি মাটির ব্যবহার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর-২ ( গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এমপি পত্নী ও এলাকার একজন নারী কৃষক লাইলা আরজুমান শিলা, আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু। এছাড়াও বক্তব্য দেন, নারী কৃষক সাবিনা ইয়াসিন, পিংকি খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণায় আজ আমাদের নারী সমাজ এগিয়ে এসেছে। এতেই প্রমাণিত হয় দেশ আজ জেগেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে আজ করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের অনেকে মানুষ এই মহামারিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এসব মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু আওয়ামী লীগের সরকার নয়, এটি জনগণের সরকার। তাই জনগণের উন্নয়ের সব ধরনের ব্যবস্থা জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন। দলীয় চিন্তা চেতনায় নয়, সব দল মতের উধ্র্বে থেকে আসহায় মানুষের কল্যাণে বর্তমান সরকার কাজ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com