আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

ইলিশ: উৎস স্থানের চেয়ে ঢাকায় কেন ইলিশের দাম কম

পিরোজপুরের কচা নদী থেকে ধরে আনা তাজা ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে
পিরোজপুরের কচা নদী থেকে ধরে আনা তাজা ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে

বরিশালের মেয়ে লাভলী আক্তার ঢাকায় এক জোড়া ইলিশ মাছ কিনেছিলেন ১৬০০ টাকা দিয়ে। কয়েকদিন পরে তিনি গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে গিয়ে গিয়ে দেখতে পান, একই আকৃতির একজোড়া ইলিশ সেখানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়।

”আমি খুব অবাক হলাম। কারণ এসব জায়গা থেকেই তো ইলিশ ধরে ঢাকায় পাঠানো হয়। অথচ সেখানে ইলিশ মাছের দাম কম, আর যেখানে ইলিশ ধরা পড়ছে, সেখানে মাছের দাম এতো বেশি!”

এরকম অভিজ্ঞতা শুধু তার একার নয়।

ঢাকার কাঠালবাগান মাছ বাজারের একজন ক্রেতা নাজমা আনোয়ার বলছেন, দুইদিন আগে তিনি এক কেজি ওজনের একেকটি ইলিশ মাছ কিনেছেন ৯০০ টাকা কেজি দরে।

অপরদিকে ঝালকাঠির একজন ক্রেতা তৈমুর হোসেন বলছেন, সেখানে এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি হিসাবে।

এসব ইলিশ নদী বা সাগর থেকে ধরার পর, বরফ দিয়ে, ট্রলার বা ট্রাকে করে বহু পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকার মতো শহরগুলোয় বিক্রি করা হয়।

কিন্তু যেখানে ধরা পড়ছে, ঢাকার তুলনায় সেসব উৎস স্থানে কেন ইলিশের দাম চড়া?

ইলিশ এলাকার চেয়ে ঢাকায় কেন দাম কম?

বরগুনার পাথরঘাটায় ইলিশ মাছের ব্যবসা করেন মজনু হোসেন। তিনি পাইকারি দরে ইলিশ কিনে ঢাকায় পাঠান।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই ইলিশের মোকামে [ব্যবসার জন্য নির্ধারিত স্থান] মূলত দুই ধরণের ইলিশ মাছ আসে। একটি নদী থেকে ধরা ইলিশ মাছ, যেগুলো আশেপাশের বড় বড় নদী, যেমন পশুর নদী, বলেশ্বর নদী ইত্যাদি থেকে ধরা হয়।

এগুলো আসলে ধরার দিনেই আড়তে চলে আসে। স্বাদও বেশি। এগুলো একটু চড়া দামে বিক্রি করা হয়। এই মোকামে এগুলোর কেজি বিক্রি হয় ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকার মধ্যে। ইলিশ বেশি বড় হলে দামও একটু বেশি হয়।

আরেকটি হচ্ছে সাগর থেকে ধরা ইলিশ। জেলেরা ট্রলার নিয়ে ১০/১৫দিন সাগরে থেকে অনেক মাছ বরফ দিয়ে নিয়ে একবারে ফিরে আসে। এসব মাছের দাম তুলনামূলক কম। যেমন বড় ইলিশেরই দাম ৪০০/৫০০ টাকা কেজি। পরিবহন খরচ যোগ করার পরেও এই ইলিশ ঢাকায় ৫০০/৬০০ টাকায় বিক্রি করা যায়।

তিনি জানান, ঢাকায় মূলত এই ইলিশ মাছগুলোই কম দামে বিক্রি হয়।

আবার কোন কোন জেলে বা আড়তদার জেলেদের কাছ থেকে কিনে স্থানীয় বাজারে ইলিশ বিক্রি করেন। সংখ্যা কম হওয়ায়, নদীর মাছ আর তাজা হওয়ায় এসব ইলিশের দামও একটু বেশি হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি
বিশেষজ্ঞরা বলেন নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি

ইলিশ মাছের চেইন

ব্যবসায়ী মজনু হোসেন বলছেন, স্থানীয় বাজারে আসলে ইলিশ কম যায়।

কারণ হিসেবে তিনি জানান, জেলেদের সাথে দাদনদারদের চুক্তি থাকায় তারা সরাসরি সব মাছ আড়তে দিয়ে যায়। আবার আড়তদাররা সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে বরফ দিয়ে সেগুলো ঢাকায় বা অন্যান্য শহরে পাঠিয়ে দেন।

“ফলে কাছের নদী থেকে ধরা হলেও, এখানকার মাছ স্থানীয় বাজারে খুব একটা পাওয়া যায় না।” এর ফলে অল্প যা পাওয়া যায়, তার মূল্য খুব চড়া থাকে।

নদী থেকে ধরা ইলিশ মাছগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা কিনে নেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশ মাছ ধরার জেলেদের সঙ্গে স্থানীয় আড়ত ব্যবসায়ীদের চুক্তি থাকে। সে অনুযায়ী তারা অমৌসুমের সময় জেলেদের অর্থ সাহায্য করেন। ইলিশ ধরার জাল ও খরচ দেন। শর্ত থাকে, ধরে আনা ইলিশ শুধুমাত্র তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে।

এই পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ থাকে ঢাকার পাইকারি ইলিশ বিক্রেতাদের। অনেক সময় ঢাকার বড় পাইকারি বিক্রেতা ও রপ্তানিকারকরা এই আড়ত মালিকদেরও আগাম অর্থ দিয়ে থাকেন।

ফলে ইলিশ ধরার পর জেলেরা এই আড়ত মালিকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের আগাম নেয়া অর্থের সমন্বয় করেন। এরপর আড়ত মালিকরা বরফ দিয়ে সেসব মাছ সরাসরি ঢাকার পাইকারি বিক্রেতা এবং রপ্তানিকারকদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি আগাম অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘটে থাকে, তাই এসব ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ও বাজারের দামের চেয়ে কিছুটা কম দরে হয়।

বাংলাদেশে পরপর দুই বছর ইলিশের ব্যাপক আহরণ হয়েছে
বাংলাদেশে পরপর দুই বছর ইলিশের ব্যাপক আহরণ হয়েছে

‘স্থানীয় বাজারে ইলিশ নেই’

যেসব স্থানে ইলিশ ধরা পড়ে, সেখানকার স্থানীয় বাজারে অনেক সময় ইলিশ কম পাওয়া যায়।

শরীয়তপুরের একজন বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন বলছেন, ”নদী থেকেই মাছগুলো আড়তদারদের আড়তে চলে যায়। সেখান থেকে বরফ দিয়ে চাঁদপুর, ঢাকা ইত্যাদি অঞ্চলে চলে যায়। আমাদের বাজারে মাছ ওঠে অনেক কম।”

ব্যবসায়ী মজনু হোসেন বলছেন, ইলিশ ধরার এলাকাগুলোয় এই প্রক্রিয়ার ফাঁক গলে অল্প কিছু ইলিশ বাজারে ওঠে। ফলে সেখানে দামও থাকে তুলনামূলক বেশি।

ইলিশের সিন্ডিকেট

বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করেন একজন উদ্যোক্তা প্রবীর কুমার সরকার।

তিনি বলছেন, যেসব স্থানে ইলিশ ধরা পড়ে, সব জায়গাতেই সেখানে ইলিশের একটা ‘সিন্ডিকেট’ আছে। সেই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে ইলিশ কেনাবেচা করা যায় না।

তিনি বলছেন, ঢাকায় যেসব ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, তার বড় একটি অংশ আসে কোল্ড স্টোরেজ থেকে, যেগুলো সাধারণত ঈদের মতো সময়ে সস্তায় কিনে রাখা ইলিশ।

”এছাড়া মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ, সাগরে ধরা ইলিশ কিনতে খরচ কম পড়ে বলে সেগুলো বাজারেও কম দামে বিক্রি করা যায়। পরিবহন খরচ যোগ করার পরেও সব মিলিয়ে এগুলোর দাম কমই পড়ে।”

ইলিশ মাছ বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়
ইলিশ মাছ বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়

”ঢাকার ক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনটা সাগরের, কোনটা নদীর বুঝতে পারেন না। ফলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রেতারা এসব ইলিশ অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারে, যা একজন সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে ধরা কঠিন,” বলছেন মি. সরকার।

তিনি জানান, ইলিশের বড় একটি মোকাম চাঁদপুর, যেখানে বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রামসহ নানা জায়গার ইলিশ আসে। নদীর ভালো আর তাজা ইলিশগুলো এই ঘাট থেকেই রপ্তানির জন্য বেশি দামে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি এখান থেকে ইলিশ নিয়ে পদ্মার ইলিশ বলেও মাওয়ায় বিক্রি করা হয়।

এখানে সাগরের, মিয়ানমারের বা চট্টগ্রামের ইলিশের দাম কম থাকে। আবার নদীর মাছের দাম বেশি হয়।

”কিন্তু এখানে আপনি যদি একটা-দুইটা ইলিশ কিনতে যান, তাহলে আপনাকে ঢাকার চেয়েও বেশি দাম দিতে হবে।”

কারণ এখানে বড় একটি সিন্ডিকেট আছে, যারা জেলেদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিতে পারে। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে কিনতে গেলে সেখানে দাম অনেক বেশি পড়বে।, বলেন তিনি।

এই পাইকারি মার্কেটের ফাঁক গলে সামান্য কিছু ইলিশ স্থানীয় বাজারে পৌছাতে পারে। ফলে সেখানে এর দাম হয় অনেক চড়া। তবে দাম বেশি হলেও এই মাছগুলো তরতাজা হয়ে থাকে।

ঢাকার অনেক পাইকারি বিক্রেতা বিভিন্ন ইলিশ এলাকার জেলে ও আড়তদারকে আগাম টাকা-পয়সা দিয়ে রাখেন। ফলে তারা যে ইলিশ পান, সেগুলো তারা এই পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাঠিয়ে দেন। অনেক সময় এসবের দাম বাজার মূল্যের চেয়েও কম হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

মৎস্য

আমাদের হার্টকে সারিয়ে তোলার জাদু জানে ছোট্ট এই মাছটি

যেন জাদুমন্ত্র জানে আমাদের ধানখেতের আলে, খালেবিলে, পুকুরে, নদীতে থাকা ম্যাজিশিয়ান এই মাছটি। অনেকে চিনেন আবার অনেকে নামও জানেন না মাছটির। এই মাছটির নাম জেব্রা ফিশ। এর শক্তি সম্পর্কে জানলে আপনি রীতিমতো অবাক হবেন। মূলত গ্রাম বাংলা আর উত্তর-পূর্ব ভারতের নদী, পুকুর, খালবিলে এই জেব্রা ফিশটি পাওয়া যায়।

হাতের আঙুলের আকারের ও গায়ে ডোরাকাটা দাগের এই মাছটি ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরেও মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, মেরুদণ্ডসহ তার শরীরের প্রায় সবকটি অঙ্গকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। যা মানুষ কিংবা কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীও পারে না।

ভারতের পুনের আগরকর রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি বিভাগের বিজ্ঞানী চিন্ময় পাত্রের তত্ত্বাবধানে আমাদের দুর্বল হয়ে পড়া হৃদযন্ত্রকে ফের জাগিয়ে তোলার এই সঞ্জীবনী মন্ত্রটি খুঁজে বের করেছেন দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও তার সহযোগীরা। দেবাঞ্জন এখন ফ্রাঙ্কফুর্টে গোথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট ফর কার্ডিওভাসকুলার রিজেনারেশনের গবেষক।

চিন্ময় ও দেবাঞ্জনসহ ১০ জনের গবেষকদল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বে এই প্রথম দেখালেন, একটি বিশেষ জিন কীভাবে জেব্রা ফিশের ক্ষতবিক্ষত হৃদযন্ত্রকে (‘মায়োকার্ডিয়াল ইনজুরি’) পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠতে সাহায্য করে। জিনটির নাম- ‘কানেকটিভ টিস্যু গ্রোথ ফ্যাক্টর (সিটিজিএফ)’। আরও একটি নাম রয়েছে জিনটির, তাহলো ‘সেলুলার কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফ্যাক্টর ২-এ’।

এই গবেষণাতেই প্রথম বোঝা গেল কেন হার্ট অ্যাটাকের পর আমরা আর হৃদযন্ত্রকে আগের অবস্থায় ফিরে পাই না এবং তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের পর অনিবার্যই হয়ে ওঠে আমাদের মৃত্যু। আর কেনই বা জেব্রা ফিশের হৃদযন্ত্র বার বার ক্ষতবিক্ষত হয়েও পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠতে পারে প্রায় নতুন হৃদযন্ত্রের মতোই?

দুই ভারতীয় গবেষক অধ্যাপক চিন্ময় পাত্র ও দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায়

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ডেভেলপমেন্ট’-এ। মূল গবেষক দেবাঞ্জন কাজ করেছেন পুনের ‘আগরকর রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এআরআই)’-এর ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চিন্ময় পাত্রের তত্ত্বাবধানে। সহযোগিতা করেছে জার্মানির ‘ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট ফর হার্ট অ্যান্ড লাং রিসার্চ’ এবং আমেরিকার ডারহ্যামের ‘ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মেডিক্যাল সেন্টারও।

গবেষণায় কেন বেছে নেওয়া হলো জেব্রা ফিশ?

সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর জেব্রা ফিশ বেঁচে থাকে। তাই ৩ মাস বয়স হয়ে গেলেই এই মাছ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। গবেষকরা কাজটা করেছেন অন্তত ৬ মাস বয়সি জেব্রা ফিশ নিয়ে। সেগুলো ছিল প্রাপ্তবয়স্ক জেব্রা ফিশ। হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ও আশঙ্কা যেহেতু শিশুদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি, প্রবীণদের ক্ষেত্রে আরও বেশি, গবেষকরা তাই কাজটা করেছেন প্রাপ্তবয়স্ক জেব্রা ফিশ নিয়ে।

জেব্রা ফিশ নিয়ে কাজ করার একটা সুবিধা হলো, জন্মের পর ১০-১৫ দিন পর্যন্ত বাইরে থেকেই তাদের হৃদযন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়সহ শরীরের সবকটি অঙ্গের বিকশিত হয়ে ওঠা আর তাদের কাজকর্ম চাক্ষুষ করা যায়। কীভাবে হৃদযন্ত্রের ভাল্ব তৈরি হচ্ছে, তা-ও দেখা যায়, একেবারে কোষের স্তরে গিয়েও। আর একটা সুবিধা হলো জেব্রা ফিশের বেশির ভাগ কার্যকরী জিনের (প্রাণী বা উদ্ভিদের অনেক জিনই কার্যকরী থাকে না) সঙ্গেই মানুষ ও ইঁদুরের কার্যকরী জিনগুলোর খুব সাদৃশ্য রয়েছে। গত শতাব্দীর ৬-এর দশক থেকেই গ্রাম বাংলার এই ‘ম্যাজিশিয়ান’ মাছটি নিয়ে বিদেশে শুরু হয় গবেষণা। এখন বিশ্বের প্রায় ১ হাজারটি গবেষণাগারে জেব্রা ফিশ নিয়ে গবেষণা চলছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মধ্যরাত থেকে ইলিশ আহরণে নামছেন জেলেরা

মা ইলিশ রক্ষা কল্পে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে রবিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ আহরণে নামবেন জেলেরা। গত ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর মতলবের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

এই অভয়াশ্রম চলাকালে জেলায় ৪৪ হাজার ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করে।গত ২২ দিনে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগ মা ইলিশ সংরক্ষণে দুই শতাধিক জেলেকে কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড দিয়েছে। অবশ্য অনেক জেলেই এই কর্মসূচি মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাননি।

অপরদিকে, ২২ দিন অলস সময় কাটানোর পর রূপালী ইলিশ আহরণের বুকভরা আশা নিয়ে পদ্মা-মেঘনায় নামবেন জেলেরা। বেশ কয়েকদিন যাবৎ জাল ও নৌকা প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, এবছর কর্মসূচি প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। জেলেদেরও সঠিক সময়ে চাল দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল হওয়ায় আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের উকুন রোগের প্রতিরোধ, লক্ষণ ও প্রতিকার

মাছের উকুন রোগের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয় চাষিদের। অনেকেই বুঝতে পারেন না রোগটি কেমন। আসুন জেনে নেয়ে যাক মাছের উকুন রোগের প্রতিরোধ, লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

মাছের উকুন রোগের কারণ ও লক্ষণ: আরগুলাস নামক বহিঃপরজীবী এর মাধ্যমে এই রোগে মাছ আক্রান্ত হয়। এই পরিজীবি মাছের দেহের রক্ত চুষে ক্ষত সৃষ্টি করে।

মাছের দেহ পৃষ্ঠ ও পাখনায় উকুন লেগে থাকে। শক্ত কিছু পেলে মাছ দেহ ঘষে। মাছ লাফালাফি করে। দেহ থেকে রক্তক্ষরণ হয়। পরজীবী খালি চোখে দেখা যায়। মাছ ক্লান্তহীনভাবে সাঁতার কাটে। আক্রান্ত স্থানের চারপাশ লালচে বর্ণ হয়।

মাছের উকুন রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার: পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন দেয়া। জৈবসার প্রয়োগ কমিয়ে দেয়া। আক্রান্ত মাছ পুকুর থেকে সরানো।

ডিপটারেক্স (ডাইলকস, নেগুভন, টেগুভন) ০.৫ পিপিএম হারে পুকুরে প্রয়োগ করা। সপ্তাহে একবার ও পরপর ৫ বার অথবা ০.৮ পিপিএম হারে সুমিথিয়ন প্রয়োগ করা। প্রতি সপ্তাহে একবার ও পরপর ৫ বার অথবা ০.২৫ পিপিএম পটাশ দ্রবণে ৫-৬ মিনিট গোসল করাতে হবে।

মাছের উকুন রোগের প্রতিরোধ, লক্ষণ ও প্রতিকার সংবাদটির তথ্য কৃষি তথ্য সার্ভিস এর মৎস্য বিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনাসহ নদনদীতে ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ইলিশ ধরতে পারবেন জেলেরা। এরপর ইলিশ ধরায় কোনো বাধা থাকবে না।মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ১ হাজার ৮৯২টি মোবাইল কোর্ট ও ১৫ হাজার ৩৮৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। ৮৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পুকুরভর্তি মাছের সঙ্গে শত্রুতা

লেখক

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার সুরানন্দি গ্রামের আলী আহম্মদের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুকুরের মালিক ভুক্তভূগী আলী আহাম্মদ বলেন, প্রতিদিনের মতো ফজর নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় দেখি পুকুরে কয়েকটি কাতলা মাছ মরে ভেসে আছে। পরে সকাল হলে দেখি বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

তিনি বলেন, এলাকায় কারও সঙ্গে আমার তেমন বিভেদ নেই। তবে আমার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তারা আমাদেরকে বিভিন্ন সময় ক্ষতি করবে বলে হুমকিও দিয়েছেন। ধারণা করছি- তারাই আমার পুকুরে বিষ দিয়েছে। এতে আমার প্রায় ৪০ হাজার টাকার মাছ মারা গেছে।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com